শনিবার ,১৩ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 453

রাজধানীতে মহাসমাবেশের ঘোষণা নাগরিক ঐক্যের

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আমরা রাস্তায় নামবো, সেভাবেই শক্ত হচ্ছি। দু-তিনটি দল একসঙ্গে নামবো, সময় আসছে। অনেকেই বলে থাকেন, নাগরিক ঐক্যের মতো ছোট দল কী করবে? আমরা দেখিয়ে দেবো, নাগরিক ঐক্য কী করতে পারে।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক গণতন্ত্র মুক্তি পাক, একুশ মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক ঐক্য সভার আয়োজন করে।

আগামী শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নাগরিক ঐক্য রাজধানীর ভাটারায় মহাসমাবেশ করবে বলে সভায় জানান মাহমুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেন, তারা অনুমতি চেয়েছেন। যদি না পান, তাহলেও তিনি সমাবেশে যাবেন। সেখানে অন্যান্য দলেরও অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে মান্না বলেন, সেখান থেকে যুগপৎ আন্দোলন হবে।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে মান্না বলেন, বাঁধন যতই শক্ত করেছেন ততোই ঢিলে হয়েছে। পত্রিকা বন্ধ করেছেন, টেলিভিশন বন্ধ করেছেন, বিশ্বের সমস্ত জায়গার টকশোতে বাংলাদেশের কথা বলছে। যতই কথা বন্ধ করার চেষ্টা করবেন ততই সামাজিক মাধ্যমে কথা হবে। কথা বন্ধ করতে পারবেন না। কারণ মানুষের মনে ঘৃণা জন্মেছে।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাকে এতো ভয় কেন ? সরাসরি সোজাসাপ্টা কথা বলি দেখে। কথা বলতে ভয় করেনি সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার। তাদের থেকেই সাহস নিয়েই আমি সরকারের বিরোধিতা করছি।

সরকারের সমালোচনা করে মান্না বলেন, সরকারের যাদের সঙ্গে আত্মার ,বন্ধুত্বের ও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক তাদের সাথে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। সরকার ২০৪১ সাল পর্যন্ত সময় চায়। এতদিন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে নাকি ? নির্বাচন কমিশনের ১০ জনের নাম প্রস্তাব করেছে। পত্রিকায় দেখলাম কাদের নাম নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব করেছেন সবাই দেখতে চাই। ওরা (সরকার) বলছে, বলবো না। এ কারণেই বলবে না, ওদের মধ্যে থেকে নাম প্রস্তাব করে রেখা হয়েছে। নামগুলো তারাই (আওমীলীগ) প্রস্তাব করে রেখেছে। কথা খুব স্পষ্ট, নির্বাচন হবেই।

নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কথা খুব স্পষ্ট। যে কোনো মূল্যে নির্বাচন হবে। সরকার ক্ষমতা ছাড়তে চাইছে না। কিন্তু দলগুলো ক্ষমতায় যাইতে চাচ্ছে। নির্বাচনকালীন সরকার হবে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কেউ কেউ বলেন আমরা চাই কেয়ারটেকার সরকার। কেয়ারটেকার মানে তিন মাসের সরকার ?

১২ বছরে এই সরকার যত দুই নাম্বারী (দুর্নীতি) করেছে মুছে ফেলতে পারবে। নির্বাচন কমিশন কি নির্বাচন করেন? নির্বাচন করে ডিসি-এসি-ওসিরা ঠিক কিনা বলেন। নির্বাচনের জন্য ডিসি-এসি-ওসি প্রশাসন ঠিক করতে কতদিন সময় লাগে?

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন -নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লা কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাখখারুল ইসলাম, জিল্লুর চৌধুরী দিপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান, নাগরিক ছাত্র ঐক্য সভাপতি মোশারফ হোসেন, নাগরিক যুবক ঐক্য সদস্য সচিব স্বপ্না আক্তার প্রমুখ।

আজ বুস্টার ডোজ নেবেন খালেদা জিয়া

কোভিড-১৯ টিকার বুস্টার ডোজ নেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে টিকার তৃতীয় ডোজ নেবেন তিনি।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

তিনি টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, আজ করোনার টিকার তৃতীয় ডোজ নেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এসময় হাসপাতালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন।

গত ১৮ আগস্ট টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ১৯ জুলাই নিয়েছিলেন প্রথম ডোজ। খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন চলতি বছরের ১১ এপ্রিল।

শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন ৭৬ বছর বয়সি খালেদা জিয়া। এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে তিনি বর্তমানে গুলশানের ভাড়া বাসায় থাকছেন।

বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে

সারা দেশে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী তিন দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে।

শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী-অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বাড়তি অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া টেকনাফে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এর আগে রোববার বিকালে আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহ তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছিল।

তবে সোমবার সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়।

জায়েদ খান-নিপুণ দ্বন্দ্ব: হাইকোর্টে রুল শুনানি আজ

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, এ মর্মে জারি করা রুলের শুনানি আজ।

বুধবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হবে।

আদালতে জায়েদ খানের পক্ষে শুনানি করবেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি।আর চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারের পক্ষে শুনানি করবেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।

মঙ্গলবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

এ সময় আদালতে নিপুণের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ করেন জায়েদ খানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। প্রায় একই রকম তথ্য দিয়ে তারা বলেন, আপিল বিভাগের স্ট্যাটাসকো থাকার পরও নিপুণ সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসছেন। আদালত অবমাননা করে চলছেন। তখন আদালত বলেন, আপনারা যা বলছেন, এটি রুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। পরে আদালত রুল শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।

আদালতে নিপুণের পক্ষে সংযুক্ত ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।

গত ২৮ জানুয়ারি শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পর দিন প্রাথমিক ফলে জায়েদ খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জয়ী ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচনি আপিল বোর্ডের কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন নিপুণ।

আপিল বোর্ড সমাজসেবা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠায়। পরিপ্রেক্ষিতে ২ ফেব্রুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তর এক চিঠিতে জানায়, আপিল বোর্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ড জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে।

এ অবস্থায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২ ফেব্রুয়ারির চিঠি ও আপিল বোর্ডের ৫ ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন জায়েদ খান। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। রুলে ২ ফেব্রুয়ারির চিঠি ও ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

একই সঙ্গে হাইকোর্ট ২ ফেব্রুয়ারির চিঠির কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। পাশাপাশি ২ ও ৫ ফেব্রুয়ারির চিঠি ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জায়েদ খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আর রুল শুনানির জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি দিন রাখেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টে আদেশের বিরুদ্ধে নিপুণের করা আবেদনের ওপর ৯ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে শুনানি হয়। সেদিন চেম্বার বিচারপতি আদেশ দেন। চেম্বার বিচারপতির আদেশে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে নিপুণের আবেদন ১৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়।

একই সঙ্গে শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনে ওই সময়ে দুই পক্ষকে (নিপুণ ও জায়েদ) স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আদেশ চলমান থাকবে উল্লেখ করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ নিপুণের আবেদন নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন।

নিপুণের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে ১৪ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। ঘোষিত আদেশে আপিল বিভাগ বলেন, দুপক্ষ (জায়েদ ও নিপুণ) উপস্থাপন করেছে যে হাইকোর্টে বিষয়টি (রুল শুনানি) ১৫ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এ অবস্থায় আবেদনটি (নিপুণের করা) নিষ্পত্তি করা হলো। চেম্বার বিচারপতি যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা চলমান থাকবে।

১৫ ফেব্রুয়ারি আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে নিপুণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, উনারা (জায়েদ খান) একটি কপি দিয়েছেন। হলফনামা করে এর জবাব দিতে হবে। এ জন্য এক সপ্তাহ সময় চাচ্ছি।

জায়েদের পক্ষে আইনজীবী নাহিদ সুলতানা বলেন, শুনানি শুরু হয়ে যাক। পরে সময় দেওয়া যেতে পারে।

তখন রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আজ সাড়ে ১০টায় কপি দিয়েছে। আদালত বলেন, তা হলে তো সময় দিতে হবে। রুলসও পারমিট করে। আগামী মঙ্গলবার (আজ) বিষয়টি কার্যতালিকার শীর্ষে থাকবে।

ঢাকা বারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২২-২০২৩ মেয়াদী কমিটির দুদিনব্যাপী নির্বাচনের প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবারও একইভাবে চলবে ভোটগ্রহণ। এরপর গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হবে৷

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সাদা প্যানেলে এবং বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য নীল প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সাদা প্যানেলের সভাপতি পদে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ফিরোজুর রহমান (মন্টু)।

নীল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মো. খোরশেদ মিয়া আলম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদে শহিদুল্লাহ এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদে মনিরুল ইসলাম আকাশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল্লাহ আবু যুগান্তরকে বলেন, আমরা আইনজীবীদের সহযোগিতা নিয়ে সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চাই। ১৯ হাজার ৮৪৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করতে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কানাডার ক্যালগেরীতে অমর একুশে উদযাপন

কানাডার আ্যলবারটার ক্যালগারীতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে মহান একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে যথাযোগ্য মর্যাদায় একটি স্মরণসভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। ক্যালগেরীর স্থানীয় বিভিন্ন বাংলাদেশী সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বিষয়ে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। ২১শে বইমেলা আয়োজন এবং সেই উপলক্ষ্যে ক্যালগেরীবাসীর প্রবাসী লেখক ও লেখিকাদের প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করা হয়। তারপরে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় দেশ এবং ভাষাকে তুলে ধরে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। একটি তুষারাচ্ছন্ন শীতের সন্ধ্যায় এমন আবেগঘন অনুষ্টান ক্যালগেরী বাংলাদেশীদের দেশপ্রেমে দেশের প্রতি অনুরাগকেই প্রতীয়মান করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড. আশরাফ লস্কর, ড. মো. আক্তারুজ্জামান, মো. মিজান রহমান, চপলা, ড. নিক, ড. সায়মা, ড. আফসানা, মুক্তিযোদ্ধা ইকরাম উল্লাহ চৌধুরী, মো. ওবায়দুর রহমানসহ আরো অনেকে।

কম্পিউটারে যেভাবে এসেছে বাংলা

কম্পিউটারে লেখার অক্ষরকে সুন্দরভাবে দেখার জন্য রয়েছে নানা ফন্ট। আরও সহজে বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে কম্পিউটারে বাংলা লিখতে পারে সাধারণ মানুষ। এমনকি রয়েছে বাংলাসমৃদ্ধ নানা কী-বোর্ডও। আজকের আয়োজনে ইন্টারনেট ও কম্পিউটারে বাংলার আবির্ভাব নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন- সাইফ আহমাদ

কম্পিউটারে বাংলা কী-বোর্ড

বাংলা কি-বোর্ডর ধারণাটা প্রথম প্রয়োগ করেন শহিদ মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে, তার ‘মুনীর’ কী-বোর্ডর মাধ্যমে। এটি ছিল টাইপ রাইটারের জন্য তৈরি করা একটি QWERTY কী-বোর্ড লেআউট। মূলত টাইপরাইটারের জন্য আবিষ্কৃত হলেও পরবর্তীতে কম্পিউটিং জগতে ‘মুনীর লেআউট’ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

পরবর্তীতে যখন কম্পিউটার এলো, তখন থেকেই বাংলা অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা হলো, লেআউট তো রেডি; এবার সঙ্গে প্রয়োজন সফটওয়্যার বা মূল প্রোগ্রামিং, যা কম্পিউটারের বোধগম্য ভাষায় রূপান্তর করবে এবং ‘ফন্ট’ যা কম্পিউটারের মনিটরে দেখাবে।

প্রথম বাংলা সফটওয়্যার

১৯৮২ সালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ কৌশল বিভাগের ড. সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে কম্পিউটারে বাংলা ব্যবহারের ওপর গবেষণা শুরু হয়। এরপর চলমান গবেষণাগুলোর মধ্যে সাইফ উদ দোহা শহীদ সর্বপ্রথম বাংলা সফটওয়্যার আবিষ্কার করতে সক্ষম হোন। প্রথমে মুনীর লেআউট ও পরে QWERTY লেআউট ব্যবহার করে ২৫ জানুয়ারি সহকর্মীদের সহায়তায় বানিয়ে ফেলেন দুই বছরের পরিশ্রমের ফসল বাংলা লেখার সর্বপ্রথম সফটওয়্যার ‘শহিদলিপি’। অ্যাপোলের ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারে শহিদলিপি ব্যবহার করে লেখা যেত বাংলা।

মাইনুল লিপি

১৯৮৬ সালে মাইনুল ইসলাম তৈরি করেন ‘মাইনুললিপি’ নামক একটি বাংলা ফন্ট এর সুবিধা ছিল কোন ড্রাইভার কিংবা সফটওয়্যারের সাহায্য ছাড়াই এ ফন্ট দিয়ে ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারে খুব সহজেই বাংলা লেখা যেত। এরপর যুক্তাক্ষর সমস্যা সমাধানের জন্য মাইনুল ইসলাম চার স্তরবিশিষ্ট কী-বোর্ড ব্যবহার করেন।

বিজয় ৫২

সাংবাদিকতায় জড়িত মোস্তাফা জব্বার লন্ডনে গিয়েছিলেন মুদ্রণের কাজ সম্পর্কিত যন্ত্রাংশ কিনতে। সেখানে গিয়ে দেখলেন পার্সোনাল কম্পিউটারের সঙ্গে প্রিন্টারকে সংযুক্ত করে মুদ্রণের কাজ করে। তিনি একটি পার্সোনাল কম্পিউটার ও প্রিন্টার সঙ্গে করে কিনে নিয়ে আসেন। তারপর নতুন বাংলা সফটওয়্যার তৈরিতে কাজ করতে থাকেন। কোন এক বিদেশির পরামর্শে একটি ইংরেজি ফন্টের অনুকরণে তৈরি করে ফেলেন বাংলা ফন্ট তন্বী সুনন্দা। ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার দেবেন্দ্র যোশী তাকে বানিয়ে দেন বাংলা লেখার জন্য একটি সফটওয়্যার। ১৯৮৮ সালের ডিসেম্বরে মোস্তাফা জব্বার ও গোলাম ফারুক আহমদ উন্মোচন করেন দেড় বছরের ফসল বাংলা লেখার সফটওয়্যার ‘বিজয়’। বাংলা সফটওয়্যার প্রবেশ করে উন্নত যুগে। ১৯৯৩ সালে সেইফ ওয়ার্কশ ‘বর্ণ’-এর উইন্ডোজ সংস্করণ ‘বর্ণনা’ তৈরি করে যার মূল আকর্ষণ ছিল, পাশাপাশি এটি বাংলা বানানের ভুল ধরিয়ে দিতে পারত। একই সালে বাংলাদেশ সরকার বাজারে আনে বাংলা লেখার সফটওয়্যার ‘জাতীয়’। তবে জাতীয় খুব বেশি জনপ্রিয় হয়নি। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে মোস্তাফা জব্বার পরবর্তীতে নিয়ে আসেন ‘বিজয়’-এর উইন্ডোজ সংস্করণ।

অভ্র ফোনেটিক

২০০৬ সাল, নবজাগরণ যুগের শুরু। এ সালে ঘটে বাংলা কম্পিউটিং শিল্পে এক নতুন বিপ্লব। মেহেদী হাসান, রিফাত-উন-নবী আর ওমিক্রন ল্যাবের সদস্যরা পরিশ্রম করে তৈরি করেন বাংলা লেখার নতুন পদ্ধতি-অভ্র ফোনেটিক। এর মাধ্যমে ইংরেজি কী-বোর্ড ব্যবহার করেই খুব সহজেই বাংলা লেখা যায়। যেমন-কেউ ইংরেজিতে ami banglay gan gai লিখলে সেটা হয়ে যাবে-আমি বাংলায় গান গাই। যদিও এর আগে হাসিন হায়দার নামক একজন ডেভেলপার ফোনেটিকভিত্তিক বাংলা কী-বোর্ড আবিষ্কার করেন বলে জানা যায়। মেহেদী হাসানের এ যুগান্তকারী আবিষ্কার বাংলার জগতে নিয়ে এলো নতুন এক বিপ্লব। দিনের পর দিন মেহেদী হাসান তার এ সফটওয়্যারে নতুন নতুন সুবিধা যুক্ত করেন। কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্রাউজারে বাংলা লেখাগুলো খুব ছোট দেখা যেত, যার কারণ উইন্ডোজের বৃন্দা (Vrinda) ফন্ট। ওমিক্রন ল্যাবের তানবীর ইসলাম সিয়াম সেজন্য বানান সিয়ামরূপালী (Siyamrupali) নামক ফন্ট, যা এ সমস্যার সমাধান করে। SutonnyMJ ফন্টের বিকল্প হিসাবে বানানো হয় কালপুরুষ (Kalpurush)। যুক্ত করা হয় স্পেল চেকার, উইনিকোড থেকে বিজয় কনভার্টার; এ ছাড়া ছিল অনেক সুবিধা। মেহেদী হাসান তার এ মূল্যবান আবিষ্কারকে সবার কথা ভেবে বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। তার মতে, ভাষা হওয়া উচিত সবার কাছে উন্মুক্ত।

এরপর স্মার্টফনে, ট্যাবসহ অন্যান্য গেজেটে বাংলা লেখার জন্যে আস্তে থাকে নানারকম সফটওয়্যার ও কী-বোর্ড, যেগুলোর মাধ্যমে খুব সহজে বাংলাই টাইপ করে লিখতে পারেন ব্যবহারকারীরা।

বাংলা ফন্ট ইনস্টল করার উপায়

বাংলা লেখাগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন স্টাইলিশ ফন্ট ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে। আগে বাংলা লেখার জন্য তেমন ফন্ট না থাকলেও ধীরে ধীরে তা বাড়ছে। তৈরি হচ্ছে নিত্যনতুন ফন্ট। বর্তমানে কম্পিউটারে বাংলা লেখার বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ফন্ট রয়েছে। আজকের টিপসে জানাবো কীভাবে কম্পিউটারে বাংলা ফন্ট ইনস্টল করা যায়।

গুগলে সার্চ করে ওয়েবসাইট থেকে এসব ফন্ট ফ্রিতে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন, তবে এসব ফন্ট ডাউনলোড করার পর কম্পিউটারে ইনস্টল করাও প্রয়োজন। বাংলা ফন্ট ডাউনলোড করার পর যদি ইনস্টল না করলে ব্যবহার করা যায় না।

যেভাবে ইনস্টল করতে হবে

প্রথম পদ্ধতি

১. প্রথমে ইন্টারনেট থেকে প্রয়োজনীয় ফন্ট ডাউনলোড করতে হবে। এরপর ফন্টটির ওপর মাউস রেখে ডাবল ক্লিক করতে হবে। তাতে ফন্টটির নতুন একটি স্ক্রিন আসবে।

২. যেখান থেকে ইনস্টল অপশনে ক্লিক করলে ইনস্টল হয়ে যাবে তা।

দ্বিতীয় পদ্ধতি

স্টার্ট মেন্যু থেকে প্রথমে ‘run’ এ যেতে হবে। এরপর যেখান থেকে ‘fonts’ লিখে এন্টার দিতে হবে। তাতে ফন্টের একটি ফোল্ডার ওপেন হবে।

তারপর যে ফন্টটি ইনস্টল করতে হবে তা কপি করে পেস্ট করে দিতে হবে। এতেই ফন্টটি ইনস্টল হয়ে যাবে। আর তা ইনস্টল হলেই মাইক্রোসফট অফিস, ফটোশপসহ প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারে সহজে ব্যবহার করা যাবে।

ইসলামে মাতৃভাষার গুরুত্ব

ইসলামে মাতৃভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মাতৃভাষার গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক বেশি। দেশপ্রেম যেমন ঈমানের অংশ, ঠিক মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতা থাকাও ঈমানের অপরিহার্য বিষয়।

বৈচিত্রময় ভাষা আর অনুপম বাক প্রতিভার গুণে মানুষ অন্য সব প্রাণী থেকে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ইসলাম সব ভাষাকে সম্মান করতে শেখায়; কারণ, সব ভাষাই আল্লাহর দান ও তার কুদরতের নিদর্শন।

প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের স্বীয় মাতৃভাষার মর্যাদা যেমন অপরিসীম তেমনি আল্লাহতাআলার কাছে কোনভাষাই ছোট নয়। তিনি সকল ভাষা জানেন, বুঝেন। যে যেভাবেই তাকে ডাকে না কেন তিনি বুঝেন, উত্তর দেন।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহতাআলা ইরশাদ করেন: ‘আর আমি প্রত্যেক রাসুলকে তার জাতির ভাষাতেই ওহিসহ পাঠিয়েছি যাতে করে সে স্পষ্টভাবে আমার কথা তাদের বুঝিয়ে দিতে পারে।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪)

হাদিসে উল্লেখ রয়েছে হজরত আবু যর (রা.) থকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ প্রত্যেক নবিকে তার স্বজাতির ভাষায় প্রেরণ করেছেন।’ (মুসনাদে আহমাদ)

সকল জাতিকে হেদায়াতের জন্য যেমন আল্লাহপাকের পয়গম্বর এসেছেন, তেমনি সকল জাতির স্ব-স্ব ভাষাতেই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহি-ইলহাম নাজিল হয়েছে।

আল্লাহতাআলা প্রত্যেক জাতির স্বীয় মাতৃভাষাকে যথাযত মর্যাদা দিয়ে তাদের নিজস্ব ভাষায় আসমানি কিতাব অথবা কিতাববিহীন প্রত্যাদিষ্টকে ওহি দ্বারা পাঠিয়েছেন। হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের জাতির মাতৃভাষা ছিল সুরিয়ানি, তাই সুরিয়ানি ভাষায় তার প্রতি ইনজিল অবতীর্ণ হয়।

হজরত মুসা আলাইহিস সালামের জাতির ভাষা ছিল ইবরানি, তাই ইবরানি ভাষায় তাওরাত অবতীর্ণ হয়। হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের জাতির ভাষা ছিল ইউনানি, তাই ইউনানি বা আরামাইক ভাষায় যাবুর অবতীর্ণ হয়।

আর সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভাষা ছিল আরবি, তাই সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ পবিত্র কুরআনুল আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়। আসমানি কিতাবসমূহ যদি নবি-রাসুলদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় না হয়ে ভিন্ন ভাষায় নাজিল হতো, তাহলে নিজেদের উম্মতদেরকে দীনের আলোর দিকে আহ্বান করা নবি-রাসুলদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে যেত।

একেক জাতির জন্য একেক ভাষা সৃষ্টি করা এটা আমাদের ওপর আল্লাহ তাআলার বিশেষ কৃপা। আর না হয় মানুষ ভাষার মর্যাদা বুঝত না। মানুষের ভাষা ও বর্ণের বিভিন্নতার সাথে তার উন্নতি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

তাই কোনো ভাষাকে হেয় জ্ঞান করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা মোটেও ঠিক নয়। কেননা, সব ভাষার স্রষ্টাও আল্লাহতাআলাই। তার সৃষ্টির অবমূল্যায়ন করা তার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনেরই নামান্তর।

বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সা.) কত চমৎকারভাবেই না বলেছেন, ‘কালোর ওপর সাদার প্রাধান্য নেই, অনারবের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই।’ (বুখারি)

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছিলেন আরবের সবচেয়ে সুন্দর ও শুদ্ধভাষী। তিনি কোনোদিন একটি অশুদ্ধ বা বিকৃত শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করেছেন বলে পাওয়া যায় না।

আল্লাহতাআলা পবিত্র কুরআনের ইরশাদ করেন: ‘আর তার নিদর্শনাবলীর মাঝে রয়েছে আকাশসমূহের ও পৃথিবীর সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও রঙের বিভিন্নতাও। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আর রূম, আয়াত: ২২)

ভাষা ও রঙের এই বিভিন্নতা সুপরিকল্পিত, যার পশ্চাতে পরিকল্পনাকারীর অস্তিত্ব বিদ্যমান। আকাশ মালা ও বিশ্বজগত সেই পরিকল্পনাকারীর সৃষ্টি। বর্ণের ও ভাষার বিভিন্নতার ফলে বিভিন্ন সভ্যতা ও সংস্কৃতির আগমন-নির্গমন ঘটে চলেছে। কিন্তু তবুও এই বিভিন্নতার অন্তরালে স্থায়ীভাবে প্রবহমান রয়েছে একটি বিশাল একতা ও মানবতার ঐক্য।

আমাদের মাতৃভাষা বাংলার প্রতি শহীদদের অবদান এবং মহানবীর (সা.) মাতৃভাষা প্রীতির অজস্র দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে রয়েছে। তাই ভাষার ক্ষেত্রে আমাদেরকে আরো সচতেন হতে হবে আর নিজ মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় করোনা আক্রান্ত

ভারতের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তার শরীরে কোভিডের মৃদু উপসর্গ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে তিনি কলকাতায় নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন। পরিবারের বরাত দিয়ে ভারতের গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ও জিনিউজের প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ২ জানুয়ারি মালদহে বইমেলা উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন বর্ষীয়ান এই সাহিত্যিক। সেখান থেকে বাসায় ফিরে সর্দি-কাশিতে ভোগেন শীর্ষেন্দু। পরে করোনা পরীক্ষা করান। এতে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

লেখকের মেয়ে দেবলীনা মুখোপাধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে হিন্দুস্থান টাইমসকে জানান, সপ্তাহখানেক আগে শীর্ষেন্দুর দেহে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল।

৮০ পেরোনো শীর্ষেন্দু জানিয়েছেন, করোনার কারণে তার অবসাদ দেখা দিয়েছে। খাবারে অরুচি ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। শীর্ষেন্দুর করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমরেশ মজুমদার, প্রচেত গুপ্ত।