বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 482

নির্বাচন উপলক্ষে নৌযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সাত ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌযান ও সড়ক পথে যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শুক্রবার রাত ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানায়।

আদেশে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সপ্তম ধাপে সারা দেশে ১৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন উপলক্ষে ভোট গ্রহণের আগের দিন ৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ, স্পিডবোট চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্রাক ও পিকআপ চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ৮ ফেব্রয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্র নৌযান বা জনগণ তথা ভোটারদের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত ক্ষুদ্র নৌযান নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়।

আদেশে আরও বলা হয়, রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি/বিদেশি পর্যবেক্ষদের ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য। সেই সঙ্গে নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত দেশি/বিদেশি সাংবাদিক, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শক এবং জরুরি কাজে যেমন- অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

শনিবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন যুগান্তর জানান, অবাধ, সুষ্ঠ নিরপেক্ষ্যভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে তাহিরপুরের ইউএনও, থানা পুলিশসহ মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী কাজে দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইসির নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা দিকনির্দেনা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সপ্তম ধাপে সারাদেশের ন্যায় তাহিরপুর উপজেলার সাত ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত নৌকা প্রতীকের ৭ প্রার্থীসহ ৪৪ জন চেয়ারম্যান, সাধারণ ওয়ার্ডে ২৯৩, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১০০ জন মহিলা সদস্য প্রার্থী প্রতিদ্ধন্ধীতা করছেন।

সব কিছু মিলিয়ে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হাওর ও সীমান্তঘেষা তাহিরপুরে সাত ইউনিয়নে ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ওই দিন উপজেলার সাত ইউনিয়নের পুরুষ–মহিলাসহ ১ লাখ ৪২ হাজার ৫৮৭ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন বৈঠকের আয়োজন করতে প্রস্তুত তুরস্ক: এরদোগান

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে দেশ দুটিকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।

শুক্রবার তিনি বিবদমান দুই দেশের প্রতি এ আহ্বান জানান।

এরদোগান বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন চাইলে তুরস্ক তাদের বৈঠকের ব্যবস্থা করতে পারে। খবর ইয়েনি সাফাকের।

ইউক্রেন সফর শেষে ফেরার পথে বিমানে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এরদোগান বলেন, আামি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোডিমির জেলেনস্কিকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চাই।

কিয়েভ সফর প্রসঙ্গে এরদোগান বলেন, তুরস্ক ইউক্রেনের স্বাধীনতা ও অখণ্ডতায় বিশ্বাসী। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।

তুরস্ক চায় উত্তেজনা কমিয়ে দেশ দুটির মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে।

২০১৪ সালে দোনবাস এলাকায় রাশিয়ার সামরিক অভিযান চালানোর পর থেকে কেউয়েভ ও মস্কোর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে।

আইএস নেতাকে হত্যার অভিযান সরাসরি দেখছিলেন বাইডেন

সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর গত বুধবার রাতভর অভিযানে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর নেতা আবু ইব্রাহিম আল-হাশিমি আল-কুরাইশি নিহত হয়েছেন বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

অভিযান পরিচালনার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়ার পর অভিযান শুরু হলে বাইডেন হোয়াইট হাউসে বসে তা সরাসরি দেখছিলেন। খবর বিবিসির।

তুরস্ক সীমান্তের কাছে আতমেহ এলাকায় একটি দোতলা বাড়িতে সপরিবারে লুকিয়ে ছিলেন আইএসের নেতা আবু ইব্রাহিম আল-হাশিমি আল-কুরাইশি।

বৃহস্পতিবার ভোররাতে মার্কিন কমান্ডোরা হেলিকপ্টারে করে এসে বাড়িটির ওপর হামলা চালালে তিনি একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটান – যাতে তিনি নিজে ও তার পরিবারসহ ১৩ জন নিহত হন।

এই হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল কয়েক মাস ধরে। আল-কুরাইশিকে বহুদিন ধরেই আইএসের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। তাকে একজন রহস্যময় লোক বলে মনে করা হতো – যাকে প্রকাশ্যে প্রায় দেখাই যেতো না।

আইএসের ভিতরে আল-কুরাইশিকে ডাকা হতো ‘হাজী আবদুল্লাহ কারদাশ’ বা ‘হাজি আবদুল্লাহ’ নামে।

আল-কুরাইশির জন্ম ১৯৭৬ সালে, ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের আল-মেহালাবিয়ায়।

ইরাক সরকারের কাউন্টার-টেররিজম ইউনিটের নাম হচ্ছে ফ্যালকন ব্রিগেড। আইএসের ভিতরে নিজেদের গুপ্তচরদের ঢুকিয়ে দেওয়ার কাজে এ ফ্যালকন ব্রিগেড ছিল সিদ্ধহস্ত।

এর ফলে ইসলামী উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের একজন এজেন্ট হচ্ছেন মেজর আহমেদ। এটা তার আসল নাম নয়, পরিচয় গোপন রাখার জন্য তাকে এই ছদ্মনাম দেয়া হয়েছে।

ইসলামিক স্টেটের সবশেষ নেতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন এই মেজর আহমেদ। তিনি বলছিলেন হাজী আবদুল্লাহ বা আল-কুরাইশির আসল নাম আমির মোহাম্মদ সাঈদ আল-মওলা।

আমির মোহাম্মদ সাঈদ আল-মওলার জন্ম আল-মেহালাবিয়ায়, তার বাবা সেখানকার একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। তার ছিল দুই স্ত্রী, এবং ১৭টি সন্তান।

বড় পরিবার ছিল তাদের এবং স্থানীয় লোকেরা এখনো তাদের মনে রেখেছেন। কারণ তারা শিক্ষিত ছিল, লোকে তাদের সম্মান করতো।

কিন্তু তা সত্ত্বেও আল-কুরাইশি স্থানীয় কিছু গোষ্ঠীর মাধ্যমে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হন।

এই আল-মেহলাবিয়া, তাল আবতা এবং আল-হাজার এই তিনটি প্রত্যন্ত এলাকা মিলে একটা দ্বীপের মত তৈরি হয়েছে। এখানেই ২০০৩ সালের মার্কিন অভিযানের পর ইরাকী আল-কায়দার জন্ম হয়েছিল। তাদের এখানে বেশ বড় সমর্থনও ছিল।

আইএসের সামরিক এবং নিরাপত্তা বিষয়ক নেতাদের বেশির ভাগই এই এলাকাগুলো থেকে আসা- বিশেষ করে নিকটবর্তী তাল-আফার থেকে।

সাদ্দাম হোসেনের শাসনকালে আল-কুরাইশি কিছুকাল ইরাকের সেনাবাহিনীতে ছিলেন বলে জানা যায়। তা ছাড়া তিনি মসুলের বিশ্ববিদ্যালয়েও ইসলাম বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন।

মার্কিন-নেতৃত্বাধীন বাহিনী যখন ২০০৩ সালে ইরাকে অভিযান চালায় তখনই আল-কুরাইশি ছোট ছোট কিছু জিহাদি গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি এসব গোষ্ঠী ছেড়ে দিয়ে আল-কায়েদায় যোগ দেন।

একপর্যায়ে ২০০৮ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং আমেরিকানরা পুকা কারাগারে আটকে রাখে।

সেখানে মার্কিন সৈন্যরা কয়েক মাস ধরে আল-কুরাইশিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা দাবি করে যে আল-কুরাইশি তাদেরকে আইএস সদস্যদের সম্পর্কে অনেক তথ্য দিয়েছিলেন।

২০১০ সালের শুরুতে আল-কুরাইশিকে ছেড়ে দেয়া হয়। এর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ইসলামিক স্টেটের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির সঙ্গে যোগ দেন।

আল-বাগদাদির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে তিনি নিনেভেহ প্রদেশে আইএসএর একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তায় পরিণত হন।

এটা ছিল এমন এক সময় – যখন আমেরিকান সৈন্যদের একটা বড় অংশকেই ইরাক থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এর ফলে আইএস নিজেদের পুনর্গঠিত করার সুযোগ পায়।

তখন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নূরী আল-মালিকি। তার সরকার জনপ্রিয় ছিল না, ফলে এসময় আইএসের সদস্য সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

কিছু কিছু বিষয়ে হাজি আবদুল্লাহ অত্যন্ত উগ্রপন্থী এবং তিনি তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করতেন না।

রিজার্ভ থেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৮ হাজার কোটি ৫০৮ টাকার সমপরিমাণ ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ডলারে ৬২০ কোটি বা স্থানীয় মুদ্রায় ৫৩ হাজার ৩২০ কোটি টাকা।

আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রায় ৫২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো বা স্থানীয় মুদ্রায় ৫ হাজার ১৬৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এখান থেকে কারেন্সি সোয়াপ বা সাময়িক বিনিয়োগ হিসাবে ২০ কোটি ডলার বা ১৭২০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে শ্রীলংকাকে।

বাকি অর্থের মধ্যে পায়রা বন্দরকে ৫২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো এবং রপ্তানি ঋণ তহবিলে (ইডিএফ) ৬০০ কোটি ডলার বা ৫১৬০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তিন খাতে এ ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে রিজার্ভ থেকে ঋণ দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, রিজার্ভ থেকে ঋণ দেওয়া ঠিক হচ্ছে না। ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া-নেওয়ার জন্য পুঁজিবাজারও একটি ভালো জায়গা। সুতরাং রিজার্ভ থেকে ঋণ দেওয়া মোটেও উচিত হবে না।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে জানান, বলা হচ্ছে রিজার্ভ অনেক বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত রিজার্ভ থেকে ঋণ দেবে। সম্প্রতি আমদানি ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া মুদ্রা বিনিময় হার ঠিক রাখতে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিনিময় হার ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত ডলার হাতে রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন খাতে যেসব অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেগুলো মূল হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে। সেগুলো বাদ দিলে অতিরিক্ত ডলার থাকে না। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতেও পর্যাপ্ত রিজার্ভ লাগবে। এরপরও রিজার্ভ থেকে ঋণ দিলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে রপ্তানিকারকদের ঋণ দিতে ইডিএফে দেওয়া হয়েছে ৬০০ কোটি ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি। এর পুরোটাই ওই তহবিলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেওয়া হচ্ছে। পায়রা বন্দরের জন্য ৫২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো বা ৫ হাজার ১৬৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছাড় হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ ইউরো বা ২৬৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বাকি অর্থ এখনো ছাড় হয়নি।

এছাড়া শ্রীলংকার অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে শ্রীলংকাকে কারেন্সি সোয়াপের (জরুরি প্রয়োজনে সাময়িকভাবে বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়া) ২০ কোটি ডলার বা ১৭২০ কোটি টাকা। যার পুরোটাই ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে।

জানা যায়, করোনা মহামারির মধ্যেও কয়েক বছর ধরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একের পর এক রেকর্ড গড়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের ওপর ভর করে গত বছরের আগস্টে রিজার্ভ ৪৮০০ কোটি ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।

এ রিজার্ভ দিয়ে ৭ থেকে ৮ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) নিরাপদ মান অনুযায়ী কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকলেই তাকে নিরাপদ ধরা হয়। সে হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই।

এ কারণেই সরকার রিজার্ভ থেকে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় উৎপাদনশীল খাতে রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে উদ্যোগ নেয় সরকার। এজন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়। যার নাম বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল (বিআইডিএফ)।

জানা যায়, রিজার্ভের অর্থ দিয়ে প্রথম উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেনটেইনেন্স ড্রেজিং প্রকল্প। সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ১০ বছর মেয়াদি এই ঋণের অর্থে বন্দরের ড্রেজিংসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে সুদের হার হবে ২ শতাংশ। সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংককে দেবে ১ শতাংশ সুদ।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৪৫১৪ কোটি ডলার। এ মাসের শুরুর দিকে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের শোধ করার পর রিজার্ভ কিছুটা কমেছে।

বিনিয়োগ বাড়ুক নিয়মের মধ্যে থেকেই

মাননীয় অর্থমন্ত্রীর জন্য সুখবর। শুধু অর্থমন্ত্রী বলি কেন, আমাদের সবার জন্যই সুখবর, কারণ সুখবরটি অর্থনীতির জন্য। সারা বিশ্বসহ বাংলাদেশ যখন করোনা ও করোনা-পরবর্তী ওমিক্রনের অভিঘাতে বিপর্যস্ত, তখন আমাদের বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা বসে নেই। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।

সরকারের কথামতো তারা দেশে বিনিয়োগ করে যাচ্ছেন। এমনকি বিদেশে বিনিয়োগ করার জন্যও আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সম্পর্কিত নীতিমালা করতে বাধ্য হয়েছে। দেশের ভেতরে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য, ব্যবসাকে প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য সরকার ‘বাজার অর্থনীতির’ বাইরে গিয়ে সুদনীতিতে হস্তক্ষেপ করে। ঋণের ওপর সুদের হার আশাতীতভাবে কমানো হয়। এ মুহূর্তে ঋণের ওপর সুদের হার ৯ শতাংশ।

অবশ্য এটি করতে গিয়ে সঞ্চয়কারীদের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানতে হয়েছে। এই দুর্মূল্যের বাজারে আমানতের ওপর সুদের হার এখন মাত্র ৬ শতাংশ। কার্যত আরও কম। প্রশ্ন, এই ৯-৬ সুদনীতির ফলে কি দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে? বেসরকারি খাত কি বিনিয়োগে উৎসাহিত হচ্ছে, না এখনো তাদের দাবি-দাওয়া আছে?

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে বা বাড়ছে কিনা, তা বছর শেষে বোঝা যাবে। শত হোক এখনো দেশে করোনাকালীন অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। সরকার ইতোমধ্যেই অর্ধেক জনবল দিয়ে সরকারি/বেসরকারি অফিস চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার পর দোকানপাট বন্ধের নির্দেশও জারি করা হয়েছে। দেশে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম জারি রয়েছে। টিকা দেওয়ার জন্য যোগ্যতার ক্ষেত্রে বয়স কমানো হয়েছে। জনজীবন এখনো সংকুচিত।

বৃহৎ সমাবেশ সীমিত করা হয়েছে। তার মানে আমরা এখনো অস্বাভাবিক জীবনের মধ্যেই অনিশ্চয়তার দিন কাটাচ্ছি। যেসব বাংলাদেশি বিদেশে থাকে/কাজ করে, তাদের জন্যও দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগের খবর নেওয়া এবং তার ওপর লেখা খুবই বিব্রতকর। তবু কাগজে আমরা প্রতিদিন ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নানা খবর পড়ছি, প্রতিবেদন পড়ছি। অনেক ব্যবসা এই অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্যেই বেশ ভালো করছে, অনেক ব্যবসা বেশ দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে। যেমন ওষুধ কোম্পানিগুলো দারুণ ব্যবসা করছে, আবার পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত। অর্থাৎ হোটেল, মোটেল, পরিবহণ, বিমান, আধুনিক কোচ ব্যবসার অবস্থা তত ভালো নেই। আবার ভালো মোটরসাইকেল বিক্রির ব্যবসা। এমন সব খবর প্রতিদিন আমরা পাঠ করছি।

এই তো জানুয়ারি মাস শেষে ভালো খবর পাওয়া গেল বিনিয়োগের ওপর। খবরটি বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর। এতে দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সালসহ করোনাকালীন দেশে বড় বড় ব্যবসায়ীরা অনেক বিনিয়োগ করেছেন। খবরটিতে দেশের বৃহৎ সাতটি গ্রুপের তথ্য দেওয়া হয়েছে। সুপরিচিত এসব গ্রুপ এ সময়ে সর্বমোট ২০ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে খুবই বড় একটি হাউজ সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে। তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সবচেয়ে ছোট বিনিয়োগের পরিমাণও কম নয়-১ হাজার কোটি টাকা।

তারা কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করেছে? খাতগুলোর মধ্যে আছে সমুদ্রগামী জাহাজ, ফ্লাওয়ার মিল, চা বাগান, সিমেন্ট কারখানা সম্প্রসারণ, ভোগ্যপণ্য ও প্রাণিখাদ্য, পোশাক, মোবাইল, পোল্ট্রি, সিরামিক, পাটকল, কাচ কারখানা, ভোজ্যতেল পরিশোধন, আটা-ময়দা ও ইস্পাত কারখানা। এ তালিকা থেকে বোঝা যায়, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বিচরণ ক্ষেত্র ব্যাপক এবং টাকার অঙ্কে বিনিয়োগের পরিমাণও বেশ বড়। এসবই সুখবর, আশাজাগানিয়া খবর। কারণ এগুলো বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের বড় বড় বিনিয়োগের খবর।

এই ভালো খবরের পাশাপাশি আরেকটি খবর আছে, যা আবার চিন্তাজাগানিয়া। পত্রিকান্তরের প্রকাশিত খবরটির শিরোনাম-‘বড় গ্রাহকদের খেলাপিমুক্ত রাখা এখন দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার অন্যতম কাজ’। মনোযোগ দিয়ে খবরটি পড়লে বেশ কয়েকটি বিষয় নজরে আসে। এগুলো হচ্ছে-বড় বড় গ্রুপের অনেকেই ৩০-৩৫টি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে (দেশে মোট ব্যাংক ৬১টি)। ব্যাংকের ঋণ কেন্দ্রীভূত ১০০টি বড় প্রতিষ্ঠানের হাতে। বড়দের ঋণ মওকুফ/সুদ মওকুফ নিয়মিত ঘটনা।

দেশের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মোট আমানতের পরিমাণ ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। ঋণগ্রহীতার মোট সংখ্যা ১ কোটি ১৭ লাখ ১১ হাজার। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যাংক কার্যক্রমের মধ্যে এসেছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও ৭০ শতাংশ মানুষ ব্যাংক সুবিধার বাইরে। আর ঋণ সুবিধা পায় মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ। এসব তথ্যের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তার বক্তব্য হচ্ছে-বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও গভর্নরের বেশিরভাগ সময় ব্যয় হচ্ছে বড় বড় গ্রাহকদের জন্য। আর বড় ঋণ যদি বন্ধকী সম্পত্তি রেখে নিয়মের অধীনে দেওয়া হয় তাতে কার আপত্তি? এদিকে ব্যাংকাররা বলছেন, বড় বড় গ্রাহককে খেলাপিমুক্ত রাখতেই সময় চলে যাচ্ছে। আর বড় বড় গ্রাহকের সৃষ্ট ব্যাংকগুলোর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ও অনৈতিক প্রতিযোগিতা বিদ্যমান।

উপরের প্রেক্ষাপটে বড়দের বিনিয়োগের প্রশ্নটি বিবেচনা করতে হলে কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দরকার। বড়রা এই যে বিনিয়োগ করছেন, তা কি সম্পূর্ণই নিজেদের টাকাতেই করছেন, না এর বৃহদাংশ ব্যাংকের ঋণ? দ্বিতীয়ত, এখানে কি বিদেশি ‘ডলার ঋণ’ আছে? তারা কি অতীতে তাদের পুরোনো ঋণ পুনঃতফসিল করে সুদ মওকুফ সুবিধা নিয়েছেন? বড়রা কি ঋণ পুনর্গঠন কাঠামোর সুবিধা ভোগ করছেন? ইত্যাকার অনেক প্রশ্ন। কিন্তু উল্লেখিত ক্ষেত্রে আমার কাছে তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।

তাই কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে বড়দের সম্পর্কে যে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে, তার ওপর সাধারণভাবে কিছু মন্তব্য করাই যায়। বড় বড় গ্রুপ বিনিয়োগ করবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, তা নিয়মের মধ্যে হতে হবে, বন্ধকী সম্পত্তি থাকতে হবে। এ জায়গাতেই বড় গণ্ডগোল। সাধারণভাবে দেখা যায়, বড়দের বন্ধকী সম্পত্তি দেওয়ার ক্ষমতা কম। তারা নির্ভর করে ‘পারসোনাল গ্যারান্টি’ এবং ‘করপোরেট গ্যারান্টি’র ওপর। অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এসব গ্যারান্টি বিপদের দিনে ব্যাংকের কোনো কাজে আসে না। বস্তুত, এসব হচ্ছে ব্যাংকগুলো কর্তৃক আবিষ্কৃত ‘খাতিরি মর্টগেজ’ বা কোলেটারেল। দ্বিতীয়ত, বড় বড় গ্রুপের আরেকটা সবিধা আছে, যা ব্যাংকারদের সুন্দর আবিষ্কার। এর নাম ‘ট্রাস্ট রিসিট’। আমদানি হলো। ব্যবসায়ী টাকা দিয়ে বন্দর থেকে পণ্য ছুটাতে পারেন না।

ব্যাংকে আসে। ব্যাংক একটা ‘ট্রাস্ট রিসিটে’ সই করায়। কথা থাকে, এই টাকা দিয়ে পণ্য ছুটবে, পণ্য বিক্রি করবে। বিক্রীত পণ্যের টাকা দিয়ে ব্যাংকের ঋণ শোধ করবে। দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে এই শোধ আর হয় না। এসব ‘টিআর’-এর টাকা মেয়াদি ঋণে পরিণত হয়। আর ঋণ মঞ্জুরি, প্রকল্প ঋণ মঞ্জুরি-এ কাজ স্বাভাবিক নিয়মে হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ‘ক্ষমতা’, তদবির, বলপ্রয়োগ ইত্যাদি নিয়মিত ঘটনা ব্যাংক খাতে। অতএব বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তার বক্তব্য বিশেষ ধোপে টেকে না।

ব্যবসা করার টাকা, ব্যবসা সম্প্রসারণের টাকা কার? যদি ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা পুরোটা নিজেদের টাকায় করেন, তাহলে তা উত্তম উদাহরণ। বড় বড় ব্যবসায়ীদের অনেকেরই প্রচুর ধন-সম্পত্তি, নগদ টাকা আছে। প্রতিবছর মুনাফার টাকা তাদের হস্তগত হয়। যেমন সয়াবিন তেল ব্যবসা। প্রতিবছর এর দাম বাড়ে ডজনবার। এর দ্বারা একশ্রেণির ব্যবসায়ী বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নেন। যদি ওই টাকা তারা বিনিয়োগ করেন এবং ব্যাংকে ঋণের জন্য না আসেন, তাহলে অতি উত্তম। অথবা যদি বড় বড় গ্রুপ বাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহ করে বা ঋণ নেয় জনসাধারণের কাছে বন্ড, ডিবেঞ্চার ইত্যাদি বিক্রি করে, তাহলেও তা উত্তম উদাহরণ।

কিন্তু আমাদের বেসরকারি খাতের অনেক ব্যবসায়ী প্রাইভেট কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা করেন। তারা ‘প্রফিট’ ভাগাভাগি করতে রাজি নন। কোম্পানিকে ‘পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি’ করে নিয়মাধীন হতে রাজি নন। এসব কিছুই না করে সরকারি উদার ঋণনীতির সুবিধা তারা নেন। সরকারের নীতি হচ্ছে দৃশ্যত কিছু লোকের হাতে টাকা ধরিয়ে দেওয়া, তাদের ঋণী করা যাতে তারা ওই টাকা বিনিয়োগ করে। দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তারা এই উদারনীতি, অল্পসুদে ঋণ, ঋণ পুনঃতফসিলকরণ, ঋণ পুনর্গঠন, ‘ট্রাস্ট রিসিটের’ সুবিধা, পার্সোনাল ও করপোরেট গ্যারান্টির আশ্রয় নেওয়া-এসবের সুবিধা নেয়।

সর্বোপরি সুবিধা কর ব্যবস্থার। নানা ধরনের কর রেয়াত তারা ভোগ করে। এই কর রেয়াতের কারণে আমাদের ‘কর-জিডিপি’ হার বেশ কম। সবচেয়ে বড় কথা, বেসরকারি খাতের অনেক ব্যবসায়ী কোম্পানি ‘পেইড-আপ ক্যাপিটেল’ বাড়াতে অনাগ্রহী। অনেক কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন দুই-চার-পাঁচ লাখ টাকা। অথচ তারা ৫০-১০০ কোটি টাকার ঋণপত্র খোলে এবং ব্যাংকও তাতে সহায়তা দেয়। এই যে ‘আদর’ তারা পাচ্ছে, তার অনেক কারণ আছে। তবু সরকারি নীতিই এর জন্য দায়ী নয়। ব্যাংকগুলোও বহুলাংশে দায়ী। অধিকসংখ্যক ব্যাংক বাজারকে অস্থিতিশীল করছে।

দেশে বর্তমানে বেসরকারিসহ সব মিলে ৬১টির মতো ব্যাংক আছে। তার ওপর আছে ২০-২৫টি নন-ব্যাংক ফিন্যান্সিয়লি ইনস্টিটিউউশন (এনবিএফআই), ডজন ডজন বিমা কোম্পানি। এসব মিলে আর্থিক খাত এখন অর্থ জোগানদাতায় সয়লাব। প্রতিযোগিতা, আর প্রতিযোগিতা। এক ব্যাংক সুবিধা দেবে না তো আরেক ব্যাংক দেবে। বেসরকারি ব্যাংক দেবে না তো তদবিরে সরকারি ব্যাংক দেবে। এমনকি ‘খেলাপি ঋণ’ পর্যপ্ত কিনে নেয় কোনো কোনো ব্যাংক। এর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। এটা পাওয়া অতি সহজ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় ব্যাংকাররা ক্লান্ত।

টার্গেটের ভারে সবাই ন্যুব্জ। অবসাদ, ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে ধরছে ব্যাংকারদের। বাড়ছে ঋণখেলাপ সমস্যা এবং এ সমস্যা বড় বড় ঋণগ্রহীতাদের নিয়েই বেশি। আবার এ কারণে ছোটরা ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বড়দের ঋণচাহিদা বড়। তাদের প্রকল্প বড় বড়। তাদের ব্যবসা বহুমুখী। ১০-২০-৩০-৪০টি কোম্পানি খুলে তারা ব্যবসা করে। এমন কোনো খাত নেই, যেখানে তারা ব্যবসা করতে চায় না। ফলে অনেকেই আজ অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে ডুবে আছে। ঋণখেলাপি হচ্ছে, ব্যবসা লাটে যাচ্ছে, অর্জিত সম্পত্তি বিক্রি করতে পারছে না, কেউ কেউ দেশ থেকে পালিয়েছে, টাকা পাচার করছে।

বড় বড় গ্রুপের সমস্যার মধ্যে অতিরিক্ত ঋণের বিষয়টি আজ পরিষ্কার। ‘ওভার বরোয়িং’-প্রয়োজনাতিরিক্ত ঋণের বোঝা বহনে তারা অনেকেই অক্ষম। খবরের কাগজে এসব দুঃসংবাদ ছাপা হচ্ছে। তাদের মধ্যে উত্তরাধিকার সমস্যা রয়েছে, উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে। এদিকে এ সমস্যা এখন ব্যাংকারদের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বড় বড় ঋণগ্রহীতাকে দেওয়া ঋণ ফেরত না এলে ব্যাংকের অবস্থা সঙ্গীন হবে। তারা তারল্য সংকটে ভুগবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ‘ক্যাশ রিজার্ভ’ রাখতে ব্যর্থ হবে। এ কারণে বড় বড় ঋণগ্রহীতা এখন ‘দুশ্চিন্তামুক্ত’ আছেন। তাদের বাঁচিয়ে না রাখলে ব্যাংক ডুববে, হাজার হাজার কর্মচারী, শ্রমিক, কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটবে। বলা যায়, তাদের কাছে ব্যাংকগুলো এখন জিম্মি। এর জন্য কি ব্যাংকাররা কম দায়ী?

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান শুরু

দেশের বিরুদ্ধে বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল যে চিঠি প্রেরণ করেছেন, সেটি সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ।

তিনি বলেন, বিএনপি এবং তার সহযোগী কিছু ব্যক্তি বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সম্প্রতি এই ষড়যন্ত্র প্রকাশিত হওয়ায় শেখ হাসিনার সরকার ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। সরকারের শক্তিশালী তৎপরতায় ষড়যন্ত্রকারীরা পিছু হটতে শুরু করেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. সেলিম বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখতে হবে, ষড়যন্ত্র তখনই সফল হয়, যখন ষড়যন্ত্রের কথা গোপন থাকে। যেই ষড়যন্ত্র প্রকাশিত হয়ে যায়, সেটি ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশের ভেতরে এবং বহির্বিশ্বে শেখ হাসিনার শক্তিমত্তা ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো ধারণা নেই বলে তারা ষড়যন্ত্রে এত সময় ব্যয় করছে। ইতিহাস কখনো ষড়যন্ত্রকারীদের ক্ষমা করে না।’

সেলিম মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উদ্ভাবনীমূলক নানা পদ্ধতিতে রাষ্ট্রবিরোধী নানা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।’

তিনি এই টিমকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী সব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।

সভায় অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন- তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য জাকিয়া পারভীন খানম এমপি, প্রফেসর ড۔ অসীম সরকার, ব্যারিস্টার সৌমিত্র সর্দার, আমেনা কোহিনুর, সৈয়দ আবু তোহা, প্রফেসর ড۔ শামসুর রহমান, অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক আসিফ, সাজ্জাদ হোসেন চিশতী, সাঈদ খান শাওন, নুরুল ইসলাম মজুমদার, আরিফ সোহেল, দিলরুবা ইয়াসমিন, রায়হান কবির, ড۔ শবনম জাহান, জামান সিকদার, মোয়াজ্জেম হোসেন কাওসার, ফাহিম শাহরিয়ার প্রমুখ।

‘খালেদা জিয়ার সুস্থতায় কর্মীদের স্বস্তি, নেতারা হতাশ’

‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতায় কর্মীরা স্বস্তি প্রকাশ করলেও নেতারা হতাশ এই ভেবে যে, খালেদা জিয়ার সুস্থতা তাদের আন্দোলনে জল ঢেলে দিয়েছে।’

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীতে নিজের সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এ কথা বলেন। সম্পাদক ফোরামের উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রতনসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, বিএনপিনেতা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন- ‘খালেদা জিয়া এখনো অসুস্থ, চিকিৎসার জন্য বিদেশেই নিতে হবে’।

জবাব ড. হাছান বলেন, ‘খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরাতে বিএনপি নেতারা হতাশ। কারণ তাকে বিদেশে নেওয়ার জন্য তারা দেশব্যাপী যে সভা-সমাবেশ আন্দোলন করছিল, তাতে পানি ঢেলে দিয়েছে ডাক্তাররা। ডাক্তাররা বলছেন, তিনি অনেকটাই সুস্থ হয়ে গেছেন এবং তার যে সমস্যাগুলো রয়েছে- তা আর্থরাইটিসসহ বার্ধক্যজনিত।’

কোনো ডাক্তার কি কখনো কোনো সংকটাপন্ন রোগীকে বাড়িতে পাঠায়? এ প্রশ্ন রেখে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রিজভী সাহেব হতাশ হয়ে আবোল-তাবোল বকছেন। অপরদিকে কর্মীরা চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। তারা স্বস্তি প্রকাশ করছেন, কিন্তু এতে নেতাদের মনে স্বস্তি নেই।’

সম্পাদক ফোরামের আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সম্পাদক ফোরাম অনেকগুলো জনপ্রিয় পত্রিকার একটি বড় ফোরাম। করোনাকালের নানা প্রতিকূলতার এই সময়ে বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র বন্টন যেন কয়েকটি পত্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে তাদের বকেয়া বিল সহজে পাওয়ার বিষয়গুলো তারা তুলে ধরেছেন।

ড. হাছান বলেন, ‘বাংলাদেশ আজকে অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু যাদের এই উন্নয়ন-অগ্রগতি পছন্দ নয়, তারা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যসহ সার্বিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র ও বিদেশিদের কাছে নানা ভুল তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরছে। এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এবং জনগণ যেন অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়- সে বিষয়ে সম্পাদক ফোরাম তাদের ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন।’

বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, শরিফ সাহাবুদ্দিন, বেলায়েত হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিমা খান মন্টি, সদস্য সচিব ফারুক আহমেদ তালুকদার ও সদস্য দুলাল আহমেদ চৌধুরী, মফিজুর রহমান খান বাবু ও রিমন মাহফুজ আলোচনায় অংশ নেন।

কয়েক কোটি জন্ম নিবন্ধন সনদ ‘গায়েব’

কয়েক কোটি মানুষের জন্ম নিবন্ধন সনদ গায়েব হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সনদ করতে বাবা-মায়ের জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক হওয়ায় বহু অভিভাবক নিজেদের জন্ম নিবন্ধন সনদ সার্ভারে দেখতে গিয়ে পাননি। এরপরই বিষয়টি সামনে আসে।

বাংলাদেশে এখন প্রায় চার কোটি স্কুল শিক্ষার্থীর জন্য ডিজিটাল ইউনিক আইডি তৈরির কাজ চলছে, যার জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের জন্ম নিবন্ধন সনদের আবেদন করতে হলে আবার তাদের বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ অবস্থায় বহু অভিভাবক দেখছেন যে তাদের আগে নেওয়া জন্ম সনদ এখন আর সরকারি সার্ভারে প্রদর্শন করছে না।

বিবিসি বাংলা তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন- আগে জন্ম নিবন্ধন করে সনদ নিয়েছেন এমন কয়েক কোটি মানুষকে এখন সম্পূর্ণ নতুন করে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন করাতে হবে। কারণ তাদের আগের নিবন্ধন গায়েব হয়ে গেছে।

তারা বলছেন, এসব ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন অনলাইনে আপডেট করা হয়নি এবং এখন নতুন সার্ভারে আর পুরনো তথ্য স্থানান্তর করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি স্কুল শিক্ষার্থীদের একটি বিরাট অংশের আবার একাধিক অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের ঘটনাও বেরিয়ে এসেছে, যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষ বলছে, আগে যারা ম্যানুয়ালি জন্ম সনদ নিয়েছেন তাদের মধ্যে যারা নিজ উদ্যোগে বা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন অফিস থেকে অনলাইনে অ্যান্ট্রি করেননি তাদের জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য সার্ভারে আর নেই। তাদের এখন সম্পূর্ণ নতুন করে আবেদন করে জন্ম নিবন্ধন নিতে হবে বলেছেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ফখরুদ্দিন মোবারক।

বাংলাদেশের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিষয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার জেনারেল মির্জা তারিক হিকমত বলেন, ‘আগে যারা ম্যানুয়ালি জন্ম সনদ নিয়েছে তাদের তথ্যাদি অনলাইনে আপডেট করার জন্য ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় ছিল। এগুলো নিবন্ধন অফিসগুলোরই করার কথা। ইউনিয়ন পর্যায়ে অনেকটা হয়েছেও। কিন্তু পৌর এলাকাগুলোতে এটি হয়েছে খুব কম। যে কারণে বহু মানুষের তথ্য এখন আর অনলাইনে নেই। এখন আবার নতুন সার্ভারে পুরনো তথ্য স্থানান্তর করা যাচ্ছে না। ফলে যাদেরটা বাদ পড়েছে তাদের নতুন করে জন্ম নিবন্ধন করাতে হবে।’

তবে এটি সংখ্যায় কত সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন তারিক হিকমত।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ফখরুদ্দিন মোবারক বলেন, ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রায় পনেরো লাখ সনদের তথ্য আপলোড হয়েছে। তবে অনেকের তথ্যই আপলোড হয়নি বলে তাদের এখন নতুন করে নিবন্ধন করাতে হবে।

এদিকে ২০১৩ সালে সরকার আইন সংশোধন করে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়কে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব দেয়, যা ২০১৬ সাল থেকে কাজ শুরু করে। এর মধ্যে ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের নতুন ওয়েবসাইট ও সার্ভার চালু করা হয়, যা ২০১২ সালে কার্যক্রম শুরু করে।

সে সময় গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পুরোনো নিবন্ধিতদের জন্মনিবন্ধন সনদ নতুন ওয়েবসাইটে যুক্ত করে নেওয়ার কথা বলা হলেও তা বেশিরভাগ মানুষের অগোচরেই থেকে যায়। ফলে এ আহ্বানে খুব বেশি সাড়া মেলেনি। আর যারা এটি করেনি বা নিবন্ধন কার্যালয়গুলোও নিজ থেকে যেগুলো আপলোড করেনি সার্ভারে সেগুলো আসলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে গেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১১ সালের পর থেকে সব জন্ম নিবন্ধন অনলাইনেই হচ্ছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগের তথ্যগুলো অনলাইনে আপলোড করার সুযোগ ছিল।এরপর নতুন সার্ভার আসে কিন্তু সেটিতে আর পুরনো তথ্য আপলোড করার সুযোগ না থাকায় ২০১১ সালের আগে করা বহু নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে গায়েব হয়ে যায়। অর্থাৎ সেগুলো অনলাইনেই কখনো আসেনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশে স্কুলে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের জন্ম নিবন্ধন সনদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবার পঞ্চম শ্রেণিতে পিএসসি পরীক্ষার সময়েও জন্ম সনদ দিতে হয়।

রেজিস্ট্রার জেনারেল অফিস বলছে, সরকার দেশের প্রায় চার কোটি স্কুল শিক্ষার্থীর জন্য একটি ইউনিক আইডি খোলার কাজ শুরু করেছে।

হিকমত বলেন, ‘এটি করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীর স্কুলে ভর্তি আর পিএসসির সময়ে দেওয়া জন্ম সনদের মিল নেই। অর্থাৎ তাদের নামে দুটি করে সনদ নিয়েছেন তাদের অভিভাবকরা। আমরা এটা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এখন হিমশিম খাচ্ছি।’

আবার শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার জন্য সুরক্ষা অ্যাপে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্যও জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেখানে জন্মসনদ দিতে গিয়ে অনেক অভিভাবক দেখছেন যে ২০১১ সালের আগে নেওয়া জন্মসনদ জাতীয় সার্ভারে নেই।

কাজী আশরাফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ‘তার, তার বাবা, মা ও বোনের জন্মসনদ করানো হয়েছিল ২০০৭ সালে কিন্তু পরে তাদেরকে আবার ২০১৯ সালে জন্ম নিবন্ধন করাতে হয়েছে।’

শফিকুল ইসলাম নামের একজন সরকারি কর্মকর্তার দুই সন্তান ঢাকার ভিকারুন্নিসা স্কুলে পড়ে। সেখানে কাগজপত্র জমা দিতে গিয়ে তিনি সম্প্রতি দেখেন যে তার জন্মনিবন্ধন অনলাইনে নেই অথচ তিনি ২০১০ সালে মিরপুরে সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড অফিস থেকে সেটি করিয়েছিলেন।

রেহানা খানম ঢাকার মোহাম্মদপুরের অধিবাসী। কয়েকদিন আগে মেয়ের জন্ম সনদের আবেদন করতে গিয়ে নিজের জন্মসনদ অনলাইনে পাননি তিনি। বলেন, ‘আমার জন্ম নিবন্ধন গ্রামের বাড়িতে। সেখান থেকে ঠিক করিয়ে আনতে হয়েছে। এটা হয়রানি ছাড়া আর কিছু না।’

ঢাকা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ফখরুদ্দিন মোবারক অবশ্য বলেন, ‘২০১০ সাল পর্যন্ত বহু মানুষের জন্মসনদের তথ্য অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে তবে অনেকেরটাই শেষ করা যায়নি। তবে এখনকার সার্ভারে পুরনোটা আর দেওয়া যাবে না। তাই যাদেরগুলো বাদ পড়েছে তাদের নতুন করেই করতে হবে।’

কর্মকর্তাদের ধারণা, সব মিলিয়ে কমপক্ষে ৫ কোটি জন্মনিবন্ধন একেবারেই গায়েব হয়ে গেছে।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের অফিস থেকে সম্প্রতি একটি প্রস্তাব গেছে মন্ত্রণালয়ে যেখানে বলা হয়েছে যারা আগে জন্ম সনদ নিয়ে ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন কাজে সেই নিবন্ধন নাম্বার নতুন সনদেও উল্লেখ করার জন্য। মূলত একই ব্যক্তির যাতে একাধিক নিবন্ধন না হয় সেজন্যই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে যাদের তথ্য অনলাইনে আসেনি বা যারা নিজ উদ্যোগে এটি করিয়ে নেননি তাদের জন্ম সনদ পেতে হলে এখন সম্পূর্ণভাবে নতুন করে আবেদন করে তা নিতে হবে বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার জেনারেল অফিস ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।

আতঙ্কের নাম সেলিম চেয়ারম্যান

সিনেমার গল্প বা রূপকথাকেও হার মানায় এমন জীবন তার। হতদরিদ্র ঘরে জন্ম। ছিলেন রিকশাচালক। ছিঁচকে চুরির অভিযোগও ছিল। কিন্তু সেসবই এখন অতীত। তার নামের সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক এবং নেতা। সিনেমায় বিনিয়োগ সূত্রে গ্ল্যামার জগতেও ছড়িয়েছেন নামডাক। তার পুরো নাম সেলিম ওরফে সেলিম খান।

তিনি একাধারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ঠিকাদার, প্রযোজক, পরিচালক এবং অভিনেতা। মেঘনায় অবৈধ ড্রেজিং আর একচেটিয়া বালু ব্যবসায় তিনি এখন শতকোটি টাকার মালিক। ঢাকার ক্যাসিনো থেকে শুরু করে আন্ডারওয়ার্ল্ডেও আছে হট কানেকশন। জমি দখলেও সিদ্ধহস্ত। সূত্র বলছে, ২০১১ সালে তিনি চাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, এরপর থেকে এ পদেই আছেন। চেয়ারম্যান হওয়ার পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ক্ষমতা আর প্রতিপত্তির জোয়ার তাকে ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে। অর্থবিত্ত আর বিলাসী জীবন অনেকটা স্বেচ্ছায় ধরা দেয় তার কাছে।

মেঘনায় বালু সন্ত্রাস : ৩১ জানুয়ারি বেলা ১১টা। সরেজমিন সেলিমের বালু সাম্রাজ্য দেখতে মেঘনার পারে হাজির যুগান্তরের অনুসন্ধান টিম। কিন্তু পার থেকে পরিস্থিতি বোঝার উপায় নেই। নদীর বুকে দু-একটি বলগেটের আনাগোনা ছাড়া দেখা যায় না তেমন কিছুই। আসল চিত্র আরও গভীরে। একেবারে নদীর মাঝ বরাবর। ডাকাতিয়া-পদ্মা-মেঘনা-তিন নদীর মোহনায় বিশেষ বাঁধ ‘মুলহেড’। সেখান থেকে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ভাড়া করা ট্রলার চলতে শুরু করে। নদীপথে ৪০ মিনিট যাওয়ার পর দৃশ্যমান হয় সেলিমের বালু সাম্রাজ্য। সারি বেঁধে ভাসমান ড্রেজারের লাইন দেখা যায়। বাতাসে উড়ছে কালো ধোঁয়া। ৫০টির মতো ড্রেজার ভাসছে নদীতে। পাইপ দিয়ে টেনে আনা হচ্ছে বালু। ফেলা হচ্ছে নোঙর করা বলগেটের চেম্বারে। ভাসমান ড্রেজারগুলোর গায়ে সেলিম চেয়ারম্যানের ছেলের নাম লেখা। ‘শান্ত খান ড্রেজিং প্রকল্প’-১, ২, ৩… ১৫, ২০ ইত্যাদি।

জানা যায়, একেকটি বলগেটে বালু ধারণক্ষমতা ৫ থেকে ১৫ হাজার ঘনফুট। প্রতি ঘনফুটের দাম ৩ টাকা। সে হিসাবে ৫ হাজার ঘনফুটের একটি বলগেট থেকে আয় ১৫ হাজার টাকা। প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে দুশ বলগেট বালু। ফলে একচ্ছত্র বালু সাম্রাজ্য থেকে তার দৈনিক গড় আয় ৫০ লাখ টাকারও বেশি।

ড্রেজিং এলাকার ছবি তোলার জন্য আরেকটু কাছে যেতে চাইলে রাজি হলেন না ট্রলারচালক। কারণ নদীতে সেলিম চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা টহল আছে। সন্দেহজনক কাউকে পেলে শুরু হয় মারধর। মোবাইল কেড়ে নিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয় নৌযান। এ কারণে সাধারণ নৌযানগুলো ভয়ে তটস্থ।

স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে নির্বিচারে বালু তোলায় আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। সদর উপজেলার রাজ রাজেস্বর ইউনিয়নের বিশাল অংশ ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এমনকি তীব্র ভাঙনে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধও। ব্যাহত হচ্ছে ইলিশের প্রজনন। জলজ পরিবেশ এবং প্রাণ প্রকৃতির ক্ষতি হিসাবের বাইরে।

প্রাসাদোপম বাড়ি : চাঁদপুর শহর থেকে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ছেড়ে কিছুদূর এগোলেই লক্ষ্মীপুর বাজার। সরু রাস্তার একদিকে চোখে পড়ে প্রস্তাবিত চাঁদপুর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড। বামদিকের ঢালে নামতেই প্রাসাদোপম এক বাড়ি। দুপাশে কারুকার্য খচিত বিশালাকার পিলারের মাঝে সিংহদুয়ারের আদলে লোহার তোরণ। ভিন্ন রকমের স্থাপত্য নকশা। দোতলা বাড়ির মূল কাঠামো বিশালাকার দুটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে। ইউরোপীয় ডিজাইনে তৈরি ঢেউ খেলানো ছাদ। বিস্তীর্ণ খোলা প্রান্তরের একদিকে নির্মিত হচ্ছে যন্ত্রচালিত পানির ফোয়ারা এবং অন্যদিকে সুইমিং পুল।

পথচারীদের কয়েকজন জানান, এখানে কেউ থাকে না। সেলিম চেয়ারম্যান মাঝে মধ্যে আসেন নির্মাণ কাজ তদারক করতে। বাড়ির পূর্ব পাশে গাড়ি বারান্দায় একটি র‌্যাব-৪ মডেলের জিপ (ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৩-৬৪৬৩) পার্ক করা। কাচের ওপর লেখা ‘ভয়েস, প্রেস’।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেলিম চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত গাড়ির সবই ‘প্রেস’ লেখা। কারণ তিনি স্থানীয় একটি পত্রিকা কিনেছেন। এছাড়া ‘ভয়েস টিভি’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে তার।

অঢেল সম্পদ : চাঁদপুর এবং ঢাকায় সেলিম চেয়ারম্যানের অঢেল সম্পদের খোঁজ মেলে। লক্ষ্মীপুর বাজারে তৈরি হচ্ছে মার্কেট। নাম-‘সিনেবাজ লিমিটেড মার্কেট’। ইতোমধ্যে দোকান পজেশন বিক্রি ও ভাড়া দেওয়া শুরু হয়েছে। সাইনবোর্ডে দেওয়া নম্বরে ফোন করা হলে একজন জানান, এখন শুধু দোকান ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। সিঙ্গেল দোকানের পজেশন ভাড়া ৩ হাজার এবং ডাবল ৫ হাজার। বেশিরভাগই ইতোমধ্যে ভাড়া হয়ে গেছে।

এছাড়া চাঁদপুরের কালীবাড়ি মোড়ে কিনেছেন আসলাম ম্যানসন (লাভলী স্টোর), ওয়ান মিনিটের মোড়ে সুভাষ চন্দ্র রায়ের বাড়ি কিনেছেন ৪ কোটি টাকায়। শহরের টাউন হল মার্কেটের ৪, ৫ এবং ৬ তলা লিজ নেওয়া হয়েছে। ইচলি চুন ফ্যাক্টরির পাশে মেয়ের নামে কিনেছেন ৭০ শতাংশ মূল্যবান জায়গা। লক্ষ্মীপুর মৃধাবাড়িসংলগ্ন নদীর পাড়ে প্রায় ২শ একর জায়গা ব্লক ফেলে দখল করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার কাকরাইলে আছে ৪ তলা বাড়ি। নারায়ণগঞ্জের ভুঁইগড় এলাকায় ১০ তলা ভবন। সেলিমের হাতে রয়েছে দুটি লাইসেন্সকৃত পিস্তল এবং শটগান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেলিম খান লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হলেও বেশিরভাগ সময় থাকেন ঢাকায়। রাজধানীর রাস্তায় চলাফেরা করেন গাড়িবহর সহযোগে। কোটি টাকার ল্যান্ড ক্রুজার জিপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মডেলের একাধিক গাড়ি রয়েছে তার। বড় ছেলে শান্ত খান, মেয়ে পিংকি এবং মেয়ের জামাইসহ পরিবারের সদস্যদের সবাই বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন। সর্বশেষ তিনি এক মাস আগে একটি বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার জিপ কিনেছেন। এছাড়া ঢাকার সিনেজগতে তার বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে। তার মালিকানাধীন শাপলা মিডিয়া এখন দেশের সবচেয়ে বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে নির্মিত ছবির সংখ্যা ৭টি। আরও ১০০ ছবি নির্মাণের চমকপ্রদ ঘোষণা দিয়েছেন সেলিম খান।

জমি কেলেঙ্কারি ফাঁস : চাঁদপুরে প্রস্তাবিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ কেলেঙ্কারি সম্প্রতি ফাঁস হলে নতুন করে আলোচনায় আসে সেলিম চেয়ারম্যানের নাম। সরকারি অর্থ লুটের অবিশ্বাস্য পরিকল্পনা জানাজানি হলে হৈচৈ পড়ে যায়। তদন্তে নামে মাঠপ্রশাসন। এতে বেরিয়ে আসে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিপুল ভূসম্পত্তির মালিক সেলিম। অন্তত ৬২ একর জমি রয়েছে তার পরিবারের নামে। মৌজা মূল্যের অন্তত ২০ গুণ বেশি দাম দেখিয়ে এসব জমি সরকারের কাছে বিক্রির চেষ্টা করা হয়।

জানা যায়, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে বিস্তীর্ণ এলাকায় জমি দখলের উৎসব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। অস্ত্রের মুখে অসংখ্য লোকের জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। যারা রাজি হননি তাদের ভিটে ছাড়তে হয়েছে। অনেকে জমি লিখে দিতে বাধ্য হয়েছেন বিনা পয়সায় অথবা নাম মাত্র মূল্যে।

সরেজমিন লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে খোঁজ নিতে গেলে অসংখ্য ভুক্তভোগীর খোঁজ মেলে। যাদের অনেকেই ভিটে ছাড়া। দখলের শিকার অন্তত ২০ জন ভুক্তভোগীর নাম আসে যুগান্তরের হাতে। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন-সোবহান ভূঁইয়া, নেসার মুন্সি, আজিজ রারি, ইদ্রিস আকন, সেলিম গাজি, হানিফ খান, নুরুল ইসলাম, শাহ আলম খান, মিজান খান, মিলন গাজী, মোস্তফা মুন্সি, করিম পাটোয়ারী, শাহদাত গাজী এবং হাবিব মুন্সি। দখলের সময় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় রাজন খাঁ ও মিজান খাঁর বাড়ি।

জানা যায়, জমি দখলের শোকে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জাহাঙ্গীরের ভাই জাকির হোসেন মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ‘এসব অভিযোগ কার কাছে করব। হাজার হাজার লোকের জমি নিয়ে গেছে সে (সেলিম চেয়ারম্যান)। কিন্তু কেউ মুখ খুলবে না।’

সেলিমের নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি দলীয় কর্মীরাও। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সফিকুর রহমান গাজী বলেন, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদে তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হন সেলিম খান। নানাভাবে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে শহরের হাকিম প্লাজার সামনে অতর্কিত হামলা হয় তার ওপর। ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং বেধড়ক পিটুনিতে গুরুতর আহত হন তিনি। এ নিয়ে মামলা চলছে।

এদিকে জমি কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ হলে সেলিম চেয়ারম্যান গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন। ইতোমধ্যে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তরফে তাকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

সেলিমের বক্তব্য : অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সেলিম খান বুধবার কাকরাইলে তার প্রযোজনা সংস্থা শাপলা মিডিয়ার অফিসে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত। তিনি বলেন, তার সব সম্পদ আয়কর ফাইলে প্রদর্শিত। তিনি পরপর ২ বার চাঁদপুরে শ্রেষ্ঠ করদাতার সম্মাননাও পেয়েছেন। বৈধ ব্যবসা করেন তিনি। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সদস্য।

সেলিম চেয়ারম্যান আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ সঠিক নয়। কারণ জমি বিক্রেতা রেজিস্ট্রি অফিসে সশরীরে উপস্থিত থাকেন। স্বেচ্ছায় যারা জমি রেজিস্ট্রি দিয়েছেন তারা কেউ দখলের অভিযোগ করলে তা সঠিক হবে না। ড্রেজিং এবং বালু সন্ত্রাসের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী তিনি প্রায় ৩১ কোটি ঘনফুট বালু উত্তোলন করতে পারবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে অনেক কম বালু তুলছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ খণ্ডন করে সেলিম বলেন, বাংলাদেশের কোথাও মৌজা মূল্যে জমি বিক্রি হয় না। কারণ ২০১৫ সাল থেকে মৌজা মূল্য বাড়ে না। তারপরও বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। উচ্চ আদালত এ বিষয়ে যে ফয়সালা দেবেন তা তিনি মাথা পেতে নেবেন। সন্ত্রাসের অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে থানা পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ নেই। প্রাসাদোপম বাড়িটি আসলে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্রের শ্যুটিংয়ের জন্য। আশপাশের জমি তিনি ফিল্ম সিটি করার জন্য কিনেছেন।

সেলিম চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখল এবং নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং পৌরসভার সাবেক মেয়র নাসির উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ দলটা রক্তে গড়া। দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় আছে। এ সুযোগে কিছু অসৎ লোক দলে ঢুকে পড়েছে। তবে এরা বেশিদিন টিকবে না। অচিরেই আগাছা-পরগাছা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নাইম পাটোয়ারী দুলাল যুগান্তরকে বলেন, সেলিম চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তার কারণে ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোণঠাসা। বদনাম হচ্ছে দলের। তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সরকারের উচ্চপর্যায়ে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে।

অল্প অল্প জ্বর কেন হয়?

জ্বরের রকমফের আছে। অনেকের কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। আবার কারও ছেড়ে ছেড়ে জ্বর আসে। অনেক সময় হালকা জ্বর থাকে গায়ে, যেটির যন্ত্রণা বেশ কয়েক দিন বইতে হয়।

জ্বরের মাত্রা বহু রোগের নির্দেশ করে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আজিজুর রহমান।

জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়, অনেক রোগ প্রকাশ পায় জ্বর রূপে। সুস্থ পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হলো ৯৮.৬ ফারেনহাইট। যখন শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তাকে জ্বর বলে। অল্প অল্প জ্বর বলতে যখন শরীরের তাপমাত্রা থার্মোমিটারে ৯৯ থেকে ১০১ ফারেনহাইটের মধ্যে থাকে।

শরীরে দীর্ঘদিন (দুই সপ্তাহের বেশি) অল্প অল্প জ্বর থাকতে পারে যে রোগে—

যক্ষ্মা – লিস্ফোমা – কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া – এইচআইভি ইনফেকশন -শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফোড়া যেমন- ফুসফুসে ফোড়া, লিভারের ফোড়া – কানেকটিভ টিস্যু রোগ যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাটিস, এসএলই – থাইরয়েড রোগ যেমন- হাইপারথাইরয়জ্জিম – কৃত্রিম জ্বর – ওষুধজনিত জ্বর – আরও অন্যান্য কারণে যেমন- ফুসফুসে ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, কিডনি ক্যান্সার।

দীর্ঘদিন জ্বর থাকলে তার অন্তর্নিহিত কারণ জানার জন্য রোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত ইতিহাস নিতে হবে, জ্বর কখন আসে, কীভাবে আসে, কীভাবে চলে যায়, দিনের কোনো ভাগে বেশি জ্বর থাকে, জ্বরের সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কিনা।

যেমন— দীর্ঘদিনের অল্প অল্প জ্বর, বিকালের দিকে আসে, রাতে থাকে, সকালে কমে যায়, ঘাম দিয়ে জ্বর ভালো হয়ে যায়, সঙ্গে দুই সপ্তাহের বেশি কাশি থাকে, কখনও কখনও কাশির সঙ্গে রক্ত যায়, শরীরের ওজন কমে যায়, খাবারে অরুচি থাকে, যক্ষ্মা রোগীর সঙ্গে বসবাসের ইতিহাস থাকে, তা হলে সন্দেহ করা হয় তার যক্ষ্মা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের জ্বরের ইতিহাসের সঙ্গে রাতে শরীর ঘামানোর ইতিহাস, ক্ষুধামন্দা, শরীরে চুলকানি, জন্ডিসের ইতিহাস, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গ্লান্ড ফুলে যাওয়ার ইতিহাস থাকলে লিস্ফোমা সন্দেহ করা হয়। অল্প অল্প জ্বরের সঙ্গে ডান দিকের ওপরের পেট ব্যথা, মাঝে মধ্যে পাতলা পায়খানার ইতিহাস, পরীক্ষা করে যদি জন্ডিস, লিভার বড় পাওয়া যায় তা হলে সন্দেহ করা হয় লিভারে ফোড়া হয়েছে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, ঘাম দিয়ে জ্বর কমা, দুর্গন্ধযুক্ত হলুদ রঙের কাশি থাকলে সন্দেহ করা হয় ফুসফুসে ফোড়া হয়েছে।

দীর্ঘ দিনের জ্বরের সঙ্গে যদি খাবারে রুচি স্বাভাবিক থাকাসত্ত্বেও ওজন কমে যায়, যে স্থানে জ্বর হয়েছে সেখানে বসবাসের ইতিহাস, মাটির ঘরে মেঝেতে থাকার ইতিহাস, পাশে গরুর ঘর থাকার ইতিহাস থাকলে এবং পরীক্ষা করে রক্তশূন্যতা, পেটের উপরিভাগে চাকা থাকলে সন্দেহ করা হয় কালাজ্বর।

দীর্ঘদিনের জ্বরের ইতিহাসের সঙ্গে গিঁটে গিঁটে ব্যথা এবং সকালে ঘুম থেকে জাগার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা বেড়ে যায় এবং মুখে ঘা, গায়ে লাল লাল দাগের ইতিহাস থাকলে কানেকটিভ টিস্যু রোগ যেমন- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, এসএলই হয়েছে সন্দেহ করা হয়। তাই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে সঠিক ইতিহাস দিয়ে এবং সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করে বেশিরভাগ জ্বর ভালো করা সম্ভব।