বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 489

করোনা আক্রান্ত শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখন আইসোলেশনে আছেন।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেছেন, আমার অসুস্থতার নয় দিন হয়ে গেছে। এ কয়েকদিনে কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে খাবারে স্বাদ পাচ্ছি না। মুখে রুচি নেই। ঘুমঘুম ভাব। পেটের সমস্যাও আছে।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি তিনি মালদহে বইমেলা উদ্বোধনে গিয়েছিলেন। এরপর নমুনা পরীক্ষার পর ১১ জানুয়ারি তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। এখন বাড়িতেই আইসোলেশনে আছেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা তার সংস্পর্শে এলেও সুস্থ আছেন। তবে মেয়ের সামান্য জ্বর আছে।

১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর বাংলাদেশের বৃহত্তর ঢাকার বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করেন শীর্ষেন্দু। তার বয়স এখন ৮৬ বছর।

কাজী আনোয়ার হোসেনের দাফন সম্পন্ন

রহস্য-রোমাঞ্চ সাহিত্যের এই পথিকৃৎ, জনপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা এবং সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেনের দাফন সম্পন্ন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মা সাজেদা খাতুনের কবরে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। কাজী আনোয়ার হোসেনের শেষ ইচ্ছা ছিল মার কবরেই থাকবেন তিনি।

এর আগে বাদ জোহর রাজধানীর সেগুনবাগিচার কাঁচাবাজার মসজিদে কাজী আনোয়ার হোসেনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টার দিকে বারডেম হাসপাতাল থেকে কাজী আনোয়ার হোসেনের লাশ সেগুনবাগিচায় তার বাসায় নেয়া হয়।

প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গত ১০ জানুয়ারি থেকে বারডেম হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। বুধবার বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে বারডেম হাসপাতালে মারা যান তিনি।

গবেষণা : কোভিডের প্রভাবে হ্রাস পেতে পারে শ্রবণশক্তি

কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ভাইরাসটি থেকে মুক্ত হওয়ার পরও অনেকে শ্রবণশক্তির সমস্যায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষণা থেকে এ তথ্য দিয়ে তারা জানাচ্ছেন, কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তিরা কানে ব্যথা, কানের ভিতর ভোঁ ভোঁ আওয়াজ, এমনকি শ্রবণশক্তি হ্রাসের মতো শারীরিক উপসর্গের সম্মুখীন হচ্ছেন। ভাইরাস থেকে মুক্ত হওয়ার পরেও অনেকে এই কান সংক্রান্ত সমস্যায় নাজেহাল হচ্ছেন। তবে কোভিডের নবতম রূপ ওমিক্রন আক্রান্তদের মধ্যে এই উপসর্গটি এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি।

কোভিড আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৮ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষের এই শ্রবণশক্তি হ্রাস বা কানে ব্যথার মতো কিছু উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, যা একদিকে বিরক্তিকর এবং সেইসাথে উদ্বেগজনকও বটে।

চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার সর্বশেষ বিস্তারে শ্রবণশক্তির এই সমস্যা বেশি করে সামনে আসছে। তবে এর আগে কোভিডের দ্বিতীয় তরঙ্গেও বেশ কিছু মানুষ এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। করোনা ভাইরাস কানের সোয়ান কোষগুলিতে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

আক্রান্ত থাকাকালীন কানের সমস্যা দেখা দিলে সবার প্রথমে একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা জরুরি। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতে কয়েকটি পদ্ধতি যেমন – গভীর শ্বাসের ব্যায়াম, ভাসোডিলেশন (রক্তনালী প্রশস্তকরণ) এবং স্টেরয়েড থেরাপি ইত্যাদি এ ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে সহায়ক হতে পারে।

ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বুঝতে পারেন ৫ লক্ষণে

যেকোনো রোগের কিছু পূর্ব সঙ্কেত থাকে। বিশেষ করে সে যদি কোনো কঠিন রোগ হয়, তবে তো থাকেই। তবে তা চিনতে পারা হল আসল বিষয়। রোগের সঙ্কেত যত তাড়াতাড়ি চেনা যাবে, ততই দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য চাওয়া যেতে পারে।
ক্যান্সারের মতো রোগের ক্ষেত্রে সঙ্কেত চেনা কিছুটা কঠিন। কারণ, শরীরের কোন অংশে ক্যান্সার বাড়তে শুরু করেছে, তার উপর নির্ভর করে কোন উপসর্গ সবের আগে দেখা দেবে। মস্তিষ্কের ক্যানসারের লক্ষণের সাথে সব সময়ে মিল থাকে না ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রাক উপসর্গের। কিন্তু ফুসফুসের ক্যান্সার বেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে তার পূর্ব লক্ষণগুলো চিনে নেয়া দরকার। কিভাবে চিনবেন ফুসফুসের ক্যান্সারের লক্ষণ?

১) কাশি : দীর্ঘ দিন ধরে কাশি হয়েই যাচ্ছে? এমন অনেক সময়ে ঠান্ডা লেগে হয়। কিন্তু ফুসফুসের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়াই কাশি হতে দেখা যায়। প্রায় বছরভর লেগেই থাকে কাশির সমস্যা।

২) শ্বাসকষ্ট : শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার সমস্যা বাড়ে ফুসফুসে ক্যান্সার বাড়তে থাকলে। কারণ, এই রোগের দাপটে বন্ধ হয়ে যেতে শুরু করে শ্বাস নেয়ার পথটিও।

৩) গলা ভেঙে যাওয়া : অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় এই সমস্যা। ফুসফুসে ক্যান্সার বাড়তে থাকলে তার প্রভাব গিয়ে পড়ে নানা স্তরে। যার কারণে গলার স্বর বদলে যায়। সব সময়েই গলা ভাঙা থাকে।

৪) গায়ে ব্যথা : যেকোনো ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রেই গায়ে ব্যথা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ফুসফুসের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বুক, পিঠ ও কাঁধের আশপাশে বেশি ব্যথা হতে থাকে।

৫) ক্লান্তি : ক্যান্সারের অন্যতম উপসর্গ হল ক্লান্তি। কিন্তু ফুসফুসের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরো বাড়ে। যেহেতু শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাই শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কিছুটা নিচের দিকে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর সে কারণেই ক্লান্তিও বাড়ে।

মুসলিম জনসংখ্যায় শীর্ষ ১০ দেশ

সাধারণভাবে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের মুসলিম বলা হয়। যারা ইসলামী ধর্মবিশ্বাস বুকে ধারণ করে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে বিশ্বাস, তাঁর অনুসরণ করে। পৃথিবীতে দুই শ কোটির বেশি মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। ইসলাম পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম।

অনুসারীর বিচারে শুধু খ্রিস্ট ধর্মই ইসলামের চেয়ে এগিয়ে। তবে বহু গবেষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দাবি ২০৫০ সালের মধ্যে ইসলাম হবে পৃথিবীর বৃহত্তম ধর্ম। সারা পৃথিবীতেই মুসলমানের উপস্থিতি আছে। তবে সবচেয়ে বেশি মুসলিম বসবাস করে উত্তর আফ্রিকা, মধ্য আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায়। মিসর, আফগানিস্তান, সিরিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরানসহ এসব অঞ্চলের কোনো দেশের জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ মুসলিম। মুসলিম জনসংখ্যার ৭৫-৯০ শতাংশ সুন্নি এবং ১০-১৩ শতাংশ শিয়া। তবে সুন্নি মুসলিমরা বেশির ভাগ শিয়া মতাবলম্বীকে মুসলিম মনে করে না।
কোনো দেশের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের বেশি মুসলিম হলে তাকে মুসলিমপ্রধান দেশ বলা হয়। সার্বিক বিচারে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটিতে ২৩১ মিলিয়ন মুসলিম বসবাস করে। ইন্দোনেশিয়ার জনসংখ্যার ৮৬.৭ শতাংশ মুসলিম এবং পৃথিবীর প্রায় ১৩ শতাংশ মুসলিমের বসবাস ইন্দোনেশিয়ায়।

মুসলিম জনসংখ্যায় শীর্ষ ১০ দেশ

২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে মুসলিম জনসংখ্যায় শীর্ষ ১০ দেশ এবং সেখানে মুসলমানের সংখ্যা নিম্নরূপ—

১. ইন্দোনেশিয়া : মুসলমানের সংখ্যা ২৩১ মিলিয়ন।

২. পাকিস্তান : মুসলমানের সংখ্যা ২১২ মিলিয়ন।

৩. ভারত : মুসলমানের সংখ্যা ২০০ মিলিয়ন।

৪. বাংলাদেশ : মুসলমানের সংখ্যা ১৫৩ মিলিয়ন।

৫. নাইজেরিয়া : মুসলমানের সংখ্যা ৯৫ থেকে ১০৩ মিলিয়ন।

৬. মিসর : মুসলমানের সংখ্যা ৮৫ থেকে ৯০ মিলিয়ন।

৭. ইরান : মুসলমানের সংখ্যা ৮২.৫ মিলিয়ন।

৮. তুরস্ক : মুসলমানের সংখ্যা ৭৪.৪ মিলিয়ন।

৯. আলজেরিয়া : মুসলমানের সংখ্যা ৪১.২ মিলিয়ন।

১০. সুদান : মুসলমানের সংখ্যা ৩৯.৫ মিলিয়ন।

মুসলিম জনসংখ্যার হারে শীর্ষ ১০ দেশ

আয়তনে ছোট হয়েও মুসলিম জনসংখ্যার হারে এগিয়ে আছে বহু দেশ। ২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে জনসংখ্যার হারে মুসলিমরা এগিয়ে এমন ১০টি দেশ হলো—

১. মালদ্বীপ : জনসংখ্যায় মুসলমানের হার ১০০ ভাগ।

২. মৌরতানিয়া : জনসংখ্যায় মুসলমানের হার ৯৯.৯ শতাংশ।

৩. সোমালিয়া : জনসংখ্যায় মুসলমানের হার ৯৯.৮ শতাংশ প্রায়।

৪. তিউনিশিয়া : জনসংখ্যায় মুসলমানের হার ৯৯.৮ শতাংশ প্রায়।

৫. আফগানিস্তান : জনসংখ্যায় মুসলমানের হার ৯৯.৭ শতাংশ।

৬. আলজেরিয়া : জনসংখ্যায় মুসলমানের হার ৯৯.৭ শতাংশ।

৭. ইরান : জনসংখ্যায় মুসলমানের হার ৯৯.৪ শতাংশ।

৮. ইয়েমেন : জনসংখ্যায় মুসলমানের হার ৯৯.২ শতাংশ।

৯. মরক্কো : জনসংখ্যায় মুসলমানের হার ৯৯ শতাংশ।

১০. জনসংখ্যায় মুসলমানের হার ৯৮.৩ শতাংশ।

উল্লেখ্য, পশ্চিম সাহারার জনসংখ্যার ৯৯.৪ শতাংশ মুসলিম। সে হিসেবে তার অবস্থান অষ্টম। কিন্তু পশ্চিম সাহারা জাতিসংঘের স্বীকৃত রাষ্ট্র না হওয়ায় তাকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

তথ্যসূত্র : ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ ডটকম

মুসলিমবিশ্বে হিজাব ও নিকাব

হিজাব বা পর্দা হচ্ছে আবরণ। যে আবরণ দিয়ে দেহ আচ্ছাদিত করা হয়। আর দেহকে শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে আবৃত করার মাধ্যমে অন্তর পবিত্র রাখা সম্ভব। নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো পর্দাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৯)
নিম্নে মুসলিমবিশ্বে হিজাব নিয়ে আলোচনা করা হলো—

সৌদি আরব : সৌদি আরবে পোশাকের বিধানের দাবি হচ্ছে আইনত সব নারীকে জনসমক্ষে হাত, মুখ ও পায়ের পাতা ছাড়া সারা শরীর ঢেকে রাখতে হবে। সৌদি বোরকা ঐতিহ্যগতভাবে একটি কালো পোশাক, যা মাথা থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত ঢেকে রাখে, এর সঙ্গে থাকে নেকাব যা মুখ ঢেকে রাখে। অনেক সৌদি নারী মাথায় স্কার্ফের সঙ্গে মুখে নেকাব ব্যবহার করেন।

বর্তমানে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের পশ্চিমা ধাঁচে সংস্কার আনার ফলে হিজাবের ব্যাপারে কড়াকড়ি কমে গেছে, এখন চেহারা খোলা রাখার প্রবণতাও দেখা যায়।

তুরস্ক : তুরস্ক ছিল একসময়ে উসমানীয় খেলাফতের কেন্দ্র। কিন্তু মোস্তাফা কামাল পাশা ক্ষমতা দখল করার পর জোর-জবরদস্তি করে হিজাব নিষিদ্ধ করে। ১৯৮০ সালে সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর নতুন করে হিজাবের বিরুদ্ধে আইন তৈরি হয়। ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে, ২০১৩ সালে সরকারি প্রতিষ্ঠানে হিজাবের ওপর নিষিদ্ধতা উঠিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে হাই স্কুলের ছাত্রীদের হিজাব পরা আইনসম্মত করা হয়। ২০১৬ সালে পুলিশ ও কোর্টে হিজাব পরার অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে প্রতিরক্ষা বাহিনীর নারী অফিসারদের হিজাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। এভাবে ধীরে ধীরে তুরস্কে হিজাব চালু করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

তিউনিশিয়া : ১৯৮১ সালে তিউনেশিয়ার সরকার স্কুল ও সরকারি ভবনে মাথায় স্কার্ফ নিষিদ্ধ করে। ২০১৪ সালে তিউনিশিয়ায় বিপ্লব সম্পন্ন হলে হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।

আফগানিস্তান : আফগান নারীরা সাধারণত বিশেষ ধরনের বোরকা বা চাদরি পরেন। চাদরি হচ্ছে বোরকার মতো একটি পোশাক, যার মধ্যে জালের মতো একটি অংশ থাকে, যা চোখকে ঢেকে রাখে। এটি ইসলাম-পূর্ব যুগ থেকেই পশতুন নারীরা পরে থাকেন।

আফগানিস্তানে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে তালেবান শাসনামলে আফগান নারীদের জন্য বোরকা পরা বাধ্যতামূলক ছিল। ২০২১ সালে তালেবান আবারও দেশটিতে ক্ষমতায় আসে। তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহিন বলেছেন, ‘তালেবান আমলে আফগানিস্তানে নারীদের জন্য বোরকা পরা বাধ্যতামূলক নয়। বাইরে বের হওয়ার সময় তাঁদের হিজাব পরলেই চলবে। ’

মিসর : ১৯৫৩ সালে জামাল আবদুন নাসেরের সরকারের সময় থেকে ধীরে ধীরে মিসরের হিজাব প্রথা উঠে যেতে থাকে। বিশেষ করে নিকাব। কিন্তু সত্তরের দশক থেকে আবার নিকাব দৃশ্যমান হতে শুরু করে। ২০০৭ সালে The New York Times জানায় যে ৯০ শতাংশ মিসরীয় নারী বর্তমানে মাথায় স্কার্ফ পরে। স্বল্পসংখ্যক নারী নিকাব পরে থাকে।

ইন্দোনেশিয়া : ইন্দোনেশিয়ায় হিজাব পরা বা না পরার ওপর কোনো আইন নেই। একমাত্র ব্যতিক্রম আচেহ প্রদেশ। সেখানে জিলবাব বা হিজাব পরা বাধ্যতামূলক। কোনো কোনো নারী সামাজিক বা ধর্মীয় রীতি হিসেবে স্কার্ফ পরতে পারেন। সাংস্কৃতিক বা সামাজিক ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে আছে সরকারি অনুষ্ঠান, শেষকৃত্য অনুষ্ঠান, খাতনা উৎসব, বিয়ে উৎসব ইত্যাদি।

ইরান : ১৬ শতকে সাভাবিদ রাজত্বের সময়ে স্কার্ফ নারীদের জন্য মানসম্মত পোশাকে পরিণত হয়। ২০ শতকের প্রথম দিকে যেসব নারী মাথার চুল ঢাকত না তাদের দরিদ্র, গ্রাম্য, ভবঘুরে ও অইরানীয় মনে করা হতো। ১৯৩৬ সালে ইরানের শাহ রেজা খান সব ধরনের নেকাবকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর বাধ্যতামূলক করা হয়। ১৯৮০ সালে সরকার ও সরকারি অফিসে হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয় এবং ১৯৮৩ সালে সব নারীর জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়।

ইরাক : দক্ষিণ ইরাকে বিশেষত নাজাফ ও কারবালায় নারীদের হিজাব পরা ঐহিত্যগত রীতি। জনসমক্ষে নারীরা মাথায় স্কার্ফ পরার অতিরিক্ত হিসেবে তারা সাধারণত আবায়া পরিধান করে। আবায়া মুখ ও হাত ছাড়া গোটা শরীর আবৃত করে রাখে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা মাথায় স্কার্ফ পরিধান করে। বাগদাদ ও ইরাকি কুর্দিস্তান এলাকায় নারীরা ইচ্ছা করলে হিজাব পরতে পারে।

মালয়েশিয়া : মালয়েশিয়ায় হিজাব পরা বাধ্যতামূলক নয়। তবে মসজিদে প্রবেশ করতে হলে জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সব নারীকে হিজাব পরতে হবে। যদিও হিজাব বা টুডং পরা বাধ্যতামূলক নয়; কিন্তু কতিপয় সরকারি ভবনে খোলামেলা ও স্বল্প বসনা মুসলিম-অমুসলিম নারীদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় হিজাবসংক্রান্ত ফ্যাশনশিল্পের বিকাশ ঘটেছে।

মালদ্বীপ : হিজাব বিষয়ে মালদ্বীপে কোনো আইন নেই। তবে সাধারণভাবে মালদ্বীপের নারীরা জনসমক্ষে হিজাব বা নিকাব পরিধান করেন। সরকারি নারী কর্মচারীরাও অফিসে হিজাব পরে থাকেন।

সোমালিয়া : সোমালি নারীরা প্রাত্যহিকভাবে ‘গুণ্ঠিনো’ ব্যবহার করে থাকে। গুণ্ঠিনো এমন এক লম্বা পোশাক, যা কাঁধে জড়ানো ও আটকানো থাকে এবং কোমরের চারদিক পর্যন্ত প্রসারিত থাকে। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা ডিরাক নামক এক ধরনের পোশাক পরেন যা লম্বা, হালকা বিবাহিত নারীরা মস্তক আাাবরণ হিসেবে শাস নামক এক ধরনের পোশাক ও উপরাঙ্গে একটি শাল (যা গারবাসার নামে পরিচিত) ব্যবহার করেন।

সুদান : সুদানি আইনে নৈতিকতাপরিপন্থী ও গণ-অনুভূতির প্রতি অশ্রদ্ধাশীল অশালীন পোশাক জনসমক্ষে পরা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই নারীরা শালীন পোশাক পরতে বাধ্য।

পাকিস্তান : পাকিস্তানে হিজাব পরার কোনো আইনি বাধ্যকতা নেই। পাকিস্তানে অধিকাংশ নারী সালোয়ার-কামিজ পরেন। সাধারণত ঢিলা দুপাট্টা স্কার্ফ কাঁধে এবং বুকে পরে থাকেন। জনসমুক্ষে সব নারী হিজাব বা স্কার্ফ পরেন না। পাকিস্তানের অনেক নারী হিজাব জাতীয় বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরেন এবং এটি গ্রামীণ ও বিভিন্ন শহরাঞ্চলের জন্য পরিবর্তিত হয়।

বাংলাদেশ : বাংলাদেশে গ্রামীণ সমাজে সাধারণত নারীরা মাথা ঢেকে কাপড় পরেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে হিজাববিরোধী আইন না থাকলেও কোনো কোনো স্কুলে হিজাব পরতে বাধা দেওয়া হয়। অনেক স্কুলে আবার মাথায় স্কার্ফ পরার নিয়ম আছে। সাধারণভাবে শিক্ষিতা ও চাকরিজীবী নারীরা হিজাব পরেন না। যদিও অনেক নারী ধর্মীয় ও সামাজিক কারণে হিজাবের রীতি মেনে চলেন। আলেম ও ধার্মিক পরিবারের নারীরা সাধারণত বোরকা ব্যবহার করে থাকেন।

সূত্র : উইকিপিডিয়া আরবি, সিএনএন, বিবিসি, আলজাজিরা ও বিভিন্ন দেশের ওয়েবসাইট

ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পর কিপ্টে বোলিং : অল-রাউন্ড পারফর্মেন্সে ম্যাচসেরা সাকিব

গত কয়েকমাস ধরেই যেন অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ব্যাটের চেয়ে বল হাতেই তিনি পারফর্ম করে যাচ্ছিলেন। বোলিং দিয়ে ম্যাচসেরাও হয়েছেন। আজ বিপিএলের ম্যাচে দেখা গেল অল-রাউন্ডার সাকিবকে।

ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পর বল হাতে হাড়কিপ্টে ছিলেন ফরচুন বরিশাল অধিনায়ক।
টস জয়ের পর ৪ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন সাকিব। দল তখন ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে মহাবিপদে। নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে জুটি বেঁধে সাকিব শুরু করেন পাল্টা আক্রমণ। তাদের ব্যাটেই ঘুরে দাঁড়ায় বরিশাল। এক পর্যায়ে কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে ইয়াসির আলীর তালুবন্দি হয়ে ফিরেন ২৭ বলে ২ চার ৩ ছক্কায় ৪১ রান করা সাকিব। ভাঙে ৫৯ বলে ৭৯ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি।

বল হাতে সাকিব ছিলেন আরও দুর্ধর্ষ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে দিয়েছেন মাত্র ২ রান। ফিরতি ওভারে এসেও তিনি ঠিক ২ রানই দিয়েছেন। ৭ম ওভারে এসে তৃতীয় বলে তুলে নেন সৌম্য সরকারকে (১৩)। লং অনে ক্যা নেন শান্ত। ওই ওভারে সাকিব দিয়েছেন আরও কম, মাত্র ১ রান! নিজের কোটা রশেষ ওভার করতে এসে পঞ্চম বলে রনি তালুকদারের থেকে একমাত্র বাউন্ডারি হজম করেন সাকিব। শেষ বলেই ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে রনিকে বোল্ড করে প্রতিশোধ নেন। ৪ ওভারে মাত্তর ১০ রান দিয়ে সাকিবের শিকার ২টি। সেরা অল-রাউন্ড পারফর্মেন্সের জ্বলন্ত উদাহরণ।

জমজমাট ম্যাচে বরিশালকে জেতালেন ডিজে ব্র্যাভো

শেষ চার বলে দরকার ছিল ১৪ রান। বোলার ডিজে ব্র্যাভো। স্ট্রাইকে ছিলেন বধ্বংসী মেজাজে থাকা সেকুজে প্রসন্ন। দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি মেরে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেন।

তৃতীয় বলে তিনি ফিরেন লং অনে লিনটটের চোখ ধাঁধানো এক ক্যাচে। আম্পায়ার নট আউটের সফট সিগন্যাল দিয়েছিলেন। রিপ্লেতে দেখা যায় অসাধারণ এক ক্যাচ নিয়েছেন বদলি হিসেবে নামা লিনটট। এভাবেই শেষ হয়ে যায় খুলনার জয়ের আশা। বরিশাল তাদের তৃতীয় জয় তুলে নেয় ৬ রানে।
রান তাড়ায় নেমে খুলনা টাইগার্সকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন আন্দ্রে ফ্লেচার এবং সৌম্য সরকার। দুজনেই চার মেরে রানের খাতা খোলেন। তবে বেশিদূর যেতে পারেনি এই জুটি। ঝড়ো শুরু করা সৌম্য পথ হারিয়ে ২২ বলে ৩ চারে ১৩ রান করে সাকিব আল হাসানের শিকার হন। লং অনে সহজ ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মেজাজে থাকা সাকিবের ঘূর্ণিতে স্রেফ দিশেহারা ছিলেন খুলনার ব্যাটাররা। বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডারের শেষ ওভারের শেষ বলেই বোল্ড হয়ে ফিরেন ১২ বলে ৬ রান করা রনি তালুকদার। এরপর নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে খুলনা টাইগার্স। ৩৫ রানের মাঝে তারা ৪ উইকেট হারায়। ফ্লেচার ২৩ বলে ১২ আর থিসারা পেরেরা ৪ রানে আউট হন। ১০ম ওভারের তৃতীয় আর শেষ বলে এই দুটি শিকার ধরেন ডিজে ব্র্যাভো।

এই অবস্থা থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন অধিনায়ক মুশফিক এবং ইয়াসির আলী। বিশেষ করে ইয়াসির বেশ বিধ্বংসী ছিলেন। একসময় বলের সঙ্গে রানের পার্থক্য বাড়ছিল। ১০ বলে যখন ৩২ রান দরকার, তখন শফিকুল ইসলামের বলে তৌহিদ হৃদয়ের দারুণ ক্যাচে পরিণত হয়ে শেষ হয় মুশফিকের ২২ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ৩৩ রানের ইনিংস। ভাঙে ৫০ বলে ৭৯ রানের জুটি। শেষের দিকে অনেক চেষ্টা করেও ম্যাচ জেতাতে পারেননি ইয়াসির। শেষ বলে মেহেদি হাসান ছক্কা মারলেও ৬ রানে হেরে যায় খুলনা টাইগার্স। তারা থামে ৬ উইকেটে ১৩৯ রানে। ইয়াসির ৩৪ বলে ৪ চার ৩ ছক্কায় ৫৭* রানে অপরাজিত থাকেন। ব্র্যাভো ৪০ রানে ৩টি আর সাকিব মাত্র ১০ রানে ২ উইকেট নেন।

এর আগে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বরিশাল ১৮.৫ ওভারে ১৪৫ রানে অল-আউট হয়ে যায়। বরিশালের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন দুই ক্যারিবিয়ান সুপারস্টার ক্রিস গেইল আর ডোয়াইন ব্র্যাভো। মেহেদি হাসানের করা প্রথম ওভারে মাত্র ১ রান নিতে পেরেছন ক্রিস গেইল! পরের ওভারে খালেদ আহমেদকে পরপর দুই বাউন্ডারি মেরে মুশফিকের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন ব্র্যাভো (৯)। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে এসে এই পেসার তুলে নেন আরেক মহাতারকা ক্রিস গেইলকে। খালেদের গুড লেন্থের বলটি ডিফেন্ড করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান ৯ বলে ১ বাউন্ডারিতে ৪ রান করা ক্যারিবিয়ান দানব। এর তৌহিদ হৃদয়ও রান-আউট হয়ে যান। ২৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক সাকিব আর নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় বরিশাল।

ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার। শান্তর রান শুরুতে বলের চেয়ে কম ছিল, এরপর ধীরে ধীরে তিনি উল্টোদিকে বাড়াতে শুরু করেন। দুজনের জুটি দারুণ জমে যায়। এমন সময় আক্রমণে আসেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। তার বলে ইয়াসির আলীর তালুবন্দি হয়ে ফিরেন ২৭ বলে ২ চার ৩ ছক্কায় ৪১ রান করা সাকিব। অবসান হয় ৫৯ বলে ৭৯ রানের চতুর্থ উইকেট জুটির। ১৬তম ওভারে নাজমুল হোসেন শান্তকে ফেরান থিসারা পেরেরা। লঙ্কান অল-রাউন্ডারের বলে ইয়াসিরের তালুবন্দি হয়ে থামে শান্তর ৪০ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৪৫ রানের ইনিংস। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বরিশাল। তারা অল-আউট হয় ১৪৫ রানে। নুরুল হাসান (৯ বলে ১০) আর মুজিব উর রহমান (৬ বলে ১২) ছাড়া কেউ দুই অংক ছুঁতে পারেননি। ৪ ওভারে ৪১ রানে ৩ উইকেট নেন খালেদ। ২টি করে নেন ফরহাদ রেজা এবং কামরুল ইসলাম রাব্বি।

মৃত্যুর আগে চলচ্চিত্রাঙ্গনকে চাঙা দেখতে চান উজ্জল

চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক আশরাফউদ্দিন উজ্জল। উজ্জল ফিল্মস লিমিটেডের ব্যানারে ‘নসিব’, ‘উসিলা’সহ অনেক ছবি প্রযোজনা করেছেন তিনি। সর্বশেষ বদিউল আলম খোকনের ‘রাজাবাবু—দ্য পাওয়ার’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে আছেন তিনি।

তবে ফের চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন ‘বিনিময়’ তারকা। ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘চালডাল.কম’-এর আওতায় মাল্টিপ্লেক্স তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। উজ্জল বলেন, ‘চলচ্চিত্রের এই ভঙ্গুর সময়ে সিনিয়রদেরই এগিয়ে আসতে হবে। আমার ছেলে আমাকে প্রস্তাব দিয়েছে মাল্টিপ্লেক্স তৈরি করার। এমনিতে তারা বিভিন্ন জেলা শহরে ভবন নিচ্ছে। ভেবে দেখলাম সেই ভবনে মাল্টিপ্লেক্স হলে ক্ষতি কী! আমরা রাজশাহী শহর থেকে কাজটি শুরু করছি। নির্মাণাধীন হাসিনা আইটি পার্কে চালডাল.কম-এর নিজস্ব ভবনে তৈরি হচ্ছে এই মাল্টিপ্লেক্স। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্য জেলায়ও আমরা মাল্টিপ্লেক্স তৈরি করব। সামনে ছবি প্রযোজনা করার ইচ্ছাও আছে। মৃত্যুর আগে আবার চলচ্চিত্রাঙ্গনকে চাঙ্গা দেখতে চাই। ’

উন্মুক্ত বেবিবাম্প জানান দিলো মা হচ্ছেন রিহানা

প্রথমবারের মতো মা হচ্ছেন ক্যারিবিয়ান গায়িকা রিহানা। সোমবার রাতে প্রেমিক র‌্যাপার এস্যাপ রকির সঙ্গে নিউ ইয়র্কে ক্যামেরাবন্দি হন রিহানা। সেখানেই তাঁর উন্মুক্ত বেবিবাম্প চোখে পড়ে যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।

প্রথমবার মা হচ্ছেন রিহানা

গোলাপি জ্যাকেট পরা রিহানা ছিলেন ভীষণ প্রাণবন্ত।

রকি ও রিহানাকে হাত হাত ধরে হাঁটতে দেখা যায়। এ সময় রিহানার কপালে চুমু খান রকি।
এটিই হতে যাচ্ছে এই প্রেমিক যুগলের প্রথম সন্তান।

হবু মা রিহানার কপালে রকির চুমু

যদিও মা হওয়া নিয়ে তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি আসেনি।

২০২০ সালে ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রিহানা বলেছিলেন, সামনের এক দশকে তিন থেকে চার সন্তানের মা হতে চান। কিন্তু সঙ্গী হিসেবে ‘পারফেক্ট’ কাউকে পাননি। সে বছরের জানুয়ারিতে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হাসান জামেলের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায়।

গেল বছর রিহানাকে ‘জাতীয় বীর’ উপাধি দেয় তাঁর দেশ বার্বাডোজ

২০২০ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের বন্ধু র্যাপার রকির সঙ্গে প্রেম শুরু হয়। তাদের সম্পর্ক নিয়ে রকি ২০২১ সালে ‘জি কিউ’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রিহানার সম্পর্ককে ‘এক জীবনের প্রেম’ বলে অভিহিত করেন। একই সাক্ষাত্কারে বাবা হওয়ার বাসনার কথাও জানান তিনি, ‘আমি অসম্ভব ভালো বাবা হব। ’

বার্বাডোজের গায়িকা রিহানা কেবল গান নয় ব্যবসায়ী হিসেবেও সফল। গেল বছরই প্রথম গায়িকা হিসেবে বিলিওনেয়ার হয়েছেন। ২০২০ সালে বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রী তাকে দেশটির ‘জাতীয় বীর’ উপাধি দেন।

গানের সঙ্গে ব্যবসাতেও সফল রিহানা

অন্যদিকে র্যাপার রাকিম অ্যাথেলাস্টন মেয়ার্স যিনি এস্যাপ রকি নামে পরিচিত, জনপ্রি মার্কিন গায়ক ও অডিও প্রযোজক। এ পর্যন্ত জিতেছেন তিনিটি এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ড।