রবিবার ,১৪ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 436

পাহাড়ে মিলল অস্ত্র কারখানার সন্ধান

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটংয়ের পাহাড়ে একটি অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়ে র‌্যাব। টানা ৫ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ওই অস্ত্র কারখানা থেকে ৫টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করেছেন র‌্যাব সদস্যরা।

এ সময় অস্ত্র তৈরির কারিগর দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এসব তথ্য জানান কক্সবাজার র‌্যাব ১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম সরকার।

গ্রেফতার দেলোয়ার টৈটং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কালা চান মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, জলদস্যুতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

র‌্যাব ১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম সরকার জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে টানা ৫ ঘণ্টার অভিযানের সমাপ্তি ঘটে রাত পৌনে ৮টার দিকে। এ সময় অস্ত্র কারখানা থেকে ৫টি অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ দেলোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও জানান, এসব অস্ত্র মাদক পাচার, জলদস্যুতা ও বনদস্যুতায় ব্যবহার করা হচ্ছিল। তার বিরুদ্ধে মামলা করে পেকুয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে।

কিয়েভে ভারতীয় ছাত্র গুলিবিদ্ধ, ভর্তি হাসপাতালে

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ভারতীয় এক ছাত্র। কিয়েভ থেকে পোল্যান্ড সীমান্তের দিকে আসার পথে ওই ছাত্র গুলিবিদ্ধ হন।

তাকে মাঝ পথ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে কিয়েভের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। খবর ইন্ডিয়া ডটকমের।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী ভিকে সিংহ শুক্রবার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

তবে আহত ওই ছাত্রের পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এর আগেও রুশ হামলার মুখে পড়ে প্রাণ হারান ইউক্রেনে পড়তে যাওয়া ভারতের কর্নাটকের এক মেডিকেল ছাত্র।

চেলসি কিনতে আগ্রহী আফ্রিদি!

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর রুশদের বিরুদ্ধে জনমনে যে ক্ষোভ বাসা বেঁধেছে, তা ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের সব ক্ষেত্রে। এর আদর্শ উদাহরণ হতে পারে চেলসি। দলটি ইংলিশ হলেও মালিক রোমান আব্রামোভিচ রুশ হওয়ায় কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে লন্ডনের ক্লাব।

নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার শঙ্কা থেকে একরকম বাধ্য হয়ে বুধবার রাতে প্রিয় ক্লাবটি বিক্রি করে দেওয়ার ঘোষণা দিলেন রুশ ধনকুবের আব্রামোভিচ।
তার এ ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে অনেকেই চেলসি ক্লাব কিনে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ক্লাবটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের জাভেদ আফ্রিদি।

পাকিস্তানের সুপার লিগের (পিএসএল) দল পেশোয়ার জালমির মালিক আফ্রিদি। ক্রীড়া অনুরাগী হিসেবে এ ধনকুবেরের অনেক সুনাম রয়েছে।

পেশোয়ার জালমির মালিক ছাড়াও হায়ার কোম্পানির পাকিস্তান শাখার সিইও তিনি। এছাড়া তিনি এমজি জেডব্লিউ অটো মোবাইল পাকিস্তান প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মালিক এবং জো চাহো নামের কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হিসেবেও কাজ করছেন আফ্রিদি।

খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চেলসি ফুটবল ক্লাব নিয়ে অনেক উদ্যোক্তাই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে জাভেদ আফ্রিদির কোম্পানি অন্যতম। বুধবার বিকেলে যুক্তরাজ্যের এক ক্রীড়াসংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছে আফ্রিদির প্রতিনিধি। তারা মনে করে এশিয়ার পক্ষ থেকে ফুটবলে বিনিয়োগ করার এটাই উপযুক্ত সময়।’

২০০৩ সালে ১৪ কোটি পাউন্ডে চেলসিকে কেনেন আব্রামোভিচ। বিভিন্ন মেয়াদে ১৫০ কোটি পাউন্ড ধার দিয়েছিলেন তিনি।

বিশাল অঙ্কের সেই পাওনা মওকুফ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এ রুশ ধনকুবের।

পাশাপাশি এ ধনকুবের জানিয়েছেন, দলের মালিকানা বিক্রি করে পাওয়া পুরো অর্থ ইউক্রেনে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে ব্যয় করা হবে। ক্লাবটির জন্য আব্রামোভিচ দাম হেঁকেছেন ৪০০ কোটি পাউন্ড।

আব্রামোভিচের সময়ে পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ ও দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট ১৯টি শিরোপা জিতেছে চেলসি।

এডিপি বাস্তবায়নে গোড়ায় গলদ, ২৬ চ্যালেঞ্জ

উন্নয়ন প্রকল্পের গোড়ায় গলদ থেকে যাচ্ছে। মানা হচ্ছে না গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। নানা ফাঁকফোকর আর ত্রুটি রেখেই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। প্রাক্কলিত দর নির্ধারণেও থাকে বিস্তর গরমিল।

এসব কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে এ রকম ২৬ ধরনের চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। বুধবার এ বিভাগের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র।

চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে প্রকল্প তৈরি ও অনুমোদন পর্যায়ের রয়েছে ৯টি, প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে ১৩টি এবং ৪টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বাস্তবায়ন পরবর্তী পর্যায়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় ও সময় দুটোই বাড়ছে। এছাড়া কাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকলেও তা খরচ করা যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইএমইডির সাবেক সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই যদি ঠিকমতো না হয়, তাহলে সেই ভুলের মাশুল পুরো প্রকল্পের পুরো সময়জুড়ে বহন করতে হয়। তাই এ কাজটি অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিবিড় তদারিক রাখতে হবে। তাহলে অনেক জটিলতা এড়ানো যাবে।’

এদিকে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রতিটি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে তা থেকে বেরিয়ে আসতে প্রতিবেদনের ছকে গাইড লাইন দেওয়া হয়েছে।

চ্যালেঞ্জগুলো : প্রথম ধাপে প্রকল্প তৈরি ও অনুমোদন পর্যায়ে ৯টি চ্যালেঞ্জ হলো- ১) অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও সুবিধাভোগীদের মতামত বিশ্লেষণ না করেই প্রকল্প হাতে নেওয়া। ২) প্রকল্প দলিল বা ডিপিপি অনেক ত্রুটিপূর্ণ থাকে। বিশেষ করে আনুষঙ্গিক তথ্য-উপাত্তের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতার মিল থাকে না।

৩) ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকল্প নেওয়ার আগেই সম্ভাব্য ভূমি চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসকদের সম্মতি নেওয়া হয় না। ৪) প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য স্থাপনা পরে রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার, ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার কিভাবে হবে সেসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকে না। ৫) মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) আর্থিক সীমা না মেনেই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ৬) প্রকল্প কিভাবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত যথাযথভাবে টেকসই হবে সেই পরিকল্পনা বা শর্তসমূহ অনেক সময় থাকে না।

৭) প্রকল্প গ্রহণে আঞ্চলিক বৈষম্য বিবেচনায় না নেওয়া। ৮) কাজ শুরু করার পর মহল বিশেষকে সুবিধা দিতে প্রকল্পের ভৌত কাজের ডিজাইন পরিবর্তন করা, অর্থাৎ ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ডিজাইন পরিবর্তন করেন। ৯) বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত না করে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া।

প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে ১৩টি চ্যালেঞ্জের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) ও টিপিপির (কারিগরি প্রকল্প প্রস্তাব) কর্ম ও ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা। এছাড়া মাঠপর্যায়ে প্রকল্প তৈরি ও বাস্তবায়নের বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা।

প্রকল্পের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব। নিয়মিত পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) এবং স্টিয়ারিং কমিটির সভা আয়োজন না করা। এছাড়া কেনাকাটা কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা প্রভৃতি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হওয়ার পরের চ্যালেঞ্জগুলো হলো-প্রকল্প শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে পিসিআর (প্রকল্প সমাপ্ত প্রতিবেদন) আইএমইডিতে না দেওয়া। সেইসঙ্গে পিসিআর তৈরিতে নির্দিষ্ট ছক অনুসরণ না করা। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কার্যক্রম প্রকল্প শেষে পরিচালনার জন্য রাজস্ব বাজেটের অপ্রতুলতা।

প্রকল্পের আওতায় তৈরি অবকাঠামো এবং যন্ত্রপাতি প্রকল্প শেষে সংরক্ষণ বা রক্ষণাবেক্ষণ না করা। সংস্থায় দক্ষ জনবল না থাকায় প্রকল্প শেষে প্রায় বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সেবা ক্রয় চুক্তি করতে হয়। এরফলে সরকারি অর্থের অপচয় হয়।

বোতলে লিটার ২শ টাকা, খোলা সয়াবিন উধাও

কয়েক মাস ধরেই বাড়ছে ভোগ্যপণ্যের মূল্য। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আলু, পেঁয়াজ, চিনিসহ প্রায় সব পণ্যের দর ঊর্ধ্বমুখী হলেও ভোজ্যতেল নিয়ে রীতিমতো বেসামাল অবস্থা।

সয়াবিনের দাম একেক দোকানে একেক রকম। খুচরা বাজারে বৃহস্পতিবার প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন কিনতে ক্রেতাকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়েছে। অনেকেই আবার সয়াবিন তেল কিনতে গিয়ে ফিরে গেছেন। খোলা সয়াবিন তেল তো বাজার থেকে উধাও। ক্রেতারা বলছেন, ভাই আমরা সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে গেছি। শক্ত হাতে সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।

বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, দেশে এখন বিপুল পরিমাণ তেল আছে। খোলা তেলও রয়েছে। কিন্তু বাজারে বিক্রেতারা খোলা তেল সরিয়ে রেখেছে। কে কোথায় সরিয়েছে, তার তথ্যপ্রমাণ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করব। সেই মজুত করা খোলা তেল আমরা বাজারে সরবরাহ করব। পাশাপাশি অসাধুদের আইনের আওতায় আনব। সেক্ষেত্রে আমরা এবার জেলেও পাঠাব। ইতোমধ্যেই আমরা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছি। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

বুধবার রাত থেকেই খুচরা বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে গিয়ে একই চিত্র দেখা গেল। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন কিনতে ক্রেতাকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়েছে। খোলা সয়াবিন তো মিলছেই না। চালের বাজারও বাড়তি। এক কেজি চাল কিনতে ক্রেতাকে ৫০-৭০ টাকা গুনতে হচ্ছে। ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। চিনির কেজিও ৮০ টাকার উপরে। সরবরাহ ভালো থাকলেও পেঁয়াজ কিনতে ক্রেতার খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা।

যে গরুর মাংস দেড় মাস আগেও ৬০০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫০-৬৬০ টাকায়। ক্রেতাকে বাধ্য হয়ে কম খেয়ে সমন্বয় করতে হচ্ছে। পরিবারের বাজেটেও করতে হচ্ছে কাটছাঁট। মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ নিদারুণ কষ্টে আছেন।

বৃহস্পতিবার সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার পণ্য মূল্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ দাম বেড়েছে, পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনে ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ দাম বেড়েছে।

পাশাপাশি খোলা পামঅয়েল লিটার প্রতি ১৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ দাম বেড়েছে। পাম অয়েল সুপারে লিটারে দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। পাশাপাশি মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি চাল ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি আলু কিনতে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০০ শতাংশ বেড়েছে।

গরুর মাংস কিনতে ক্রেতার ৩ দশমিক ৩৯ ও ব্রয়লার মুরগি কিনতে ক্রেতার ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি টাকা ব্যয় হচ্ছে। পাশাপাশি চিনি কেজি প্রতি ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ দাম বেড়েছে। খোলা সয়াবিন নিয়ে টিসিবির বাজার পণ্য মূল্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার তারা রাজধানীর খুচরা বাজারে খোলা তেল পায়নি। তাই তারা দামও উল্লেখ করতে পারেনি।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, বরাবর দেখা গেছে ব্যবসায়ীরা রমজানে পণ্যের দাম কমই বৃদ্ধি করে। রমজান আসার আগেই তারা দাম বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে মনিটরিংও আগেভাগেই করতে হবে। কঠোর তদারকির মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের বাড়তি দরে ক্রেতার হাসফাঁস অবস্থা। সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আবার কিছু পণ্যের দর কারসাজিতে বেড়েছে। আমাদের অনেক পণ্য আছে যা আমদানির মাধ্যমে চাহিদা মেটাতে হয়। সে সব পণ্যের দামও বেশি। তাই দাম কমাতে আমদানি পণ্যের শুল্ক কমাতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় পণ্যের মজুত অনেক। পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। অসাধু ব্যবসায়ীকে সুযোগ নিতে দেওয়া হবে না। সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযান চালাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ এবং মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বোতলজাত সয়াবিন ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা এক মাস আগে ছিল ১৫০ ও ১৬৮ টাকা। প্রতি কেজি সরু চাল বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা। যা এক মাস আগে ছিল ৬৫ টাকা। ছোট দানার মসুর ডাল ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এক মাস আগে ছিল ১১০-১১৫ টাকা।

প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ২২-২৪ টাকা, এক মাস আগে ছিল ১৮ টাকা। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকা। এক মাস আগে ছিল ৩০-৩৫ টাকা। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৮০-৮২ টাকা। এক মাস আগে ছিল ৭৫-৭৮ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৬৫০-৬৬০ টাকা। এক মাস আগে ছিল ৬০০ টাকা। আর প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি মাসের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারে পণ্য কিনতে আসা সামসুল হক বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের অনেক দাম। কোনটা বাদ দিয়ে বাজার শেষ করব ভাবছি। দাম বাড়ায় কেনাকাটাও কমিয়ে দিয়েছি। বাজারে এলে কান্না পায়। কিন্তু প্রকাশ্যে কান্না করতেও পারি না। বোবা পশুর মতো কান্না করি।

রাজধানীর নয়াবাজারে পণ্য কিনতে আসা মো. ইসহাক বলেন, বাজারে এসে দেখি বিক্রেতারা ভোজ্যতেল বিক্রি করছে না। তারা বলছে নাই। তবে কয়েকটি দোকানে পাওয়া গেলেও একেক দোকানদার একেক দাম বলছে। বিক্রেতারা বলছেন, মিল থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বুঝমাল, তেল সরবরাহ বন্ধ। কিন্তু ১৭০ টাকা লিটারের তেল ১৯০-২০০ টাকা কি করে বিক্রি হয়? সরবরাহ কমানোয় খুচরা বিক্রেতারা সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, দাম নিয়ন্ত্রণে বাজারে অভিযান চলছে। মিলগুলোতেও অভিযান চালানো হবে। আমরা রুট লেভেলে চলে গেছি। কোথায় এর ম্যানিপুলেট হচ্ছে, ডিলার-মিলার, সাপ্লায়ার সবাইকে আমরা শনাক্ত করছি। ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। আশাকরি সুফল দেখা যাবে।

বরিশালে ২০০ টাকা লিটারেও মিলছে না ভোজ্যতেল : বরিশাল ব্যুরো জানায়, মূল্য বৃদ্ধির আশায় বরিশালে সয়াবিন তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া গেলেও লিটার ২০০ টাকার নিচে মিলছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন স্টকে তেল নেই। তবে ক্রেতারা বলছেন অতি মুনাফার আশায় দোকানদাররা তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। মঙ্গল ও বুধবার বরিশাল নগরীর বাজার রোড, বাংলাবাজার, চৌমাথা বাজার ও নতুন বাজার ঘুরে সয়াবিন তেল না থাকার চিত্র দেখা যায়। দু-একটি দোকানে পাওয়া গেলেও ২-৩ বোতলের বেশি নয়।

সদর রোডের খাবার হোটেল ব্যবসায়ী মো. পারভেজ বলেন, প্রতিদিনের মতো আজও তেল কিনতে গিয়ে পড়েছি বিপাকে। সয়াবিন তেলের দাম যাই হোক হোটেল চালাতে তেল তো আমার লাগবে। তাই আমি পরিচিত দোকানিদের কাছ থেকে ৫ লিটারের একটি বোতল ৮৬৫ টাকায় নিয়েছি যা একদিন ছিল ৭৮০ টাকা।

ক্রেতা মফিজুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি দোকানে সয়াবিন তেল রয়েছে। ২০০ টাকা লিটার দরেও ব্যবসায়ীরা বিক্রি করতে চাচ্ছেন না। অতি মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা তা মজুত করে রেখেছেন। আমি বহু দোকান ঘুরে ১৬০ টাকার লিটারের তেল ২০০ টাকা দরে কিনেছি। বাজার রোডের মুদি দোকানি শামসুর রহমান বলেন, দোকানে কোনো তেল নেই। কোম্পানি থেকেই সাপ্লাই নেই। আমরা বিক্রি করব কিভাবে। আমি কোনো তেল মজুত করিনি।

চৌমাথার ব্যবসায়ী মন্টু বলেন, তেল থাকলে তো বিক্রি করব। তেলই নেই। কিছু লাভের আশায় ক্রেতাদের ভোগান্তি করে তো লাভ নেই। নগরীর প্যারারা রোডের ব্যবসায়ী মো. মারুফ বলেন, এক লিটারের একটি এবং আধা লিটারের কয়েকটি বোতল রয়েছে আমার দোকানে। এগুলো সবই বিক্রি হয়ে গেছে, এক ব্যক্তি কিনে রেখে গেছে। এই বিষয়ে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রশান্ত কুমার দাস বলেন, দোকানিরা বাড়তি লাভের আশায় সয়াবিন তেল মজুদ করে রাখলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের প্রতিদিন বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চলমান আছে।

‘জাতীয় পার্টি আর রাজপথ ছাড়বে না’

জাতীয় পার্টি মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেছেন, ‘যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, যদি দেশের দুর্নীতি বন্ধ করা না হয়, যদি দেশের টাকা পাচার বন্ধ না হয়, টেন্ডারবাজি, দলবাজি আর চাঁদাবাজি বন্ধ না হয় তাহলে জাতীয় পার্টি আর রাজপথ ছাড়বে না।’ তিনি আরও বলেন, আমরা গণমানুষের দাবি নিয়ে গণমানুষকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।

বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টি আয়োজিত বিজয় নগর থেকে পল্টন পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুন্নু এসব কথা বলেন। চাল, ডাল, আটা, সয়াবিন তেল, গ্যাস, পানি, বিদুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সিমাহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দলটি এই কর্মসূচি পালন করে।

সভায় জাতীয় পার্টি মহাসচিব আরও বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ এক কঠিন সময় অতিবাহিত করছে, যখন দেশে দ্রব্যমূল্য লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সংসার চালাতে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে করোনাকালে যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে তাদের সবার কর্মসংস্থান হয়নি। সব মিলিয়ে দেশে বেকারের সংখ্যা অন্তত ৫ কোটি। এমন বাস্তবতায় যেভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে তাতে মনে হয় দেশের মানুষের প্রতি সরকারের কোনো দরদ নেই। সরকার মানুষের কষ্ট বোঝে না, মানুষের মনের ভাষা বোঝে না।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের অভিযোগ- যারা সরকারি দল করে তারাই শুধু ভালো আছে। দেশে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি আর দলবাজি করে একটি শ্রেণি ধনী থেকে আরও ধনী হচ্ছে। আর দেশের বেশিরভাগ মানুষ দিনদিন আরও গরিব হচ্ছে। মানুষের আয় নেই কিন্তু ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব বলেন, সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের বাজার করতে পারছে না, প্রয়োজনীয় অসুধ কিনতে পারছে না। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছে না। শুধু অর্থের অভাবে অনেক সন্তান তার বাবা-মার খোঁজ নিতে পারে না। যেখানে দু’মুঠো ভাত তুলে দিতে মানুষকে যুদ্ধ করতে হয়, সেখানে সন্তানের বায়না মেটানো যেন স্বপ্নের মতো।

তিনি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন রাষ্ট্রক্ষমতা ছেড়ে দেন তখন প্রতি কেজি চালের দাম ছিল ৮ থেকে ১০ টাকা। এখন গেল ৩১ বছরে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়ে বর্তমানে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পল্লীবন্ধুর সময় যে সয়াবিন তেল ২০ থেকে ২৫ টাকা লিটার বিক্রি হয়েছে এখন তা ১৮০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। আবার পেট্রোলের দাম ছিল ৭ থেকে ১০ টাকা লিটার, এখন ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার পেট্রোল।

মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, এভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। এমন প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হলে হাহাকার উঠবে দেশের ৯০ ভাগ ঘরে। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি আর পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। এদেশের মানুষ এমন গণবিরোধী সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে গড়া জাতীয় পার্টি এমন বাস্তবতায় ঘরে বসে থাকবে না। আমরা মানুষের সব অধিকার সুরক্ষিত করতেই রাজনীতি করছি। আমরা মাঠে আছি, মাঠে থাকব। গণমানুষের স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে আমরা কখনো আপস করব না।

সভায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, জাতীয় পার্টি মানুষের সঙ্গে আছে বলেই আমরা মানুষের কষ্ট বুঝতে পারি। মানুষের পকেটে টাকা নেই, পেটে ভাত নেই। এমন বাস্তবতায় জাতীয় পার্টি ঘরে বসে থাকতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, সংসার চালাতে দেশের মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। এ সময় আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। আমরা মানুষের জন্য রাজনীতি করছি। আমরা মানুষের জন্যই রাজপথে থাকব। সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষ আবার জাতীয় পার্টির শাসনামলে ফিরে যেতে চায়।

সভায় আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, এসএম ফয়সাল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, মো. এমরান হোসেন মিয়া, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম রুবেল, ভাইস-চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান খান, আহসান আদেলুর এমপি, নুরুল ইসলাম ওমর, তারেক এ আদেল, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, ফখরুল আহসান শাহজাদা, মো. বেলাল হোসেন, জাতীয় শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, জাতীয় যুব সংহতির সদস্য সচিব আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন, জাতীয় ওলামা পাটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ ইরফান বিন তোরাব আলী, জাতীয় মৎস্যজীবী পার্টির সদস্য সচিব মীর সামসুল আলম লিপটন, জাতীয় ছাত্রসমাজের সভাপতি মো. ইব্রাহীম জুয়েল।

উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, ফখরুল ইমাম এমপি, সুনীল শুভ রায়, নাজমা আক্তার এমপি, উপদেষ্টা রওশন আরা মান্নান এমপি, ড. নূরুল আজহার শামীম, নূরুল ইসলাম তালুকদার এমপি, সরদার শাহজাহান, মো. হারুন অর রশিদ, অ্যাডভোকেট লাকি বেগম, হেনা খান পন্নী, নাজনীন সুলতানা, জহিরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা রানী, শেখ আলমগীর হোসেন, মোস্তফা আল মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম সরু, শফিকুল ইসলাম শফিক, আমিনুল ইসলাম ঝন্টু, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, যুগ্ম মহাসচিব আবদুল হামিদ ভাসানী, একেএম আশরাফুজ্জামান খান, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, কেন্দ্রীয় নেতা মো নাসির উদ্দিন সরকার, মো হেলাল উদ্দিন, মো. সাইফুল ইসলাম, হুমায়ূন খান, এবিএম লিয়াকত হোসেন চাকলাদার, আনিস উর রহমান খোকন, মাখন সরকার, মাসুদুর রহমান মাসুম, এমএ রাজ্জাক খান, শাহাদাৎ কবির চৌধুরী, মিজানুর রহমান মিরু, এসএম আল জুবায়ের, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভুঁইয়া, গোলাম মোস্তফা, খোরশেদ আলম খুশু, তিতাস মোস্তফা, আজহারুল ইসলাম, সরকার, সুজন দে, দেলোয়ার হোসেন মিলন, আখতার হোসেন দেওয়ান, এসএম সোবহান, শরফুদ্দিন শিপু, শেখ মাসুক রহমান, মাহমুদ আলম, সমরেশ মন্ডল মানিক, সাহিদ হোসেন সেন্টু, শাহজাহান কবীর, ডা. সেলিমা খান, দ্বীন ইসলাম শেখ, শাহনাজ পারভীন, ফরিদ উদ্দিন, হাফেজ ক্বারী ইসারুহুল্লা আসিফ, ইব্রাহিম আজাদ, মনিরুজ্জামান টিটু, আবু সাঈদ স্বপন, রিতু নূর, মো. শামসুল হক হুদা, শেখ মো. সরোয়ার, নাসিম উদ্দিন বায়জিদ, মোক্তার হোসেন, আবদুল বাতেল, লোকমান ভূঁইয়া রাজু, আরিফুল ইসলাম রুবেল, হুমায়ূন কবির শাওন, আবুল কালাম আজাদ, মো. আলমগীর হোসেন, কাজী মামুন, মো. ইলিয়াস আলী, তাসলিমা আকবর রুনা, জেসমিন নূর প্রিয়াংকা, জায়েদুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার খোরশেদ আলম, জিয়াউর রহমান বিপুল, মিনি খান।

ঐক্য চায় বিএনপি: মহাসচিব

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি বিভাজনের রাজনীতি করে না। সব সময় ঐক্যের রাজনীতি করে। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে সবার মধ্যে একটা ইস্পাত কঠিন ঐক্যের প্রয়োজন। এখানে একেকজনের ধর্ম আলাদা হতে পারে, চিন্তাভাবনা আলাদা হতে পারে। কিন্তু একটা জায়গায় এসে আমরা সবাই বাংলাদেশি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাসাবোর ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের অধ্যক্ষ শুদ্ধানন্দ মহাথেরোর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শুদ্ধানন্দ মহাথেরো (৮৭) ২০২০ সালের ৩ মার্চ ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। করোনা মহামারির কারণে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠান হয়নি। দুই বছর পর ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহারে তিন দিনব্যাপী ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান হয়। মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল গ্লাসের ভেতরে রক্ষিত শুদ্ধানন্দ মহাথেরোকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহারের মূল প্যান্ডেলে গিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, শুদ্ধানন্দ মহাথেরো যেন পরলোকে শান্তিতে থাকেন, এই প্রার্থনা আমরা করি। আমরা প্রার্থনা করব, সৃষ্টিকর্তা যেন আমাদের এই পৃথিবীকে শান্তিময় করে দেন, এই বাংলাদেশকে তিনি যেন শান্তিময় করে দেন। আমরা যেন বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র, একটি ভ্রাতৃত্বমূলক ও সৌহার্দ্যমূলক রাষ্ট্রে আনন্দের সঙ্গে বাস করতে পারি, প্রেমের সঙ্গে, ভালোবাসার সঙ্গে, এই হোক আজকে আমাদের প্রার্থনা।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ আমার দেশ। আমরা মনে করি যে এখানে যারা বাস করেন, সব মানুষই বাংলাদেশি। এখানে ধর্ম আলাদা, একেকজনের একেকটা ধর্ম হতে পারে, চিন্তাভাবনা আলাদা হতে পারে। কিন্তু একটা জায়গায় এসে আমরা সবাই বাংলাদেশি। এই তত্ত্ব আমাদের দিয়েছেন তার দর্শনের মাধ্যমে, তিনি হচ্ছেন আমাদের শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

বিএনপির প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় নেতা গৌতম চক্রবর্তী, সুশীল বড়ুয়া, মহানগর বিএনপির হাবিবুর রশীদ হাবিব, ইউনুস মৃধা প্রমুখ। বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ও শুদ্ধানন্দ মহাথেরো জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো বিএনপির প্রতিনিধিদলকে শুভেচ্ছা জানান।

শুদ্ধানন্দ মহাথেরো ১৯৩৩ সালের ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর পাদুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সমাজ সেবায় অবদানের জন্য ২০১২ সালে তাকে একুশে পদক দেওয়া হয়।

এদিকে নোয়াখালী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খানকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বুধবার রাত ৩টায় নুরুলকে গ্রেফতার করা হয়। প্রতিহিংসাপরায়ণ বর্তমান সরকার বিএনপিসহ দেশের বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতনের স্টীম রোলার চালিয়ে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। যে কারনে সীমাহীন হিংস্ররুপ ধারণ করেছে। আর এই উদ্দেশ্য পূরণে গুম, খুন, অপহরণ ছাড়াও বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে কারান্তরীণ করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

পৃথক বিবৃতিতে নুরুল আমিন খানকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান।

চলতি মাসেই নতুন এমপিওভুক্তির ঘোষণা: শিক্ষামন্ত্রী

নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা চলতি মাসেই আসবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বৃহস্পতিবার এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশেন, বাংলাদেশ- ইরাব’র সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে একথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, খুব দ্রুত আমরা এমপিওভুক্তির কাজ করব। এ মাসের মধ্যেই।

মহামারী পরিস্থিতির উন্নতিতে প্রাথমিকে পুরোদমে ক্লাস শুরুর পর এখন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও প্রতিদিন ক্লাস শুরু করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে মতবিনিময়কালে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

দীপু মনি বলেন, আমরা মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রমও স্বাভাবিক করতে চাই। তবে এক্ষেত্রে কিছু বিষয় নিয়ে ভাবছি আমরা। আমাদের অনেক বড় বড় স্কুলে এক ক্লাসে অনেক শিক্ষার্থী। সব শ্রেণির শিক্ষার্থীরা যখন একসাথে স্কুলে আসবে, তখন সেখানে জটলা হবে। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে ভাবছি আমরা।

গত বছরের ১০ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। তাতে নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও ডিগ্রি কলেজ মিলিয়ে সাড়ে চার হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে। এছাড়া প্রায় চার হাজার মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে।

দেশে প্রথমবারের মতো মানুষের দেহে কৃত্রিম হৃদপিণ্ড স্থাপন

বাংলাদেশে ৪২ বছর বয়স্ক এক নারীর হৃদপিণ্ডে কৃত্রিম হৃদপিণ্ড স্থাপন করেছেন একদল চিকিৎসক। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে বুধবার অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের নেতৃত্বে ‘Left Ventricular Assist Device ( LVAD )’ এলভ্যাড স্থাপন করেন চিকিৎসক দল।

প্রায় চার ঘন্টা সফল অস্ত্রপ্রচারের মাধ্যমে হারট্মেট-৩ নামক একটি মেকানিক্যাল হার্ট রোগীর হৃদপিণ্ডের বাম নিলয়ে স্থাপন করেন এবং তার পুরো হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন ।

দেশের চিকিৎসাসেবায় নতুন এ সফলতা অর্জন করে আলোচনায় এসেছেন তারা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের হৃদরোগ চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

আশা করা যাচ্ছে এর মাধ্যমে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি অনেক কমে আসবে এবং হার্ট ফেইলিওরের লক্ষণসমূহের উন্নতি ঘটবে।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর কবির জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ শেষ পর্যায়ের হৃদপিণ্ডের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই নারী। দেশে বিদেশে নানা জায়গায় চিকিৎসার পরেও তার হৃদপিণ্ড বা হার্ট প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ছিল। উন্নত বিশ্বে হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের একমাত্র চিকিৎসা আরেকটি সুস্থ হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা।
তবে যদি সুস্থ হৃদপিণ্ড পাওয়া না যায় এবং হার্টের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে তবে মেকানিক্যাল হার্ট ইমপ্ল্যান্ট বা (LVAD ) এলভ্যাড স্থাপন করা হয় । এতে রোগীর হৃদপিণ্ড কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং সমস্ত শরীরের রক্ত চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে ।

শরীরে অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যেমন কিডনি , লিভার ইত্যাদি সেরে ওঠার সুযোগ পায় । হার্ট ফেইলিওরে আক্রান্ত কিছু রোগী হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের উপযুক্ত না হলে তাদের জন্য একমাত্র বিকল্প LVAD (এল্ভ্যাড), যা স্থাপনের মাধ্যমে বাকি জীবন সুস্থভাবে অতিবাহিত করতে পারবেন তারা।

উল্লেখ্য, কার্ডিওমায়োপ্যাধি , ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ ও হার্ট অ্যাটাক , কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ , হ জনিত সমস্যা , দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ রক্তচাপ , দীর্ঘমেয়াদী হার্ট এর অস্বাভাবিক রিদম ইত্যাদি নানা রোগের শেষ পরিণতি হার্ট ফেইলিওর ।

নতুন ডেটা প্যাকেজ কার্যকর ১৫ মার্চ থেকে

১৫ মার্চ থেকে মোবাইল ফোনে নতুন ডেটা প্যাকেজ কার্যকর হতে যাচ্ছে। কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ডেটা প্যাকেজে অফার কমিয়ে পুরোনো উদ্বৃত্ত ডেটা যুক্ত করার একটি নির্দেশনা রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসির উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন খান এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান।

তিনি জানান, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব মোবাইল অপারেটরকে নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্যাকেজ, সিস্টেম ডিজাইন তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং ডেটা প্যাকেজগুলোর অনুমোদন কমিশন থেকে নিতে হবে। এরপর ১৫ মার্চ রাত ১২টা থেকে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ডেটা এবং ডেটাসংশ্লিষ্ট সব প্যাকেজ পরিচালনা করতে হবে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, একটি অপারেটর তিনটি বিভাগে ৯৫টি প্যাকেজ অফার করতে পারবে। এগুলো হলো- নিয়মিত প্যাকেজ, গ্রাহককেন্দ্রিক প্যাকেজ এবং উন্নয়ন ও গবেষণা প্যাকেজ।