বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 491

কাবা চত্বরে ৭০ বছর কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন এ আলেম

সৌদি আরবের বর্ষীয়ান আলেম শায়খ আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া আল-মাক্কি ইন্তেকাল করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

আল আরাবিয়া জানিয়েছে, বর্ষীয়ান এ আলেম পবিত্র কাবা শরীফে প্রায় ৭০ বছর ‍কুরআন শিক্ষাদান করেছেন। বৈশ্বিক মহামারী করোনার সময়েও তিনি সপ্তাহের প্রতিদিনই মসজিদুল হারামে কুরআন শিক্ষা দিতেন।

প্রবীণ এ আলেমের মৃত্যুতে হারামাইন জেনারেল প্রেসিডেন্সির তরফ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

পবিত্র মক্কায় জন্ম নেওয়া এ আলেম মসজিদুল হারামের বরেণ্য আলেমদের থেকে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে শায়খ আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদের অনুরোধে মক্কা শরীফের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।

আল আরাবিয়ার খবরে বলা হয়, কাবার চত্বরে আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়ার দরস থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ কুরআনের শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। সাধারণ অসুস্থতা সত্ত্বেও কুরআনের দরস ও বয়ান কখনও বাদ দেননি তিনি।

ইসলাম যেভাবে এ দেশে এলো

খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতক থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে বাংলাদেশে ইসলামের আগমন ঘটে। এ অঞ্চলে ইসলামের আগমন সম্পর্কে জানার জন্য বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস পর্যালোচনা করা আবশ্যক।

ইসলামের আবির্ভাবের সময় এ অঞ্চলটি বঙ্গ বা বাংলা নামে পরিচিত ছিল। সে সময় বাংলা বা বঙ্গ অঞ্চলের সীমানা শুধু বর্তমান বাংলাদেশের সীমানা দ্বারাই পরিবেষ্টিত ছিল না। বরং তৎকালীন বঙ্গদেশের সীমানা ছিল বেশ বিস্তৃত।

ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীন যুগে বাংলা ছিল প্রায় ৮০ হাজার বর্গ মাইল বিস্তৃত এক বিশাল সমভূমি। বস্তুত এ বিশাল বাংলা অঞ্চলে কবে ইসলামের আগমন ঘটে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা মুশকিল। তবে কোনো কোনো ঐতিহাসিক মনে করেন, ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ ইবনে কাসিমের সিন্ধু বিজয় গোটা ভারতবর্ষে ইসলাম প্রচারের পথ উন্মুক্ত করে।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও বহু মুসলিম মুবাল্লিগ ধর্ম প্রচারের জন্য আগমন করেন। এ সময় মাহমুদ ও মুহায়মিনের নেতৃত্বে একদল ধর্মপ্রচারক এ দেশে আগমন করেন বলে জানা যায়। পরে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী কর্তৃক বাংলা বিজয়ের মাধ্যমে এ দেশে ধর্ম প্রচারকদের ব্যাপকহারে আগমন ঘটে।

১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী তৎকালীন বাংলার সেন বংশীয় রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে ইসলামের বিজয় কেতন উড্ডীন করেন। খিলজী বিজিত রাজ্যের সীমানা ছিল-উত্তরে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত পূর্ণিয়া শহর হয়ে দেবকোট থেকে রংপুর শহর, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া, দক্ষিণে গঙ্গার মূলধারা বা পদ্মা এবং পশ্চিমে কুশী নদীর নিম্নাঞ্চল থেকে গঙ্গার কিনারায় রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত।

খিলজীর এ বিজয়ের ফলে বাংলায় ইসলাম ব্যাপকভাবে পরিচিত ও প্রসারিত হয়। এ সময় থেকে দলে দলে মুসলিমরা বাংলায় এসে বসতি স্থাপন করেন এবং ইসলাম প্রচার কাজ শুরু করেন।

ঐতিহাসিকদের অপর এক দলের মতে বাংলাদেশে ইসলামের আগমন ঘটে খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতক থেকে দশম শতকের মধ্যেই এবং ধীরে ধীরে তা প্রসারিত হয়। বাংলাদেশে ইসলামের প্রাথমিক পরিচিতি ও প্রচারকার্য পরিচালিত হয় আরব মুসলিম বণিকদের মাধ্যমে।

মুসলিম বিজয় পূর্ব বাংলায় আগত বণিকরাই এ দেশে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরেন। এ দেশে ইসলাম আগমনের প্রধান মাধ্যম ছিল আরব-ভারত-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক। জাহিলিয়াতের যুগ থেকেই আরব বণিকদের সঙ্গে এ অঞ্চলের বাণিজ্য সম্পর্ক প্রচলিত ছিল।

রাসূল (সা.) ভারতীয় সুগন্ধি দ্রব্য উপহার হিসাবে লাভ করেন বলেও প্রমাণ পাওয়া যায়। ভূগোলবিদরা আরব-ভারত-চীন বাণিজ্য পথের নানা বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে গেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, আরব-চীন বাণিজ্য যাত্রার মূল সূত্র ছিল ভারতবর্ষ। আরব বণিকরা পারস্য উপসাগর হয়ে বেলুচিস্তানের একটি বন্দরে প্রবেশ করতেন।

তারপর একে একে সিন্ধু, গুজরাট, মাদ্রাজ ও কলকাতা বন্দরে প্রবেশ করে বঙ্গোপসাগরে উপনীত হতেন। তারা এ সময় ওই অঞ্চলের সিলাহাত বা বর্তমান সিলেট ও সাদজাম বা বর্তমান চট্টগ্রাম বন্দরে যাত্রাবিরতি করতেন। এরপর তারা চীন সাগরে প্রবেশ করতেন।

এভাবেই আরব থেকে চীন পর্যন্ত বাণিজ্যযাত্রায় ভারত উপমহাদেশ ও বঙ্গদেশ বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। আরবরা মধ্যবর্তী এসব বন্দরেও তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতেন ও সফরের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করতেন।

আরব ঐতিহাসিক ও ভূগোলবিদদের বর্ণনায়ও বাংলার নানা স্থানের উল্লেখ পাওয়া যায়। ভূগোলবিদ ইবনে খুরদাদবিহ তার বর্ণনায় বাংলাদেশের চাঁদপুর নদী বন্দরের কথা উল্লেখ করেছেন। আল ইদ্রিসীর বর্ণনায় রয়েছে-বাগদাদ ও বাসরা থেকে আরব বণিক এবং পর্যটকরা মেঘনার মোহনার সন্নিকটস্থ অঞ্চলে আসা-যাওয়া করতেন। বস্তুত মহানবি (সা.)-এর নবুয়তপূর্ব বহুকাল ধরেই আরব-ভারত-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। ইসলামের আবির্ভাবের পরও এ সম্পর্ক অব্যাহত ছিল।

আরব মুসলিম বণিকরা তৎকালে এ পথ ধরেই বাণিজ্যযাত্রা অব্যাহত রাখেন। ফলে ইসলামের আবির্ভাবের অল্পকালের মধ্যেই ভারতবর্ষে তথা বাংলাদেশে ইসলামের আগমন ঘটে। বাণিজ্য উপলক্ষ্যে আগমন করলেও আগত এসব আরব মুসলিম বণিক এ দেশের জনগণের মধ্যে ইসলাম প্রচারের সুযোগ হাতছাড়া করেননি। তারা যেসব বন্দরে যাত্রাবিরতি করতেন সেখানে ইসলামের প্রচার করতেন। এভাবে খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকেই বাংলাদেশে ইসলামের আগমন ঘটে।

ঐতিহাসিকদের বড় একটি অংশের মতামত হলো-সাহাবিদের একটি দল প্রথম ইসলাম প্রচার করার জন্য ভারত ও বঙ্গ অঞ্চলে (বাংলাদেশে) আগমন করেন। আর তাদের মাধ্যমেই এ দেশে ইসলামের সূচনা ঘটে। যেহেতু আরব-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক বহু প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত ছিল, সেহেতু ভারত উপমহাদেশে সাহাবিদের আগমন অস্বাভাবিক ছিল না।

ধারণা করা হয়, রাসূল (সা.)-এর মামা সাহাবি আবু আক্কাস মালিক ইবনে ওয়াহাব (রা.) আনুমানিক ৬১৭ খ্রিষ্টাব্দে তার কতিপয় সাথিসহ ইসলাম প্রচারের জন্য চীনের উদ্দেশে দুটি জাহাজ নিয়ে রওনা হন। এ যাত্রায় কাইস ইবনে হুজাইফা (রা.), উরওয়া ইবনে আছাছা (রা.), আবু কায়েস ইবনে হারিস (রা.) প্রমুখ সাহাবি তার সঙ্গে ছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল চীনে ধর্ম প্রচার করা।

এ লক্ষ্যে তারা আরব ও চীনের মধ্যবর্তী ভারতীয় বন্দরগুলোতেও অবতরণ করেন। তারা সেসব বন্দরে অবস্থানকালে ইসলাম প্রচার করেন। শায়খ যাইনুদ্দিন সীয় ‘তোহফাতুল মুজাহিদীন’ গ্রন্থে ভারতের নানা বন্দরে এরূপ একদল আরবের ইসলাম প্রচারকের বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন।

কেননা সফরের রসদ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের জন্য তৎকালে এসব বন্দরে অবতরণের কোনো বিকল্প ছিল না। সুতরাং ধরে নেওয়া যায়, সাহাবিরা বাংলাদেশেও ইসলাম প্রচারের সূচনা করে গেছেন। মূলত এভাবেই বাংলাদেশে ইসলামের আগমন ঘটে।

ফেসবুকে বন্ধু তালিকা লুকানোর উপায়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ফেসবুকে থাকা ব্যবহারকারীর লাইক, ডিসলাইক, জীবনধারা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে যে কেউ ধারণা পেয়ে যায়। তাই নিজের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করার বিষয়ে সবারই একটু সতর্ক থাকা দরকার। কেননা এ তথ্যগুলো পাবলিক থাকলে দুষ্টচক্রের জন্য ফাঁদা পাতাটা খুবই সোজা।

ফেসবুকে ব্যক্তিগত তথ্য যেমন লুকিয়ে রাখা যায় তেমনি চাইলেই যে কোনো কিছু শেয়ারও করা যায়। তবে সুরক্ষাটা বাই ব্যবহারকারীকেই নির্ধারণ করে দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রা প্রাইভেসি সেটিংস মোট তিনটি-পাবলিক, ফ্রেন্ডস অনলি ও অনলি মি অপশন রয়েছে।

তিন প্রকার প্রাইভেসি সেটিংস

* প্রাইভেসি সেটিংস পাবলিক নির্বাচন করলে যে কোনো ফেসবুক ইউজার আপনার ফেসবুকের তথ্যগুলো দেখতে পারবে।

* আবার ফ্রেন্ডস অপশন সেট করলে সে ক্ষেত্রে শুধু ফেসবুকে যারা আপনার বন্ধু হিসাবে অ্যাড আছে, তারা দেখতে পাবেন।

* আর অনলি মি সেট করলে আপনি ছাড়া কেউই আপনার ফেসবুকের ফ্রেন্ড লিস্ট দেখতে পাবে না।

তাই যে তথ্যগুলো লুকিয়ে রাখতে চান সেক্ষেত্রে ‘Only Me’ অপশনটি প্রাইভেসি হিসাবে সেট করে নিতে হবে। এ অপশনগুলো একান্ত পোস্টগুলোর জন্যও প্রযোজ্য।

কম্পিউটার থেকে ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্ট হাইড করবেন যেভাবে-

* যে কোনো ব্রাউজার থেকে facebook.com প্রবেশ করে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করে নিতে হবে।

* এরপর ওপরে ডানদিকের কর্নারে থাকা ডাউন অ্যারোতে ক্লিক করুন

* অ্যারোতে ক্লিক করার পর ‘Settings & Privacy’ সিলেক্ট করুন

* এরপর ‘Settings’ সিলেক্ট করুন

* সেখানে থাকা লেফট মেন্যু হতে ‘Privacy’ সিলেক্ট করুন

* How People Find and Contact You সেকশন থেকে ‘Who can see your friends list’-এর পাশে থাকা ‘Edit’-এ ক্লিক করুন

* ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্ট হাইড করতে ড্রপ ডাউন মেন্যু থেকে ‘Only Me’ সিলেক্ট করে সেভ করুন

* এরপর প্রোফাইলে প্রবেশ করে কভার ফটোর নিচে থাকা থ্রি-ডট মেন্যু থেকে ঠরবি অং অপশন সিলেক্ট করে চেক করে দেখুন পাবলিক ভিউতে আপনার প্রোফাইল কেমন দেখাচ্ছে।

মোবাইলে ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্ট হাইড যেভাবে-

* ফেসবুক অ্যাপে প্রবেশ করে থ্রি-হরাইজেন্টাল লাইন, অর্থাৎ মেন্যুতে ট্যাপ করুন

* নিচের দিকে স্ক্রল করে ‘Settings & Privacy’-তে ট্যাপ করুন

* এরপর ‘Settings’ সিলেক্ট করুন

* এরপর ফেসবুক সেটিংস মেন্যুতে নিচের দিকে স্ক্রল করুন ও ‘How People Find and Contact You’ অপশনে ট্যাপ করুন

* ‘Who can see your friends list-অপশনে ট্যাপ করুন

* এরপর ফ্রেন্ড লিস্ট হাইড করতে ‘ঙহষু গব’ সিলেক্ট করুন

প্লে স্টোরে টিচার অ্যাপ্রুভড ব্যাজ পেল মীনা গেম ২

বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিশুতোষ কার্টুন সিরিজ মীনাকে নিয়ে তৈরি ‘মীনা গেম-২’ গুগল প্লে স্টোরে শিশুদের জন্য একই সঙ্গে শিক্ষণীয় এবং বিনোদনমূলক গেম হিসেবে টিচার অ্যাপ্রুভড (শিক্ষক অনুমোদিত) ব্যাজ অর্জন করেছে। ইউনিসেফের অর্থায়নে ‘মীনা গেম ২’ তৈরি করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় গেমিং প্রতিষ্ঠান রাইজআপ ল্যাবস। মীনা গেমের প্রথম সংস্করণটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর রাইজআপ ল্যাবস মীনা গেম ২ কে সম্পূর্ণ থ্রিডি ভার্সনে তৈরি করে।

গুগল প্লে স্টোরে অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের জন্য সমৃদ্ধ, বিনোদনমূলক এবং নিরাপদ অ্যাপস খোঁজেন। শিক্ষক অনুমোদিত প্রোগ্রাম হল গুগল প্লে স্টোরের একটি নতুন সংযোজন যেখানে শিক্ষক এবং শিশুদের শিক্ষা এবং মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা বাচ্চাদের জন্য উচ্চ-মানের এবং নিরাপদ অ্যাপগুলোর সুপারিশ করেন। এখানে ডিজাইন, বয়সের উপযুক্ততা, বিজ্ঞাপন, ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞরা শিশুদের জন্য নির্মিত অ্যাপ্স এবং গেমগুলোকে গ্রেডিং করে থাকেন।

পটুয়াখালী জেলার সাহিত্য নিয়ে বিশেষ আয়োজন সাহিত্যে পটুয়াখালী

সাগরপারে অবস্থিত বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা, পটুয়াখালী। সর্বত্র সুন্দর ও মনোরম দৃশ্যাবলি এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্যপট আকৃষ্ট করে এমন জেলাটি ‘সাগরকন্যা পটুয়াখালী’ নামে খ্যাত। মেঘ কুন্তলা শস্য শ্যামলা পটুয়াখালী প্রাচীন বেলাভূমি জনপদ। প্রকৃতির লীলায় বিচিত্র এ অঞ্চল, মনোরম পরিবেশে কবি হৃদয়ে স্বভাবতই সাড়া জাগে। অনেক কবি-সাহিত্যিক, জ্ঞানী-গুণীর জন্ম এ জনপদে। অনেক ছড়া, অনেক পালা, অনেক গানে-গাঁথায় ভরপুর এ পল্লি মায়ের কোল। নিভৃত পল্লির এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সাহিত্যের নানাবিধ উপাদান। এসব উপাদান-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর সাহিত্য।

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদ। চর্যাপদের পদকর্তাদের পদচারণায় মুখর ছিল প্রাচীন বঙ্গ দেশ। সেই বঙ্গ দেশটি ছিল সমুদ্র উপকূলের সুন্দরবন সন্নিবিষ্ট বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল। হিমালয় থেকে গঙ্গা নদী নেমে সাগর পানে যেতে যেতে গঙ্গার পললে অসংখ্য দ্বীপের সৃষ্টি হয়। মৌর্য আমলে সুগন্ধার মোহনায় কাঁঠালিয়া, গলাচিপা, আমতলী এবং গুপ্ত আমলে বরগুনা, বামনা, পাথরঘাটা নিয়ে দ্বীপের সৃষ্টি। ছোট ছোট দ্বীপগুলোর মিলিত নাম ছিল বাঙ্গালা। পাল ও সেন আমলে দ্বীপগুলো বাঙ্গালা ও চন্দ্রদ্বীপ নামে পরিচিত ছিল। বাক্লা-বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালী, বরিশাল, হিজলা, মুলাদী, গৌরনদী, উজিরপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ প্রভৃতি এলাকা চন্দ্রদ্বীপের (বাঙ্গালার) অন্তর্গত ছিল। বাউফল, পটুয়াখালী-বাক্লার অধীনের অঞ্চল। বাউফলের কচুয়ায় ছিল চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী। বাংলাভাষা-সাহিত্যের প্রাচীন কবি মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ চন্দ্রদ্বীপের পটুয়াখালী জনপদের লোক ছিলেন। ভাষা বিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, মৎস্যেন্দ্রনাথ বা মীননাথ চন্দ্রদ্বীপের বাঙ্গাল কবি। লেখক সমন্বয় পরিষদ, পটুয়াখালীর প্রকাশিত ছোট কাগজ ‘শব্দমালা’য় (৩য় বর্ষ, ৫ম সংখ্যা, মার্চ-এপ্রিল ২০০৫ খ্রি.) পটুয়াখালীর লেখকদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে; সেই তলিকায় দোঁহা ও চর্যাপদের পদকর্তা হিসাবে মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথকে প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপের দশম শতকের প্রথম কবি হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

মীননাথ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন কবি। নেপালের রাজদরবারে উদ্ধারকৃত মীননাথের পাঁচটি গ্রন্থ আবিষ্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘কৌলজ্ঞান নির্ণয়’। এ গ্রন্থে মীননাথের অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে। বলা হয়েছে মীননাথ ‘চন্দ্রদ্বীপ বিনির্গত’। চন্দ্রদ্বীপে ধীবর শ্রেণির লোকদের বসবাস ছিল অনেক বেশি। পটুয়াখালী অঞ্চল ছিল নদী-নালাবেষ্টিত জঙ্গলাকীর্ণ জনপদ এবং মীননাথ ছিলেন একজন ধীবর। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন কবি মীননাথ পটুয়াখালী জনপদের ধীবর শ্রেণির লোক, নাথ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা, নাথ গানের গীতিকার, বাঙ্গাল দেশের বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন কবি; সে হিসাবে পটুয়াখালী সাহিত্যের ইতিহাস-ঐতিহ্য প্রাচীন, গৌরবোজ্জ্বল।

প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে পটুয়াখালীর সংযুক্তি অত্যন্ত সুদৃঢ়। বাংলা সাহিত্যের ক্রমবিকাশের সঙ্গে পটুয়াখালী জেলা তথা বাকলা-চন্দ্রদ্বীপের সাহিত্য ক্রমবিকাশের রয়েছে নিগূঢ় সম্পর্ক। ড. দীনেশচন্দ্র সরকারের মতে, চন্দ্রগোমী অথবা চন্দ্রগোমিনের নাম থেকে চন্দ্রদ্বীপের নামকরণ হয়েছে। যদি চন্দ্রগোমিনের মাধ্যমে বাংলাভাষার সূচনা হয়, তবে বাংলাভাষা ও সাহিত্যের সূচনা বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ তথা পটুয়াখালী অঞ্চল থেকেই হয়েছে। চন্দগোমিনের কয়েকখানা গ্রন্থের নাম জানা যায়, যথা-লোকনন্দ (নাটক), ন্যায়সিদ্ধালোক (তর্কশাস্ত্র), চন্দ্রব্যাকরণ (ব্যাকরণ), পরায়ণ বা ধাতু পরায়ণ (ব্যাকরণ), মনোহরকল্প (স্ত্রোত্র), শিষ্যলেখধর্ম, উপসর্গবৃত্তি, শব্দবিধান ইত্যাদি (পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে লেখা)। এসব দিক বিবেচনায় বাংলাভাষার উদ্ভবের সঙ্গে পটুয়াখালী সাহিত্যের সম্পর্ক বিদ্যমান।

মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাহিত্যের অন্যতম কবি রূপ সনাতন। তার মূল নাম রূপ গোস্বামী। জানা যায়, সনাতন তার উপাধি নাম। রূপ সনাতন বাকলা-বাউফলের কবি। বৈষ্ণব সাহিত্যের ওপর তার লেখা অনেক গ্রন্থ রয়েছে। এসব গ্রন্থাবলির মধ্যে হংসদূত, উদ্ভব সন্দেশ, কৃষ্ণজন্ম তিথি গণোদেশ দীপিকা (৫), স্তবমালা, বিদগ্ধমাধব, আনন্দ মহোদধি, পদ্মাবলী, নাটক চন্দ্রিকা, গোবিন্দবিরুদাবলী প্রভৃতি। সংস্কৃত সাহিত্য ‘বাঙালির দান’ গ্রন্থ থেকে রূপ সনাতনের একটি শ্লোক এ রকম :

‘অধুনা দবিমন্থনানুবন্ধং

কুরুষে কিং গুরুবিভ্রমালসাঙ্গি।

কলসস্তনি লালসীতি কুঞ্জে

মুরলীকোমল কাকুলী মুরারে ঃ।।”

বলা যায়, রূপ গোস্বামী বা রূপ সনাতনের মাধ্যমেই পটুয়াখালীতে বৈষ্ণব সাহিত্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বৈষ্ণবদের একতারাতে যে সুর ঝংকৃত হয়, তা প্রাচীন বাক্লার বাংলাসাহিত্যের ধারাকেই বহন করে। পটুয়াখালী সাহিত্যের এ ঐতিহ্য সমাদরে সমাদৃত হলে সাহিত্যের জ্ঞানভান্ডার সম্প্রসারিত ও সমৃদ্ধ হবে।

ষোড়শ শতকের বিখ্যাত লেখক ছিলেন মধুসূদন আচার্য। তিনি একজন বিখ্যাত দার্শনিক। বাকলার কোটালীপাড়ায় জন্ম হলেও সংসারত্যাগী ‘মধুসূদন সরস্বতী’ নামে বাকলা-পটুয়াখালী অঞ্চলে বসবাস করতেন। তিনি সম্রাট আকবর কর্তৃক সম্মানিত হয়েছিলেন। তার রচিত বিশখানার অধিক গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অদ্বৈত মঞ্জরী, অদ্বৈত সিদ্ধি, সিদ্ধান্ত তত্ত্ববিন্দু, প্রস্থান ভেদ, আনন্দ মন্দাকিনী প্রভৃতি। সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতেও পটুয়াখালীতে সাহিত্যের ধারা চলমান ছিল। বিশেষ করে এ সময়ে পর্তুগিজ ও ইংরেজদের কেউ কেউ এবং তাদের অনুসারীরা এ ধারাকে বেগবান করেছেন। তবে সুস্পষ্ট কারও নাম জানা যায় না। পটুয়াখালী অঞ্চলেই তাদের বসবাস।

উনিশ শতকের অনেক কবি-সাহিত্যিক পটুয়াখালীর সাহিত্যাঙ্গনে উজ্জ্বল নক্ষত্র। এদের মধ্যে দ্বোভাষী পুঁথি সাহিত্যের খ্যাতিমান কবি আবুল হোসেন মুন্সি (১৮১৯-১৮৮৪ খ্রি.), মরমি সুফিসাধক ও সমাজ-সংস্কারক ছিলেন। সভ্যতার আলোবহির্ভূত দক্ষিণবাংলার মানুষের অন্ধকার ঘুচাতে রচনা করেন পুঁথি সাহিত্য। দ্বিপদী, ত্রিপদী, ধুয়া, পয়ার, সুর ও ছন্দে বাংলাসহ আরবী, ফারসি, উর্দু, হিন্দি শব্দবহুল ব্যবহৃত তার রচিত পুঁথি বাংলা সাহিত্যের গৌরব। হাকীকাতুল আম্বিয়া, ফয়ছলে আহকাম, যিকরনামা, আহকামুছ সালাত ও কুয়াতুল মুমিনীন পাঁচখানা গ্রন্থ তিনি রচনা করেন। আধ্যাত্মিকতায় পরিপূর্ণ এসব পুঁথি বাংলা সাহিত্যের অনন্য সম্পদ। মুরাদিয়ার মুন্সি সালেহউদ্দিন ‘তাজল আলম’ নামে একখানা পুঁথি রচনা করেন। তার গ্রন্থখানা বাংলা সাহিত্যে অনন্য। এরূপ বহু পুঁথি গ্রাম গঞ্জের জনপদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। নাম না জানা লেখকের কোনো কোনো পুঁথি মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়েছে; তন্মধ্যে হাসেম গাজীর পুঁথি, আসমান সিংহের পুঁথি অন্যতম। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে এগুলো এখন বিলুপ্ত প্রায়।

পটুয়াখালীর বদরপুরের মুসলিম আলী আখন্দ সাহিত্য বিনোদ (১৯১৯-২০০৪ খ্রি.) একাধারে কবি সাহিত্যিক গবেষক গীতিকার ও ছড়াকার ছিলেন। অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী এই সাহিত্যিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে ডিপ্লোমা-ইন-এডুকেশন ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট এবং ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে এম.এড ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে শিক্ষাবিষয়ক প্রবন্ধ লিখে ‘বঙ্গীয় পুরাণ পরিষদ’ (শান্তিপুর, নদীয়া) থেকে ‘সাহিত্য বিনোদ’ উপাধি পেয়েছেন এবং তিনি আর্যভারত বিদ্যাতীর্থের সভ্য হন। পটুয়াখালী থেকে প্রকাশিত পটুয়াখালী সমাচার, মাসিক আন্ধারমানিকসহ অনেক পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সংকলন, নৈতিক বলে সবল হও, জঙ্গে কাশ্মীর ও অন্যান্য কবিতা, শিশু পর্যবেক্ষণ, বিজ্ঞানের আলো, তন্ত্রের বিবর্তন প্রভৃতি।

মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের নাম কে না জানে! ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পথিকৃত তিনি। অশ্বিনী কুমার দত্ত (১৮৫৬-১৯২৩ খ্রি.) পটুয়াখালীর লাউকাঠি চৌকিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং একজন প্রতিভাশালী সাহিত্যিক ছিলেন। ছাত্রজীবনে ‘ছাত্রবন্ধু’ নামে পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। রচনা করেন অনেক পুস্তক। যুগস্রষ্টা এ মনীষীর রচিত বইয়ের মধ্যে ভক্তিযোগ, কর্মযোগ, দুর্গোৎসব, তত্ত্ব ও প্রেম উল্লেখযোগ্য। উনিশ শতকের তিরিশের দশক থেকে দাপিয়ে লিখেছেন পটুয়াখালী জেলার লোহালিয়া গ্রামের বিডি হাবীবুল্লাহ্ (১৯০৮-১৯৯৮ খ্রি.)। অসাধারণ বাগ্মী এই লেখকের ‘পল্লী মঙ্গল’ নাটক তার প্রথম সাহিত্যকর্ম। এরপর অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার বেশিরভাগ গ্রন্থ আঞ্চলিক ভাষায় রচিত। হেদায়েতী ব্লাক মার্কেট, দূরমুজ কিতাব, মিলন চুক্তি, এই কি প্রগতি? এবং শেরেবাংলা জীবনীগ্রন্থ তার অনন্য রচনা। সাহিত্যে বক্তৃতার বাছাইকৃত সংযোজন নিয়ে তার একটি বিশেষ সংকলন প্রকাশিত হওয়ায় তিনি ‘বাক্ সম্রাট’ খ্যাতি অর্জন করেন।

স্বাধীনতা পূর্ব এবং পরবর্তী কয়েক দশকজুড়ে যারা পটুয়াখালীর সাহিত্যাঙ্গন মাতিয়ে রেখেছেন তাদের অনেকেই ত্যাগ করেছেন ইহজগৎ। তবে সৃজনশীল কাজের মধ্যেই তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য। সৃজনশীল সাহিত্যচর্চার মধ্যে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছেন কবি খোন্দকার খালেক (১৯২৫-১৯৯৪ খ্রি.)। তিনি একজন ভাষাসৈনিক ও সাহিত্য সংগঠক ছিলেন। শেরেবাংলার জীবনী গ্রন্থ ‘এক শতাব্দী’ রচনায় সাহিত্য ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য ‘শেরেবাংলা জাতীয় পুরস্কার’ স্বর্ণপদক ও সম্মাননা স্মারকে ভূষিত হন ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে। তার রচিত ‘জিনের বাদশা’ নাটক অবলম্বনে চিত্র পরিচালক জহির রায়হান ‘দুই ভাই’ ছায়াছবি নির্মাণ করেন। খোন্দকার খালেকের অন্যান্য গ্রন্থাবলির মধ্যে চিঠি (পত্র কাব্য), দুই দাবাড়ে (নাটক), ধর্ম ও সমাজ (প্রবন্ধ), একুশের নামতা (ছড়া) উল্লেখযোগ্য। তার অমর কীর্তি কয়েকশত গান বাংলা সাহিত্যের অনন্য সম্পদ।

এপার বাংলা ওপার বাংলার যাত্রানাট্যকারদের মধ্যে অন্যতম মাস্টার সেকেন্দার আলী (১৯১৯-২০০৯ খ্রি.)। পটুয়াখালী শহরেই বসবাস করতেন। ‘বেদকন্যা’ যাত্রানাটক রচনা করে সাহিত্যজগতে তার পদার্পণ। পিতার মোসলেম যাত্রাপর্টিতে অভিনয়সূত্রে প্রবেশ করে নিজেই ‘বাবুল অপেরা’ যাত্রাদল প্রতিষ্ঠা করেন এবং একের পর এক রচনা করেন হোসেন শহীদ, হাসানের বিষপান, এজিদ বধ জয়নাল উদ্ধার, সাত ভাই চম্পা, নৌকা বিলাস, রক্তকমলসহ ২২টি যাত্রানাটক। ওমর দি গ্রেট, হজরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া তার অনন্য রচনা।

পটুয়াখালীর সাহিত্যযাত্রায় অনেকেই স্থানীয়ভাবে ও জাতীয়ভাবে সুনাম-খ্যাতি কুড়িয়েছেন। সাহিত্যে রেখেছেন অসাধারণ অবদান। তাদের মধ্যে প্রবন্ধকার ইয়াকুব আলী সিকদার সাহিত্য বিনোদ (১৯২৫-২০০৭ খ্রি.), মোহাম্মদ কেরামত আলী-সাবেক এমপি ও মন্ত্রী (১৯২৬-২০০৪ খ্রি., পবিত্র কুরআনের কয়েকটি সূরার অনুবাদ ‘দ্য মেসেজ’ লিখে স্মরণীয় হয়েছেন), ছোট গল্পকার ও উপন্যাসিক আলী আসগর (১৯৩১-২০০৪ খ্রি.), ঔপন্যাসিক কাজী আবদুল মতলেব (১৯৩৪-২০০০ খ্রি.), নাট্যকার গীতিকার কবি নির্মল কুমার দাশগুপ্ত (১৯৩৫-২০১৭ খ্রি.), কবি হাবীবুল্লাহ্ বিশ্বাস (১৯৩৬-২০১৪ খ্রি.), সাহিত্যিক নয়ন রহমান (১৯৪০-২০১৪ খ্রি.), কবি সাহিত্যিক আ জ ম সিকান্দার মোমতাজী (১৯৪২-২০১০ খ্রি.), কবি আবদুল আজিজ আখন্দ (১৯৪২-২০০৯ খ্রি.), সদ্য প্রয়াত ড. আনু মাহ্মুদ (প্রকাশিত বই ১২৫টি), ড. রতন লাল চক্রবর্তী, বিশ্বাস হাবিবুর রহমান প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তীকালে পটুয়াখালীর সাহিত্যাঙ্গন নতুন মাত্রায় জেগে ওঠে। জন্মলাভ করে অনেক সাহিত্য সংগঠন। জেলা লেখক সমিতি, পটুয়াখালী সাহিত্য সংসদ, জেলা লেখক সমন্বয় পরিষদ, দখিনের কবিয়াল, সাহিত্য তরঙ্গ, পটুয়া সাহিত্য পরিষদ, শহীদস্মৃতি পাঠাগারসহ অনেক সাহিত্য সংগঠন পটুয়াখালীর সাহিত্য উজ্জীবিত রাখার প্রয়াসে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করে এগিয়ে চলে পটুয়াখালীর সাহিত্যাঙ্গন নতুন পরিস্থিতিতে, নতুন আশা-প্রত্যাশার দোলাচলে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে অদ্য পর্যন্ত লেখালেখিতে সক্রিয় থেকে পটুয়াখালীতে এবং কেউ কেউ জাতীয়ভাবে সমাদৃত হয়েছেন তারা হলেন, ‘আগুনমুখার মেয়ে’খ্যাত নূরজাহান বোস (বাংলা একাডেমি পদকে ভূষিত), একাধিক গ্রন্থের প্রণেতা ও কিশোর মুক্তিযোদ্ধা কবি দুখু বাঙাল লেখালেখির জন্য অর্জন করেছেন অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা, কবি প্রাবন্ধিক গবেষক মুস্তাফা মজিদ, ড. এসএম আনোয়রা, সাহিত্যিক মমতাজ বেগম, কবি মাওলানা রূহুল আমীন খান, কবি রাধেশ্যাম দেবনাথ, ড. আবদুল লতিফ মাসুম, প্রফেসর ড. আউয়াল বিশ্বাস, কবি সাহিত্যিক বাবুল সিরাজী, কবি গাজী লতিফ, সাহিত্যিক শাহনেওয়াজ চৌধুরী, কবি আবুল বাশার সেরনিয়াবাত, মুস্তাফিজুর রহমান মিলন, মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, সুভাষ চন্দ, অশোক দাস, সাহিত্যিক আনোয়ার হোসেন বাদল, সাহিত্যিক মাসুদ আলম বাবুল, কবি শঙ্খচূড় ইমাম, শায়লা শহীদ, আরেফিন রব, কাইয়ুম আহমদ জুয়েল, ফয়সাল বারী, ড. মোঃ আবদুল ওহাব মিয়া, তৌহিদুল ইসলাম কনক, সাহানা পারভীন সিক্তা, সালমা বেগম, কালিম মোহাম্মদ, গাজী ইব্রাহীম আল মামুন, কামরুন নাহার জেসমিন, লুৎফুল বারি পান্না, জাহাঙ্গীর হোসাইন মানিক, রাশিদুল রাশেদ, এসএম সালাম রেজা, সাইফুল ইসলাম জুয়েল, জান্নাতুল ফেরদাউস শিশির, মোঃ সাইদুর রহমান, রাজীব আহমেদ, রওশন জাহান মাসুমা, শাহান আরা আচল, মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।

রাজধানী থেকে বহু দূরের এ ভাটি অঞ্চলে লেখক-লেখিকাদের লেখার ও প্রকাশনার সুযোগ সীমিত। ভালো সুযোগ পেলে হয়তো অনাগত ভবিষ্যতে পটুয়াখালীর জনপদে অনেক বড় সাহিত্য প্রতিভার বিকাশ হতে পারে, এই আমাদের প্রত্যাশা।

বইমেলায় আসছে জাফর ফিরোজের আবছায়া

সম্প্রতি বার্লিনজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর ফিরোজের লেখা ‘আবছায়া’ এবারের আসন্ন অমর একুশে বইমেলায় আসছে।

জাফর ফিরোজ বলেন, এবারের একুশে বইমেলায় আমার একটি বই আসছে। বইয়ের নাম ‘আবছায়া’। বইটি প্রকাশ করছে গানের খেয়া প্রকাশন। ‘আবছায়া’ মূলত গীতিকাব্য। এটি আমার নির্জন এককের গান। চারটি অধ্যায়ে বইটিকে সাজানো হয়েছে। জীবন, মা-বাবা, দেশ, ইসলাম ও সমাজ।

এ বইয়ে ৮২টি গীতি কবিতা থাকছে। জাফর ফিরোজ একাধারে চলচ্চিত্র পরিচালক, লেখক এবং উপস্থাপক। তার নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘দূরবীন’। তিনি তার কাজের জন্য পেয়েছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফোরামের (আইএফএফ) সদস্য হিসেবে বর্তমানে তিনি কাজ করছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

বাংলা সাহিত্যে অধ্যয়ন শেষ করে চলচ্চিত্রের পাঠ নিলেন মোম্বাই থেকে। চলচ্চিত্রে মাস্টার্স শেষ করে এখন চলচ্চিত্র বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করছেন। তার প্রকাশিত প্রথম শিশুতোষ গ্রন্থ ‘খুকী ও প্রজাপতি’। ‘সালাম লিখেছে মা’ তাঁর লেখা একটি সুপরিচিত দেশাত্মবোধক গান। গানটি জাতিসংঘের ছয়টি ভাষায় গাওয়ার পর ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ‘আবছায়া’ তার প্রথম গীতিকাব্য।

অল্প অল্প জ্বর কেন হয়?

জ্বরের রকমফের আছে। অনেকের কাপুনি দিয়ে জ্বর আসে। আবার কারো ছেড়ে ছেড়ে জ্বর আসে। অনেক সময় হাল্কা জ্বর থাকে গায়ে, যেটির যন্ত্রণা বেশ কয়েকটি বইতে হয়।

জ্বরের মাত্রা বহু রোগের নির্দেশ করে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইবনেসিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসাল্টেশান সেন্টারের বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আজিজুর রহমান।

জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়, অনেক রোগ প্রকাশ পায় জ্বর রূপে। সুস্থ পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হল ৯৮.৬ ফারেনহাইট। যখন শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তাকে জ্বর বলে। অল্প অল্প জ্বর বলতে যখন শরীরের তাপমাত্রা থার্মোমিটারে ৯৯ থেকে ১০১ ফারেনহাইটের মধ্যে থাকে।

শরীরে দীর্ঘদিন (দুই সপ্তাহের বেশি) অল্প অল্প জ্বর থাকতে পারে যে রোগে-

যক্ষ্মা – লিস্ফোমা – কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া – এইচআইভি ইনফেকশন -শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফোড়া যেমন- ফুসফুসে ফোড়া, লিভারের ফোড়া – কানেকটিভ টিস্যু রোগ যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাটিস, এসএলই – থাইরয়েড রোগ যেমন- হাইপারথাইরয়জ্জিম – কৃত্রিম জ্বর – ওষুধজনিত জ্বর – আরও অন্যান্য কারণে যেমন- ফুসফুসে ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, কিডনি ক্যান্সার।

দীর্ঘদিন জ্বর থাকলে তার অন্তর্নিহিত কারণ জানার জন্য রোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত ইতিহাস নিতে হবে, জ্বর কখন আসে, কীভাবে আসে, কীভাবে চলে যায়, দিনের কোন ভাগে বেশি জ্বর থাকে, জ্বরের সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কিনা।

যেমন- দীর্ঘদিনের অল্প অল্প জ্বর, বিকালের দিকে আসে, রাতে থাকে, সকালে কমে যায়, ঘাম দিয়ে জ্বর ভালো হয়ে যায়, সঙ্গে দুই সপ্তাহের বেশি কাশি থাকে, কখনও কখনও কাশির সঙ্গে রক্ত যায়, শরীরের ওজন কমে যায়, খাবারে অরুচি থাকে, যক্ষ্মা রোগীর সঙ্গে বসবাসের ইতিহাস থাকে, তাহলে সন্দেহ করা হয় তার যক্ষ্মা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের জ্বরের ইতিহাসের সঙ্গে রাতে শরীর ঘামানোর ইতিহাস, ক্ষুধামন্দা, শরীরে চুলকানি, জন্ডিসের ইতিহাস, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গ্লান্ড ফুলে যাওয়ার ইতিহাস থাকলে লিস্ফোমা সন্দেহ করা হয়। অল্প অল্প জ্বরের সঙ্গে ডান দিকের ওপরের পেট ব্যথা, মাঝে মধ্যে পাতলা পায়খানার ইতিহাস, পরীক্ষা করে যদি জন্ডিস, লিভার বড় পাওয়া যায় তাহলে সন্দেহ করা হয় লিভারে ফোড়া হয়েছে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, ঘাম দিয়ে জ্বর কমা, দুর্গন্ধযুক্ত হলুদ রঙের কাশি থাকলে সন্দেহ করা হয় ফুসফুসে ফোড়া হয়েছে।

দীর্ঘদিনের জ্বরের সঙ্গে যদি খাবারে রুচি স্বাভাবিক থাকাসত্ত্বেও ওজন কমে যায়, যে স্থানে জ্বর হয়েছে সেখানে বসবাসের ইতিহাস, মাটির ঘরে মেঝেতে থাকার ইতিহাস, পাশে গরুর ঘর থাকার ইতিহাস থাকলে এবং পরীক্ষা করে রক্তশূন্যতা, পেটের উপরিভাগে চাকা থাকলে সন্দেহ করা হয় কালাজ্বর।

দীর্ঘদিনের জ্বরের ইতিহাসের সঙ্গে গিঁটে গিঁটে ব্যথা এবং সকালে ঘুম থেকে জাগার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা বেড়ে যায় এবং মুখে ঘা, গায়ে লাল লাল দাগের ইতিহাস থাকলে কানেকটিভ টিস্যু রোগ যেমন- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, এসএলই হয়েছে সন্দেহ করা হয়। তাই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে সঠিক ইতিহাস দিয়ে এবং সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করে বেশিরভাগ জ্বর ভালো করা সম্ভব।

ত্বক-চুলের যত্ন ছাড়াও কলার খোসার ৭ বাহারি ব্যবহার

আমাদের দেশে অতিপরিচিত ফলের তালিকায় হয়তো সবার প্রথমেই থাকবে কলার নাম। সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর এ ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি ভিটামিন সির মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

কলার এতসব গুণাগুণের কথা হয়তো আমাদের অনেকেরই জানা বিষয়। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে, কলার খোসাও বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে উপকার পেতে পারেন। ত্বক, চুল ও দাঁতের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি বাহারি সব কাজে কলার খোসার চমক দেখে অবাক হবেন আপনিও।

তাই ফেলে না দিয়ে কিভাবে কাজে লাগাতে পারেন সে বিষয়ে আজ জানুন কলার খোসার বাহারী সব ব্যবহার—

১. ত্বকের যত্নে
ত্বকের যত্নে এক চমৎকার উপাদান হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন কলার খোসা। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে এবং বলিরেখা কমাতে অনেক কার্যকরী হতে পারে এটি। এ ছাড়া চোখের ফোলাভাব কমাতে ও ত্বককে হাইড্রেট রাখতে এবং ব্রণের দাগ কমাতে সাহায্য করে কলার খোসা।
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, কলার খোসায় থাকা ফেনোলিক উপাদানের শক্তিশালী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এ ছাড়া ২০১১ সালের একটি আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কলার খোসায় ক্যারোটিনয়েডস এবং পলিফেনলসের মতো বেশ কিছু বয়োঅ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে।

তাই কলঅর খোসা ত্বকে ঘোসে পেতে পারেন চমৎকার সব উপকার।

২. চুলের যত্নে
চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান হিসাবে কলার খোসা ব্যবহার করা যেতে পারে। কলার খোসায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার চুলকে নরম এবং উজ্জ্বল করতে সহায়তা করবে। এ ছাড়া এটি চুলকে শক্তিশালী এবং স্বাস্থ্যকর রাখতেও সাহায্য করে।

৩. দাঁত যত্নে
প্রাকৃতিক উপায়ে দাঁতকে ঝকঝকে সাদা করার জন্য কলার খোসা ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া বিষেশজ্ঞরা মনে করেন, দাত ও মাড়িতে কলার খেসা ঘষা উপকারী। আর নিয়মিত দাতে কলার খোসা ঘষলে দাত হবে ঝকঝকে সাদা।

৪. প্রাথমিক চিকিৎসায়
কলার খোসায় থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি অনেকটা ওষুধের মতো কাজ করতে পারে। রোদে পোড়া দাগ, আগুনে পোড়ায়, ফুসকুড়িতে ও পোকামাকড় কামড়ালে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন কলার খোসা। এটি আপনার জ্বালা যন্ত্রনা একটু কমাতে পারে। এ ছাড়া কলার খোসা ঠাণ্ডা করে ঘাড়ে ও কপালে ব্যবহার করলে তা মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

৫. ঘর পরিস্কারে
ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র, শো-পিস ও জুতা পরিস্কারের কারে দারুন একটি উপাদান হতে পারে কলার খোসা। এসব জিনিসে কলার খোসা দিয়ে ঘষে পরিস্কার করলে তা অনেক ঝকঝকে হয়।

৬. অলংকার পরিষ্কারে
কলার খোসা ব্যবহার করে আপনি আপনার বিভিন্ন অলংকারকে করে ফেলতে পারেন চকচকে। এটি রুপার নানান অলংকারে ঘষে পরিষ্কার করলে তা আরও টেকসই ও মসৃণ হয়।

৭. বাগান পরিচর্যায়
আপনার সখের বাগানটির পরিচর্যাতেও ব্যবহার করতে পারেন কলার খোসা। এটি আপনার বাগানের প্রকৃতিক সার হিসেবে, এফিড়ের প্রতিষেধক হিসেবে ও প্রজাপ্রতি আকৃষ্ট করতে অনেক ভাল একটি উপদান হিসেবে কাজ করতে পারে। এ ছাড়া এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতেও অনেক উপকারী।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন ডটকম

শাবি শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর পুলিশি হামলার ঘটনায় কোনো শিক্ষক প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাননি। এ নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে সমালোচনা চলছে। প্রশ্ন উঠেছে-যে ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর, সেখানে এমন হামলার পরও কেন শিক্ষক সমিতি বিবৃতি ছাড়া কোনো শিক্ষক প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করলেন না। এর কারণ খুঁজতে চেষ্টা করেছে যুগান্তর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চার বছরে শিক্ষকদের মধ্যে উপাচার্য-ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। হামলার পর উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের যে বক্তব্য ছিল, তা শুনে কেউ আর প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। এমন ভীতি থাকলে ঘটনার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করতে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা কি আদৌও হামলার আদেশদাতাকে খুঁজে বের করতে পারবেন। এমন প্রশ্ন শিক্ষকদের। তদন্ত কমিটি এর প্রমাণও রেখেছে। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তদন্ত কমিটির চার সদস্য মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির দাবি করেছে শিক্ষক সমিতিও। তদন্ত কমিটির প্রধান ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ তালুকদার যুগান্তরকে জানান, নিরপেক্ষভাবে তারা তদন্ত করবেন। তবে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় কিংবা বাইরের তদন্ত কমিটি বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক ব্যবহার করে তদন্ত করতে পারবেন। এর সীমাবদ্ধতা তাদের আছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ-১৬ জানুয়ারি শাবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ বর্বর হামলা চালায়। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষক আহত হন। শিক্ষার্থীরা যখন হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতর, ঠিক সেই মুহূর্তে উপাচার্য গণমাধ্যমে কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে উলটো গুলি করার অভিযোগ তোলেন তিনি। তার এমন বক্তব্যে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে রাতেই এক দফা আন্দোলনের ঘোষণা আসে। অভিযোগ-হাসপাতালে তাদের দেখতেও কোনো শিক্ষক যাননি। এমনকি কয়েকজন শিক্ষক আহত শিক্ষকদের দেখতে গেলেও তারা শিক্ষার্থীদের কোনো খবর নেননি। পরদিন শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দাবি করা হয়। কিন্তু মাঠে নেমে কোনো শিক্ষককে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. তুলশী কুমার দাস বলেন, এটা ভাবনার বিষয়। এ ক্যাম্পাসে আগে এমন ঘটনা ঘটলে প্রতিবাদের ঝড় উঠত। এবার কেন হয়নি, তা তিনিও বুঝে উঠতে পারছেন না। ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. হিমাদ্রী শেখর রায় বলেন, এটা সত্যি যে আমরা সমষ্টিকভাবে আমাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছি। কেন এমন হয়েছে, সেটা চিন্তার বিষয়। তবে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবাদ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, অতীতে এমন ঘটনায় সব শিক্ষক এক হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে সবাই এক হয়ে যেতাম। এবার সমন্বয়ের খুব অভাব লক্ষ করা গেছে। তার মতে, এ ঘটনায় শিক্ষকদের অনেক দায় আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা বলেন, চার বছরে ক্যাম্পাসে একটি ভীতিকর পরিস্থিতি চলছে। এমন পরিবেশ এ ক্যাম্পাসে ছিল না। বর্তমান উপাচার্য যোগদানের পর থেকে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই এ ঘটনার পর অনেকে তামাশা দেখতে চেয়েছে। কারণ শিক্ষার্থীদের দাবি উপাচার্যের পদত্যাগ, কোনো শিক্ষকের নয়। একজন শিক্ষক বলেন, ঘটনার পর উপাচার্য যখন শিক্ষার্থীদের দায়ী করে বক্তব্য দেন, তখন আর কোনো শিক্ষক এ ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদের সাহস করেননি। আবার কেউ কেউ বলেন, অনেক সিদ্ধান্ত উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন কঠোরভাবে নিয়েছেন। তিনি যেভাবে চেয়েছেন, একাডেমিক কাউন্সিল সেভাবে পাশ করতে বাধ্য হয়েছে; কেউ কোনো প্রতিবাদ করেননি। এ কারণে অনেকের মনে ক্ষোভ ও ভীতি দুটিই কাজ করেছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও শিক্ষার্থীদের হামলার ঘটনায় প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস করেননি।

বুধবার এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, এমন ঘটনায় শিক্ষকদের প্রতিবাদ করার সাহস না থাকা মানে তাদের মেরুদণ্ড নেই। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইয়াসমীন হক বলেন, তোমরা কেউ এমন শিক্ষক হয়ো না।

তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন : শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে সিন্ডিকেট জরুরি ভিত্তিতে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে গঠিত কমিটির সভাপতি ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো রাশেদ তালুকদারকে করা হয়। রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়। এতে সব অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে কমিটির সদস্য করা হয়। এ তদন্ত কমিটি নিয়েও ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে নানা গুঞ্জন।

জানা যায়, তদন্ত কমিটির প্রধানসহ অধিকাংশ সদস্যই উপাচার্যের কাছের মানুষ হিসাবে পরিচিত। শিক্ষকরা বলছেন, এ ঘটনায় উপাচার্য দায়ী হলে কমিটি কি তা বলতে পারবে। এদিকে, ২২ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে পাঁচ সদস্যের শিক্ষক প্রতিনিধিদল দেখা করে। তাদের মধ্যে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিবুল আলম ছাড়া বাকিরা তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন। তারা সরকার কিংবা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি করার দাবি করেন।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. তুলশী কুমার দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে একটি তদন্ত কমিটি হলে সেই প্রতিবেদন নিয়ে সাধারণত প্রশ্ন ওঠার কোনো অবকাশ নেই। এজন্য তারা এ দাবি জানিয়েছেন।

ঢাবির ‘গেস্টরুম নির্যাতন’ সংস্কৃতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাধারণ ছাত্ররা কি স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনযাপন করতে পারছেন? উত্তর হচ্ছে-সাধারণ ছাত্রসমাজের একটি বড় অংশ তা পারছে না। তারা শারীরিক নির্যাতনসহ নানা ধরনের অনাচারের শিকার হচ্ছেন। আর এই অনাচার করে চলেছে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর একাংশ। ঢাবির প্রতিটি হলে অতিথিদের জন্য রয়েছে গেস্টরুম। রাতে এসব গেস্টরুমেই অনেক শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত হচ্ছেন।

এক হিসাবে গত তিন মাসে বিভিন্ন হলে কমপক্ষে ৩০ জন শিক্ষার্থী গেস্টরুমে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে নির্যাতন হয়েছেন। আর এসব ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ একরকম নীরব ভূমিকা পালন করে চলেছে। উল্লেখ্য, ৮টি নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাত্র একজন ছাত্রলীগ কর্মীকে শাস্তি দিতে পেরেছে।

ভুক্তভোগী সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রলীগের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে যোগদানে আবাসিক হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হয়। তাদের কেউ সেখানে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে ডেকে আনা হয় গেস্টরুমে। সেখানে সেই শিক্ষার্থীকে জবাবদিহি করতে হয়। কৃত অপরাধের (!) খেসারত হিসাবে গভীর রাতে তাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। কখনো কখনো মারধরও করা হয়।

এছাড়াও গেস্টরুমে প্রথম বর্ষের ছাত্রদের সবক দেওয়া হয় কীভাবে ছাত্রলীগের সিনিয়রদের সালাম দিতে হবে, সমীহ করতে হবে। সবচেয়ে বড় যে অপকর্মটি করছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের একাংশ তা হলো, কেউ গেস্টরুমে যেতে অনীহা প্রকাশ করলে তাকে ‘শিবির’ অপবাদ দিয়ে হল ছাড়তে বাধ্য করা। কোনো শিক্ষার্থীর ফেসবুকে প্রকাশিত কোনো মন্তব্য যদি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পছন্দ না হয়, তাহলেও তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমন এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা পড়তে আসেন। তাদের অনেকেই গরিব পরিবারের সন্তান। এসব শিক্ষার্থী যখন বিভিন্ন অপবাদ মাথায় নিয়ে তাদেরই সতীর্থদের হাতে নির্যাতিত হন, তখন তাদের ও তাদের পরিবারের দুঃখের সীমা থাকে না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর নির্যাতনের কথা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাতেও ভয় পান, পাছে তারা হলের সিট হারানোসহ আরও বড় নির্যাতনের শিকার হন। আমরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের মনে আছে-বুয়েটের এক নির্দোষ ছাত্র আবরারকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কীভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। সেই হত্যা মামলায় অনেকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও সেখান থেকে ঢাবির ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের একটি অংশ কোনো শিক্ষাই গ্রহণ করেনি। একটি ছাত্র সংগঠনের দায়িত্ব হচ্ছে সাধারণ ছাত্রদের অভাব-অভিযোগের প্রতিকারে এগিয়ে আসা।

ছাত্রলীগের একটি অংশ তা তো করছেই না, উলটো তাদের নির্যাতন করছে। ক্ষমতার এই অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তো বটেই, সরকারের কাছেও আহ্বান জানাব তারা যেন ঢাবির ‘গেস্টরুম নির্যাতন’ সংস্কৃতি তৈরি করেছে যারা, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উচিত তাদের সংগঠনের বিস্তার ঘটাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা। তাদেরকে বৈরী করে তুললে সংগঠনের বিস্তার তো ঘটবেই না, বরং তা আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে-এই বোধ থাকা উচিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও গেস্টরুমে নির্যাতনের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, এর অবসান ঘটাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে-এটাও চাইব আমরা।