শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 363

৩ দাবি নিয়ে গণভবনের সামনে সোহেল তাজ

তিন দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন অভিমুখে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের সন্তান সোহেল তাজ।

আওয়ামী লীগের সাবেক এ সংসদ সদস্য গণভবনের সামনে প্ল্যাকার্ডসহ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। এ কর্মসূচিতে সোহেল তাজের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেন বিভিন্ন বয়সের কয়েকশ নারী ও পুরুষ।

রোববার পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকাল ৪টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ গেটের সামনে (মানিক মিয়া এভিনিউ প্রান্ত) অবস্থান নেন সোহেল তাজ।

এ সময় ব্যানার-ফেস্টুনসহ তার সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিন দফা দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে হেঁটে গণভবন অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন সোহেল তাজ। তার সঙ্গে যোগ দেওয়া নারী-পুরুষ তিন দফা দাবি উল্লে­খ করে স্লোগান দেন।

১০ এপ্রিলকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’, ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন এবং জাতীয় চার নেতাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সব বেসামরিক ও সামরিক সংগঠক, শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম, অবদান ও জীবনীসহ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে সর্বস্তরের পাঠ্যপুস্তকের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তি এবং তা চর্চার দাবি জানান সোহেল তাজ।

দুই পৃষ্ঠার স্মারকলিপিতে সোহেল তাজ ১০ এপ্রিলকে প্রজাতন্ত্র দিবস ঘোষণার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেন। ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবসকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করে তা রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন কেন প্রয়োজন তা-ও তুলে ধরেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের অজ্ঞতা ও অনাগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরেন তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। এজন্য এ ইতিহাস সবস্তরের পাঠ্যপুস্তকের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়মিত চর্চার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ূয়া। স্মারকলিপির শেষে তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ লিখে নিজেকে ‘প্রহরী ৭১’ দাবি করেন।

বেপরোয়া বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসীরা

পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থার (ইন্টারপোল) রেড নোটিশপ্রাপ্ত পলাতক সন্ত্রাসীরা ফের বেপরোয়া। বিদেশে বসেই তারা নিয়ন্ত্রণ করছেন দেশের অপরাধ জগত। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাদের নামে চলছে চাঁদাবাজি অস্ত্রবাজি এবং মাদক ব্যবসা। ঈদ সামনে রেখে তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বারবার নোটিশ করেও আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না তাদের। তাই দেশে অবস্থান করা সহযোগীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কৌশল নিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানা যায়, রেড নোটিশপ্রাপ্ত নবী হোসেন এবং আর্মি আলমগীর এক সময় মোহাম্মদপুর, আদাবর, তেজগাঁও, শেরেবাংলানগর এবং ধানমন্ডি এলাকার ত্রাস ছিলেন। নবী এখন থাইল্যান্ড এবং আলমগীর ভারতে অবস্থান করছেন। তাদের হয়ে দেশে অপকর্ম করছেন সাইফুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, রুবেল, তরুণ, নয়ন, জহিরুল ইসলাম ওরফে জহির এবং হোসেন হাসানসহ ২০-২৫ জনের গ্রুপ। জহির, সাইফুল এবং রহমান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জালে ধরা পড়েছেন। টার্গেট করা ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে এরা ফোনে কথা বলিয়ে দেন নবী এবং আলমগীরের সঙ্গে। পরে ফোনে তারা ওই ব্যক্তির কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা সংগ্রহ করেন জহির এবং রহমান। কখনো ব্যবহার করা হয় সাইফুলের বিকাশ নম্বর। পরে চাঁদার একটি অংশ পাঠিয়ে দেওয়া হয় বিদেশে। সম্প্রতি ডিপিসির প্রকৌশলী রাজ্জাক এবং চন্দ্রিমা উদ্যানের এক নিরাপত্তাকর্মীর কাছে চাঁদা দাবি করেন এই চক্রের সদস্যরা। চাঁদা না দিলে বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ডাকাতি করেন। এসব করতে গিয়ে কেউ গ্রেফতার হলে জামিনের ব্যবস্থা করেন নবী এবং আলমগীর।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক সূত্র বলছে, ২০০৭ সালে পুলিশের অভিযানের মুখে ২০টির বেশি মামলার আসামি নবী ও আলমগীর পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, দুবাই পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান বাহিনীর দেশীয় অস্ত্রধারীরা রাজধানীর মতিঝিল এবং রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই তৎপর। জিসানের নামেই মহল্লায় মহল্লায় চলছে ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসা। সম্প্রতি মতিঝিলে বহুল আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা টিপু হত্যাকাণ্ডে আলোচনায় এসেছে জিসান বাহিনীর নাম। এই মুহূর্তে রামপুরা এলাকায় জিসান গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন মিজান। একসময় তিনি জিসানের বাসার কেয়ারটেকার ছিলেন। তিনি কারও কাছে মামা মিজান, আবার কারও কাছে নেট মিজান হিসাবে পরিচিত। সুদের ব্যবসার আড়ালে প্রকাশ্যে চলছে সব অপকর্ম। সম্প্রতি তিনি জামিনে।

জিসানের ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন রাজু। রামপুরার আইল্যান ফ্যাশন, কায়দার ফ্যাশন, মক্কা ফ্যাশন, শাহজাদা ফ্যাশন, সাইট জোন ফ্যাশন এবং আরমোর ফ্যাশনসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও টেম্পো স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছেন জিসান বাহিনীর ক্যাডার আলামিন ওরফে পিচ্ছি আলামিন, মেহেদী হাসান ওরফে ভাতিজা হাসান এবং শামীমসহ বেশ কয়েকজন। আলামিনের নামে খিলগাঁও, রামপুরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় আছে ১০টি মামলা। মেহেদী হাসানের নামে ৫-৭টি মামলা আছে।

সম্প্রতি মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোহাম্মদপুর জোনাল টিমের এসআই কমল বড়াল। এজাহারে তিনি উল্লেখ করে, ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার অনিচ উদ্দিনের নেতৃত্বে গত ৮ মার্চ মোহাম্মদপুর থানাধীন আসাদ গেট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসডিপো সংলগ্ন যাত্রী ছাউনির সামনে গিয়ে ভারতীয় পিস্তলসহ নবী-আলমগীরের সহযোগী জহিরকে দৌড়ে গ্রেফতার করি। জহিরের বিরুদ্ধে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলানগর এবং মোহাম্মদপুর থানায় বেশ কয়েকটি মামলা আছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর থানায় করা পেনাল কোডের তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। ডিবির এসআই সাইদুল ইসলাম বলেন, গত ২ এপ্রিল জানতে পারি, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মাদক ব্যবসায়ীরা অবস্থান করছে। পরে সেখানে গিয়ে সাইফুল ইসলাম এবং আব্দুর রহমানকে আটক করে দেহ তল্লাশি করে ৬০ গ্রাম মাদক পাওয়া য়ায়। দুজনই নবী এবং আলমগীরের হয়ে কাজ করে। তাদের কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই। তাদের নামে মাদারীপুরের শিবচর এবং রাজধানীর আদাবরসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা আছে।

নবী-আলমগীর বাহিনীর সদস্যরা গত বছর অক্টোবরে শ্যামলীর একটি মোটরসাইকেলের শোরুমে চাঁদা না পেয়ে দুজনকে কুপিয়ে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। তখন ছয়জনকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। তিন মাস পর ছাড়া পেয়ে আবার চাঁদাবাজি শুরু করেন তারা।

বাড্ডা এলাকায় পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী বাহিনীর ক্যাডাররাও বেশ সক্রিয়। মধ্য বাড্ডার মেসার্স মহিমা এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মহিউদ্দিন মহির স্ত্রী উম্মে হাবিবা নয়ন যুগান্তরকে বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মধ্য বাড্ডায় বাসাবাড়ি থেকে ময়লা অপসারণের কাজ করছেন। এ ব্যবসার জন্য আমাদের বেশকিছু কর্মচারী এবং ১০টি গাড়ি আছে। ৭০-৮০টি পরিবার এর ওপর নির্ভরশীল। আমেরিকায় পলাতক সন্ত্রাসী মেহেদীর লোকদের মাসে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করছিলাম। কারণ, ‘গুণ্ডা ভাতা’ ছাড়া আমাদের ব্যবসা করার সুযোগ ছিল না। প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৫০ হাজার করে টাকা দিচ্ছিলাম। মেহেদীর ক্যাডার হিসাবে রাজ এবং সায়েদ আমার কাছ থেকে এ টাকা নিচ্ছিল। এখন তারা আমার পুরো ব্যবসাই নিয়ে নিতে চাচ্ছেন। আমার ম্যানেজার ও কর্র্মচারীদের ভয় দেখিয়ে ইতোমধ্যে গাড়িগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছেন। গত দুই মাস ধরে সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এ ছাড়া বাড্ডার ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসাসহ সবকিছুই তাদের নিয়ন্ত্রণে।

ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার অনিচ উদ্দিন জানান, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার পেছনে রাজনৈতিক একটি কানেকশন রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আমরা তা বের করার চেষ্টা করছি। এ জন্যই আগে ওই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দেশীয় সহযোগীদের গ্রেফতারের উদ্যোগ নিয়েছি। বিস্তারিত জানার পর সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে অভিযান শুরু করব।

নেশার ইনজেকশনসহ ৩৯ জনকে গ্রেফতার

ইয়াবা-হেরোইন এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ অন্তত ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও কেচাবেচায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

রোববার ভোর ৬টা থেকে সোমবার একই সময় পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ২৭৪৬ পিস ইয়াবা বড়ি, ১১ গ্রাম ২১৫ পুরিয়া হেরোইন, ৯ কেজি ৭৯০ গ্রাম গাঁজা, ১৬ বোতল ফেন্সিডিল ও ১২টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৯টি মামলা করা হয়েছে।

‘আন্তর্জাতিক মানবকল্যাণ প্রতিবন্ধী ও পথশিশুদের জন্য’ সংস্থার উদ্যোগে পথচারী ও পথশিশুদের মাঝে ইফতার উপহার প্রদান

আন্তর্জাতিক মানবকল্যাণ প্রতিবন্ধী ও পথশিশুদের জন্য সংস্থার উদ্যোগে পথচারী ও পথশিশুদের মাঝে আজ শনিবার, ৭ ই রমজান, ৯ ই এপ্রিল ২০২২, শনির আখরা দনিয়া কলেজের সম্মুখে ইফতার উপহার প্রদান করা হয়। অতিথি
হিসেবে ছিলেন মোঃ জামাল উদ্দিন মীর, অফিসার ইনচার্জ, মুগদা থানা, ডিএমপি, ঢাকা, আয়ান মাহমুদ দিপু ও জাকির হোসেন, ইন্সপেক্টর, মোঃ মনিরুজ্জামান এসআই, যাত্রাবাড়ী, ডিএমপি, ঢাকা। সংগঠনের চেয়ারম্যান দৈনিক মুক্ত খবরের কোর্ট রিপোর্টার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোঃ ওয়াহিদুন নবী বিপ্লব, সেক্রেটারি জেনারেল আবুল হাসান, ফিনান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ সুজন সহ মোঃআইনুল, ডাক্তার লুৎফর, প্রকৌশলী মোঃ শরীফ,
ডাঃ কেয়া মনি, মোহম্মদ রুবেল, নাদিম, নাদিম, রায়হান, মেহেদি, শরীফ, আরমান,জাফরি, সিয়াম, তারেক,মাশরাফি, আইনজীবী শুভ্র সিনহা রনি সহ সংগঠনের শতাদিক স্বেচ্ছাসেবী।

আগরতলায় যাত্রা শুরু হলো অন্যপ্রকাশের

প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই অন্যপ্রকাশ চেষ্টা করেছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে।

সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই গত ৭ এপ্রিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় শুরু হলো অন্যপ্রকাশের বই বিপণনকেন্দ্র। এটিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি প্রকাশনীর আগরতলায় বই বিপণনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা।

আগরতলার প্রকাশনা ও বই বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ‘নীহারিকা’র সঙ্গে যৌথ এই যাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন ত্রিপুরা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভাশিস তলাপাত্র ও আগরতলাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মাদ।

সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় তরুণ লেখক সাদাত হোসাইন, অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম ও নীহারিকার কর্ণধার তীর্থংকর দাস।

স্থানীয় প্রেসক্লাবে ‘আগরতলায় অন্যপ্রকাশের প্রবর্তনা’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শুভাশিস তলাপাত্র বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। বাংলাদেশের সঙ্গে আগরতলার মানুষের যে সম্পর্ক, তা কেবল প্রতিবেশীরই নয়; বরং অনেক বেশি আত্মার।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলা ভাষা ও দুদেশের মানুষের সম্পর্ক এর সঙ্গে যুক্ত। ফলে বিলম্বে হলেও অন্যপ্রকাশের আগরতলায় যে যাত্রা, তা নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মাদও একই ভাষায় এই নতুন যাত্রাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে অকৃত্রিম বন্ধু আগরতলা ও এখানকার মানুষ । ফলে অন্যপ্রকাশের হাত ধরে যে যাত্রার সূচনা হলো তা যেন আরও বেগবান হয়। কেবল বাংলাদেশের বইই আগরতলায় নয়, এই যাত্রায় যেন আগরতলার লেখক, শিল্প, সাহিত্য সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটে বাংলাদেশের মানুষের।

কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন প্রথমবারের মতো আগরতলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে সেখানকার পাঠকদের প্রতি তার মুগ্ধতা ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি অন্যপ্রকাশের এই যাত্রাকে এক অন্তহীন যাত্রার সূচনা বলে উল্লেখ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে আগরতলার মানুষের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন অন্যপ্রকাশ প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই যাত্রা বিলম্বে হলেও অনিবার্যই ছিল। ভাবনা ও অনুভবে এই দুই বাংলার মানুষ এতটাই একাত্ম যে তাদের আলাদা রাখা কঠিন। আর এই যাত্রা সেই অনুভবকে আরও অন্তরঙ্গ করে তুলবে বলেই আমার বিশ্বাস।

উল্লেখ্য, আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই প্রবর্তনা উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট মানুষেরা। সেখানকার বইপ্রেমীরা এ উদ্যোগে আনন্দ প্রকাশ করেন। তারা ত্রিপুরা তথা আগরতলার মাটিতে অন্য প্রকাশকে স্বাগত জানান।

এবার ১০ লাখ মুসল্লিকে হজের অনুমতি সৌদির

করোনা মহামারিতে গেল দুই বছর সীমিত পরিসরে হজ পালন হলেও এবার দুয়ার খুলছে সৌদি আরব। এ বছর দেশ-বিদেশের ১০ লাখ মুসল্লি হজে যেতে পারবেন। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি শনিবার ওই বিবৃতি প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, হজ আদায়কারী মুসল্লিদের বয়স অবশ্যই ৬৫ বছরের কম হতে হবে। সেইসাথে থাকতে হবে করোনা টিকার সনদ। বিদেশিদের জন্য দেশটিতে রওয়ানা দেওয়ার ৭২ ঘণ্টা আগে পিসিআর টেস্টে করোনা নেগেটিভের সনদ থাকতে হবে। হজ আদায়কালে সব মুসল্লিকে বিধিনিষেধ মানতে বলা হয়।

সাধারণত প্রতিবছর ২৫ লাখ মুসলমানের অংশগ্রহণে হজ পালিত হয় সৌদি আরবে। ২০১৯ সালে বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারি হানা দেওয়ার পর সৌদি আরব বিদেশ থেকে হজে যেতে কাউকে অনুমতি দেয়নি। ফলে দুই বছর শুধু সৌদি আরবের ৬০ হাজার বাসিন্দা নিয়ে সীমিত পরিসরে পালিত হয় বিশ্বের মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক এই সম্মেলন। করোনার প্রকোপ কমে আসায় এবার বিদেশিরাও হজে যেতে পারবেন বলে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

সৌদি মন্ত্রণালয় বলছে, সর্বোচ্চসংখ্যক হজযাত্রীকে হজ পালন ও মসজিদে নববী পরিদর্শনের সুযোগ দিতে আগ্রহী সৌদি আরব। একইসঙ্গে তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সুরক্ষা দেওয়াও সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এদিকে সৌদি ঘোষণার ফলে বাংলাদেশিদের হজে যাওয়ার পথও সুগম হলো। তবে বাংলাদেশ থেকে কতসংখ্যক মুসল্লি যেতে পারবেন তা নির্ধারণ হবে চুক্তির মাধ্যমে। ঈদের আগে বা পরে সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি করবে সরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান শনিবার যুগান্তরকে বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে হজের দরজা খুলছে। এখন সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আমাদের আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। সে অনুযায়ী চুক্তি করব। তিনি বলেন, আমাদের সব রকম প্রস্তুতি আছে। কত সংখ্যক হজ যাত্রী যেতে পারবেন সেটা সৌদি আরব ঠিক করে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঈদের আগে বা পরে যখনই সৌদি আরব ডাকবে আমরা প্রস্তুত আছি।

তাকওয়া কতটুকু অর্জন করতে পারলাম

রমজানুল মোবারকের আজ অষ্টম দিবস। আত্মবিশ্লেষণ করি, আমি কতটা মুত্তাকি হতে পারলাম! তাকওয়ার মাধ্যমে মানুষ সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী হয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে। সুরা হুজরাতের ১৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন, হে মানুষ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন নর ও একজন নারী থেকে এবং তোমাদের জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেছি এজন্য যে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হবে। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে মুত্তাকি ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত।

এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয়, আল্লাহর কাছে বান্দার মর্যাদার মাপকাঠি তার তাকওয়া। যার চরিত্রে তাকওয়ার মাত্রা যেমন, আল্লাহতায়ালার কাছে তার মর্যাদা তেমন। কুরআন মজিদের শুরুতে বলা হয়েছে, এই কিতাবে কোনো সন্দেহ নেই। এ কিতাব পথনির্দেশক মুত্তাকিদের জন্য, যারা অদৃশ্যে ইমান রাখে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যা দিয়েছি তা থেকে আল্লাহর পথে ব্যয় করে। আর যারা ইমান রাখে আপনার প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে এবং আপনার আগে যা নাজিল করা হয়েছে তার প্রতি। আর তারা আখিরাতে বিশ্বাস রাখে।

এখানে তাকওয়ার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি মুত্তাকিদের মৌলিক গুণাবলি উল্লেখ করা হয়েছে। তাকওয়া শব্দের অর্থ সাবধানতা ও সংযম। কর্তব্য পালন ও বর্জনীয় পরিহারের সমষ্টিই তাকওয়া। সাধারণভাবে তাকওয়া শব্দের অর্থ করা হয় আল্লাহর ভয়। মহান রাব্বুল আলামিনের সামনে একদিন সবাইকে হাজির হতে হবে। দুনিয়াবি জীবনের প্রতিটি কথা, কাজ ও আচরণের হিসাব দিতে হবে। এ বিশ্বাস ও ভয়ই মানুষকে সাবধানি ও সংযমী করে তোলে।

তাকওয়ার মর্ম বর্ণনায় হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর একটি উক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। হজরত ওমর ফারুক (রা.) তাকে তাকওয়ার মর্ম বর্ণনার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, আমিরুল মুমিনিন, আপনি কি কখনো কাঁটা ঝোপের মধ্য দিয়ে পথ চলেছেন? সেখানে যেমন আপনাকে সব সময় সাবধানে নিজের শরীর ও কাপড় রক্ষা করে চলতে হয়। তাকওয়া ঠিক তেমনই সাবধানি আচরণ ও জীবনযাপনের নাম। বস্তুত আল্লাহর কাছে বান্দার জবাবদিহির অনুভূতিই তাকওয়া।

ইসলামি শরিয়তে বান্দার করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তেমনই এসবের গুরুত্ব ও মাত্রার পর্যায়ক্রম নির্ণীত আছে। করণীয়গুলোকে আবশ্যকতার মাত্রার পর্যায়ভেদ অনুযায়ী ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত ও মুস্তাহাব পরিভাষায় প্রকাশ করা হয়। আর বর্জনীয়গুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় হারাম, মাকরুহ তাহরিমি, মাকরুহ তানজিহি ইত্যাদি পরিভাষা। কর্তব্য পালন ও বর্জনীয় পরিহারের মাত্রা অনুযায়ী তাকওয়ার স্তর বিন্যস্ত করা হয়।

মুসলিম মনীষীরা তাকওয়ার তিনটি স্তর বর্ণনা করেন প্রাথমিক, মধ্যম ও উচ্চ। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য যা অবশ্যপালনীয় অর্থাৎ ফরজ ও ওয়াজিব, তা পালন করা এবং যা অবশ্য বর্জনীয় অর্থাৎ হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি, তা বর্জন করা তাকওয়ার প্রাথমিক পর্যায়। তাকওয়ার ন্যূনতম পর্যায় হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি বর্জন এবং ফরজ ও ওয়াজিব আদায় করা। কারও মধ্যে কমপক্ষে এতটুকু থাকলেও তিনি মুত্তাকি। বলা যায়, একজন মুমিনের জন্য তাকওয়ার এ স্তরটি আবশ্যিক। নিম্নতম এ তাকওয়া নাজাতের জন্যও শর্ত। ফরজ ও ওয়াজিবের পাশাপাশি সুন্নতগুলো পালন এবং হারাম ও মাকরুহ তাহরিমির পাশাপাশি মাকরুহ তানজিহ বর্জন তাকওয়ার মধ্যম স্তর। আর মুস্তাহাবগুলো পালনে এবং সন্দেহজনক কাজগুলো বর্জনে সচেষ্ট থাকা তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তর।

মহানবি (সা.) এরশাদ করেন, কোনো ব্যক্তি দূষণীয় কাজে জড়িত হওয়ার আশঙ্কায় নির্দোষ কাজগুলো বর্জন না করা পর্যন্ত তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হতে পারে না। অতএব, শুধু নিষিদ্ধ উক্তি, আচরণ ও উপভোগ থেকে নিবৃত্ত থাকা নয়, সন্দেহজনক বিষয়গুলোও এড়িয়ে চলা একজন মুমিন বান্দার কর্তব্য। এভাবেই উন্নত হতে পারে তাকওয়ার স্তর। সুতরাং পবিত্র মাহে রমজানে সিয়াম আদায়ের পাশাপাশি তাকওয়ার স্তর উন্নত করতে সচেষ্ট থাকা আমাদের প্রয়োজন।

‘প্রতিবন্ধীদের প্রতিভা কাজে লাগাতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’

বিশ্বের ৭৫ মিলিয়নের বেশি প্রতিবন্ধী মানুষ যাতে তাদের প্রতিভাকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগাতে পারে এবং সমাজে যাতে পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে তা নিশ্চিতে আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পুর্নব্যক্ত করছি— স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২২ উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল ইভেন্টে উদ্বোধনী বক্তব্যে এ কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ ও কাতার স্থায়ী মিশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অটিজম স্পিক্সস যৌথভাবে ইভেন্টটির আয়োজন করে। প্রদত্ত বক্তৃতায় ড. মোমেন কোভিড-১৯ অতিমারির সময়ে অটিজম আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবারবর্গের জন্য বিশেষ সহায়তা পদক্ষেপ গ্রহণ ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারসহ বাংলাদেশের উত্তম অনুশীলনগুলো তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যমান সামাজিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শক্তিশালী তথ্য-প্রযুক্তি অবকাঠামো এবং বিস্তৃত কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা অনেক পরিবারকে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করেছে।

বাংলাদেশে অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশে অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অটিজমের শিকার ব্যক্তিবর্গ ও তাদের পরিবার যে সকল চ্যালেঞ্জ ও সামাজিক গঞ্জনা মোকাবিলা করছে তা প্রশমিত ও দূর করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, ও সংশ্লিষ্ট অংশীজন একসঙ্গে কাজ করছে।

ড. মোমেন আরও বলেন, জাতীয় প্রচেষ্টার পাশাপাশি জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০০৭ সালে শুরু হওয়া ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’সহ জাতিসংঘের অটিজম সংক্রান্ত পদক্ষেপসমূহে বাংলাদেশ তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশ ২০১৩ সালে ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার, নিউরোডেভোলপমেন্ট ডিসঅর্ডারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিবন্ধীতার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের আর্থ-সামাজিক চাহিদার সমাধান করা’ শীর্ষক সাধারণ-পরিষদ রেজুলেশন-৬৭/৮২ জাতিসংঘে পেশ করে, যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, অটিস্টিক ব্যক্তিদের সর্বোত্তম জীবনযাপনের সুযোগ করে দিতে সমাজ আরও উদারভাবে এগিয়ে আসবে যেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী অংশে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন- কাতারের সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবার মন্ত্রী মিজ্ মরিয়ম বিনতে আলী বিন নাসার আল-মিসনাদ, জাতিসংঘের গ্লোবাল কমিউনিকেশন বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মিজ্ মেলিস্সা ফ্লেমিং, জাতিসংঘের ডেসা এর পরিচালক মিজ্ ড্যানিয়েলা ব্যাস এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিউইয়র্ক অফিসের পরিচালক ওয়েরনার ওবারমিয়ের। প্যানেল আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অটিজম বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। প্যানেল আলোচনা ছাড়াও অটিজমের শিকার ব্যক্তিবর্গের পিতামাতা ও পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব রাখা হয় ইভেন্টটিতে।

এছাড়া অটিজমের শিকার ব্যক্তিসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন পেশার মানুষ ভার্চুয়ালি এ ইভেন্টটিতে অংশগ্রহণ করেন।

লিভারে অতিরিক্ত চর্বি কেন জমে, কী করবেন?

ফ্যাটি লিভার বর্তমান সময়ের একটি জটিল রোগ। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলে সেটিকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। যাদের ওজন বেশি, ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস আছে, তাদের এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. ফারুক আহমেদ।

মানবদেহে যকৃত বা লিভার একটি অত্যাবশ্যকীয় গ্রন্থি যা পেটের ডানপাশের উপরিভাগে বুকের খাঁচার নিচে অবস্থান করে। লিভার আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাজ সম্পন্ন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রক্তের বিষাক্ত পদার্থগুলো পরিশোধন করা, পিত্তরস তৈরি ও নিঃসরণ করা যা ফ্যাট বা চর্বিজাতীয় খাবার হজম ও খাদ্যনালি থেকে শোষণপ্রক্রিয়ায় সাহায্য করে, আমিষ তৈরি করা, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখে, রক্তের ঘনত্ব ও জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া অক্ষুণ্ন রাখে ইত্যাদি।

লিভারের কোষগুলোতে শতকরা পাঁচ ভাগের মতো চর্বি থাকে, যা স্বাভাবিক, কোনো কারণে অতিরিক্ত চর্বি জমা হলে তাকে ফ্যাটি লিভার রোগ বলা হয়। ফ্যাটি লিভার দুই ধরনের হয়, অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এ এফ এল ডি) যা দীর্ঘদিন ধরে অধিক পরিমাণে মদ্যপানের ফলে ঘটে ও সঠিক পদক্ষেপ (বিশেষত মদ্যপান থেকে বিরত থাকা) না নেওয়া হলে এটি থেকে দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগ অর্থাৎ লিভার সিরোসিস হতে পারে।

অন্যটি হলো নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি)। যার সঙ্গে সাধারণত ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বির আধিক্য ইত্যাদি রোগের সঙ্গে সম্পর্ক থাকে। এই রোগগুলোকে একত্রে মেটাবলিক সিনড্রোম বলা হয়। মেটাবলিক সিনড্রোম না থাকলেও কারও শুধুমাত্র স্থূলতাই বাড়িয়ে দিতে পারে ফ্যাটি লিভারের প্রবণতা। স্থূলতা পরিমাপ করার জন্য বিএমআই বা বডি মাস ইনডেক্স ব্যবহার করা হয়।

একজন ব্যক্তির ওজন কেজিতে এবং উচ্চতাকে মিটার-এ নিয়ে, উচ্চতার বর্গ দ্বারা ওজনকে ভাগ করলে বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই পাওয়া যায়। বিএমআই ১৮.৫ এ নিচে হলে তাকে কম ওজন বলা হয়, ১৮.৫-২৪.৯ হলে তা স্বাভাবিক ওজন, ২৫-২৯.৯ হলে তা অতিরিক্ত ওজন এবং বিএমআই ৩০-এর বেশি হলে তা অতিস্থূলতা বা অতিরিক্ত মোটা বলা হয়। প্রযুক্তির প্রতি অতি নির্ভরশীলতা, শারীরিক পরিশ্রম এর ঘাটতি ও প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ ইত্যাদিকে স্থূলতার কারণ হিসাবেই বিবেচনা করা হয়।

স্থূলতা ও এনএএফএলডি বিগত দশকগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও স্থূলকায় মানুষের দেহেই ফ্যাটি লিভারের প্রবণতা বেশি দেখা দেয়, অনেক সময় রোগা ব্যক্তিরাও ফ্যাটি লিভার-এ ভুগে থাকেন। বিশেষ ধরনের কিছু ওষুধ, অ্যালকোহল, হরমোনজনিত কারণ ও উত্তরাধিকার সূত্রে রোগা ব্যক্তিদের ফ্যাটি লিভার রোগ হতে পারে।

অ্যালকোহল সেবনকারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। তবে গত কয়েক দশকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রধান কারণ সঠিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত না হওয়া ও অস্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন করা।

নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বা এনএএফএলডি কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো সাধারণ ফ্যাটি লিভার যাতে লিভারে বাড়তি চর্বি থাকলেও পরীক্ষা নিরীক্ষায় লিভারে প্রদাহ বা ক্ষতির কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।

অন্যটি হলো নন-অ্যালকোহলিক স্টেটো-হেপাটাইটিস বা ন্যাশ যাতে চর্বিজনিত কারণে লিভার প্রদাহ বা ক্ষতির ব্যাপারটি শারীরিক লক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে।

আমাদের দেশের একটি সমীক্ষায় প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষের দেহে ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে মধ্যবয়স্ক নারীদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।

লক্ষণ ও উপসর্গ

ফ্যাটি লিভার নীরব একটি রোগ যা সাধারণত উল্লেখযোগ্য কোনো উপসর্গ তৈরি করে না। তবে ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভূত হতে পারে, কখনো কখনো পেটের ডানপাশের উপরিভাগে ভোঁতা ধরনের ব্যথাও হতে পারে। ফ্যাটিলিভারের রোগীদের মাঝে যাদের ডায়াবেটিস থাকে তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগের আশঙ্কা বেশি থাকে। আর যারা নন-অ্যালকোহলিক স্টেটো হেপাটাইটিস বা ন্যাশে ভোগেন তাদের দীর্ঘমেয়াদি লিভার প্রদাহের একপর্যায়ে লক্ষণ প্রকাশিত হতে শুরু করে। ন্যাশে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৪০ শতাংশের মধ্যে লিভার সিরোসিস (লিভার সংকুচিত হয়ে কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় ও রক্তপ্রবাহে বাঁধার সৃষ্টি হওয়া) দেখা দিতে পারে।

তবে লিভার সিরোসিস হবার পরও প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত তা সহনীয় পর্যায়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ এই সময়ে রোগী ক্লান্তি, অবসাদ, দুর্বলতা অনুভব করলেও কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া ছাড়া লিভার তেমন কোনো জটিলতা ছাড়াই তার কার্যক্রম চালিয়ে নেয়।

এ পর্যায়ে অতিক্রান্ত হলে লিভার সিরোসিসের নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন পেটে, পায়ে পানি আসা, খাদ্যনালিতে শিরা ফুলে গিয়ে স্ফীত শিরা ফেটে রক্তক্ষরণ হওয়া, মস্তিষ্ক ও কিডনির বৈকল্য দেখা দেয়।

এ অবস্থাকে Decompensated liver Cirrhosis বা লিভার সিরোসিসের অসহনীয় অবস্থা বলা হয়। এই অবস্থায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। লিভার সিরোসিসের এই পর্যায়ে রোগীর সাধারণভাবে দুই বছর আয়ুষ্কাল থাকে। বর্তমান বিশ্বে লিভার সিরোসিসের প্রধান কারণ হিসাবে ফ্যাটি লিভারকে গণ্য করা হয়। তবে, ফ্যাটিলিভারে আক্রান্ত রোগীদের কিছুসংখ্যকের লিভার সিরোসিস দেখা দেয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগ শনাক্তের পর সচেতনতার মাধ্যমে সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকতে পারেন।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রোগ শনাক্তকরণ

সাধারণত পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষা যেমন সিটি স্ক্যান, এম আর আই ইত্যাদি পরীক্ষার মাধ্যমে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিস (এনএএফএলডি) শনাক্ত হয়।

ফ্যাটিলিভারের সঙ্গে ইনসুলিন প্রতিরোধের একটি সম্পর্ক থাকে। ইনসুলিন, যা রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণ করে, তা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের বিপাক প্রক্রিয়ায়ও কাজ করে। আর এ রোগীদের ক্ষেত্রে লিভারের কোষগুলোতে ইনসুলিন প্রতিরোধের কারণে বিপাক প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে কাজ করতে না পারায়, ধীরে ধীরে লিভারের মধ্যে গ্লুকোজ ও চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। রক্তের সুগার ও ইনসুলিন এর মাত্রার পরিমাণ নির্ণয় করে ‘ইনসুলিন প্রতিরোধ’ শনাক্ত করা যায়।

রক্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে প্রয়োজনীয় হচ্ছে লিভার এনজাইম যেমন এসজিপিটি, এসজিওটি, বিলিরুবিন, এলবুমিন, রক্তের চর্বির পরিমাণ, রক্তের সুগার; এ ছাড়াও হেপাটাইটিস বি, সি এর সংক্রমণ আছে কিনা তাও পরীক্ষা করতে হয়।

উল্লেখ্য ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, রক্তের চর্বির আধিক্য, স্থূলতার সঙ্গে ফ্যাটি লিভার ঝুঁকির পাশাপাশি হৃদরোগ, কিডনি ডিজিজ, মস্তিষ্কের শিরাজনিত রোগ ইত্যাদিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করতে হয় ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে হয়।

দীর্ঘমেয়াদি লিভার প্রদাহের ফলে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত লিভারজুড়ে আঁশ তৈরি হয় যাকে লিভার ফাইব্রোসিস বলা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে এই আঁশযুক্ত লিভারে অসংখ্য গুটি তৈরি হয়, এ অবস্থাকে লিভার সিরোসিস বলা হয়। লিভারে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস ও সিরোসিস শনাক্ত করার সর্বোত্তম পন্থা হলো লিভার বায়োপসির মাধ্যমে যেখানে একটি বিশেষ সুই এর দ্বারা লিভার হতে টিস্যু পরীক্ষা করে লিভারে সৃষ্ট ক্ষতি পরিমাপ করা যায়। তবে কিছু নন-ইনভেসিভ পরীক্ষা দ্বারা লিভার বায়োপসি না করেও লিভারের চর্বির পরিমাণ ও ফাইব্রোসিসের মাত্রা নিরূপণ করা যায়, এর মধ্যে অন্যতম হলো ফ্রাইবোস্ক্যান। এ পরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের অবস্থা চিকিৎসার আগে ও পরে অনুধাবন করা যায়।

ফ্যাটিলিভারের চিকিৎসা

এনএএফএলডি বা ফ্যাটিলিভারের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। কোনো ওষুধ দ্বারাই সরাসরি লিভারের চর্বি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে বেশ কিছু ওষুধ ইতোমধ্যে গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে আছে। তবে অনুমোদিত ওষুধ না থাকলেও বেশ কিছু সমীক্ষা ও ট্রায়ালে দেখা গেছে কিছু ওষুধ যা ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগে ব্যবহৃত হয় ও কিছু ভিটামিন (যেমন ‘ই’ ভিটামিন) ফ্যাটিলিভারের প্রদাহ ও ফাইব্রোসিস কমাতে সাহায্য করে। এখন পর্যন্ত খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শরীরের ওজন কমানো (কমপক্ষে শতকরা ১০ ভাগ) প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায়। এক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন খুবই জরুরি। শর্করা জাতীয় খাবার যেমন ভাত, রুটি, পাউরুটি, আলু ইত্যাদি পরিমাণে কম খেতে হবে। শাকসবজি, তাজা ফলমূল স্বাভাবিক পরিমাণে খেতে পারবেন।

পর্যাপ্ত মাছ (তৈলাক্ত অংশ ছাড়া) খেতে পারবেন তবে জাঙ্কফুড, তৈলাক্ত ও ভাজাখাবার, মাংস, চর্বিযুক্ত খাবার ও কেক-পেস্ট্রি, আইসক্রিম ইত্যাদি ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকতে হবে।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করতে হবে; অন্তত ৩০ মিনিট দৈনিক একটু জোরে হাঁটা কার্যকর একটি ব্যায়াম ওজন কমানোর জন্য পশ্চিমা বিশ্বে প্রয়োজনে ব্যারিয়াট্টিক অস্ত্রোপাচার করে পাকস্থলিকে ছোট করে দেওয়া হয়, আমাদের দেশে এটি এখনো প্রচলিত নয়।

ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, রক্তের কলস্টেরলের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চিকিৎসা করতে হবে।

ফ্যাটিলিভারের কারণে যদি লিভার সিরোসিস ও এর জটিলতাগুলো দেখা দেয়, এ পর্যায়ে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনে লিভার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে একজন সুস্থ ব্যক্তির লিভারের অংশ রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করার মাধ্যমে রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাপন পুনঃনিশ্চিত করা যায়।

আমাদের দেশে ইতঃপূর্বে কয়েকটি লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে শিগ্গির বাংলাদেশে লিভার প্রতিস্থাপন পুরোদমে শুরু হবে বলে আমরা আশাবাদী। সুতরাং আশঙ্কা নয়, সচেতনতাই জরুরি। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে ওজন কমানো, চিকিৎসকের পরামর্শ মতো নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ফ্যাটিলিভারের রোগীও সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

গরমে শিশুর যত্ন

শুরু হয়েছে গরমের মৌসুম। তাপমাত্রার এই ব্যাপক তারতম্যের স্বাস্থ্য ঝুঁকির প্রথম শিকার হয় শিশুরা। বড়দের মতো আবহাওয়ার দ্রুত তারতম্যের সঙ্গে শিশুরা নিজেকে মানিয়ে নিতে অনেক সময়ই পারে না। গ্রীষ্মকালের গরম সবার জন্যই কষ্টকর। তবে শিশুরা খুব বেশি স্পর্শকাতর বলে অনেকে গরম আবহাওয়ায় সহজে খাপ খাওয়াতে পারে না। তাই অন্যান্য সময়ের তুলনায় এ সময় শিশুদের জন্য বেশি কষ্টকর ও অসহনীয়। ফলে জ্বর, পেট খারাপ, সর্দি, কাশিসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। এ জন্যই এ গরমে শিশুর দরকার বাড়তি যত্ন। বিস্তারিত লিখেছেন- অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন

গরমে শিশুরা ভাইরাল জ্বর, বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাসহ নিউমোনিয়ায় ভুগতে পারে। এ সময় জলবসন্ত বা চিকেনপক্সসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগও বেশি হয়। গরমে শিশুর পেট খারাপ হওয়ার শঙ্কাটাও বেশি থাকে। ছয় মাস বয়সি শিশুদের জন্য মায়ের বুকের দুধের সঙ্গে পানি ও অন্যান্য খাবার দিতে হবে। শিশু মাত্রই যত্নের দরকার প্রতি মুহূর্তেই। তা হোক শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষাকাল। তীব্র গরমে নানা স্বাস্থ্য জটিলতার মুখোমুখি হয় শিশুরা। তাই বাবা-মার উচিত সব সময় তাদের যত্নের বিষয়ে সচেতন থাকা। এ সময়ে শিশুদের নানা অসুখ-বিসুখ হতে পারে।

জ্বর

শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি তাপমাত্রাই (>৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) হলো জ্বর। জ্বর কোনো রোগ নয়, শরীরের কোনো অসুস্থতা বা সংক্রমণের লক্ষণ অর্থাৎ রোগের উপসর্গ হলো জ্বর। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন ধরনের জ্বর হতে পারে। যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গি, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, নিউমোনিয়া, হাম এবং প্রস্রাবের সংক্রমণ ইত্যাদি।

জ্বরের সাধারণ চিকিৎসা

জ্বর কমানোর জন্য প্রথমে দেহের তাপমাত্রা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ খাওয়াতে হবে। অনেক সময় ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত এন্টিবায়োটিক সঠিক মাত্রায় পাঁচ থেকে সাত দিন খেতে হবে। ভাইরাস জ্বরে এন্টিবায়োটিক লাগে না। শিশুদের বেলায় জ্বর হলে একটু বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মনে রাখতে হবে ৩-৪ দিনের মধ্যে শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি না কমলে এবং জ্বরের সঙ্গে যদি শিশুর বেশি বমি হয় বা পাতলা পায়খানা হয়, অনবরত কাঁদতে থাকে, শরীরে গুটি বা দানা দেখা দেয়, খিঁচুনি হয় তাহলে জরুরিভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

গা মোছানো বা স্পঞ্জিং

জ্বর হলে প্রাথমিকভাবে কুসুম গরম পানি দিয়ে স্পঞ্জিং করা উচিত। খুব ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়। পুরো শরীর কুসুম গরম পানিতে ভেজানো নরম কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে একটানা কয়েকবার আলতো করে মুছে দিলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায় এবং শিশুরা খুব ভালো বোধ করে।

ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা

গরমের সময় সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা বেশি হয়। প্রতিদিন কমপক্ষে তিনবার বা এর বেশি অতিরিক্ত পাতলা পায়খানা হলে তাকে ডায়রিয়া বলে। তবে স্বাভাবিক পায়খানা যদি তিনবার বা তার বেশি হয়, তা কিন্তু ডায়রিয়া নয়। যে শিশুরা বুকের দুধ পান করে, তারা যদি বারবার নরম পায়খানা করে, সেটি ডায়রিয়া নয়। ডায়রিয়ায় মলের চেয়ে পানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। পাতলা পায়খানার সঙ্গে যদি রক্ত মিশ্রিত থাকে, সেটি আমাশয়। ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও খনিজ লবণ বের হয়ে যায়। তাই ডায়রিয়া হলে পানির ঘাটতি বা পানিশূন্যতা দেখা যায়। মনে রাখতে হবে, শিশু যেন পানিশূন্যতায় না ভোগে। তার প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক আছে কি না, লক্ষ রাখতে হবে। শিশুর ডায়রিয়া হলে তাকে ঘন ঘন স্যালাইন খাওয়াতে হবে। এ সময় কোনো অবস্থাতেই মায়ের বুকের দুধ বন্ধ করা যাবে না। ছয় মাস বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের দুধের সঙ্গে পানি ও অন্যান্য খাবারও দিতে হবে। একইসঙ্গে তাকে তরল খাবারও দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত শিশুর পায়খানা স্বাভাবিক না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এ নিয়ম মেনে চলতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে প্রস্রাবের পরিমাণ যেন স্বাভাবিক থাকে। শিশুর পায়খানার সঙ্গে যদি রক্ত যায় তবে অবহেলা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

পানিশূন্যতায় করণীয়

স্বাভাবিক পানিশূন্যতার রোগীরা বাড়িতেই চিকিৎসা নিতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর খাবার স্যালাইন খেতে হবে।

দুই বছরের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে-

* প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ৫০-১০০ মিলিলিটার স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

* যেসব শিশু বুকের দুধ খায়, তাদের ক্ষেত্রে স্যালাইনের পাশাপাশি বুকের দুধ দিতে হবে।

* একসঙ্গে পুরো স্যালাইন খেতে না পারলে অল্প অল্প করে স্যালাইন দিতে হবে।

২ থেকে ৯ বছর পর্যন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে-

* ১০০-২০০ মিলিলিটার (১-২ কাপ) স্যালাইন খাওয়াতে হবে প্রতিবার পায়খানার পর।

১০ বছর বা এর বেশি বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে-

* যতটুকু খেতে চায় সেই পরিমাণ খাওয়াতে হবে। সঙ্গে স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে।

* যদি বমি করে, ১০ মিনিট অপেক্ষা করে আবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

* ডায়রিয়া বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত স্যালাইনের পাশাপাশি অন্যান্য পানীয়ও দিতে হবে।

এ ছাড়া গরমে শিশুরা অত্যধিক ঘামে। এ ঘামের কারণেও শিশুর শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। ফলে শিশুর পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এ সময়টায় শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাওয়ানো দরকার।

ঠান্ডা বা সর্দি কাশি এবং নিউমোনিয়া

গরমে শিশুদের ঠান্ডার সমস্যাটাও বেশি হতে দেখা যায়। গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। তাই শিশু ঘেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তার শরীর মুছে দিয়ে কাপড় বদলে দিতে হবে। গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। পরিষ্কার রাখতে হবে শরীর ও পরিবেশ। শিশুদের সংক্রমণের ফলে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ ও নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট নাও হতে পারে। শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ হলো-

* জ্বর

* দ্রুত, ভারী ও ঘনঘন শ্বাসপ্রশ্বাস

* শ্বাসের সঙ্গে শো শো শব্দ

* বুকের পাঁজর বা খাঁচা ডেবে যাওয়া

* খেতে না পারা বা খাওয়ানোতে অসুবিধা হওয়া

* দুর্বল, ক্লান্তি বা ঝিমুনি ভাব

মনে রাখবেন, বাচ্চার বয়স যদি তিন মাসের কম হয়, বাচ্চা যদি একেবারে খাওয়া ছেড়ে দেয়, কিংবা শ্বাস নেওয়ার গতি ২ মাসের কম বয়সি শিশুর মিনিটে ৬০ বার, ২ মাস থেকে ১ বছরের পর্যন্ত বাচ্চার প্রতি মিনিটে ৫০ বারের বেশি এবং ১ থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুর মিনিটে ৪০ বারের বেশি হলে, শ্বাসনেয়ার সময় বুকের পাঁজর দেবে যায় কিংবা বাচ্চার ঠোঁট, জিহ্বা নীল হয়ে গেলে অবশ্যই জরুরিভাবে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। কারণ এসবই মারাত্মক নিউমোনিয়া বা মারাত্মক রোগের লক্ষণ। যদি শ্বাসকষ্ট হয় বা ঠোঁট, জিহ্বা নীলাভ বর্ণ ধারণ করে তবে জরুরিভাবে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা নিকটতম হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

জলবসন্ত বা চিকেন পক্স

এ সময়টায় শিশুদের জলবসন্ত হয়ে থাকে। এটা সাধারণত ১-৫ বছরের শিশুদের বেশি হয়। তবে চিকেন পক্সের টিকা নেওয়া থাকলে রোগটি হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। এ অসুখের সময় শিশুর বিশেষ যত্ন নিতে হবে। তাকে নরম হালকা সুতি কাপড় পরাতে হবে। তরল বা নরম জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। দরকার বেশি করে পানি পান। এর সঙ্গে অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।

ত্বকের র‌্যাশ, ফুসকুরি ও ঘামাচি

শিশুদের গরমকালে এ সমস্যাটা বেশি দেখা যায়। সাধারণত ঘামাচি বা চামড়ার ওপরে লাল দানার মতো ফুসকুড়ি হয়ে থাকে। শিশুকে অবশ্যই পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার জামা পরাতে হবে। ফুসকুড়ির জায়গাগুলোয় বেবি পাউডার লাগাতে পারেন। এতে চুলকানি কিছুটা কমে যাবে। প্রতিবার কাপড় বদলানোর সময় শিশুকে নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে পাউডার লাগিয়ে দিতে হবে। গরমের সময় বেশিক্ষণ ডায়াপার না পরিয়ে রাখাই ভালো। অনেক সময় র‌্যাশ বেশি হয়ে গেলে ঘা হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

ঘামাচি

এ সময়টায় শিশুর শরীরে ঘামাচি ওঠার প্রবণতা থাকে। তাই শিশুকে প্রতিদিন গোসল করিয়ে পরিষ্কার সুতির পোশাক পরাতে হবে। অতিরিক্ত ঘামের কারণে গরমে শিশুর ঠান্ডা লাগে বেশি। ঘেমে গেলে দ্রুত শরীর মুছে দিয়ে কাপড় বদলানো উচিত। ঘামাচির জায়গায় শিশুদের উপযোগী পাউডার ব্যবহার করতে হবে। পাউডার লাগানোর আগে শিশুর শরীর নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিন।

ডায়াপার র‌্যাশ

গরমে শিশুকে বেশিক্ষণ ডায়াপার না পরিয়ে রাখাই ভালো। অনেক সময় ডায়াপায়ের কারণে ত্বকে ফুসকুরি হতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে, ভেজা ডায়াপার যেন শিশুর বেশিক্ষণ পরিয়ে না রাখা হয়। ডায়াপার নষ্ট হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা খুলে নতুন ডায়াপার পরাতে হবে।

চুলের যত্ন

গরমে শিশুর চুলেরও যত্ন নেওয় উচিত। গরমে চুলের গোড়া ঘেমে যায়। ধুলাবালু লেগে ঘামে ভিজা চুল জট বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার না করলে মাথার ত্বকে খুশকি, ঘামাচিসহ নানা ধরনের চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। গরমে শিশুর চুল ছেঁটে ছোট করে কেটে দেওয়া ভালো। এক বছর বা তার কম বয়সের শিশুর মাথা কামিয়ে বা ন্যাড়া করে দেওয়া যায়। বড় চুল হলে নিয়মিত যত্ন নিন। গোসল করার পর চুল ভালোভাবে মুছে দিয়ে আঁচড়ে দিন চিরুনি দিয়ে। এরপর চুল শুকিয়ে গেলে ভালোভাবে বেঁধে দিন। চুল ধোয়ার জন্য শিশুদের উপযোগী শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোক হয়ে বা মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যেতে পারে। হঠাৎ করে শিশু অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। তীব্র পানিশূন্যতা হলে, রক্তে সুগার বা চিনির পরিমাণ কমে গেলে বা ব্লাড পেশার কমে গেলে শিশু অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

* প্রথমেই রোগীকে চিত করে শোয়াতে হবে। সম্ভব হলে একদিকে কাত করে দিতে হবে, যাতে মুখে, গলায় যে লালা বা নিঃসরণ আছে, তা বেরিয়ে আসতে পারে।

* শোয়ানোর পর দুই পায়ের দিক মাথা থেকে ১২ ইঞ্চি উঁচু করে রাখতে হবে, যাতে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ ও চলাচল ঠিক থাকে ও বাড়ে।

* টাইট পোশাক পরে থাকলে, বুকের, গলার আর কোমরের পোশাক খুলে অথবা ঢিলা করে দিতে হবে।

* ঘাড়ের নিচে উঁচু কিছু রেখে, মাথাটা নিচে নামিয়ে, থুতনি উপরে রাখতে হবে, যাতে শ্বাস-প্রশ্বাস চলাচলে বাধা তৈরি না হয়।

* যদি ৩ মিনিটের মধ্যে জ্ঞান না ফেরে তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

প্রয়োজনীয় উপদেশ

* গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং ধুলাবালি থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে।

* বাইরে বের হলে শিশুর জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি সবসময় সঙ্গে রাখতে হবে।

* ঘেমে গেলে ঘাম মুছে দিতে হবে। শরীরের ঘাম শুকিয়ে গেলে শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে।

* যতটা সম্ভব শিশুকে সদ্য তৈরি করা খাবার ও তাজা ফলমূল খাওয়াতে হবে।

* ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে, যেন র‌্যাশ জাতীয় সমস্যা না হয়।

* প্রচুর পানি খাওয়াতে হবে, যেন প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।

৭. সদ্যজাত শিশুদের সবসময় ঢেকে রাখতে হবে, যেন শরীর উষ্ণ থাকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ঘেমে না যায়।

* গরমের সময় মশা, মাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি পোকামাকড়ের প্রকোপ বেড়ে যায়। এগুলো শিশুর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। ঘর পোকামাকড় মুক্ত রাখতে হবে।

* গরমের সময় প্রচুর মৌসুমি ফল পাওয়া যায়। মৌসুমি ফল শিশুকে খেতে দিন। জুস করে দিতে পারেন। এতে শিশুর ভিটামিনের চাহিদা মিটবে ও শিশুর পুষ্টিও পূরণ হবে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়বে।

লেখক : শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সভাপতি, বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতি