বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 484

ডিজিটাল হাসপাতালে ভুতুড়ে বিল

কক্সবাজারের বেসরকারি ডিজিটাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুতুড়ে বিল বানিয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে— অতিরিক্ত বিল ডাক্তারের জন্য নেওয়া হয়েছে। আর ডাক্তার বলছে— এসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিষয় আমার বিল না। একজন অপরজনকে দুষছেন— দায় নিতে রাজি নয় কেউ।

অন্যদিকে অতিরিক্ত বিল আদায়ের একাধিক অভিযোগের পরও তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই যেন দায় সারছেন কক্সবাজার সিভিল সার্জন।

অভিযোগ আছে, ডাক্তার ছাড়াই নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে শুধু ফোনকলের ফি হিসেবে ডাক্তারের বিল বানিয়ে ৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কক্সবাজার ডিজিটাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঈদগড় থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ছমিরা নামে এক ভুক্তভোগী জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টায় ডেলিভারির জন্য ডিজিটাল হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে কোনো ডাক্তার না থাকায় নার্স আর ধাত্রীর মাধ্যমে স্বাভাবিক ডেলিভারি সম্পন্ন হয়। এর পর ছাড়পত্রের জন্য ক্যাশ কাউন্টারে বিল জমা দিতে গেলে হাসপাতালের চার্জ বাবদ ২ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাক্তারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার জন্য ১ হাজার এবং ফোনে পরামর্শের ফি ধরা হয় ৮ হাজার টাকা।

ডাক্তার ছাড়াই স্বাভাবিক বাচ্চা প্রসব করার পরও কেন এত টাকা ডাক্তারের বিল আসল জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর দেয়নি। বরং টাকা না দিলে ছাড়পত্র দেবে না বলে জানান তারা। একপর্যায়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বললে ডাক্তার বলেন আমার বিল তো ১ হাজার, ৮ হাজার তো আমার বিল না। আপনারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।

এর পর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিলে আমাদের কোনো হাত নেই, এগুলো সম্পূর্ণ ডাক্তারের টাকা। আপনি চাইলে দুই হাজার টাকা কম দিতে পারবেন। এর বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই।

এভাবেই কেঁদে কেঁদে বর্ণনা দিলেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিজিটাল হাসপাতালের ডা. ইফফাত সানিয়া জানান, আমি ডেলিভারির সময় ছিলাম, তার পরও আমার ফোনকল হিসেবে এক হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু আট হাজার টাকার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। হয়তো হাসপাতালের খরচ বাবদ নিয়েছে। এটি কর্তৃপক্ষের বিষয়।

অতিরিক্ত বিল আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার ডিজিটাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোয়েব ইফতেখার জানান, আমাদের হাসপাতালের বিল বাবদ ২২০০ টাকা আমরা নিয়েছি। অতিরিক্ত আট হাজার বিলটা ডাক্তারের জন্য নেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু এই বিলের ব্যাপারে তো ডাক্তার কিছুই জানে বলেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, আপনাকে হয়তো বলেছে কিন্তু যদি এই বিলটা না দিই ডাক্তারকে ডিউটিতে যিনি ছিলেন তার বেতন থেকে কেটে নেবে।

সি সাইড হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল এবং সর্বশেষ ডিজিটাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার সিভিল সার্জেন ডা. মাবুবুর রহমান বলেন, নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব না। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিস জনসনের ৪ সহযোগীর পদত্যাগ

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বারবার পার্টির আয়োজন করে বিপদ ডেকে এনেছেন। এবার প্রধানমন্ত্রীর চারজন সহযোগী পদত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন তারা। পদত্যাগ করা কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনজন ডাউনিং স্ট্রিটের পার্টিতে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর রয়র্টাস।

প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ তিন সহযোগী চিফ অব স্টাফ রোজেনফিল্ড, প্রিন্সিপাল প্রাইভেট সেক্রেটারি মার্টিন রেনল্ডস, যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক জ্যাক ডয়েল এবং তার প্রধান রাজনৈতিক কৌশলী মুনিরা মির্জা পদত্যাগ করেছেন।

রয়র্টাসের খবরে বলা হয়, বরিস জনসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, গত বছরের ১৭ এপ্রিল ফিলিপের শেষকৃত্যসম্পন্ন হওয়ার সময়ও ডাউনিং স্ট্রিটে পার্টির আয়োজন করা হয়। আর সেটি ছিল বরিস জনসনের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক জেমস স্ল্যাকের বিদায় উপলক্ষ্যে। সারাদেশে তখন ফিলিপের মৃত্যুতে জাতীয় শোক চলছিল। তবে এ ঘটনায় রানির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

তবে নিজ দলের লোকজন তো বটেই তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে গোটা দেশে। তার কনজারভেটিভ পার্টির আইনপ্রণেতারা এরই মধ্যে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।

কনজারভেটিভ পার্টির দুজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, এটি জনসনের প্রশাসনে পুনঃস্থাপনের সূচনা বলে মনে হচ্ছে।

এর আগে সোমবার বরিস জনসন সরকারের প্রশাসনিক পদে পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

আইনপ্রণেতা স্টুয়ার্ট অ্যান্ডারসন এক টুইটার বার্তায় বলেন, শুক্রবার রাতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে পরিবর্তনটি ঘটতে শুরু করেছে এবং আমি প্রধানমন্ত্রীর এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। তার এই টু্ইটবার্তার পর পরই সমালোচনার ঝড় উঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের ১৬ এপ্রিল রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তার স্বামী প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে শোক পালনের সময়ও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয়ে কর্মীরা আরও দুটো মদের পার্টি করেন। ওই সময়ও জনসমাগমের নিষেধাজ্ঞা ছিল।

এর আগে ২০২০ সালের ২০ মে মদের পার্টির আয়োজন হয় ডাউনিং স্ট্রিটে, যখন সারাদেশে লকডাউন জারি ছিল। সম্প্রতি পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে ওই ঘটনার জন্য বরিস জনসন বেশ কয়েকবার ক্ষমাও চেয়েছেন।

করোনার ৫ম টিকার অনুমোদন দিল যুক্তরাজ্য

১৮ ও এর বেশি বয়সের মানুষের জন্য বৃহস্পতিবার নোভাভ্যাক্স টিকার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এ নিয়ে ৫ম করোনার টিকার অনুমোদন দিল দেশটি।

মার্কিন ওষুধ তৈরি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত এ নোভাভ্যাক্স হচ্ছে প্রোটিন সমৃদ্ধ প্রথম করোনার টিকা। খবর আনাদোলুর।

যুক্তরাষ্ট্রের মেডিসিন এন্ড হেলফ প্রডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সির (এমএইচআরএ) দাবি, মার্কিন এ টিকা করোনা প্রতিরোধে ৯০ শতাংশ কার্যকরী।

এমএইচআরএর প্রধান জুন রাইন বলেছেন, পরীক্ষা-নীরিক্ষা ও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে অনুমোদন পেয়েছে নোভাভ্যাক্স।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ বলেন, করোনা চিকিৎসা বিশ্বে নের্তৃত্ব দিচ্ছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা।

এর আগে সোমবার অস্ট্রেলিয়া ১৮ ও এর বেশি বয়সের মানুষের জন্য নোভাভ্যাক্স টিকার অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মর্ডানা ও ফাইজারের পর দেশটিতে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেয়া এটি হচ্ছে চতুর্থ কোভিড-১৯ টিকা।

অস্ট্রেলিয়ান টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন ইমুনাইজেশন (এটিএজিআই) কমপক্ষে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে নোভাভ্যাক্সের দুই ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

বৈদেশিক সহায়তার অর্থ কাটছাঁটে রেকর্ড

করোনা মহামারি, অর্থ ব্যয়ে ব্যর্থতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিসহ নানা কারণে বৈদেশিক অর্থের ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে প্রায় ১৭ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা কাটছাঁট করা হচ্ছে।

যা এযাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে সম্প্রতি এ তথ্য পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন এ হিসাব প্রাথমিক। এটি আরও কম হতে পারে। এখনো প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

চূড়ান্ত হতে কিছুটা সময় লাগবে। এই অর্থবছরের এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ আছে ৮৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। সেখান থেকে কমিয়ে এখন সংশোধিত এডিপির (আরএডিপি) জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৭০ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। খবর ইআরডি ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্রের।

এ প্রসঙ্গে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও ফরেনএইড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস (ফাবা) উইংয়ের প্রধান মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যুগান্তরের কথা হয়। তিনি বলেন, করোনা মহামারির কারণে এডিপি তৈরির সময় সঠিকভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ সম্ভব হয়নি।

ফলে এখন অনেক বেশি অর্থ বরাদ্দ কমাতে হচ্ছে। ওই সময় ভার্চুয়ালি মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাড়াহুড়োর মধ্যে এডিপিতে বৈদেশিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বৃহস্পতিবার বলেন, এই সময়ে এত টাকা কাটছাঁটের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। তবে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর কাছে বাজেট সহায়তা চেয়েছিল।

সেটি পায়নি। এটিও একটা কারণ হতে পারে। এছাড়া মূল সমস্যাটা হতে পারে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ বৈদেশিক অর্থায়ন আছে এমন প্রকল্প যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে অর্থছাড় কিভাবে হবে।

ফলে অর্থবছরের শুরুতে যে চিন্তা থেকে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছিল সেখান থেকে সরে আসা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুরুতে অর্জন অযোগ্য এবং উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য স্থির করা হয়। ফলে মাঝপথে এসে বরাদ্দ কমাতে হয়। বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে বরাদ্দ নির্ধারণ করা উচিত।

সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরের মূল এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তার যে লক্ষ্য ধরা হয়েছিল সংশোধিত এডিপিতে এসে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। কিন্তু এত বেশি টাকা বাদ দেওয়া হয়নি কোনো অর্থবছরেই।

এক্ষেত্রে ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপিতে বৈদেশিক অংশে বরাদ্দ ছিল ৭০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে কাটছাঁট করে ৭ হাজার ৫০২ কোটি টাকা কমিয়ে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয় ৬৩ হাজার কোটি টাকা।

২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। সেখান থেকে ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা কমিয়ে আরএডিপিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা।

সেখান থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা বাদ দিয়ে আরএডিপিতে বরাদ্দ ধরা হয় ৫১ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৬০ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। সেখান থেকে ৮ হাজার ৪১১ কোটি টাকা কমিয়ে আরএডিপিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫২ হাজার ৫ কোটি টাকা।

ইআরডির সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আজম যুগান্তরকে বলেন, টাকার অঙ্কে বেশি মনে হলেও শতাংশের দিক থেকে হয়তো খুব বেশি হবে না। কেননা বাজেটের আকারতো বেড়েছে।

সেই সঙ্গে বড় কোনো প্রকল্পের জন্য বৈদেশিক সহায়তা ধরা থাকলেও শেষ পর্যন্ত হয়ত তা পাওয়া যায়নি। সাধারণত এমন হয় না। কিন্তু এক্ষেত্রে কি ঘটেছে সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। হঠাৎ করে মন্তব্য করাটাও ঠিক নয়।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ব্যয় করেছে ১৯ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ১১ শতাংশ।

গত অর্থবছরের একই সময়ে খরচ হয়েছিল ১৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা, বা ২৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। এছাড়া অর্থবছরের ৬ মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) পেরিয়ে গেলেও এখন ১০ শতাংশের নিচে বৈদেশিক অর্থব্যয় করেছে ৮টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা।

এগুলো হলো-অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বৈদেশিক সহায়তা ব্যয় করেছে। এছাড়া নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং আইন ও বিচার বিভাগ ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ ব্যয় করেছে।

এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৫ দশমিক ০১ শতাংশ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ অর্থ খরচ করেছে।

বিদেশে বিনিয়োগে ঝুঁকির মাত্রা বাড়বে অর্থনীতিতে

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার আগে কমপক্ষে তিনটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া খুব জরুরি। এগুলো হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার আয় আরও বাড়ানো, দেশ থেকে মুদ্রা পাচার বন্ধ করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে আরও দক্ষতা অর্জন করা।

এগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় আরও সক্ষমতা অর্জন বেশি প্রয়োজন। এসব দিক বিশ্লেষণ করে গড়ে যখন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হবে, কেবল তখনই বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে-এর আগে নয়।

কিন্তু এখন যে প্রক্রিয়ায় বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাতে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়-ব্যয়ের তথ্য বিশ্লেষণ ও শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নীতিমালায় দেশের রপ্তানিকারকদের শর্তসাপেক্ষে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির অনুমোদন নিয়ে এই বিনিয়োগ করতে হবে। কমিটি ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে অনুমোদন দেবে। একই সঙ্গে কঠোর তদারকিও করবে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের জন্য যে ধরনের সক্ষমতা থাকা দরকার, সেটা এখনো অর্জিত হয়নি। এর জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন। বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও ব্যয়ের মধ্যকার ভারসাম্য আরও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে হবে।

তা না হলে দেশ থেকে বিদেশে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না। দেশ থেকে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগ করলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ বাড়বে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশ থেকে পুঁজি নিয়ে বিদেশে বিনিয়োগ করার চেয়ে দেশে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তদারকি কাঠামো এখনো আন্তর্জাতিক মানের হয়নি। বিদেশে পুঁজি নেওয়ার নীতিমালা অনুযায়ী যে ধরনের তদারকি দরকার, সেই কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ দেখা যায়, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় হচ্ছে বেশি। এ কারণে বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। বেশ কয়েক বছর আগে এ হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল। গত কয়েক বছর ধরেই এতে ঘাটতি হচ্ছে।

গত অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে চলতি হিসাবে ঘাটতি ছিল ৪৫৭ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই নভেম্বরে এ ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২০ কোটি ডলারে। দেশে প্রতিবছর রেমিট্যান্স প্রবাহ গড়ে ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার থেকে ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। এখন এ প্রবাহ কমছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। আমদানি ব্যয় হচ্ছে ৬ হাজার ৬৮ কোটি ডলার। রপ্তানি আয় হচ্ছে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি হওয়ায় বাণিজ্যে ঘাটতি হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে ছিল ৩৫০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে নিট বৈদেশিক অনুদান এসেছে ৫৫৯ কোটি ডলার। করোনার কারণে আগের তুলনায় অনুদান বেড়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের রপ্তানি আয় দিয়ে আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হয় না। ঘাটতি মেটাতে হয় রেমিট্যান্স দিয়ে। আমদানি ব্যয়ের প্রায় ৪১ শতাংশ রেমিট্যান্স দিয়ে মেটানো হয়। এ কারণে রেমিট্যান্স বা রপ্তানিতে সামান্য টান পড়লেই বৈদেশিক মুদ্রাবাজার এলোমেলো হয়ে যায়। বাজার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে হস্তক্ষেপ করতে হয়। রিজার্ভ থেকে বাজারে ডলার ছাড়তে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ এখন ৪ হাজার ৫১৪ কোটি ডলার। এ রিজার্ভ দিয়ে ৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান রিজার্ভ থাকলেই তাকে ঝুঁকিমুক্ত ধরা হয়। কিন্তু শুধু রিজার্ভ বেশি আছে-এ যুক্তিতে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া ঠিক নয় বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমদানি ও রপ্তানি দুটোই বাড়ছে। তবে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বাড়ছে বেশি। ফলে বাণিজ্য ঘাটতিও বাড়ছে। এ অবস্থায় রপ্তানি আয়ের রিটেনশন কোটা থেকে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ দিলে ওই কোটায় জমা বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে বিনিয়োগ হলে দেশে আসবে না। তখন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমবে। অন্যদিকে অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। আমদানিও বাড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয় কম হলে আমদানি ব্যয় মেটানো চ্যালেঞ্জিং হবে। এতে মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দেবে।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, রপ্তানিকারকরা তাদের মোট রপ্তানি আয়ের ৪০ শতাংশ রিটেনশন কোটায় বিদেশে রাখতে পারেন।

ওই অর্থ তারা বিদেশে ব্যবসা বাণিজ্যের স্বার্থে খরচ করতে পারেন। এর মধ্যে ১০ শতাংশ সব সময় রাখতে পারেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ওই অর্থই বিদেশে বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘দেশ থেকে বিদেশে পুঁজি নেওয়ার পরিবর্তে তা দেশেই বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া দরকার। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, দারিদ্র্য কমবে। তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগ আনার জন্য বিদেশে রোড শো হচ্ছে, অথচ দেশ থেকে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটা স্ববিরোধিতা।’ তিনি আরও বলেন, দেশ থেকে প্রতিবছর টাকা পাচার হচ্ছে। সেটা বন্ধ করা যাচ্ছে না। আগে অবৈধভাবে টাকা পাচার হয়েছে। এখন বৈধভাবে যাবে। এ নীতিমালার রাজনৈতিক অপব্যবহারও হতে পারে।’

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদন নিয়ে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গ্রুপ বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করা পুঁজি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। মুনাফা ও অন্যান্য ফি বাবদ দেশে ফেরত আনা হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। এর মধ্যে কেনিয়ায় ৫৮ লাখ ডলার, ভারতে ৪৪ লাখ ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩৬ লাখ ২০ হাজার ডলার, ওমানে ২৪ লাখ ২০ হাজার ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে যারা বিদেশে বিনিয়োগ করেছেন এটি শুধু তাদের তথ্য। এর বাইরেও বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অনেক বিনিয়োগ রয়েছে। যেগুলোর তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে নেই। তারা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো অনুমোদনও নেননি। এর মধ্যে দেশের কয়েকটি ঋণ জালিয়াত প্রতিষ্ঠানই রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বৈধভাবে বিদেশে কোনো পুঁজি নেওয়ার সুযোগ নেই। বৈধভাবে বিদেশে বিনিয়োগ করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত একটি কমিটি এ ব্যাপারে অনুমোদন দেয়। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে এর আওতায় অনুমোদন দেওয়া হবে। নীতিমালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় চিঠি দিয়ে তাদের প্রতিনিধি চাওয়া হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হলে এর প্রথম বৈঠক হবে।

বর্তমানে যে কেউ বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করতে পারেন। নতুন নীতিমালার ফলে এখন শুধু রপ্তানিকারকরা বিনিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্য কেউ পারবেন না। তাও আবার সব রপ্তানিকারক আবেদন করতে পারবেন না। কেবল যেসব রপ্তানিকারকের আর্থিক সচ্ছলতা রয়েছে, তারা আবেদন করতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘কমিটি ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেই অনুমোদনের বিষয়টি চূড়ান্ত করবে। ফলে অর্থনীতিতে ঝুঁকি আসবে না। ঝুঁকির সম্ভাবনা দেখলে অনুমোদন মিলবে না।’

কারা বিনিয়োগ করতে পারবেন : কেবল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের রিটেনশন কোটা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে বিদেশে বিনিয়োগ করতে পারবেন। ওই কোটায় পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা থাকতে হবে। রপ্তানিকারকের আর্থিক সচ্ছলতাও থাকতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগে আগ্রহী রপ্তানিকারকদের ক্রেডিট রেটিং গ্রেড দুই হতে হবে। বিনিয়োগ প্রস্তাবটি নির্ভরযোগ্য ও লাভজনক হতে হবে। থাকতে হবে বৈদেশিক আয়ের সম্ভাবনা। নিয়মিত রপ্তানি আয় দেশে এসেছে এবং আমদানি দায় পরিশোধিত হয়েছে বলে ব্যাংক থেকে সনদ নিতে হবে। শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর নিয়মিত পরিশোধিত থাকতে হবে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘রপ্তানিকারকরা রিটেনশন কোটায় যে বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখেন, সেগুলো বিদেশে ব্যবসার উন্নয়নে ব্যয় হয়ে যায়। ওই খাতে বৈদেশিক মুদ্রা থাকে না। বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হলে রিটেনশন কোটার হার আরও বাড়াতে হবে। নীতিমালায় আরও শিথিলতা আনতে হবে।’

কারা বিনিয়োগ করতে পারবেন না : কোনো ঋণখেলাপি বা পুনর্গঠিত বড় অঙ্কের ঋণ আছে-এমন কোনো রপ্তানিকারক বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারবেন না। এছাড়াও কোম্পানির আর্থিক অসচ্ছলতা থাকলেও বিনিয়োগ করা যাবে না।

বিনিয়োগ করা যাবে যেসব দেশে : সব দেশে পুঁজি বিনিয়োগ করা যাবে না। যেসব দেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের কাজ করার ও তাদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রেরণের কোনো বাধা নেই, বাংলাদেশের দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি রয়েছে, বাংলাদেশে বিনিয়োগসহ অন্যান্য অর্থ দেশে ফেরত আনার সুযোগ রয়েছে এবং বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় পুঁজি বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ চুক্তি রয়েছে, ওইসব দেশে পুঁজি বিনিয়োগ করা যাবে।

যেসব দেশে বিনিয়োগ করা যাবে না: যেসব দেশে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অফিস অব ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন ট্রাস্কফোর্স কর্তৃক যেসব দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই-ওইসব দেশে বিনিয়োগ করা যাবে না।

গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে সরকারের পতন করতে চান আসম রব

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতীয় সরকারের অনিবার্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত করে সরকার পতনের মাধ্যমে জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে। এই জাতীয় সরকারই রাষ্ট্রীয় সংস্কার সাধনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করবে।

জেএসডির স্থায়ী কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে আ স ম রব এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার আবদুর রবের উত্তরার বাসায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন- জেএসডির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছানোয়ার হোসেন তালুকদার, মো. সিরাজ মিয়া, তানিয়া রব এবং শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।

আ স ম রব বলেন, আইনের শাসনের অনুপস্থিতি, নির্বাচনহীনতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বিশ্বে রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়ে এখন তলানিতে। এই অবস্থা বিদ্যমান থাকলে ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ বড় ধরনের সংকটে নিপতিত হবে।

তিনি বলেন, দেশের ভেতরে মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা নেই, ভয়ের সংস্কৃতিতে মানুষ কথা বলতে পারছে না। দুর্নীতিতে সারা দেশ আচ্ছন্ন, উন্নয়নের ডামাঢোলে সমাজে প্রতিনিয়ত বেকারত্ব ও বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, লুটপাটের মাধ্যমে দেশের সম্পদ পাচার হয়ে যাচ্ছে। এসব চলতে দেওয়া যায় না।

আ স ম রব বলেন, সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার ভেতর দিয়েই গণমুখী রাজনীতির বিকাশ ঘটাতে হবে। বাঙালির তৃতীয় জাগরণের এ পর্যায়ে দেশ পরিচালনায় সব অংশীজনের ভূমিকা নিশ্চিত করলেই জাতীয়তাবাদের বিকাশ সুনিশ্চিত হবে।

হাওরের উড়াল সেতু হবে একটা আইকনিক প্রকল্প: পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, সুনামগঞ্জের হাওরের ওপর দিয়ে উড়াল সেতু হবে একটা আইকনিক প্রকল্প। এ সেতু স্থাপিত হলে জেলায় অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে সাফল্য আসবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন মডেল স্থাপিত হবে। এছাড়া খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাওরে উড়াল সড়ক নির্মাণ কাজও শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গৃহীত স্কিম সংক্রান্ত’ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, হাওরে উড়াল সেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাথা থেকে এসেছে। এটা আমরা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। এই প্রকল্পটি আমরা অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গায় করছি। হাওর হলো আমাদের মা, মায়ের বুকের ওপর দিয়ে কাজ হবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী বারবার আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি আমাদের বলেছেন, একটি হিজল-করচগাছও যেন নষ্ট না হয়, মাছের যেন কোনো ক্ষতি না হয়। তাঁর প্রতিটি নির্দেশনা মেনেই আমরা কাজ করব।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের নিয়ে এ প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপি এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাওরে উড়াল সড়কের কাজ শুরু হবে। ভবিষ্যতে এ সড়কটি আমাদের রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদের জন্ম জেলা কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দুটি জেলাকে কীভাবে সংযুক্ত করা যায় বিষয়টি স্টাডি করা হচ্ছে।

এম এ মান্নান আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর স্নেহ আছে, দায় আছে, দেশপ্রেম আপনার আমার চাইতে আলাদা। তিনি সবকিছু হৃদয় দিয়ে অনুভব করেন। হাজার হাজার স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের সবার উচিত শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানো।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, ভোটের মাঠে না থেকে ভোট হতে দেব না। ধমক দিয়ে হঠকারী কোনো কথা না বলে আসেন,আলোচনা করেন। নির্বাচনে আসেন। ভোটের মাঠে না গিয়া ভয় দেখাইয়্যা মানুষকে আটকাতে পারবেন না। এসবে এখন আর কাজ হবে না। রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করলে শক্ত হাতে তা প্রতিহত করা হবে।

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন- সুনামগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক এমরান হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ও এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গোলাম মৌলা, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মাহবুবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আলী আমজাদ, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুব আলম, সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রুকেস লেইস, জেলা আ.লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম, তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন, ধর্মপাশা উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন,জামালগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ প্রমুখ।

বক্তরা তাদের বক্তব্যে সেতুর সৌন্দর্য অবলোকন ও এতে যাতায়াতকারীদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনী, গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, বজ্র নিরোধক দণ্ডসহ সবধরনের নিরাপত্তাবেষ্টনি গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে তিন হাজার ৪৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে উড়াল সেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি।

চলতি বছরের শুরু দিকে এ মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হবে এবং ২০২৬ সালে উক্ত কাজ সমাপ্ত করার কথা রয়েছে।এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা উপজেলাসহ নেত্রকোনা জেলার কয়েকটি উপজেলার যোগাযোগের ক্ষেত্রে মাইলফলক সৃষ্টি হবে।

মতবিনিময় সভার শুরুতে হাওর এলাকার বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং এ্যামুনেশনের মাধ্যমে উড়াল সেতু হওয়ার পরের দৃশ্য ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওগ্রাফি প্রদর্শন করেন মেগা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গোলাম মৌলা।

বইমেলা শুরু ১৫ ফেব্রুয়ারি

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২২। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি মেলার উদ্বোধন করবেন।

বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা পিয়াস মজিদ।

তবে বইমেলা কতদিন চলবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বইমেলা শুরুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠি বাংলা একাডেমিতে পৌঁছায়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ ফেব্রুয়ারি মেলার উদ্বোধন করবেন। তবে মেলা কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে চিঠিতে কিছু জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলা চলবে।

এর আগে কোভিড মহামারির কারণে পিছিয়ে যাওয়া অমর একুশে বইমেলা ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৭ মার্চ পর্যন্ত চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে প্রকাশক সমিতি।

১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রকাশকদের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সেই বৈঠকে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ বলেন, করোনার কারণে এবারও ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি।
প্রকাশকরা ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৭ মার্চ পর্যন্ত মেলা চালানোর প্রস্তাব করেন। তবে কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

মহামারির কারণে গত বছর অমর একুশে বইমেলা দেড় মাস পিছিয়ে ১৮ মার্চ থেকে শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগে ১২ এপ্রিল তা শেষ হয়ে যায়।

শপথ নেওয়ার আগেই মারা গেলেন বিচারপতি নাজমুল আহাসান

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে সদ্য নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার ভোর সোয়া ৬টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান। চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, সেখানে চিকিৎসাধীন মারা যান তিনি।

গত ৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগ থেকে পদোন্নতি পেয়ে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান আপিল বিভাগে নিয়োগ পান। ৯ জানুয়ারি তার সঙ্গে নিয়োগ পাওয়া অপর বিচারপতি শপথ নেন। প্রধান বিচারপতি তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। কিন্তু করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে ওই দিন তিনি শপথ নিতে পারেননি নাজমুল আহসান।

৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে নতুন বিচারপতিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী জানিয়েছিলেন, বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান করোনা আক্রান্ত হয়ে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। তিনি সুস্থ হলে শপথ নেবেন।

বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার সমবেদনা জানিয়েছেন।

২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল স্থায়ী হন।

শরীরে ভিটামিন ‘এ’র অভাব বুঝবেন ৭ লক্ষণে

ভিটামিন ‘এ’ আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আর এটি হচ্ছে একটি চর্বি-দ্রবণীয় ভিটামিন যেটি আমাদের সঠিক দৃষ্টিশক্তি, শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা, প্রজনন এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতিসহ অনেক শারীরিক ক্রিয়াকলাপের জন্য দরকারি ভূমিকা পালন করে।

সাধারণত খাবারের মাধ্যমে দুই ধরনের ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়। এর একটি হচ্ছে প্রিফর্মড ভিটামিন ‘এ’। এই ধরনের ভিটামিন ‘এ’ মাংস, মাছ, ডিম ও দুগ্ধজাত দ্রব্যে পাওয়া যায়। আর অন্যটি হচ্ছে প্রোভিটামিন এ। এটি শরীর উদ্ভিদের খাবারে ক্যারোটিনয়েডকে রূপান্তরিত করে। এই ভিটামিনটি লাল, সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের ফল এবং শাকসবজিতে পাওয়া যায়।

ভিটামিন এ সমৃদ্ধ বিভিন্ন খাবার খেলে সাধারণত এর ঘাটতি দেখা দেয় না। কিন্তু তারপরেও যাদের ঘাটতির সর্বোচ্চ ঝুঁকি রয়েছে তারা হচ্ছেন, গর্ভবতী নারী, বুকের দুধ খাওয়ানো মা ও শিশু। আর সিস্টিক ফাইব্রোসিস এবং দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া এই ভিটামিনের অভাবের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তাই আজকে জেনে নিন যে ৭ লক্ষণে বুঝবেন শরীরে ভিটামিন এ’র অভাব—

১. শুষ্ক ত্বক
ভিটামিন এ ত্বকের কোষ তৈরি ও মেরামতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া এটি কিছু ত্বকের সমস্যার কারণে প্রদাহের সঙ্গে লড়াই করতেও সাহায্য করে। আর পর্যাপ্ত ভিটামিন এ’র ঘাটতি একজিমা এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে।

শুষ্ক ত্বকের অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী ভিটামিন এ’র ঘাটতি থাকলে এটি বেশি হয়ে থাকে।

২. চোখে শুষ্ক ভাব
ভিটামিন এ’র অভাবজনিত কারণে চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় এটি আমাদে অনেকেরই জানা। এসব সমস্যার অন্যতম একটি হচ্ছে চোখে শুষ্কভাব দেখা দিতে পারে। আর চরম ক্ষেত্রে, শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ না পাওয়ার ফলে সম্পূর্ণ অন্ধত্ব বা কর্নিয়ায় মারা যেতে পারে।
তাই শুষ্ক চোখ বা অশ্রু উত্পাদন করতে অক্ষমতা, ভিটামিন এ’র অভাবের প্রথম লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি।

৩. রাতকানা রোগ
মারাত্মক ভিটামিন এ’র অভাবে রাতকানা রোগ হতে পারে।বেশ কিছু পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, উন্নয়নশীল দেশগুলিতে রাতকানা রোগের উচ্চ প্রবণতা রয়েছে। এই সমস্যার মাত্রার কারণে, স্বাস্থ্য পেশাদাররা রাতের অন্ধত্বের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ভিটামিন এ’র মাত্রা বাড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন।

৪. বন্ধ্যাত্ব ও গর্ভধারণে সমস্যা
ভিটামিন এ নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজননের পাশাপাশি শিশুদের সঠিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়।
আর নারীদের যদি গর্ভবতী হতে সমস্যা হয় তবে ভিটামিন এ’র অভাব তার অন্যতম কারণ হতে পারে। এ ছাড়া ভিটামিন এ’র অভাবে পুরুষ ও নারী উভয়েরই বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।

৫. বৃদ্ধিতে বিলম্ব
যেসব শিশু পর্যাপ্ত ভিটামিন এ পায় না তাদের বৃদ্ধি স্থবির হতে পারে। কারণ ভিটামিন এ মানবদেহের সঠিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়।
বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভিটামিন এ শিশুদের বৃদ্ধিতে উন্নতি করতে পারে।

৬. গলা এবং বুকে সংক্রমণ
ঘন ঘন সংক্রমণ, বিশেষ করে গলা বা বুকে হলে তা ভিটামিন এ’র অভাবের লক্ষণ হতে পারে। আর শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে ভিটামিন এ ভালো সাহায্য করতে পারে।
বয়স্ক ব্যক্তিদের একটি গবেষণায় দেকা গেছে যে, প্রোভিটামিন এ উচ্চ রক্তের মাত্রা ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

৭. ক্ষত নিরাময়ে সমস্যা

আঘাত বা অস্ত্রোপচারের পরে ক্ষত নিরাময়ে সমস্যা দেখা দিলে তা হতে পারে ভিটামিন এ’র অভাবের অন্যতম একটি কারণ।
ভিটামিন এ স্বাস্থ্যকর ত্বকের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। তাই এই ভিটামিনটির অভাবে খক্ষত নিরাময় হতে সমস্যা দেখা দেয়।
ইঁদুরের গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভিটামিন এ ত্বকের চিকিত্সায় এবং ক্ষত প্রতিরোধে সহায়তা করে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন ডটকম।