শুক্রবার ,১ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 738

‘মেসি কখনোই ম্যারাডোনার মতো হতে পারবে না’

সদ্য কোপা আমেরিকা শিরোপা জেতা লিওনেল মেসিকে কখনোই দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা করা উচিৎ নয় বলে মনে করেন ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি মারিও কেম্পেস।

অনেক বছর ধরেই বিতর্ক চলে আসছে, লিওনেল মেসি ও দিয়েগো ম্যারাডোনার মধ্যে কে সেরা?

মারিও কেম্পেসের মতে, ‘মেসির জন্য দুর্ভাগ্য হলো সে ছিল দিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতিস্থাপন’। তার ভাবনা, মেসি কখনোই ম্যারাডোনার মতো হতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘টানা চারটি বিশ্বকাপ জিতলেও মেসি কখনোই ম্যারাডোনার মতো হতে পারবে না। যদিও সে কখনো বিশ্বকাপই জিততে পারেনি। শিরোপা জয়ের হিসাব না, সে কখনোই ম্যারাডোনার মতো হতে পারবে না’। তথ্যসূত্র: মার্কা

করোনায় প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর করোনায় প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নবনীতা সরকারের (২৫) করোনায় মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার ভোর ৭টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি করোনা পজিটিভ ও সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

জানা যায়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রিমন সরকারের স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নবনীতা সরকার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

নবনীতা সরকারের অকাল মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছেন।

অপরদিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে ত্রিশালে বাদশা মিয়া (৪৫) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

বাংলা দ্বিতীয়পত্র * হিসাববিজ্ঞান

প্রভাষক, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর, ঢাকা

১৬. কোন পদাশ্রিত নির্দেশকটি নির্দিষ্টতা ও অনির্দিষ্টতা উভয়ই বোঝায়?

ক. কেতা √খ. টো

গ. গাছি ঘ. গুলিন

১৭. ‘অন্তরীপ’ কোন বহুব্রীহি সমাসের সমাপদ?

ক. প্রত্যায়ান্ত বহুব্রীহি √খ. নিপাতনেসিদ্ধ বহুব্রীহি

গ. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি ঘ. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি

১৮. বিদেশি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?

ক. প্রহার √খ. খাসকামরা

গ. আগ্রহ ঘ. উপকার

১৯. ধাতু কিংবা প্রাতিপদিকের সঙ্গে যুক্ত হলে প্রত্যয়ের যে অংশ লোপ পায় তাকে কী বলে?

ক. উপধা খ. গুণ

গ. বৃদ্ধি √ঘ. ইৎ

২০. কোনটিতে অপত্য অর্থে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?

ক. আগ্নেয় √খ. দাশরথি

গ. হৈমন্তিক ঘ. সৌর

২১. “আমরা তখন রোজ সকালে নদীর তীরে ভ্রমণ করতাম।” এটি-

ক. পুরাঘটিত বর্তমান √খ. নিত্যবৃত্ত অতীত

গ. ঘটমান অতীত ঘ. পুরাঘটিত অতীত

২২. কোন কালে বাংলা অনুজ্ঞা ব্যবহার নেই?

ক. বর্তমান √খ. অতীত

গ. ভবিষ্যৎ ঘ. ঘটমান অতীত

২৩. “আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।”-এখানে ‘আমারে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?

ক. কর্তৃকারকে শূন্য খ. কর্মকারকে শূন্য

√গ. কর্মকারকে ২য়া ঘ. করণ কারকে ৬ষ্ঠী

২৪. “শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।”-এখানে ‘গোঁফে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?

ক. কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি

খ. অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি

√গ. করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি

ঘ. অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি

২৫. “খিলিপান দিয়ে ওষুধ খাবে।”-খিলিপান দিয়ে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?

√ক. অধিকরণে ৩য়া খ. কর্তায় ৩য়া

গ. কর্মে ৩য়া ঘ. করণে ৩য়া

২৬. তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনো কখনো কী সৃষ্টি করে?

ক. বাহুল্য দোষ খ. দুর্বোধ্যতা

√গ. গুরুচণ্ডালী দোষ ঘ. কোনোটিই নয়

২৭. গঠন অনুযায়ী বাক্য কত প্রকার?

ক. দুই প্রকার √খ. তিন প্রকার

গ. চার প্রকার ঘ. পাঁচ প্রকার

২৮. কোনটি ঐতিহাসিক বর্তমান কালের উদাহরণ?

ক. সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়

খ. আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই

√গ. বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ূন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন

ঘ. চার আর তিনে সাত হয়

২৯. কোনো বাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে তাকে কোন বাচ্য বলে?

ক. কর্মবাচ্য খ. কর্তৃবাচ্য

√গ. ভাববাচ্য ঘ. কর্তৃকর্মবাচ্য

৩০. তোমাকে নিয়ে কী মুশকিলেই না পড়লাম। -এ বাক্যটিতে কী অর্থ প্রকাশ পেয়েছে?

ক. বিরক্তি √খ. বিড়ম্বনা

গ. ক্ষোভ ঘ. ঘৃণা

ডহসাববিজ্ঞান

এইচ. এম. মতিউর রহমান

সহকারী শিক্ষক (ব্যবসায় শিক্ষা), পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পটুয়াখালী।

হিসাব

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

১২. হিসাব সমীকরণের বর্ধিত রূপ অনুযায়ী হিসাব-পাঁচ প্রকার।

১৩. ভূমি, দালানকোঠা, বিনিয়োগ, সুনাম ইত্যাদি

-ব্যবসায়ের সম্পদ।

১৪. মালিকানা স্বত্ব হিসাব হলো-মূলধন ও উত্তোলন হিসাব।

১৫. পাওনাদার, ঋণ, বকেয়া খরচ ইত্যাদি হলো

-দায়বাচক হিসাব।

১৬. ক্রয়, বেতন, ভাড়া, মনিহারি, পরিবহণ ইত্যাদি হলো -ব্যয় বাচক হিসাব।

১৭. কাগজ, কলম, পেন্সিল, পিন, ক্লিপ ইত্যাদি ক্রয় লিপিবদ্ধ হয়-মনিহারি হিসাবে।

১৮. বিক্রয়, প্রাপ্তসুদ, প্রাপ্ত ভাড়া, প্রাপ্ত বাট্টা ইত্যাদি আয়বাচক হিসাব।

১৯. অগ্রিম প্রাপ্ত আয়কে গণ্য করা হয়-অনুপার্জিত আয় হিসাবে।

২০. ঘড়ি, স্টাপলার, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি-অফিস সাপ্লাইজ হিসাব।

২১. মালিকের দাবি বা পাওনা নির্দেশ করে-মূলধন হিসাব।

২২. বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কিছু ক্রয় করলে লিপিবদ্ধ করা হয় -ক্রয় হিসাবে।

২৩. নির্দিষ্ট হিসাব কাল শেষে ক্রয়কৃত পণ্যের অবিক্রিত অংশ-মজুদ পণ্য।

২৪. পোস্টার, প্রচারণা, বিনামূল্যে পণ্য বিতরণ প্রভৃতি- বিজ্ঞাপন হিসাব।

২৫. দেনাদার থেকে পাওনা টাকা দ্রুত আদায়ের জন্য অর্থ ছাড় দেওয়াকে বলে-প্রদত্ত বাট্টা।

২৬. পাওনাদারকে দেনা পরিশোধের সময় অর্থ ছাড় পাওয়াকে বলে-প্রাপ্ত বাট্টা।

২৭. কম্পিউটার, এসি, ফটোকপি, মেশিন, প্রিন্টার ইত্যাদি -অফিস সরঞ্জাম।

২৮. ব্যবহারজনিত কারণে স্থায়ী সম্পদের মূল্য হ্রাস হচ্ছে -অবচয়।

২৯. সুবিধা পাওয়ার পূর্বেই মূল্য পরিশোধ করা হলে হয়

-অগ্রিম খরচ হিসাব।

৩০. যে দ্রব্যের মূল্য অপেক্ষাকৃত কম কিন্তু ব্যবহার উপযোগিতা দীর্ঘ তা-অফিস সাপ্লাইজ হিসাব।

৩১. হিসাব প্রস্তুত করতে অপরিহার্য-ডেবিট-ক্রেডিট নির্ধারণ।

৩২. ডেবিট শব্দের অর্থ-বাম এবং ক্রেডিট শব্দের অর্থ- ডান।

৩৩. হিসাবের বামদিক ডেবিট এবং ডানদিক ক্রেডিট যা

-হিসাব বিজ্ঞানের রীতি।

৩৪. প্রতিটি হিসাবের ডেবিট দিক প্রভাবিত হলে

-আরেকটি ক্রেডিট দিক প্রভাবিত হয়।

৩৫. মূলধন আনয়ন ও আয় অর্জিত হলে বৃদ্ধি পায়

-মালিকানা স্বত্ব।

৩৬. মালিকানা স্বত্ব হ্রাস পায়-মালিকের উত্তোলন ও ব্যয় সংঘটিত হলে।

৩৭. সম্পদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পেলে-ডেবিট হয়।

৩৮. সম্পদ ও ব্যয় হ্রাস পেলে-ক্রেডিট হয়।

৩৯. দায়, মালিকানাস্বত্ব ও আয় হ্রাস পেলে হয়-ডেবিট।

৪০. দায়, মালিকানাস্বত্ব ও আয় বৃদ্ধি পেলে হয়-ক্রেডিট।

৪১. চলমান জের ছকে টাকার কলাম-৪টি।

৪২. লেনদেনে লিপিবদ্ধের পরেই উদ্বৃত্ত নির্ণীত হয়

-চলমান জের ছকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের আওতায় আসছে শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক এবং আবাসিক হলের সব তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বুধবার বিকাল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে এই সভায় প্রক্টর অধ্যাপক ড. একে এম গোলাম রব্বানীসহ বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভার বিষয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম (এস এম) হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যপক মুজিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হচ্ছে। এখন কোনো কাজ করতে গেলেই জাতীয় তথ্য ভাণ্ডারে শিক্ষার্থীদের তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হয়। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হল ভিত্তিক সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে। তিনটি হলকে প্রাথমিকভাবে তথ্য সমন্বয়ের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব হলগুলো পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম চালাবে।

এরপর যে সফটওয়্যার ডেভলপড করা হবে তাতে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি হয় কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। সে তিনটি হল হলো শামসুন্নাহার হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম (এস এম) হলও বিজয় একাত্তর হল।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখার জন্য হলগুলো দ্রুত সময়ে সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৩ তারিখে কঠোর লকডাউন দেওয়ার আগে এসব কাজ শেষ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে পরবর্তীতে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়।

পাকিস্তানে চীনা প্রকৌশলীদের গাড়িতে হামলায় বেইজিংয়ের নিন্দা

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় একটি বাসে বুধবার সকালে বোমা বিস্ফোরণে ৯ চীনা প্রকৌশলীসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২১ জনের বেশি আরোহী।

এসব চীনা প্রকৌশলী আপার কোহিস্তান জেলার দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করতেন। এই বিস্ফোরণে অন্তত তিন পাকিস্তানিও নিহত হয়েছেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সংসদীয় কার্যক্রমবিষয়ক উপদেষ্টা বাবর আওয়ান এটিকে কাপুরুষোচিত হামলা অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

এ ধরনের ঘটনা পাকিস্তান ও এর প্রতিবেশীদের নেওয়া বিশেষ উদ্যোগগুলো থেকে নজর অন্যদিকে সরাতে পারবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিস্ফোরণটি রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা, নাকি বাসটিতে রাখা কোনো বোমার কারণে ঘটেছে তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিষ্কার হয়নি। পাকিস্তানে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে তাদের ৯ নাগরিক নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।

খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক মোয়াজ্জেম আনসারি জানিয়েছেন, নাশকতা বলে মনে হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

পাকিস্তানের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ৩০ জনেরও বেশি চীনা প্রকৌশলীকে নিয়ে আপার কোহিস্তানের দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় যাচ্ছিল বাসটি।

চীনের ‘বেল্ট অ্যঅন্ড রোড’ উদ্যোগের অধীনে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (সিপিইসি) অংশ এই দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। বেশ কয়েক বছর ধরেই চীনা প্রকৌশলী ও পাকিস্তানি নির্মাণশ্রমিকরা এই প্রকল্পটিতে কাজ করছেন।

আফগানিস্তান থেকে ইয়েমেনে পাঠানো হলো মার্কিন সেনাদের

আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া মার্কিন সেনাদের একটি দলকে ইয়েমেনে মোতায়েন করা হয়েছে।

এসব সেনা ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি কৌশলগত বিমানঘাঁটি দখল করেছে। খবর ইয়েমেন প্রেস এজেন্সি ও ইরানের প্রেস টিভির।

প্রথম এসব মার্কিন সেনাকে এডেন প্রদেশের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামানো হয়। এর পর তাদের উত্তর দিকের প্রতিবেশী প্রদেশ লাহিজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মার্কিন সেনা দলটিকে লাহিজ প্রদেশের আল-আনাদ বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে।

আফগানিস্তান থেকে ৯৫ শতাংশ মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে পেন্টাগন ঘোষণা করার পর ইয়েমেন থেকে এ খবর পাওয়া গেল।

আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ ইয়েমেনে ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে সৌদি আরবের নেতৃত্বে যে ভয়াবহ আগ্রাসন চলছে, তার প্রতি এতদিন শক্ত রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা দিয়ে এসেছে আমেরিকা। এবার ইয়েমেনে সরাসরি মার্কিন সেনা উপস্থিতির খবর পাওয়া গেল।

ইয়েমেনের সৌদিপন্থি আব্দ রাব্বু মানসুর হাদি সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য রিয়াদ দেশটিতে আগ্রাসন চালাচ্ছে। এ আগ্রাসনের পাশাপাশি ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের আরোপিত কঠোর অবরোধের কারণে দেশটির অন্তত ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং দরিদ্র এ দেশ ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

মার্কিন সেনাদের এমন সময় ইয়েমেনে পাঠানো হয়েছে, যখন দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় আল-বায়াদ প্রদেশে একটি বড় ধরনের অভিযানে আল কায়েদা ও উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস ভয়াবহ পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে।

ইয়েমেন প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, ইয়েমেনের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য এসব জঙ্গিগোষ্ঠী ব্যবহার করে আসছিল আমেরিকা।

মেহেদি পরিয়েই মাসে লাবণ্যর আয় ৩০ হাজার টাকা

ছোট থেকেই হাতে মেহেদি পরতে পছন্দ করতেন। শখ করে বান্ধবীদের হাত রাঙিয়ে দিতেন নানান নকশায়। প্রশংসাও পেতেন। মজা করে তারা বলতেন একটি পেইজ খোলার কথা। অর্থাৎ অন্যদেরও জানানো। এখান থেকেই উৎসাহ পান।

প্রিয় বন্ধু এবং স্বামীর উৎসাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পেজ খোলা নিজের নামে। এমনটাই জাগো নিউজকে জানান লাবণ্য’স হেনা আর্ট ওয়ার্ক এর স্বত্বাধিকারী আফসানা হাসান লাবণ্য। বর্তমানে যারা প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে মেহেদি পড়তে চান; তাদের কাছে খুবই পরিচিত লাবণ্য হেনা আর্ট ওয়ার্ক।

দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় খালার বিয়েতে গ্রামে গিয়েছিলেন লাবণ্য। সেখানে এক ছেলেকে মেহেদি পরাতে দেখে উৎসাহ জাগে লাবণ্যর মনেও। অভিভূত হয়েছিলেন সেই ছেলের মেহেদি পরিয়ে দেওয়ার ধরন এবং নকশা দেখে।

তখন থেকেই নিজে বিভিন্ন মেহেদির ডিজাইন হাতে আঁকানো চেষ্টা করতেন। এভাবেই চলে গেল অনেক দিন। ঈদ কিংবা যেকোনো উৎসবে বাড়ির সদস্য এবং বান্ধবীদের পরিয়ে দিতেন মেহেদি। বরাবরই তার মেহেদির প্রশংসা করত সবাই।

সেখান থেকেই ভাবনা আসে পেইজ খোলার। লেখাপড়ার পাশাপাশি মেহেদি পরানোর মাধ্যমে কিছু রোজগার করার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৬ সালে লাবণ্য’স হেনা আর্ট ওয়ার্ক নামে একটি পেইজ খুলে ফেলেন তিনি। প্রথমে হোম সার্ভিস দেওয়ার কথা চিন্তা ছিল না তার।

তবে অনেক বেশি অর্ডার আসার কারণে এই সুযোগ কাছে লাগালেন। প্রথমে পরিবারের বাঁধা থাকলেও পরে সবাই মেনে নেন। মাকে সঙ্গে নিয়েই যেতেন ক্লায়েন্টের বাড়িতে। এখন অবশ্য তার সঙ্গে কাজ করেন আরো ৫ জন সদস্য। তাদের নিয়ে গ্রুপ কাজ করেন তিনি।

কখনো আবার তার হয়ে গ্রুপের মেম্বাররা কাজ করেন বিভিন্ন জায়গায়। এক্ষেত্রে তিনি মাথায় রাখেন কিছু বিষয়। প্রথমত ঢাকা এবং এর আশেপাশেই এই সার্ভিস দিয়ে থাকেন। যদি ঢাকার বাইরের কেউ লাবণ্যর কাছ থেকে মেহেদি পড়তে চান সেক্ষেত্রে যাতায়াত খরচ যুক্ত হবে সার্ভিস চার্জের সঙ্গে।

একবার সৈয়দপুরের এক ক্লায়েন্ট তাকে আসা-যাওয়ার এয়ারের টিকিট দিয়েছিলেন, বলে জানান লাবণ্য। হোম সার্ভিস দিতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এই উদ্যোক্তা। কখনো পেয়েছেন একেবারে পরিবারের সদস্যের মতো আথিতেয়তা। আবার কখনো কখনো নানান কটু কথাও শুনেছেন।

এমনকি আশেপাশের মানুষ প্রথমে তার কাজ ভালো চোখে না দেখলেও, বর্তমানে লাবণ্যর সাফল্য তাদেরকেও গর্বিত করেছে। এসবে কষ্ট পেয়েছেন, আবার খারাপটা ভুলে গিয়ে ভালোগুলোকেই সঙ্গী করে এগিয়েছেন লাবণ্য।

কখনো কোনো প্রশিক্ষণ নেননি এই হেনা আর্টিস্ট। নিজের মতো করেই ডিজাইন দিতে পছন্দ করেন তিনি।

এরাবিক, ইরানি এবং ইন্ডিয়ান ডিজাইন খুব সুন্দর করে হাতে ফুটিয়ে তুলতে পারেন লাবণ্য। মাঝে মাঝে ক্লায়েন্টদের পছন্দ মতো নকশা এঁকে দেন। লাবণ্যর আঁকানো কনের ছবি খুব ভাইরাল হয়েছিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মেহেদি দিয়েই কনের ছবি এঁকেছিলেন কনের হাতে।

দেশে এই ধরনের কাজ তারই প্রথম। এ ছাড়াও তার করা এরাবিক কিছু ডিজাইনও খুব ভাইরাল হয়েছে সাম্প্রতিককালে। লাবণ্যই প্রথম আমাদের দেশের গতানুগতিক মেহেদি দেওয়ার ধারা এবং নকশায় বদল এনেছেন।

তার ভাষায়, ‘মেহেদির নকশায় কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিজাইন পরিবর্তন হতে থাকে। এখানে আর্টিস্ট তার নিজের রুচি, পছন্দ এবং কল্পনা থেকে কাজ করতে পারেন।’

লাবণ্য জানান, একদিনে ৬-৭টি কাজও হয় কখনো কখনো। হেনা আর্ট ছাড়াও লাবণ্য নিজ নামে হোমমেড অর্গানিক কোণ মেহেদিও বিক্রি করেন। যা তিনি নিজেই ঘরে তৈরি করেন। এই কোন তিনটি সাইজে হয়ে থাকে। যার দাম ১০০, ১৩০ এবং ১৬০ টাকা।

এক্ষেত্রেও শতভাগ প্রাকৃতিক এবং হালাল উপাদান ব্যবহার করেন তিনি। যে কেউ চাইলে এই মেহেদি কিনে ডিপ ফ্রিজে সপ্তাহখানিক সংরক্ষণ করে ব্যবহার করতে পারেন। এমন তাপমাত্রায় ২ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে লাবণ্যর ঘরে তৈরি কোন মেহেদি।

লাবণ্য নিশ্চিত করেন, ‘আমার মেহেদি একেবারেই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। যেহেতু কোনো কেমিকেল ব্যবহার করি না; তাই সবাই এটি ব্যবহার করতে পারবেন। আর মেহেদির রং আসলে স্কিন কালারের উপর নির্ভর করে। আমার মেহেদি পরলে ৩-৪ দিনের মধ্যেই গাঢ় হবে। এটি স্কিনে অ্যালার্জি বা র্যাশেরও সৃষ্টি করে না।’

লাবণ্য যেসব ইভেন্টগুলো করেন তার মধ্যে বেশিরভাগই থাকে- বিয়ে, জন্মদিন, বিয়ে বার্ষিকী। এ ছাড়াও অনেকে আছেন পাঁচ কিংবা ২৫ বছরের বিবাহ বার্ষিকি স্মরণীয় করে রাখতে চান, তারাও আছেন এই তালিকায়। ব্রাইডের ক্ষেত্রে তার চার্জ সর্বনিম্ন দুই হাজার থেকে শুরু করে ১২ হাজার পর্যন্ত রয়েছে।

নিজের সাধ্যের মধ্যে যে কেউ চাইলে বিশেষ দিনে মেহেদির রঙে হাত রাঙাতে পারেন। শখকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন লাবণ্য। এখান থেকে তার মাসে রোজগার সর্বনিম্ন ২০-৩০ হাজার টাকা। সিজনাল সময়ে এটি আরো বেড়ে যায় বলে জানান লাবণ্য।

বর্তমানে শান্তা মরিয়ম ইউনিভার্সিটিতে ফ্যাশন ডিজাইনের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী আফসানা হাসান লাবণ্য। স্বামীর সঙ্গে থাকছেন ঢাকাতেই। এ ছাড়াও পরিবারে আছে বাবা-মা এবং এক ভাই। লাবণ্য মেহেদি আর্টিস্ট হিসেবেই নিজের পরিচয় দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

আরো অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। লাবণ্য বর্তমানে হেনা প্রশিক্ষণও দেন অনলাইনে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ চার্জ দিয়ে ক্লাস করেন শিক্ষার্থীরা। অনেকেই তার কাছ থেকে শিখে নিজেরা পেইজ খুলেছে। নতুন নতুন উদ্যোক্তা উঠে এসেছে তার হাত ধরে।

ভবিষ্যতে যারা এই প্রফেশনে আসতে চান তাদের জন্য লাবণ্যর পরামর্শ হচ্ছে, অনেক বেশি অনুশীলন করতে হবে। কারণ এই সেক্টরে এখন অনেক প্রতিযোগিতা। যেখানে অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। নিজের কাজ দিয়েই নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে। প্রায় এক দশক ধরে মেহেদি আর্টিস্ট হিসেবে অনেকেই ক্যারিয়ার গড়ছেন।

মেহেদি দিতে পছন্দ করেন সব নারীই। ঈদ, বিয়ে কিংবা যে কোনো উৎসবে মেহেদি দয়া যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মেহেদি শুধু আমাদের দেশেই খুব জনপ্রিয় তা নয়, এ উপমহাদেশ, আফ্রিকা মহাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে ভীষণভাবে জনপ্রিয়।

প্রাচীনকাল থেকেই মেয়েরা তাদের সৌন্দর্যের একটি বড় উপকরণ মনে করেন এ মেহেদিকে। সাধারণত মেয়েরা মূলত হাতেই পরেন মেহেদি, তবে কেউ কেউ এটি পায়েও পরে থাকেন। নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও মেহেদি হাতে, চুলে ও দাড়িতে লাগিয়ে থাকেন।

একেক দেশে মেহেদির ব্যবহারে আছে ভিন্নতা। সুদানে মেহেদির ব্যবহার থেকে বিবাহিত-অবিবাহিত মেয়েদের চেনা যায়। সে দেশে যে নারীরা দুই হাতে মেহেদি পরেন তারা বিবাহিত; আর যারা মেয়ে এক হাতে মেহেদি পরেন তারা অবিবাহিত।

স্বাভাবিক জীবন চায় ভাসমান মান্তা সম্প্রদায়

যেখানে সমগ্র দেশ এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তির ছোঁয়ায়। মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে আধুনিকতার পরশে। সেখানে একটি সম্প্রদায় পিছিয়ে আছে একই ভূখণ্ডের ভেতরে! তারা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের জন্য নেই দেশের আর দশজন নাগরিকের মতো বেঁচে থাকার সুব্যবস্থা। বলছিলাম পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজে নৌকায় বসবাস করা মান্তা সম্প্রদায়ের কথা। বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত তারা। নদী, খাল, বিলের পানিতে চলন্ত নৌকায় বাস করেন তারা। এমন বসবাস যেন তাদের নিয়তি।

চরমোন্তাজে নৌকায় বসবাস করে এমন শতাধিক মান্তা পরিবার আছে। নদীতে মাছ ধরাই তাদের জীবিকার প্রধান উৎস। এসব পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই নৌকা ছাড়া। যেখানে থাকার জায়গা নেই; সেখানে টয়লেট ব্যবস্থা তাদের কাছে কল্পনা মাত্র। যেখানে একই নৌকায় সন্তানদের সঙ্গে মা-বাবাকে বসবাস করতে হয়; সেখানেই খোলা পরিবেশে পয়ঃনিষ্কাশনের মতো প্রয়োজনীয় কাজটি সেরে নিতে হয়।

সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে কেউ এমন প্রশ্ন করলে লজ্জায় মুখ লুকিয়ে নেন তারা। কারণ তাদের প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে হয় ভাসমান নৌকায় বসেই। শিশু-সন্তানদের সামনে এবং খুব কাছ থেকেই দৈনন্দিন কাজটি করতে হয়।

যে পানিতে তারা মল-মূত্র ত্যাগ করছেন; সেই পানিই আবার রান্না-গোসলে ব্যবহার করছেন। এসব কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন মান্তাসহ নদী তীরবর্তী জনগণ। সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য বিপর্যয়ে আছে শিশুরা। ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ লেগেই থাকে মান্তা বহরের একাধিক নৌকায়।

মান্তাদের মল-মূত্রের কারণে নদীর পরিবেশও খারাপ হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনগণের রাগ-ক্ষোভের মুখে পরছেন তারা। এ কাজের ফলে এলাকায় সাধারণ মানুষ তাদের ঘৃণার চোখে দেখে। স্থানীয়রা জানান, তাদের মল-মূত্রের কারণে নদীতে গোসল কিংবা কাপড়-বাসন ধোয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে স্থানীয় নদী তীরবর্তী জনপদের কাছে মান্তারা বিরক্তিকর ও ঝামেলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নৌকায় বসবাস করতে আগ্রহী এমন একজনও মান্তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাদের আগ্রহ আছে একখণ্ড মাটির পৃথিবীতে একটি ছোট্ট ঘরের প্রতি। এমন স্বপ্ন থাকা সত্ত্বেও তাদের সাধ্য নেই।

মান্তাদের জীবনমান ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি তেমন কোনো উদ্যোগ। এমনটাই জানালেন মান্তা সম্প্রদায়ের একাধিক জন। তারা জানান, মান্তা বহরে যারা আছেন; তাদের জমি নেই। কিন্তু দীর্ঘদিন একই জায়গায় নৌকা লাগিয়ে বসবাস করে যাচ্ছেন। এমন স্থানগুলোয় স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে যদি টয়লেটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, তবে মান্তারা তা ব্যবহার করতে পারতো।

চরমোন্তাজে মান্তা সম্প্রদায়ের একজন জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘দিন আধুনিক হইছে, কিন্তু আমরা আউগাতে (আগাতে) পারি নাই। টয়লেট ব্যবস্থার উন্নতি হবে, তবে তার আগে দরকার স্থায়ী বসতির। ঘর-বাড়ি থাকলে সব ঠিক হয়ে যেত। কিন্তু সেটাই তো আমাদের নেই। আগের যুগের মত টয়লেট ব্যবস্থা আমাদের জন্য লজ্জার। কিন্তু উপায় কি বলেন?’

স্থানীয় সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী আইয়ুব খান এ বিষয়ে বলেন, ‘১৯৮৪ সাল থেকে মান্তা পরিবারগুলো চরমোন্তাজের সুলিজ খালে বসবাস শুরু করে। তাদের জন্ম-মৃত্যু নৌকায়। তাদের কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। তাদের জীবনমান উন্নয়নে সমাজ ও রাষ্ট্রের নজরদারি খুব জরুরি হয়ে উঠেছে। বহর বিবেচনায় একটি করে হলেও টয়লেট দরকার।’

সম্প্রতি তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে বেসরকারি কিছু উন্নয়ন সংস্থা। তাদের স্যানিটেশন সমস্যা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে স্থানীয় শিক্ষিত তরুণরাও। তারা জানান, সব সমস্যার মূলে রয়েছে মান্তাদের থাকার জায়গার অভাব। তাদের যেমন কোনো জমি নেই, তেমনই তারা কখনোই স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে পারে না।

তারা আরও জানান, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য উন্নয়ন করতে হলে এ মান্তা জনগোষ্ঠীর সবাইকে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে এ ভূমিহীন জনগোষ্ঠীকে সরকারি খাস জমির বন্দোবস্ত করে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

আমেরিকা গর্তে পড়লে উগান্ডাও লাথি মারে

বাংলা প্রবাদ-প্রবচনের কোনো কোনোটির বিদেশি ভার্সনও রয়েছে। কোনো কোনোটির তো আছে বিশ্ব ভার্সনও। বাংলা প্রবাদে আছে ‘হাতি গর্তে পড়লে চামচিকায়ও লাথি মারে।’ এটির ইংরেজি ভার্সন হচ্ছে: Little birds may peck a dead lion. তাদের প্রবাদটিতে হাতি-চামচিকার কথা নেই। সেখানে রয়েছে সিংহ ও ছোটপাখির কথা। তবে, মর্মার্থ একই। বাস্তবে হাতি কাদায় পড়ার পর চামচিকা লাথি-উষ্ঠা মেরেছে এমন ঘটনা না থাকলেও এটি উপমা হিসেবে চমৎকার। বোঝা যায় সেখান থেকেই প্রবাদটির জন্ম। তবে, জন্মটা আগে বাংলায় না ইংরেজিতে?- এ নিয়ে তথ্য নেই।

আফগানিস্তান ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আপাতত কিছুটা হাতির গর্তে পড়ার মতো। মার্কিন সৈন্যদের রাতের আঁধারে আফগানিস্তানের বাগরাম ঘাঁটি ছেড়ে চলে যাওয়ার খবরটি বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্রেকিং হয়েছে। আর আলোচনা-সমালোচনা তো দুনিয়া জোড়া। বাগরামের নতুন কমান্ডার জেনারেল আসাদুল্লাহ কোহিস্তানি বিবিসিকে বলেছেন, আমেরিকানরা ২ জুলাই পবিত্র শুক্রবার শেষরাতে সেখান থেকে চলে গেছে। আফগান সামরিক বাহিনী ব্যাপারটা টেরই পায়নি। তারা জেনেছে মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা পর। আধুনিক বিশ্বের জন্য বিষয়টি কিছুটা বিস্ময়করও। তবে, তালেবানরা দ্রুত জেনেছে। জেনে আর দেরি করেনি। ঝাঁপিয়ে পড়ে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ হাতে নিতে।

মার্কিনিদের জন্য আফগানিস্তানে ভাইটাল স্পট এই বাগরাম। পূর্ব-ঘোষিত চূড়ান্ত সময়সীমার আগেই তাদের এটি এভাবে খালি করে দিয়ে চলে যাওয়ার রহস্য এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে। এ বছরের গোড়ার দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষণা করেছিলেন, আফগানিস্তান থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে আমেরিকা। সেই সময়ের অন্তত দুই মাস আগেই চম্পট দেয়ার ঘটনা। আফগানিস্তানকে সুরক্ষা দিতে ১৯৫০-এর দশকে এই বিমানঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রই তৈরি করেছিল। এরপর ১৯৭৯ সালে রাশিয়ার রেড আর্মি আফগানিস্তানে আক্রমণ চালানোর পর এই বিমানঘাঁটির দখল নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। পরে এটির দখল নেয় একটি মুজাহেদিন প্রশাসন। ১৯৯০ এর দশকের মাঝামাঝিতে তালেবান ক্ষমতায় এলে বিমানঘাঁটিটি তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। এর বছর দশেক পর ২০০১ সালে আফগানিস্তানের দখল নিয়ে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করে দ্রুত বিমানঘাঁটিটির পুনর্দখল করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এটিকে তারা বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আরো সম্প্রসারণ করে। সেখান থেকেই মার্কিন বাহিনী গত বিশ বছর ধরে তালেবানদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছে।

এর আগে, কাশেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন সৈন্যরা ইরাকের ঘাঁটিতে ব্যাপক মার খেয়েছে। নিহত হয়েছে শতাধিক মার্কিন সৈন্য। আহত ও পঙ্গু হয়েছে অনেকে। ইরাকের সেই ঘাঁটিতে আমেরিকার অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও অবিরাম মার খেয়েছে। এসব নানান দিক চিন্তা করে বাইডেন প্রশাসন এখন ইরানের সাথে আপোসমুখি। ইরানও অনেকটা নির্ভারে এখন সমগ্র আরব আফ্রিকায় সামরিক নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইয়ামিনের হুথিদের ড্রোনের কাছে কাবু হয়ে সৌদি আরব, কুয়েত ও জর্ডান থেকেও যুক্তরাষ্ট্র অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এরমাঝে নানা হিসাব ও সমীকরণ শুরুও হয়েছে। যারা আমেরিকান প্রত্যাহারের জন্য নানাভাবে দাবি দাওয়া জানাচ্ছিল, তারাও সত্যি সত্যি যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান থেকে বিদায় নিয়ে নানা হিসাব নিকাশ কষছে। যুক্তরাষ্ট্র আরো কিছু দিন আফগানিস্তানে থাকলে সক্ষমতা প্রকাশ পেতো- এমন উসকানি ছাড়ছে। আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এভাবে কেটে পড়া ঠিক হয়নি- এমন টাইপের উস্কানিও কম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান থেকে বিদায় অন্য কোনো বৃহত্তর পরিমণ্ডলে জড়িত হবার প্রস্তুতি কিনা- এ ভয়ও কাজ করছে অনেকের মধ্যে।

হাতি নয়, বাঘ-সিংহ তুল্য মহাশক্তিধর মনে করে বিনা লাভেও যেসব দেশ বা মহল বা কিছু গণমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের তোষামোদি করেছে তারাও এখন দেশটির সমালোচনা করার মধ্যে অন্যরকম থ্রিল পাচ্ছে। সত্যিই যেন হাতি গর্তে পড়েছে। যা ইচ্ছা বলা যায়, করা যায়। হাতি মরলেও লাখ টাকা-এমন প্রবাদও কিন্তু আছে। The very ruins of greatness are great-প্রবাদের মার্কিনিরা ক্ষমতার কদর সব সময়ই থাকে বলে বার্তা দেয়। কেবল মার্কিনি নয় সময় খারাপ দেখলে সব প্রাণিই দম নেয়। অপেক্ষা করে পরবর্তী সময়ের জন্য। এই নজির আমেরিকার অনেক আছে। একেক সময় একেক রূপ ধারণের ইতিহাসও রয়েছে বিশ্বের এই সুপার পাওয়ার দেশটির। ভিয়েতনামে পরাজিত হয়ে সেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সাহায্য দিয়েছে দেশ পুনর্গঠনের জন্যে। এখন ভিয়েতনাম তার বন্ধু। তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছে। আবার স্বাধীনের পর বন্ধু হয়েছে। দিয়েছেও অনেক। তবে, চামচিকা হয়ে নয়। বাঘভালুক, সিংহ বা হাতির মতো দাপটের সঙ্গেই দিয়েছে।

এবার আফগানিস্তানের প্রশ্নে গর্তে পড়া হাতি নিজে থেকেই উঠে দাঁড়াবে, নাকি নতুন পরিস্থিতি ও নতুন মিত্র বানিয়ে ভিন্ন কিছুর অপেক্ষা করবে সেটা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে। বিশ্বায়নের আধুনিক বিশ্বে কাউকে চামচিকা বলে তাচ্ছিল্যের দিন শেষ হয়ে এসেছে। এরপরও চেষ্টার কমতি করে না। আফগান কেন সুযোগ পেলে উগান্ডানরাও দেখিয়ে দেয়ার পোষণ করা আশা গোপন রাখেন না। পাকিস্তান তো এক ঝলক দেখিয়েই দিয়েছে। পাকিস্তানের ইমরান খানের ভূরাজনীতির বোলিংয়ে আমেরিকাকে আপাতত হারতে হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পরে প্রেসিডেন্ট বাইডেন পাকিস্তানে একটি ঘাঁটি রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, হাতির গর্তে পড়া আঁচ করে ইমরান খান বেঁকে বসায় সেটি হলো না। তালেবানদের পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়ন ও দেখভাল অনেকটা ওপেন সিক্রেট। আবার তালেবানদের সঙ্গে মার্কিনিদের চুক্তির মধ্যস্ততা পাকিস্তানই করেছে। পরিস্থিতি আঁচ করে ভারতও নড়েচড়ে বসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাশ্মীরের সেই ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে আগের অবস্থায় গেছেন। পুরাতন অনেক মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা করেছেন। চীন-রাশিয়া তো ভ্যাংচি কাটছেই। যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর খবরদারির হিম্মত হারিয়ে ফেলেছে বলে বিশ্বাস পোক্ত হচ্ছে দেশ দুটিরই।

আফগানিস্তানে তালেবানদের বিজয় ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তনের সঙ্গে ভূরাজনীতিতেও নুতুন মেরুকরণের সমীকরণ রয়েছে। ন্যাটোর সেনারা কাতার চুক্তি মোতাবেক আফগানিস্তান ছাড়লেও দেশটিতে কিছু জঞ্জালের বিজ বপন করে যাচ্ছে। তারা যাবার বেলায় আফগানিস্তানের সাধারণ উপজাতিদের মধ্যে অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য কী? যেন তারা তালেবান ঠেকানোর নামে গৃহযুদ্ধে মেতে থাকে, সেজন্য?

টিকটককে টেক্কা দিতে এলো ‘ইউটিউব শর্টস’

বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে উন্মুক্ত করা হলো ইউটিউবের স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও তৈরির নতুন ফিচার ‘ইউটিউব শর্টস’। মূলত টিকটককে টেক্কা দিতেই টিকটকের মতো এই পরিষেবা নিয়ে এসেছে ইউটিউব।

ইউটিউব কর্তৃপক্ষের দাবি, ইউটিউব শর্টস টিকটকের চেয়েও বেশি এবং আকর্ষণীয় ফিচারে ভরপুর। কেননা ইউটিউব শর্টস দিচ্ছে ইউটিউবের মতো বিশাল ভিডিও লাইব্রেরি যুক্ত করার সুবিধা।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বপ্রথম ভারতে ইউটিউব শর্টস উন্মুক্ত করে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। এরপর ২০২১ সালের মার্চে আমেরিকায় লঞ্চ করে। যুক্তরাজ্যে ২০২১ সালের জুনে ইউটিউব শর্টস লঞ্চ করে। কিন্তু এখন ইউটিউব চাচ্ছে যেখানেই ইউটিউব আছে সেখানেই ইউটিউব শর্টস থাকবে। আর তাই এবার বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে উন্মুক্ত করা হলো ইউটিউব শর্টস।

ইউটিউব শর্টসের নানা ফিচারের মধ্যে রয়েছে- অনেকগুলো ভিডিওকে একটি ভিডিও বানিয়ে আপলোড করা, স্পিড কন্ট্রোল, টাইমার এবং কাউন্ট ডাউন সুবিধা যাতে নিখুঁতভাবে ভিডিও আপলোড করা যায়। তাছাড়া গ্যালারির ভিডিও যুক্ত করা যাবে ইউটিউব শর্টস ক্যামেরায়, ক্যাপশন যোগ করা যাবে, ইফেক্ট যুক্ত করা যাবে, ফিল্টার সুবিধা এবং আরও অনেক ফিচার।

সুতরাং যারা টিকটক করে সেলেব্রিটি হতে পারেননি তারা এবার ইউটিউব শর্টস-এ চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আর যারা ইতিমধ্যেই টিকটক সেলেব্রিটি তারা রেডি থাকুন আরও বড় কিছুর জন্য।