শনিবার ,১৩ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 455

আর্থিক খাতে অদৃশ্য শক্তির নিয়ন্ত্রণ জরুরি

আর্থিক খাতে যত অনিয়ম, দুর্নীতি, বিচারহীনতা এবং সুশাসনের অভাব-সবকিছুর পেছনে কলকাঠি নাড়ে একটি অদৃশ্য শক্তি। এ শক্তি অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু সবকিছু ধামাচাপা দেয় তারাই। অথচ কুচক্রী এই মহলটি সব সময় থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অদৃশ্য শক্তির থাবা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আর্থিক খাত আরও ধসে পড়বে। এ থেকে পরিত্রাণে বাংলাদেশ ব্যাংককে ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের আরও যোগ্য হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। রোববার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ও জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন সরকারের শীর্ষমহলের নির্দেশনা বা নিয়ন্ত্রণে চলে। সে কারণে আর্থিক খাতে নৈরাজ্যের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে এককভাবে দায়ী করা যায় না। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক নামে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও বাস্তবে তা ভোগ করতে পারছে না। সত্যিকারভাবে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা আনতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে যে ব্যাংকিং বিভাগ চালু আছে, তা বিলুপ্ত করতে হবে। সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রী থাকার সময় একবার বিভাগটি বিলুপ্ত করা হলেও পরে তা আবার চালু হয়েছে। এটা বন্ধ হলে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে কিছুটা দোষারোপ করার সুযোগ থাকে। তবে মনে রাখতে হবে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় অধিকাংশ ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হয়ে থাকেন। সুতরাং ব্যাংকের মালিকরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী, তাদেরকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, এটা আশা করা বাতুলতা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আর্থিক খাতের আজকের করুণ অবস্থার জন্য এককভাবে কেউ দায়ী নয়। ঘরে-বাইরে একটি অদৃশ্য প্রভাবশালী গোষ্ঠী সব অপকর্মের পেছনে কলকাঠি নাড়ে। যাদেরকে কখনো প্রকাশ্যে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে দেখা যায় না। এই গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কেউ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সুশাসনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর থেকে উত্তরণে ওই অদৃশ্য প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ক্ষমতা কমাতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, দুর্বৃত্তরা আর্থিক খাতে লুটপাট করে যাচ্ছে। কোনো প্রতিকার নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে। এখানে কারও না কারও তো দায় ছিল। সে বিচার আজও হয়নি। লুটপাটের কারণে কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বসে গেছে। সাধারণ মানুষের আমানত ফেরত দিতে পারছে না। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে বিচারের আওতায় আনা হয়নি। ব্যাংকিং কমিশন গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের, সেটাও করা হয়নি। আগে লুটপাটকারীদের সামাজিক অবস্থান ছিল না। এখন উলটো তারাই সমাজপতি। সে কারণে তাদের সামাজিকভাবেও বর্জন করা যায় না। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ যা দেখানো হয়, বাস্তবে এর কয়েক গুণ বেশি হবে। এর গন্তব্য কোথায়, কেউ জানে না। এখন মানুষ হতাশ, হাল ছেড়ে দিচ্ছে; কোনো আশা নেই। তিনি আরও বলেন, নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছা না হলে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে না।

প্রসঙ্গত, আর্থিক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে উত্তরণে সম্প্রতি ১০ দফা সুপারিশ করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। সুপারিশগুলো হচ্ছে-অর্থ পাচার প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করতে হবে। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ সব দুর্নীতিবাজের তালিকা জাতীয় সংসদসহ গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। ব্যাংকিং খাতের আত্মসাৎকৃত অর্থ আদায়ে ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার করতে হবে। ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচার রোধে সর্বদলীয় রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

বড় ঋণখেলাপিরা যাতে কেউ বিদেশে যেতে না পারে, সেজন্য নৌবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরগুলোয় তাদের তালিকা পাঠাতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। ব্যাংকিং সেক্টরে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন-এমন দক্ষ পেশাদার ব্যক্তিকে এসব পদে নিয়োগ দিতে হবে। নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা উচিত। চরম লোকসানি ব্যাংকগুলো সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। সুইস ব্যাংকসহ বিদেশে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাচার করা অর্থের অঙ্ক ও পাচারকারীদের নাম সংগ্রহের জন্য সমঝোতা চুক্তি করতে হবে।

হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে একদিন বন্ধ থাকার পর আবার দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর ভারত থেকে পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ভারতীয় ট্রাক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ।

হারুন-উর রশিদ জানান, সোমবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সব প্রকার আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। একদিন বন্ধ থাকার পর আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ভারত হতে পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে।

হিলি পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করার জন্য পানামা পোর্ট কর্তৃপক্ষের সব সময় প্রস্তুতি রয়েছে।

পূর্ব ইউক্রেনে রুশ সেনা পাঠানোর নির্দেশ পুতিনের

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই প্রজাতন্ত্র দোনেস্ক ও লুগানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার পর ওই সোমবার দুই অঞ্চলে রুশ সেনা পাঠানোর নির্দেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তিনি অবশ্য বলেছেন, দোনেস্ক ও লুগানস্কে ‘শান্তিরক্ষী বাহিনীর’ কাজ করবেন রাশিয়ার সেনারা। খবর আলজাজিরার।

আমেরিকাসহ ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো যখন অভিযোগ করছে— রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাতে চায় এবং মস্কো যখন এই অভিযোগ অস্বীকার করছে, তখন ভিন্ন ধরনের এ নির্দেশ দিলেন পুতিন।

তার এ নির্দেশের ফলে পুতিনের মাধ্যমেই সোমবার রাতে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষিত দোনেস্ক ও লুগানস্ক অঞ্চলে ‘শান্তিরক্ষী বাহিনী’ হিসেবে রুশ সেনা প্রবেশ করবে।

ওই দুটি অঞ্চল ২০১৪ সাল থেকে রুশপন্থি অস্ত্রধারীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানকার বেশিরভাগ নাগরিককে এরই মধ্যে রাশিয়ার পাসপোর্ট দিয়েছে মস্কো।

তবে প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনের ওই দুই প্রজাতন্ত্রে রুশ সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর রাশিয়ার সেনারা সেখানে প্রবেশ করতে শুরু করেছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।

ইউক্রেনের পাশ্চাত্যপন্থি প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দোনেস্ক ও লুগানস্ক অঞ্চলকে রাশিয়া যে স্বীকৃতিই দিক না কেন, ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক সীমান্ত অক্ষুণ্ন থাকবে।

তিনি দাবি করেছেন ২০১৪ সাল থেকেই ওই দুই অঞ্চলে অস্ত্রধারী বিদ্রোহীদের ছদ্মবেশে রুশ সেনা উপস্থিতি ছিল এবং এবার তাকে বৈধতা দেওয়া হলো মাত্র

ইউক্রেন সঙ্কটের মধ্যেই বুধবার রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ইমরান খান

ইউক্রেন সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাহমুদ কোরেশি জানিয়েছে, আগামী বুধবার দুদিনের সফরে মস্কো যাবেন ইমরান।

পাকিস্তানের শীর্ষ এ কূটনৈতিকের দাবি, ইমরান খানের এ সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মোড় আনবে। খবর জিও নিউজের।

দুই দশক পর পাকিস্তানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান রাশিয়া সফর করছেন।

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মস্কো সফরের জন্য তারা পাকিস্তানের প্রধনামন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সোমবার পাক বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, পুতিনের সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন ইমরান।

পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক ছিল পাকিস্তানের। আশির দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ফৌজের প্রবেশের পর আমেরিকার মাধ্যমে মুজাহিদ গেরিলাদের সাহায্যের বন্দোবস্ত করেছিল পাকিস্তান।

পরবর্তী সময়ে সোভিয়েতের পতনের পরে মস্কোর অনেকটাই কাছাকাছি এসেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের বন্ধুদেশ চীন ইতিমধ্যেই ইউক্রেন বিতর্কে মস্কোর পাশে দাঁড়িয়েছে।

ইমরানের মস্কোর সফরে ‘পাকিস্তান স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন’ প্রকল্প সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ঘোষিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে ভারত-পাক সীমান্তবর্তী কাসুর থেকে বন্দরশহর করাচি পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন করবে রাশিয়া।

সাংগঠনিক কাজে গতি বাড়াচ্ছে আ.লীগ

করোনার কারণে প্রায় দুই বছর পরিকল্পনা অনুযায়ী দল গোছানোর কাজ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। সোমবার করোনা রোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় নতুন করে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে দলটি।

জাতীয় সম্মেলন ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ থেকেই পুরোদমে শুরু হচ্ছে বিভিন্ন কার্যক্রম। এর মধ্যে রয়েছে-নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন, প্রার্থী বাছাই ও প্রশিক্ষিত এজেন্ট তৈরি।

এছাড়া জাতীয় সম্মেলনের জন্য দলের জেলা ইউনিটেরও কাউন্সিলর তালিকা লাগবে। সে লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা শাখায় সম্মেলন করে জেলা ইউনিটের কমিটিও করতে হবে। দীর্ঘদিন টানা ক্ষমতায় থাকা দলটির তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটানো বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি বিরোধীদের মাঠ দখলের সুযোগ না দিয়ে ‘অপপ্রচারের’ বিরুদ্ধেও সজাগ থাকবে আওয়ামী লীগ। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে কাজের বড় তালিকা ক্ষমতাসীন দলের হাতে।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে উল্লিখিত সব তথ্য। আরও জানা গেছে, নির্বাচন ও সম্মেলনকে সামনে রেখে এসব কাজ আর ঝুলিয়ে রাখতে চাচ্ছেন না দলটির নীতিনির্ধারকরা। ইতোমধ্যে দলকে নির্বাচনমুখী করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শুরু হয়েছে ইশতেহার তৈরির প্রাথমিক কাজও। করোনা সংক্রমণ কমায় সীমিত পরিসরে মাঠেও নেমেছেন সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। করোনার কারণে দল গোছানো কাজে এমনিতেই অনেক সময়ক্ষেপণ হয়েছে। এখন আর বসে থাকা যায় না।

জাতীয় সম্মেলন ও নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগকে তারা আরও গতিশীল ও বেগবান করতে চান। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, করোনার সময়ও কিন্তু আমরা বসে ছিলাম না। তখন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যতটা করা যায় সাংগঠনিক কাজও এগিয়ে নিয়েছি। এখন করোনার প্রকোপ কমতে শুরু করেছে। এটা হলে সবার জন্যই ভালো। করোনা পরিস্থিতি ভালো থাকলে আমরা আমাদের সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদার করব। আমাদের যে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো রয়েছে, সম্মেলনের মাধ্যমে সেগুলো ঢেলে সাজাব। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের সংগঠনকে আরও গতিশীল, বেগবান করব।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াতের সব অপপ্রচারকে প্রতিহত করতে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ। তাদের সব গুজব আমাদের প্রতিহত করতে হবে। এর সঙ্গে তাদের ষড়যন্ত্রের রাজনীতিকে প্রতিহত করতে আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করব।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সভাপতিমণ্ডলীর সভায় দলকে নির্বাচনমুখী করার নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২১ ফেব্রুয়ারি করোনার বিধিনিষেধ শিথিল হলে বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমগুলোকে মাঠে নামার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। তার নির্দেশনার পর এ বিষয়ে কাজও শুরু করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। খুলনা বিভাগীয় টিম ইতোমধ্যে দুই দফা বৈঠকও করেছেন। বৈঠকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় মার্চ মাসের মধ্যে ওই বিভাগের মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ-এই চার জেলার সম্মেলন শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া সম্মেলন হওয়া সাত জেলার যে উপজেলা বাকি আছে সেগুলো রমজানের আগে ও পরে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।

এদিকে পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী, জেলা-উপজেলাগুলোর সম্মেলনও শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। ১৯ ফেব্রুয়ারি পাবনা এবং ২০ ফেব্রুয়ারি নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। দল গোছানোর কাজে রাজশাহী বিভাগ সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এই বিভাগের প্রায় ৫০টির মতো উপজেলা সম্মেলন শেষ হয়েছে। ২৮ তারিখে সিরাজগঞ্জ জেলা সম্মেলন হলে বাকি থাকবে শুধু নওগাঁ জেলা। জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ৩১ মার্চ নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করছি মার্চের মধ্যে ৮০ ভাগ উপজেলা এবং সব জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করতে পারব।

এদিকে আগামীকাল বুধবার ১২টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সভা ডেকেছে বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম। সভায় দলীয় সভাপতির নির্দেশনা অনুযায়ী সাংগঠনিক কাজকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা করবেন তারা। জানতে চাইলে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোকে সম্মেলনের মাধ্যমে ঢেলে সাজাতে চাই। নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা তৃণমূলকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চাই। তারা যেন বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে নৌকার বিজয়ে কাজ করতে পারে।

দলটির নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির কর্মকাণ্ড নিয়ে সতর্ক ক্ষমতাসীনরা। নির্বাচনের আগে মাঠ গরম করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে আগের মতোই কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে দলটি। ফলে এখন থেকেই সব দিক দিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি গুজব-অপপ্রচারের জবাব দিতে প্রস্তুত করা হয়েছে লক্ষাধিক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে বিএনপি-জামায়াত ততই মরণ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করবে। এর বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকব।

শনিবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, দলকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে।

আরও জানা গেছে, চলতি বছরের শেষের দিকে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই সম্মেলনের কাউন্সিলর তালিকা চূড়ান্ত করতে হবে। এছাড়া দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু না হলেও ভেতরে ভেতরে এই কাজও চলমান রয়েছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে এই কাজেও তত গতি বাড়াবে আওয়ামী লীগ। এছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজেও গতি আনতে চায় তারা। ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে তৈরি হওয়া বিরোধ মিটিয়ে আবারও শরিকদের নিয়ে মাঠের কর্মসূচিতে ফিরতে চায় আওয়ামী লীগ। খোঁজ নিয়ে এবং জোট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারাও তাদের নিজেদের মতো করে নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু করেছে। তারাও তাদের দল গোছানোসহ অন্যান্য কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র ও দলটির নেতারা বলছেন, এখন থেকেই পুরোদমে এই কাজগুলো করে যেতে হবে। কারণ সামনে রোজা রয়েছে। ওই সাংগঠনিক কাজ পুরোদমে চালানো কঠিন। এরপর রয়েছে ঈদের ব্যস্ততা। এছাড়া জাতীয় শোকের মাস আগস্টে শোকের কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে। এ মাসে সাংগঠনিক কাজ বন্ধ রাখে আওয়ামী লীগ। ফলে সব মিলিয়ে নির্বাচন ও সম্মেলনের প্রস্তুতি শেষ করতে এখনই পুরোদমে মাঠে নামার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা।

ফখরুল-অলি রুদ্ধদ্বার বৈঠক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার উদ্যোগ শুরু করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে অন্তত ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছেন দলটির নেতারা।

আগামী শুক্রবারের মধ্যে আরও বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এরই অংশ হিসেবে গত রোববার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়।

রাতে অলির মহাখালির ডিওএইচএসের বাসায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার ওই অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ।

বৈঠকের কথা এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ যুগান্তরের কাছে স্বীকার করলেও এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে সূত্র জানায়, বৈঠকে দীর্ঘদিনের ভুল-বুঝাবুঝির অবসান হয়েছে। আগামী দিনে একসঙ্গে পথ চলার বিষয়ে দুই দলের নেতারাই অঙ্গীকার করেছেন। বিএনপি নেতারা আন্দোলন ও বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়ে অলি আহমদের পরামর্শসহ সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনিও আগামী দিনে একসঙ্গে কাজ করবেন বলে বিএনপি নেতাদের জানিয়েছেন।

এছাড়াও এলডিপির আরেক অংশকে ২০ দলে স্বীকৃতি না দেওয়ার দাবি জানান অলি আহমদ। জবাবে বিএনপি নেতারা তাকে কথা দেন, বিষয়টি সমাধান করবেন তারা।

বৈঠক সূত্র জানায়, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করেন অলি আহমদ।

তবে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বিএনপি নেতাদের জানান, এটা বাস্তবায়ন দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। এর চেয়ে এখনই জাতীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন করা উচিত। দীর্ঘ সময় ধরে চলা বৈঠকে অতীতের বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে স্মৃতিচারণ করেন দুই দলের নেতারাই।

প্রসঙ্গত, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপির ওপর নাখোশ ছিল ২০ দলের শরিকরা। সে সময় এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বে ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’ নামের বিকল্প জোটও গঠন করা হয়। পরে এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে অলির দূরত্বের সৃষ্টি হয়। পরে এলডিপির একটি অংশ বেরিয়ে গেলেও দুই অংশই ২০ দলীয় জোটে থেকে যায়। সে সময় এলডিপির ভাঙন নিয়ে বিএনপির ওপর আরো ক্ষুব্ধ হন অলি আহমদ।

নাম গোপনে কমিটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও কমিশনার (ইসি) পদে নিয়োগের জন্য সম্ভাব্য ১০ ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলছেন, প্রস্তাবিত নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করে অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি সদিচ্ছার প্রমাণ দিয়েছেন।

কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না করে গোপন রাখতে চাওয়ায় সার্চ কমিটির কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরপর তালিকা নিয়েও উঠতে পারে নানা প্রশ্ন। এদিকে ১০ জনের তালিকা চূড়ান্ত করতে আজ মঙ্গলবার শেষবারের মতো বৈঠকে বসতে যাচ্ছে সার্চ কমিটি।

নাম প্রকাশ করার বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ও সার্চ কমিটির সভাপতি ওবায়দুল হাসান সোমবার যুগান্তরকে বলেন, নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তটি আমাদের কমিটির বৈঠকে নেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে কথা বলেছি। তাই আর মন্তব্য করতে চাই না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সাংবাদিকরা মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

সার্চ কমিটি চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশকৃত নাম প্রকাশ করতে পারে। এতে কোনো বাধা নেই বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, আইনের ভাষ্য অনুযায়ী নাম প্রকাশ করতে বাধা নেই এ কথা যেমন ঠিক, তেমনি প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতার বিষয়ও উল্লেখ নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাম প্রকাশ হলে নিশ্চয়ই ভালো হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

কিন্তু নাম প্রকাশ করলে আবার কেউ কেউ আপত্তিও জানাচ্ছেন। আবার রাজনৈতিকভাবে অনেকে সার্চ কমিটি গঠনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। এসব দিক বিবেচনা করেই হয়তো সার্চ কমিটি নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহ্দীন মালিকের মতে, নাম প্রকাশ না হলে দেশের ক্ষমতার মালিক অর্থাৎ নাগরিকরা যে দাবি ও প্রত্যাশা করছিল সেটা অবাস্তবায়িত থেকে যাবে।

তিনি বলেন, দশ জনের নাম প্রকাশ করা হলে সার্চ কমিটির কার্যক্রমের ওপর বেশিরভাগ নাগরিকের আস্থা থাকবে বলে আমার মনে হয়। এর মাধ্যমে নবগঠিত কমিশনও জনমানুষের আস্থা অর্জনের পথে এগিয়ে থাকবে।

নাম প্রকাশ করার বিষয়ে নিঃসন্দেহ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, তালিকা প্রকাশ না করলে আইনে বর্ণিত স্বচ্ছতা রক্ষা হয় না।

এছাড়া নাম প্রকাশ করলে বিব্রত হওয়ার কোনো কারণ দেখি না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনে বলা হয়েছে ‘সুনাম বিবেচনা’ করে যোগ্যদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করতে।

সার্চ কমিটি যদি যোগ্যদের সুনামের বিষয়টি শুধু নিজেরাই বিবেচনা করেন তবে এত কিছু (বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক, আলোচনা) আয়োজনের মূল স্পিরিটটাই থাকে না। তিনি বলেন, প্রথম তালিকা প্রকাশ করে সার্চ কমিটি ভালো কাজ করেছে।

এখন সবার আগ্রহ চূড়ান্ত তালিকায়। এখানে যারা স্থান পেয়েছেন তাদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার অন্তত তিন দিন আগে যদি প্রকাশ করা হয় তবে কমিটির কাজে গ্রহণযোগ্যতা অনেকগুণ বাড়বে।

নাম প্রকাশের গুরুত্বের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর সময় তদন্ত সংস্থার প্রধানের নিয়োগটি প্রশ্নবিদ্ধ থাকায় পরিবর্তন হয়েছিল। অনেক সময় বড় কাজেও ভুল হয়ে যায়।

সার্চ কমিটিতে মতামত দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন ‘প্রজন্ম-৭১’-এর সভাপতি এবং শহিদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান আসিফ মুনীর। তিনি যুগান্তরকে বলেন, কার নাম কে প্রস্তাব করেছেন সেটা প্রকাশ না করাই ভালো। কিন্তু যেসব নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করা হচ্ছে তা প্রকাশ করা উচিত বলে আমরা মনে করি। তিনি বলেন, নাম প্রকাশ করতে সমস্যা দেখি না।

সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এমকে রহমান যুগান্তরকে বলেন, আইনে নাম প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়নি। কমিটি চাইলে নাম প্রকাশ করতেও পারে, নাও পারে। যেহেতু তারা এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখতে চাচ্ছেন তাতে আইনের ব্যত্যয় হয় না।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানার চেষ্টা করলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ফোন ধরেননি। তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত তালিকায় যে দশজনের নাম থাকবে তারা জাতীয়ভাবে সম্মানী মানুষ।

এদের সবাই নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ পাবেন না। তাই তাদের নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচক হিসাবেই দেখা উচিত।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রথমবারের মতো আইন করে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে সভাপতি করে ছয় সদস্যর অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি গঠন করে দেন রাষ্ট্রপতি।

আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে যোগ্যদের নাম প্রস্তাব করতে সার্চ কমিটির হাতে ১৫ কার্যদিবস অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে।

এদিকে গত রোববার পর্যন্ত হওয়া নয়টি বৈঠক শেষে সার্চ কমিটি ১২-১৩ জনের নামের সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছে। আজ সর্বশেষ বৈঠকে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এক মাস পর খুলল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

কোভিড-১৯ এর ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ পরিস্থিতিতে এক মাস বন্ধ থাকার পর আজ খোলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করোনা সংক্রমণ হ্রাস এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থী টিকার আওতায় আসায় স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষামন্ত্রণালয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সরাসরি পাঠদান শুরু হচ্ছে। তবে আরও কিছুদিন বন্ধ থাকছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ২০টি নির্দেশনা দিয়েছে।

এ দিকে স্কুল কলেজ খুললেও এখনই সব শিক্ষার্থী সশরীরে ক্লাস করতে পারবেন না। শুধু যারা দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন তারাই শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকতে পারছেন। বাকিরা অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাসে অংশ নেবেন। প্রথম দফায় মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো খুলছে। ২ মার্চ থেকে খুলবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো।

নির্দেশনায় বলা হয়- কোডিড-১৯ টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সশরীরে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশমুখসহ অন্যান্য স্থানে কোডিড-১৯ অতিমারি সম্পর্কিত সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি পালনে করণীয় বিষয়গুলো ব্যানার বা অন্য কোনো উপায়ে প্রদর্শনের নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পথে শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়মিত তাপমাত্রা মাপা ও তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনায় অনলাইন/ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে শিখন-শেখানো কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে দেশের প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ধুয়ে-মুছে ও পরিষ্কার করা হয়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানে এই প্রস্তুতি বেশি দেখা গেছে। পাশাপাশি শহরের বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়ে বলে জানিয়েছেন যুগান্তর প্রতিনিধিরা। মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয় বিশেষ করে উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন এ ক্ষেত্রে শতভাগ তদারকি করেনি বলে অভিযোগ এসেছে।

রোববার রাতে মাউশির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার লক্ষ্যে অনুসরণীয় নির্দেশনাগুলো হচ্ছে-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে সব শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ; পরিস্থিতি বিবেচনায় অনলাইন বা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে পাঠদান ও অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম অব্যাহত রাখা; ভিড় এড়াতে প্রতিষ্ঠানের সব প্রবেশ ও প্রস্থানপথ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা এবং একটি প্রবেশ বা প্রস্থানের পথ থাকলে সে ক্ষেত্রে একাধিক প্রবেশ ও প্রস্থানের পথের ব্যবস্থা করা; প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শ্রেণি কার্যক্রমে স্বাগত জানানোর ব্যবস্থা করা।

এতে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান ও বাসা থেকে আসা-যাওয়া করবে, সে বিষয়ে তাদের অবহিত করা; প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ আইসোলেশন কক্ষ হিসাবে প্রস্তুত রাখা; সব ভবনের কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ ও আঙিনা যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা; প্রতিষ্ঠানের সব ‘ওয়াশ রুম’ নিয়মিত সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা ও পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা; শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারী, অভিভাবকসহ অন্য কারও প্রবেশ, অবস্থান ও প্রস্থানের সময় স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে পালন করা।

নির্দেশনার মধ্যে আরও আছে-শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারী এবং অন্যদের সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান করার বিষয়টি নিশ্চিত করা; প্রতিষ্ঠানে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা; শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা এবং ৩ ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা করা। খেলার মাঠ, ড্রেন ও বাগান যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা; প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা নিরূপণ করা; স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনন্দঘন শিখন কার্যক্রমের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত করার ব্যবস্থা করা এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের সঙ্গে সভা করে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রথম বন্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরু হয়। পরে ওমিক্রনের সংক্রমণ বেড়ে গেলে ২১ জানুয়ারি স্কুল-কলেজ বন্ধ করা হয়।

সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর সমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

এছাড়া পরবর্তী তিন দিনে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।

আবহাওয়ার সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং এর কাছাকাছি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং এর কাছাকাছি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বাড়তি অংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। অপর একটি লঘুচাপের বাড়তি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

সোমবার শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া টেকনাফে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শীতকালে নাকে যেসব জটিল রোগ হয়, কী করবেন?

শীতকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। এ কারণে নানা জটিল রোগ বাসা বাঁধে শরীরে। বিশেষ করে সর্দি-কাশি এবং নাকের কিছু রোগ দেখা দেয়। নাকের অ্যালার্জি, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, পলিপ ও এডিনয়েড, সাইনাস এসব সমস্যা দেখা দেয়।

শীতকালে নাকের বিভিন্ন রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন নাম কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সজল আশফাক।

নাক দিয়ে রক্ত পড়া

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার অনেক কারণ আছে। ছোটদের ক্ষেত্রে সাধারণত নাক খোটার কারণে নাকে ক্ষত হয়ে রক্তপাত হয়। বড়দের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কারণে নাক দিয়ে রক্ত ঝরে। শীতে নাকের ভেতরটা শুকিয়ে চামড়া উঠে যায় এবং তখন নাকের ঝিল্লি ছিঁড়ে গিয়ে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।

পলিপ

সাধারণত দীর্ঘদিন নাকে অ্যালার্জি থাকলে এমনটি হয়ে থাকে। নাকের মধ্যে মিউকাস ঝিল্লিগুলো ফুলে আঙুরের দানার মতো বিভিন্ন আয়তনের হয়ে থাকে। নাকের পলিপে নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে সাইনাসের ইনফেকশন হয়ে মাথাব্যথা হতে পারে। এ সমস্যার জন্য অপারেশন করার দরকার পড়ে। সনাতন পদ্ধতির অপারেশনে আবার পলিপ দেখা দিতে পারে। আধুনিক অ্যান্ডোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে রোগটি নিরাময়ে সাফল্য এসেছে। প্রাথমিক অবস্থায় স্টেরয়েড স্প্রে ব্যবহার করে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

নাকের অ্যালার্জি

এটি অ্যালার্জিজনিত নাকের প্রদাহ। ধূলাবালি, ঠাণ্ডা-গরমসহ বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জি উদ্রেককারী উপাদান এর কারণ। রোগটি স্থায়ীভাবে নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ওষুধের ব্যবহার ও ঠাণ্ডা-অ্যালার্জি উদ্রেককারী উপাদান এড়িয়ে চলার মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা যায়।

সাইনাসের ইনফেকশন

সাধারণত নাকে অ্যালার্জি ও পলিপ, নাকের হাড় বাঁকা ইত্যাদি কারণে নাকের দুই পাশের ম্যাক্সিলারি সাইনাসে ইনফেকশন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে মাথাব্যথাই মূল উপসর্গ। সাইনাসের একটি এক্স-রে করলেই রোগ সম্পর্কে অনেক ধারণা পাওয়া যায়। প্রাথমিক অবস্থায় ওষুধ ব্যবহার, পরবর্তী সময়ে সাইনাস ওয়াশ এবং শেষ পর্যায়ে অ্যান্ডোস্কোপিক সাইনাস সার্জারি করে রোগটি সারানো যায়। শীতে বারবার নাকের মধ্যে প্রদাহ হয়, নাক বন্ধ থাকে বলে সাইনাসের ইনফেকশন সহজেই হতে পারে।

টনসিল

শীতে গলাব্যথা হয় অনেকেরই। এই গলাব্যথার জন্য মূলত দায়ী হচ্ছে টনসিলের ইনফেকশন। এটি মূলত শিশুদের সমস্যা। বড়দেরও হয়। টনসিলের সমস্যায় গলাব্যথা, খেতে গেলে ব্যথা, সামান্য জ্বর ইত্যাদি থাকে। প্রথমত ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। বারবার হতে থাকলে সম্যক জটিলতা ও কষ্টের কথা বিবেচনা করে টনসিল অপারেশন করিয়ে নিতে হয়। সারা পৃথিবীতে শিশুদের যত অপারেশন হয়, তার মধ্যে টনসিল অপারেশনের অবস্থান সবার শীর্ষে।

এডিনয়েড

নাকের ছিদ্রের পেছন দিকে যে অঞ্চলটি রয়েছে, সেখানে এই এডিনয়েড নামক লসিকা গ্রন্থির অবস্থান। এটি অনেক সময় বড় হয়ে নাক আংশিক বন্ধ করে দেয়, ফলে নাক দিয়ে অধিকাংশ সময়ই সর্দি ঝরে। কানের সঙ্গে নাকের পেছনের অংশের যোগাযোগ রক্ষাকারী টিউবটির মুখও আংশিকভাবে বন্ধ থাকে। ফলে কানও বন্ধ থাকে। কানের মধ্যে পানির মতো তরল জমে কান ব্যথা করে। এডিনয়েড বড় হলে শিশু মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়। ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে জেগে ওঠে। রোগীর চেহারা ক্রমশ হাবাগোবা হয়ে পড়ে। অনেক অভিভাবকই এ সমস্যাটির ফলে সৃষ্ট ক্ষতি অনুধাবন করেন না। ফলে শিশুর অনেক ক্ষতি হয়। অপারেশনই হচ্ছে এর একমাত্র চিকিৎসা।

প্রতিকার

নাক, কান ও গলার এই অসুখের ঝামেলা এড়াতে শীত থেকে রক্ষার যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে শীতবস্ত্র-গলাবন্ধনী, মাথা ঢেকে রাখা, হাত-পায়ে মোজা পরা, ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলতে হবে। সেইসঙ্গে সকালে হাত-মুখ ধোয়ায় এবং গোসলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। এত প্রস্তুতির পরও যদি অসুস্থতা পেয়েই বসে, তখন পরামর্শ নিতে হবে চিকিৎসকের।