রবিবার ,৩ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 711

লিসবন: ভাস্কো দ্য গামা ব্রিজ, বাইর আলতো

লিসবনে পা রেখেছি দেখতে দেখতে চার দিন হয়ে যাচ্ছে। গতকালের সিটি ট্যুরের স্মৃতি এখনো টাটকা। এখনো মনের ক্যানভাসে আঁকা আছে বেলেম টাওয়ার, জেরোনিমাস মনস্ট্রারি কিংবা ডিসকভারি মনুমেন্টের ছবি। সুখের আবেশ নিয়েই বিছানা ছাড়লাম। আপাতত রূমমেট স্বপন দা ওয়াশ রুমে থাকায় স্যান্ডেলটা গলিয়ে লবিতে চলে এলাম। আমরা যে এলাকায় আছি তার নাম বাইশা চিয়াদো। লিসবনের পুরানো পাড়া বলতে যা বোঝায় তার মধ্যে চিয়াদো অন্যতম। আর আমাদের হোটেল বোর্জেস চিয়াদো ও অন্যতম হেরিটেজ হোটেল।

এখন একটু অফ পিক টাইম, তারপরেও রুম ভাড়া কম করে হলেও বাংলাদেশি টাকায় প্রতি রাত প্রায় দশ হাজার টাকার মতো। অবশ্য এর মধ্যে কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট ধরা আছে। আমরাও সুযোগটার পুর্ন সদ্ব্যবহার করি। দুপুরে অধিকাংশ দিনই কনফারেন্সে ঘাস লতা-পাতা (ভেজিটেরিয়ান মিল) খেয়ে কাটাতে হয়, রাতের ডিনারও আর্লি করতে হয় বলে ঠিকমতো খাওয়া হয় না, তাই আমরা ব্রেকফাস্টটাকেই মেজর মিল বানিয়ে নিয়েছি। সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে ব্রেকফাস্ট সারি প্রতিদিন। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। ব্রেকফাস্টের টেবিলে দলনেতা সাইফুল ভাই জানিয়ে দিলেন আজ কনফারেন্সের পর আমরা ভিজিট করবো ভাস্কো দ্য গামা সেতু পাড়ি দিয়ে লিসবনের অপর পারে। সেখানে ইউরোপের অন্যতম বিখ্যাত ফ্যাক্টরি আউটলেটে ঘুরে দেখার সাথে সাথে কেনাকানার সুযোগও মিলে যেতে পারে। আমারও আজ কিছু কাজ আছে কনফারেন্স হলে। কাল আমার পোস্টার প্রেসেন্টেশন আছে, তাই আজকের মধ্যেই পোস্টার মাউন্ট করতে হবে। একটু সকালে যেহেতু উঠেছি আর্লি ব্রেকফাস্টও করা হয়ে গেছে। আমাদের বাস আসতে এখনও বেশ কিছুটা সময় বাকি, তাই সিদ্ধান্ত নিলাম লিসবনের এই বিখ্যাত পাড়া বাইশা চিয়াদো একটু ঘুরে দেখি। রেডি হয়ে লবিতে নামতেই দেখি স্বপন দা আর বেলাল ভাইও তৈরি হয়ে আছে। তিনজনেই রাস্তায় বের হলাম।

শুরুতেই জানিয়ে রাখি আমাদের এই হেরিটেজ হোটেল বোর্জেস চিয়াদো সম্পর্কে। ১৮৮৪ সালে নির্মিত এই হোটেল লিসবনের অন্যতম পুরাতন হোটেল। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশেল এই হোটেলে আধুনিক আরাম আয়েশের সব ব্যাবস্থাই বিদ্যমান আর সেই সাথে হোটেলটি ধরে রেখেছে তার সনাতন ঐতিহ্য। হোটেলের বিভিন্ন দেয়ালে মূর্ত হয়ে থাকা পুরনো লিসবনের ছবি সেই সাক্ষরই বহন করছে। লিসবনের ঐতিহ্য মোতাবেক ব্যালকনিসহ রুম রয়েছে প্রায় কক্ষেই। রুয়া গ্যারেট চিয়াদোতে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী হোটেলটি লিসবনের মুখ্য আকর্ষনগুলোর খুব কাছেই অবস্থিত। লিসবনের সিটি সেন্টার রসিও এখান থেকে পায়ে হেঁটে মাত্র ৫ মিনিটের পথ, একই কথা প্রযোজ্য পার্কা ডি কমার্সিওর ক্ষেত্রেও। খুব কাছেই মেট্রো স্টেশন বাইক্সা চিয়াদো। ফলে যাতায়াত নিয়ে ভাবনা নেই, আর বিখ্যাত ট্রাম ২৮ তো বুড়ি ছোঁয়া দূরত্বেই। প্রায় এক শতকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসা করে আসা এই হোটেলে বিভিন্ন সময়ে পা পড়েছে নানা বিখ্যাতজনের। অনেকে তো এক নিয়ে কবিতাও লিখেছেন, এই যেমন লিসবনের অন্যতম বিখ্যাত কবি ফার্নান্দো পেসোয়া বা ইনা ডি কুইরেস।

আমাদের হোটেলের ঠিক পাশেই আরেক বিখ্যাত রেস্টুরেন্ট ক্যাফে ব্রাসিলেরিয়া, শুধু লিসবনেরই নয় ইউরোপেরই অন্যতম প্রাচীন ক্যাফে এটি। এখানেরই একটা টেবিলে বসে প্রতিদিন কফির পেয়ালায় চুমুক দিতেন আর কবিতা লিখতেন কবি ফার্নান্দো পেশোয়া, তার স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে তার টেবিলে বসা একটা পাথুরে মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে এই ক্যাফের সামনে। আমরাও সুযোগে পেশোয়ার পাশের চেয়ারে বসে ছবি তুলে নিলাম। হেটে হেটে দেখে নিচ্ছিলাম এই প্রাচীন এলাকাকে। চারদিকে সব এন্টিক বাড়ির ছড়াছড়ি। অবাক বিস্ময়ে দেখলাম প্রতিটি বাড়িই তার বাহিরের পুরাতন ঐতিহাসিক কাঠামো ধরে রেখে ভিতরের অংশকে আধুনিক ছাচে ঢেলে সাজিয়েছে। নিজেদের ইতিহাস আর ঐতিহ্যকে লালন করার এই ঐকান্তিক প্রয়াস অজান্তেই মনকে ছুয়ে গেল। এক যায়গায় দেখলাম একটা নির্মানধীন বাড়িতে কিছু শ্রমিক কাজ করছে। এখানেও সেই একই দৃশ্য, বাহিরের দেয়ালটি অবিকল আগের মত রেখে ভিতরে পুনঃনির্মাণ চলছে। শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম। এখানে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন থেকেই পুরো বাড়ি ভাঙ্গার কোন পারমিশন নেই। শুধু পুনঃনির্মাণ করা যাবে তাও ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে বিকৃত না করে। অজান্তেই এদের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে এলো। ইস আমরাও যদি পারতাম আমাদের পানাম নগর, সূত্রাপুর কিংবা শাঁখারি বাজারের ঐতিহ্যগুলোকে টিকিয়ে রাখতে।

হাঁটতে হাঁটতে দেখে নিলাম বেশ কিছু মিউজিয়াম। হাতে সময় আরো থাকায় আরো কিছুদূর হেঁটে পার্কা দ্য কমার্সিও ধরে নদীর তীরে চলে গেলাম, সেখানে কিছুটা সময় কাটিয়ে রুয়া আগাস্তা ধরে লিসবন গেট পেরিয়ে আবার চলে এলাম রসিও স্কোয়ারে। এখান থেকেই আমাদের বাস ধরতে হবে। গত তিন দিনে আমার মায়ের মামাতো ভাই শুভ আর তার পার্টনার ফয়সাল মামা আমাদেরকে এই এলাকগুলো পায়ে হেঁটে ঘুরিয়েছেন, তাই আজ রাস্তা চিনতে আর কোন কষ্ট হলো না। আসলে ইউরোপের অধিকাংশ সিটিতেই মুখ্য ট্যুরিস্ট আকর্ষণগুলো হেঁটেই ঘুরতে হয়। লিসবন বলেন, রোম বলেন আর প্রাগ সর্বত্রই একই দৃশ্য। আমাদের নির্দিষ্ট স্টপে পৌঁছে দেখি দলের অনেকেই বসে আছে, এখনো বাস এসে পৌঁছায়নি। এই সুযোগে আশে পাশের দোকানগুলোতে উইন্ডো শপিং করে বেড়ালাম। এখানেই একটা দোকানকে দাবি করা হয় ইউরোপের সবচেয়ে পুরাতন দোকান বলে। সত্য মিথ্যা জানি না, তবে দেখে বেশ পুরাতনই মনে হলো, আর তাদের এন্টিক বইয়ের কালেকশনও বেশ সমৃদ্ধ মনে হলো। ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম আর দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলাম, সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় কি আর সব সময় করা যায়। তারপরও লিসবনের ওপর একটা পেপার বুক কিনে নিলাম, যেটা এখন কাজে দিচ্ছে এই লেখা লেখার সময়।

অল্পক্ষণ পরেই বাস চলে আসায় আর দেরি না করে বাসে উঠে বসলাম। বেশ কিছু স্ট্রিট ঘুরে পার্কা দ্য কমার্সিওর পাশ দিয়ে আমাদের বাস এগিয়ে চললো নদীর তীরের রাস্তা দিয়ে। রসিও থেকে পার্কা দ্যা কমার্সিও সোজা আসলে মাত্র কয়েক মিনিটের পথ, অথচ ওয়ান ওয়ে ট্র্যাফিকের কারণে আমাদের এটুকু পথ পাড়ি দিতেই ১৫ মিনিট লেগে গেল। অবশ্য কিছু করারও নেই। পুরানো শহরের রাস্তাগুলো খুব বেশি প্রশস্ত নয়, আবার সাথে ট্রামের লাইনও আছে, তাই এই ব্যবস্থা। নদীর পারে একটা জেটিতে দেখি প্রায় ১৫ তলা বিশাল এক প্রমোদতরী ভেড়ানো। আমাকে সেদিকে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে আমাদের আজকের ড্রাইভার কাম-গাইড ডেভিড জানালেন এ ধরনের ক্রুজ শিপ সপ্তাহে দুই দিন এই জেটিতে ভিড়ে। এগুলোতে চড়ে ট্যুরিস্টরা সমুদ্রপথে ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন। একেকটা শিপ যেন নিজেই একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর। সুপার শপ থেকে শুরু করে, রেস্টুরেন্ট, বার, ড্যান্স ফ্লোর, বলরুম, সিনেমা হল, সুইমিং পুল, টেনিস কোর্ট সবই আছে সেখানে। রুমের ক্লাসের ভিত্তিতে ভাড়ার তারতম্য হয়। এখান থেকে বাল্টিক সাগর পাড়ি দিয়ে সুইডেন, নরওয়ে পর্যন্তও নাকি পৌঁছে যাওয়া যায়।

দেখতে দেখতে চলে এলাম মিও এরেনায়। আজকে কনফারেন্সের চতুর্থ দিন। আগামীকাল হবে ক্লোসিং সিরিমনি, তারই একটা অংশ হচ্ছে ম্যারাথন। এই ম্যারাথনের কয়েকটি পার্ট, মিনি, হাফ, ফুল আর আল্ট্রা ম্যারাথন। মিনি ম্যারাথন সম্ভবত ৭ কিমি, হাফ ২১ কিমি, ফুল ৪৩ কিমি আর আল্ট্রা ৫০ কিমির মতো। আমাদের মধ্যে অনেকেই উৎসাহী হলেও শেষ পর্যন্ত কেউই আর এগিয়ে না আসায় আমার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও রেজিস্ট্রেশন করলাম না। তার ওপর রানিং শু বা ড্রেস কিছুই নিয়ে আসিনি। শুধু শুধু সাময়িক উত্তেজনায় দৌড়াতে গিয়ে এই বিদেশ বিভুইয়ে ইঞ্জুরিতে পড়ার কোন মানে হয় না। তার মধ্যে যথাযথ প্রস্তুতি না নিয়ে ম্যারাথন দৌড়ালে হিতে বিপরীত হতে পারে।

কনফারেন্স সেন্টারে ঢুকে আমি সোজা চলে গেলাম পোস্টার হলে। সেখানকার স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য নিয়ে পোস্টার মাউন্ট করে নিলাম। বিশাল এক হলে চলবে এই পোস্টার প্রতিযোগিতা। আমার মতো অনেকেই দেখলাম ব্যাস্ত শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে। এ ধরনের একটা ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামে প্রেসেন্ট করতে পারা একটা গৌরবের বিষয়। সারা বিশ্ব থেকেই সাইন্টিস্টরা তাদের গবেষণা লব্ধ জ্ঞান প্রেসেন্ট করতে এসেছেন এই প্রোগ্রামে। কম করে হলেও ৫০০ এর মত পোস্টার প্রেসেন্ট হবে এবারের কনফারেন্সে। তাদের মধ্যে নিজের দেশকে রিপ্রেসেন্ট করতে খুবই আনন্দ হচ্ছে। কনফারেন্স সেন্টারের বাইরে অন্যান্য দেশের সাথে পত পত করে উড়তে থাকা আমাদের লাল সবুজ পতাকার কথা আরেকবার মনে পড়ে গেল। এই ধরনের বিশ্ব মাপের কনফারেন্সে পেপার এক্সসেপ্ট হওয়া অত্যন্ত ভ্যাগ্যের ব্যাপার। খুব ভালো মানের অথেন্টিক পেপার না হলে তারা এক্সসেপ্ট করে না। আর এই ধরনের পেপার তৈরিতে যে অমানুষিক পরিশ্রম তা আজকে সার্থক বলে মনে হচ্ছে। এখানকার কাজ আপাতত সাঙ্গ করে বিভিন্ন হলে ঢুঁ মারলাম আর বিভিন্ন সায়েন্টিফিক আপডেট সম্পর্কে জেনে নিচ্ছিলাম। এর মাঝেই পরিচিত হলাম জার্মানির মেডিক্যাল শিক্ষার্থী ভিক্টরিয়ার সাথে। বার্লিন থেকে আসা ভিক্টরিয়া মূলত এখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করছে। এখনোও গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেনি। ২০-২১ বছরের বেশ সুন্দরী তরুণী। কথাবার্তায়ও বেশ স্মার্ট। আগামী বছরের প্রোগ্রাম হবে বার্লিনে, তার জন্য অগ্রীম দাওয়াত দিয়ে রাখলো আর সেই সাথে নিজের দেশের গুণগানও করল। আমিও সুযোগটা ছাড়লাম না নিজের দেশকে রিপ্রেসেন্ট করলাম। আমাদের দেশে যে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় হোয়াইট স্যান্ড বীচ, কক্সবাজার আর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, সুন্দরবনের অবস্থান সেকথা জানাতে ভুললাম না। ভিক্টোরিয়াও আগ্রহ দেখালো বাংলাদেশে আসার। ই-মেইল এড্রেস বিনিময় করে আশ্বাস দিয়ে রাখলাম বাংলাদেশে আসলে সবধরনের সহায়তার।

কাল আবার দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবারের মতো বিদায় নিলাম। কয়েকটি সেশনে অংশ নিয়ে কনফারেন্স সেন্টারেই ঘাস লতা-পাতা (ভেজেটেরিয়ান মিল) দিয়ে লাঞ্চ সেরে দলের বাকিদের সাথে যুক্ত হলাম আগেই নির্ধারিত পয়েন্টে। দলের কয়েকজন পাশের শপিংমলে ঢুকে পড়েছিলেন, তাদের জন্য কছুটা সময় ব্যায় হল। অবশেষে সবাই একসাথে হলে আমরে রওনা হয়ে গেলাম ভাস্কো দ্য গামা ব্রিজের পানে।

লিসবনের ব্যাস্ততাকে পেছনে ফেলে বিভিন্ন অলি গলি ঘুরে আমরা ছুটে চললাম পন্টে ভাস্কো দ্য গামার উদ্দেশ্যে। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল ব্রিজটির অবয়ব। এর পাশেই লিসবন টাওয়ার। এক্সপো ৯৮ উপলক্ষে ২৯ মার্চ ১৯৯৮ সালে উদ্বোধন হওয়া ১৭ কিমি দীর্ঘ এই সেতুকে বিবেচনা করা হয় বিংশ শতাব্দীর অন্যতম আর্কিটেকচারাল মাস্টারপিস হিসাবে। ১৪৯৮ সালে ভাস্কো দ্য গামার ভারতে পদার্পণের ৫শ বর্ষপূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে নির্মিত এই ব্রিজ অনেকটাই ধনুকের মতো বাঁকানো। এর একটা অংশ অপর অংশের তুলনায় বেশ উঁচু। আমাদের আজকের গাইডের কাছ থেকে জানা গেল তাগুস নদীর এই অংশটায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছেদের বংশ বিস্তারে যাতে বাধা না পরে তাই এই ধরনের আয়োজন। তবে আমার কাছে মনে হলো এইখানটাতে নদীর স্রোতের তীব্রতার কারণে কিংবা বিশাল প্রমোদতরীগুলোর চলাচলের সুবিধার জন্যই এ কাজ করা হয়েছে। ব্রিজ পার হওয়ার সময় আরেকটি অদ্ভুত বিষয় খেয়াল করলাম, অধিকাংশ ভেহিকেলই ব্রিজ টোল না দিয়েই পার হয়ে যাচ্ছে। অবাক হয়ে ড্রাইভারকে এ কথা জিজ্ঞেস করাতেই আমাকে সামনের ড্যাশবোর্ডের সাথে লাগানো একটা সাদা রঙের বক্সের দিকে দেখিয়ে দিল। আসলে এইটা একটা সেন্সর। এই সেন্সর লাগানো থাকলে অটো টোল দেয়া হয়ে যায় স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে। প্রি-পেইড কার্ডের মাধ্যমে এই বক্স রিচার্জ করে নেয়া যায় অথবা পোস্ট পেইড হিসাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা কেটে নেয়ার সুবিধা আছে। দুই বছর পর স্পেনের এ মাথা থেকে ওমাথা চষে বেড়ানোর সময় এই বক্সের উপযোগিতা ভালোই টের পেয়েছিলাম। বাসে করে ব্রিজ পার হতে গিয়ে আরেকটি বিষয় খেয়াল করলাম ব্রিজের একদিকে চারটি লেন আর বিপরীত দিকে মাত্র দুইটি লেন। আবারো আমাদের গাইডের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে জানালেন এই লেনগুলো পরিবর্তনশীল। এখন অফিস ছুটির সময় তাই সবাই অফিস শেষে বাড়ি ফিরছে, ফলে শহরের এক্সিট লাইনে গাড়ির চাপ বেশি, তাই এই সময় এক্সিট লাইনে দুইটি লেন বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার সবার দিকে ইন লাইনে গাড়ির চাপ বেশি থাকে বলে তখন ইন লাইনে দুইটি লেন বাড়িয়ে ব্যাবহার করা হয়। লিসবনের অধিকাংশ মানুষই শহরের বাইরে থাকে। প্রতিদিন বাইরে থেকে মূল শহরে এসে কাজকর্ম সেরে আবার নিজের ডেরায় ফিরে যায়। দেখতে দেখতে পার হয়ে এলাম এই বিখ্যাত ব্রিজ।

ব্রিজ পার হতেই ওপারের একটা শহরের দিকে নির্দেশ করলেন আমাদের গাইড। এখানেই নাকি বিখ্যাত ফুটবলার লুইস ফিগোর জন্ম এবং বেড়ে উঠা। দেখতে দেখতে আমরা চলে এলাম ফ্রি পোর্টে, নাম বাইরো আলতো। এটাই নাকি ইউরোপের সবচেয়ে বিখ্যাত ফ্রি পোর্ট। এখান থেকেই নাকি ইউরোপে সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি রপ্তানি হয়। বিশেষ করে এশিয়া এবং আফ্রিকা থেকে বিভিন্ন পন্য প্রবেশ এবং বের হওয়ার গেটওয়ে হচ্ছে এই ফ্রি পোর্ট। বাস আমাদের পার্কিং লটে নামিয়ে দিলে আমরা নিজেরাই ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম এই ভিন্ন ধরনের শপিং হাব। দুনিয়ার তাবত বাঘা বাঘা কোম্পানির সবাই হাজির নিজেদের ফ্যাক্টরির পণ্য নিয়ে। ডিউটি ফ্রি হওয়ায় এখানে দোকানের চাইতে জিনিসের দাম তুলনামূলক অনেক কম। কিন্তু আগেই জানিয়েছি আমার মতো হতদরিদ্র ট্যুরিস্টের জন্য আসলে এসব আউটলেট না। তারপরও অনেক সাহস সঞ্চয় করে সহধর্মিণীর জন্য কেল্ভিন ক্লেইন আর টমি হিলফিগার এর দুইটা ব্যাগ কিনেই ফেললাম। ঘোরাঘুরি তো অনেক হলো এবার ফেরার পালা। আবার সেই ভাস্কো দ্য গামা ব্রিজ পার হয়ে লিসবন শহরের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে বাস আমাদের নামিয়ে দিয়ে গেল রসিও চত্বরে। রাতে আবার ডিনারের জন্য বের হতে হবে। কালকে কনফারেন্সে আমার পোস্টার প্রেসেন্টেনশন আছে, তারপর ছুটি, মানে বিদায়ের পালা। কিন্তু আমি কয়েকটা দিন থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছি তাই ছুটিও বাড়িয়ে রিটার্ন ফ্লাইট চেঞ্জ করেই এসেছি। দলের অনেকেই আবার এখান থেকে স্পেনে ঘুরে আসার প্ল্যান করেছে। অনেকেই দেখলাম আজ রাতে এখান থেকেই মাদ্রিদ গিয়ে কাল সারাদিনে বেড়িয়ে আসার প্ল্যান করে ফেলেছে। স্পেন আর পর্তুগাল একেবারে পাশাপাশি রাষ্ট্র। উভয়েই সেঞ্জেনভুক্ত হওয়ায় ভিসার ঝামেলাও নেই। আমার তো আর এবার সে সুযোগ নেই; তাই আমি আর সেই দলে না ভিড়ে হোটেলের দিকেই পা বাড়ালাম… চলবে।

লেখক: আশরাফ উদ্দিন আহমেদ (শাকিল), চিকিৎসক, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল

সোনামণিদের মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা নয়

করোনাকালে বিশ্বজুড়ে একটি বিষয় অবহেলিত থেকে যাচ্ছে-তা হলো শিশু-কিশোরদের মাঝে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি। এ ব্যাপারে এখনই যদি কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে শিশুরা এ জাতির জন্য ভবিষ্যতে অনেক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মানসিক সুস্বাস্থ্য ছাড়া স্বাস্থ্য পূর্ণতা পায় না। ইউনিসেফের তথ্যমতে, সারা বিশ্বে প্রায় ২২০ কোটিরও বেশি হচ্ছে শিশু, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশ। করোনা মহামারির কারণে স্কুল-কলেজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে তাদের মাঝে দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা এবং বিষণ্নতাসহ নানা ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা সেইভ দ্য চিলড্রেন করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর ৪৬টি দেশের ১৩২৭৭ জন শিশু এবং ৩১৪৮৩ জন শিশুর অভিভাবকের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণাতে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর আশঙ্কাজনক ফলাফল বের হয়ে আসে-

* ৩২ শতাংশ শিশু নিজ ঘরে পারিবারিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়।

* ৮৩ শতাংশ শিশুর মাঝে অবসাদ, বিষণ্নতা এবং বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয় এবং মাত্র ৪৬ শতাংশ পিতামাতা এবং অভিভাবক এ বিষয়গুলো খেয়াল করেন।

* যেসব শিশু তাদের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল তাদের মাঝে অধিক দুশ্চিন্তা এবং অসুখী মনোভাব তৈরি হয়। যেসব শিশুর স্কুল ১-৪ সপ্তাহ বন্ধ ছিল, তাদের ৬২ শতাংশের মাঝে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। পাশাপাশি যাদের স্কুল ১৭-১৯ সপ্তাহ বন্ধ ছিল, তাদের মাঝে এ হার ছিল আরও ভয়াবহ (৯৬ শতাংশ)। বাংলাদেশে ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।

এর পাশাপাশি যেসব শিশুর অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন তারা আরও বেশি মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। যেমন- ওসিডি, অটিজম, সেরেব্রাল পালসিসহ এ ধরনের অন্যান্য সমস্যায় ভুগতে থাকা শিশুরা এক দুর্বিষহ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যদিও এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে অনেক দেশ পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে, তবু এখনো অনেক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন।

* টিকাদান কর্মসূচির মতো মানসিক সুস্বাস্থ্য কর্মসূচি চালু করা দরকার যেখানে সরকারি, বেসরকারি সব স্তরের অংশগ্রহণ এবং অবদান থাকবে।

* সব স্বাস্থ্যকর্মীদের অবশ্যই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশিক্ষণ থাকা লাগবে।

* শিশুদের এবং তাদের পিতামাতাদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নতির লক্ষ্যে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সভা করতে হবে।

* যে কোনো শিশু যে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তাকে অতিসত্বর চিহ্নিত করে চিকিৎসকের কাছে পাঠাতে হবে।

 

মাড়ির রোগ থেকে হতে পারে অ্যালজাইমারস

মাড়ির সমস্যা হলে আমরা খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাই না। এটি বড় রকমের বিপদ ডেকে আনতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে মাড়ির সমস্যা থেকে হতে পারে অ্যালজাইমাসের মতো জটিল রোগ।

এ বিষয়ে যুগান্তরকে পরামর্শ দিয়েছেন মুখ ও দণ্ডরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ফারুক হোসেন।

গবেষকরা বলেছেন, মাড়ি রোগের সঙ্গে যোগসূত্র আছে এমন ব্যাকটেরিয়া অ্যালজাইমারস রোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকরা জীবিত ও মৃত অ্যালজাইমার রোগী এবং সম্ভাব্য অ্যালজাইমার রোগীদের নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং ক্রমিক মাড়ি রোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যাকটেরিয়াকে অ্যালজাইমার রোগীর ব্রেনে দেখতে পেয়েছেন।

ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা নিশ্চিত করেছে, পরফাইরোমোনাস জিনজাইভালিস নামক ব্যাকটেরিয়া মুখ থেকে ব্রেনে মাইগ্রেট বা চলে যেতে পারে। এ ব্যাকটেরিয়া জিনজাইপেইন নামে একটি বিষাক্ত প্রোটিন নিঃসরণ করে থাকে, যা ব্র্রেনের নিউরনকে ধ্বংস করে থাকে। এ ব্যাকটেরিয়া অ্যালজাইমার রোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্রেন প্ল্যাকস্ একটি অংশ অ্যামাইলয়েড বেটার উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে।

ইঁদুরের ওপর আরও পরীক্ষা দেখায় যে, যখন ওষুধ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা উৎপন্ন টক্সিক প্রোটিনকে ব্লক বা বাধা দেয়, তখন ব্রেনের ডিজেনারেশন বন্ধ হয়ে যায়। যদিও এটি এখনো শতভাগ নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে, মাড়ি রোগ অ্যালজাইমারস্ এবং ডিমেনসিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত; কিন্তু ভবিষ্যতে অ্যালজাইমার রোগের ওষুধ এবং বিভিন্ন চিকিৎসায় এসব গবেষণা যে মূল্যবান ভ‚মিকা রাখবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

মাড়ির যত্নে অবশ্যই ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে হবে।

যেহেতু মাড়ি রোগের সঙ্গে অ্যালজাইমার রোগের যোগসূত্র রয়েছে, সেহেতু মাড়ি রোগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না। মুখের মধ্যে উপকারী এবং অপকারী দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিদ্যমান থাকে। মুখে ব্যাকটেরিয়ার একটি ভারসাম্য সব সময় বজায় থাকে। যদি কোনো কারণে ব্যাকটেরিয়ার এ ভারসাম্য নষ্ট হয়, তাহলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, জনসাধারণের মাঝে যাদের স্বাস্থ্যকর এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়ার চেয়ে অধিক ক্ষতিকর বা অপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অ্যালজাইমার রোগের জন্য প্রোটিন মার্কার বা নির্দেশক পাওয়া যায়। অ্যালজাইমারস রোগে প্রোটিন মার্কার হিসাবে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডে যে প্রোটিন পাওয়া যায়, তা অ্যামাইলয়েড বেটা নামে পরিচিত।

গবেষকরা বলেছেন, ব্রেইন অ্যামাইলয়েড অতিরিক্ত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে যাওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। অ্যালজাইমার রোগ নির্দেশিত হয় ব্রেনের দুটি প্রোটিনের মাধ্যমে। একটি হলো অ্যামাইলয়েড বেটা এবং অন্যটি হলো টাউ। অ্যামাইলয়েড বেটা একত্রিত হয়ে প্ল্যাক তৈরি করে এবং ধারণা করা হয়, এটি ব্রেনে জমা হয়ে অ্যালজাইমার বা ভুলে যাওয়ার রোগ সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে টাউ নামক প্রোটিন তৈরি হয়ে স্নায়ু কোষে জট সৃষ্টি করে। অ্যামাইলয়েড পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে টাউ প্যাথলজির আগে অথবা অ্যালজাইমার রোগের লক্ষণগুলো চিহ্নিত হওয়ার আগেই। টাউ মাইক্রোটিবিউল সম্পৃক্ত প্রোটিন অদ্রবনীয় ফিলামেন্ট গঠন করে, যা জমা হয়ে নিউরোফিব্রিলিয়ারি ট্যাঙ্গেল বা জটলা সৃষ্টি করে অ্যালজাইমার বা ভুলে যাওয়া রোগের ক্ষেত্রে। এ কারণেই মাড়ির যথাযথ যত্ন নিতে হবে এবং মাড়ি রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবহেলা করা যাবে না।
মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ফল, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার এবং দুধ, ডিম এবং দই খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি সকালে নাস্তার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করতে হবে।

১৮ মাস পর ঢাবি আবাসিক হল খুলছে আজ

দীর্ঘ ১৮ মাস পর আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হল খুলে দেওয়া হচ্ছে। করোনাভাইরাসের এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলে ওঠার সুযোগ পাবেন। এদিকে করোনা থেকে সুরক্ষায় ঢাবি কর্তৃপক্ষ সোমবার থেকে ক্যাম্পাসে অস্থায়ী টিকা ক্যাম্প চালু করেছে। প্রথম দিনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ২৬৫ জন টিকা নিয়েছেন।

ঢাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে আবাসিক হলগুলো প্রস্তুত। ইতোমধ্যে হল প্রশাসন সংস্কার কাজসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, করোনা সংক্রমণ কমে আসায় পূজার ছুটির পর এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে যে কোনো বর্ষের শিক্ষার্থী হলে উঠতে পারবেন। এরপর সশরীরে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে হল প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য হলে সংস্কার কাজ শতভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আবাসিক হলে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে হল প্রশাসন সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল। ওয়াশরুম, পানি ও বিদ্যুতের লাইন এবং ঝরাজীর্ণ দেওয়াল সংস্কার করা হয়েছে। হলের রুম রঙ করা হয়েছে।

আবাসিক হল খুলে দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. ইমন বলেন, করোনার কারণে লম্বা একটা সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ছিলাম। এসএম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হায়দার ওমর বলেন, দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। শুধু অনার্স-মাস্টার্স নয়, সব শিক্ষার্থীকেই আবাসিক হলে ওঠার সুযোগ দেওয়া উচিত এবং অনেক আগেই আবাসিক হল খুলে দেওয়া উচিত ছিল।

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের মার্চে অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঢাবি কর্তৃপক্ষ শ্রেণি কার্যক্রম ও আবাসিক হল বন্ধ করে। এরপর চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য ১৩ মার্চ থেকে আবাসিক হল খোলার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাবির একাডেমিক কাউন্সিল। যদিও করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে তা ৫ অক্টোবর করা হয়।

আবাসিক হল খোলার আগেই শিক্ষার্থীরা হলে : আজ আবাসিক হলে ওঠার কথা থাকলেও ছাত্রদের একটি অংশ আগেই হলে উঠে গেছেন। ঢাবির এক শিক্ষার্থী যুগান্তরকে বলেন, হল বন্ধ থাকায় মেসে থাকতাম। ৫ অক্টোবর হল খুলবে। কিন্তু কোনো বাসা তো ৫ তারিখে ছাড়া সম্ভব নয়। ৫ তারিখে বাসা ছাড়লে ওই মাসের পুরো ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। তাই বাসা ছেড়ে হলে উঠতে বাধ্য হয়েছি। শৃঙ্খলাভঙ্গ করে যারা আবাসিক হলে উঠেছেন তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

শিক্ষার্থীদের জন্য এসওপি চূড়ান্ত : ক্যাম্পাস খোলার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতীয় নীতিমালার আলোকে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়ন করা হয়েছে। এসওপির বিষয়ে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির বলেন, এটি হল প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, করোনা তো দ্রুত চলে যাচ্ছে না। তাই মেডিকেল সেন্টারে দুই-তিনটা রুম আইসোলেশন সেন্টারের জন্য রাখা হবে। এরপরও কোনো শিক্ষার্থীর উন্নততর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। নীতিমালার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর শুধু বৈধ শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট হলে অবস্থান করতে পারবেন। যাদের ছাত্রত্ব নেই, তারা কোনোভাবেই হলে অবস্থান করতে পারবেন না। এছাড়া হলে থাকবে না কোনো ধরনের গণরুম।

টিকা কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনে টিকা নিলেন ২৬৫ জন : শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনার টিকা দেওয়ার জন্য বিশেষ অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে ঢাবি প্রশাসন। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে টিকা কার্যক্রমের প্রথম দিনে ২৬৫ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল সেন্টারের প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফি যুগান্তরকে বলেন, টিকা কার্যক্রমের প্রথম দিনে আমরা ২৬৫ জনকে টিকা দিয়েছি। ক্যাম্পে প্রথম টিকা গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রুবেল দাস। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঢাকার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সহযোগিতায় আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত টিকা কার্যক্রম চলবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের টিকা (দ্বিতীয় ডোজ) আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেওয়া হবে।

সকালে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ঢাবি হেলথ্ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী, টিকা কার্যক্রমের সমন্বয়ক ড. মো. আব্দুল মুহিত, ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, করোনাভাইরাস থেকে ঢাবি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতে অস্থায়ী ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিকা কার্যক্রম শতভাগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সশরীরে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করা হবে।

 

১৮ মাস পর খুলল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল

উৎসবমুখর পরিবেশে হলে প্রবেশ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক শিক্ষার্থীরা।সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি আবাসিক হল বঙ্গবন্ধু হল, শের-ই বাংলা হল ও শেখ হাসিনা হল খুলে দেওয়া হয়।

মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় ১৮ মাস পরে হল ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি খুলে দেওয়া হলো। এদিন যেসব শিক্ষার্থী কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের কমপক্ষে এক ডোজ নিয়েছেন তাদেরকে হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।

শের-ই বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নবির হোসেন জয় বলেন, আজকে প্রবেশ করতে পেরে আমরা অনেক খুশি। সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে হলে প্রবেশ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেন, অনেকদিন যাবত সবাই বাইরে ছিল, বাইরের খরচ, আবাসন ব্যবস্থা এগুলো অনেক ব্যয়বহুল ছিল। এছাড়া বাইরের পরিবেশনও তেমন ভালো না, হলের পড়ালেখার পরিবেশ অনেক সুন্দর।

শেখ হাসিনা হলের আবাসিক শিক্ষক মার্জিয়া নমি স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়, যেসব ছাত্রী কমপক্ষে এক ডোজ কোভিড ভ্যাকসিন নিয়েছে, শুধুমাত্র সেসব ছাত্রীরা সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত হলে প্রবেশ করতে পারবে। হলে প্রবেশের সময় অবশ্যই টিকা কার্ডের মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে এবং টিকা কার্ডের ফটোকপি গেটে জমা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। পরবর্তীতে অন্য ছাত্রীরা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ সম্পন্ন করা সাপেক্ষে হলে প্রবেশ করতে পারবে।

আবারো আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত তাপস

বাংলা সংগীতে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ভারতে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হলেন সংগীত পরিচালক কৌশিক হোসেন তাপস। গত ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া শরৎ সদনে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল রত্ন সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয় তাকে।

এ প্রসঙ্গে তাপস বলেন, যে কোনো প্রাপ্তিই আনন্দের। আর সেটা যদি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অন্য দেশ থেকে হয় তা বেশ মনে রাখার মতো একটি বিষয়। আয়োজকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই এমন সম্মাননায় আমাকে ভূষিত করার জন্য।

অন্যদিকে চলতি বছরের এপ্রিলে ডানা সম্মান ‘গর্বের বাঙালি অ্যাওয়ার্ড ২০২১’-এ সংগীত পরিচালক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ও শিল্পীজনদের পাশাপাশি সম্মাননায় ভূষিত হন কৌশিক হোসেন তাপস। তিনি ছাড়াও স্বনামধন্য যেসব বাঙালি এ পুরস্কারে ভূষিত হন তারা হলেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, আরতি মুখোপাধ্যায়, নচিকেতা চক্রবর্তী, শান, নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলী, গৌতম ঘোষ, লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

এদিকে সংগীত পরিচালনায় বিশেষ অবদান রাখায় এর আগে সম্মানজনক ‘দাদা সাহেব ফালকে এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড (২০১৮)’ ও ‘মাদার তেরেসা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন তাপস। সুরকার হিসেবে তিনি ২০১৩ সালে অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

ফারজানা নিশির স্বপ্নপূরণ

২০১৭ সালের শেষপ্রান্তে মডেল হিসেবে মিডিয়া ক্যারিয়ার শুরু করেন ফারজানা নিশি। এরপর পর্যায়ক্রমে এগিয়ে যেতে থাকে তার অভিনয় ক্যারিয়ার। নাটক দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু হলেও লক্ষ্য ছিল সিনেমায় অভিনয় করা। সেই স্বপও পূরণ হয়েছে নিশির। সৌরভ কুন্ডর পরিচালনায় ‘গিরগিটি’ নামের সিনেমা দিয়েই স্বপ্নপূরণের অভিযান শুরু হয় এই অভিনেত্রীর।

২০১৯ সালে এটির শুটিং শুরু হলেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বর্তমানে এটির কাজ অসমাপ্ত আছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন নিশি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলচ্চিত্র একজন অভিনয়শিল্পীর আরাধ্য একটি জায়গা। আমি খুব কম সময়েই সেই জায়গায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি, যা আমার জন্য এক আশীর্বাদের মতো। এরই মধ্যে আরও কয়েকটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব আছে আমার কাছে। আশা করছি করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে সেসব কাজে ব্যস্ত হতে পারব।

অভিনয়ে আসার পর একখণ্ড ও ধারাবাহিক নাটকেও নিয়মিত অভিনয় করছেন এই অভিনেত্রী। এসএম সালাউদ্দিন পরিচালিত ‘রূপকথা’ নামের একটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছিলেন। এতে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। বর্তমানে একাধিক বিজ্ঞাপনের কাজ হাতে রয়েছে নিশির। এই মডেল অভিনেত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত। পড়ালেখায় নিয়মিত থেকে মিডিয়া ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে চান তিনি।

একাডেমি কাপে সন্দ্বীপের জয়

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের আয়োজনে একাডেমি কাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে সন্দ্বীপ জয় পেয়েছে।

সোমবার প্রফেসর হামিদুর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথম খেলায় ড্রিম সিক্সসার্স ক্রিকেট একাডেমিকে ৫৯ রানে হারায় সন্দ্বীপ একাডেমি।

টস জিতে ড্রিম একাডেমি সন্দ্বীপ ক্রিকেট একাডেমিকে ব্যাট করতে পাঠায়। প্রথমে ব্যাট করে সন্দ্বীপ ক্রিকেট একাডেমি ২০ ওভারে ৬ ইউকেট হারিয়ে ১৪৬ রান করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন মো. শোয়েব।

১৪৭ রানের টার্গেট তাড়ায় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ৮৭ রানে অলআউট হয় ড্রিম সিক্সসার্স। ব্যাট হাতে ৫৬ রান ও ৫ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন সন্দ্বীপ ক্রিকেট একাডেমির মো. শোয়েব।

দ্বিতীয় খেলায় সন্দ্বীপ ক্রিকেট একাডেমিকে ৭ রানে হারিয়েছে এসকিউ স্পোর্টস একাডেমি। টস জিতে সন্দ্বীপ ক্রিকেট একাডেমি প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০ ওভারে ৯৯ রান সংগ্রহ করে।

টার্গেট তাড়ায় এসকিউ স্পোর্টস একাডেমি ৭ উইকেটে জয়লাভ করে। সন্দ্বীপ ক্রিকেট একাডেমি ৬ অক্টোবর শ্যামলী ক্রিকেট একাডেমির মুখোমুখি হবে।

এ বছর একাডেমি কাপ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে মোট ১৬টি দল অংশ নিয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। এ বছর এই টুর্নামেন্ট বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স ক্রিকেট মাঠ, প্রফেসর হামিদুর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামসহ ৩টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অবশেষে রানে ফিরলেন তামিম

অবশেষে রানে ফিরলেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশ দলের এই তারকা ব্যাটসম্যান নেপালের এভারেস্ট ক্রিকেট লিগে (ইসিএল) খেলতে গিয়ে ছন্দ ফিরে পেলেন।

নেপালের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টিতে ভৈরাহাওয়া গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলছেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি ওপেনার। আগের দুই ম্যাচে ১২ ও ১৪ রান করা তামিম সোমবার চিতওয়ান টাইগার্সের বিপক্ষে ৪০ রান করেন।

পাঁচটি চার ও একটি ছয় মারেন তিনি ৩০ বলের ইনিংসে। তার দল গ্ল্যাডিয়েটর্স ম্যাচ জেতে ছয় উইকেটে। ম্যাচসেরা হন জয়ী দলের আরেক ওপেনার ও উইকেটকিপার প্রদীপ আইরি। তিনি ৭২ রান করেন মাত্র ৪৩ বলে।

চিতওয়ান টাইগার্স প্রথমে ব্যাট করে ১৬৪ রান তোলে আট উইকেটে। তামিমের দল ১৩ বল বাকি থাকতেই চার উইকেট হারিয়ে জয়ী হয়। উপুল থারাঙ্গা মাত্র ১৯ বলে ৩৯ রান করেন।

মাদক সেবনের সময় ইউপি সদস্য গ্রেফতার

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ইয়াবা সেবনকালে এক সহযোগীসহ জালাল উদ্দিন সজিব নামে এক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের হিঙগুলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থলেই ওই দুই মাদক সেবনকারীকে এক বছর করে কারা দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, কনকাপৈত ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য মো. জালাল উদ্দিন সজিব ও তার সহযোগী হিঙ্গুলা গ্রামের আনিছুজ্জামানের ছেলে মনিরুজ্জামান নাছিম।

কনকাপৈত পুলিশ ফাঁড়ির উপ—পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওচৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মঞ্জুরুল হক ভ্রাম্যমান আদালতে পরিচালনা করেছেন।