রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 252

বিএনপি এখনো অভিনন্দন জানায়নি: হাছান মাহমুদ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে দেশি-বিদেশি সবাই শুভেচ্ছা জানালেও বিএনপি জানাতে পারেনি। পদ্মা সেতু নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান অভিনন্দন জানালেও দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে— বিএনপি এখনো শুভেচ্ছা বা অভিনন্দন জানায়নি। এটি তাদের চরম রাজনৈতিক দৈন্যতা।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের সমাবেশস্থল পৌঁছে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলা ঈদের চাঁদ দেখলে যে আনন্দ হতো, আজ তার চেয়ে বেশি আনন্দ লাগছে। আজ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ উচ্ছ্বসিত। যারা পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছিল তারা এখন লজ্জিত। যেসব বিদেশি সংস্থা অর্থায়ন বন্ধ করেছিল, তারাও আজ পদ্মা সেতু নিয়ে উচ্ছ্বসিত।

এদিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলেক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে শিবচরের বাংলাবাজার ঘাট এবং আশপাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা। সভাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা।

দেশের বৃহত্তম স্ব-অর্থায়নকৃত এ মেগা প্রকল্পের জমকালো উদ্বোধন উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির সময়সূচি অনুযায়ী মাওয়া পয়েন্টে বেলা ১১টায় তিনি স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট, উদ্বোধনী খাম এবং বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করবেন।

পরে বেলা ১১টা ১২ মিনিটে মাওয়া পয়েন্টে টোল পরিশোধের পর উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে মোনাজাতেও যোগ দেবেন।

তিনি বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে মাওয়া পয়েন্ট থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে জাজিরা পয়েন্টে পৌঁছে সেতু ও ম্যুরাল ২-এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন। সেখানে মোনাজাতেও যোগ দেবেন তিনি।

দুপুর ১২টায় মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়িতে সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত দলের জনসভায় যোগ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বিকাল সাড়ে ৫টায় হেলিকপ্টারে জাজিরা পয়েন্ট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

পদ্মা সেতু হওয়াতে দেশের মানুষের উল্লাস বিএনপি-জামায়াতের পছন্দ হচ্ছে না

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পদ্মা সেতু হওয়াতে আজ বাংলাদেশের মানুষ আনন্দ উল্লাস করছে। সরকার কোনো আনন্দ উল্লাস করে নাই। সরকার শুধু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কিন্তু এ আনন্দ উল্লাস বিএনপি জামায়াতের পছন্দ হচ্ছে না। তাই তারা আবোল তাবোল বকছে।

শুক্রবার বিকালে ঢাকা-পদ্মা সেতু সড়কের দোলাইরপাড় চত্বরে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে এক আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী মোটরচালক লীগসহ ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসন এলাকার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ঢাকা-৪ আসনের জাতীয় পার্টি, জাতীয় যুবসংহতির বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড জাতীয় পার্টি এ র‌্যালির আয়োজন করে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়াতে শনিবার পদ্মা সেতু উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। সে জন্য আপনারা আনন্দ র‌্যালির আয়োজন করেছেন। সে জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করার জন্য আমি এখানে এসেছি।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন এই বাংলাদেশে দিনের পর দিন হরতাল অবরোধ ডেকে ড্রাইভারদের ওপর অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত। বিএনপির নেতৃত্বে ড্রাইভারদের ওপর পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে ঘুমন্ত ড্রাইভারদেরকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত শত শত ড্রাইভারদেরকে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে হত্যা করেছে।

টোল দিয়ে পদ্মা সেতুতে পার হলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে টোল দিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বেলা ১১টা ৪৭ মিনিটে পদ্মা সেতুর মুন্সিগঞ্জের মাওয়া পয়েন্টে টোল দেন তিনি।

এর আগে সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে মাওয়া পয়েন্টে স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট, উদ্বোধনী খাম এবং বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করেন শেখ হাসিনা।

এ দিকে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর মাওয়া পয়েন্ট থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

পরে জাজিরা পয়েন্টে পৌঁছে সেতু ও ম্যুরাল-২ এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন শেখ হাসিনা। সেখানেও মোনাজাতে যোগ দেবেন তিনি।

এর পর মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়িতে সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত দলের জনসভায় যোগ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

বিকাল সাড়ে ৫টায় জাজিরা পয়েন্ট থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ দিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সরকারের মূল আয়োজন করা হয়েছে মূলত পদ্মার দুই পাড়েই। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সারা দেশে একযোগে উদ্যাপনেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বাংলাদেশের এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন: প্রধানমন্ত্রী

প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিনকে বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি আগামীকাল (২৫ জুন) পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশপ্রেমিক জনগণের আস্থা ও সমর্থনের ফলেই আজকে উন্নয়নের এ নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। আগামী দিনেও গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পূরণে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।’

প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য আগামীকাল খুলে দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জিং ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প’ বাস্তবায়নে নিয়োজিত সর্বস্তরের দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, পরামর্শক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা তদারকিতে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও নির্মাণ শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাদের অবদান ও অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য অভিবাদন জানান।

সেতুর দুই প্রান্তের জনগণ জমি প্রদানের মাধ্যমে এবং নানাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পদ্মা সেতু উদ্বোধনের এ মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীকে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করে। কানাডা আদালত বিশ্বব্যাংকের উত্থাপিত সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে রায় দেয়। সব দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বব্যাংকের ঋণ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিলে জনগণের কাছ থেকে বিপুল সমর্থন পাই। জনতার শক্তি হৃদয়ে ধারণ করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে আজ আমরা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছি। দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। দুর্নীতিমুক্ত বীরের জাতি হিসেবে বাঙালি নিজেদের বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত- ‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না’- এই চিরপ্রেরণার বাণীতে উজ্জীবিত হয়ে আমরা প্রমাণ করেছি আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নিরবচ্ছিন্ন, সাশ্রয়ী ও দ্রুত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হল। বিপুল সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলের বহুমুখী উন্নয়নে এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে শিল্পায়ন ও পর্যটন শিল্পে অগ্রসর এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। টুঙ্গীপাড়া জাতির পিতার সমাধিসৌধ, সুন্দরবন এবং কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতসহ নানা প্রত্নতাত্ত্বিক ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাবে। নদী বিধৌত উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদ আহরণ এবং দেশব্যাপী দ্রুত বাজারজাতকরণে পদ্মা সেতু বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইতোমধ্যে এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত পায়রা সমুদ্রবন্দর, বৃহৎ নদীগুলোর ওপর নির্মিত সেতু, রামপাল ও পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মংলা সমুদ্রবন্দরের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহারে পদ্মা সেতু যোগাযোগ ব্যবস্থায় সূতিকাগার হিসেবে কাজ করবে বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা।

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল, ভোমরা, দর্শনা প্রভৃতি স্থলবন্দরের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এ সেতুর মাধ্যমে দুই প্রান্তে বিদ্যুৎ, গ্যাস, অপটিক্যাল ফাইবারসহ পরিষেবাগুলোর সংযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে সার্বিকভাবে দেশের উৎপাদন ১.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিবছর ০.৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য নিরসনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ সেতু অনন্য অবদান রাখবে।

ফের সভাপতি হলেন শমী কায়সার

অনলাইন উদ্যোক্তাদের বাণিজ্য সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)-এর কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি ছিলেন অভিনেত্রী শমী কায়সার।

ফের সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন তিনি।

গত ১৮ জুন ২০২২-২৩ মেয়াদে সংগঠনটির শীর্ষ কর্মকর্তা পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন শেষে শমী কায়সারকেই সভাপতি ঘোষণা করা হয়।

শমী কায়সারের মতো টানা দুই মেয়াদে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল। সহসভাপতি হয়েছেন মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন।

এ ছাড়া যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন নাছিমা আক্তার নিশা এবং অর্থসম্পাদক হয়েছেন আসিফ আহনাফ। আসিফ আহনাফ বর্তমান কমিটিতে পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

নির্বাচনে ৩১ প্রার্থীর বিপরীতে পরিচালক পদে ৯ জন নির্বাচিত হন। ৭৯৫ জন ভোটারের মধ্যে ৬১১ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

হজ কবুল হওয়ার জন্য চাই পবিত্র হৃদয়

করোনার কারণে গত দুবছর বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকেও কেউ হজে যেতে পারেননি। এবার বাংলাদেশ থেকে ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন হজ পালনে সৌদি আরব যাওয়ার কথা রয়েছে।

আমাদের কামনা থাকবে, তারা যেন সুস্থতার সঙ্গে হজ সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসতে পারেন এবং আল্লাহপাক যেন তাদের হজ কবুল করে নেন।

মহান আল্লাহপাকের পবিত্র ঘর বায়তুল্লাহ এবং বিশ্ব নবি (সা.)-এর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারতের সাধ প্রতিটি মুসলমানেরই হৃদয়ে জাগে, তবে আল্লাহপাক যেহেতু বান্দার অন্তর দেখেন, তাই তিনি অন্তঃকরণের হজকেই গ্রহণ করেন। যাদের অন্তর অপবিত্র তাদের সঙ্গে আল্লাহপাকের যেমন কোনো সম্পর্ক নেই, তেমনি তারা কুরআনের শিক্ষার ওপর আমলের ক্ষেত্রেও থাকে উদাসীন।

যেভাবে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘আসলে তাদের হৃদয় এ কুরআন থেকে উদাসীন। আর এ ছাড়াও তাদের আরও অনেক মন্দ কর্ম রয়েছে, যা তারা করে চলেছে’ (সূরা আল মোমেনুন, আয়াত : ৬৩)।

অপরদিকে যারা মুমিন, তাদের অন্তর থাকে পবিত্র আর এদের সম্পর্কেই আল্লাহপাক ঘোষণা করেছেন, ‘হে শান্তিপ্রাপ্ত আত্মা! তুমি তোমার প্রভু প্রতিপালকের দিকে সন্তুষ্ট হয়ে এবং তার সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে আস। অতএব, তুমি আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর’ (সূরা আল ফজর, আয়াত : ২৭-৩০)।

মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতির উচ্চতম পর্যায় হচ্ছে, সে তার প্রভুর ওপর পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট এবং তার প্রভুও তার ওপর পুরোপুরি সন্তুষ্ট। এমন অবস্থাকে বেহেশতি অবস্থা বলে, যে আত্মার প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট সেই আত্মাও তার রবের প্রেমে এমনভাবে বিলীন ও একীভূত হয়ে যায়, এমন অন্তর তখন আর আল্লাহ ছাড়া আর কিছুই বোঝে না।

কেননা অন্তর থেকে যদি আল্লাহর জন্য করা না হয়, তা কোনো কাজে লাগতে পারে না, আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কুরবানির পশুর গোশত ও রক্ত কখনো আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং তার কাছে তোমাদের আল্লাহভীতিই পৌঁছে’ (সূরা হজ : ৩৭)।

এ আয়াত থেকে এটাই বোঝা যায়, মানুষের বাহ্যিক কাজকর্ম দিয়ে আল্লাহকে কখনোই সন্তুষ্ট করা যাবে না বরং আল্লাহকে খুশি করাতে হলে চাই পবিত্র অন্তর আর সেই পবিত্র অন্তর থেকে যখন আল্লাহর জন্য কিছু করা হবে, তখনোই না আল্লাহপাক তা গ্রহণ করবেন।

আমরা যে প্রতি বছর হজ করতে যাই, তাদের মধ্যে কজন এমন আছেন, যারা অন্তঃকরণের হজ করতে যান। আমার অন্তরকে পরিষ্কার না করে আমি যদি চলে যাই পবিত্রময় আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে, যার কাছে অপবিত্রতার কোনো মূল্য নেই, তাহলে কি আমি কোনো কিছু লাভ করতে পারব? আল্লাহপাকের কাছে বাহ্যিকতার কোনো মূল্য নেই, তিনি অন্তর দেখেন।

যেমন মহানবি (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের শরীর ও চেহারার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন না, বরং তিনি তোমাদের মনের ও কর্মের দিকে দৃষ্টিপাত করেন’ (মুসলিম)।

কে কোনো নিয়তে হজে যাচ্ছি তার খবর কিন্তু আল্লাহপাক ভালো করেই জানেন, কারণ অন্তরের কথা কেবল তিনিই জানেন। যেভাবে কুরআনে বলা হয়েছে ‘তোমরা তোমাদের মনের কথা গোপন রাখ অথবা প্রকাশ কর তা সবই আল্লাহ জানেন’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ২৯)।

তাই হজে যাওয়ার আগে নিজের অন্তরকে জিজ্ঞেস করা উচিত, হে আমার আত্মা, তুমি কি সেই পবিত্র স্থান তাওয়াফ করার যোগ্য? আমার কাছে বৈধ-অবৈধ অনেক অর্থ সম্পদ থাকতে পারে, আমি কী হলাল-হারামের বিচার না করে হজে চলে যাব, এটা আল্লাহপাক পছন্দ করেন না বরং তিনি চান অন্তর যেন পরিষ্কার হয় আর আল্লাহর অধিকার এবং বান্দার অধিকার যেন পূর্ণভাবে প্রদান করা হয়। তা না হলে এ বাহ্যিকতার কোনো মূল্য নেই।

মহানবি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হজব্রত পালন করে আর কোনো ধরনের অশালীন কথাবার্তা ও পাপ কাজে লিপ্ত না থাকে, সে যেন নবজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ অবস্থায় হজ থেকে ফিরে এলো’ (বুখারি ও মুসলিম)।

এ হাদিসের ওপর ভিত্তি করে অনেকেই পয়সার জোরে প্রতি বছরই হজ সম্পাদন করেন আর প্রতি বছরের গুনাহ-খাতা মাফ করিয়ে আনেন। হজ পালন করে এলেই নিষ্পাপ হয়ে যাবে, এমন এক অদ্ভুদ মনমানসিকতাও আমাদের সমাজের অনেকের মাঝে বিরাজ করে।

অথচ দেখা যায়, হজ থেকে ফিরে এসে আগের স্বভাবেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। কেউবা ফিরে এসে হাজি নামটিকে ব্যবসার খাতিরে ব্যবহার করেন আবার কেউ নিজেকে প্রকাশ করার জন্য ব্যবহার করেন।

আল্লাহপাক যাদের হজ করার সামর্থ্য দান করেছেন এবং যারা হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন, তাদের জন্য আমাদের দোয়া থাকবে আপনাদের হজ যেন অন্তঃকরণের হজ হয়। সেই সঙ্গে আগের সব দোষ-ত্রুটির ক্ষমা চেয়ে মোমিন-মুত্তাকি হয়ে বাকি জীবন যেন অতিবাহিত করা যায়। যদি এমনটি হয়, হজ থেকে ফিরে এসে আগের মতোই জীবন পরিচালিত করতে থাকলাম, তাহলে তার হজ করা আল্লাহর দরবারে কোনো মূল্য রাখবে না।

আল্লাহর সঙ্গে যদি প্রেমময় এক সম্পর্কই সৃষ্টি না হয়, তাহলে এই হজ বৃথা। এমন মানুষের বড়ই অভাব, যে ব্যক্তি হজ থেকে ফিরে এসে আল্লাহপ্রেমিক হয়েছেন, অন্তর পবিত্র হয়েছে, মানুষকে ভালোবাসতে শিখেছেন, আল্লাহর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেছেন, অঢেল সম্পত্তির মায়া ছেড়ে দরদি নবি (সা.)-এর মতো জীবন কাটিয়েছেন, নিজে না খেয়ে অনাহারির মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন।

প্রত্যেক হাজিদের আত্মবিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, আমি কি আল্লাহপ্রেমিক হতে পেরেছি? আমার হজ কি অন্তঃকরণের হজ হয়েছে? আমার উদ্দেশ্য যদি আল্লাহর সঙ্গে প্রেমময় সম্পর্ক তৈরি হয়, তাহলেই আমাদের হজ খোদার দরবারে গৃহীত হবে। কারও হৃদয়ে যদি হজ করার বাসনা থাকে, আর সে অনুযায়ী আল্লাহপাকের সঙ্গে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে, তাহলে বায়তুল্লায় উপস্থিত না হওয়া সত্ত্বেও তাকে হজের প্রতিদান দেওয়ার ক্ষমতা আল্লাহপাক রাখেন। আমি হজে যাব আল্লাহর ভালোবাসায় আর তারই বান্দা আমার প্রতিবেশী না খেয়ে রাত যাপন করবে, এটাকে কি আল্লাহপাক মেনে নেবেন?

একবার মহানবি (সা.) বায়তুল্লাহর জিয়ারত না করেও আল্লাহ তার হজ কবুল করেছিলেন। পবিত্র কুরআনের ৪৮ নম্বর সূরায় এর বর্ণনা রয়েছে। তাজকেরাতুল আউলিয়াতেও একজন আল্লাহপ্রেমিকের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, একবার কারও হজ গ্রহণ হয়নি কেবল একজনের হজ আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয়েছিল, যে ব্যক্তির হজ গ্রহণ করা হয়েছিল তিনি হজের সব প্রস্তুতি নেওয়া সত্ত্বেও হজে যেতে পারেননি, তার হৃদয় যেহেতু আল্লাহপ্রেমিক ছিল, তাই তার মাধ্যমেই সে বছরের হজ পূর্ণ হয়।

তাই আমাদের আত্মাকে পবিত্র করতে হবে, আর আত্মা তখনোই পবিত্র হতে পারে, যখন আমরা হালাল রিজিক গ্রহণ করব। হালাল রিজিক ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব নয় অন্তঃকরণের পবিত্রতা। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ আমাদের মতো একটি গরিব দেশ থেকে হজে যান তাদের কজন বুকে হাত দিয়ে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে এ কথা বলতে পারবেন, আমি শতভাগ হালাল রিজিক গ্রহণ করি? বা আমার এ অর্থ সম্পদ শতভাগ হালাল উপার্জন?

এমন ব্যক্তির হজ আল্লাহর দরবারে কতটা গুরুত্ব রাখে কেবল তিনিই জানেন। তাই আমরা যারা হজে যাচ্ছি তাদের আত্মবিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, আমার আত্মা কি হজের যোগ্য কিনা, আমার হজের খরচ সম্পূর্ণ হালাল তো? আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে প্রকৃত অর্থে পবিত্র হৃদয় নিয়ে হজব্রত পালন করার তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

নবগঠিত স্বেচ্ছাসেবক দল ফ্রান্সের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

প্যারিসের একটি হলরুমে রোববার নবগঠিত স্বেচ্ছাসেবক দল ফ্রান্সের আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক গোলাম মাহমুদ আজমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর সঞ্চালনায় দোয়া পরিচালনা করেন যুগ্ম আহবায়ক লোকমান হোসেন।

প্রধান অতিথি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক নাসির আহমদ শাহিন, বিশেষ অতিথি আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম হোসেন ও আসলাম ফকির লিটন টেলিকনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন।

আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম, ফ্রান্স বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন আলী, যুবদল নেতা নাসিম আহমদ, যুবদল নেতা আব্দুর রব রানা, দিলোওয়ার হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক আশিকুজ্জামান আশিক, সোহেল আহমদ, আব্দুল গফফার জুনেদ, সোয়েব আহমদ, মাসুম আহমদ, এম এ দিলওয়ার, রফিকুল ইসলাম রুপক, জইন ইউ আহমদ জনি, সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আহমদ জুয়েল, সদস্য কামাল হোসেন, আতিকুল হক আক্তার, আবেদ আহমদ, শহিদ মনি, নাজমুল ইসলাম, এমদাদুল হক রুবেল, জাকির হোসেন খান, আরমান বক্স রুমেল, জাহাঙ্গীর হোসেন, শামিম আহমদ, এস কে শাহীন, জামিল চৌধুরী, মামুন আহমদ, এনামুল হক কমর উদ্দিন, মাসুদ আহমদ, তামিম আহমদ, অলিদ আহমদ, সায়েল আহমদ প্রমুখ।

নতুন শিক্ষাক্রমে ধর্ম শিক্ষা বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই: এনসিটিবি

আগামী বছর থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। নতুন শিক্ষাক্রমে ধর্ম শিক্ষা বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। একটি রাজনৈতিক দলও ধর্ম শিক্ষা বাদ দেওয়া হচ্ছে দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে। তবে নতুন শিক্ষাক্রমে ধর্মশিক্ষা বাদ দেওয়ার তথ্যটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

নতুন শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ধর্ম শিক্ষাকে বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ বা পরিকল্পনা সরকারের নেই।

বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে এনসিটিবি।

বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে— জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড শিক্ষাক্রম পরিমার্জন ও উন্নয়নের জন্য একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। শিক্ষাক্রম পরিমার্জন একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার জন্য শিক্ষাক্রমকে প্রতিনিয়ত পরিমার্জন করতে হয়। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা-২০২১ প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই শিক্ষাক্রম সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে যে নতুন শিক্ষাক্রমে ধর্ম শিক্ষাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলও এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে এনসিটিবি এ বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসনের জন্য ঘোষণা করছে যে, উল্লিখিত প্রচারণাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

এনসিটিবি আরও বলছে, এই রূপরেখার আলোকে প্রণীত শিক্ষাক্রম গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের ৬২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাইলটিং হচ্ছে। এই শিক্ষাক্রমে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য ১০টি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ১০টি বিষয় হচ্ছে— বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, ধর্ম শিক্ষা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জীবন ও জীবিকা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি। ধর্ম শিক্ষা বিষয়টি দেশের চারটি ধর্মের শিক্ষার্থীর জন্য পৃথক চারটি পাঠ্যপুস্তক রাখা হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য হিন্দুধর্ম শিক্ষা, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা, খ্রিস্টধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য খ্রিস্টধর্ম শিক্ষা এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম শিক্ষা নামে চারটি পৃথক পাঠ্যপুস্তক রয়েছে। ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের পাঠ্যপুস্তকটি দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের বিশিষ্ট শিক্ষকরা প্রণয়ন করেছেন। এই শিক্ষাক্রমে ধর্ম শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ধর্মীয় আচার, আচরণ ও মূল্যবোধ চর্চাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত, ইবাদত, তাহারাত, নাজাসাত, ওজু, গোসল, তায়াম্মুম, সালাত, সাওম, আখলাকে হামিদাহ, আখলাক জামিমা ইত্যাদি বিষয়ে শ্রেণি উপযোগী আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া সুরা দোহা, সুরা তাকাসুর ও সুরা আল হুমায়াহ এই শ্রেণিতে পাঠ্য করা হয়েছে। সর্বোপরি এই ষষ্ঠ শ্রেণিতে জীবনাদর্শ হিসেবে হজরত মুহম্মদ (স), হজরত খাদিজা (র), হজরত আবু বকর (র) এবং ওমর বিন আব্দুল আজিজ (র)-এর জীবনী শ্রেণি উপযোগিতা বিবেচনা করে পাঠ্য করা হয়েছে।

এনসিটিবি আরও জানিয়েছে, ধর্ম শিক্ষাকে বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ বা পরিকল্পনা এনসিটিবি বা সরকারের নেই। শিক্ষা জাতির ভবিষ্যৎ। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাকে নিয়ে যে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি জাতির জন্য কল্যাণকর নয়। তাই শিক্ষাক্রম নিয়ে যে কোনো প্রকার বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।

পরীক্ষার খাতায় লিখলেন ‘মন ভালো নেই’, বিপাকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বেশ ভালোই পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর।

ট্রেন্ডিং বিষয়গুলো নিয়ে চর্চায় ব্যস্ত তারা। আর সেই চর্চা পরীক্ষার খাতায় করে বিপাকে পড়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।

ফেসবুকে সম্প্রতি একটি বাক্য ভাইরাল— ‘আজকে আমার মন ভালো নেই’।

আর পরীক্ষার উত্তরপত্রে এ মন্তব্যটি লিখলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী। আর এমন মন্তব্য লেখায় তাকে তলব করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ওই শিক্ষার্থী তার অতিরিক্ত উত্তরপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় এক প্রশ্নের উত্তরে লেখেন— ‘স্যার আজকে আমার মন ভালো নেই’।

তার সেই উত্তরপত্রের ছবি ফেসবুকে রীতিমতো ভাইরাল।

ছবিতে দেখা গেছে, উত্তরপত্রের বাম পাশে লাল কালিতে শূন্য নম্বর দিয়ে ‘বাতিল’ লিখে দেওয়া হয়েছে।

ভাইরাল সেই ছবির সত্যতা নিশ্চিত করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা গেছে, শিক্ষার্থীর এমন কাণ্ডে বিস্মিত পরীক্ষকরা। তবে তাকে তিরস্কার করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

তবে কেন তিনি এমনটি করলেন তা জানতে ওই শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে গিয়ে জবাবদিহিতা করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমিন উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিভাগীয় শিক্ষকের কথাও হয়েছে। তাকে আমরা রোববার ডেকেছি। তার পর এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঘটনার জন্য শিক্ষকদের কাছে এই শিক্ষার্থী ভুল স্বীকার করে নিয়েছে।

এদিকে তার উত্তরপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়াসহ বিভাগের তলবে ঘটনায় অনেকটা শঙ্কিত ওই শিক্ষার্থী।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, একটা অতিরিক্ত কাগজে মজা করে লিখেছিলাম। কিন্তু এতটা ছড়িয়ে পড়বে, আমি ভাবিনি৷ স্যাররাও ডেকেছেন আমাকে এ নিয়ে। আমি ক্ষমা চেয়েছি, রোববার কী হবে বুঝতে পারছি না। মজা করে লেখা বিষয়টি যে এতদূর যাবে, তা ভাবনায়ও আসেনি।

বিষয়ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে তরুণদের পাশে বন্ধু

২১ জুন সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ট্রান্সজেন্ডার, হিজড়া ও লিঙ্গবৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নিয়ে নির্মিত সাতটি চলচ্চিত্রও প্রদর্শিত হয় অনুষ্ঠানে।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারপারসন ও নৃত্যশিল্পী আনিসুল ইসলাম হিরু।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, সমাজে পিছিয়ে থাকা এই জনগোষ্ঠীকে সামনে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে চলচ্চিত্র। এই জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আরও বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে তা সর্বস্তরের মানুষকে দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে, তা হলে দ্রুত জনসচেতনতা তৈরি হবে।

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা ২০২২-এর মাধ্যমে সাতজন নির্মাতাকে ট্রান্সজেন্ডার, হিজড়া ও লিঙ্গবৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠী নিয়ে বিষয়ভিত্তিক চলচ্চিত্র বন্ধু)। এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেরা নির্মাতাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

প্রথম পুরস্কার হিসেবে ছিল ক্রেস্ট ও ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ক্রেস্ট ও ৪০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার ক্রেস্ট ও ৩০ হাজার টাকা।