বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 483

শরীরে ভিটামিন ‘এ’র অভাব বুঝবেন ৭ লক্ষণে

ভিটামিন ‘এ’ আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আর এটি হচ্ছে একটি চর্বি-দ্রবণীয় ভিটামিন যেটি আমাদের সঠিক দৃষ্টিশক্তি, শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা, প্রজনন এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতিসহ অনেক শারীরিক ক্রিয়াকলাপের জন্য দরকারি ভূমিকা পালন করে।

সাধারণত খাবারের মাধ্যমে দুই ধরনের ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়। এর একটি হচ্ছে প্রিফর্মড ভিটামিন ‘এ’। এই ধরনের ভিটামিন ‘এ’ মাংস, মাছ, ডিম ও দুগ্ধজাত দ্রব্যে পাওয়া যায়। আর অন্যটি হচ্ছে প্রোভিটামিন এ। এটি শরীর উদ্ভিদের খাবারে ক্যারোটিনয়েডকে রূপান্তরিত করে। এই ভিটামিনটি লাল, সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের ফল এবং শাকসবজিতে পাওয়া যায়।

ভিটামিন এ সমৃদ্ধ বিভিন্ন খাবার খেলে সাধারণত এর ঘাটতি দেখা দেয় না। কিন্তু তারপরেও যাদের ঘাটতির সর্বোচ্চ ঝুঁকি রয়েছে তারা হচ্ছেন, গর্ভবতী নারী, বুকের দুধ খাওয়ানো মা ও শিশু। আর সিস্টিক ফাইব্রোসিস এবং দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া এই ভিটামিনের অভাবের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তাই আজকে জেনে নিন যে ৭ লক্ষণে বুঝবেন শরীরে ভিটামিন এ’র অভাব—

১. শুষ্ক ত্বক
ভিটামিন এ ত্বকের কোষ তৈরি ও মেরামতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া এটি কিছু ত্বকের সমস্যার কারণে প্রদাহের সঙ্গে লড়াই করতেও সাহায্য করে। আর পর্যাপ্ত ভিটামিন এ’র ঘাটতি একজিমা এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে।

শুষ্ক ত্বকের অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী ভিটামিন এ’র ঘাটতি থাকলে এটি বেশি হয়ে থাকে।

২. চোখে শুষ্ক ভাব
ভিটামিন এ’র অভাবজনিত কারণে চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় এটি আমাদে অনেকেরই জানা। এসব সমস্যার অন্যতম একটি হচ্ছে চোখে শুষ্কভাব দেখা দিতে পারে। আর চরম ক্ষেত্রে, শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ না পাওয়ার ফলে সম্পূর্ণ অন্ধত্ব বা কর্নিয়ায় মারা যেতে পারে।
তাই শুষ্ক চোখ বা অশ্রু উত্পাদন করতে অক্ষমতা, ভিটামিন এ’র অভাবের প্রথম লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি।

৩. রাতকানা রোগ
মারাত্মক ভিটামিন এ’র অভাবে রাতকানা রোগ হতে পারে।বেশ কিছু পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, উন্নয়নশীল দেশগুলিতে রাতকানা রোগের উচ্চ প্রবণতা রয়েছে। এই সমস্যার মাত্রার কারণে, স্বাস্থ্য পেশাদাররা রাতের অন্ধত্বের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ভিটামিন এ’র মাত্রা বাড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন।

৪. বন্ধ্যাত্ব ও গর্ভধারণে সমস্যা
ভিটামিন এ নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজননের পাশাপাশি শিশুদের সঠিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়।
আর নারীদের যদি গর্ভবতী হতে সমস্যা হয় তবে ভিটামিন এ’র অভাব তার অন্যতম কারণ হতে পারে। এ ছাড়া ভিটামিন এ’র অভাবে পুরুষ ও নারী উভয়েরই বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।

৫. বৃদ্ধিতে বিলম্ব
যেসব শিশু পর্যাপ্ত ভিটামিন এ পায় না তাদের বৃদ্ধি স্থবির হতে পারে। কারণ ভিটামিন এ মানবদেহের সঠিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়।
বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভিটামিন এ শিশুদের বৃদ্ধিতে উন্নতি করতে পারে।

৬. গলা এবং বুকে সংক্রমণ
ঘন ঘন সংক্রমণ, বিশেষ করে গলা বা বুকে হলে তা ভিটামিন এ’র অভাবের লক্ষণ হতে পারে। আর শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে ভিটামিন এ ভালো সাহায্য করতে পারে।
বয়স্ক ব্যক্তিদের একটি গবেষণায় দেকা গেছে যে, প্রোভিটামিন এ উচ্চ রক্তের মাত্রা ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

৭. ক্ষত নিরাময়ে সমস্যা

আঘাত বা অস্ত্রোপচারের পরে ক্ষত নিরাময়ে সমস্যা দেখা দিলে তা হতে পারে ভিটামিন এ’র অভাবের অন্যতম একটি কারণ।
ভিটামিন এ স্বাস্থ্যকর ত্বকের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। তাই এই ভিটামিনটির অভাবে খক্ষত নিরাময় হতে সমস্যা দেখা দেয়।
ইঁদুরের গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভিটামিন এ ত্বকের চিকিত্সায় এবং ক্ষত প্রতিরোধে সহায়তা করে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন ডটকম।

যেসব কারণে ক্যান্সার হয়

মানব শরীরের জটিল রোগগুলোর মধ্যে ক্যান্সার অন্যতম। সঠিক সময়ে ক্যান্সার নির্নয় করে চিকিৎসা না নিলে মৃত্যু ঘটতে পারে। ধুমপান, ডায়াবেটিস, ফাস্টফুড গ্রহণসহ নানা কারণে ক্যান্সার হতে পারে।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়েছেন বিআরবি হাসপাতালের মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের চিফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. মোফাজ্জল হোসাইন।

ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশগত কারণে হয়ে থাকে। বাকি ১০ শতাংশ বংশানুক্রমে হয়। এক্ষেত্রে জিনের মাধ্যমে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ক্যান্সার হতে পারে। যেমন- নারীদের ক্ষেত্রে মা, খালা, নানী। কারো যদি ব্রেস্ট বা স্তন ক্যান্সার হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে বংশানুক্রমে বাচ্চার ক্ষেত্রে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আবার বাচ্চাদের চোখের পর্দা বা রেটিনায় এক ধরনের ক্যান্সার হয়ে থাকে। এটাও বংশগত কারণে হয়ে থাকে।

এছাড়া পরিবেশগত কারণে ক্যান্সার হয়। যেমন- রাসায়নিক পদার্থ তামাক বা টোবাকো। এক তামাকের মধ্যে চার হাজারের মতো কেমিক্যাল রয়েছে। তার মধ্যে ৪৫টি কেমিক্যাল সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টি করে। এটি নানারকম গবেষণায় প্রমাণিত। ধোয়াবিহীন তামাকও সমান ক্ষতিকর স্বাস্থ্যের জন্য।

এছাড়া আর্সেনিক অ্যালকোহল জাতীয় কেমিক্যালও ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। কিছু ভৌত পদার্থ যেমন রেডিয়েশনের কারণেও ক্যান্সার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এমনকি বিকিরণ যেমন সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি দীর্ঘদিন সরাসরি শরীরে পরলে চামড়ায় এক ধরনের ক্যান্সার সৃষ্টি হয়। এটা সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোতে বেশি দেখা দেয়।

যাদের ব্যায়াম, হাঁটাচলা কম করা হয়, মুটিয়ে যাবার ফলে তাদের ক্যান্সার হতে থাকে। নারীদের ক্ষেত্রে মুটিয়ে যাওয়ার ফলে স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে নারীদের মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যদি তারা মুটিয়ে যায় এটাকে বলা হয় পোস্টমেনোপজাল ওবেসিটি। এর ফলে ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যারা ফিজিক্যালি ইন-অ্যাকটিভ থাকেন, তাদের কনস্টিপেশন হয়। এর প্রভাবে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

প্রায় ৪০ ভাগ ক্যান্সারের প্রধান কারণ ধুমপান। এর প্রভাবে ফুসফুস, মুখগহ্বর, খাদ্যনালী, প্যানক্রিয়াস, কিডনি, মূত্রথলির, পাকস্থলী, এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও হয়ে থাকে। এছাড়া অ্যালকোহল মুখের ক্যান্সার, লিভারের ক্যান্সার, প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার এবং কিডনির ক্যান্সার ঘটাতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার, হেপাটোবিলিয়ারি ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কেউ কেউ মাংস জাতীয় খাবার বা চর্বিযুক্ত মাংস বেশি খেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এক্ষেত্রে রেকটাম এবং কোলন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

বাইরের খাবার বিশেষ করে ফাস্টফুড বেশি পরিমাণে খেলে ওবেসিটি বা মুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। ওবিসিটি অনেকগুলো ক্যান্সারের কারণ। কিছু কিছু খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি পরিমাণে থাকলে খাদ্যনালীর ক্যান্সার বা কলোরেক্টাল ক্যান্সার বেশি হয়। এছাড়া ব্রেস্ট ক্যান্সার, কিডনি ক্যান্সারও হতে পারে।

নাক দিয়ে রক্ত পড়লে কী করবেন?

নাক দিয়ে হঠাৎ রক্ত এলে আমরা ঘাবড়ে যাই। এর সঠিক কারণ জানা থাকলে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। জটিলতা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন নাক, কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন অধ্যাপক ডা. জাহীর আল-আমিন।

নাক দিয়ে যে কোনো ধরনের রক্ত পড়াকে মেডিকেল ভাষায় এপিসট্যাক্সিস বলে। কারণ ভেদে এবং পরিমাণ ভেদে নাকের সামনের দিক দিয়ে রক্ত ঝরতে পারে বা নাকের পেছন দিক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে মুখ দিয়ে বের হয়ে আসতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটা নিজ থেকেই বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিমাণে খুব বেশি হয় না।

কারণ

* হার্টের অসুখে রক্ত পাতলা করার জন্য দেয়া হয়। যেমন- এসপিরিন, ওয়ারফেরিন ইত্যাদি।

* অনিয়মিত উচ্চরক্তচাপ।

* নাকের ভেতর বিভিন্ন রকম ইনফেকশন। নাকের দীর্ঘদিনের ইনফেকশনের মধ্যে নাকের যক্ষ্মা অন্যতম।

* নাকের আঘাতজনিত কারণ যেমন- অ্যাক্সিডেন্ট, নাকে ঘুষি খাওয়া ইত্যাদি।

* মেকানিক্যাল কারণ যেমন নাকের হাড় বাঁকা, নাকের মধ্যে বোতাম বা বিচি জাতীয় কিছু ঢুকে যাওয়া বা নাকের পলিপ বা নাকের অ্যালার্জি।

* নাকের ভেতর টিউমার বা ক্যান্সার।

* নাকের ভেতর বিভিন্ন ধরনের ইমিউনোলজিক্যাল রোগ বা নাকের বিভিন্ন ধরনের ক্ষত।

পরীক্ষা : নাকের রক্তপড়া বেশি মাত্রায় হয় অথবা সহজে বন্ধ হতে চায় না বা যত দিন যায় তত বেশিমাত্রায় রক্ত পড়তে থাকে, সেক্ষেত্রে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে, যেমন- সাধারণ রক্ত পরীক্ষা বা নাকের এবং সাইনাসের এক্স-রে, এমআরআই, নাকের মাংস নিয়ে তার বায়োপসি, কিডনির পরীক্ষা, রক্তের বিভিন্ন ধরনের জটিল পরীক্ষা, হরমোন ইত্যাদি। নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেবেন।

যাদের নিয়মিত নাক দিয়ে রক্ত পড়ে তাদের অবশ্যই একজন নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ দিয়ে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে নাকের ভেতর ভালোভাবে দেখে নেয়া উচিত।

করণীয়

* নাক খোঁচাবেন না, নাকের ভেতর তুলা, কাপড় বা রুমালের কোণা ঢুকাবেন না।

* অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা গরম পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।

* পরিশ্রান্ত হবেন না। ২-৩ সপ্তাহ অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে বিরত থাকুন।

* ঠাণ্ডা বা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের থেকে দূরে থাকুন।

* ৪-৫ দিন গরম পানীয় (চা, কফি) এবং উত্তেজকপানীয় পরিহার করুন।

* কমপক্ষে ৪-৫ দিন ধূমপান থেকে বিরত থাকুন। আপনি যদি এসপিরিন বা ডিসপিরিন জাতীয় ওষুধ খেতে থাকেন তাহলে তা ৫ দিন বন্ধ রাখুন।

* রোগী যদি কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে ভুগে থাকেন তাহলে বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল এবং আঁশযুক্ত খাবার খাবেন। মূলত্যাগের সময় বেশি চাপ দেবেন না।

* পুনরায় রক্তক্ষরণ হলে আতংকিত হবেন না। বসে সামনের দিকে মাথা ঝুঁকে থাকুন। বরফের টুকরো কাপড়ে জড়িয়ে নাক ও কপালে ঠাণ্ডা ছ্যাঁক দিন এবং এক টুকরো বরফ চুষতে থাকুন। নাকের সামনের নরম অংশ দুই আঙুল দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরুন এবং কমপক্ষে ৫ মিনিট ধরে রাখুন।

সার্জিক্যাল চিকিৎসা : আধুনিককালে এন্ডোসকপি ব্যবহারের ফলে এর আর প্রয়োজন নেই। নাকের রক্তপাত বন্ধ না হলে এন্ডোসকপির সাহায্যে নাকের ভেতর পরীক্ষা করুন।

আতঙ্ক এখনো তাড়া করছে রিমেলকে

ট্রাকচাপায় হিমেলের মৃত্যুর সেই দৃশ্য এখনো তাড়া করছে রায়হান প্রামাণিক রিমেলকে। ঘুমের ঘোরেও আঁতকে উঠছেন তিনি। বলেন সেই ভয়ংকর দৃশ্য ভোলার নয়।

গত মঙ্গলবার রাতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র মাহমুদ হাবিব হিমেলের মাথা দেহ থেকে আলাদা হয়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রায়হান প্রামাণিক রিমেল। তাৎক্ষণিকভাবে তার ডান পায়ে জরুরি অস্ত্রোপচার শেষে রিমেল শঙ্কামুক্ত হলেও আতঙ্কমুক্ত হতে পারছেন না।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, রিমেলের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। আরও কয়েক দিন হাসপাতালে থাকতে হবে।

জানা যায়, দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন নিহত হিমেল। পেছনে বসা ছিলেন মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী রিমেল। তারা দু’জনই একসঙ্গে নাটক করতেন। চলাফেরাও করতেন একসঙ্গে। রিমেল বলেন, মোটরসাইকেলটি আমিই চালাচ্ছিলাম। পরে হিমেল বলেন, তুমি পেছনে বসো, আমি চালাই। হিমেলের ব্যাগটিও আমার কাছে ছিল।

ক্যান্টিনে রাতে কিছু খেয়ে ক্যাম্পাসে চক্কর দিয়ে মূল সড়কে যাই। সোহরাওয়ার্দী হলের দিক থেকে সামনের সড়ক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট বা কাজলা গেটের ব্যাংকের এটিম বুথের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে একসঙ্গে পাথর বোঝাই চারটি ট্রাক হবিবুর রহমান হলের দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসছিল পূর্বমুখী হয়ে।

রিমেল বলেন, সড়কটিতে আলো কম ছিল বলে সামনে থেকে আসা ট্রাকের তীব্র আলোতে আমরা কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। ভয় পেয়ে আমরা আমাদের দিক থেকে সড়কের বাম পাশে খানিকটা সরে দাঁড়িয়ে যাই। ট্রাকের বাম পাশে অনেক জায়গা ছিল। ট্রাকচালক চাইলেই বাম দিকে চলে যেতে পারতেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি ট্রাক আমাদের মোটরসাইকেলের ওপর তুলে দেয়। হিমেলের মাথা থেকে দেহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় আমি জ্ঞান হারাইনি। আমি হিমেলকে তুলে ধরার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু কোনো উপায় ছিল না। এই মধ্যে শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে।

আমার ডান পায়ের জুতা কেটে নিচের অংশের মাংসপেশি বেরিয়ে গেছে। তিনি জানান, মুহূর্তেই সবকিছু শেষ হয়ে যাবে স্বপ্নেও ভাবেননি। ঘটনার তিন দিন পরও তিনি স্বাভাবিক হতে পারছেন না। আতঙ্ক এখনো তাকে তাড়া করে ফিরছে।

প্রশংসায় ভাসছেন রাবি উপাচার্য : রাবি প্রতিনিধি জানান, ট্রাকচাপায় হিমেলের মৃত্যুর পর ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে রাবি। ক্ষুব্ধ হয়ে নির্মাণকাজে নিয়োজিত পাঁচটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে রাতভর অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন।

হঠাৎ শিক্ষার্থীদের মাঝে হাজির হন রাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু। শিক্ষার্থীরা কয়েক দফা দাবি জানান। উপাচার্য সব দাবি শোনেন এবং আমলে নিয়ে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের গাফিলতির অভিযোগ তুলে অপসারণ দাবি করলে তিনি তা মেনে নেন এবং পরদিন নতুন প্রক্টর নিয়োগ দেন। রাত গড়িয়ে দিন শুরু হলে পুরো ক্যাম্পাসে বাতি লাগিয়ে দেন।

বুধবার সকাল পৌনে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে হিমেলের প্রথম জানাজা হয়। এতে হাজারো শিক্ষক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় উপাচার্য বলেন, ‘সন্তান হারা বাবার পক্ষে এই মুহূর্তে কথা বলা খুব কঠিন। আমি হিমেলের মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিচ্ছি। আজকের মধ্যেই হিমেলের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা দিচ্ছি। হিমেলের মায়ের সব ধরনের আর্থিক দায়িত্ব নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হবে। তিনি বক্তব্যে যা বলেছিলেন ইতোমধ্যেই সব বাস্তবায়ন করা হয়েছে। হিমেলের নানাবাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয় হিমেলের মায়ের হাতে। বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় সাবাশ বাংলাদেশ চত্বরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনায় বসেন ভিসি।

সেখানে শিক্ষার্থীদের সব দাবি, সমস্যা ও চাহিদার কথা শোনেন। তারপর একে একে সব দাবি মেনে নিয়ে সেগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাঠে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন বর্তমান উপাচার্য। তিনি বলেন, হিমেলের পরিবারকে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি বড় তহবিল দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উপাচার্যের নির্বাহী ক্ষমতা বলে প্রাথমিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছি। হিমেলের পরিবারের খরচ বাবদ প্রতি মাসে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। রাবি শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত পরশ যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা খুবই জরুরি ছিল। সেটি বর্তমান উপাচার্য করেছেন। শিক্ষার্থীরা তাদের সব সমস্যা প্রাণ খুলে প্রকাশ করতে পেরেছেন।

রাবিতে হিমেল স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বালন : হিমেল স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার থেকে প্রদীপ নিয়ে শোভাযাত্রায় বের হন কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সদস্যরা। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি শহিদ হবিবুর রহমান হলসংলগ্ন হিমেল মারা যাওয়া স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে তারা প্রদীপ রেখে শোক সমাবেশ করেন।

হিমেলের স্মরণে প্রদর্শনী : হিমেলের স্মরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিল্পকর্ম প্রদশর্নীর আয়োজন করেছেন তার সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। শহিদ হবিবুর রহমান হলের সামনে বৃহস্পতিবার হিমেলের দুর্ঘটনাস্থলে এই আয়োজন করা হয়।

হিমেলের মৃত্যুতে সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভেঙে পড়েন। তার স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে হিমেলের রেখে যাওয়া শিল্পকর্ম ও সহপাঠী সহকর্মীদের শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এটি দিনব্যাপী প্রদর্শিত হয়। হিমেল রাবির চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক্স ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন শহিদ শামসুজ্জোহা হলের ২১২ নম্বর কক্ষে।

রাবিতে হিমেল স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বলন

ট্রাকচাপায় নিহত মাহমুদ হাবিব হিমেলকে স্মরণ করে প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার থেকে প্রদীপ নিয়ে শোভাযাত্রা বের করেন কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সদস্যরা। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি শহিদ হবিবুর রহমান হল সংলগ্ন হিমেলের মারা যাওয়া স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে তারা প্রদীপ রেখে শোক সমাবেশ করেন।

অন্যদিকে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা থেকেই প্রদীপ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। তারাও দুর্ঘটনাস্থলে প্রদীপ প্রজ্বলন করে সাংস্কৃতিক জোটের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে যোগ দেন। এতে অংশ নেন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা হিমেলের নানান স্মৃতি তুলে ধরেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দাবি করেন।

এ সময় ছাত্র উপদেষ্টা ড. তারেক নূর, টিএসসিসির পরিচালক প্রফেসর আরিফ হায়দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

যিশু আমায় বুঝিয়ে দিল নায়কেরও বয়স বাড়ে

বাবা হওয়া এত সোজা নয়”-এই রকম একটা বিষয়কে মজার মোড়কে দর্শকের কাছে নিয়ে আসা একেবারেই সোজা নয়। যিশু আছে, সঙ্গে দুটো মিষ্টি শিশু আছে আর এ রকম একটা ইস্যু। এই ছবি দেখার অপেক্ষা প্রচার ঝলক দেখার পর থেকেই ছিল। সেই অপেক্ষা আরও বাড়িয়েছিল শেষ কয়েক সপ্তাহ ধরে ‘এই মায়াবী চাঁদের রাতে’ বা ‘রংমশাল’-এর সঙ্গে আমার হেডফোনের এক গভীর বন্ধুত্ব।

‘বাবা, বেবি ও’ নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় বিশেষ নিবন্ধে এসব কথা লিখেছেন কলকাতার অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায়। তার লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

৪ ফেব্রয়ারি ছবির প্রিমিয়ার। সমস্যাটা হয়ে গেল এখানেই। চার তারিখ শ্যুটিংয়ের কাজে আমাকে দৌড়তে হবে শহরের বাইরে। তাই উইন্ডোজ পরিবারের কাছে একটা আবদার রাখলাম। ব্যস! একটা স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা হল। আমি হাজির। সঙ্গে আমার কয়েক জন বন্ধু, যারা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়। কারণ আমি বিশ্বাস করি আমরা যাদের জন্য ছবিটা তৈরি করছি, অর্থাৎ আমাদের দর্শক, তাদের ভাল বা মন্দ লাগাটা আমাদের প্রতিক্রিয়ার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এবং তাদের কথা ধার করে প্রথমেই বলে রাখি, তাদের মনে হয়েছে ‘বাবা, বেবি ও…’ খুব ছিমছাম, পরিষ্কার, উজ্জ্বল এবং আধুনিক একটা ছবি।

এই ছবির বিষয়বস্তুর মধ্যে অনেকগুলো সমসাময়িক সমস্যাকে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু কোথাও জ্ঞান দেওয়া বা রিসার্চ পেপার মনে হয়নি। বরং সিনেমার যে নান্দনিকতা, তা প্রতিটা ফ্রেমে ধরা পড়েছে। পুরো বিষয়টাই খুব মজা, আনন্দ এবং ভালবাসার মধ্যে দিয়ে পর্দায় তুলে ধরা। এই ধারাই কিন্তু বাঙালি দর্শককে চিরকাল আকর্ষণ করে এসেছে। এবং এখানেই ছবির স্রষ্টাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য যে, তাঁরা কখনওই সিনেমাটিকে গুরুগম্ভীর করে তোলেননি। বিনোদনের মাধ্যমে নিজেদের কথাগুলো পৌঁছে দিতে পেরেছেন। তাই নেহাতই গল্পের ছলে আমাদের আশপাশে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া সামাজিক পট পরিবর্তনগুলো খুব সহজ ছন্দে বড় পর্দায় উঠে এসেছে। একক বাবা, সারোগেসি— এই বিষয়গুলো নিয়ে আজকের দিনে কথা বলা আরও বেশি করে দরকার। সিনেমার মতো এত শক্তিশালী একটা মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে এই কথাগুলো দর্শকের কাছে পৌঁছে যাওয়াও খুবই জরুরি।

লুকোচুরি না করেই একটা কথা বলি। যিশু নতুন কী করছে, সে দিকে তো আমায় একটা নজর সব সময়ই রাখতে হয়! ওর অভিনয়, দৃশ্যে ওর উপস্থাপনা এবং বিশেষ করে ওর কমিক টাইমিং নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আর এখন তো ওর অনুরাগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। শুধু বাংলা নয়, সারা দেশ, নানা ভাষায় তৈরি হয়েছে ওর ভক্তকুল।

তবে এ ছবিতে যেন নতুন এক যিশুকে খুঁজে পেলাম। এখানে সে চল্লিশোর্ধ এক পরিণত পুরুষ, যার কপালের বলিরেখাগুলো স্পষ্ট এবং কাঁচা পাকা চুল দাড়িগুলোকে কৃত্রিম ভাবে লুকিয়ে রাখার কোনও চেষ্টা হয়নি। অভিনেতা হয়ে বুঝতে পারি এটা কিন্তু অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ। এ যেন ‘নায়ক’ শব্দের একটা নতুন অর্থ আমার চোখের সামনে এনে হাজির করল। বাংলা ছবির নায়কের এক নতুন রূপ দেখলাম। নায়কেরও বয়স বাড়ে, তারও দুর্বলতা থাকে, তারও চোখে জল আসে এবং সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ— চল্লিশের গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়ার পর তারও মনে প্রেম স্বচ্ছন্দে জাগতে পারে।

শোলাঙ্কির বড় পর্দায় এটা প্রথম কাজ এবং সেই প্রথম ছবির চরিত্রটি একেবারেই সরল ছিল না। সহজও ছিল না। অনেক গভীরতা, অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে তার মধ্যে। এমন একটি চরিত্রকে এত বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পেরেছে ও— এখানেই শোলাঙ্কির সাফল্য। এ ছবি এক মিষ্টি প্রেমের গল্প, যাতে ছেলেমানুষি আর বড় মানুষের পরিণত মন হাত ধরাধরি করে চলে। সেখানে অবশ্যই যিশু এবং শোলাঙ্কির জুটির রসায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করে।

দু’টি মানুষ, যারা একে অপরের থেকে অনেক আলাদা, তাও তারা পাশাপাশি চলে। কোথাও যেন ওদের মধ্যে এক অদৃশ্য সুতোর টান নির্মাণ হতে থাকে ছবির শরীরে। ছবি দেখতে দেখতে মনে হয়, যে কোনও সম্পর্কই কোনও চেনা ছকে এগিয়ে চলে না, তাতে নিত্যনতুন সমীকরণ তৈরি হতে থাকে। প্রেমও তাই। আমরা যারা ৯০-এর দশকের প্রেমের ছবি দেখে বড় হয়েছি, বা যে সব প্রেমিক-প্রেমিকা তাদের এ বারের সরস্বতী পুজো বা ভ্যালেন্টাইনস ডে-কে আরও স্পেশাল করে তুলতে চায়, তাদের কাছে এই সিনেমাটা উইন্ডোজের তরফে একটা সুন্দর উপহার। এর সঙ্গে উপরি পাওনা তো অনেক আছেই। চমক হাসানের গান, যা এখনই সকলের মুখে মুখে ঘুরছে। অমিত ইশানের সংগীত, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের গলা। পার্শ্বচরিত্রে এক ঝাঁক অভিনেতা— রজতদা, রেশমিদি, বিদীপ্তা, গৌরব, মৈনাক। সকলের অভিনয়ই মন জয় করে নেওয়ার মতো। এ রকম মানুষগুলোকে আমরা প্রতিদিন আমাদের আশপাশে হাঁটতে-চলতে দেখি। কেউই অকারণে নেতিবাচক নয়, বরং প্রত্যেকেই একদম বাস্তব।

ছবির চিত্রায়নে তাই বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব হয় না কখনও। গৌরবের কাজ আমি এর আগে খুব বেশি দেখিনি। এই সিনেমায় কখনও অবশ্য ওর উপরে দর্শক রেগে যাবেন। কিন্তু সেটাই তো ওর জয়। এক জন বাস্তববাদী, ঝকঝকে মানুষ, অথচ কোথাও গিয়ে সংবেদনশীল নয়। এ রকম চরিত্রায়ণই এই সিনেমার অন্যতম আঙ্গিক। ‘ওয়েল ডান’ গৌরব!

ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হল— দুটো সাত মাসের বাচ্চাকে দিয়ে ছবির পরিচালক অরিত্র মুখোপাধ্যায় অভিনয় করালেন! কী অসম্ভব কঠিন এই ধৈর্যের পরীক্ষা। এর জন্য পুরো টিমকে কুর্নিশ জানাই। ছবির শেষে ওই দুই পুচকে ছোঁড়ার হাসি দর্শকদের মধ্যে সংক্রমিত হবে বলেই আমার বিশ্বাস। ক্যামেরায় শুভঙ্কর ভড় এবং চিত্র পরিচালক রণজিতের কাজ সিনেমার নান্দনিকতাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে।

বাঙালি দর্শককে হলমুখী করতে এ রকম মূলধারার ছবি আরও বেশি করে হওয়া ভীষণ প্রয়োজন। ‘বাবা, বেবি ও…’ নতুন ধরনের গল্প বলার চেষ্টাকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। অরিত্র, জিনিয়া এবং ‘বাবা বেবি ও…’-র পুরো দলটাকে অনেক শুভেচ্ছা জানাই। গত কয়েক বছরের অনবরত অসুখ, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ ভুলে একটু হেসে খেলে দেখেই আসুন না! প্রশ্ন রইল আপনাদের জন্য,“সত্যি বাবা হওয়া কি চাট্টিখানি কথা?”

চলতি মাসেই বিয়েরপিঁড়িতে বসছেন ফারহান-শিবানি

চলতি মাসেই বিয়েরপিঁড়িতে বসছেন বলিউড অভিনেতা-পরিচালক ফারহান আখতার। প্রেমিকা শিবানি ডান্ডেকারের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন ফারহান।

ফারহানের বাবা এবং কিংবদন্তি গীতিকার এবং চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বোম্বে টাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হবু পুত্রবধূ শিবানির পরিবারকে স্বাগত জানিয়ে জাভেদ আখতার বলেন, সে খুব সুন্দর মেয়ে। আমরা সবাই তাকে খুব পছন্দ করি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে ফারহান ও শিবানির সম্পর্ক খুবই ভালো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইসম অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করবেন তারা। মুম্বাইয়ের এক বিলাসবহুল হোটেলে হবে রাজকীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন। কিন্তু দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আবার বেড়ে যাওয়ায় খুব কমসংখ্যক অতিথি নিয়ে আয়োজন সারবেন তারা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তাদের বিয়েতে নিমন্ত্রিত থাকবেন শুধু আত্মীয়পরিজন এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের তৈরি পোশাকে সেজে উঠবেন বর-কনে।

প্রথম স্ত্রী অধুনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মডেল-সঞ্চালিকা শিবানির প্রেমে পড়েন ফারহান। কয়েক বছর ধরে একসঙ্গে থাকছেন তারা। এবার নতুন সংসার শুরুর পালা। কিন্তু করোনার কারণে বিয়ে পিছিয়ে দিতে রাজি নন তারা। বরং সব সাবধানতা মেনেই জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখবেন ফারহান-শিবানি।

ইংল্যান্ড গেলেন সাইফউদ্দিন

লন্ডনে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন পেসার হাসান মাহমুদ।আর চিকিৎসার জন্য রাতে লন্ডনে উড়াল দিয়েছেন অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন সাইফ।

এবারের বিপিএলে অনুপস্থিত জাতীয় দলের একমাত্র পেস বোলিং অলরাউন্ডার। পিঠের ব্যথায় বোলিং করতে না পারার কারণে বিপিএলে এবার দল পাননি তিনি।

বিপিএলে দল না পেলেও জাতীয় দলের খেলা শুরুর আগেই সুস্থ হয়ে উঠতে হবে তাকে। কারণ আফগানিস্তানের সঙ্গে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ দরজায় কড়া নাড়ছে।

সে সিরিজের আগেই নিজেকে ফিরে পেতে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হলেন সাইফউদ্দিন। গেলেন লন্ডনে।

যদিও আফগানিস্তান সিরিজে তার ফেরার সম্ভাবনা খুব নেই বললেই চলে।

আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি। তার আগে সাইফউদ্দিন কতটুকু ফিট হয়ে উঠবেন তাই দেখার বিষয়।

বিসিবির চিকিৎসক মঞ্জুর হোসাইন জানিয়েছেন, ‘সাইফউদ্দিন লন্ডনে ডাক্তার দেখিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরবে।’

এদিকে পিঠের চোটে ভোগা পেসার হাসান মাহমুদ এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। দেশে ফিরে তিনি বলেন, ‘আমি এখন সুস্থ। বোলিংয়ে ফিরতে পারব।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝপথে চোট পেয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন সাইফউদ্দিন। কোমরের নিচে পাওয়া ব্যথা বাড়ায় বিশ্বকাপের মূলপর্বে মাত্র এক ম্যাচ খেলেছিলেন।

পাঁচ ম্যাচ নিষিদ্ধ আফ্রিদি, হাজার ডলার জরিমানা

চলতি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন আম্পায়ার ফয়সাল খান আফ্রিদি।

শুধু তাই নয়; ম্যাচ ফি’র ৫০ শতাংশ অর্থ জরিমানাও গুণতে হয়েছে তাকে, যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ডলার।

টুর্নামেন্টে করোনাবিধি ভঙ্গ করায় শাস্তি পেয়েছেন পকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এলিট প্যানেলের এই আম্পায়ার।

পিএসএলের এবারের আসরের করাচি পর্বে সাতটি ম্যাচে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল ফয়সাল আফ্রিদির। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুতেই করোনা আক্রান্ত হওয়ায় এখনও মাঠে নামা হয়নি তার।

তাকে সাতদিনের বাধ্যতামূলক আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।

এরপর প্রথমবার নেগেটিভ হয়েই নিজের রুম ছেড়ে বেরিয়ে যান আফ্রিদি। এটাই তার অপরাধ।
নিয়ম অনুযায়ী, কেউ পজিটিভ শনাক্ত হলে দুইবার পরীক্ষায় নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে বের হওয়া নিষেধ। কিন্তু আফ্রিদি প্রথমবারেই আইসোলেশন ছেড়ে বের হয়েছেন। এতে টুর্নামেন্টের করোনা প্রটোকল ভাঙার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে ।

করোনাবিধি ভঙ্গের অভিযোগ মেনে নিয়েছেন আফ্রিদি। তাকে সাত ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা ও ম্যাচ ফি’র ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

অর্থাৎ পিএসএলের করাচি পর্বে আর আম্পায়ারিং করা হচ্ছে না তার। লাহোর পর্ব দিয়ে শুরু হবে আফ্রিদির এবারের পিএসএল।

তথ্যসূত্র: জিও টিভি

বরই চাষে ভাগ্যবদল মফিজের

দ্বীপজেলা ভোলায় যে বাণিজ্যিকভাবে বরই চাষাবাদ হতে পারে সেটি প্রমাণ করেছেন মাইনুদ্দিন হাওলাদার মফিজ। ভোলা জেলায় তার হাত ধরেই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বরই চাষ হচ্ছে।

সাধারণত জেলার প্রতি বাড়িতে ২-১টি টক বা মিষ্টি জাতের বরইগাছ দেখা যায়। ফল ব্যবসায়ীরা ঢাকা থেকে বরই এনে চাহিদা পূরণ করতেন। মফিজ বাণিজ্যিকভাবে বরই চাষ করে সফল হওয়ায় তাকে দেখে অনেকেই বরইবাগান গড়ছেন। ব্যবসায়ীরা স্থানীয় বাগান থেকে বরই কিনে চাহিদা মেটাতে পারছেন।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে কাচিয়া ইউনিয়নের দুই নাম্বার ওয়ার্ডে সাড়ে চার একর জমিতে মফিজ বরইবাগান গড়ে তুলেছেন। গাছগুলো চার থেকে সাড়ে চার ফুট উচ্চতার। গাছভর্তি আপেলের মতো লাল বরই দেখলে যে কারও চোখ জুড়িয়ে যাবে। বিভিন্ন এলাকার লোক তার বরইবাগান দেখতে আসছেন। অনেককেই ক্যামেরাবন্দি করছেন।

মফিজ তার বাগানে বেশিরভাগ বলসুন্দরী জাতের বরই চাষ করেছেন। এ ছাড়া কাশ্মীরি জাতের বরইও পরীক্ষামূলক চাষ করেছেন। বরইগাছের চারা সংগ্রহ করেছেন নাটোর থেকে। চারা লাগানোর ২২-২৩ মাসের মধ্যেই ফুল এসেছে। এখন ফল সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন।

এ বরই দেখতে যেমন সুন্দর ও খেতেও সুস্বাধু। বাজারে চাহিদাও প্রচুর। এ পর্যন্ত তিন লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। ৩০ ফাল্গুন পর্যন্ত ২২-২৩ লাখ টাকা বিক্রি নামবে বলে মফিজ জানান। তবে একটি কীটনাশক কোম্পানির পরামর্শে ফুল আসার সময় ওষুধ দেওয়ায় গাছের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না হলে বিক্রি আরও কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা বেশি হতো বলে দাবি করেন মফিজ। স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ বরই বিক্রি করছেন ২ হাজার ৪০০ টাকা করে।

পড়াশোনায় মফিজ এসএসসির গণ্ডি পেরোতে পারেননি। মফিজ বলেন, আমি নতুন কিছু করতে পছন্দ করি। সেই সঙ্গে চ্যালেঞ্জও। কৃষিকাজের প্রতি একটা মায়া জন্মে গেছে। বরইবাগান ছাড়াও থাই পেয়ারা, মাল্টাবাগান, সবজি বাগানে প্রায় দুই কোটি টাকার মতো আমার বিনিয়োগ। দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, পৌরসভায় দুই এলাকার জমি বিক্রির টাকা, এলাকায় জমি বিক্রি করে কৃষির দিকে ঝুঁকি। এ পরিমাণ টাকা দিয়ে আমি পছন্দসই ব্যবসা করতে পারতাম। কিন্তু ওই দিকে আমার মন টানে না। এ নিয়ে কিছুটা পারিবারিক মনোমালিন্যও হয়েছে। এ কাজে আমি আনন্দ পাই।

মফিজ আরও জানান, বছর দুই আগে আমি উত্তরবঙ্গের নাটোর জেলায় যাই। সব কিছু জেনেশুনে নাটোর থেকে বলসুন্দরী জাতের বরই চারা নিয়ে আসি। এ বরইয়ের বৈশিষ্ট হলো— এটি দেখতে আপেলের মতো। যথেষ্ট পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। এ ছাড়া এ জাতের বরইয়ের বিচি অনেক ছোট। বরই বাগানের জমি লিজে নেওয়া। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১০-১১ লাখ টাকা। ক্ষেতে রাসায়নিক ও জৈব সার দুটোই প্রযোগ করা হয়েছে। এ বছর পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম হয়েছে। তবে পাখি, বাদুড় মিলে লাখখানেক টাকার বরই খেয়ে ফেলে। এ বছর প্রথম সিজন হওয়ায় খরচ একটু বেশি হয়েছে। আগামী বছর খরচ কম হবে। কারণ বরই চারা কিনতে হবে না। সেচব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামো খরচ আর হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মফিজের মতে, কৃষিতে যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে লোকসান হওয়ার কথা নয়। তার স্বপ্ন কৃষির পাশাপাশি গরু, ছাগল আর ভেড়ার একটি আধুনিক ফার্ম করার। তবে এটার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাস্তবায়ন দুঃসাধ্য।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, কৃষি অফিস মফিজকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। তাকে জৈব ও রাসায়নিক সার সরবরাহের পাশাপাশি সেচের জন্য বরই ক্ষেতে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেকার যুবকদের জন্য মফিজের কাজ একটি অনন্য উদাহরণ বলেও জানান তিনি।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুর রহমান বলেন, মফিজের মতো উদ্যোক্তাদের সাধ্যমতো সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।