কাগজের চালানের আড়ালে সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারযোগ্য জাল স্ট্যাম্প এনে শত কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করেছে চট্টগ্রামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। তবে কাস্টমসের এআইআর (অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিচার্জ) শাখা এই চালানটি আটকে দিয়েছে। শতভাগ কায়িক পরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার এই চালানে কী পরিমাণ পণ্য ছিল এবং কত টাকা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে সে বিষয়টি জানায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
মিথ্যা ঘোষণায় নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি ও শুল্ক ফাঁকির চেষ্টার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে বুধবার মামলা হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের এআইআর শাখার উপকমিশনার মোহাম্মদ শরফুদ্দিন মিয়া জানান, আর্টপেপারের আড়ালে সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহৃত জাল স্ট্যাম্প এনে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করেছে।
জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাস্টমস সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা জিএ ভবনে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাপ্পু এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে আর্টপেপার ঘোষণায় এক কনটেইনার (২০ ফুট) পণ্য আমদানি করে। চালানটি খালাসের লক্ষ্যে আগ্রাবাদ আড়গ চেম্বারের সিএন্ডএফ এজেন্ট মধুমতি অ্যাসোসিয়েটস গত ৯ ডিসেম্বর কাগজপত্র কাস্টমসে জমা দেয়।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের পোর্ট কন্ট্রোল ইউনিট (পিসিইউ) ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় রপ্তানিকারক, রপ্তানিকারকের ওয়েবসাইট, পণ্য তৈরির দেশ, আমদানিকারকের ব্যবসায়ের ধরন ও ঠিকানা, পণ্যের বর্ণনা প্রভৃতি বিশ্লেষণ করে পণ্যচালানটিতে সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারযোগ্য জাল স্ট্যাম্প থাকার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়। তাই কর্তৃপক্ষ চালানটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়।
সে অনুযায়ী কাস্টমসের এআইআর টিম গত মঙ্গলবার বিকালে আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে পণ্য চালানটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে ২৪৬ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেটে ২৬০ বান্ডিল এবং প্রতি বান্ডিলে ৫০০ পিস হিসেবে) ৩ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার পিস নিম্নস্তরের ১০ শলাকাবিশিষ্ট সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের উপযোগী হালকা খয়েরি রংয়ের জাল স্ট্যাম্প পাওয়া যায়। চালানটি খালাস হলে সরকার ৯০ কোটি থেকে ১৪৩ কোটি টাকা রাজস্ব হারাত বলে জানায় কাস্টমস। সূত্র আরও জানায়, এই জাতীয় পণ্য দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয় অথবা বিদেশ থেকে আমদানি করার কোনো সুযোগ নেই।


