রবিবার ,৩ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 710

আত্মতৃপ্তিতে থাকার কোনো সুযোগ নেই: বাহাউদ্দিন নাছিম

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, মানুষের সমর্থনের মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্রকে সমুন্নত ও টিকিয়ে রাখতে চাই। বাংলাদেশে আজকে উন্নত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে। কিন্তু এরপরও একটি বিরোধী সাম্প্রদায়িক ও অপশক্তি এ দেশের মানুষকে উসকে দিয়ে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও সিরিয়া বানাতে চায়। অপশক্তিরা যখনই সুযোগ পাবে তখনই আঘাত হানবে দেশের অস্তিত্বের ওপর। তাই আমাদের আত্মতৃপ্তিতে থাকার কোনো সুযোগ নেই। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সজাগ ও লড়াই করতে হবে।

জয়পুরহাটে একটি সম্মেলনে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার বেলা ১২টায় নওগাঁ শহরের বাইপাস মোড়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আয়োজনে এক পথসভায় আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দেশের সম্মান মর্যাদা বাড়ানোর জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামে এই দল সৃষ্টি করেছিলেন। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সারাজীবন লড়াই সংগ্রাম করে গিয়েছেন। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে গেছেন বাঙালির অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার জন্য।

তিনি আরও বলেন, সেই চেতনাকে সমুন্নত রেখে বাংলাদেশের মানুষের আশা অঙ্গীকার প্রতীক হিসেবে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ গড়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালে একটি সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারকে খুন করার মধ্য দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করা হয়েছিল।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, তারপর বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ছিলেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সারা বাংলাদেশ ঘুরে ঘুরে আওয়ামী লীগকে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদেরকে সুসংগঠিত করেছেন। বিএনপি-জামায়াত সব অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকে বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী করেছেন। তাই আমরা দেশপ্রেমিক নাগরিক হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যতদিন থাকবো ততদিন বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এই এগিয়ে যাওয়ার পথে যারা বাধা সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মলরঞ্জন গুহ, সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু, নওগাঁ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাসিম আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখা নতুন প্রধান মশিউর রহমান

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) গোয়েন্দা শাখার প্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গত সোমবার র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মশিউর রহমান। লে. কর্নেল খায়রুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। শান্তিরক্ষী মিশনে যাওয়ার কথা রয়েছে খায়রুল ইসলামের। এর আগে র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক ছিলেন মশিউর রহমান।

কনক সারোয়ারের বোন নুসরাতের বিরুদ্ধে দুই মামলা

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিতর্কিত উপস্থাপক ড. কনক সারোয়ারের বোন নুসরাত শাহরিন রাকাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। সঙ্গে মাদকের মামলাও দিয়েছে র‍্যাব।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন গণমাধ্যমকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা করা হয়েছে নুসরাত শাহরিন রাকার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার উত্তরা পশ্চিম থানায় এ মামলা দুটি করা হয়েছে। শাহরিনকে ওই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান ইলিয়াস মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছেন, কনক সারোয়ারের বোন নুসরাত শাহরিন এখন থানা হেফাজতে আছেন। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নুসরাত শাহরিন রাকাকে আটকের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে হেফাজতে নিয়ে যায়।

সূত্র জানায়, বিদেশে পলাতক অবস্থায় ‘কথিত’ সাংবাদিক এবং টিভি উপস্থাপক ড. কনক সারোয়ার দীর্ঘদিন ধরে সরকারবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত। তার বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। দেশে বেশ কয়েক বছর কারাবন্দি ছিলেন তিনি। জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে তিনি বিদেশে পালিয়ে যান। তার বর্তমান অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রে। বিদেশে বসে তিনি বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায় লিপ্ত রয়েছেন। এ ছাড়া তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিষোদগার চালিয়ে যাচ্ছেন।

৬ ঘণ্টা পর ফিরল ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম

বিশ্বজুড়ে ৬ ঘণ্টা সার্ভার ডাউন থাকার পর চালু হয়েছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।

সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টার পর থেকে এসব সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে ঢোকা যাচ্ছিল না।সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় এ তিনটি অ্যাপের মালিক ফেসবুক।

এর আগে, সার্ভার ডাউনের ব্যাপারে ফেসবুকের জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে টুইটবার্তায় বলা হয়েছিল, আমরা জানতে পেরেছি কিছু মানুষ ফেসবুক অ্যাপে ঢুকতে পারছেন না। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। আশা করি যথাসম্ভব দ্রুত আমরা ফিরতে পারব। এ বিঘ্নতার কারণে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।

বিশ্বজুড়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের সার্ভার ডাউন

বিশ্বজুড়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের সার্ভার ডাউন হয়েছে। এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও রয়টার্সসহ বিশ্বের আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম।

সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টার পর থেকে এসব সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে ঢোকা যাচ্ছে না।

সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় এ তিনটি অ্যাপের মালিক ফেসবুক।

ফেসবুকের জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে টুইটবার্তায় বলা হয়, আমরা জানতে পেরেছি কিছু মানুষ ফেসবুক অ্যাপে ঢুকতে পারছেন না। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। আশা করি যথাসম্ভব দ্রুত আমরা ফিরতে পারব। এ বিঘ্নতার কারণে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।

আমরা এক নবীর এক উম্মত

দুঃখজনক এই সংবাদটি পত্রিকায় আসে গত ১৭ সেপ্টেম্বর। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় খুতবার আজান আস্তে হবে নাকি জোরে— এ নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, তা এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সেই সংঘর্ষে এক মুসল্লি নিহত হন। কুড়াখাল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজের সময় এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনা কেবল আমাদের ভেতরকার জুলুম ও দ্বন্দ্বের প্রকাশ নয়, বরং মসজিদের উদ্দেশ্যকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। মসজিদে গমন ও জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়তে তো এইজন্য তাগিদ দেওয়া হয়নি যেন ভাইয়ের রক্তে হাত রঞ্জিত করতে পারি। মসজিদ মনের জিঘাংসা জাগিয়ে তোলার জায়গা নয়। মসজিদ আল্লাহর ঘর, এর পবিত্রতা রক্ষা করা যাবে কেবল এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই।

কুরআন ও আল্লাহর রাসুলের (সা.) জীবনাদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়ায় আমরা ভুলে গেছি মসজিদের উদ্দেশ্য কেবল নামাজ নয়। আল্লাহর রাসুলের (সা.) সময়ে মসজিদ ছিল মুসলমানদের সবধরনের সামাজিক কার্যক্রমের কেন্দ্র— সেখানে সবরকমের শিক্ষা, ইসলামের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ধারণা এবং আত্মিক উন্নয়নের কাজ আঞ্জাম দেওয়া হতো।

নারী-পুরুষ সবাই মসজিদে যেতেন, এখান থেকেই তারা পেতেন ইহজাগতিক ও পরজাগতিক কাজের দিকনির্দেশনা। মসজিদ ছিল এমন— সেখানে ধনী-গরিব কিংবা সাদা-কালোতে কোনো ভেদাভেদ ছিল না।

মসজিদ ছিল এক নবীর এক উম্মতের মিলনমেলা। সেখানে মানুষেরা নামাজের পর একসঙ্গে বসত, সুখ-দুঃখের গল্প বলত, হাসাহাসি করত, কখনো একে অপরের প্রয়োজনে এগিয়ে আসত।

মুসলিম শরিফের এক হাদিস থেকে আমরা একথার প্রমাণ পাই। জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) যে স্থানে ফজরের নামাজ আদায় করতেন, সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই বসে থাকতেন। তারপর যখন সূর্য উদিত হতো, তখন তিনি নামাজে দাঁড়াতেন। আর লোকেরা সেখানে জাহিলি যুগের মতো কথাবার্তা বলত ও হাসাহাসি করত, আল্লাহর রাসুল (সেসব দেখে) মুচকি হাসতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সংস্করণে : ১৩৯৯)

মসজিদের বিভিন্ন জায়গায় চক্র বানিয়ে সাহাবিরা আল্লাহর কালাম নিয়ে আলোচনা করতেন। কেউ-বা জিকির-ফিকির করতেন। আল্লাহর রাসুল সেসব দেখতেন, এবং উৎসাহ যোগাতেন। (সুনানু ইবন মাজাহ, ২/২২৯)

তিনি বলেন, ‘আমার এই মসজিদে যেই ব্যক্তি উত্তম এলেম শিখতে ও শেখানোর নিয়তে আসে, তার উদাহরণ আল্লাহর পথের মুজাহিদের মতো।’ (সুনানু ইবন মাজাহ, ৮/২২৭)

পরিবেশটাই ছিল এমন— ওখানে গেলে জেগে উঠত ভ্রাতৃত্ববোধ, জেগে উঠত জ্ঞান সাধনার স্পৃহা। কী দিন কী রাত, সবসময় এমন পরিবেশ ছিল, যেন জমিনের বুকে এক টুকরো জান্নাত। অথচ মুসলমান আজ সেই মসজিদকে পরিণত করছে রণক্ষেত্রে, ভাবুন একবার, আমরা ইসলামের মৌলিক অবস্থান থেকে কতদূর সরে গেছি।

মুসলমান মুসলমানে দ্বন্দ্বের বিষয় আজ নামাজ। অথচ এটাই হওয়া উচিৎ ছিল আমাদের ঐক্যের ভিত্তি, আমরা সবাই এক কাতারে নামাজ পড়ি, এখানে কোনো ভিন্নতা নাই।

হ্যাঁ, একথা সত্য হাদিসে বিভিন্নভাবে নামাজ পড়ার কথা পাওয়া যায়, সেটা একই কাজের আলাদা আলাদা পদ্ধতিকে সমর্থন করে, কিন্তু ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্বে জড়াতে তো বলে না।

ইমাম ও ফকিহরা নিজেরা কোনো নিয়ম তৈরি করেননি, সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে নামাজ পড়েছেন, তা-ই তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন।

নামাজের যত পদ্ধতি আছে, তার মধ্যে কিয়াম রুকু কিংবা সেজদায় কোনো মতবিরোধ নাই। মতবিরোধ হলো জোরে আমিন বলবে নাকি আস্তে, রাফয়ে ইয়াদাইন করবে নাকি করবে না, ইমামের পেছনে সুরা ফাতিহা পড়তে হবে নাকি হবে না, আত্তাহিইয়াতু পড়ার সময় কীভাবে আঙুল তুলবে এসব নিয়ে।

অথচ এর কোনোটাই নামাজের জন্য ফরজ না। আমাদের কোনো কোনো ভাই এই মতবিরোধকে এতটাই জটিল বানিয়ে ফেলেছে যে, কেউ যদি তার অনুসৃত পদ্ধতিতে নামাজ না পড়ে, তার সাথে এমন আচরণ করে যেন সে ধর্মই পরিবর্তন করে ফেলেছে।

এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রকৃতপক্ষে সব পদ্ধতির নামাজই আল্লাহর রাসুলের (সা.) নামাজ, মুহাদ্দিস ও ফকিহদের এ বিষয়ে কোনোরকমের মতবিরোধ নাই।

কোনো ইমাম কোনো পদ্ধতিকে প্রাধান্য দিয়েছেন, পার্থক্য এতটুকুই। এবং খুতবার আজান আস্তে হবে না জোরে হবে এটাও ইসলামের কোনো মৌলিক প্রশ্ন নয়। উদ্দেশ্যকে বাদ দিয়ে কেবল মাধ্যম নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না।
আল্লাহর রব্বুল আলামিন পৃথিবীতে আমাদেরকে খলিফা হিসাবে পাঠিয়েছেন, এবং কিছু দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই দায়িত্ব ভুলে যাওয়াই আমাদের সব দ্বন্দ্বের মূল কারণ।

কোরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন— ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর অনুগত হও এবং রাসুল ও তোমাদের মধ্যকার কর্তৃত্বের অধিকারীগণের অনুগত হও; যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ ঘটে, তাহলে সেই বিষয়কে আল্লাহ এবং রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও যদি তোমরা আল্লাহ এবং পরকালে ঈমান এনে থাক; এটাই উত্তম এবং শ্রেষ্ঠতর পরিসমাপ্তি।’ (সুরা নিসা, আয়াত ৫৯)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায় মুসলমান মুসলমানে মতবিরোধ ঘটা স্বাভাবিক, এবং মতবিরোধ হলে কী করতে হবে আল্লাহ পাক তা-ও বাতলে দিয়েছেন— সেই বিষয়কে আল্লাহ এবং রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দিতে হবে। এর মানে আমাদের সম্পর্ক যতই ওঠানামা করুক, দিনশেষে আমরা সবাই এক আল্লাহর বান্দা, এক নবীর এক উম্মত— আমাদের সেই কথা মাথা রাখতে হবে।

সুতরাং মতবিরোধের মধ্যেও আমাদের উচিৎ একতা বজায় রাখা, আর এটাই আল্লাহ তায়ালা চান। কেননা এই আয়াতে যেমন মতবিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন, অন্য আয়াতে আবার এক হওয়ার কথা বলেছেন, দুই সমন্বয় এই কথাই প্রমাণ করে।

অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন, ‘এবং তোমরা সবাই আল্লাহর রশি শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিভক্ত হয়ো না। আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর সেই অনুগ্রহ স্মরণ করো যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে, তখন তিনি তোমার হৃদয় প্রীতির বাঁধনে বেঁধে দিলেন এবং তোমরা তারই অপার অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা এক অগ্নিকুণ্ডের কিনারায় ছিলে, তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করলেন। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তার আয়াতগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যেন তোমরা হিদায়াত লাভ কর।’(সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৩)

খুবই স্পষ্ট দিকনির্দেশনা, তবু কি আমরা বুঝব না? আল্লাহ আমাদের শত মতবিরোধের মধ্যেও এক হওয়ার তাওফিক দান করুন।

নবীজি যেভাবে পানি পান করতেন

পানি আল্লাহর অপার এক নিয়ামত। আল্লাহতায়ালা পানির অফুরন্ত ভান্ডার রেখেছেন সমুদ্রে। আর সমুদ্রের পানিকে তিনি লবণাক্ত করে সৃষ্টি করেছেন। কারণ এ পানি যদি মিঠা হতো তাহলে কিছু দিনপর নষ্ট হয়ে যেত। কারণ সমুদ্রের পানি লবণাক্ত বিধায় এতে অজস্র প্রাণী পচে ও গলে গেলেও সমুদ্রের পানি নষ্ট হয় না। স্বাদ ও গন্ধে কোনো পরিবর্তন দেখা দেয় না।

আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর আমি পানিকে জমিনের বুকে সংরক্ষিত করি’ (সূরা মুমিনুন ১৮)। পানির যে ‘ঢোক’ আমরা এক মুহূর্তে কণ্ঠনালি দিয়ে গড়িয়ে দেই এর প্রতিটি ফোঁটা আল্লাহর এক বিশাল কুদরতি ব্যবস্থাপনা অতিক্রম করে আমাদের অবধি পৌঁছে।

পানি কীভাবে পান করতে হবে এ ব্যাপারেও রাসূল (সা.) সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন; যা পালন করলে পানিপান করার পাশাপাশি বিরাট সওয়াবের মালিকও হওয়া যাবে। মুসলিম শরিফে পানি পানের পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে এভাবে-এক. পানি পানের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া এবং শেষে আলহামদুলিল্লাহ পড়া। দুই. বসে বসে পান করা, দাঁড়িয়ে পান না করা। তিন. ডান হাত দ্বারা পান করা, বাম হাত দ্বারা পান না করা।

কেননা শয়তান বাম হাত দিয়ে পানি পান করে। চার. তিন নিশ্বাসে পানি পান করা, নিশ্বাস ফেলার সময় পাত্র থেকে মুখ আলাদা করা। পাত্র যদি ভাঙা থাকে পাত্রের ভাঙা অংশের দিক দিয়ে পান না করা। পাঁচ. বড় পাত্রে মুখ লাগিয়ে পান না করা। কেননা এতে বেশি পানি চলে আসার বা সাপ-বিচ্ছু থাকার সম্ভাবনা থাকে। ছয়. স্বর্ণজাতীয় পাত্রে পান না করা।

পানি পান করার পর অন্যজনকে দিতে হলে প্রথমে ডান পাশের জনকে দেবেন। সেও তার ডান পাশের জনকে দেবে, এভাবেই চলবে। চা ও অন্যান্য পানীয় এ নিয়মেই পান করতে হবে। মহানবী (সা.)-এর নির্দেশিত পদ্ধতিকে বাস্তব ও স্বাস্থ্যসম্মত বলে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন।

বোস্টনে এফবিসিসিআইর সভাপতিকে নিউ ইংল্যান্ড আ.লীগের সংবর্ধনা

যুক্তরাষ্ট্র সফররত এফবিসিসিআইর নবনির্বাচিত সভাপতি জসিম উদ্দিনকে সংবর্ধনা দিয়েছে নিউ ইংল্যান্ড আওয়ামী লীগ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ অক্টোবর) বোস্টনের সন্নিকটে ক্যামব্রিজের দারুল কাবাব রেস্তোরাঁয় এ সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।

নিউ ইংল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওসমান গনির সভাপতিত্বে ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুহাস বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় এফবিসিসিআইর নবনির্বাচিত সভাপতি জসিম উদ্দিনকে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে অভিনন্দন জানান সভাপতি ওসমান গনি, সাধারণ সম্পাদক সুহাস বড়ুয়া এবং মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসিম পারভীন ও সাধারণ সম্পাদক মিশা রহমান।

সভায় দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্হা, দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে আয়ের মূল উৎস, প্রবাসীদের বিভিন্ন খাতে দেশে বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা।

এফবিসিসিআইর সভাপতি জসিম উদ্দিন প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করেন এবং আগ্রহীদের এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

মতবিনিময় ও সংবর্ধনা সভার অংশগ্রহণ করেন- ব্যারিস্টার জিয়াউল হাসান, ড. আবদুল্লাহ শিবলী, ড. আশিস দেব, ড. নাসরিন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি ড. মাহফুজুর রহমান, কবি বদিউজ্জামান নাসিম, বাংলাদেশ আসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ডের (বেইন) সাবেক সভাপতি নোমান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান সাবু, বোস্টন ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন মোরশেদ, ব্যবসায়ী নাফিস খান, মুনির সাজি, মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাসিম পারভীন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিশা রহমান, যুবলীগের সিরাজুম মুনির, সৈকত খান, নাসির উদ্দিন, সাজ্জাদুর রহমান, মোহাম্মদ ফোরকান, ব্যাংকার মোহাম্মদ লাকমান, আওয়ামী লীগ নেতা সাহাব উদ্দিন, জেমমিন গনি প্রমুখ।

সংসদে প্রবাসীদের জন্য ৩০টি আসন বরাদ্দের দাবি

প্রবাসীদের জন্য জাতীয় সংসদে ৩০টি আসন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সাংসদ ও আমেরিকার ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএম শাহীন। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে কুলাউড়া বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবর্ধনার জবাবে তিনি এ দাবি জানান।

সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার লিটনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতার পরিচালনায় এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন সাহাব উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ আমিরাত শাখার সভাপতি হাজী আব্দুর রব, কুলাউড়া বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন সংযুক্ত আরব আমিরাতের কো-চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন তরফদার, প্রধান উপদেষ্টা জালাল উদ্দিন মন্তর, সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ আমিরাত শাখার কার্যকরী সভাপতি গীতিকবি আজাদ লালন, সিনিয়র সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান চুনু , কুলাউড়া বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা আলিম উদ্দিন, উপদেষ্টা তারা মিয়া বকুল, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন আমিরাতের সভাপতি শাহেদ নুর, ওসমানী স্মৃতি পরিষেদের সভাপতি নজরুল ইসলাম, কমলগঞ্জ সমিতির উপদেষ্টা আব্দুল মানিক, ভাটেরিয়ান অ্যাসোসিয়েশন আমিরাতের শাহ্ আব্দুল কাদির।
বক্তব্য রাখেন বায়ান্ন টিভির সিইও এবং সম্পাদক লুৎফুর রহমান, ওসমানী স্মৃতি পরিষদ আমিরাতের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবলু চৌধুরী কমলগঞ্জ সমিতি আমিরাতের সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
কুলাউড়া বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য রায়হানুল ইসলাম শামীমের স্বাগত বক্তব্যের পর বক্তব্য রাখেন- আমিরাতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইলিয়াস আমির আলী, জুড়ি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, জাবেদ আহমদ ক্বারী আবু রুকিয়ান ইকবাল হোসেনসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আলী মান্না, চুনু মিয়া, আরজদ আলী, তয়মুছ আলী, দেলোয়ার আহমদ, মোস্তাক আহমেদ, আছকর আলী, আব্দুল ওয়াহীদ, আব্দুল মুজিব খান, মাহমুদ আলী, জামাল তালুকদার, কয়ছর আহমেদ, সুহেল আহমদ, কামরুল ইসলাম নাজু, মাকসুদুর রহমান, বাপ্পী হোসেন, রুপম আহমদ, ময়নুল ইসলাম, তুহিন আহমদ, আব্বাস আলী, সজিব আহমেদ, সালেখ আহমেদ, মকবুল আহমাদ, খালেদ আহমেদসহ অনেকে। পরে সংবর্ধিত অতিথির সম্মানে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

সুস্থ থাকতে খান ৫ সুপারসিড

দানাদার ও বীজজাতীয় খাবার সুস্বাস্থ্যের বড় নিয়ামক। এগুলো সুস্বাস্থ্য ধরে রাখার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

বীজজাতীয় খাবার অত্যন্ত পুষ্টিকর উপাদানে ভরপুর থাকে। বিভিন্ন ধরনের বীজ হচ্ছে ফাইবারের একটি বড় উৎস। এ ছাড়া এগুলোতে স্বাস্থ্যকর মনোঅনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, বহু-অসম্পৃক্ত চর্বি ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

আর স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অংশ হিসাবে বীজ খেলে তা আপনার রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এ কারণে বিভিন্ন বীজকে সুপারসিড হিসেবেও অ্যাখ্যায়িত করা হয়।

১. তিসি বীজ
তিসি বীজ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এটি ফাইবার এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটের একটি বিশেষ উৎস। আর এ উপাদান দুটির জন্য তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এ ছাড়া এটি ক্যান্সারের টিউমারের বৃদ্ধি কমাতেও সহায়তা করে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফ্লেক্সসিড খাওয়ার ফলে তা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের টিউমারের বৃদ্ধি হ্রাস করতে পারে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

২. চিয়া বীজ
স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে অনেক পরিচিত একটি উপাদান হচ্ছে চিয়া বীজ। এটিও ফাইবার এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটের একটি ভালো উৎস। চিয়া বীজ রক্তে শর্করা কমাতে সাহায্য করে থাকে। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, খাবারের পর রক্তের শর্করা কমাতে চিয়া বীজ অনেকটাই কার্যকর। এ ছাড়া আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে শর্করা কমানোর পাশাপাশি, চিয়া বীজ ক্ষুধা কমাতেও অনেক সহায়ক।

৩. তিল বীজ
তিল বীজে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। তিলের বীজ প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতেও সাহায্য করতে পারে। আর এটি আর্থ্রাইটিসসহ অনেক রোগের লক্ষণকে দূরে।

৪. কুমড়ো বীজ
পুষ্টিকর সব বীজের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কুমড়োর বীজ। এটি ফসফরাস, মনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটের অনেক ভালো উৎস। এটি ক্যান্সারের লক্ষণ ও মূত্রাশয়ের পাথরের মতো জটিল রোগের লক্ষণ হ্রাস করতে পারে। এটি শিশুদের জন্যও অনেক উপকারী। শিশুদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, কুমড়োর বীজ মূত্রের ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে মূত্রাশয়ের পাথরের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৫. সূর্যমুখী বীজ
সূর্যমুখী বীজে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, মনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ভিটামিন ই থাকে। নিয়মিত সূর্যমুখী বীজ খেলে তা সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিনের (সিআরপি) মাত্রা কমাতে পারে, যা প্রদাহে জড়িত বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। এ ছাড়া এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিসেও উপকারী ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন ডটকম