শনিবার ,২ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 724

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ২৫ কিলোমিটার যানজট

মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহন ও ঘরমুখো মানুষের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তরবঙ্গমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর রাত থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে মহাসড়কের ঘারিন্দা, রাবনা, বিক্রমহাটি, রসুলপুর, পৌলি ও এলেঙ্গা এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়। মাঝে মাঝে ঢাকামুখী লেনে গাড়ি চললেও উত্তরবঙ্গমুখী গাড়ি আটকে রয়েছে। গণপরিবহণ চললেও অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকের উপরে যাতায়াত করছে। এ ছাড়াও ঘরমুখো মানুষদের তেমন স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।

যানজটের কারণে চালক ও যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি অনেক বেশি হচ্ছে। এছাড়াও গরু নিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করা ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। সড়কেই কেটে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

জেলা পুলিশ বিভাগ সূত্র জানায়, ঈদে যানজট নিরসনে মহাসড়কে ৬০৩ জন পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া দুই শতাধিক হাইওয়ে পুলিশ রয়েছে।

এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা ওসি শফিকুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি।

আইনি শিকলে মালয়েশিয়ায় ঈদের নামাজ

লকডাউনের আইনি শিকলে, দূরত্ব বজায় রেখে মালয়েশিয়ার মসজিদগুলোতে স্থানীয়রা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। তবে অভিবাসীরা যেতে পারেননি মসজিদে।

দেশটির সরকারের জারি করা বিধিনিষেধে মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় অনেকেই বাইরে নামাজ আদায় করেছেন। অনেকে ঘরে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। আবার কেউ কেউ সূরাওগুলিতে নামাজ আদায় করেছেন।

কুয়ালালামপুর সূরাও বায়তুল মোকাররমের খতিব হাফেজ মাওলানা মো. ইকরামুল হক জানিয়েছেন, সরকারের বিধিনিষেধ মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরপর দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৫০ জনের অধিক অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

জহুর বারু সূরাও বাংলাদেশ তামান মাউন্ট অস্তিনে বাংলাদেশিরা নামাজ আদায় করেছেন। জহুর কমিউনিটি নেতা মোস্তফা হোসেইন জানান, সরকারের বেঁধে দেয়া বিধিনিষেধ মেনেই নামাজ আদায় করা হয়েছে। তবে বিধি নিষেধের কারণে অনেক নিয়মিত মুসল্লি জামাতে অংশ নিতে পারেননি।

দেশটিতে প্রায় আট লাখের বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন। করোনা মহামারির বিপর্যয়ের মাঝে নিরানন্দ ঈদ পালন করছেন এসব রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। করোনা মহামারির সংকট ও পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই অর্থনৈতিক দুর্দশার শিকার হয়েছেন। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। ব্যবসায়ীরা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। চাকরি হারিয়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। অনিশ্চিত সময়ে বছর ঘুরে আসা চিরচেনা ঈদের আবহে তারা ছন্দ মেলাতে পারছেন না।

অন্যান্য বছর মালয়েশিয়ায় ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হতো বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে। কিন্তু করোনার কারণে সরকারি নিষেধাজ্ঞায় গত বছরের মতো এবারও তা সম্ভব হয়নি। কয়েক হাজার বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত উঠেছে। করোনার ধাক্কায় ছন্দ মেলাতে না পেরে তারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন।

এবারও করোনার কারণে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে মালয়েশিয়া থেকে গত বছর ছুটিতে দেশে যাওয়া প্রবাসীদের। তারা নিজ কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন কি না তাও অনিশ্চিত। অনেকে প্রবাসে কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন আর দিন অপেক্ষা করছেন সুদিনের প্রত্যাশায়।

মালয়েশিয়ার রাজা ইয়াং ডি-পার্টুয়ান আগোং সুলতান আবদুল্লাহ সুলতান আহমদ শাহ, প্রধানমন্ত্রী তানশ্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ডা. মাহাথির মোহাম্মদ, আনোয়ার ইব্রাহীম দেশবাসী ও বিদেশিদের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এদিকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ও মালয়েশিয়ান নাগরিকসহ সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি দেশে অবস্থিত প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদেরও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

হাইকমিশনার মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, এই মহা দুর্যোগের সময়ে কঠোর জীবনযাপন পদ্ধতি চলছে। ঈদ উদযাপনে মালয়েশিয়া সরকার যে নিয়মকানুন দিয়েছে, প্রবাসী ভাইয়েরা সেই নিয়মকানুন পালন করে ঈদ উদযাপন করবেন। তিনি প্রবাসী পরিবারের সদস্যসহ সবার মঙ্গল কামনা করেছেন।

হাইকমিশনার বলেন, এখন এক কঠোর ও অস্বাভাবিক সময় অতিক্রম করছে গোটা বিশ্ব। লকডাউনের আইনি শিকলে খারাপ সময় থাকবে না, আমাদের সুদিন আসবেই।

বাগদাদে ঈদ বাজারে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৩৫

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি ব্যস্ত বাজারে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন।ওই হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬০ জন।

হতাহতরা সবাই আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ওই বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বাগদাদের সাদর শহরের ওয়াহিইলাত বাজারে সোমবার এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে দেশটির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হতাহতের মধ্যে নারী আর শিশুও রয়েছে। বোমা বিস্ফোরণের বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন ধরে গেছে।

স্থানীয়ভাবে তৈরি আইইডি বোমা দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

বিস্ফোরণের পর আহতরা রক্তাক্ত শরীরে চিৎকার করছিলেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে।

এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএল (আইএসআইএস)। টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করা একটি বার্তায় সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের একজন আত্মঘাতী হামলাকারী শরীরে বোমা বেঁধে ভীড়ের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায়।

এই হামলাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে অভিহিত করে শোক প্রকাশ করেছেন ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ।

চামড়া খাতে খেলাপি ৪ হাজার কোটি টাকা

খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত চামড়া খাত। রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক থেকে এ খাতে বিতরণ করা পুরোনো ঋণ ৫ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বিতরণকৃত ঋণের প্রায় পাঁচ ভাগের চার ভাগই খেলাপি হয়ে পড়েছে। বাকি ১ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকার ঋণ নিয়মিত রয়েছে। এদিকে চলতি বছর কুরবানির চামড়া ক্রয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক ঋণ দেবে প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা।

চামড়া খাতে সরকারি সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করে। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে উত্তরা, ন্যাশনালসহ কয়েকটি ব্যাংক কিছু ঋণ বিতরণ করে থাকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন-সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর, নানা অব্যবস্থাপনা, ট্যানারি নেতাদের অতিমাত্রায় ঋণ গ্রহণ, যাচাই-বাছাই না করে ঋণ অনুমোদন ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার কারণে বিতরণকৃত ঋণের একটি বড় অংশ খেলাপি হয়ে গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের চামড়া শিল্পে ঋণস্থিতি ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিয়মিত ৪৩ কোটি টাকা। এসব ঋণ ১০ প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে প্রায় ১০৭ কোটি টাকা। ব্যাংকটি ঋণ পরিশোধে ভালো অবস্থানে থাকা ভুলুয়া ট্যানারিকে এবারও ২৫ কোটি টাকা দেওয়া হবে। আমিন ট্যানারি, কালাম ব্রাদার্স ট্যানারি আগের ঋণ বকেয়া থাকায় এবার ঋণ দেওয়া হচ্ছে না।

মোহাম্মদিয়া লেদার, আনান ফুটওয়্যার ও গ্রেট ইস্টার্ন ট্যানারির কিছু টাকা বকেয়া থাকলেও লেনদেন নিয়মিত রয়েছে। কিন্তু ঋণ খেলাপি দেশমা সু ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে সাড়ে ২৩ কোটি, এক্সিলেন্ট ফুটওয়্যারের কাছে ১০ কোটি টাকা, এসএনজেট ফুটওয়্যারের কাছে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা এবং ভারসেজ সুজের কাছে ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম মফিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান চামড়া কিনতে ঋণের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান ভালো হওয়ায় তাদের এবারও নতুন করে ২৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে। এছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বকেয়া টাকা আদায়ে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত চামড়া শিল্পে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দিয়েছে জনতা ব্যাংক। এর মধ্যে বেশির ভাগই খেলাপি হয়ে গেছে। শুধু ক্রিসেন্ট লেদারেরই খেলাপি সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। বাকিটা অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের। গত বছর ব্যাংকটি কুরবানির চামড়া কিনতে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে ১১৯ কোটি টাকা। লক্ষ্য ছিল ১০০ কোটি। এর মধ্যে এক টাকাও ফেরত আসেনি। এবার মন্দের ভালো হিসাবে পুরোনো-নতুন মিলে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ১৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জনতা ব্যাংক।

ইতোমধ্যে ৫৫ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে আরও ৭৭ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকে রুরাল ক্রেডিট ডিপার্টমেন্টের-১ এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবুল বাশার যুগান্তরকে বলেন, কেউ টাকা ফেরত দিতে চায় না, শুধু নবায়ন চায়। আমরা টাকা আদায়ের চেষ্টা করে যাচ্ছি। এবারও বাংলাদেশ ব্যাংক কিছুটা ছাড় দিয়েছে। সেটার ভিত্তিতে ১৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা আছে। শেষ পর্যন্ত ১৩২ কোটি টাকা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। অগ্রণী ব্যাংকের চামড়া শিল্পে ঋণস্থিতি ৫৩৪ কোটি টাকা।

এর মধ্যে বড় অঙ্কের টাকা নিয়মিত হলেও বকেয়া রয়েছে। কিছু অংশ খেলাপিও হয়ে গেছে। তাই এবার ব্যাংকটি ৭০ কোটি টাকা ঋণ দেবে। অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, যেসব চামড়া ব্যবসায়ী আগের ঋণ পুরোপুরি শোধ করেছেন, শুধু তাদেরই ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানটিকে শতভাগ উৎপাদনে থাকতে হবে।

এবার ৭০ কোটি টাকা দেওয়ার ইচ্ছা আছে। গত বছর দিয়েছি ৫১ কোটি টাকা।

রূপালী ব্যাংক এখন পর্যন্ত চামড়া খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ৭০৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬২৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নিয়মিত আছে। আর খেলাপি হয়েছে ৭৪ কোটি টাকা। খেলাপির মধ্যে হোসেন ব্রাদার্স ট্যানারির কাছে ১৩ কোটি ৩০ লাখ, মাইজদী ট্যানারির কাছে ১২ কোটি, মিজান ট্রেডার্সের কাছে ৪৫ কোটি ৬৭ লাখ, তৌফিক লেদারের কাছে ১ কোটি ২৪ লাখ এবং জে জে লেদারের কাছে ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

এসব খেলাপি ঋণের বড় অংশই পুরোনো। ১৯৮৫ সাল থেকে খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত। সর্বশেষ ২০২০ সালে কয়েকটি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানকে মন্দের ভালো বিবেচনায় নিয়ে ১৫৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এবারও সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হবে বলে জানা গেছে।

রূপালী ব্যাংকের রিকভারি স্পেশালিস্ট (ডিজিএম) পেয়ার আহমেদ ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, আগের খেলাপি ঋণ আদায় করা সম্ভব হয়নি। এগুলো অনেক পুরোনো ঋণ। তবে সম্প্রতি দেওয়া ঋণগুলো নিয়মিত আছে।

এদিকে ১৩ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে বলেছে, অগ্রিম ১৫ শতাংশ জমা ছাড়াই নতুন ঋণ পাবেন কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে তিন বছরের জন্য ২০২০ সালের বকেয়া ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাবেন তারা। অবশ্যই এর জন্য পর্যাপ্ত জামানত থাকতে হবে।

 

বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২৬৭০ কোটি টাকা

করোনার প্রভাবে বিশ্ব বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিদেশি বিনিয়োগে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট বা এফডিআই) প্রবাহ কমেছে ৩১ কোটি ৪ লাখ ডলার।

স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ২ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৯ সালে বাংলাদেশে এফডিআই এসেছিল ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় ২৪ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা। ২০২০ সালে তা কমে এসেছে ২৫৬ কোটি ৩৬ লাখ ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় ২২ হাজার ৪৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও বিদেশি ঋণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটি রোববার প্রকাশ করা হয়।

আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী বিদেশি কোম্পানিগুলো তিনভাবে পুঁজি দেশে আনতে পারে। এগুলো হচ্ছে-১. মূলধন হিসাবে নগদ বা শিল্পের যন্ত্রপাতি হিসাবে ২. দেশে ব্যবসা করে অর্জিত মুনাফা বিদেশে না নিয়ে দেশে বিনিয়োগ করে এবং ৩. এক কোম্পানি অন্য কোম্পানি থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করতে পারে। এ তিন পদ্ধতির যে কোনোভাবে বিনিয়োগ করলে তা এফডিআই হিসাবে গণ্য করা হয়।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ কমছে। এর মধ্যে গত বছর কমেছে মূলত করোনার কারণে। করোনায় বিশ্ব বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ায় পুঁজির চলাচল একেবারে স্থবির ছিল। ফলে বিশ্বব্যাপী নতুন পুঁজি বিনিয়োগ কম হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশেও পুঁজি বিনিয়োগ কম হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশে বিনিয়োগ পদ্ধতি আরও সহজ করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করতে হবে। বিদেশিদের জন্য বরাদ্দ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ার কথা। কিন্তু বাড়ছে না কেন। এর কারণ অনুসন্ধান করে দেখা উচিত।

প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে বিদেশ থেকে মূল পুঁজি আনা ও কোম্পানিগুলোর অর্জিত মুনাফা থেকে পুনরায় বিনিয়োগ সামান্য বেড়েছে। কিন্তু বিদেশি এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানির ঋণ ব্যাপকভাবে কমেছে। এ কারণে সার্বিকভাবে বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে।

২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে মূল পুঁজি বিনিয়োগ বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। কোম্পানিগুলোর অর্জিত মুনাফা থেকে পুনরায় বিনিয়োগ বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানির ঋণ কমেছে ৭৪ দশমিক ৩ শতাংশ। মূলত মূল পুঁজি ও অর্জিত মুনাফা থেকে বিনিয়োগ বেশি হারে না বাড়ায় এবং এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানির ঋণের পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে বিনিয়োগের পরিমাণ কমে গেছে। ২০১৯ সালে এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানির ঋণের পরিমাণ ছিল ৬০ কোটি ২৯ লাখ ডলার। গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৫২ লাখ ডলারে। আলোচ্য সময়ে এফডিআই কমেছে ৪৪ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।

আলোচ্য সময়ে মোট বিনিয়োগের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ, ব্যাংকিং খাতে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ, টেক্সটাইলে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ, টেলিকমিউনিকেশনে ১০ দশমিক ১ শতাংশ, খাদ্যে ১৩ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

গত বছর দেশে আসা মোট এফডিআইয়ের মধ্যে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ মূল পুঁজি, ৬১ দশমিক ১ শতাংশ মুনাফা থেকে পুনরায় বিনিয়োগ এবং ৬ শতাংশ এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানির ঋণ।

২০১৭ সালে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল ২১৫ কোটি ১৬ লাখ ডলার। ২০১৮ সালে তা বেড়ে ৩৬১ কোটি ৩৩ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। ২০১৯ সালে তা আবার কমে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারে নেমে যায়। ২০২০ সালে তা আরও কমে ২৫৬ কোটি ৩৬ লাখ ডলারে নামে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা একা বিনিয়োগ করে খুবই কম। দেশি বিনিয়োগকারীদের হাত ধরে বিদেশি বিনিয়োগ আসে। দেশি বিনিয়োগও কম হচ্ছে। এ কারণে বিদেশি বিনিয়োগও কম। এছাড়া করোনার কারণে গত বছর ব্যবসা-বাণিজ্য একেবারেই স্থবির ছিল। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, করোনার প্রকোপ কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ। ফলে এ বছর বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা যায়। দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুত শেষ হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ২৫ বছরে দেশে মোট ২ হাজার ৫৫০ কোটি ৮৫ লাখ ডলার এফডিআই এসেছে। এর মধ্যে মূল পুঁজি এসেছে ৯১২ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা মোট বিনিয়োগের ৩৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। মুনাফা থেকে ও ঋণ থেকে বিনিয়োগ হয়েছে বাকি ৬৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ মূল বিনিয়োগ মাত্র এক তৃতীয়াংশ।

আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা মোট বিনিয়োগের ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সিঙ্গাপুর। তারা মোট বিনিয়োগের ১৬ দশমিক ১ শতাংশ করেছে। তৃতীয় অবস্থানে নেদারল্যান্ডের বিনিয়োগ ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ, মালয়েশিয়ার ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, চীনের ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, মিশরের ৬ দশমিক ২ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের ৬ দশমিক ১ শতাংশ, হংকংয়ের ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং অন্যান্য দেশগুলোর ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ বিনিয়োগ রয়েছে।

সমস্যা মোকাবিলা করে বেঁচে থাকার নামই জীবন: এমপি রহমতুল্লাহ

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ঢাকা উত্তর সিটির ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে (উত্তর বাড্ডা) করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রোববার খাদ্য ও ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম রহমতুল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে ৫শ পরিবারের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বশির আহমেদ, ডিএনসিসি ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সেলিম, ৪২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আইয়ুব আনসার মিন্টু, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সদস্য ফারুক মিলন, বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুজিবুর রহমান, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য রহমতুল্লাহ বলেন, করোনা মাহামারি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আমরা বিশ্ব পরিবারের সদস্য। কাজেই আমরা এই সমস্যার বাইরে নই। বিশ্বের অনেক বড় বড় দেশ এই করোনাভাইরাস মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। তাই সমস্যা আসবে, আর সমস্যা মোকাবিলা করে বেঁচে থাকার নামই জীবন।

মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সহসভাপতি বশির আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ সুখে-দুঃখে সবসময় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে।

জাতীয় পেশাজীবী সমাজের ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক হলেন আম্মার মিয়া

জাতীয় পেশাজীবী সমাজের নতুন কমিটির ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন মোহাম্মদ আম্মার মিয়া (অসীম)।

রোববার সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় পেশাজীবী সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ রাজধানীর উত্তরা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের বাসভবনে মোহাম্মদ আম্মার মিয়ার (অসীম) হাতে ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক পদে নিয়োগের চিঠি তুলে দেন।

এ সময় জাতীয় পেশাজীবী সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক বাহারুল ইসলাম এবং অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ আম্মার মিয়া (অসীম) দীর্ঘ ৩ বছর ধরে জাতীয় পার্টি ও জাতীয় পেশাজীবী সমাজের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। জাতীয় পেশাজীবী সমাজের রাজনীতির পাশাপাশি তিনি জাতীয় যুব সংহতি গোপালগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন।

জাতীয় পেশাজীবী সমাজের নতুন কমিটির ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন মোহাম্মদ আম্মার মিয়া (অসীম)।

রোববার সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় পেশাজীবী সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ রাজধানীর উত্তরা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের বাসভবনে মোহাম্মদ আম্মার মিয়ার (অসীম) হাতে ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক পদে নিয়োগের চিঠি তুলে দেন।

এ সময় জাতীয় পেশাজীবী সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক বাহারুল ইসলাম এবং অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ আম্মার মিয়া (অসীম) দীর্ঘ ৩ বছর ধরে জাতীয় পার্টি ও জাতীয় পেশাজীবী সমাজের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। জাতীয় পেশাজীবী সমাজের রাজনীতির পাশাপাশি তিনি জাতীয় যুব সংহতি গোপালগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন।

কঠোর লকডাউনে বন্ধ থাকবে গার্মেন্টস

কঠোর লকডাউনে আগামী ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু শিল্প-কারখানা খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু এসময়ের মধ্যে গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানা খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি

সোমবার এক প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ তথ্য জানায়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আরোপিত বিধি -নিষেধের আওতামুক্ত থাকবে খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন/প্রক্রিয়াজাতকরণ মিল কারখানা, কোরবানির পশুর চামড়া পরিবহণ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ঔষধ, অক্সিজেন ও কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদনকারী শিল্প কারখানা।

কিন্তু প্রজ্ঞাপনে গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানা খোলার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ফলে মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট বিধি-নিষেধ চলাকালীন গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানা বন্ধই থাকছে।

১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে চলমান বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও ২৩ জুলাই থেকে আবার কঠোর লকডাউন শুরু হবে। করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় গত ১ জুলাই থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন আরোপ করে সরকার। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ১৪ জুলাই পর্যন্ত করা হয়।

ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সোমবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, আসুন, আমরা সবাই পবিত্র ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

ঈদুল আজহার এ দিনে প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর উন্নতি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত শান্তি কামনা করেন এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং ঈদ মোবারক জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, হযরত ইব্রাহীম (আ.) মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রিয়বস্তুকে উৎসর্গ করার মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা বিশ্ববাসীর কাছে চিরকাল অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতিবছর এ উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে স্বচ্ছল মুসলমানরা কোরবানিকৃত পশুর গোশত আত্মীয়স্বজন ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে মানুষে-মানুষে সহমর্মিতা ও সাম্যের বন্ধন প্রতিষ্ঠা করেন। শান্তি সহমর্মিতা, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয় ঈদুল আজহা।

আমরা এক সংকটময় সময়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। আমাদের সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরা জনগণকে সকল সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছি।

তিনি বলেন, আল্লাহ বিপদে মানুষের ধৈর্য পরীক্ষা করেন। এসময় সকলকে অসীম ধৈর্য নিয়ে সহনশীল ও সহানুভূতিশীল মনে একে অপরকে সাহায্য করে যেতে হবে। এই বিপদের সময় স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী, সশস্ত্রবাহিনী, সাংবাদিক, ব্যাংকার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ যারা জীবন বাজি রেখে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

প্রধানমন্ত্রী এই মহামারিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমরা যেন ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি এবং আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করি যেন এই সংক্রমণ থেকে আমরা সবাই দ্রুত মুক্তি পাই।

কুরবানির মর্মার্থ অনুধাবন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

করোনা মহামারির এ কঠিন সময়ে কোরবানির মর্মার্থ অনুধাবন করে সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হয়ে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সোমবার এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলিম ভাইবোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।

তিনি বলেন, মহান আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। ‘আজহা’ অর্থ কুরবানি বা উৎসর্গ করা। ঈদুল আজহা উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে চরম ত্যাগ ও প্রভুপ্রেমের পরাকাষ্ঠা। মহান আল্লাহর নির্দেশে স্বীয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়ে হজরত ইব্রাহিম (আঃ) আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা, অবিচল আনুগত্য ও অসীম আত্মত্যাগের যে সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ইতিহাসে অতুলনীয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কুরবানি আমাদের মাঝে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়।

আবদুল হামিদ বলেন, এ বছর এমন একটা সময়ে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব করোনাভাইরাসের সংক্রমণে চরমভাবে বিপর্যস্ত। করোনার কারণে দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকা আজ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জীবন বাঁচানো প্রথম অগ্রাধিকার হলেও জীবন বাঁচিয়ে রাখতে জীবিকার গুরুত্বও অনস্বীকার্য। কঠিন এ সময়ে তিনি দেশের আপামর জনগণের প্রতি কোরবানির মর্মার্থ অনুধাবন করে সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হয়ে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে দেশবাসীর প্রতি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন।

তিনি বলেন, ত্যাগের শিক্ষা ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলিত হলেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও সৌহার্দ। মহান আল্লাহ মহামারি করোনার হাত থেকে সবাইকে করুন, আমিন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান আল্লাহর নিকট কুরবানি কবুল হওয়ার জন্য শুদ্ধ নিয়ত ও উপার্জন থাকা আবশ্যক। সরকার নির্ধারিত স্থানে কুরবানি করে এবং কুরবানির বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ বন্ধে সবাই সচেষ্ট থাকবেন বলে আমি আশা করি।

তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা সবার জন্য বয়ে আনুক কল্যাণ, সবার মধ্যে জেগে উঠুক ত্যাগের আদর্শ।

করোনা মহামারির এ কঠিন সময়ে কোরবানির মর্মার্থ অনুধাবন করে সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হয়ে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সোমবার এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলিম ভাইবোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।

তিনি বলেন, মহান আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। ‘আজহা’ অর্থ কুরবানি বা উৎসর্গ করা। ঈদুল আজহা উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে চরম ত্যাগ ও প্রভুপ্রেমের পরাকাষ্ঠা। মহান আল্লাহর নির্দেশে স্বীয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়ে হজরত ইব্রাহিম (আঃ) আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা, অবিচল আনুগত্য ও অসীম আত্মত্যাগের যে সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ইতিহাসে অতুলনীয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কুরবানি আমাদের মাঝে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়।

আবদুল হামিদ বলেন, এ বছর এমন একটা সময়ে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব করোনাভাইরাসের সংক্রমণে চরমভাবে বিপর্যস্ত। করোনার কারণে দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকা আজ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জীবন বাঁচানো প্রথম অগ্রাধিকার হলেও জীবন বাঁচিয়ে রাখতে জীবিকার গুরুত্বও অনস্বীকার্য। কঠিন এ সময়ে তিনি দেশের আপামর জনগণের প্রতি কোরবানির মর্মার্থ অনুধাবন করে সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হয়ে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে দেশবাসীর প্রতি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন।

তিনি বলেন, ত্যাগের শিক্ষা ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলিত হলেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও সৌহার্দ। মহান আল্লাহ মহামারি করোনার হাত থেকে সবাইকে করুন, আমিন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান আল্লাহর নিকট কুরবানি কবুল হওয়ার জন্য শুদ্ধ নিয়ত ও উপার্জন থাকা আবশ্যক। সরকার নির্ধারিত স্থানে কুরবানি করে এবং কুরবানির বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ বন্ধে সবাই সচেষ্ট থাকবেন বলে আমি আশা করি।

তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা সবার জন্য বয়ে আনুক কল্যাণ, সবার মধ্যে জেগে উঠুক ত্যাগের আদর্শ।