বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 494

ব্যবসা-বাণিজ্যে যেসব কাজ বর্জনীয়

ব্যবসা-বাণিজ্যে ইসলাম কতগুলো সুনির্দিষ্ট নীতি মেনে চলার তাগিদ দিয়েছে। আর্থিক লেনদেনে সততা, স্বচ্ছতা, অঙ্গীকার পূরণ করা, জাকাত দেওয়া এবং ভালো গ্রাহকসেবা প্রদান করার ওপর ইসলামী শরিয়া গুরুত্ব আরোপ করেছে। ইসলাম ব্যবসায় ধোঁকা, প্রতারণা, মজুতদারি, খাদ্যে ভেজাল মেশানো, মাপে কম দেওয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করা ইত্যাদি বিষয়কে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। একইভাবে ফটকাবাজি, সুদ, জুয়া, গোষ্ঠীবিশেষের বাজার নিয়ন্ত্রণ, একচেটিয়া কারবার, পণ্যের দোষত্রুটি গোপন করা, মিথ্যা শপথ করা ইত্যাদি নেতিবাচক কাজকেও ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইসলাম যেসব নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেয় তার কটি নিচে উল্লেখ করা হলো—
ব্যবসায় প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি থেকে বিরত থাকা

ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্য উত্তম কাজ হলেও এর মধ্যে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে এবং ইসলামে এর বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। পণ্যদ্রব্যে ভেজাল, ভালো পণ্যের সঙ্গে খারাপ পণ্য মেশানো, পণ্যের দোষত্রুটি গোপন করা ইত্যাদি যাবতীয় ধরনের প্রতারণা ইসলামে হারাম। নবী করিম (সা.) কেনাবেচার ক্ষেত্রে পণ্যের বিবরণ, মূল্য, মূল্য পরিশোধের সময় সুস্পষ্ট করতে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে লেনদেনের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা না দেয় এবং ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি না হয়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘এবং যদি তুমি কোনো সম্প্রদায় থেকে খিয়ানতের (চুক্তি ভঙ্গের) আশঙ্কা করো, সে ক্ষেত্রে তোমার চুক্তি তুমি একইভাবে বাতিল করবে। কারণ আল্লাহ খিয়ানতকারীদের পছন্দ করেন না। ’ (সুরা আনফাল, আয়াত : ৫৮)

ধোঁকাবাজি ও প্রতারণার বিষয়ে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পর হিংসা কোরো না, পরস্পর ধোঁকাবাজি কোরো না, পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ কোরো না, একে অন্যের পেছনে শত্রুতা কোরো না, একে অন্যের ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর ক্রয়-বিক্রয়ের চেষ্টা কোরো না। তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দাহ হিসেবে ভাই ভাই হয়ে যাও। এক মুসলিম ওপর মুসলিমের ভাই। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৪)

ওজনে কম দেওয়া নিষিদ্ধ

ব্যবসা-বাণিজ্য একটি মহৎ পেশা। সততা ও ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে ব্যবসায় পরিচালিত হলে সেখানে অন্যায়-অনিয়ম ঠাঁই পেতে পারে না। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হবে। আল-কোরআন ও সুন্নাহতে ওজনে কম দেওয়াকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, নিন্দনীয় ও পরকালীন দুর্ভোগের কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা মাপে কম দেয়, তাদের জন্য ধ্বংস। এরা লোকের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় মেপে নেয় এবং যখন অন্যদের মেপে দেয় তখন কম করে দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে তারা পুনরুত্থিত হবে সেই মহাদিবসে? যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব প্রতিপালকের সামনে। ’ (সুরা আল মুতাফফিফিন, আয়াত : ১-৬)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘যখন মেপে দেবে পূর্ণ মাপে দেবে এবং ওজন করবে সমান-সঠিক দাঁড়িপাল্লায়, এটাই উত্তম এবং পরিণামের দিক থেকে কল্যাণকর। ’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৫)

ইসলামে মজুদদারি নিষিদ্ধ

ইসলামে বাজারব্যবস্থা উন্মুক্ত, অবারিত এবং তা চাহিদা ও জোগান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু কোনো অসৎ ব্যবসায়ী যদি মজুদদারিতে লিপ্ত হয় এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, তাহলে এটি বাজারমূল্য প্রভাবিত করে। এতে গ্রাহকের সমস্যা তৈরি হয় এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ক্রেতা জুলুমের শিকার হয়। একটি ইনসাফপূর্ণ বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাই ইসলাম মজুদদারি, খাদ্যদ্রব্য বাজার থেকে তুলে নিয়ে দাম বাড়ানো এবং অধিক মুনাফার প্রত্যাশা করাকে অবৈধ করেছে। কেননা মজুদদারি, পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং অনেক মানুষ দুর্ভোগ ও অশান্তিতে পতিত হয়। এ ধরনের কাজ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। তাই ইসলাম এ ধরনের কাজকে হারাম ঘোষণা করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যবসায়ী পণ্য আবদ্ধ ও স্তূপ করে সে গুনাহগার। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬০৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পণ্য গুদামজাত করে সে পাপী। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৪২০৭)

পণ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানো হারাম

ইসলামের দৃষ্টিতে খাদ্যদ্রব্য, পণ্যসামগ্রী ও পানীয়তে ভেজাল মেশানো একটি মারাত্মক অপরাধ। কেননা খাদ্য ও পানীয় ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। যারা এসবে বিষ দেয় ও ভেজাল মেশায় তাদের ভাবা উচিত, দুনিয়ায় মানুষকে ফাঁকি দেওয়া গেলেও মহান আল্লাহকে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। আল-কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মানুষকে তাদের জিনিসপত্র কম দিয়ো না। ’ (সুরা আশ-শোয়ারা, আয়াত : ১৮৩)

পণ্যের দোষত্রুটি গোপন রাখা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যবসায়ীর জন্য উচিত নয় কোনো জিনিস বিক্রি করা এবং তার ভেতরের দোষত্রুটির কথা বর্ণনা না করা। ’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৭, ৪৫১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার একজন শস্য ব্যবসায়ীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় তিনি তার শস্যের স্তূপের ভেতর হাত ঢুকিয়ে দিলেন। তখন ভেতরের শস্যগুলোতে তিনি কিছু আর্দ্রতা অনুভব করলেন। আল্লাহর রাসুল জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী? ওই ব্যবসায়ী জবাব দিলেন, বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ভেজা অংশটা ওপরে রাখলে না কেন? তারপর আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘যারা আমাদের ধোঁকা দেয় তারা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০২)

ব্যবসায় রিবা বা সুদ বর্জন

ব্যবসায়-বাণিজ্যের মাধ্যমে মুনাফা অর্জিত হয়। এতে সম্পদ বা মূলধন বৃদ্ধি পায়। এই বৃদ্ধি ইসলামে উৎসাহিত করা হলেও সুদের ভিত্তিতে মূলধনের বৃদ্ধি হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর মানুষের ধন-সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার উদ্দেশে তোমরা যে সুদ নিয়ে থাকো, তা আল্লাহর দৃষ্টিতে অর্থ-সম্পদ বৃদ্ধি করে না। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে জাকাত তোমরা দিয়ে থাকো তা-ই বৃদ্ধি পায় এবং তারাই সমৃদ্ধিশালী। ’ (সুরা রুম, আয়াত : ৩৯)

সুদকে নিষিদ্ধ করে আল্লাহ আরো বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসা-বাণিজ্যকে বৈধ করেছেন, আর সুদকে করেছেন নিষিদ্ধ। ’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত : ২৭৫)

লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক ও ইসলামী ব্যাংকার। সাবেক ডিএমডি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। বর্তমানে কো-অর্ডিনেটর, স্ট্যান্ডার্ড (ইসলামী) ব্যাংক লিমিটেড

ভয়ংকর তামিমের ব্যাটে উড়ে গেল সিলেট

চলতি ৮ম বিপিএলের ঢাকা পর্বে দিনের খেলায় রান হতো না, রাতে দেখা যেত রানের জোয়ার। চট্টগ্রামেও আজ অনেকটা তেমনই দেখা গেল। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে তো দুই সেঞ্চুরিও উপহার দিয়েছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। সিলেট সানরাইজার্সের লিন্ডলে সিমন্স এবং মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন।

তবে দিন শেষে জয় হয়েছে তামিমদের। সিলেট সানরাইজার্সকে তারা হারিয়েছে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। সেটাও ১৮ বল হাতে রেখে।
রান তাড়ায় নেমে বিস্ফোরক সূচনা করেন ঢাকার দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং মোহাম্মদ শেহজাদ। মাত্র ৯ ওভারেই দুজনের জুটি একশ ছাড়িয়ে যায়! মাত্র ২৮ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৪৩ নম্বর ফিফটি তুলে নেওয়ার পর পৌঁছে যান টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো তিন অংকে। তিন অংকে পৌঁছতে তামিম সময় নেন মাত্র ৬১ বল। হাঁকান ১৬ চার এবং ৩টি ছক্কা। এর আগে শাহজাদও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ২৬ নম্বর ফিফটি তুলে নেন ৩৩ বলে। আলাউদ্দিন বাবুকে বাউন্ডারি মেরেই ১৮ বল হাতে রেখে ঢাকাকে ৯ উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তামিম। তবে শেষের দিকে আলাউদ্দিন বাবুর বলে ৩৯ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় ৫৩ রান করা মোহাম্মদ শাহজাদ আউট না হয়ে গেলে ঢাকা জিতে যেত ১০ উইকেটে। আজ তামিম এবং শাহজাদের ওপেনিং জুটি থেকে এসেছে ১৭৩ রান।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে লিন্ডলে সিমন্সের সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ১৭৫ রান তোলে সিলেট সানরাইজার্স। লিন্ডল সিমন্স এবং এনামুল হক বিজয়ের ব্যাটে তারা উড়ন্ত সূচনা পায়। দুজনে গড়েন ৫০ রানের ওপেনিং জুটি। যাতে এনামুলের অবদান ১৬ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ১৮ রান। তাকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখিয়ে স্যালুট ঠুকেন পেসার ইবাদত হোসেন। বিপিএলের আগে জাতীয় লিগে দারুণ খেলা মোহাম্মদ মিঠুন ৮ বলে ৬ রানে কায়েস আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে ব্যর্থতা অব্যাহত রাখেন। কলিন ইনগ্রামকে (০) মাশরাফি বিন মুর্তজা কট অ্যান্ড বোল্ড করে দিলে ৬৫ রানে ৩ উইকেট হারায় সিলেট সানরাইজার্স।

বিধ্বংসী হয়ে ওঠা সিমন্স মাত্র ৩৪ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৬০ নম্বর ফিফটি তুলে নেন। তার সঙ্গী হয়ে ধীরগতিতে ব্যাট করছিলেন রবি বোপারা। এই ইংলিশ অল-রাউন্ডার বেশিদূর যেতে পারেননি। রান-আউট হয়ে ফিরছেন ১৫ বলে ১৩ করে। একাই ম্যাচ টেনে যাচ্ছিলেন সিমন্স। ১৮তম ওভারে এই ক্যারিবিয়ান তারকা ৫৯ বলে ১২ চার এবং ৪ ছক্কায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন। তিন অংকে পৌঁছার পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন সিমন্স। স্বদেশী আন্দ্রে রাসেলকে ২ চার ১ ছক্কা মেরে চতুর্থ বলে ধরা পড়েন তামিম ইকবালের হাতে। শেষ হয় ৬৫ বলে ১৪ চার ৫ ছক্কায় ১১৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। ২০ ওভারে সিলেটের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৭৫ রান।

ছুটি নেওয়ার পরই তামিমের বিস্ফোরক সেঞ্চুরি

২৪ ঘণ্টা আগেই তিনি টি-টোয়েন্টি থেকে ছয় মাসের ছুটি নিয়েছেন। সেইসঙ্গে আর না ফেরার আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন। এরপরই দেখা গেল সেই তামিম ইকবালের রুদ্ররূপ। এই আসরেই নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে ফিফটি উপহার দিয়েছেন তামিম।

তবে স্ট্রাইকরেট নিয়ে সমালোচনা ছিল। আজ তামিম খেললেন তিন অংকের বিস্ফোরক ইনিংস। মাত্র ২৮ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৪৩ নম্বর ফিফটি তুলে নেওয়ার পর পৌঁছে গেছেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো তিন অংকে।
তিন অংকে পৌঁছতে তামিম সময় নেন মাত্র ৬১ বল। হাঁকান ১৬ চার এবং ৩টি ছক্কা। প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৪৫ বলে ৫২ রান করেন তামিম। স্ট্রাইক রেট ১১৫.৫। পরের ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে করেন ৪২ বলে ৫০। স্ট্রাইক রেট ১১৯.০৪। দুটি ম্যাচেই পরাজিত হয় মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা। তৃতীয় ম্যাচে বরিশালের বিপক্ষে প্রথম জয় পায় ঢাকা। সেই ম্যাচে তামিম ‘ডাক’ মারেন। এতে তামিমের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়। সেই তামিম আজ খেলেছেন ১৭৩.৪৩ স্ট্রাইক রেটে।

তামিমের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়েই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা। তবে শেষের দিকে আলাউদ্দিন বাবুর বলে ৩৯ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় ৫৩ রান করা মোহাম্মদ শাহজাদ আউট না হয়ে গেলে ঢাকা জিতে যেত ১০ উইকেটে। ৬৪ বলে ১১১ রানের ইনিংসে চার মেরেছেন ১৭টি এবং ছক্কা মেরেছেন ৪টি। ১৮ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা।

অভিনয়শিল্পী সংঘের নির্বাচনে বিজয়ী সভাপতি নাসিম, সা. সম্পাদক রওনক

টিভি নাটকের অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন ‘অভিনয় শিল্পী সংঘ’-এর নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে গতকাল ১০টায়৷ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আহসান হাবীব নাসিম ও সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন রওনক হাসান।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নাসিম পেয়েছেন ৪৯৬ ভোট৷ রওনক পেয়েছেন ৪২১ ভোট।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার খায়রুল আলম সবুজ ফল ঘোষণা করেন। এবার ভোট দিয়েছেন ৬৪২ শিল্পী।

বিজ্ঞাপন

৫৮টি বাতিল হলে ৫৮৪ ভোট সঠিক বলে গণনা করা হয়।
অভিনয়শিল্পী সংঘের এবারের নির্বাচনে ২১টি পদে লড়াই করছেন ৪৮ জন প্রার্থী। এবার কোনো প্যানেল ছিল না, সব প্রার্থীই ছিলেন স্বতন্ত্র৷ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গতকাল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ভোটাররা৷

অভিনয়শিল্পী সংঘের বিজয়ীরা ও তাঁদের প্রাপ্ত ভোট
সভাপতি- আহসান হাবীব নাসিম (৪৯৬)
সহ-সভাপতি- আনিসুর রহমান মিলন (৩৯৮)
সহ-সভাপতি- সেলিম মাহবুব (৩৯৭)
সহ-সভাপতি- ইকবাল বাবু (৩৭৪)
সাধারণ সম্পাদক- রওনক হাসান (৪২১)
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- নাজনীন হাসান চুমকী (৫০০)
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- জামিল হোসেন (৩৭৮)
সাংগঠনিক সম্পাদক- সাজু খাদেম (৩২৫)
অর্থ সম্পাদক- নূরে আলম নয়ন (৪১২)
দফতর সম্পাদক- শেখ মেরাজুল ইসলাম (৫২০)
অনুষ্ঠান সম্পাদক- রাশেদ মামুনুর রহমান অপু (৪৪৫)
আইন-কল্যাণ সম্পাদক- ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর (৪৬৩)
প্রচার ও প্রকাশন সম্পাদক- প্রাণ রায় (৩৫৮)
তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক- সুজাত শিমুল (৩১৫)।

কার্যনির্বাহী সদস্য :
হাফিজুর রহমান (৩৩৩)
সূচনা শিকদার (৩১৮)
আইনূন পুতুল (২৫৮)
সামস সুমন (২৯৭)
আশরাফুল আলম খান (২৯৩)
তানভীর মাসুদ (২৯২)
মাজনুন মিজান (২৩৫)।

ইলিয়ান কাঞ্চন সভাপতি, জায়েদ খান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে জয় পেয়েছেন অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। শনিবার (২৯ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এই ফল ঘোষণা করা যায়।

নির্বাচনে ইলিয়াস কাঞ্চন পেয়েছেন ১৯১ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মিশা সওদাগর পেয়েছেন ১৪৮ ভোট। এছাড়া জায়েদ খান ১৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিপুণ আক্তার পেয়েছেন ১৬৩ ভোট।

বিজ্ঞাপন

সহ-সভাপতি পদে ১৯১ ভোট পেয়ে মাসুম পারভেজ রুবেল ও ২১৯ ভোট পেয়ে মনোয়ার হোসেন ডিপজল নির্বাচিত। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডি এ তায়েব ১১২ ভোট ও রিয়াজ আহমেদ ১৫৬ ভোট পেয়েছেন।

সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সাইমন সাদিক ২১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সুব্রত পেয়েছেন ১২৭ ভোট। ১৮৪ ভোট পেয়ে শাহানূর সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলেক জান্ডার বো পেয়েছেন ১৫৫ ভোট।

সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মামনুন ইমন ২০৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাকির হোসেন পেয়েছেন ১৩৬ ভোট। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী নির্বাচিত ২০৫ ভোট পেয়ে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিরব হোসেন পেয়েছেন ১৩৪ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে ১৯৩ ভোট পেয়ে আজাদ খান নির্বাচিত এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফরহাদ পেয়েছেন ১৪৬ ভোট।

কার্যকরী পরিষদ সদস্য পদে নির্বাচিত ১১ প্রার্থী হলেন- অঞ্জনা সুলতানা (২২৫), অরুণা বিশ্বাস (১৯২), অমিত হাসান (২২৭), আলীরাজ (২০৩), কেয়া (২১২), চুন্নু (২২০), জেসমিন (২০৮), ফেরদৌস (২৪০), মৌসুমী (২২৫), রোজিনা (১৮৫) ও সুচরিতা (২০১)।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ১২মিনিটে এফডিসিতে শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টা ১০মিনিট পর্যন্ত ভোট চলে। তবে ভোট চলাকালে চিত্রনায়িকা নিপুণ চিত্রনায়ক জায়েদ খানের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ আনেন। যদিও অভিযোগটি অস্বীকার করেন এই অভিনেতা।

এবার সমিতির ভোটার ছিল ৪২৮ জন। কিন্তু ভোট দিয়েছেন ৩৬৫ জন। বৈধ ব্যালট ৩৫৫টি, বাতিল হয়েছে ১০টি।

বাগদাদ বিমানবন্দরে রকেট নিক্ষেপে বিমানের ক্ষতি

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের বিমানবন্দরে শুক্রবার ছয়টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। এতে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিরাপত্তা সূত্র জানায়।

বাগদাদে শুক্রবারের রকেট হামলাটি টানা কয়েকটি আক্রমণের সর্বশেষ ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্র এজন্য ইরান-সম্পর্কিত মিলিশিয়াদের দায়ী করেছে।

বিজ্ঞাপন

বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে বা পার্কিং এলাকায় রকেট আঘাত হেনেছে বলে ইরাকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে। একটি বেসামরিক বিমান রকেটের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ হামলার দায়িত্ব তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি।

দ্বিতীয় একটি নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে হামলাটিতে ছয়টি রকেট ব্যবহৃত হয় যেগুলো বিমানবন্দরের বেসামরিক স্থাপনাগুলোর আশপাশে পড়ে। রকেট একটি বিমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আরেকটি সূত্র বিমানটিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইরাকি এয়ারওয়েজের একটি বোয়িং ৭৬৭ হিসেবে চিহ্নিত করেছে৷

ইরাকি এয়ারওয়েজ তার সোশ্যাল মিডিয়া পেজে হামলার ক্ষতির ছবি পোস্ট করেছে। এতে দেখা যায় একটি বিমানের নাকের কাছে গর্ত হয়েছে। আঘাতের সময় বিমানটি থেমে ছিল জানিয়ে ইরাকি এয়ারওয়েজ বলেছে হামলায় কোনো ফ্লাইটসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সূত্র: ডন

পশ্চিমাদের ‘আতঙ্ক সৃষ্টি না করার’ পরামর্শ ইউক্রেনের নেতার

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার দেশের সীমান্তে রুশ সেনা মোতায়েন নিয়ে ‘আতঙ্ক সৃষ্টি না করার’ জন্য পশ্চিমাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার আসন্ন হামলার সতর্কতা ইউক্রেনের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৃহস্পতিবার বলেন, তিনি মনে করেন রাশিয়া তার প্রতিবেশী ইউক্রেনে আগামী মাসেই হামলা করতে পারে।

ইউক্রেনের সীমান্তে রাশিয়া প্রায় এক লাখ সৈন্য মোতায়েন করেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণের পরিকল্পনা করার কথা অস্বীকার করে আসছে। শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মস্কো যুদ্ধ চায় না।
জেলেনস্কি বলেন, তিনি গত বসন্তে করা একই আকারের রুশ সৈন্য সমাবেশের চেয়ে এখন তেমন বড় হুমকি দেখছেন না।

শুক্রবার কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘এমনকি সম্মানিত নেতাদের কাছ থেকেও সংকেত আসছে… তারা শুধু বলছেন, আগামীকালই যুদ্ধ বেধে যাবে। এটি আতঙ্কের বিষয়। আমাদের রাষ্ট্রের জন্য এর মূল্য কত?’

জেলেনস্কি ইউক্রেন থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ার কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাহারের সমালোচনা করে বলেন, ‘এটি একটি ভুল’।

‘দেশের অভ্যন্তরে পরিস্থিতিকে এভাবে অস্থিতিশীল করাই ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি,’ বলেন জেলেনস্কি। সূত্র: বিবিসি

ছদ্মবেশে ছিলেন নানা পেশায়, ২০ বছর পর আটক ফাঁসির আসামি

চট্টগ্রামের আলোচিত ব্যবসায়ী জানে আলম হত্যা মামলার আসামি সৈয়দ আহম্মেদ প্রায় ২০ বছর ধরে পলাতক। ১৪ বছর আগে তাঁর ফাঁসির আদেশ হয়। তবে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করে কখনো বাবুচি, কখনো দারোয়ানের ছদ্মবেশে থাকছিলেন তিনি। শেষ রক্ষা আর হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ধরা পড়েছেন র‌্যাবের হাতে।
মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামির নাম সৈয়দ আহম্মেদ (৬০)। বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭।

গতকাল শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, জমি নিয়ে বিরোধে ২০০১ সালের নভেম্বর থেকে ২০০২ সালের মার্চের মধ্যে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় মাহমুদুল হক ও তাঁর বড় ভাই ব্যবসায়ী জানে আলমকে খুন করা হয়। দুই মামলার এজাহারেই আসামির তালিকায় সৈয়দ আহম্মেদের নাম ছিল। এর মধ্যে জানে আলম হত্যা মামলায় ২০০৭ সালে সৈয়দ আহম্মেদসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। পরে উচ্চ আদালতে সৈয়দ আহম্মেদসহ ১০ জনের ফাঁসির রায় বহাল থাকে।

এম এ ইউসুফ বলেন, জানে আলমকে হত্যার পর সৈয়দ আহম্মেদ বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে কিছুদিন উপকূলীয় এলাকায় এবং পরে সীতাকুণ্ডে অবস্থান করেন। পরিচয় গোপন রাখতে দুটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করিয়ে নেন। একসময় সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে ছিন্নমূল নেতা মশিউরের ছত্রচ্ছায়ায় বসবাস শুরু করেন। সেখান থেকে বিভিন্ন মাজারে বাবুর্চির কাজ করতেন। পরে আকবর শাহ এলাকায় একটি ভবনে দারোয়ানের কাজ নেন। সেখানকার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাহমুদুল হককে খুনের পর বাঁশখালী উপজেলায় আত্মগোপন করেছিলেন সৈয়দ আহম্মেদ। সেখান থেকে জলদস্যুদের সঙ্গে সমুদ্রে চলে যান। চার মাস পর লোহাগাড়ায় ফিরে এসে মাহমুদুলের বড় ভাই জানে আলমকে হত্যায় অংশ নেন। ছোট ভাইয়ের হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন জানে আলম। তিনিই মামলা পরিচালনা করছিলেন। তাই আসামিদের ধারণা ছিল, জানে আলমকে খুন করতে পারলে মামলা আর এগোবে না।

গ্রেপ্তার সৈয়দ আহম্মেদের বাড়ি লোহাগাড়ার আমিরাবাদ গ্রামে। র‌্যাব জানায়, ২০০২ সালের ৩০ মার্চ আদালতে সাক্ষী দেওয়ার আগে আনুমানিক সকাল ৯টায় স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারী ও সৈয়দ বাহিনী জানে আলমকে (৪৮) এক বছরের শিশু সন্তানের সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য শেষে গুলি করা হয়। ওই দিন জানে আলমের বড় ছেলে মো. তজবিরুল আলম বাদী হয়ে সৈয়দ আহম্মেদকে অন্যতম প্রধান আসামি করে ২১ জনের নামে লোহাগাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

এর আগে ২০০১ সালের ৯ নভেম্বর নিহতের ছোট ভাই মাহমুদুল হককেও ওই বাহিনী একই কায়দায় হত্যা করে। ওই ঘটনায় লোহাগাড়া থানায় ১৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়। জানে আলম হত্যা মামলায় আদালত ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১২ জনকে ফাঁসি ও আটজনকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়।

ত্রিপুরা সীমান্তে এক বছরে ৯৭ বাংলাদেশি আটক

করোনা মহামারির সময়ে ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পারাপার অব্যাহত ছিল। ২০২১ সালে ত্রিপুরা সীমান্তে দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পারাপারের সময় ২২১ জন সেখানকার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ১১৮ জন, বাংলাদেশি নাগরিক ৯৭ জন ও অন্যান্য দেশের ৬ জন নাগরিক আটক হয়।

ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএসএফের ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের আইজি সুশান্ত কুমার নাথ এসব তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দেশের কথা পত্রিকার খবর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলার শালবাগানে গত ২৫ জানুয়ারি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় বলে পত্রিকার খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
পত্রিকাটির খবরে আরো বলা হয়, বিএসএফ ত্রিপুরার ৮৫৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সীমান্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে আছে। সীমান্ত অপরাধ মোকাবেলায় করোনার মধ্যেও কাজ করে বিএসএফ। এ সময় অবৈধভাবে পারাপার হওয়া লোকজনের পাশাপাশি বিভিন্ন পাচারসামগ্রীও উদ্ধার করা হয়, যার মূল্য ৬৫ কোটি ৬৪ লাখ রুপি। এর মধ্যে প্রায় তিন কোটি ৮১ লাখ ৩৪ হাজার রুপির ইয়াবা রয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১৩২০৬ কেজি গাঁজা, যার বাজার মূল্য নয় কোটি ৩৪ লাখ ৬৩ হাজার রুপি। সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে ৪৫ লাখ সাত হাজার ৩৯টি গাঁজার গাছ। এসবের মূল্য প্রায় ২৪ কোটি রুপি। বিএসএফের হাতে ধরা পড়েছে ৪৮২০০ বোতল ফেন্সিডিল ও ইস্কফ। উদ্ধার করা হয় প্রায় ১৫ লাখ রুপির মদ। বাদ যায়নি গবাদি পশুও। বাংলাদেশে পাচারের সময় সীমান্তের ওপারে বিএসএফের হাতে উদ্ধার হয়েছে দুই হাজার ৪২২টি গবাদি পশু। এছাড়া প্রায় ৪২ লাখ রুপির ওষুধ, শাড়িসহ বিভিন্ন পোশাক ৭৫ লাখ রুপি ও প্রায় ১৮ কোটি রুপির অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

পত্রিকার খবর অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলনে বিএসএফ আইজি সুশান্ত কুমার নাথ জানান, সন্ত্রাসবাদীদের আন্তঃসীমান্ত চলাচল রোধ করতে সীমান্তে বিএসএফের দৃঢ় নজরদারি বজায় ছিল। ২০২১ সালে এন এল এফ টি (বি এম) নামে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের ৬ জন সক্রিয় জঙ্গি বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

ওমিক্রনের যে ২টি উপসর্গ সবচেয়ে বেশি দেখা দিচ্ছে

প্রতিদিনই বাড়ছে ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা। এর উপসর্গ মৃদু হলেও বিশেষজ্ঞরা ওমিক্রনকে হালকাভাবে না দেখতে বলেছেন। যারা করোনা পজিটিভ হচ্ছে তাদের বেশির ভাগেরই ঠাণ্ডা লাগছে। এ জন্য আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং আইসোলেটেড থাকার প্রতি জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন

ডেল্টার সাথে তুলনা করলে ওমিক্রন হাসপাতালে যাওয়ার সংখ্যা এবং মৃতের সংখ্যা দুই কম। তবু ডেল্টার তুলনায় চার গুণ বেশি সংক্রামক ওমিক্রন। ঠাণ্ডা ওমিক্রনের প্রধান লক্ষণ হলেও অনেকের কাছে আরো একটি লক্ষণের কথা শোনা যাচ্ছে।

ওমিক্রন সংক্রমণ কেমন?

শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের মতে, ওমিক্রন ভেরিয়েন্টের উচ্চ সংক্রামকতার হার রয়েছে । প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন ভেরিয়েন্টটি মৃদু। হালকা জ্বর, ঘামাচি, শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা, রাতের ঘাম, বমি এবং ক্ষুধামান্দ্যর মতো লক্ষণগুলো শরীরে ওমিক্রনের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারপারসন ডা. অ্যাঞ্জেলিক কোটজি, যিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রন নির্ণয় করেছিলেন তিনি বলেছেন, রোগীদের গন্ধ এবং স্বাদ চলে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। স্বাদ, এ ছাড়া সংক্রমিত ওমিক্রন রোগীদের মধ্যে নাক বন্ধ বা খুব বেশি তাপমাত্রার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটা ওমিক্রন এবং ডেল্টার মধ্যে একটি দুর্দান্ত পার্থক্য হতে পারে।

এই দুটি উপসর্গ থেকে সাবধান

দ্য সানের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, দুটি প্রধান ওমিক্রনের লক্ষণ হলো একটি সর্দি এবং মাথা ব্যথা।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের এপিডেমিওলজি এবং হেলথ ইনফরমেটিকসের অধ্যাপক আইরিন পিটারসন বলেন, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং মাথা ব্যথা অন্য অনেক সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে, তবে সেগুলো কভিড বা ওমিক্রনের লক্ষণও হতে পারে।

চিকিৎসকের মতে, ওমিক্রনের প্রায় ২০টি উপসর্গ রিপোর্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে সর্দি এবং মাথা ব্যথা সবচেয়ে সাধারণ। তিনি এই লক্ষণগুলোতে ভুগছে এমন রোগীদের নিয়মিত সর্দি হিসেবে গণ্য না করার পরিবর্তে অবিলম্বে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্যান্য লক্ষণ

গবেষণায় ওমিক্রনের অন্য পাঁচটি বিশিষ্ট উপসর্গ, যেমন নাক দিয়ে পানি পড়া, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি, হাঁচি এবং গলা ব্যথার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া রাতে ঘাম, ক্ষুধা হ্রাস এবং বমি হওয়া এমন কিছু লক্ষণও লক্ষ করা গেছে রোগীদের মধ্যে।

ওমিক্রনের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলেই অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করতে হবে। পজিটিভ হলে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হবে।