শুক্রবার ,১৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 578

৩২ জেলায় সমাবেশ করবে বিএনপি

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে ৩২ জেলায় সমাবেশ করবে বিএনপি। শুরু হবে ২২ ডিসেম্বর থেকে। প্রতিটি সমাবেশে বিপুল লোকসমাগমের প্রস্তুতি রয়েছে। সিনিয়র নেতাদের নিয়ে টিমও গঠিত হয়েছে। তৃণমূলকে উজ্জীবিত করতে কাল থেকেই কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলায় অবস্থান করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

প্রথম দিন টাঙ্গাইল, হবিগঞ্জ, যশোর, বগুড়া, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে সমাবেশ হবে। পর্যায়ক্রমে ২৪ ডিসেম্বর গাজীপুর, জয়পুরহাট, জামালপুর, নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালী ও গাইবান্ধায়; ২৬ ডিসেম্বর চাঁদপুর, নরসিংদী, লালমনিরহাট, ঝিনাইদহ, পাবনা ও মুন্সিগঞ্জ; ২৮ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, সুনামগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও মেহেরপুর এবং ৩০ ডিসেম্বর কক্সবাজার, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর ও খাগড়াছড়ি জেলা শহরে হবে সমাবেশ। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শরীরের প্যারামিটারগুলো নিচের দিকে। হিমোগ্লোবিন কমের দিকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের বাইরে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকরা বারবার বলছেন। আমরা ইতোমধ্যে সারা দেশে মানববন্ধন, সমাবেশ, গণ-অনশন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি পালন করেছি। সমাবেশের পর আরও কর্মসূচি দেওয়া হবে।

জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলার সমাবেশে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, হবিগঞ্জে ড. মোশাররফ হোসেন ও জয়নাল আবেদীন ফারুক, যশোরে মির্জা আব্বাস ও মশিউর রহমান, বগুড়ায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আবুল খায়ের ভুঁইয়া। গাজীপুরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, জয়পুরহাটে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জামালপুরে নজরুল ইসলাম খান ও হাবিব উন নবী খান সোহেল, নোয়াখালীতে আব্দুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ভোলায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, গাইবান্ধায় শামছুজ্জামান দুদু ও হারুন অর রশিদ। চাঁদপুরে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, নরসিংদীতে ড. আব্দুল মঈন খান ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, লালমনিরহাটে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ঝিনাইদহে নিতাই রায় চৌধুরী ও মশিউর রহমান, পাবনায় শওকত মাহমুদ ও হাবিব উন নবী খান সোহেল, মুন্সিগঞ্জে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও হাবিব উন নবী খান সোহেল। মানিকগঞ্জে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আব্দুস সালাম, ফেনীতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও জয়নুল আবেদীন ফারুক, নওগাঁয় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও মিজানুর রহমান মিনু, সুনামগঞ্জে আব্দুল্লাহ আল নোমান ও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, মেহেরপুরে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও হারুন অর রশিদ, পটুয়াখালীতে এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। কক্সবাজারে নজরুল ইসলাম খান ও মিজানুর রহমান মিনু, কিশোরগঞ্জে মির্জা আব্বাস ও আব্দুস সালাম, ঢাকায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আমান উল্লাহ আমান, ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সিরাজগঞ্জে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও মনিরুল হক চৌধুরী, লক্ষ্মীপুরে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ও আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং খাগড়াছড়িতে থাকবেন শামছুজ্জামান দুদু ও অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে সমাবেশ সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এসব সমাবেশ মহাসমাবেশে রূপ নেবে।

‘৫০ বছরে যা কিছু অর্জন আ.লীগের হাত ধরে’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই। মহান বিজয় দিবসের ৫০ বছরের মধ্যে স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনা করে সাড়ে ২১ বছর। দেশের বাজেটের আকার, রাজস্ব আয়, রেমিট্যান্স, দারিদ্র্য নিরসন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো তৈরি ও উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়নে সাফল্য এসেছে। সব কৃতিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

বুধবার বিকালে রাজধানীর বাওয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৬৯নং ওয়ার্ড ও সব ইউনিট আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান হাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশারের সঞ্চালনায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী।

এতে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবির, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এফএম শরিফুল ইসলাম শরিফ, ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খাঁন মাসুদ এবং সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন প্রমুখ।

মির্জা আজম বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার মাত্র সাড়ে তিন বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়। জাতির পিতাকে হত্যার পরবর্তী দীর্ঘ একুশ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকে পাঁচ বছর। মাঝে পাঁচ বছর বাদ দিয়ে ২০০৯ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর একটানা নিরলসভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, আমরা আজ জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করছি। খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা এখন পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে বিশাল এলাকার ওপর আমাদের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর বিগত ৫০ বছরে আমাদের যা কিছু অর্জন তা জাতির পিতা এবং আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে। আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে ‘রোল মডেল’। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মর্যাদাশীল ‘উন্নয়নশীল’ দেশে উন্নীত হওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে।

মির্জা আজম বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে স্বাধীনতা দিবস আছে কিন্তু বিজয় দিবস নেই। কিন্তু আমাদের বিজয় দিবস রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে আমরা বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি। আর ৩০ লাখ শহিদের রক্ত ও দুই লক্ষ ৭০ হাজার মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা এ বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি; যাদের ঋণ কোনোদিন শোধ করা যাবে না। তাই দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধে অর্জিত আমাদের এ মহান স্বাধীনতার পর কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের দলে বা আওয়ামী লীগের ইউনিট কমিটিতে স্থান দেওয়া যাবে না।

বিকালে দেশবাসীকে শপথ করাবেন প্রধানমন্ত্রী

বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে সারা দেশের মানুষকে শপথ পাঠ করাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (১৬ ডিসেম্বর) বিকালে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ওই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। দেশের বিভাগীয় জেলা, জেলা ও উপজেলা স্টেডিয়াম ও বিজয় দিবসের নির্ধারিত ভেন্যু থেকে সাধারণ মানুষ জাতীয় পতাকা হাতে শপথ বাক্য পাঠ করবেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) চিঠি পাঠায়।

ওই চিঠিতে জানানো হয়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে শপথ অনুষ্ঠান ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে বিকাল ৪টায় সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। দেশব্যাপী সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শপথে অংশ নেবেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি সারা দেশের সঙ্গে যুক্ত থেকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। সব বিভাগ/জেলা/উপজেলা স্টেডিয়াম/মহান বিজয় দিবসের নির্ধারিত ভেন্যুতে শপথ অনুষ্ঠানটি আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শিরোনামে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান হবে। এতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ উপস্থিত থাকবেন।

বিজয় দিবসের দিনে দেশবাসীকে সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের যে শপথ পাঠ করাবেন প্রধানমন্ত্রী- তা নিচে দেওয়া হলো:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বিশ্বের বুকে বাঙালি জাতি প্রতিষ্ঠা করেছে তার স্বতন্ত্র জাতিসত্তা।

আজ বিজয় দিবসে দৃপ্তকণ্ঠে শপথ করছি যে, শহিদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না- দেশকে ভালোবাসব, দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলা গড়ে তুলব।

মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টায় প্রথমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মৃতিসৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

তাদের পর শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এরপর একে একে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা জানান।

১৯৭১ সালে আজকের দিনে সৃষ্টি হয়েছে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার ইতিহাস। ৩০ লাখ শহিদের তাজা রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মানচিত্র ও লাল-সবুজের পতাকা।

পৃথিবীতে এত দাম দিয়ে আর কোনো দেশকে হয়তো পতাকা কিনতে হয়নি। তাইতো বাঙালি স্বপ্ন দেখছে সোনার বাংলা গড়ার। এটি শুধু একটি দেশের স্বাধীনতাই নয়, বিশ্বের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের পরাধীনতার শিকল ভেঙে বের হওয়ার প্রেরণাও বটে।

শুধু তাই নয়, কীভাবে একটি নিরস্ত্র জাতি মনের জোরে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত একটি বাহিনীকে মাত্র ৯ মাসে হার মানাতে বাধ্য করে, তা সারা বিশ্বে স্থাপিত হয়েছে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হিসাবে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারও বঞ্চনা থেকে মুক্তির ইতিহাস, বাংলাদেশের মানুষের আবেগ ও উচ্ছ্বাস। স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুটি-অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি।

তাবলিগ বিষয়ে সৌদি আলেমদের যে পরামর্শ দিলেন আল্লামা মাহমুদুল হাসান

তাবলিগ জামাতের কাজ সম্পর্কে উপমহাদেশীয় আলেমদের সঙ্গে কথা বলে মন্তব্য করতে সৌদি আলেমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ অথরিটি আল-হাইয়াতুল উলিয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসান।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসলামি ভাবনার তাবলিগ তথা ঈমান আমলের দাওয়াতের কাজের নিন্দা করার আগে এর ভালোমন্দ সব দিক বিবেচনা করতে হবে। বর্তমান পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ ঈমান ইসলাম ও ইহসানের দিকে ধাবিত হচ্ছে তাবলিগের মেহনতের ফলে।

আল্লামা মাহমুদুল হাসান বলেন, সৌদি আরবের আলেমদের উচিত তাবলিগি কাজ সম্পর্কে উপমহাদেশীয় আলেমদের সঙ্গে কথা বলে মন্তব্য করা। ভারতের মাওলানা মুহাম্মাদ রাবে হাসানী নদভী, মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানী, মুফতি তাকি উসমানীসহ বিশ্বের সেরা আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। এ মুহূর্তে আরববিশ্বে আল্লামা সাইয়িদ আবুল হাসান আলী নদভী ও মাওলানা সাঈদ খান সাহেব প্রভাবিত আলেমদের পরিস্থিতি অনুপাতে সোচ্চার হতে হবে।

বিবৃতিতে বেফাক চেয়ারম্যান বলেন, প্রচলিত তাবলিগের কাজে তারা সমালোচনা বা সংশোধনী দিতে পারেন, কিন্তু শতবর্ষী একটি দ্বীনি আন্দোলনকে এভাবে একতরফা নিন্দা ও নিরুৎসাহিত করতে পারেন না। অতীতের হুসামুল হারামাইন ফতওয়ার দুঃখজনক ঘটনার মতো কোনো মহলের মিথ্যা প্রচারণা বা একতরফা অপবাদ শুনে তাবলিগি কাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন না। এর ফলে সারাবিশ্বে এই কাজে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রবণতা দেখা দিতে পারে। মুসলমানদের শত্রুরাই এতে খুশি ও লাভবান হবে‌।

সৌদি সরকারের প্রজ্ঞাপনটির বক্তব্যে বাংলাদেশ পাক ভারত উপমহাদেশের আহলে হক ওলামায়ে কেরাম ও সর্বস্তরের তাওহিদী জনতা খুবই মর্মাহত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আল্লামা মাহমুদুল হাসান বলেন, সৌদি আলেমরা একথা কোথায় পেলেন যে, তাবলিগিরা কবরকে সেজদার স্থান বানায়? দুনিয়ার কোথাও এমন নজির নেই, হতে পারে না। ইনসাফের স্বার্থেই তাদেরকে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানাই।

তাবলিগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং এর কঠোর বিরোধিতা এজন্যই করা সমীচীন হবে না, কারণ বিশ্বে উম্মতের সাধারণ দ্বীনি ফিকির, ঈমানী আগ্রহ, ন্যূনপক্ষে সামান্য ঈমান আমলের চর্চা ও মুসলিম জীবনে শরীয়াসংশ্লিষ্টতা এবং ক্ষেত্রে বিশেষে বেঈমানী আর বেদ্বীনির পরিবেশে মুসলমানিত্বের পরিচয়টুকু ধরে রাখাসহ সারাবিশ্বে মুসলিম সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য এই শতাব্দীতে এই তাবলীগী কাজের সমপর্যায়ের বিকল্প খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এ প্রসঙ্গে আমরাও দারুল উলূম দেওবন্দের বিবৃতিটিকে সমর্থন জানাই।

আল্লাহ মুমিনের ডাকে যেভাবে সাড়া দেন

কুরআনে একটি আয়াত আছে, সুরা বাকারায়, আয়াত নম্বর ১৮৬,

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ

আর আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, তখন বলে দিন যে নিশ্চয় আমি অতি নিকটে। আহ্বানকারী যখন আমাকে ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া দিই। তুমি আমার প্রতি বিশ্বাস রাখো, একিন রাখো, এটা আমার হেদায়েতের তরিকা।

আল্লাহ পাকের একথা বলার অর্থ হলো যখন মানুষ তাকে ডাকে, তার ডাকের জওয়াব তিনি দেন। এটাই আল্লাহর অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

আল্লাহর রহমতে আমি একথা বলতে পারি যে, এমন বিষয় অনেক কথাই আমি জানি যা গোটা দুনিয়ায় আর কেউ জানে না। তো আমার এই জ্ঞান কোথা থেকে এসেছে? দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর তরফ থেকে এসেছে।

ইবনে তাইমিয়াকে অনেক বড় স্কলার মানা হয় ইসলামের ইতিহাসে, তিনি বলতেন, يا معلم ابراهيم علمني. (হে ইবরাহিমের শিক্ষক, আমাকে জ্ঞান দিন।)

যখন কুরআনের কোনো কিছু উনি বুঝতেন না, তখন এই এই দোয়া করতেন। হে পরমসত্তা, আপনি ইবরাহিমকে (আ.) যা বলেছেন, আমাকেও তা-ই বলেন। ইবরাহিমকে (আ.) যেই জ্ঞান দান করেছেন, আমাকেও একই জ্ঞান দিন।

তো, এই দোয়া আমারও জীবনের অংশ হয়ে গেছে। এমন অসংখ্যবার হয়েছে যে আমি এই দোয়া করেছি, এর পরক্ষণেই এমন জ্ঞান আমার মনে উদয় হয়েছে যা আগে আমি জানতাম না। তাহলে কীভাবে আমি জানলাম? আল্লাহর তরফ থেকে এসেছে।

দেখুন, বিজ্ঞানে একটা বিষয় স্বীকার করা হয় যে এই জগতের সমস্ত মানুষ মিলেও একটা অণু সৃষ্টি করতে পারবে না। জগতে যত সংখ্যক অণু আছে, তত সংখ্যকই থাকবে।

আপনার জন্য সম্ভব না সেখানে নতুন একটা অণু যোগ করা। তো যেভাবে নতুন একটা অণু সৃষ্টি করতে পারেন না, তেমনই আপনি নতুন কোনো চিন্তাও তৈরি করতে পারবেন না। ওখানে যা আছে তা-ই থাকবে।

ওখানে কিছু যোগ করার ক্ষমতা আল্লাহর আছে, আপনার নেই। ঠিক এভাবেই চিন্তার ক্ষেত্রে আপনার কাছে যা আছে তা তো আছেই, নতুন কিছু কেবল আল্লাহর তরফ থেকেই যোগ হয়।

তাই আপনি যদি দোয়া করেন, এমন অনেক কিছুই পাবেন যা এমনিতে আপনার জন্য কোনোদিন পাওয়া সম্ভব না।

মাস্ক পরে নামাজ আদায় হবে?

প্রশ্ন: মাস্ক পরিধান করে নামাজের বিধান সম্পর্কে অনেকে প্রশ্ন করেছেন। আগে কখনও এমন পরিস্থিতি না হলেও বর্তমানে সরকারিভাবে মাস্ক পরে নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় মুখে মাস্ক পরে নামাজ পড়লে তা কি আদায় হবে?

উত্তর: শরিয়তের বিধান হলো নামাজ পড়ার সময় নাকেমুখে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা মাকরুহ।

কেননা হাদিস শরিফে এসেছে— আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোনো ব্যক্তিকে নামাজরত অবস্থায় তার মুখমণ্ডল ঢাকতে নিষেধ করেছেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ-১০১৯)

অপর হাদিসে এসেছে— হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাদাপানির মাঝে সিজদা করলেন। এমনকি আমি তার কপালে ও নাকে কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং-২০৩৬)

উল্লিখিত হাদিসগুলোতে নাক, মুখ ঢেকে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হলেও অসুস্থতা ও অপারগতার বিষয়টি ভিন্ন। যেহেতু বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য মানুষকে বাধ্য হয়ে মুখে মাস্ক পরে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে।

কারণ ইসলাম কখনই মানুষের ওপর তার সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেয় না।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে— ‘আল্লাহ কারও ওপর সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৮৬)।

তাই এই বিপদের মুহূর্তে (রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায়) মুখে মাস্ক পরে নামাজ আদায় করাতে শরিয়া পরিপন্থী হবে না।

প্রয়োজনে মুখমণ্ডল ও সিজদার স্থানে কাপড় রেখে নামাজ পড়ার বিষয়টি হাদিসে বর্ণিত আছে— আনাস ইবনু মালিক (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে নামাজ আদায় করতাম। আমাদের কেউ মাটিতে তার চেহারা (কপাল) স্থির রাখতে সক্ষম না হলে সে তার কাপড় বিছিয়ে তার ওপর সেজদা করত। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং-১২০৮)

ওলামায়েকিরাম তিন সময়ে নামাজে মুখমণ্ডল ঢেকে রাখাকে বৈধ মনে করেছেন

এক. হাসি বা হাই আসার সময়

দুই. কারও মুখে যদি এ রকম দুর্গন্ধ থাকে, যা মুসল্লিদের কষ্ট দেয় অথবা কারও মুখে যদি কোনো রোগ থাকে।

তিন. কোনো মহিলা যখন গাইরে মাহরাম পুরুষদের সামনে নামাজ পড়বে।

মাস্ক পরিধান করে নামাজ আদায়ের সময় নাক ও কপাল জমিনে ঠেকাতে হবে। যদি মাস্কের কারণে নাক ও কপাল জমিনে না ঠেকে, তা হলে নামাজ হবে না।

যেহেতু করোনাভাইরাস খালি চোখে দেখা যায় না। আমরা জানি না যে, আমরা নিজেরা আদৌ এই ভাইরাস থেকে মুক্ত আছি কিনা? কিংবা যে মানুষটির সংস্রবে আমি যাচ্ছি তিনি এই মরণঘাতী ভাইরাস থেকে মুক্ত কিনা?

তাই আমাদের উচিত সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। এবং এটিই ইসলামের শিক্ষা। তাই আমরা জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রেও অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করব।

মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে এই মরণব্যাধি থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করার ৫ আশ্চর্য উপকারিতা

আমাদের মধ্যে অনেকেরই শীতের সময়ে ঠাণ্ডা পানির কারণে গোসল না করার প্রবণতা দেখা যায়। আবার অনেকেই গরম পানি দিয়ে গোসল করে থাকেন। খুব হালকা পরিমাণে গরম পানি মিশিয়ে গোসল করা ভালো। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে, ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করারও রয়েছে আশ্চর্য উপকারিতা।

ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে সেটি সকালে ঘুম থেকে ওঠার মতো কাজ করে, শরীরের ব্যথা উপশম করতে পারে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে।

এ ছাড়া কোল্ড হাইড্রোথেরাপি নামের একটি থেরাপিও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর এটি হচ্ছে এমন একটি থেরাপি, যেটি ব্যথা উপশমের জন্য এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করার অভ্যাস। এটি বিকল্প ওষুধের একটি অংশ হিসেবে ভারতীয়, মিসরীয় এবং চীনা সংস্কৃতিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

আজকে জেনে নিন ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করার ৫ উপকারিতা—

১. আর্দ্রতা হ্রাস করতে পারে
পানির তাপমাত্রার পরিবর্তন ত্বকের সিবাম উৎপাদনকে প্রভাবিত করে। গরম বা উষ্ণ জল আপনার ত্বককে শুষ্ক করে ত্বক থেকে প্রাকৃতিক তেল সরিয়ে ফেলতে পারে। অন্যদিকে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে তা ত্বকের হাইড্রেশনের মাত্রা বজায় রাখতে ট্রান্সপিডার্মাল পানির ক্ষতি রোধ করে। এটি মাথার ত্বকের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে এবং চুলের স্বাস্থ্যকেও বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

২. মেজাজ উন্নতি করতে পারে
কোল্ড হাইড্রোথেরাপির একটি অ্যান্টি-ডিপ্রেসিভ প্রভাব থাকে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলো দেখা যায় যে, ঠাণ্ডা পানি ত্বকের ঠাণ্ডা রিসেপ্টরগুলোর মাধ্যমে মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক আবেগ পাঠাতে পারে এবং সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করতে পারে। এটি বিষণ্নতার উপসর্গও উপশম করতে পারে।

৩. ব্যায়ামের পরে পুনরুদ্ধারে বুস্ট করতে সহায়তা করে
তীব্র ব্যায়াম করলে শরীর অনেক পরিমাণে ঘামতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, ব্যায়ামের পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে তা রক্তনালিগুলোকে সংকুচিত করে এবং প্রভাবিত টিস্যু থেকে বর্জ্য পদার্থগুলো ফ্লাশ করে। ফলে শরীরে ফোলাভাব, ব্যথা, পেশির ব্যথা এবং টিস্যু ভাঙন কমতে পারে।

৪. শরীরকে উষ্ণ রাখতে পারে
শুনতে অবাক লাগলেও এটি সত্য যে, শীতকালে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে তা আপনাকে উষ্ণ থাকতে সাহায্য করতে পারে। কারণ ঠাণ্ডা এক্সপোজার আপনার শরীরে উপস্থিত ব্রাউন অ্যাডিপোজ টিস্যু (বিএটি) সক্রিয় করে। আর এই টিস্যু আপনাকে উষ্ণ রাখতে ও শীতের সময় শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৫. সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে
সাধরণ স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ করতেও সহায়তা করতে পারে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল। ৩ হাজারেরও বেশি সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের ৩০ দিনের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করেন, তাদের অসুস্থতার হার ২৯ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

তথ্যসূত্র: স্টাইলক্রেজ ডটকম

করোনা আক্রান্ত গর্ভবতীদের প্রায় অর্ধেকের বিরূপ মাতৃত্বজনিত প্রতিক্রিয়া: গবেষণা

করোনাভাইরাস আক্রান্ত গর্ভবতীদের প্রায় অর্ধেকের বিরূপ মাতৃত্বজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে এক জরিপে উঠে এসেছে।

প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে, প্রিটার্ম ডেলিভারি অর্থাৎ ৩৭ সপ্তাহের আগে সন্তান প্রসব হয়েছে ৭৮.৭৯ শতাংশের, মায়ের গর্ভে সন্তানের মৃত্যু হয়েছে ১৫.১৫ শতাংশ, অন্যত্র গর্ভধারণ হয়েছে ৪.০৪ শতাংশের।

গর্ভবতী নারী এবং নবজাতকের স্বাস্থ্যের ওপর কোভিড-১৯-এর প্রতিক্রিয়া শীর্ষক জাতীয় জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার মহাখালী নিপসম অডিটোরিয়ামে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম) এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ। এই বিষয়বস্তু নিয়ে এটিই বাংলাদেশে সম্পাদিত প্রথম জাতীয় জরিপ।

জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, কোভিড পজেটিভ গর্ভবতী ৫৪ শতাংশের স্বাভাবিক প্রসব হলেও ৪৬ শতাংশের মাতৃত্বজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

কোভিড ১৯ নেগেটিভ গর্ভবতীদের তুলনায় কোভিড ১৯ পজেটিভ গর্ভবতীদের প্রসবকালীন ঝুঁকি দ্বিগুনেরও বেশি।

কোভিড ১৯ পজেটিভ গর্ভবতীদের ৮৩ শতাংশের সিজার করতে হয়েছে। নন কোভিড গর্ভবতীদের তুলনায় তাদের ১ দশমিক ২ শতাংশ বেশি ঝুঁকি ছিলো। নন কোভিড গর্ভবতীদের সিজার করতে হয়েছে ৬৮ শতাংশের।

সাধারন গর্ভবতীদের তুলনায় কোভিড পজেটিভ গর্ভবতীদের প্রসব জনিত জটিলতা ১.৫ গুন বেশি দেখা গেছে। কোভিড আক্রান্ত শুন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ গর্ভবতীর মৃত্যু হয়।

কোভিড পজেটিভ গর্ভবতীদের মধ্য ৯১.২ শতাংশের লক্ষণ ছিলো। বাকি ৮.৪ শতাংশের কোনো লক্ষণ ছিলো না।

আত্রান্তদের মধ্যে ৭৭. ৬ শতাংশের জ্বরের লক্ষণ ছিলো, ৪৩. ৯ শতাংশের কাশি, ৩৯.৮ শতাংশের শ্বাস কষ্ট, ৩৭.২ শতাংশ কোনো স্বাদ পেতো না এবং ৩২.৭ শতাংশ গন্ধ গন্ধ পেতো না, ২৬.৫ শতাংশের মাথা ব্যথার লক্ষণ ছিলো।

৮৯০ জনের উপর এই জরিপ কার্য পরিচালিত হয়। এর মধ্যে কোভিড নেগেটিভ ছিলো ৬৭৫ জন, পজেটিভ ছিলো ২১৫ জন।

২০২১ সালে জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত এ জরিপ চালানো হয়। ঢাকার চারটি সরকারি হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া গর্ভবতীদের অতীত রেকর্ড এবং ফোনে কথা বলে পাওয়া তথ্যে মুল্যায়ন করে।

জরিপে অংশ নেওয়াদের গড় বয়স ২৬.৩ বছর। এর মধ্যে ৫৪ শতাংশের বয়স ২৪ থেকে ৩৫ এর মধ্যে।

জিওবি অর্থায়নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্ল্যানিং, মনিটরিং অ্যান্ড রিসার্চ অপারেশনাল প্ল্যানের সৌজন্যে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম) জরীপ কার্যটি সম্পাদন করেছে।

ফলাফল প্রকাশ অনুষ্টানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া।

বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মো. অলিউল্লাহ।

শীতের সবজি ফুলকপি

শীতের সবজির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফুলকপি। শীতকালে খুবই সুস্বাদু একটা সবজি হলো ফুলকপি।

প্রাপ্ত উপাদান:
এই ফুলকপিতে রয়েছে প্রয়োজনীয় পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ও সি। এছাড়াও রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সালফার। ফুলকপিতে আয়রন রয়েছে উচ্চমাত্রায়।

উপকার:
আমাদের শরীরে রক্ত তৈরিতে আয়রন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত গর্ভবতী মা, বাড়ন্ত শিশু এবং যারা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করে তাদের জন্য ফুলকপি বেশ উপকারী একটা সবজি। ফুলকপিতে কোনো চর্বির মাত্রা নাই। ফুলকপি তাই কোলেস্টেরলমুক্ত যা কিনা আমাদের শরীরের বৃদ্ধি ও বর্ধণের জন্য উপযোগী।

ফুলকপি পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ কার্যকরী। এছাড়া আমাদের শরীরের মূত্রথলি ও প্রোস্টেট, স্তন ও ডিম্বাশয় ক্যান্সার প্রতিরোধে ফুলকপি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফুলকপিতে থাকা প্রয়োজনীয় পরিমাণে ভিটামিন-এ ও সি শীতকালীন বিভিন্ন রোগ যেমন জ্বর, কাশি, সর্দি ও টনসিল প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

সাধারণত রান্না করে, সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে বা ভেজে, নানান ধরনের সুপ তৈরি করে বিভিন্নভাবে ফুলকপি খাওয়া যায়। ফুলকপিতে আছে এমন কিছু উপাদান যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ফুলকপির সালফোরাফেন ক্যান্সারের স্টেম সেল ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন ধরনের টিউমারের বৃদ্ধি প্রতিহত করে।

এর সালফোরাফেন উপাদান রক্তচাপ কমায় এবং কিডনি ভালো রাখে। তাছাড়া ধমনীর ভিতরে প্রদাহ রোধ করতেও সাহায্য করে ফুলকপি। এতে রয়েছে ‘অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি নিউট্রিয়েন্টস’ যা শরীরের দহন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফুলকপিতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সালফার-জাতীয় উপাদান; যা খাবার হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। তাছাড়া ফুলকপির ফাইবার খাবার হজম হতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ফুলকপির ভিটামিন ‘এ’ চোখের জন্যও প্রয়োজনীয়।