বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 490

বল আনতে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের!

চট্টগ্রামের রাউজানে বিদ্যালয়ের মাঠে ক্রিকেট খেলার সময় বল কুড়িয়ে আনতে গিয়ে প্রাণ গেল স্কুলপড়ুয়া ছাত্রের। লোহার পাতে আঘাত পেয়ে মুহাম্মদ ওমর আকবর তাসিন (১৪) নামের ওই স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়। গতকাল সোমবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।

তাসিন রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গশ্চি কার্কনের দিঘি এলাকার ব্যবসায়ী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

চার ভাইয়ের মধ্যে আকবর দ্বিতীয়। আকবর বাকলিয়া কর্ণফুলি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। সে বাবা-মায়ের সঙ্গে নগরীর চকবাজার এলাকার বাসায় থাকত।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি ও স্কুলছাত্রের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওমর আকবর সোমবার বিকেলে ওই স্কুলের মাঠে খেলার সঙ্গীদের নিয়ে ক্রিকেট খেলছিল। একপর্যায়ে ক্রিকেট বল গিয়ে পড়ে ওই বিদ্যালয়ের ছাদের একটি পরিত্যক্ত পানির ট্যাংকে। ওমর আকবর বল নিতে ওই ট্যাংকে উঠলে অসাবধানতাবশত লোহার একটি পাত তার ওপর ফসকে পড়ে। এতে সে বুকে, মুখে ও মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পায়। এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের গশ্চি কার্কনের দিঘি জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠে তার নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খেলতে গিয়ে বল কুড়িয়ে আনার সময় ছেলেটি লোহার পাতে আঘাত পেয়ে রক্তক্ষরণ থেকে মারা যায়।

নোয়াপাড়ার নয়া চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে গুলি, এলাকায় আতঙ্ক-উত্তেজনা

চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়া ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়াকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুষ্কৃতকারীরা। গতকাল ৩১ জানুয়ারি সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে নোয়াপাড়া পথেরহাটের দিক থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে বাড়ির কিছুটা অদূরে তাহেরীয়া মাদরাসার পাশে এই ঘটনা ঘটে। গুলি চেয়ারম্যানের গায়ে না লাগলেও যে সিএনজি অটোট্যাক্সি থেকে গুলি করা হয়, তা আটক করেছে জনতা। তবে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে গেছে

এদিকে এই হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর প্রতিবাদে কাপ্তাই সড়কের নোয়াপাড়া, উরকিরচর, পাহাড়তলী, বাগোয়ান ইউনিয়নের নয়াহাটসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ির টায়ার পুড়িয়েছে বিক্ষুব্ধরা। রাতেই বিভিন্ন ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংঠনের নেতাকর্মীরা নোয়াপাড়ায় এসে অবস্থান নেন। তৎক্ষণাৎ ছুটে আসেন স্থানীয় এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। এ ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে নোয়াপাড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে। ঘটনার পর থেকে জনকোলাহলপূর্ণ নোয়াপাড়া পথেরহাটে সব দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। পুলিশ বিশেষ সতর্কতায় অবস্থান নেয়।

এ ব্যাপারে থানার সেকেন্ড অফিসার অজয় দেবনাথ বলেন, হামলাকারীদের ব্যবহৃত সিএনজি অটোট্যাক্সি, দা ও ছুরি পাওয়া গেছে। কাউকে ধরা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।

kalerkantho

ভাঙাচোরা ৩ সেতু দিয়ে হাজারো মানুষের যাতায়াত

বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের গড়িয়াবুনিয়া গ্রামে ৩টি সংযোগ খালের ওপর নির্মিত ৩টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে ওইসব সেতু দিয়ে পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ৫-৬টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের। সেতুগুলো সংস্কার কিংবা পুনঃনির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের গড়িয়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে তালগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় যাওয়ার পথে দুইটি সেতু কয়েক বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিদিন এই ২টি সেতু দিয়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষ চলাচল করেন। অন্য সেতুটি গড়িয়াবুনিয়া বাজার ও গড়িয়াবুনিয়া ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংযোগস্থলে। এই সেতু দিয়েও প্রতিদিন ২ হাজারের বেশি চলাচল করেন।
সেতু ৩টির উভয় পাড়েই রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুটিয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পোস্ট০ অফিস, একটি হাফিজিয়া মাদরাসা, দরবার শরীফ, রানীপুর গড়িয়াবুনিয়া এহছাকিয়া আলিম মাদরাসা, ৭টি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ ও গড়িয়াবুনিয়া বাজার। ভ্যানগাড়ি, ইজিবাইক, মোটরবাইক ও শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। এসব সেতু স্লাভ ভেঙে পরে গিয়েছে আরো দুবছর আগে। লোহার এঙ্গেলে মরিচা ধরছে। ওপরের প্লাস্টারের পাটাতন ভেঙে গেছে। ভাঙা অংশে, বাঁশে কঞ্চি, গাজকচা, সুপারি গাছের ফালি দিয়ে, সুতা ও গুনা দিয়ে বেঁধে চরম ঝুঁকিতে লোকজন চলাচল করছে।

এ সেতু তিনটির একটি দিয়েও গাড়ি চলাচল করার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। ওই গ্রামের বাসিন্দা শান্তিরঞ্জন বেপারী জানান, গড়িয়াবুনিয়া বাজারের যে সেতুটি রয়েছে সেটা দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী পুটিয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেতাগী সরকারি কলেজ, বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজে যাতায়াত করেন। কিন্তু সেতু ভেঙে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

গড়িয়াবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা বেতাগী সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সেবিকা হাওলাদার জানান, সেতুর ওপরের অংশ ভেঙে যাওয়ার কারণে কোনো যানবাহন চলাচল করে না। এ কারণে আমাদের কলেজে যেতে হলে সেতুর ওপার পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে তারপর গাড়িতে উঠতে হয়। সময়মতো কলেজ করতেও পারি না।

সেতু সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে এ বিষয় বিবিচিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. নওয়াব হোসেন নয়ন বলেন, সেতু ৩টি পুনঃনির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার বলেন, এখন কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যেভাবে হত্যা করা হয় সিনহাকে

কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (অব.)। এ ঘটনায়, র‌্যাবের তদন্ত ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সেদিনের ঘটনার নানা তথ্য উঠে আসে। গতকাল আদালতের রায়ে বলা হয়েছে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

মেজর (অব.) সিনহা তাঁর ‘জাস্ট গো’ ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভ্রমণবিষয়ক ডকুমেন্টারি ফিল্ম তৈরির জন্য ৩ জুলাই কক্সাবাজারে যান।

সেখানে তাঁর সঙ্গী ছিলেন স্টামফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথ ও সাহেদুল ইসলাম সিফাত। তাঁরা মেরিন ড্রাইভের নিলিমা রিসোর্টে উঠে বিভিন্ন স্থানে ভিডিও ধারণ করছিলেন। ঘটনার দিন তাঁরা শিপ্রাকে হোটেলে রেখে টেকনাফে মারিশবুনিয়া এলাকার পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে শামলাপুরে এপিবিএনের তল্লাশি চৌকিতে পুলিশ তাঁকে গুলি করে। পরিদর্শক লিয়াকত একে একে সিনহাকে চারটি গুলি করেছিলেন। আর টেকনাফ থানার ওসি ফোনে তাঁকে নির্দেশনা দেন।
সিনহার নিথর দেহ যখন রাস্তায় পড়েছিল, তখন ওসি প্রদীপ সেখানে গিয়ে বুট জুতা দিয়ে লাথি মেরে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। প্রথমে তাঁরা সিনহাকে ডাকাত বলে প্রচার করেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা তাঁর হোটেল রুম তল্লাশি করে সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলে পাঠান। পরে র‌্যাবের তদন্তে উঠে আসে বিনা উসকানিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুলি করে হত্যার বর্ণনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে ঘটনার পূর্ণ বিবরণের সঙ্গে অনেক প্রশ্ন আসে সামনে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাহাড় থেকে নেমে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে আসার আগে সিনহা বিজিবির একটি চৌকিতে থেমেছিলেন। বিজিবির সদস্যরা সিনহার পরিচয় জানার পর তাঁকে স্যালুট করেছিলেন। সেখান থেকে ছয় কিলোমিটার আসার পর শামলাপুর তল্লাশি চৌকি, যেখানে সিনহাকে গুলি করা হয়। সিনহার গাড়ি তল্লাশি চৌকিতে এলে কনস্টেবল রাজীব সংকেত দেন। গাড়ি থেমে যায়। বাঁ দিকের কাচ নামিয়ে সিনহা পরিচয় দিলে এসআই শাজাহান পেছনে সরে যান। গাড়ি আবার চলতে শুরু করে। এরপর লিয়াকত এসে ব্যারিকেড দিয়ে পিস্তল তাক করেন।

সিনহাকে গুলি করার ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর প্রদীপ ঘটনাস্থলে আসেন। এর আগে সিনহাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রদীপ আসার ২২ মিনিট পর সিনহাকে ট্রাকে তোলা হয়।

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে অগ্নিকাণ্ড

রাজধানীর খিলগাঁও মেরাদিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪৫মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থালে যাওয়ার আগেই আগুন নিভে যায়। এই ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর থেকে ডিউটি অফিসার লিমা খানম কালের কণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মেরাদিয়া মধ্যপাড়ায় একটি টিন বাড়িতে আগুন লাগে। আগুন নিভে গেছে।

১১ সপ্তাহ পর আজ বাসায় ফিরছেন খালেদা জিয়া

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফিরছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৬টার দিকে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করবেন।

এই তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, এ উপলক্ষে এভারকেয়ার হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষের গঠিত খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ড সংবাদ সম্মেলন করবে।

হাসপাতালটির অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ জনের একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম তার চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। ৭৭ বছর বয়সী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী অনেক বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

২০৮ ইউপিতে ভোটগ্রহণ চলছে ইভিএমে

ষষ্ঠ ধাপে ২০৮ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে।

রোববার সকাল ৮টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়; একটানা চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

এ ধাপে সব ইউপিতেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া স্থগিত দুটি ইউনিয়ন পরিষদ ও পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভায়ও ভোট হচ্ছে।

ষষ্ঠ ধাপে ২২ জেলার ৪২ উপজেলার ২১৯ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। বাকি ২১৬টির মধ্যে কুমিল্লার মনোহরদী উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে সবাই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ওই সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

ইসি জানিয়েছে, ষষ্ঠ ধাপের নির্বাচনে সব মিলিয়ে ১৪৪ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১২ জন, সদস্য পদে ১০০ ও সংরক্ষিত সদস্যপদে ৩২ জন রয়েছেন।

এসব পদ বাদে বাকিগুলোতে ভোট হচ্ছে। এ ধাপে ১১ হাজার ৬০৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে এক হাজার ১৯৯ জন, সংরক্ষিত সদস্যপদে দুই হাজার ৫৫৯ এবং সাধারণ সদস্যপদে সাত হাজার ৮৪৬ প্রার্থী রয়েছেন। এই নির্বাচনে মোট ভোটার রয়েছেন ৪১ লাখ ৮২ হাজার ২৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২১ লাখ ১৪ হাজার ৭২০ ও নারী ভোটার ২০ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ জন। এ ছাড়া ছয়জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

নির্বাচনি এলাকায় ইতোমধ্যে মোটরসাইকেলসহ কয়েক ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি থাকছে।

এ ছাড়া গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে এসব এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণাও বন্ধ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে র্যা ব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনি এলাকায় টহল শুরু করেছেন। তারা থাকবেন ভোটের পরের দিন পর্যন্ত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে রয়েছেন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

চলমান ইউপি নির্বাচনে ইতোমধ্যে পাঁচ ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। গত ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপের দুই দফায় ৩৬৪টি এবং ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ৮৩৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়া ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে ৯৯২টি, চতুর্থ ধাপে ২৬ ডিসেম্বর ৮৩৬ ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হয়।

পঞ্চম ধাপে গত ৫ জানুয়ারি ৭০৮ ইউপিতে ভোট হয়েছে। সপ্তম ও শেষ ধাপে ১৩৮ ইউপিতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

টেস্ট বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট

দেশের সর্ববৃহৎ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ডিএমসিএইচ)। বিস্ময়কর হলেও সত্য, এখানে নানা রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জাম প্রায় সময়ই থাকে বিকল। এছাড়া ২০ ভাগ পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থাই নেই। এই সুযোগে হাসপাতালের ভেতরেই গড়ে উঠেছে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকদের একটি শক্তিশালী চক্র। তাদের প্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে হাসপাতালের রোগীর নমুনা সংগ্রহ করছেন। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের রিসিটের মাধ্যমে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। এ প্রক্রিয়ায় অনেক অসাধু চিকিৎসকও জড়িত। তাদের কারসাজিতে এখানে ভর্তি রোগীর নমুনা চলে যাচ্ছে পাশেই গড়ে তোলা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। ডিএমসিএইচ ঘিরে গড়ে ওঠা চিকিৎসক সিন্ডিকেটের এই ‘টেস্ট’ বাণিজ্য এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। ফলে উচ্চমূল্যে টেস্ট করাতে গিয়ে ওষুধ কেনার টাকা থাকছে না অনেক রোগীর। যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হকের সঙ্গে যুগান্তরের কথা হয়। তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের কাছ থেকে প্রাইভেট ক্লিনিকের লোকদের নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি আইনসিদ্ধ নয়। একটি চক্র গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল রোগীদের বিভ্রান্ত করে এ কাজ করছে। অনেক সময় চক্রের সদস্যরা হাসপাতালের স্টাফ পরিচয়ে রোগীদের ফাঁদে ফেলছে। ক্যাশ টাকার লেনদেন হওয়ায় আমাদের কিছু লোকজনও এ কাজে জড়িয়ে পড়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শতকরা ৮০ ভাগ পরীক্ষা আমাদের এখানেই হয়। ২০ ভাগের সুযোগ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এজেন্টরা ঢুকে পড়ছে। ইদানীং এ কাজে চিকিৎসকদের একটি গ্রুপ সক্রিয় বলে শুনেছি। এটা তাদের নৈতিকতার পরাজয়। এসব বন্ধে আমরা নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি। ইলেকট্রনিক মেডিকেল রিপোর্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা চালু করা গেলে বাইরের কোনো প্যাথলজি রিপোর্ট যখন আমাদের সফটওয়্যারে আপলোড হবে না তখন এমনিতেই এই চক্রটির তৎপরতা বন্ধ হয়ে যাবে। আপাতত আমরা এন্ট্রি পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করছি। এছাড়া কিছুদিন পরপরই র‌্যাব অভিযান চালায়। তারা দালালচক্র ও অবৈধ কাজে জড়িতদের ধরে নিয়ে যায়। জেল-জরিমানা করে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকার বাসিন্দা ইউনুস আলীর কিশোরী মেয়ে ইরিনা ভর্তি আছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে। পেটে ব্যথা অনুভব করলে তার ব্লাড, ইউরিনসহ বেশ কিছু টেস্ট করাতে বলেন চিকিৎসক। যেগুলো ডিএমসিএইচে হয়ে থাকে। কিন্তু ইউনুস আলী কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইরিনার বেডের পাশে হাজির রোকন নামের এক যুবক। তিনি চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহ করেন। ইরিনা তখনো জানেন না রোকন হাসপাতালের স্টাফ নাকি, বহিরাগত। নমুনা সংগ্রহের পরও ইরিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেননি রোকনের আসল পরিচয়। তারা শুধু জানেন, সবুজ শার্ট পরা রোকন নামের এক লোক ইরিনার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে। ইউনুস আলী জানান, এই পরীক্ষা বাবদ ৩ হাজার ৪০০ টাকার একটি বিল তার হাতে ধরিয়ে ২ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে গেছেন রোকন। পুরো বিল পরিশোধের সময় কিছু ডিসকাউন্ট দেওয়া হবে বলেও জানিয়ে গেছেন।

ইরিনার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহকারী রোকনের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, তিনি পাশের অথেনটিক ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন লিমিটেডের কর্মী। এই প্রতিষ্ঠানের একটি ক্যাশ ভাউচারে কপি পাওয়া যায় ইরিনার বাবার কাছে। ২৫ জানুয়ারি রোকনের সই করা ভাউচারে রোগীর পরিচয় ও ঠিকানা লেখা আছে, মিস ইরিনা, ডিএমসিএইচ, ওয়ার্ড ৭০১, বয়স ১৭। ক্যাশ ভাউচারে মোট ৩ হাজার ৪৪০ টাকা বিলের মধ্যে ২ হাজার টাকা পরিশোধ দেখানো হয়েছে। এরপর ভাউচারে দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বরে এ প্রতিনিধির কথা হয়। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, সরকারি হাসপাতালের ভেতর থেকে প্রকাশ্যে কীভাবে রোগীর নমুনা সংগ্রহ করেন। আর এ কাজ বৈধ কিনা-জবাবে তিনি বলেন, তারা নিজের ইচ্ছায় নমুনা আনেন না। রোগীরা তাদের ডাকলে যান। তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে নমুনা সংগ্রহকারী হিসাবে চাকরি করেন বলেও স্বীকার করেন।

আরও জানা গেছে, রোকন একা নন, অথেনটিক ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন লিমিটেডের অন্তত ২০ জন কর্মী হাসপাতালের ১২টি ওয়ার্ডে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের রয়েছে নিজস্ব ড্রেসকোট। এছাড়া পপুলার, পিওর সায়েন্টিফিক, হেলথ এইড, ঢাকা ডায়াগনস্টিক নামের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের হাসপাতালের ভেতর থেকে রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করতে দেখা যায়। ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্সদের সামনেই তারা রোগীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। তারা হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সদের মতোই পালাক্রমে ডিউটি করেন। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে রোগীর ব্যক্তিগত ফাইল ঘেঁটে চিকিৎসকদের চিকিৎসাপত্র দেখেন। তাতে টেস্ট করানোর নির্দেশনা থাকলেই স্বজনদের ফুসলিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যান। ওয়ার্ডের এক কোণেই রাখেন তাদের নমুনা সংগ্রহের সরঞ্জাম। যেন সরকারি হাসপাতালে বেসরকারি ক্লিনিকের সাব অফিস-এমন মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। আবার অনেক চিকিৎসক কোথা থেকে টেস্ট করাতে হবে তা সরাসরি রোগীর স্বজনদের বলেই দেন। এ কাজে ডিএমসিএইচ ঘিরে অসাধু চিকিৎসকদের একটি সিন্ডিকেটও গড়ে উঠছে। এই সিন্ডিকেটের হোতারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পছন্দের চিকিৎসকদের এনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দিচ্ছেন। এই পদের একজন চিকিৎসকের অধীনে দুটি ওয়ার্ড পরিচালিত হয়। তারাই মূলত নিয়ন্ত্রণ করেন নিজ নিজ ওয়ার্ডের টেস্ট বাণিজ্য। অতি সম্প্রতি মেডিসিন বিভাগে চারজন চিকিৎসককে বসানো হয়েছে। তারাও টেস্ট বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন। চিকিৎসকরা জড়িত থাকায় এই চক্রের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে হাসপাতালের অন্য স্টাফরাও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে এসব চিকিৎসক পপুলার, ল্যাবএইডে রোগী পাঠাতেন। এখন তারা নিজেরাই ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে বসেছেন। ২০০ পার্সেন্ট লাভের ব্যাবসায় নেমে অনেক চিকিৎসক নিজেদের পরিচয় ভুলে গিয়ে ব্যবসায়ীদের মতো মুনাফার লোভে যা খুশি তাই করছেন। এদের কারসাজিতেই হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাবে সব সময় সংকট লেগেই থাকে।

টেস্ট বাণিজ্যে চিকিৎসকদের জড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি, স্বাচিপের সাবেক নেতা ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটুর সঙ্গে কথা হয় যুগান্তরের। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্র্যাকটিস চালু করা গেলে এ সমস্যা বহুলাংশে লাঘব করা সম্ভব । এতে সরকারি হাসপাতালের রোগী বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর বন্ধ হবে। অফিস সময়ের পর রোগীরা সরকারি হাসপাতালেই আউটডোর ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা পাবেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি ক্লিনিকের লোকজনদের নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি দৃষ্টিকটু। আইনসিদ্ধও নয়। তারপরও সিস্টেমের কারণে এটা চলছে। সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতার অভাব ও কর্মী সংকটের কারণে এই প্রবণতা বন্ধ করা যাচ্ছে না।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, আড়ালে থেকে ডিএমসিএইচকেন্দ্রিক চক্রের মদদ দেন সরকারি দলের একজন চিকিৎসক নেতা। তিনি সাবেক সংসদ সংসদ্য। আর প্রকাশ্যে চক্রের বড় অংশের নিয়ন্ত্রক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আফজালুল হক রানা। এই চক্রের সদস্যদের মালিকানায় ঢাকা মেডিকেল সংলগ্ন রাস্তার পাশে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার। এই প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনে সহযোগিতা করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিতর্কিত একজন কর্মকর্তা। ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি যখন স্থাপন করা হয় তখন তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক, হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিক পদে দায়িত্বে ছিলেন। দুর্নীতির দায়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে। বিভিন্ন রোগের পাশাপাশি করোনা টেস্ট বাণিজ্যও করছে প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকা মেডিকেলে করোনা টেস্ট ফ্রি করা হলেও এখান থেকে রোগীদের ভাগিয়ে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় করোনা টেস্ট করছে তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তার সহযোগিতায় করোনা টেস্টের অনুমোদন নিয়ে বসানো হয়েছে আরটিপিসিআর মেশিন। তবে তাদের টেস্টের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও অথেনটিক ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন লিমিটেডের পরিচালক আফজালুল হক রানা বলেন, ঢাকা মেডিকেলের অধিকাংশ রোগীই গরিব। তাদের কাছে আর কত টাকা থাকে। যে তাদের ভাগিয়ে এনে ভর্তি করা হবে। রোগী ভাগানোর বিষয়টি ইমপসিবল। রোগীদের অনুরোধে অনকলে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আমরা যেহেতু হোম সার্ভিস দিই, তাই হাসপাতাল থেকেও আনি। আর এটা শুধু আমরা একা করি না। পপুলারসহ অনেকেই ঢাকা মেডিকেলে কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, সরকারি হাসপাতালের ২০০ গজের মধ্যে কোনো বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন করা যাবে না-এমন একটি নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেই উদ্যোগ এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা সরেজমিন দেখা গেছে, ডিএমসিএইচের ২০০ গজের কম দূরত্বে গড়ে উঠেছে অথেনটিক ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন লি., হেলথ এইড ডায়াগনিস্টিক সেন্টার, পিওর সায়েন্টিফিক ডায়াগনস্টিক সার্ভিসেস, ঢাকা ডায়াগনস্টিকসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের সেবা নিয়ে আছে নানা প্রশ্ন। এদের এজেন্ট, দালালরা ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি রোগীদের টেস্ট বাণিজ্য এবং রোগী ভাগানোর কাজ করে। ঢাকা মেডিকেলের ভেতরে ও বাইরে তাদের তৎপরতা দেখা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা যুগান্তরকে বলেন, সরকারি হাসপাতালের ২০০ গজের ভেতর কোনো বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক করা যাবে না মর্মে একটি প্রস্তাব অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারি হাসপাতালের রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা অবৈধ। কেউ যদি আমাদের কাছে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করে অবশ্যই তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাইডেন পৌঁছার আগেই সেতু ভেঙে আহত ১০

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিনভানিয়া অঙ্গরাজ্যের পিটসবার্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পৌঁছার আগেই একটি সেতু ধসে পড়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) শহরটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্ধারিত সফরের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এ ঘটনা ঘটে। দেশের অবকাঠামো শক্তিশালী করতে বাইডেনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ সফর।

কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে হয় এ ঘটনা। ভেঙে পড়ে বরফে আচ্ছন্ন ব্রিজের স্প্যান। সে সময় পড়ে যায় বেশ কয়েকটি গাড়ি।

তবে এ ঘটনা বলে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাজুক অবকাঠামো পুনর্গঠনে তার সরকারকে কেন জোর দিতে হচ্ছে। পিটসবার্গের অগ্নিনির্বাপন বাহিনীর প্রধান ড্যারিল জোনেস বলেন, সেতু ধসে ব্যাপক গ্যাস লিকেজও হয়েছে। এতে আশপাশের কয়েকটি বসতবাড়ি থেকে লোকজনকে অস্থায়ীভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

যদিও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, স্নোপ্লাউয়ের (তুষার-লাঙল) মতো শব্দ হয়েছে। বাইডেন যখন সফরে আসবেন, কাকতালীয়ভাবে তখনই ঘটেছে ঘটনাটি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন সাকি বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি বাইডেনকে বলা হয়েছে। তবে পরিকল্পনা মোতাবেক তার সফর হবে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ নিয়ে হোয়াইট হাউস যোগাযোগ রাখছে।

বিশ্ব শীর্ষ অর্থনীতির দেশটির ক্যাঁচ-ক্যাঁচে সেতু, নাজুক মহাসড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো পুননির্মাণে প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে এ দুর্ঘটনা।

সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা গেছে, বনের ভেতরে নালার নিচে ভেঙে পড়া সড়কের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কয়েকটি গাড়ি জড়ো করে রাখা হয়েছে। বাসের মতো দেখতে একটি যান সেতুর একটি প্রান্তে ঝুলে রয়েছে। এক টুইটপোস্টে পিটসবার্গের জননিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বলছেন, ঘটনাস্থল থেকে গ্যাস লিকেজ হওয়ার ঝাঁজালো গন্ধ আসছে।

নিউইয়র্কের আদালতে বাংলাদেশিকে নির্দোষ ঘোষণা

সন্ত্রাসীর কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেলেন নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের প্রবাসী বাংলাদেশি হুমায়ূন রশিদ। ব্রঙ্কস কাউন্টি ক্রিমিনাল কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে সম্প্রতি একটি রায় ঘোষণা করে মামলার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন।

জানা যায়, গত বছরের ২১ মে নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টারে আসরের নামাজ শেষে ইমামতি বিষয়ে মসজিদ কমিটির কর্মকর্তার সঙ্গে তার এক বাগবিতণ্ডার ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ তার বাসায় হানা দেয়। তাকে বাসায় না পেয়ে তার মেয়েকে তারা বলে যায় তাকে পুলিশ প্রিসেঙ্কটে (পুলিশ স্টেশনে) যোগাযোগ করতে। পরে তিনি পুলিশ প্রিসেঙ্কটে যোগাযোগ করলে জানানো হয় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ১ জুন তিনি পুলিশ প্রিসেঙ্কটে যান এবং আইনজীবী নিয়োগ করেন। প্রিসেঙ্কটে যাওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং কয়েক ঘণ্টা পর তাকে কোর্টে হাজির করা হয়। আদালত তাকে জামিন দেন।

মামলাটি আট মাস চলার পর গত ১০ জানুয়ারি আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে মামলাটি খারিজ করে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন।