শনিবার ,১৩ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 454

জনস্রোতে বাংলা ভাষার জন্য ভালোবাসা

মহান একুশের দিনে ভাষা আন্দোলনের শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতি। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানানো হয়েছে নানা আয়োজনে। অমর একুশে বইমেলায়ও এর ব্যতিক্রম ছিল না। এদিন শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সি নারী-পুরুষের পোশাকে প্রাধান্য পেয়েছে কালো রং। বাংলা বর্ণমালা খচিত ছিল অনেকের পোশাকে। শহিদ মিনার থেকে জনস্রোত ছুটে এসেছিল অমর একুশে বইমেলায়। সারা দিন বইমেলা ও তার আশপাশে বেজেছে সেই অমর গান-আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি। সেই গানের সঙ্গে গুনগুন করে সুর মিলিয়েছেন মেলায় আগতরাও।

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার বইমেলা শুরু হয় সকাল ৮টায়। চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন শহিদ মিনারে যারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই দিনের নানা সময়ে মেলায় এসেছেন। বেলা একটু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলায় নামে মানুষের ঢল। সন্ধ্যা নামার আগেই তা জনারণ্যে পরিণত হয়। একসময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ভরে যায় কানায় কানায়।

অনেকে পরিবার নিয়ে সারা দিন কাটিয়েছেন মেলা প্রাঙ্গণেই। দুপুরবেলা জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সামনে বিছিয়ে দেওয়া লাল গালিচায় অন্তত বিশটি পরিবারকে পরিশ্রান্ত হয়ে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে। অনেকে এসেছিলেন বন্ধুদের নিয়ে। স্ত্রীসহ দুই সন্তানকে নিয়ে মোহাম্মদপুর থেকে আসা মাজেদুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, শহিদ মিনার থেকে মেলায় এসে এখানেই দুপুরের খাবার খেয়েছি। পুরো সময়টাতে পরিবারের সবাই এক এক করে ঘুরে যার যার পছন্দমতো বই কিনেছি। সন্তানরা বড় হচ্ছে। তাই চেয়েছি, পুরো একটা দিন তাদের সঙ্গে কাটানোর মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন, শহিদ মিনার, আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যের বিষয়গুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকতে।

এদিন মেলা প্রাঙ্গণে দেখা যায়, বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোতে বিক্রয়কর্মীদের দম নেওয়ার মতো ফুরসতও ছিল না। ছোট-বড় সব প্রকাশনীতে ছিল পাঠকের ভিড়। হাতে হাতে ছিল নতুন কেনা বইয়ের ব্যাগ। বিকালের পর আড্ডা জমেছিল লিটল ম্যাগ চত্বরেও।

মঞ্চের আয়োজন : শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে। বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় অমর একুশে বক্তৃতা ২০২২। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। ‘ফিরে দেখা : আমাদের ভাষা আন্দোলন’ শীর্ষক বক্তব্য দেন কবি আসাদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, আমাদের একুশ এখন সারা বিশ্বের। একুশের ৭০ বছর আমাদের জাতিসত্তার উৎসমূলে নতুন করে দৃষ্টিপাতে এবং ভাষা-সংস্কৃতি ও জাতিতাত্ত্বিক নিবিড় আত্মঅন্বেষায় উদ্বুদ্ধ করে।

কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, অমর একুশের ৭০ বছর পূর্ণ হলো আজ। তবে বাঙালির ভাষা আন্দোলন শুধু ৭০ বছরের বিষয় নয়। হাজার বছর ধরে বাঙালি আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকারের জন্য লড়াই করে এসেছে। তারা এ আন্দোলনকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিণতিতে নিয়ে গেছে এবং কালক্রমে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়কে আসন্ন করেছে।

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, ভাষাসংগ্রামের মধ্য দিয়ে ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।

এদিন লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন ইমদাদুল হক মিলন ও আনিসুল হক। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মাকিদ হায়দার, বিমল গুহ ও আবদুস সামাদ ফারুক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন দেওয়ান সাইদুল হাসান, জয়ন্ত রায় ও শাহাদৎ হোসেন নিপু। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী। নৃত্য পরিবেশন করেন সৌন্দর্য প্রিয়দর্শিনী ঝুম্পা ও ফরহাদ আহমেদ শামীম। সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব চন্দ্র ঘোষ, কল্যাণী ঘোষ, স্বর্ণময়ী মণ্ডল, তাজুল ইমাম ও আরিফ রহমান।

ভাষাশহিদ মুক্তমঞ্চের অনুষ্ঠান : সকালে মঞ্চে শুরু হয় কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ। স্বরচিত কবিতাপাঠে অংশ নেন অর্ধশতাধিক কবি। সভাপতিত্ব করেন কবি অসীম সাহা। বিকালে এ মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কবিকণ্ঠে একুশের কবিতাপাঠ। স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেন পঁচিশ কবি। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সচিব কবি হাসানাত লোকমান। অমর একুশের ৭০ বছর পূর্তি স্মরণে প্রদর্শিত হয় শহিদ জহির রায়হান পরিচালিত ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র- জীবন থেকে নেওয়া।

নতুন বই : সোমবার অমর একুশে বইমেলায় নতুন বই প্রকাশ হয়েছে মোট ২২৪টি। এর মধ্যে অন্যপ্রকাশ থেকে এসেছে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের দেখা-অদেখার গল্প, অনন্যা থেকে ইমদাদুল হক মিলনের লেখা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছোটদের গল্প খোকার ছাতা, ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ থেকে দেবপ্রিয় চাকমার চাকমা জাতি : সংগ্রাম, সংঘর্ষ ও বিজয় (১৭১১-২০২১), কথাপ্রকাশ থেকে ইমদাদুল হক মিলনের ভূতুড়ে, অক্ষর প্রকাশনী থেকে শামসুর রাহমানের নির্বাচিত ৩০০ কবিতা, উৎস প্রকাশন থেকে ফারুক মঈনউদ্দীনের শেখ মুজিব দস্তইয়েফস্কি ও অন্যান্য অনূদিত প্রসঙ্গ, কাব্যকথা থেকে মুহম্মদ নূরুল হুদার বালিশ্লোক, তূর্য প্রকাশনী থেকে ফকির আলমগীরের সংস্কৃতিতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, খুশবু প্রকাশন থেকে ধ্রুব এষের মেশিন যুগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে সঙ্গীতা ইমামের সুখের রাজ্যে তুলতুল, আফসার ব্রাদার্স থেকে অরুণ কুমার বিশ্বাসের ভয়ংকর পাঁচ।

চুল কেন ঝরে পড়ে, প্রতিকারে কী করবেন?

চুল ঝরে পড়ার সমস্যায় কম বেশি সবাই ভোগেন। সারা বিশ্বেই বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দেয়। চুল পড়া ঠেকাতে আমরা নানা প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকি। এগুলোর ব্যবহার অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়। চুল ঝরে পড়ার কারণ না জেনে চিকিৎসা দিলে নানা জটিলতা হতে পারে।

চুলের প্রধান সমস্যা অকালে চুল পড়ে যাওয়া। তরুণ-তরুণীরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। যুবক বয়সে এর প্রধান কারণ অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া বা টাক। এটি জেনেটিক কারণে হয়ে থাকে।

এছাড়া অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের কারণেও চুল পড়ে। বয়সকালেও চুল পড়ে যায়। গর্ভাবস্থায় ও স্তন দানকালে হরমোনের একটিভিটি বেড়ে যায় বলে এ সময়ও চুল পড়ে যায়। আবার অনেক সময় ক্রাশ ডায়েটের কারণেও চুল ঝরে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন আল-রাজী হাসপাতালের ত্বক ও যৌনব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. দিদারুল আহসান।

চুল পড়ার আরেকটি কারণ অটো ইমিউন ডিজিজ। এন্টিজেন অ্যান্টিবডির রিঅ্যাকশনে চুল পড়ে যায়। মেয়েদের জরায়ুতে টিউমার বা সিস্ট হলে চুল পড়ে।

চুলের মাথার ত্বকে ফাংগাস ইনফেকশন থেকে চুল পড়ে যায়। খুশকির জন্য এন্ট্রি ড্রেনড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যায়। শীতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা কমে যাওয়ার জন্য ও আবহাওয়া শুষ্ক থাকার জন্য চুল রুক্ষ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সপ্তাহে দুই-তিনবার শ্যাম্পু করা যায়।

চুলে প্রসাধনী ব্যবহার সারা বিশ্বেই বাড়ছে। চুলে কালার করা, হেয়ার বন্ড্রিং, হেয়ার স্ট্রেইটনিংয়ের জন্য চুল পড়তে পারে। প্যাটার্ন অ্যালোপেসিয়ায় হেয়ার লাইন নিচে নেমে যাবে বা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় চুল পড়ে হাল্কা বা পাতলা হয়ে যাবে।

কন্ডিশনারসহ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে ভালো। চুলপড়ার ৮০-৯০ ভাগ কারণ অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া। এফডিএ অনুমোদিত মিনোক্সিডিল লোশন প্রতিদিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

পিআরপি থেরাপি চুল পড়া রোধে কিংবা নতুন চুল গজানোর আধুনিক কার্যকরী পদ্ধতি। এতে রোগীর কাজ না হলে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টেশন করা হয়।

চুল পড়ার চিকিৎসা শুরু করার আগে জানা দরকার ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতি আছে কি না। অনেকে কষ্টকর বা ক্রাশ ডায়েট করেন, তারপর চুল পড়তে শুরু করে। স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য সঠিক পুষ্টি দরকার। প্রয়োজন হলে রক্তের আয়রন, ভিটামিন ডি প্রভৃতি পরীক্ষা করে নেওয়া যায়।

ঘাটতি থাকলে চিকিৎসক সাপ্লিমেন্ট দিয়ে তা পূরণ করার চেষ্টা করতে পারেন। চুল পড়ার অন্তর্নিহিত কারণ আছে কিনা, সে ইতিহাস জানা জরুরি। কারণটি দূর করার চেষ্টা করতে হবে আগে। যেমন থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে তার সমাধান করা জরুরি। কোনো গুরুতর সংক্রমণের পর হয়ে থাকলে বা কেমো বা রেডিওথেরাপি দেওয়া হলে অপেক্ষা করাই বাঞ্ছনীয়। খুশকি বা ছত্রাকের সংক্রমণ থাকলে তার চিকিৎসা নিন আগে।

চুলের সমস্যায় যে ওষুধই ব্যবহার করুন না কেন, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদে ব্যবহার করতে হবে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তো আছেই, তাছাড়া এগুলো তখনই ব্যবহার করতে হবে, যখন হেয়ার ফলিকল বা চুলের গোড়ায় চুল গজানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। আর চুল গজানোর জন্য সঠিক পরিবেশ (পুষ্টি, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ, সংক্রমণহীনতা, হরমোনের ভারসাম্য প্রভৃতি) যখন তৈরি হয়।

দাঁতের গোড়া দিয়ে থেমে থেমে রক্ত গেলে করণীয়

দাঁতের গোড়া দিয়ে কারও কারও থেমে থেমে রক্ত যায়। দাঁতের প্রাথমিক সমস্যার মধ্যে এটি একটি। আমরা যে খাবারগুলো খাই সেখান থেকে খাদ্যকণা দাঁতের গোড়ায় জমে যায়, সেখানে পাথর হয়।

ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করলে এবং মাউথওয়াশ ব্যবহার করলেই পাথর জন্ম নিতে পারে না। আর না করার কারণে এখানে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়, ইনফ্লামেশন হয়। রক্ত প্রবাহের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় ক্ষত স্থানে। মাড়ি থেকে ধীরে ধীরে রক্ত বের হতে থাকে। তখন ব্রাশ করলেও রক্ত পড়ে।

অনেক ক্ষেত্রে আমরা ভুল করে জোরে জোরে দাঁত ব্রাশ করি। তখন ব্রাশের ঘষা খেয়েও রক্ত পড়ে।

মূলত খাদ্যকণা জমে যাওয়ার ফলে পাথর জমে, যেটাকে ডাক্তারের ভাষায় ক্যালকুলাস বলা হয়। এটাকে যদি আমরাই স্কেলিং করি, পরিষ্কার করি; তাহলেই সমস্যার সমাধান মিলবে। ছয় মাস পরপর স্কেলিং করা দরকার। আর বছরে অন্তত একবার ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নিতে হবে।

সূত্র: ডক্টর টিভি

শুধু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হলে হবে না, শিক্ষার মানেও নজর দিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, দেশে নতুন নতুন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। শুধু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হলে হবে না, শিক্ষার মানেও নজর দিতে হবে।

সোমবার মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতি আয়োজিত ‘ভাষা আন্দোলন: ইতিহাস বাস্তবতা’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার মানের ওপর নজর দিতে পারলে আমরা শিক্ষায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবো। এদিকে শিক্ষার্থীদের শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হয়ে উঠলেই চলবে না, ভালো মানুষও হতে হবে। এখন নতুন কারিকুলামে যে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, তা শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় হবে বলে আশা করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার মান বাড়াতে একাডেমিক মহাপরিকল্পনা নিতে হবে। তার সঙ্গে আসবে ভৌত অবকাঠামো মহাপরিকল্পনা। এর মাধ্যমে শিক্ষায়, বিজ্ঞানে এবং প্রযুক্তিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা আগের তিনটি বিপ্লব ধরতে পারিনি, এবার আমাদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে ধরতেই হবে। এ শিল্প বিপ্লব ধরতে আমাদের মায়ের ভাষা অর্থাৎ আমাদের মাতৃভাষা শেখাটা জরুরি।

আলোচনাসভায় জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক বলেন, কোনো দিবস সামনে এলেও সেটি নিয়ে আমরা আলোচনা করি, পরে দ্রুতই তা ভুলে যাই। আমরা যেন সারাবছর এ বিষয়টি (শহিদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস) নিয়ে আলোচনা করি। এখন থেকে আদালতের রায় বাংলায় লেখা হবে। এটি আমাদের একটি ইতিবাচক অর্জন। এখন সবাই নিজের ভাষায় আদালত ঘোষিত রায় পড়তে ও বুঝতে পারবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, জবি ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম, জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল কালাম লুৎফুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

নিপুণের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আইনজীবীর

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না— এ মর্মে জারি করা রুল শুনানির জন্য আগামীকাল বুধবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

এ সময় আদালতে নিপুণের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ করেন জায়েদ খানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। প্রায় একই রকম তথ্য দিয়ে তারা বলেন, আপিল বিভাগের স্ট্যাটাসকো থাকার পরও নিপুণ সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসছেন। আদালত অবমাননা করে চলছেন। তখন আদালত বলেন, আপনারা যা বলছেন, এটি রুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। পরে আদালত রুল শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।
আদালতে নিপুণের পক্ষে সংযুক্ত ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।
এর আগে গত মঙ্গলবার নিপুণের আইনজীবীর সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।
গত ২৮ জানুয়ারি শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পর দিন প্রাথমিক ফলে জায়েদ খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জয়ী ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচনি আপিল বোর্ডের কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন নিপুণ।

আপিল বোর্ড সমাজসেবা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠায়। পরিপ্রেক্ষিতে ২ ফেব্রুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তর এক চিঠিতে জানায়, আপিল বোর্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ড জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে।

এ অবস্থায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২ ফেব্রুয়ারির চিঠি ও আপিল বোর্ডের ৫ ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন জায়েদ খান। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। রুলে ২ ফেব্রুয়ারির চিঠি ও ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

একই সঙ্গে হাইকোর্ট ২ ফেব্রুয়ারির চিঠির কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। পাশাপাশি ২ ও ৫ ফেব্রুয়ারির চিঠি ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জায়েদ খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আর রুল শুনানির জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি দিন রাখেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টে আদেশের বিরুদ্ধে নিপুণের করা আবেদনের ওপর ৯ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে শুনানি হয়। সেদিন চেম্বার বিচারপতি আদেশ দেন। চেম্বার বিচারপতির আদেশে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে নিপুণের আবেদন ১৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়।

একই সঙ্গে শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনে ওই সময়ে দুই পক্ষকে (নিপুণ ও জায়েদ) স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আদেশ চলমান থাকবে উল্লেখ করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ নিপুণের আবেদন নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন।

নিপুণের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে ১৪ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। ঘোষিত আদেশে আপিল বিভাগ বলেন, দুপক্ষ (জায়েদ ও নিপুণ) উপস্থাপন করেছে যে হাইকোর্টে বিষয়টি (রুল শুনানি) ১৫ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এ অবস্থায় আবেদনটি (নিপুণের করা) নিষ্পত্তি করা হলো। চেম্বার বিচারপতি যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা চলমান থাকবে।

১৫ ফেব্রুয়ারি আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে নিপুণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, উনারা (জায়েদ খান) একটি কপি দিয়েছেন। হলফনামা করে এর জবাব দিতে হবে। এ জন্য এক সপ্তাহ সময় চাচ্ছি।

জায়েদের পক্ষে আইনজীবী নাহিদ সুলতানা বলেন, শুনানি শুরু হয়ে যাক। পরে সময় দেওয়া যেতে পারে।

তখন রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আজ সাড়ে ১০টায় কপি দিয়েছে। আদালত বলেন, তা হলে তো সময় দিতে হবে। রুলসও পারমিট করে। আগামী মঙ্গলবার (আজ) বিষয়টি কার্যতালিকার শীর্ষে থাকবে।

প্রেমিকা সাবাকে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন হৃতিক

বিচ্ছেদের আট বছর পর এবার প্রেমের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে বলিউডের গ্রিক দেবতাখ্যাত সুপারস্টার হৃতিক রোশনের। দিন কয়েক আগে এমন খবরই জানিয়েছিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দিন আগে হৃতিক-সাবাকে নিয়ে প্রকাশ হয়েছিল একটি ভিডিও। যাতে দেখা যায়, রাতে এক তরুণীর হাত ধরে রেঁস্তোরা থেকে বেরোচ্ছেন হৃতিক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তরুণীর নাম সাবা আজাদ, যিনি হৃতিকের চেয়ে ১৬ বছরের ছোট।

এবার হৃতিকের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গেল অভিনেতার চর্চিত বান্ধবী সাবা আজাদকে। রোববার হৃতিকের চাচা, সংগীত পরিচালক রাজেশ রোশন ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন একটি ছবি। সেখানে হৃতিকের পুরো পরিবারের মধ্যমণি হয়ে থাকলেন সাবা। তিনিও যে এখন রোশন পরিবারেরই একজন তা বেশ বোঝা যাচ্ছে এই ছবি থেকে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হৃতিক ও সাবার পাশাপাশি দেখা মিলল অভিনেতার দুই পুত্র রিহান ও রিদানের। ছিলেন হৃতিকের মা পিঙ্কি রোশন, চাচা রাজেশ রোশন, বোন পশমিনাসহ আরও অনেকে। লিভিং রুমের মধ্যে রবিবাসরীয় আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা গেল তাদের।

ছবির ক্যাপশনে রাজেশ রোশন লিখেছেন, খুশি সবসময়ই সঙ্গে থাকে, বিশেষত রোববার, মধ্যাহ্নভোজের সময়’।

এই পোস্টের কমেন্ট বক্সে হৃতিক লিখেছেন— ‘একদম সত্যি কথা! আর তুমিই সবচেয়ে মজার মানুষ।’

এই পোস্টের কমেন্ট বক্সে সাবা কী লিখলেন? হবু শ্বশুরবাড়িতে সময় কাটিয়ে আপ্লুত তিনি। লিখেছেন, ‘সেরা রোববার’।

সাবা আজাদের আসল নাম সাবা সিং গ্রেওয়াল। সাবা একজন মডেল, সিঙ্গার ও অভিনেতা। ২০০৮ সালে বলিউডের সিনেমা ‘দিল কবাডি’ দিয়ে ডেবিউ। ২০১১ সালে অভিনয় করেছেন ‘মুঝসে ফ্রেন্ডশিপ করোগে’ সিনেমাতে। ২০২১ সালে অভিনয় করেছেন ‘ফিলস লাইক ইশক’ ছবিতে।

ম্যাচ পরিচালনা করবেন যারা

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য ম্যাচ অফিশিয়ালদের তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তিনটিতেই ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে থাকবেন নিয়ামুর রশিদ রাহুল।

এছাড়া প্রতিটি ম্যাচে চতুর্থ আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করবেন মোর্শেদ আলী খান।

প্রথম ম্যাচে অন ফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকবেন গাজী সোহেল ও মাসুদুর রহমান মুকুল। দ্বিতীয় ম্যাচে অন ফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করবেন মাসুদুর রহমান মুকুল ও তানভীর আহমেদ।

তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে গাজী সোহেল ও তানভীর আহমেদ অন ফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করবেন।

তিন ম্যাচে টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করবেন তানভীর আহমেদ, গাজী সোহেল ও মাসুদুর রহমান মুকুল।

ধোনির এক পরামর্শেই বদলে গেছে চাহারের ক্যারিয়ার

চারবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। এমএস ধোনি হচ্ছেন এই দলের অধিনায়ক। এবার ধোনির প্রশংসা করেছেন ভারতীয় ক্রিকেটার দীপক চাহার। এবার চেন্নাই সুপার কিং চাহারকে দলে ফেরাতে ব্যয় করেছে ১৪ কোটি টাকা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চাহার জানান, তিনি বোলার হিসেবেই পরিচিত, কিন্তু ব্যাটিং করতেন, বলের থেকেও ভালো। ধোনির পরামর্শেই ফের চাহার ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেন। আজ ভারতীয় দলে শার্দুল ঠাকুর ও দীপক চাহার এমন দুই বোলার, যারা প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও জ্বলে উঠতে পারেন।

ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চাহার বলেন, একদিন ধোনি ভাই আমাকে এসে বলেন, বল হাতে তুমি ভালো কাজ করেছ, কিন্তু ব্যাটিংয়ে সুবিচার করোনি। আমার মনে হয়, তোমার ব্যাট করা উচিত। মাহি ভাই যেদিন অবসর ঘোষণা করেন, সেদিনই এই কথাটা আমাকে বলেছিলেন। সন্ধ্যায় বসে আমরা কথা বলছিলাম, তখনই আমাকে ব্যাটিংয়ে ফোকাস করতে বলেন।

তিনি বলেন, ২০১৭-১৮ সালে তিনি আরও ভালো ব্যাটার ছিলেন। বোলিংয়ের থেকে তার ব্যাটিংয়ে ফোকাস বেশি ছিল। কিন্তু বিদেশ সফরে গিয়ে তিনি সুইং বোলার হিসেবে উঠে এলেন, ব্যাটিং ঢাকা পড়ে গেল। আর চাহারকে এখন বোলার হিসেবেই চেনে ক্রিকেটবিশ্ব।

চাহার বলেন, আমি সেই তরুণ বয়স থেকেই ব্যাটিং করছি। অলরাউন্ডার হওয়ার ইচ্ছা তখন থেকেই। বাড়িতে থাকতাম সেই সময়টায়। বেশি করে ব্যাটিং অনুশীলন করতাম। ঘটনাচক্রে তখন আমার বেশি ফোকাস থাকত ব্যাটিংয়েই। কারণ বল করায় সীমাবদ্ধতা ছিল। বেশি বল করলে শরীরে চাপ পড়ত।

চাহার আরও বলেন, এর পর আমি যখন রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টসের হয়ে খেলি, তখন বুঝতে পারি বোলিংয়ের থেকে আমার ব্যাটিং ভালো। কিন্তু এর পর থেকে বিদেশের মাটিতে ব্যাট হাতে সেভাবে পারফর্ম করার সুযোগ পেলাম না। ব্যাটিং প্র্যাকটিসও কমে গেল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যারা মূলত ব্যাটার ছিল, তারা বেশি সময় পেত। ফলে ব্যাটিংয়ে যে স্বাচ্ছন্দ্য ছিল, সেটি কোথাও গিয়ে ধাক্কা খায়।

চাহার দেশের হয়ে এখনও পর্যন্ত সাতটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। পাঁচ ইনিংস ব্যাট করে ১৭৯ রান করেছেন। এর মধ্যে দুটি ফিফটি রয়েছে। সর্বোচ্চ এক ইনিংসে করেছেন ৬৯ রান। বুঝিয়েছেন যে, তার মধ্যে ব্যাটার চাহারও বিরাজমান। আইপিএলে ৬৩ ম্যাচে নিয়েছেন ৫৯ উইকেট।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ১৪ ফুটের সেই অজগর অবমুক্ত

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ১৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ কেজি ওজনের আলোচিত অজগরটি মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে। এ সময় আরও দুটি সাপ সেখানে অবমুক্ত করা হয়।

সোমবার বিকালে মৌলভীবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সরোয়ার, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং বন বিভাগের স্টাফদের উপস্থিতিতে সাপগুলো অবমুক্ত করা হয়।

বন বিভাগ বলে, স্থানীয় সাংবাদিকের ফেসবুকে সাপটির ভিডিও পোস্ট করলে অনেকেই খোঁজ নেন। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জাকছড়া লেবুবাগান থেকে ১৪ ফুট লম্বা ও ৬০ কেজি ওজনের সাপটি বন থেকে উদ্ধারের পর এর সুস্থতা নিশ্চিত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি বার্মিজ অজগর সাপ চা বাগানের ভেতরে দেখতে পান কিছু চা শ্রমিক। তখন সেই সাপের পেছনে পেছনে গিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন কয়েকজন। পরে সেই সাপের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে তখন দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

অনেকের দাবি, দেশের মধ্যে এই সাপটিই সবচেয়ে বড়। এ নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার কোনো ওপায় না থাকলেও গবেষক ও পরিবেশ কর্মীদের দাবি, এত বড় সাপ তারা বাস্তবে কখনও দেখেননি। শুধু বিদেশি সিনেমাতেই দেখেছেন।

লাউয়াছড়া পুঞ্জির আদিবাসী নেতা সাজু মার্চিয়াং জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সাপটিকে দেখা যায় আলোচিত অজগর সাপটি লাউয়াছড়ার পার্শ্ববর্তী জাগছড়া এলাকার লেবুবাগানে। সোমবার সেই আলোচিত সাপসহ তিনটি অজগর লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও সাপ গবেষক মোহাম্মাদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, কিছু দিন আগে আমি যখন সাপটিকে ফেসবুকে দেখি; ধারণা করছিলাম ২০ ফুটের বেশি। যদি তাই হয়, তবে এটি দেশে আমার দেখা সবচেয়ে বড় সাপ। তবে সোমবার বন বিভাগের কাছ থেকে জানতে পারলাম লাউয়াছড়ার পার্শ্ববর্তী জাকছড়া লেবুবাগান উদ্ধারকৃত ১৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ কেজি ওজনের মতো।

বিভাগীর বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, অজগরটিকে একটি লেবুবাগান থেকে উদ্ধার করি। পরে সেটিকে রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়। আলোচিত অজগর সাপসহ তিনটি অজগর সাপ আমরা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করি।

তিনি আরও বলেন, লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণীর জন্য একটি ভালো জায়গা। আমাদের সবার উচিত এদের রক্ষা করা এবং লাউয়াছড়াকে নিরাপদ ও প্রাণিবান্ধব রাখা। বন বিভাগ লাউয়াছড়া নিয়ে খুবই আন্তরিক। পরিবেশের জন্য সাপ খুবই প্রয়োজনীয়।

ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহত

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির বালিগাঁও-মাওয়া সড়কের তৌলকাইয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— মাদারীপুরের শিবচর থানাধীন নুরু মাস্টার কান্দির শহিদুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী বেগম (৪৫), মেয়ে পুতুল আক্তার (২০)।এতে গুরুতর আহত শিশু আনিছা (২)।

জানা গেছে, হতাহতরা জেলার মোক্তারপুর থেকে অটোরিকশাযোগে মাওয়া যাচ্ছিলেন। বিপরীত দিক থেকে আসা ড্রাম ট্রাকটি অটোরিকশাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

টঙ্গীবাড়ি থানার ওসি মোল্লা সোহেব আলী জানান, মাওয়াগামী অটোরিকশাটি বালিগাঁও বাজারের আগে তৌলকাই সেতুর কাছে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে মা ও মেয়ে নিহত হন। এতে আহত হয় নাতি।

এ ঘটনায় ট্রাকচালককে আটক করা হয়েছে। তবে অটোরিকশাচালক পালিয়ে গেছে। ট্রাক ও অটোরিকশা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে।