বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 493

সার্চ কমিটির দেওয়া তালিকা জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে: জিএম কাদের

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সার্চ কমিটির সুরারিশ করা তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার আগে জনগণের সামনে প্রকাশ করার দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের।

শনিবার রাজধানীর বনানীতে পার্টি চেয়ারম্যানের কার্যালয় রজনীগন্ধায় জাতীয় পার্টি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।

জিএম কাদের বলেন, সম্প্রতি প্রণীত আইনে একটি সার্চ কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে। সে বিষয়ে সুনিদিষ্ট রুপরেখা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সার্চ কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সার্চ কমিটির মাধ্যমে মনোনীত ব্যাক্তিদের নাম ও পরিচয় সম্বলিত তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থায় প্রকাশ করার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তাছাড়া মাত্র ১৫ (পনের) কর্মদিবসের মধ্যে নাম প্রস্তাব করার বিধানটি বেশি তাড়াহুড়ো বলে মনে হয়; যা জনমনে সংশয় সৃষ্টি করতে পারে। ফলে সার্চ কমিটির কাজের স্বচ্ছতা থাকছে না।

‘আমরা মনে করি রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার আগে সার্চ কমিটির নির্ধারিত নামগুলো জনগণের সামনে প্রকাশ করার প্রয়োজন ও জনগণের মতামত দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা উচিত। জনগণের মতামত বিবেচনায় এনে তালিকা সংশোধনের সুযোগ রাখার ব্যবস্থা রাখলে বাছাইয়ের সার্বিক বিষয়টি স্বচ্ছতা পেত। ’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, সার্চ কমিটির প্রস্তুত করা তালিকাটি প্রকাশ করার বিধান না থাকার ফলে শেষ পর্যন্ত সেই তালিকার সুপারিশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে কিনা সেই বিষয়ে সংশয় থাকে। কারণ সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের ৩ দফার কারণের মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতামতের প্রধান্য দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তার দলীয় বিবেচনায় যেকোনো ব্যক্তি ও ব্যক্তিবর্গকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে মনোনীত করার সুযোগ থাকবে।

তিনি বলেন, বর্তমান আইনটিতে যাতে উপরোক্ত সুযোগ না থাকে সেজন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮ এর ৩ ধারার পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দানের বিষয়টিও সরাসরি রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যাস্ত করা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করি।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় পার্টির সংলাপের প্রসঙ্গ তুলে জিএম কাদের বলেন, আমরা (জাতীয় পার্টি পক্ষ থেকে) ২০ ডিসেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেছি। সেখানে আমরা নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বলেছি এবং আমাদের বক্তব্যের লিখিত কপি মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে দিয়েছি।

সংবিধানের সপ্তম ভাগে নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে বলা আছে। এখানে অনুচ্ছেদ ১১৮(১)- উল্লেখ আছে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশে একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দান করিবেন।’

তিনি বলেন, আমরা প্রস্তাব করেছিলাম আগামীতে যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে তার জন্য উপরোক্ত সংবিধানের বিধান অনুসারে একটি আইন করা দরকার। আইনের উদ্দেশ্য হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশন গঠন ও সে অনুযায়ী যোগ্য ও মোটামুটি সবার কাছে গ্রহনযোগ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের বাছাই করার মাপকাঠি ও পন্থা সুনির্দিষ্ট করা। আমরা যোগ্যতার মাপকাঠী বলতে দায়িত্ব পালনের দক্ষতাকে বুঝিয়েছি। মোটামুটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য বলতে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে নিরপেক্ষ ব্যক্তি নির্বাচনের কথা বুঝিয়েছিলাম।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আরও উল্লেখ করেছিলাম আমাদের সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বর্নিত আছে ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।’ কিন্তু বাস্তবে এ বিষয়টি খুব একটা কার্যকর হতে দেখা যায় না। ফলে কিভাবে এটি প্রযোজ্য হবে বা কার্যকর করা যাবে তার বিস্তারিত বর্ননা থাকা আবশ্যক।

আমাদের প্রস্তাব ছিল সে কারণে এ বিষয়েও একটি আইন থাকা প্রয়োজন। যে আইনে, নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচনী কাজে কোন কর্মচারী নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাবলী পালন না করিলে নির্বাচন কমিশন নিজেই যেন প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে এইরকম একটি আইন করা দরকার। আমরা যেটা বলতে চেয়েছিলাম তা হল যথোপযুক্ত নির্বাচন কমিশন গঠন করলেই তা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ/গ্রহনযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না; যতক্ষন পর্যন্ত না সে নির্বাচন কমিশনকে কর্তব্য সম্পাদনের সম্পূর্ন কর্তৃত্ব ও সহযোগিতা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান যে আইনটি পাশ হয়েছে তাতে শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন গঠন বিষটি বিবেচনা করা হয়েছে, তাদের যথাযথ ক্ষমতার বিষয়টি বিদ্যমান আইনের আওতায় আনা হয় নি। আমরা মনে করি বিষয়টিও বিদ্যমান আইন বা আলাদা একটি আইন হিসাবে আনা দরকার ছিল।

এ আইন প্রনয়ণ করার ফলে নির্বাচন কমিশন গঠন ও তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কার্যকর ভাবে পালনের ক্ষমতায়নে আগের তুলনায় কোন উন্নতি হবে বলে মনে হয় না। আগের মতই উপরোক্ত বিষয় সমূহ পরোক্ষভাবে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিয়ন্ত্রনে থাকবে। অর্থাৎ নতুন করা আইনটি পুরাতন পদ্ধতিকে একটি আইনগত কাঠামোতে এনে আইন সম্মত করা হচ্ছে। এক কথায় এই আইনটি করার পরেও অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে পূর্বের ন্যায় সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

জিএম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি সব সময় চায় অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন। কারন, নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রবেশ দ্বার। নির্বাচন সঠিক হলেই দেশে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হবে। জনগনের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। সুশাসনের পরিবেশের উন্নয়ন হবে। সাধারণ মানুষ তার পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারলে গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাদ পাবার পথচলা শুরু হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের ৩ ধারার কারনে রাষ্ট্রপতি মাত্র দুইটি নিয়োগ বাদে সকল কাজেই পরামর্শ করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। তাই নির্বাচন কমিশন গঠনে নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, বিরোধী দলের কাজ হচ্ছে সরকারের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়া। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী বিরোধী দলের এর বাইরে কিছুই করার নেই। বর্তমান সংবিধান এক ব্যক্তিকে ক্ষমতা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যা বলবেন তাই হবে, যেটুকু বলবেন তার বাইরে সংসদে কিছুই পাশ হবে না। তাই আমরা সরকারের সমালোচনা ও গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে বিরাধী দলের দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া সংবিধানের কিছু ধারা একটির সাথে অন্যটি সাংঘর্ষিক। বিরোধী দল হিসেবে আমরা দেশ ও দেশের মানুষের কল্যানে আমাদের দাবি তুলে ধরছি, মানা না মানা সরকারের ব্যাপার।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, এসএম আব্দুল মান্নান, ফখরুল ইমাম এমপি, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, এটিইউ তাজ রহমান, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, নাজমা আখতার এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার মিয়া, উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম মিলন, নুরুল ইসলাম তালুকদার এমপি, হেনা খান পন্নি, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান এমপি, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, এইচএম শাহরিয়ার আসিফ, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, ফখরুল আহসান শাহজাদা, আমির হোসেন ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, হুমায়ুন খান, আনোয়ার হোসেন তোতা, মাখন সরকার, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সুলতান মাহমুদ, এমএ রাজ্জাক খান, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন, মঞ্জুরুল হক, গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য তিতাস মোস্তফা, নুরুল হক নুরু, জাকির হোসেন মৃধা, মাহমুদ আলম, সমরেশ মন্ডল মানিক, ডা. সেলিমা খান, আক্তার দেওয়ান, এসএম সুবহান, কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুজ্জামান টিটু, জেসমিন নূর প্রিয়াংকা, কাজী মামুন, তাসলিমা আকবর রুনা, মিনি খান, মন্টি চৌধুরী, সোলায়মান সামি, শারমিন, হাসনা হেনা, মেহেদী হাসান শিপন, রেজাউল করিম রেজা, আব্দুস সালাম লিটন, এসএম হাশেম।

যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ লাখ ডলার খরচ করেছে বিএনপি-জামায়াত

আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে যড়যন্ত্র হয়েছে। ষড়যন্ত্র যারা করে, তাদের জন্মই হয়েছিল ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে। তারা সেই ষড়যন্ত্র থেকে দূরে আসতে পারেনি। তারা সব সময় একটা না একটা ষড়যন্ত্র করেছে। সম্প্রতি যে ষড়যন্ত্র করেছে, তারা ও তাদের সহোদর জামায়াতে ইসলামী শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই লবিস্ট নিয়োগে ৪ দশমিক ১৩২ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। এর মধ্যে জামায়াত দশমিক ৩৮২ মিলিয়ন এবং বিএনপি ৩ দশমিক ৭৫ ডলার খরচ করেছে।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের এক আলোচনা সভায় শনিবার তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে লবিস্ট ষড়যন্ত্র এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের করণীয়’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ আইনবিরোধী নয়। বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লবিস্ট নিয়োগ করে। ব্যবসার জন্য ও রাজনৈতিক কারণে লবিস্ট নিয়োগ করা হয়। কিন্তু পৃথিবীতে কোনো দেশ নেই, কোনো প্রতিষ্ঠান নেই, একটা বিরোধী দল যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করার কাহিনী। এটা আমরা প্রথম জানলাম। অন্য কোনো দেশের বিরোধী দল দেশের বিরুদ্ধে লবিস্ট নিয়োগ করে, এটা আগে দেখিনি।

এ সময় ড. মোমেন বলেন, আমরা বলতে চাই বিএনপি-জামায়াত লবিস্ট নিয়োগের হিসাব-নিকাশ দেখিয়েছে কিনা। এই টাকা কীভাবে বিদেশে পাঠাল। ট্যাক্স দিয়েছে কিনা। আইনের ব্যত্যয় হয়েছে কিনা। এসব আমাদের জানার বিষয়। তিনি বলেন, বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বলেছে, বাংলাদেশে কোনো সহায়তা দেবেন না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক। তারা এখানে অনেক বিনিয়োগ করেছে। এতে আমাদের উন্নয়ন হয়েছে। তবে এই বিনিয়োগ যেন না করে, সেজন্য লবিং হয়েছে। যারা এসব করেছে, তারা বাংলাদেশের মানুষের মঙ্গল চায় না। এটা নিয়ে দেশবাসীর প্রশ্ন করা উচিত। ড. মোমেন বলেন, বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের কাছে ১৮টি চিঠি দিয়েছে। এসব চিঠিতে অসত্য প্রচারণা চালানো হয়েছে। এসব মানুষকে জানানো দরকার।

ড. মোমেন বলেন, র‌্যাবের কারণেই সন্ত্রাস কমেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা কাজ করছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। তবে র‌্যাবের বিরুদ্ধেই এখন ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, বিদেশে আমাদের লবিস্ট আমাদের দূতাবাস। তারা আমাদের এক নম্বর লবিস্ট। তবে দেশের জন্য নিজের পয়সায় অনেকেই লবিস্টের কাজ করেন। আমিও দেশের জন্য লবিস্টের কাজ করেছি। কিন্তু কোনোদিন পয়সা নেইনি। অনেক প্রবাসী বিনা পয়সায় দেশের জন্য, দেশের ভালোর জন্য লবি করে।

তিনি বলেন, বিএনপি কত নিচে নামতে পারে তার একটি উদাহরণ দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র শেখ সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিবারকে তারা কিডন্যাপ করতে চেয়েছিল। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় আগামী দুই বছর এ রকম আরও অনেক ষড়যন্ত্র হবে। এজন্য আমাদের বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সদস্যদের সতর্ক থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ঠান্ডু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক।

১৫ আগস্টের পর কবিতার মাধ্যমেই প্রতিবাদ হয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কবিতা, গান, নাটক তথা সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে যেভাবে প্রতিবাদের ভাষা বেরিয়ে আসে এবং মানুষ উদ্বুদ্ধ হয় তা আর কোনো কিছুতে হয় না।

তিনি বলেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর যখন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা যাচ্ছিল না, তখন আমাদের কবিতার মধ্য দিয়েই প্রতিবাদের ভাষা বেরিয়ে আসে এবং মানুষ সেখানে উদ্বুদ্ধ হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় আবৃত্তি উৎসব ২০২০-২০২২’ এর উদ্বোধন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জাতীয় আবৃত্তি পদক ২০২০-২২’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আবৃত্তি উৎসবে ভার্চুয়ালি যোগদান করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীল দর্পন’ নাটকের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন যেভাবে এগিয়ে গিয়েছিল— একটি কবিতার শক্তি যে কত বেশি সেটি তো আমরা নিজেরাই জানি।

তিনি বলেন, আমাদের ওপর কতবার আঘাত এসেছে, কিন্তু বাঙালি বসে থাকেনি, প্রতিবারই প্রতিবাদ করেছে। কারণ আমাদের সাহিত্যচর্চা তো বৃথাই হয়ে যেত। এক একজন কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, আবৃত্তিকার আমাদের যা কিছু দিয়ে গেছেন, এগুলো আমাদের সম্পদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমি বলব যে, এ দেশের আন্দোলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে এ দেশের কবিদের এবং আবৃত্তিকারকদের। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই তাদের সবার প্রতি।

কবিতার অমোঘ শক্তির কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা যখন আন্দোলন শুরু করলাম স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, তখনও কত নাটক, কবিতা-বিভিন্ন আবৃত্তির মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হয়েছে আমাদের। সেখানে অনেক বাধা বিপত্তিও এসেছে। তখনকার কবিতার উৎসব অনেক বাধার মধ্য দিয়েই করতে হতো।

তিনি বলেন, এই কবিতার মধ্য দিয়ে আমাদের অনেক না বলা কথা বলা হয়। অনেক সংগ্রামের পথও দেখানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কথা বলে একটি মানুষকে যতটুকু উদ্বুদ্ধ করতে পারি, তার চেয়ে অনেক বেশি উদ্বুদ্ধ হয় মানুষ একটা কবিতা, গান, নাটক বা সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে। যার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ের কাছে পৌঁছানো যায়।

গ্রাম-বাংলার চিরায়ত ‘কবি গান’র আসরের প্রসঙ্গ টেনে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমাদের দেশে আগে কবিয়ালদের লড়াই হতো। আসলে বাঙালিরা সহজাতভাবেই কবি, এটি হলো বাস্তবতা।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের ৫ দিনব্যাপী এই আবৃত্তি উৎসবের উদ্বোধনী দিনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথিদ্বয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জাতীয় আবৃত্তি পদক ২০২০-২২’-এর প্রদান করেন।

বিশিষ্ট্য নাট্যব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

ইসি গঠন বিলে রাষ্ট্রপতির সই, রোববার সার্চ কমিটি

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল- ২০২২ এ সই করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। নতুন এই আইন অনুযায়ী রোববার গঠিত হবে সার্চ কমিটি।

শনিবার রাষ্ট্রপ্রধান বিলটিতে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. তারিক মাহমুদ।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে পাস হওয়া কোনো বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিলে তা আইনে পরিণত হয়।

সরকার এখন আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন আইনটির গেজেট প্রকাশ করবে। এর পরই আসবে সার্চ কমিটির ঘোষণা, যেটিও গেজেট আকার প্রকাশ করা হবে। গত বৃহস্পতিবার বহুলালোচিত এ বিলটি জাতীয় সংসদে পাশ হয়।

শনিবার বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন এ আইন অনুযায়ী এখন পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং নির্বাচন কমিশনারদের (ইসি) নাম সুপারিশের জন্য সার্চ কমিটি গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আইনটি রোববার সকালে গেজেট আকারে প্রাকশিত হবে। একই দিন বিকেলে আরেকটি গেজেটে রাষ্ট্রপতির সার্চ কমিটি গঠন কার সম্ভাবনা রয়েছে। আইন অনুযায়ী ছয় সদস্যের এই কমিটিতে একজন নারী সদস্য থাকছেন। যদিও সংসদের ভেতরে এবং বাইরে আইনটি নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি।

এর আগেই নতুন কমিশন গঠন করতে হবে রাষ্ট্রপতিকে। গেজেট প্রকাশ, সার্চ কমিটি গঠন, তাদের সুপারিশ জমাসহ বাকি সব কাজের জন্য হাতে থাকছে ১৫ দিন সময়।

রাষ্ট্রপতি ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন, যার সভাপতি হবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক। সদস্য হিসেবে থাকবেন- প্রধান বিচারপতির মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুই জন বিশিষ্ট নাগরিক। এ দুই বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে এক জন হবেন নারী। তিনজন সদস্যের উপস্থিতিতে কমিটির সভার কোরাম হবে। এ কমিটির কাজে সাবির্ক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সময় থেকে সার্চ কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন গঠন শুরু হয়, যা অনুসরণ করেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এবার সার্চ কমিটি গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপের মধ্যেই আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা কমিটি, যা গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাস হয়।

এদিন অনুসন্ধান কমিটিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত দুই ‘বিশিষ্ট নাগরিকের’ মধ্যে একজন নারীকে রাখার বাধ্যবাধকতা রেখে বহুল আলোচিত নির্বাচন কমিশন গঠন আইনের প্রস্তাবে সায় দেয় জাতীয় সংসদ। পাস হওয়া বিলে সার্চ কমিটির কাজ ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে, যা খসড়ায় ১০ কার্য দিবস ছিল।

ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা দূর করা যাচ্ছে না কেন?

করোনার অভিঘাতের পরও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বেড়েছে। জুন, ২০২১-এর হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের তুলনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির হার ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বছর আমাদের মোট বিনিয়োগ নমিনাল জিডিপির প্রায় ২৬ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের বিনিয়োগ অনুপাত ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ, নেপালের ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ আর পাকিস্তানের মোট বিনিয়োগ জিডিপির মাত্র ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়েই আমাদের মোট বিনিয়োগ। বাংলাদেশের মোট বিনিয়োগের প্রায় ৮০ শতাংশই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত খাতে। কিন্তু দুর্নীতি, অদক্ষ আমলাতন্ত্র ও পুঁজি সরবরাহের সীমিত সুযোগ-এই তিন সমস্যা ব্যক্তি খাতকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গত বুধবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘ব্যবসায় পরিবেশ ২০২১ : উদ্যোক্তা মতামত’ প্রকাশ করে উদ্বেগ জানানো হয়। ব্যবসা খাতে অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিকূলতার কথা উঠে এসেছে এই জরিপে।

ব্যবসায়ীদের মাঝে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে চালানো জরিপটির সময়কাল ছিল ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত। জরিপে ৭৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠান কৃষি, সেবা ও উৎপাদনমুখী শিল্পের সঙ্গে জড়িত এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১০ কোটি টাকারও বেশি। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বড় ব্যবসায়ী আছেন ৩৯ জন, মাঝারি ১৭ জন, ছোট ব্যবসায়ী ১২ জন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আছেন ৫ জন। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৪৫ শতাংশ ব্যবসায়ীই মনে করেন, করোনার কারণে আমাদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে। তবে ৭ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, এই ক্ষতি মাত্র এক বছরেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই অনুমানটি করা হয়েছে করোনার আর কোনো আঘাত আসবে না বিবেচনা করে।

ব্যবসা খাতের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীরা মোটা দাগে তিনটি সমস্যাকে দায়ী করেছেন : এক. দুর্নীতি; দুই. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা; তিন. পুঁজির জোগানের সীমাবদ্ধতা। এছাড়াও ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা বলেছেন সেগুলো হলো-করের নীতিতে জটিলতা, অদক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত উদ্ভাবনের অভাব, বিভিন্ন অপরাধ ও চুরি, সরকারের অস্থিতিশীলতা, নৈতিকতা, মূল্যস্ফীতি ও শ্রম আইনের সীমাবদ্ধতা। এসব কারণে ব্যবসায় ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ীর পক্ষেই বাজারে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৮ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে ব্যয় কমানোর কোনো বিকল্প নেই।

২২ শতাংশ বলেছে নতুন ক্রেতা খোঁজার কথা আর ১৯ শতাংশ ব্যবসা সম্প্রসারণ ও রপ্তানির নতুন বাজার খোঁজার ওপর গুরুত্ব দেয়। ২৮ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেছেন, করোনার কারণে তাদের বাধ্য হয়ে ব্যবসার খরচ কমাতে হচ্ছে, যে কারণে শ্রমিক ছাঁটাই করতে হচ্ছে। ৬৭ শতাংশ ব্যবসায়ীই মনে করেন, আগামী ১০ বছরে দেশের ব্যবসাবাণিজ্যে সবচেয়ে বড় বাজার হবে ডিজিটাল সার্ভিস। এর সঙ্গে থাকবে ডেটা বিজনেস এবং প্লাস্টিক রিসাইক্লিং। অন্যদিকে আগামী ২ বছরে বৈশ্বিক পাঁচটি ঝুঁকি বাংলাদেশকে প্রভাবিত করবে।

এর মধ্যে অন্যতম হলো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি। বড় দেশ ও সংস্থাগুলোর কাছে বাংলাদেশের যে ঋণ রয়েছে, তা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে। কিছু শিল্পে বিপর্যয় আসবে। দ্বিতীয়ত, ভূ-রাজনৈতিক কিছু সমস্যা সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিপর্যয়, স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী আক্রমণের আশঙ্কা। তৃতীয় সমস্যা হলো পরিবেশগত ঝুঁকি।

এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা এবং মানবসৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যা। চতুর্থ সমস্যাটি হলো সামাজিক সমস্যা। বিপুলসংখ্যক মানুষের বেকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাছাড়াও সামাজিক সমস্যার মধ্যে থাকবে বিভিন্ন রোগ ও নিরাপত্তার বিষয়টি। আগামী ২ বছরে পাঁচটি সমস্যার সর্বশেষ যে সমস্যাটিকে ব্যবসায়ীরা চিহ্নিত করেছেন তা হলো প্রযুক্তিগত ঝুঁকি। তাদের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তির কথা বলা হলেও ডিজিটাল কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্সে ১১০টি দেশের মধ্যে ২০২১ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৩।

তাছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তি বণ্টনেও বৈষম্য রয়েছে। সব ব্যবসায়ী এসব সুযোগ সমানভাবে পান না। প্রভাবশালীদের হাতেই তা জিম্মি। সব মিলিয়ে মতামত জরিপ থেকে কোনো আশার আলো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আগামী দিনগুলো তাদের জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হবে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, ব্যবসায় সংক্রান্ত জরিপে ২০২০ সালে প্রধান সমস্যা হিসাবে উঠে এসেছিল প্রশাসনিক অদক্ষতা। দ্বিতীয় সমস্যা ছিল দুর্নীতি। এবারের জরিপে প্রশাসনিক অদক্ষতাকে টপকে এক নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে সর্বজন পরিচিত দুর্নীতি। ৬৭ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করছেন, অদক্ষ আমলাতন্ত্র ব্যবসায়ের পথে বড় বাধা। এখানে বলে রাখা ভালো, একটি হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা, আরেকটি হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে সরকার ২০১৫ সাল থেকে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) চালুর কথা চিন্তা করে। সেই লক্ষ্যে একটি আইন করা হয়, যা ওয়ান স্টপ সার্ভিস অ্যাক্ট, ২০১৮ নামে পরিচিত।

এই সার্ভিসটি মনিটর করার দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বিইজেডএ)। এই সার্ভিসের উদ্দেশ্য ছিল-এক. লাইসেন্স-পারমিট নিবন্ধনের সময়সীমা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনা; দুই. লাইসেন্স-পারমিটের নিবন্ধন খরচ কমানো; তিন. দুর্নীতি কমিয়ে নিবন্ধনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা; চার. সেবার গুণগতমান বৃদ্ধি করা। সে বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখন প্রয়োজন আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা দূর করা। ৬৮ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো দুর্নীতি। এর লাগাম টেনে ধরা প্রয়োজন।

ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি, সমস্যা কোনো সমস্যা নয়, সমস্যার সমাধানটাই সমস্যা। সমস্যার সমাধান বের করতে হলে প্রথমে সমস্যাকে চিহ্নিত করতে হবে। সমস্যা চিহ্নিত হয়ে গেলে তা আমলে নিতে হবে। তারপর সমাধানের পথ খুঁজতে হবে এবং যথাসময়ে সমাধান করেও ফেলা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু আমাদের সমস্যার সমাধান হয় না। কেননা আমাদের সমস্যা চিহ্নিত হয়; কিন্তু তা আমলে নেওয়া হয় না। বরং সরকারের তরফ থেকে সমস্যা চিহ্নিতকারীকে তিরস্কার ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়। এমন বাস্তবতায় সমাধান পাওয়া যাবে কীভাবে? সাম্প্রতিক সময়ের একটি উদাহরণ দিয়েই আলোচনা শেষ করব।

পৃথিবীতে দুর্নীতিবিহীন কোনো দেশ নেই। এ বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে ১৯৯৩ সাল থেকে দুর্নীতির ওপর অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে জার্মানির বার্লিনভিত্তিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)। আমাদের দেশে সংস্থাটির শাখা রয়েছে, নাম ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ১৮০টি দেশে টিআই দুর্নীতি পরিমাপের যে পদ্ধতি অনুসরণ করে, তার নাম ‘করাপশান পারসেপশান ইনডেক্স’ (সিপিআই)। এই সূচকের সর্বোচ্চ মান ১০০। অর্থাৎ কোনো দেশের স্কোর যদি হয় ১০০, তাহলে বোঝা যাবে সেদেশে কোনো দুর্নীতি নেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮০টি দেশের মধ্যে কোনো দেশই ১০০ স্কোর করতে পারেনি। তবে ৮৮ স্কোর করে সবচেয়ে কম দুর্নীতির তালিকায় আছে ফিনল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্ক। অপরদিকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসাবে আছে দক্ষিণ সুদান, যার স্কোর ১১। ১৮০টি দেশের গড় স্কোর যেখানে ৪৩, সেখানে আমাদের স্কোর গত ৪ বছর ধরে ২৬। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের স্কোর ৪০ আর পাকিস্তানের স্কোর ২৮। ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খারাপ থেকে ভালোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম, যা আগের বছরে ছিল ১২তম। সেক্ষেত্রে বলা যেতে পারে, এক ধাপ ভালো করেছে বাংলাদেশ। অপরদিকে ভালো থেকে খারাপের তালিকায় বাংলাদেশ এক ধাপ পিছিয়েছে। আগের বছর অবস্থান ছিল ১৪৬ নম্বরে, এবারে ১৪৭ নম্বরে।

যা হোক, সমস্যাটা চিহ্নিত হয়েছে। সরকারের উচিত ছিল সমস্যাটি আমলে নিয়ে কাজ করা। তা না করে সরকারের উপর মহল থেকে বলা হলো, সংস্থাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। সরকারি দলকে হেয়প্রতিপন্ন করাই এর কাজ। অথচ এ সংস্থাটি বিএনপির সময়ে যখন বাংলাদেশকে ১ নম্বর দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসাবে চিহ্নিত করেছিল, তখন আজকের সরকারি দলই সেই প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছিল। এ ধরনের দ্বিচারী নীতির ফলে এদেশে দুর্নীতির ডালপালা দিনকে দিন বেড়ে চলেছে এবং দুর্নীতিকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং সমস্যা যতই চিহ্নিত হোক, সরকারি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না ঘটলে কোনো সমস্যারই সমাধান হবে না, যা কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে কাম্য নয়।

মুঈদ রহমান : অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যান্সারের যেসব লক্ষণে নারীদের সচেতন হওয়া উচিত

ঋতুস্রাব থেকে শুরু করে মেনোপজ পর্যযন্ত একজন নারীর শরীরে অসংখ্য পরিবর্তন আসে। এগুলে এমন কিছু নয় যে নারীদের, মহিলাদের উদ্বিগ্ন করে বা তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে বিরত রাখে। শরীরের ঘন ঘন পরিবর্তনের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সময়, নারীরা প্রায়ই অনেক লক্ষণ এড়িয়ে যায় যা ক্যান্সারের মতো গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করে।

২০২০ সালের রিপোর্ট অনুসারে, ৮৮ লাখ নারী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।

যদিও ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের সংখ্যা বেশি তবে প্রাথমিক লক্ষণ জানা থাকলে এই রোগ এড়ানো সম্ভব। তখন যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করে রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব।
মহিলাদের স্তন, কোলোরেক্টাল, ফুসফুস, সার্ভিকাল, এন্ডোমেট্রিয়াল এবং ত্বকে কিছু সাধারণ ক্যান্সার হয়। শরীরের অন্যান্য অংশেও ক্যান্সার হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। জেনে নিন ক্যান্সারের কয়েকটি লক্ষণ:

ত্বকের সমস্যা:

ছোট ব্রণ হোক বা বেগুনি ক্ষত হোক বা ত্বকের একটি খসখসেভাব যদি কয়েকদিনের মধ্যে না যায় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রায়ই আমরা এ বিষয়গুলো অবহেলা করে থাকি। এতে করে নিজের অজান্তে শরীরে বাসা বাঁধে ক্যান্সার।

ব্যাক পেইন:

ঋতুস্রাব থেকে শুরু করে মেনোপজ পর্যন্ত নারীরা প্রতি মাসে পিঠে ব্যথা অনুভব করেন। মাসিকের সময় ক্র্যাম্পের কারণে ব্যথা বোঝা গেলেও পেলভিস এবং পিঠের কাছে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা উপেক্ষা করা উচিত নয় কারণ এগুলো ক্যান্সারের লক্ষণ। পেটের উপরের অংশে ব্যথা অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণ।

মলত্যাগে সমস্যা:

এটি আরেকটি লক্ষণ যা প্রায় কোষ্ঠকাঠিন্য ভেবে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। অনিয়মিত মলত্যাগ কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ। এই উপসর্গটিকে উপেক্ষা করার আরেকটি কারণ হল অনেক নারীরা মাসিকের আগে কোষ্ঠকাঠিন্য, ফুলে যাওয়া এবং অন্ত্রে পরিবর্তন অনুভব করেন। তাই যদি মল পদার্থের রঙের পরিবর্তন, অলসতা, ওজন হ্রাসের মতো লক্ষণগুলির সাথে এটিও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে তবে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

প্রসাবে সমস্যা:

নারীদের মধ্যে প্রস্রাবে ইনফেকশনের প্রবণতা বেশি থাকে এবং এই কারণে তাদের মধ্যে প্রস্রাবের ধরনে ঘন ঘন পরিবর্তন দেখা যায়। মূত্রনালী পরিষ্কার এবং শুষ্ক রাখার জন্য সব সময় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তবে বারবা সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্তনে পরিবর্তন:

স্তন ক্যান্সার সাধারণত নারীদের হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বগলে বা কলার হাড়ে পিন্ড, স্তনবৃন্ত থেকে রস নিঃসৃত হওয়া, স্তনের অভ্যন্তরীণ অংশ শক্ত হয়ে যাওয়া, কমলা রঙের ত্বক, স্তন বা স্তনবৃন্তে ব্যথা, স্তনবৃন্ত এবং স্তনের চারপাশে চুলকানিকে ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিয়মিত স্ব-পরীক্ষা খুবই প্রয়োজনীয় কারণ এতে করেই উপসর্গগুলোকে তাড়াতাড়ি শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সাহায্য করবে।

মাসিকের মধ্যে রক্তপাত বা স্রাব:

আপনি যদি মাসিক চক্রের মধ্যে শরীর থেকে রক্ত ​​​​বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব দেখতে পান তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মাসিকের আগে স্রাব যদিও সাধারণ, তবু সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা উচিত। এক্ষেত্রে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। শরীর থেকে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব হতে পারে সার্ভিকাল, যোনি বা এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের লক্ষণ।

বিরতীহীন কাশি:

ক্রমাগত কাশি বেশ কয়েকটি রোগের সাথে যুক্ত এবং ক্যান্সারের সাথে এর সম্পর্ক খুব কমই বলে জানা যায়। তাই নিজে থেকে এটি নির্ণয় করার পরিবর্তে, একজন চিকিৎসকের কাছে যান, আপনার সমস্ত চিকিৎসা ইতিহাস দিন এবং সম্পূর্ণ শরীর পরীক্ষা করুন। দীর্ঘস্থায়ী কাশি ফুসফুসের ক্যান্সারের লক্ষণ।

গিলতে সমস্যা:

মুখ, গলা বা খাদ্যনালীতে ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হল গিলতে অসুবিধা হওয়া বা গলায় বড় পিণ্ড অনুভব করা। অনেকে প্রায়ই এটিকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলে মনে করেন। যাইহোক, যদি এই অবস্থাটি অব্যাহত থাকে এবং অ্যাসিড-রিফ্লাক্স সম্পর্কিত চিকিত্সার মাধ্যমে দূরে না যায় তবে আপনার খাদ্য খাল, গলা এবং মুখ সঠিকভাবে পরীক্ষা করা উচিত।

ঘন ঘন কানে ব্যথা:

কোন সংক্রমণ ছাড়াই আপনার কানে ব্যথা হয়? হ্যাঁ. জিহবা বা টনসিল বা এমনকি মুখের মধ্যে ক্যান্সারের কারণে এটি ঘটতে পারে এমন একটি সম্ভাবনা রয়েছে। তাই একজন চিকিৎসকের কাছে যেয়ে পরীক্ষা করান।

সূত্র: দ্যা টাইমস অব ইন্ডিয়া

করোনায় আক্রান্ত প্রিসিলা

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী প্রিসিলা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) প্রিসিলা ফেসবুকের এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ফেসবুক পোস্টে প্রিসিলা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

অসুস্থতার কারণে পূর্বনির্ধারিত সব অনুষ্ঠানও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রিসিলা।
ফাতেমা নাজনীন প্রিসিলা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তরুণী। সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা সক্রিয় তারা প্রিসিলা নামটির সঙ্গে পরিচিত। ফেসবুকে তাঁর সঞ্চালনায় সাক্ষাৎকারমূলক অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশের শীর্ষ তারকা থেকে আলোচিত ব্যক্তিরা। শুধু সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক কর্মকাণ্ডই নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন এ তরুণী।

এক সময় অভিনয়, মডেলিং, নাচ ও গানের চর্চা করতেন। গান গেয়ে নিউইয়র্কে পুরস্কারও পেয়েছিলেন। ব্রডওয়ে শোতে পারফর্মের জন্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে সব ছাপিয়ে প্রিসিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত পেয়েছেন মানবিক কন্যা হিসেবে। বিভিন্ন সময় অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

এই শীতের মধ্যেও বাংলাদেশের পাঁচ শতাধিক মানুষকে জ্যাকেট ও গরম কাপড় দিয়েছেন। গত কয়েক মাসে দেশের নিম্নআয়ের মানুষদের স্থাপন করে দিয়েছেন ৩০টির বেশি নলকূপ।

অস্ট্রেলিয়ায় বঙ্গবন্ধু ও হুইটলামের জীবন ও কর্মের ওপর সেমিনার

দু’জন সমসাময়িক কিংবদন্তী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড গফ হুইটলামের জীবন, কর্ম ও রাজনৈতিক আদর্শের ওপর অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হুইটলাম ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন ক্যানবেরা ও কনস্যুলেট জেনারেল সিডনি যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। হুইটলাম ইনস্টিটিউটে মাসব্যাপী গফ হুইটলাম এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে, যা জানুয়ারি পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর পিটার শেরগোল্ডের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যারেথ ইভানস স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর বার্নে গ্লোভার মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ সময় বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগ এবং এক্ষত্রে তার পররাষ্ট্রনীতির অবদানের কথা উল্লেখ করেন ড. মোমেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিকতা, বন্ধুত্ব এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিষয়ক বঙ্গবন্ধু যে বার্তা দিয়ে গেছেন তার মাধ্যমে সমসাময়িক বিশ্বের অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পালন এবং দুই নেতার জীবন ও কর্ম উদযাপনের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দু’দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যারেথ ইভানস বলেন, বঙ্গবন্ধু ও হুইটলামের পাস্পরিক যোগাযোগ এবং ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংসদীয় গণতন্ত্র দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শক্তিশালী ভিত্তি। এ দু’নেতার চিন্তাচেতনাকে ও প্রতিশ্রুতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ভবিষ্যতে দু’দেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্যের ঊর্ধ্বে নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক বিষয়েও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এবং অস্ট্রেলিয়ার মনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার জেনি হকিং মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ ও সমসাময়িক বিশ্ব এবং অধ্যাপক জেনি হকিং উন্নয়নশীল বিশ্বের সাথে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক স্থাপনে হুইটলামের অবদানের ওপর আলোচনা করেন। শান্তিপূর্ণ ভারতীয় মহাদেশীয় এলাকা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় মহান এ দু’নেতার অঙ্গীকারের বিষয়ে তারা আলোকপাত করেন। জেনি হকিং স্মরণ করেন, কিভাবে জনগণের মঙ্গলার্থে বঙ্গবন্ধু ও হুইটলাম তাদের সারা জীবন উৎসর্গ করেছেন।

বঙ্গবন্ধু ও হুইটলামের স্বপ্ন ও দূরদর্শিতা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিবিধ সংস্কার ও অবদানের কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার সুফিউর রহমান এ মহান দু’নেতার বিষয়ে ও বাংলাদেশ বিষয়ে অধিক অধ্যয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসময় প্যানেল আলোচনায় আলোচকগণ এ দু’নেতার চিন্তা ও দুরদর্শিতার প্রশংসা করে বলেন, এ দু্ই বিশ্বনেতা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উদ্যোগ ও নীতি গ্রহণ করেন। বিভিন্ন দেশের পারস্পারিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়ন, শান্তি ও মঙ্গল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ও দু’নেতার প্রয়াসের ওপর তাঁরা আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিডনিতে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মাসুদুল আলম।

লবঙ্গ লতিকা তৈরির রেসিপি

পিঠা খাওয়ার জুতসই সময় শীত। এ সময় খেজুর ও আখের গুড়ের পিঠার স্বাদের তুলনা হয় না। দেখে নিন তেমন একটি রেসিপি। দিয়েছেন অসিত কর্মকার সুজন।

লবঙ্গ লতিকা

উপকরণ

ময়দা ২ কাপ, চালের গুঁড়া আধাকাপ, নারকেল কোরা ২ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, চিনি স্বাদমতো, দারচিনি ১ টুকরা, এলাচ ১টি, লবঙ্গ প্রয়োজনমতো, লবণ সামান্য, গরম পানি আধাকাপ, তেল ভাজার জন্য।

যেভাবে তৈরি করবেন

১. প্যানে ঘি গরম করে দারচিনি ও এলাচ হালকা ভাজুন। এবার কোরানো নারকেল, চিনি ও লবণ দিয়ে মাঝারি আঁচে নাড়তে থাকুন। নারকেল ঝরঝরে হলে নামিয়ে নিন।

২. একটি পাত্রে ময়দা, চালের গুঁড়া, ঘি ও লবণ ভালোভাবে মেশান। এতে ধীরে ধীরে গরম পানি দিয়ে মাখাতে থাকুন। খামির তৈরি হলে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে রুটির মতো বেলে নিন।

৩. ছুরি দিয়ে রুটির চারপাশ কেটে সমান বর্গাকার করুন। রুটির মাঝবরাবর খানিকটা নারকেলের মিশ্রণ রেখে রুটির প্রতিটি কোনা চারপাশ থেকে ভাঁঁজ করে মাঝখানে নিয়ে একটি লবঙ্গ দিয়ে গেঁথে দিন।

৪. প্যানে তেল গরম করে একটি একটি করে পিঠা ভেজে নিন। গাঢ় বাদামি রং হলে নামিয়ে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে পরিবেশন করুন।

ওজন বাড়াতেও প্রতিদিন কিছু ব্যায়াম করুন

বর্তমান বিশ্বে স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যার মধ্যে ওজনাধিক্য অন্যতম। ওজন কমানো নিয়ে যেমন অনেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন, পাশাপাশি কম ওজনের কারণেও অনেকে ভুগছেন নানা স্বাস্থ্য জটিলতায়

কম ওজনে যেসব জটিলতা

বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী দেহের আদর্শ ওজন থাকে। যদি কারো ওজন অতিরিক্ত কম থাকে, তবে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ে সমস্যা, ঘন ঘন অসুস্থতা, রক্তস্বল্পতা, চুল-দাঁত দুর্বল হওয়া, অনিয়মিত মাসিক, ক্লান্তি, অপরিণত শিশু জন্মদান ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। এ জন্য সঠিক ওজন বজায় রাখা খুব জরুরি।

করণীয়

পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ : সামুদ্রিক মাছ, চর্বিহীন দুধ, চর্বিহীন মাংস, খোসাসহ শস্য, ডিম, বাদাম, বিচি ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখুন এবং এই খাবারগুলো ২-৩ বার পরিবেশন করুন।

সীমাবদ্ধ খাদ্য তালিকা নয় : যে খাদ্য তালিকায় নির্দিষ্ট পুস্টি উপাদান বাদ দেওয়া হয়, সে ধরনের খাদ্য তালিকা এড়িয়ে চলুন। চেষ্টা করুন সব ধরনের পুষ্টি উপাদান রেখে খাবার গ্রহণ করতে।

চর্বিহীন পেশি বাড়ান : ওজন বাড়াতে চর্বিহীন পেশি বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে ব্যায়াম, ভারোত্তোলন, কার্ডিওটাইপ ব্যায়াম সাহায্য করতে পারে।

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রক হরমোনাল ভারসাম্য বজায় রাখুন : লেপটিন, ইনসুলিন, ঘেরলিন, পেপটাইড—এই হরমোনগুলো ক্ষুুধা নিয়ন্ত্রণ করে। লেপটিন ক্ষুধা কমায়, ঘেরলিন ক্ষুধা বাড়ায়। তাই যাঁরা ওজন বাড়াতে চান, তাঁরা অবশ্যই এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন।

যেসব ব্যায়াম করবেন : কার্ডিও, স্কোয়াট, লাঞ্জেস, জাম্পিং, ভারোত্তোলন, দেহের ওপরাংশের ব্যায়াম বিশেষ করে পেটের ব্যায়ামগুলো করুন।

খেয়াল করুন

* দিনে অন্তত ছয় থেকে আটবার খাবার খাবেন।

* প্রতিদিন এক ঘণ্টা ব্যায়াম করার অভ্যাস করুন। ব্যায়ামের সঠিক সময় সকালের নাশতার দুই ঘণ্টা পর হলে ভালো হয়।

* ভারোত্তোলন দুই কেজি থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়ান।

* পর্যাপ্ত সুপেয় পানি পান করুন, যেন অন্ত্র পরিষ্কার থাকে। স্বাস্থ্যসম্মত ওজন বজায় রাখতে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

* উচ্চ মাত্রার আঁশযুক্ত খাবার যেমন খোসাসহ ফল, সবজি, ডাল ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখুন।

পরামর্শ দিয়েছেন-

লাবীবা তাসনীম আনিকা

পুষ্টিবিদ, ইন্সপিরন ফিটনেস ও ডায়েট কনসালট্যান্সি সেন্টার

ধানমণ্ডি, ঢাকা।