রবিবার ,৩ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 709

ব্যতিক্রমধর্মী শর্টফিল্ম ‘টিফিন’

ক্লাসের সবাই যখন টিফিন খাওয়ায় ব্যস্ত আশরাফুল নামের ছেলেটা তখন বই দিয়ে মুখ ঢেকে আড় চোখে বারবার ক্লাসের সবার দিকে তাকিয়ে থাকে কেন? কী এমন ঘটনা রয়েছে যার কারণে আশরাফুলের বন্ধুরা সবসময় ওর পেছনে লেগে থাকে? আশরাফুলই বা কেন ওর বন্ধুদের কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখতে চায়?

কিই বা আছে আশরাফুলের রহস্যময় সেই টিফিন বক্সে? আশরাফুল কি পারবে শেষ পর্যন্ত তার বন্ধুদের কাছে সব কিছু খুলে বলতে? দুরন্ত কিশোরদের স্কুলজীবনের এমনই একটি ট্র্যাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে শর্টফিল্ম টিফিন। মানুষের জীবনে কত বৈচিত্র্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে, কত আশা-নিরাশার দোলাচলে এগিয়ে যায় জীবন। এর মধ্যেই কারও কারও জীবন হয়ে পড়ে কোনো নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। কিশোরদের দুরন্তপনার ভেতর দিয়ে ঘটে যাওয়া এ নাটকীয় ঘটনাটি আন্দোলিত করবে, করবে বিস্মিত এবং নতুন উপলব্ধিতে করে তুলবে উজ্জীবিত।

আদর্শ একাডেমি গেণ্ডারিয়া ঢাকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিনয়ে সমৃদ্ধ এই শর্টফিল্মের গল্প ভাবনা ছিল প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনের। চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনা করেছেন শাফায়াত তৌসিফ। এতে আবহ সংগীত পরিচালনা করেছেন মকসুদ জামিল মিন্টু। ২ অক্টোবর থেকে শর্টফিল্মটি অনলাইন চ্যানেল প্যানভিশন টিভিতে প্রচার হচ্ছে। শর্টফিল্মটি প্যানভিশনের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেইজে দেখা যাচ্ছে। ইউটিউব লিংকঃ যঃঃঢ়ং://ুড়ঁঃঁ.নব/ং৫ঔ৬ুধ৮খকধম

বার্সার মেসিকে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন লা লিগা সভাপতি

লিওনেল মেসিকে কেন ধরে রাখতে পারেনি বার্সেলোনা তা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস।

রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজে প্রভাবিত হয়েই বার্সা সভাপতি লাপোর্তা মেসিকে দলে রাখতে পারেননি বলে দাবি করেছেন তেবাস।

তেবাসের মতে, ১৪০ কোটি ইউরো দেনার দায়ে ডুবতে বসা বার্সার সভাপতি সের্হিও আগুয়েরো ও মেম্ফিস ডিপাইকে দলে না টানায় মেসিকে ধরে রাখতে পারেননি।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় এমন সব বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে লাপোর্তার সঙ্গে ফোনে কি কথা হয়েছিল জানান লা লিগা সভাপতি।

বলেন, আমার মতে, তারা মেসিকে ধরে রাখতে পারত। মেম্ফিস ও আগুয়েরোদের মতো খেলোয়াড়দের সই করান লাপোর্তা …এসব খেলোয়াড়কে সই না করালে তারা মেসিকে রাখতে পারত।’

উল্লেখ্য, গত আগস্টে বার্সা সভাপতি লাপোর্তা জানিয়েছিলেন, সিভিসি ক্যাপিটাল পার্টনার্সের (সিসিভি) কাছে লা লিগার ১০ শতাংশ ব্যবসা বিক্রির প্রস্তাবে রাজি হলে মেসিকে ধরে রাখা সম্ভব হতো।

এই চুক্তিতে রাজি না হওয়া নিয়ে তখন বার্সার সঙ্গে বিরোধ চলছিল লা লিগা সভাপতির।

তেবাসের দাবি, ওই চুক্তি করতে রাজি ছিলেন লাপোর্তা। রিয়াল সভাপতির প্ররোচনায় পড়ে চুক্তি করা থেকে পিছিয়ে গেছেন লাপোর্তা।

তেবাস বলেন, ‘লাপোর্তার বাসায় রাতের খাবার খেয়েছি। তখন তিনি সিভিসি চুক্তিতে রাজি ছিলেন। পরে লাপোর্তা আমাকে ফোন করে জানতে চান —“সিভিসি চুক্তি দ্রুত করা সম্ভব? ছেলেটা (মেসি) ভরসা পাচ্ছে না।” তাকে তখন বলি, এই (সিভিসি) বিষয়টি জনসমক্ষে আসলে ফ্লোরেন্তিনো তা বানচাল করার চেষ্টা করবে। লাপোর্তা তখন বললেন, না, সমস্যা নেই, আমি দৃঢ় থাকব। আসলে কোনো সন্দেহ নেই, এর পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন ফ্লোরেন্তিনো।’

রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ বার্সা সভাপতিকে ফুসলিয়ে ওই চুক্তি করা থেকে বিরত রাখেন বলে দাবি তেবাসের।

প্রসঙ্গত, লা লিগার ১৭টি ক্লাব সিসিভির চুক্তিতে রাজি হয়ে বেশ কিছু অর্থ পেয়েছে। এর বিনিময়ে লা লিগার আয় (টিভি স্বত্বসহ) থেকে ১০ শতাংশ করে অর্থ আগামী ৫০ বছর নেবে সিভিসি। তবে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও অ্যাথলেটিক বিলবাও সিভিসি চুক্তিতে রাজি হয়নি। যে কারণে এই তিন ক্লাবের আয়ে হাত দিতে পারবে না প্রতিষ্ঠানটি।

তবে এতে আর্থিক দৈন্যতা কাটেনি বার্সার। বার্সার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষের পর ফ্রি এজেন্ট হয়ে পড়েন মেসি। লা লিগার বেঁধে দেওয়া বেতনসীমার মধ্যে থেকে মেসির চুক্তি নবায়ন করা সম্ভব হয়নি বার্সার পক্ষে। এরপর পিএসজিদের যোগ দেন মেসি।

‘পিএসজিতে এসে নেইমার নষ্ট ছেলে হয়ে গেছে’

ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র এখন আর আগের মতো সুন্দর ফুটবল খেলেন না বলে দাবি করেছেন পিএসজির সাবেক ফুটবলার এডুয়ার্ড সিসে।

নেইমারকে নিয়ে নেতিবাচক এক মন্তব্য করলেন তিনি। বললেন, বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজি যোগ দিয়ে নষ্ট ছেলে হয়ে গেছেন নেইমার। বার্সা আরও সুন্দর ফুটবল খেলতেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

সম্প্রতি ফরাসি গণমাধ্যম লা প্যারিসিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নেইমারকে নিয়ে এমন মন্তব্যই করেছেন সিসে।

সিসে বলেছেন, ‘বার্সেলোনায় নেইমারের খেলা ছিল দেখার মতো। তখন সে অনেক ড্রিবলিং করতো। সেখানে তার কাজ ছিল ডিফেন্সিভ লাইন ভেঙে দিয়ে পার্থক্য গড়া এবং মাঠের জেনারেলের (লিওনেল মেসি) কাছে বল পাঠিয়ে দেওয়া। এ কাজটা সে খুব ভালোভাবে করতো। কিন্তু পিএসজি তাকে যা খুশি করার লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে। একটা মুহূর্তে সে হারিয়েই গিয়েছিলো প্রায়। আমি মানি নেইমার অসাধারণ খেলোয়াড়, এটা অস্বীকার করার কোনো ক্ষমতা নেই। কিন্তু এখন নেইমার নষ্ট ছেলে হয়ে গেছে, যে চারদিকে খবরদারি করে বেড়ায়।’

সিসের এমন মন্তব্যে অনেকেই সহমত জানিয়েছেন। কারণ বার্সায় থাকতে চার মৌসুমে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর উইঙ্গার হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন নেইমার। কিন্ত প্যারিসে এসে তেমন ক্ষুরধার পারফরম্যান্স দেখাতে পারছেন না।

আবার খারাপও খেলছেন না। পিএসজিতে নাম লিখিয়ে এখন পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে ১০টি ঘরোয়া শিরোপা জিতেছেন নেইমার। কিন্তু নিজের উচ্চ ট্রান্সফার ফি ও বেতনের জন্য এই পারফরম্যান্স যোগ্য নয় বলে মনে করেন অনেকে।

তার উপর চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন নেইমার। পিএসজির হয়ে নয় ম্যাচ খেলতে নেমে মাত্র এক গোল ও দুই এসিস্ট করতে পেরেছেন মাত্র।

রোহিঙ্গা সমস্যা মেটাতে জাতিসংঘকে ফের বাংলাদেশের তাগিদ

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক দেশসমূহকে তাদের প্রচেষ্টাগুলো অব্যাহত রাখতে হবে। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে প্রত্যাবর্তনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গাদের ওপর সৃষ্ট নৃশংসতম অপরাধের দায়বদ্ধতা নিরূপণ করা এক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় সময় সোমবার (৪ অক্টোবর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটির সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ার কারণে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহে হতাশার সৃষ্টি হচ্ছে এবং তা ক্রমশ বেড়েই চলছে মর্মে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে- এমনকি ভ্যাকসিনের উপযোগী সব রোহিঙ্গার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান করছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি এ সমস্যার সমাধান নিহিত রয়েছে নিজভূমি মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর।

সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বিষয়সমূহ তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও তৃতীয় কমিটিতে বাংলাদেশ যেসব বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করবে তা হলো- ভ্যাকসিন সমতা নিশ্চিতকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধ, শিক্ষাসহ শিশুদের সব অধিকারের সুরক্ষা, অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণ ও অধিকারের সুরক্ষা এবং জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে মানবাধিকার সমুন্নত ও সুরক্ষিত রাখা।

নাজুক পরিস্থিতিতে নিপতিত মানুষের ওপর কোভিড-১৯ যে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে তা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। তিনি এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সামগ্রিক ও টেকসই পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেন এবং এক্ষত্রে বৃহত্তর একতা, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের আহ্বান জানান।

এর আগে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রথম কমিটি ও পঞ্চম কমিটির সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য প্রদান করেন।

যাত্রীদের ৪.৭ মিলিয়ন ডলারের মালামাল ফেরত দিলেন ট্যাক্সি ড্রাইভার

দুবাইতে প্রায় ৪০ জন ট্যাক্সি ড্রাইভার ‘বিশ্বাসের পদক’ পেয়েছেন। কারণ তারা এই বছরের প্রথম ছয় মাসে যাত্রীদের রেখে যাওয়া ৪.৭ মিলিয়ন ডলারের জিনিস ফেরত দিতে সাহায্য করেছিলেন। হারিয়ে যাওয়া জিনিসগুলির মধ্যে ছিল নগদ টাকা এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র।

দুবাইয়ের সড়ক ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ (আরটিএ) চালকদের সততার প্রশংসা করেছে কারণ এটি তাদের সম্মানিত করেছে।

কর্তৃপক্ষের যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম মনিটরিং বিভাগ জানিয়েছে, এই চালকদের উদযাপন করা হল কাজের নীতি এবং সততার প্রতিশ্রুতি এবং নির্দেশনা এবং নির্দেশনা মেনে চলার উদযাপন।

ক্যাব চালকরা বিশ্বাসের পদক পেয়ে গর্ব প্রকাশ করেন। তারা বলেছিল যে এই ধরনের স্বীকৃতি তাদের সততার মূল্যবোধ মেনে চলতে এবং ট্যাক্সি ব্যবহারকারীদের আরও ভাল পরিষেবা প্রদানের জন্য অনুপ্রাণিত করবে

দম্পতির খাটের নিচে পাওয়া গেল ৮ কেজি গাঁজা

স্বামী স্ত্রী দু’জন মিলে যৌথভাবে দ্বীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছিলেন গাঁজার ব্যবসা। সেই মাদক কারবারি দম্পতিকে হাতেনাতে ধরলেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান।

মঙ্গলবার উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের উত্তর বীর গ্রামের ওই দম্পতির বাড়িতে ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসানের নেতৃত্বে টাস্কফোর্সের অভিযান চালানো হয়।

এ সময় দম্পতির ঘরের খাটের নিচে থেকে ৮ কেজির গাঁজার চালান জব্দ করা হয়। মাদক কারবারি স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন, উত্তর বীর গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে আব্দুল আজিজ ও তার স্ত্রী মণি বেগম।

মঙ্গলবার রাতে ধর্মপাশা থানার ওসি মো.খালেদ চৌধুরী যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নিজ হেফাজতে গাঁজার চালান বিক্রয়ের উদ্দেশে রাখায় স্বামী স্ত্রী দু’জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

ক্যাম্পেই আছে মুহিবুল্লাহর খুনিরা

রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা ও আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহর খুনিরা ক্যাম্প ত্যাগ করতে পারেনি বলে দাবি করেছে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পাশাপাশি চলমান ব্লক রেইড ও চিরুনি অভিযানে মুহিবুল্লাহকে হত্যার মিশনে অংশ নেয়া অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে বলেও জানান ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক এসপি নাইমুল হক।

তিনি বলেন, ক্যাম্পের চারদিকে যেভাবে নিরাপত্তা বলয় জোরদার রয়েছে। সেই বলয় ভেদ করে পালানো কারও পক্ষে সহজ নয়। সুতরাং সাধারণ নিরপরাধ রোহিঙ্গারা যেন হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য সুষ্ঠু তদন্ত এবং যাচাই-বাছাই করে গ্রেফতার অভিযান চলছে। পাশাপাশি যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে এবং গোয়েন্দা রিপোর্টে খুনের ঘটনার অনেক তথ্য ও ক্লু পাওয়া গেছে; যা তদন্তের স্বার্থে বলা যাবে না। তবে নিশ্চিত দ্রুত সময়ের মধ্যেই খুনিরা আইনের আওতায় আসবে।

পুলিশ সুপার নাইম বলেন, মুহিবুল্লাহকে হত্যার পরপরেই তার ভাই হাবিবুল্লাহ কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছিল। কিন্তু পরে মামলায় তাদের নাম আসেনি। কেউ ইচ্ছে করলেও প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে কোনো নিরপরাধ রোহিঙ্গাকে এ মামলায় জড়াতে বা হয়রানি করতে পারবে না। সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এক কথায় যারা অপরাধী তারা গ্রেফতার এড়াতে পারবে না।

সংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্যাম্পে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক জোরদার করে সশস্ত্র দল ও উপদলগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের বিদ্যমান তিন ব্যাটালিয়নের মধ্যে সমন্বিত গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আগাম গোয়েন্দা তথ্য ছাড়া এত বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর কার্যকর মনিটরিং অসম্ভব।

কর্মকর্তারা আরও জানান, চলমান ঘটনার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে পুলিশি চেকপোস্ট ও হেঁটে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপরও নজর রাখা হচ্ছে।

ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, এখানে ওয়াচ টাওয়ার তৈরি হলে নজরদারি করা আরও সহজ হবে। কারণ ক্যাম্পের অনেক এলাকার নিরাপত্তা বেষ্টনীর তার কেটে ছোট ছোট পথ তৈরি করা হয়। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে কাঁটাতারের বেষ্টনী পেরিয়ে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার তৈরি হলে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা বেষ্টনীর ওপর নজর রাখা সম্ভব হবে।

তদন্তের অগ্রগতির ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সরাসরি কিলিং মিশনে ছিল- এমন কাউকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। খুনিদের ব্যাপারে একটি ধারণা পাওয়া গেছে। আবার কেউ আসল অপরাধীদের আড়াল করতে এলোমেলো বক্তব্য দিচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্প ঘিরে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী গ্রুপগুলোর তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। তাদের ধরতে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। পাশাপাশি মুহিবুল্লাহর পরিবারকেও বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশ।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচআর) সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে অধিকার নিয়ে ফিরে যাওয়ার যে স্বপ্ন মুহিবুল্লাহর ছিল বাস্তবায়নে সংগঠনটির নেতারা কাজ করবেন।

হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তিনি জানান, সেদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে এশার নামাজ শেষে তার কার্যালয়ে ওষুধ খাওয়ার জন্য প্রবেশ করেন মুহিবুল্লাহ। এ সময় ১০-১২ মুখোশধারী অফিসের আশপাশে অবস্থান নেয়। তাদের মধ্যে তিনজন রোহিঙ্গা অফিসে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্র তাক করে। এরপরই একজন চার-পাঁচটি গুলি করে।

আব্দুর রহিম জানান, মুহিবুল্লাহ যে সংগঠনের হয়ে কাজ করতেন, এতে আরও ২৯ সদস্য রয়েছেন। তার মধ্যে আটজন নারী। তারা সবাই আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।

কুতুপালং এলাকার ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. হেলাল উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার থেকে ক্যাম্পে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের টহল চোখে পড়ার মতো। রাতে এবং দিনে সমানতালে ক্যাম্পের ভেতরে বাইরে পুলিশি বিচরণ দেখা যাচ্ছে।

এদিকে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলো-১ ইস্ট লম্বাশিয়া ক্যাম্পের আব্দুস সালাম (৩০), ৮ ইস্ট কুতুপালং ক্যাম্পের জিয়াউর রহমান (৩২), মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ প্রকাশ কাশ লম্বা সেলিম (৩৩), শওকত উল্লাহ (২৩) এবং ইলিয়াস (৩৫)।

এ পাঁচজনের মধ্যে সলিম উল্লাহ প্রকাশ কাল লম্বা সেলিম ও শওকত উল্লাহ পুলিশের তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছে। পাশাপাশি সালাম ও জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধেও পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে। এ আবেদনের শুনানি বুধবার হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশে এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হলেন জিনটিং

বাংলাদেশে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এডিমন জিনটিং।

মঙ্গলবারই কান্ট্রি ডিরেক্টর পদে মনমোহন পারকাশের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।

এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে এডিবির উপমহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এডিমন জিনটিং।

এডিমন জিনটিং এডিবিতে কাজ করছেন ১৪ বছর ধরে। তার আগে তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টের বাজেট কমিটিতে পরামর্শকের ভূমিকাও তিনি পালন করেছেন।

এডিবিতে যোগ দেওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ায় এ ব্যাংকের দপ্তরে একজন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ এবং ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেছেন জিনটিং।

এ ছাড়া এডিবি সদরদপ্তরের অর্থনৈতিক গবেষণা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বিভাগের উপমহাপরিচালক হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন।

কোথায় কীভাবে পাচার হচ্ছে লক্ষ-কোটি অবৈধ টাকা, এটা গোপন থাকে কীভাবে?

টাকা পাচার নিয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৯০টি দেশের ব্যবসায়ী, আমলা এবং রাজনীতিকেরা বিদেশে নামসর্বস্ব সব কোম্পানিতে তাদের সম্পদ গোপনে রেখে দিয়েছেন।

অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বিদেশে নিয়ে লুকানোর এবং কর ফাঁকির গোপন জগত নিয়ে অনুসন্ধানী এক রিপোর্ট – যার নাম দেয়া হয়েছে প্যান্ডোরা পেপারস্‌ – নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে এখন।

বিশ্বের ১১টি দেশের ৬০০ সাংবাদিক কয়েক মাস ধরে কাজ করে এক কোটি ২০ লক্ষ গোপন নথি ফাঁস করতে সমর্থ হয়েছেন। এসব নথিতে দেখা গেছে বিশ্বের অত্যন্ত ক্ষমতাধর কিছু লোক অবৈধভাবে অর্জিত ধন-সম্পদ, টাকা-পয়সা বিদেশে পাচার করে তা লুকিয়ে রেখেছেন।

টাকা পাচারের এসব হোতার মধ্যে রয়েছেন ৯০টি দেশের ৩০০ জনেরও বেশি রাজনীতিক।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সের লক্ষ্মী কুমার বলেন, ক্ষমতাধর মানুষেরা বিশ্বের বেশ কিছু দেশ এবং অঞ্চলে নিবন্ধিত নামসর্বস্ব বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে “টাকা পয়সা পাচার করে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হচ্ছেন।“

এই কাজে তাদের সাহায্য করছেন আইনজীবী, আ্যাকাউনটেন্ট এবং কেতাদুরস্ত সব পরামর্শক ও দালাল, বলেন তিনি।

অনুসন্ধানী এই সাংবাদিকদের জোট আইসিআইজি’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, পশ্চিমা বেশ কয়েকটি শক্তিধর দেশের সরকারও হাজার হাজার কোটি ডলারের সম্পদ পাচার এবং কর ফাঁকির এই মহোৎসবে পরোক্ষ ভূমিকা রাখছে।

আইসিআইজি বলছে, বিশ্ব অর্থনীতির ১০ শতাংশ পাচার হয়ে কয়েক ডজন ‘ট্যাক্স হেভেন‘ অর্থাৎ প্রায় কর-বিহীন অঞ্চলে নিবন্ধিত হাজার হাজার কাগুজে কোম্পানির খাতায় জমা হচ্ছে। পরিণতিতে এসব দেশের সরকার বছরে কম বেশি ৮০,০০০ কোটি ডলার আয়কর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কিন্তু কোথায় এসব ট্যাক্স হেভেন? কীভাবে গজায় হাজার হাজার এসব ‘শেল‘ অর্থাৎ খোলস-সর্বস্ব কোম্পানি? কীভাবে গোপন থাকে বিনিয়োগের নামে পাচার করা অবৈধ টাকার পাহাড়?

ট্যাক্স হেভেনের পরিধি

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কর ফাঁকির সব নিরাপদ আস্তানা।

এর ভেতর রয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম কিছু দেশও – যেমন পানামা, নেদারল্যান্ডস, মল্টা, মরিশাস। সেইসাথে রয়েছে কয়েকটি দেশের অভ্যন্তরে কিছু অঞ্চল – যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ার বা ওয়াইয়োমিঙ অঙ্গরাজ্য।

আবার কোন কোন দেশ তাদের মূল ভূখণ্ডের বাইরে কিছু অঞ্চলকে এমন ট্যাক্স হেভেন করে রেখেছে – যেমন ব্রিটিশ শাসিত ক্যারিবীয় দ্বীপ ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ বা কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জ।

এখন থেকে পাঁচ বছর আগে ‘পানামা পেপারস‘ নামে কর ফাঁকি নিয়ে ফাঁস হওয়া নথিপত্রে দেখা গিয়েছিল যে পানামা-ভিত্তিক একটি আইন প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে হাজার হাজার শেল কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল।

এক হিসাবে, বিশ্বের ৬০টির মত দেশ এবং অঞ্চল রয়েছে যেখানে এসব ‘খোলস’ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এসব জায়গায় কোম্পানি করের হার খুবই কম। অনেক জায়গায় কর একবারেই দিতে হয় না।

অবৈধ সম্পদ গোপন রাখতে বা কর ফাঁকির জন্য যেসব লাখ লাখ মানুষ যখন এসব খোলস কোম্পানি খোলেন, তখন তাদের কাছ থেকে ওই সব দেশ বা অঞ্চলের সরকার অনেক ফি পায়। প্রচুর আইনজীবী, অ্যাকাউনটেন্ট বা পরামর্শকের কাজের সুযোগ তৈরি হয়।

কারা ট্যাক্স হেভেন ব্যবহার করেন

এক কথায় এর উত্তর হলো, বিশ্বের ধনী লোকজন।

কিন্তু একইসাথে অনেক মানুষ যারা ব্যাংকের ঋণ ফেরত দিতে বা কারো পাওয়া শোধ করতে চান না, তারাও তাদের টাকা-পয়সা ট্যাক্স হেভেনগুলোতে নেয়ার চেষ্টা করেন।

সেই সাথে রয়েছে ঘুষখোর, মাদক ব্যবসায়ী বা অস্ত্র চোরাচালানে জড়িত লোকজন – যারা তাদের অবৈধ আয় গোপন রাখতে উন্মুখ।

আমদানি রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচার হয় যেভাবে

তবে বড় বড় অনেক বহুজাতিক কোম্পানি যারা বিশ্বজুড়ে লেনদেন করে, তারাও কর ফাঁকির জন্য ট্যাক্স হেভেনে ভিন্ন নামে সহযোগী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খোলে বলে বহু প্রমাণ পাওয়া গেছে। কাগজে-কলমে ভাগ হয়ে যায় ব্যবসার লেনদেন ও মুনাফা, এবং তাতে করে মূল কোম্পানির করের পরিমাণ কমে যায়।

নাইকি বা অ্যাপেলের মত কোম্পানির বিরুদ্ধেও ট্যাক্স হেভেন ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণও ফাঁস হয়েছে।

শেল বা খোলস-সর্বস্ব কোম্পানি

বিভিন্ন ট্যাক্স হেভেনে নিবন্ধিত এসব নাম-সর্বস্ব কাগুজে কোম্পানি আদতে কোনও ব্যবসা না করলেও আইনের চোখে এগুলো বৈধ।

এসব কোম্পানিতে সার্বক্ষণিক কোন কর্মী নেই। এমনকি অধিকাংশ কোম্পানির কোন অফিসও নেই। যেমন, আইসিআইজি‘র গত বছরের এক রিপোর্টে বলা হয় যে কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জে একটি ভবনেই ছিল ১৯ হাজার কাগুজে কোম্পানির ঠিকানা।

এসব কোম্পানির নথিপত্রে মূল মালিকদের কোন নাম ঠিকানা নেই। কিন্তু পর্দার আড়াল থেকে তারাই এগুলোতে বিনিয়োগ করা অর্থ লেনদেন করেন। তারাই কোম্পানির নামে নানা দেশে জমি-জমা ঘরবাড়ি কেনেন, শেয়ার বাজারে টাকা খাটান।

তাদের সাহায্যের জন্য রয়েছে বহু আইনজীবী বা আ্যাকাউনটেন্ট। মোটা ফিয়ের বিনিময়ে তারাই এসব ক্ষেত্রে বুদ্ধি জোগান, কাজ করে দেন।

অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানি খোলার খরচ অবিশ্বাস্যরকম কম এবং জটিলতা নেই বললেই চলে।

আইসিআইজি‘র এক রিপোর্ট অনুযায়ী, “কোম্পানি খোলা এতই সহজ যে একটি ইমেল বা একটি ফোনকলেই কাজ হয়ে যায়।“

খরচ এবং কাগজপত্র বা সই-সাবুদের সংখ্যা নির্ভর করে কোথায় কোম্পানি খোলা হচ্ছে এবং কোন আইনজীবী এই কাজটি করে দিচ্ছেন তার ওপর।

যেমন, ‘পানামা পেপারস্‘ কেলেঙ্কারি ফাঁসের জেরে বন্ধ হয়ে যাওয়া পানামা-ভিত্তিক আইনজীবী প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকা কোম্পানি প্রতি ফি নিতো ৩৫০ ডলার। তবে আইনজীবীদের এই ফি দু’হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

টাকা পাচার নিয়ে লেখা বই সিক্রেসি ওয়ার্ল্ডের লেখক জেক বার্নস্টেইন এক সাক্ষাৎকার মার্কিন দৈনিক বিজনেস ইনসাইডারকে বলেছেন, অনেক ট্যাক্স হেভেনে এমন আইনও রয়েছে যে কোম্পানি মালিকের নাম পরিচয় প্রকাশ করা যায় না।

“আপনি ভুয়া পরিচালকও রাখতে পারেন, যারা কিছু পয়সার বিনিময়ে মানুষের কাছে আপনার কোম্পানির মালিক হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে।“

কেন বন্ধ হচ্ছে না এই প্রতারণা?

আইসিআইজির বেন হলম্যান লিখেছেন, বিশ্বের প্রভাবশালী কিছু দেশ এ ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে থাকছে। এমনকি প্রবণতা টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতাও করছে।

যেমন, ব্রিটিশ শাসিত একাধিক ক্যারিবীয় দ্বীপ বিশ্বের প্রধান সব ট্যাক্স হেভেন। সেসব জায়গায় নিবন্ধিত কোম্পানির নামে লন্ডনে জমি-বাড়ি কেনাকাটা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য যেমন ডেলাওয়ার, ওয়াইয়োমিঙ, নেভাডা, সাউথ ডাকোটাও ট্যাক্স হেভেন হিসাবে পরিচিত। কোম্পানি করের হার এসব রাজ্যে খুবই কম। বিদেশ থেকে কে এখানে টাকা এনে কোম্পানি খুললো এবং কোথায় তা খাটালো, তা নিয়ে এসব রাজ্যের তেমন মাথাব্যথা নেই।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক হিসাবই বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বছরে কমবেশি ৩০ হাজার কোটি ডলার যুক্তরাষ্ট্রে পাচার হয়ে আসছে।

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ইস্যুতে আলোচনায় রাজি বিএনপি

সরকার চাইলে বিএনপি আলোচনায় বসতে রাজি বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে সেই আলোচনা হতে হবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের এক এজেন্ডাতেই।

ফখরুল বলেন, গত নির্বাচনের আগে যে আলোচনা হয়েছে আর এখন যে আলোচনা হবে- তা এক নয়। নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকার এই একটি এজেন্ডা থাকলে আলোচনা করতে রাজি আছি। আমরা একটা জিনিসই চাই- তা হলো নির্বাচনকালীন সময়ে একটা নিরপেক্ষ সরকার। এটা তো কোনো অন্যায় দাবি নয়।

সরকার আলোচনা করতে চাইলে বিএনপি সাড়া দেবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব এসব বক্তব্য দেন।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান মির্জা ফখরুল। জাতিসংঘ সফর শেষে গতকাল (সোমবার) গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের নাম নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। যে কোনো নামই হতে পারে। তবে নির্বাচনকালীন সময় যে সরকার থাকবে- তা কোনো দলীয় সরকার হবে না। সরকারকে কোনো রূপরেখা দেওয়ার ব্যাপারে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সার্চ কমিটি ধোঁকাবাজি ছাড়া কিছু নয় মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, সার্চ কমিটি সম্পূর্ণভাবে সরকার তাদের নিজেদের পছন্দের লোকদের দিয়ে তৈরি করে। যে কারণে হুদা কমিশন সরকারের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে আগ বাড়িয়ে দলীয় ভূমিকা পালন করেছে। যেটা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিএনপিকে কেন ভোট দেবে প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের হাত থেকে বাঁচার জন্য জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে। তারা দেশের যে অবস্থা তৈরি করেছেন, তাতে মানুষের জীবনে কোনো নিরাপত্তা নেই। জীবিকারও কোনো নিরাপত্তা নেই। চারদিকে ভয় ও ত্রাস, সন্ত্রাস ছাড়া আর কোনো কিছুই নেই। মানুষ অতিষ্ঠ। ১০ টাকা কেজির চাল খাওয়াবেন বলে তারা ক্ষমতায় এসেছিলেন। এখন ৭০ টাকা কেজি চাল। তারা বিনা পয়সায় সার দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন- তা দেননি। মানুষ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার জন্য বিএনপিকে ভোট দেবে। মানুষ শেখ হাসিনার সরকার থেকে মুক্তি চায়। বিএনপিই একমাত্র দল যারা অতীতে দেশের মানুষকে শান্তিতে রেখেছিল। এজন্যই জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে।

নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কোনো নির্বাচন কমিশন হোক, নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকার না থাকলে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয় না। এটা আমার মুখের কথা নয়। এটা আগেও অনেকে বলেছেন। নির্বাচন কমিশন খুব ভালো করলেন, সরকার তাদেরকে কাজ করতে দেয়নি তখন নির্বাচন তো সুষ্ঠু হবে না।

আগামীতে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না- এমন হুশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। এসব খেলা আর জনগণ গ্রহণ করবে না। শুনতে পাচ্ছি আগামীতে ১৫০টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। ইভিএম দিয়ে কারচুপি করবে। সরকার সত্যিকার অর্থেই যদি অর্থবহ নির্বাচন করতে চায় তাদের দায়িত্ব হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলা। আলোচনা করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটা নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে একমত হতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে গঠন করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন হবে সম্পূর্ণভাবে প্রহসন।

ক্ষমতাসীন দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সমস্যা কোথায়? এত উন্নয়নই যদি করে থাকেন তাহলে আত্মবিশ্বাস থাকবে যে আপনারা জিতবেন। তাহলে কেন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে সমস্যা নিরসন করছেন না।

এক প্রশ্নে জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধানের বাইরে যাবে না বললেও তো ভুল বলছে তারা। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল, আমরা সেখানে সংযোজন করেছি। তারাই হাইকোর্টে রায়ের দোহাই দিয়ে সেই রায়টারও সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দেয়। সেই রায়েও কিন্তু আছে আরও দুই টার্ম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। সেটাও কিন্তু তারা করেনি। শুধুমাত্র তাদেরই সুবিধার জন্য দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করেছে। সংবিধান কি বাইবেল, যে পরিবর্তন করা যাবে না। জনগণের প্রয়োজনে সেই সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে।

আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন তো হবেই। দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন হবে। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলন হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের নেতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হচ্ছেন বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে বেআইনিভাবে আটক রেখেছে। এত বেশি ভয় পায় যে, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পর্যন্ত দিতে চান না। তিনি (খালেদা জিয়া) বেরুলেই যে জনগণের উত্তাল তরঙ্গ তৈরি হবে- সেটা উনি (প্রধানমন্ত্রী) করতে চান না। এটা পরিষ্কার যে, এই দেশে তারা রাজনীতি করতে দেবেন না। রাজনৈতিক চর্চা থাকবে না। গণতন্ত্র থাকবে না। একটামাত্র দল থাকবে, একজন নেতা থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের নেতা খালেদা জিয়া। নির্বাচন করতে না পারলে নেতা থাকবেন না, সেটা তো কোনো কথা নয়।