বৃহস্পতিবার ,৩০ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 34

বিমান হামলা রাখাইনে আরকান আর্মির ওপর

যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহীদের ওপর নিশানা করে বোমা হামলা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে জানা যায়, হামলায় একাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে খবর দিয়েছে ।
রাখাইনের রামরি দ্বীপের রামরি শহরে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা সেনারা অব্যাহত বোমা হামলা চালাচ্ছে। দ্বীপটির নিরাপত্তা জান্তা সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কারণ চীনের অর্থায়নে দ্বীপটিতে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে ।

গত মাসে থেকে আরাকান আর্মি রাখাইনে সামরিক ফাঁড়ি ও নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান নিশানা করে হামলা শুরু করে। দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘাত শুরু হয় যখন জান্তা সেনারা পাল্টা হামলা শুরু করে।এর মধ্যে গত দুই দিন বিদ্রোহীদের নিশানা করে বড় পরিসরে হামলা চালিয়েছে জান্তারা। গত অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর জোট থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের সঙ্গে জান্তা সরকারের সেনাদের সশস্ত্র লড়াই চলছে। এই জোটে আরাকান আর্মিও আছে। রাখাইনে জান্তার বড় পরিসরে হামলা শুরুর মধ্য দিয়ে পশ্চিমাঞ্চলেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ল।

থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের এক টেলিগ্রাম বার্তায় জানানো হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে রামরি শহরে বোমা হামলা শুরু করে জান্তা সেনারা। এর আগে গত সোমবার আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াই চলাকালে জান্তা সেনারা যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজের সাহায্য চায়।

আরাকান আর্মির দাবি, সোমবার লড়াই চলাকালে জান্তা সেনাদের সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে তারা। তবে এ বিষয়ে তারা আর বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, হামলায় রামরিতে একাধিক বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তবে এর নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।

২০১৭ সাল থেকে রাখাইনে ব্যাপক হামলা শুরু করে সেনাবাহিনী। হামলার মুখে রাজ্যটিতে সংখ্যালঘু সাত লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তারা এখনো বাংলাদেশে আছে। রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন।

সিলেটে আওয়ামী লীগের বড় জমায়েতের প্রস্তুতি

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পার করছে ব্যস্ত সময় কারণ হলো সিলেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা। হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহ পরানের মাজার জিয়ারত শেষে আগামীকাল বুধবার এ জনসভার মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হচ্ছে। সেখানে কয়েক লাখ মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন দলের নেতা-কর্মীরা।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনা প্রতি সংসদ নির্বাচনের সময় সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এবারও তাই করছেন। এ ছাড়া প্রতিবারের ধারাবাহিকতায় এবারও জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের সভার আয়োজন করেছে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনের ঘোষণায় সিলেট বিভাগের ৪ জেলার ১৯টি সংসদীয় আসনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ২১ জুন বন্যার্তদের দেখতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ সফর করেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে মতবিনিময় সভায়ও অংশ নেন। তবে ২০১৮ সালের পর আগামীকালই প্রধানমন্ত্রী সিলেটে কোনো জনসভায় ভাষণ রাখতে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর সফল করতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো একাধিক প্রস্তুতি ও মতবিনিময় সভা, প্রচার মিছিল করেছে। নগর ও জেলা-উপজেলায় চলছেন মাইকিংও। এ ছাড়া আজ মঙ্গলবারও সর্বশেষ নানা প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি পালন করা হবে। দলটি জনসভাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় আগামীকাল অন্তত ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

দলে দলে রমনায় জড়ো হচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা

আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটায় বিজয় শোভাযাত্রায় অংশ নিতে শত শত পিকআপ নিয়ে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের সামনের সড়কে দলে দলে যোগ হচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত এ বিজয় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে জানানো হয়েছে আওয়ামী লীগের দপ্তর থেকে।
অবশ্য বিজয় শোভাযাত্রাটি গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও কুয়েতের আমিরের মৃত্যুতে গতকাল রাষ্ট্রীয় শোক পালন করায় এক দিন পিছিয়ে আজ শোভাযাত্রা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব পাশে রমনার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের সামনের সড়কে হাজারো নেতা-কর্মী জড়ো হয়েছেন। বেলা আড়াইটায় শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পৌনে তিনটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শোভাযাত্রা শুরু হয়নি।
ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের সামনে সড়কে অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকার প্রার্থীদের সমর্থনে নেতা-কর্মীরা বিজয় শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন। পিকআপে আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে পোস্টার টানানো হয়েছে। পিকআপগুলোতে ‘জয় বাংলা জিতবে এবার নৌকা’ গানটি অনবরত বাজানো হচ্ছে।

কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ – সাকিব আল হাসান

মাগুরা–১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকা প্রতীক পেলেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান।
প্রতীক পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাকিব জানিয়েছেন, আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে কেন্দ্রে বেশিসংখ্যক ভোটার উপস্থিত করাকেই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি।সদর উপজেলার একাংশ ও শ্রীপুর নিয়ে গঠিত মাগুরা–১ আসনে সাকিব আল হাসানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন চারজন। তাঁরা হচ্ছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী রেজাউল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. সিরাজুস সায়েফিন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) কে এম মোতাসিম বিল্লা এবং তৃণমূল বিএনপির সনজয় কুমার রায়।

স্থানীয় রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা বলছেন, তাঁদের কেউই আওয়ামী লীগ বা সাকিব আল হাসানের সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নন। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, দল হিসেবে জাতীয় পার্টি ছাড়া অন্য তিনটি দলই সাধারণ ভোটারের কাছে নতুন। তা ছাড়া এসব দল থেকে যাঁরা প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাঁরাও তেমন একটা জনপ্রিয় নন।

সাকিব অবশ্য তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের যোগ্য হিসেবেই বিবেচনা করছেন। আজ মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে চারজন প্রার্থী আছেন। তাঁরা সবাই যোগ্য। ভোটাররা যাঁকে পছন্দ করবেন, তাঁরই নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকবে এখানে। আমাদের সবারই চেষ্টা থাকবে, যাতে আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারি। একই সঙ্গে চেষ্টা থাকবে, যত বেশি ভোটার আনা যায়। কারণ, নিকট অতীতের নির্বাচনগুলোতে হয়তো ওই রকম ভোটার টার্নআউট হয়নি। এর ফলে এবার এটাই বড় চ্যালেঞ্জ যে আমরা কত ভোটারের আগ্রহ জোগাতে পারি।’

সরকারের হুকুম বরদারে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন: গণতন্ত্র মঞ্চ

‘ নির্বাচন কমিশন সরকারের হুকুম বরদারে পরিণত হয়েছে ‘ বলেছে গণতন্ত্র মঞ্চ।
সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যে চিঠি দিয়েছে, তার সমালোচনা করে গণতন্ত্র মঞ্চ।

সরকার কণ্ঠ রোধ করে ও ভয় দেখিয়ে নির্বাচন করতে যাচ্ছে অভিযোগ করে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলেন, সর্বাত্মক দমন-পীড়নের পর এখন সভা-সমাবেশও বন্ধ করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার নিজেরা সরাসরি ঘোষণা না করলেও কার্যত জরুরি অবস্থা জারি করেছে।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা এসব কথা বলেন। তাঁরা বলেন, ইসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যে চিঠি দিয়েছে, তা অসাংবিধানিক ও এখতিয়ারবহির্ভূত। মূলত সরকার ইসিকে ব্যবহার করে এই চিঠির ব্যবস্থা করেছে। চিঠি আসা মাত্রই তা কার্যকর করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দীন মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।

হলফনামা কি আমলনামায় বদলে যেতে পারে?

আমরা আনন্দের সঙ্গে লক্ষ করছি, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই সংবাদপত্রের পাতা খুললেই দেখা যায় বিভিন্ন প্রার্থীর হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যের নানা বিশ্লেষণ। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০০৫ সালে বিচারপতি এম এ মতিনের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের হলফনামার মাধ্যমে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা; অতীতের ও বর্তমান মামলার বিবরণী; নিজেদের ও নির্ভরশীলদের আয়, সম্পদ, দায়-দেনাসহ আট ধরনের তথ্য মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেন। একই সঙ্গে আদালত নির্বাচন কমিশনকে এসব তথ্য জনগণের মধ্যে বিতরণ করার নির্দেশনা প্রদান করেন, যাতে তাঁরা জেনে-শুনে-বুঝে পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারেন [আবদুল মতিন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ, ৬৬ডিএলআর (২০০৪)]।

নির্বাচন কমিশন আদালতের নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হলেও আমরা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পক্ষ থেকে প্রার্থীদের হলফনামার তথ্যের ভিত্তিতে আসনভিত্তিক তুলনামূলক চিত্র তৈরি করে ২০০৫ সাল থেকে ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করে আসছি। এসব তথ্যের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আমরা এ পর্যন্ত গত তিনটি সংসদ নির্বাচনের জন্য তিনটি বড় ভলিউম প্রকাশ করেছি। নির্বাচনসংক্রান্ত আরও অনেক তথ্য আমরা সুজনের ওয়েবসাইটে (www.votebd.org) প্রকাশ করেছি।

পাশাপাশি আমরা গণমাধ্যমকে এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রার্থীদের সম্পর্কে প্রতিবেদন তৈরি করে জনগণকে সচেতন করতে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। আমরা আনন্দিত যে গণমাধ্যম এসব তথ্য ব্যবহার করে হলফনামায় নানা অসংগতি তুলে ধরছে। প্রসঙ্গত, আমাদের প্রচেষ্টায় হলফনামার ভিত্তিতে তথ্য প্রদানের বিধান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া সব কটি স্থানীয় সরকার আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ব্যর্থ হয়েছে এক দুর্বৃত্তকে ব্যবহার করে আদালতের মাধ্যমে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এই বিধানকে ভন্ডুল করার প্রচেষ্টা।

আওয়ামী লীগের ৩০ জন নৌকা পেয়েও হারালেন

আওয়ামী লীগজাতীয় পার্টিকে ২৬টি এবং ১৪ দলের শরিকদের ৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছে । এর ফলে এই ৩২ আসনে থাকছে না আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী । আজ রোববার বিকেলে এই চিঠির মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

১৪ দলের শরিকদের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি (বরিশাল-২ ও রাজশাহী-২), জাসদ তিনটি (কুষ্টিয়া-২, বগুড়া-৪ ও লক্ষ্মীপুর-৪) ও জাতীয় পার্টি (জেপি) একটি আসন (পিরোজপুর-২) পেয়েছে।

জাপা সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতা হয়েছে ঠাকুরগাঁও-৩, নীলফামারী-৩ ও ৪, রংপুর-১ ও ৩, কুড়িগ্রাম-১ ও ২, গাইবান্ধা-১ ও ২, বগুড়া-২ ও ৩, সাতক্ষীরা-২, পটুয়াখালী-১, বরিশাল-৩, পিরোজপুর-৩, ময়মনসিংহ-৫ ও ৮, কিশোরগঞ্জ-৩, মানিকগঞ্জ-১, ঢাকা-১৮, হবিগঞ্জ-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ফেনী-৩, চট্টগ্রাম-৫ ও ৮ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আগে থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল না।

১৪ দলের শরিক ও জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে আসন নিয়ে সমঝোতা হওয়ায় নৌকা পেয়েও তাঁরা হারালেন। অথচ তাঁদের সবাই দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বাছাইয়েও তাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছিল। কিন্তু ১৭ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা ইসিকে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

বিশ্বে জুড়ে কয়লার চাহিদা কমার সম্ভাবনা

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) জানান বিশ্বে কয়লার চাহিদা কমতে পারে। মূলত চীনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আরও বেশি হারে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছর কয়লার চাহিদা ৮৫৪ কোটি মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে বলে আইইএর পূর্বাভাস, এর আগে ২০২২ সালে আগের রেকর্ড ছিল ৮৪২ কোটি মেট্রিক টন। কয়লাবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে আইইএ এই তথ্য জানিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সংস্থাটি বলেছে, বৈশ্বিক কয়লার চাহিদা চলতি বছর সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছাবে এবং আগামী তিন বছরে চাহিদা ২ শতাংশ কমবে। সিএনএনের সংবাদে বলা হয়েছে, এই প্রথম প্যারিসভিত্তিক জ্বালানি সংস্থাটি তিন বছরের মেয়াদে কয়লার চাহিদা হ্রাসের পূর্বাভাস দিল।

আইইএ আশা করছে, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে কয়লার চাহিদা কমতে পারে; ২০২৬ সালের মধ্যে এই চাহিদা ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমতে পারে বলে তাদের পূর্বাভাস। আইইএর জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক কেইসুকে সাদামোরি বলেছেন, এই পূর্বাভাস থেকে বোঝা যাচ্ছে, কয়লা ব্যবহারে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

সাদামোরি বলেছেন, এর আগে কয়লার ব্যবহার কমেছে সেই নজির আছে, কিন্তু তা খুবই স্বল্প সময়ের জন্য এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও কোভিড–১৯-এর মতো মহামারির কারণে তা ঘটেছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কয়লা ব্যবহার হ্রাসের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে কাঠামোগত কারণে অর্থাৎ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে এই পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। সিএনএনের সংবাদে বলা হয়েছে, আগামী তিন বছরে বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত যত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে তার অর্ধেকেরও বেশি হবে চীনে। তথ্যানুসারে, বিশ্বের মোট কয়লার চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি চীন থেকে আসে।

জহির রায়হান এর ‘জীবন থেকে নেয়া’

একটি দেশ। একটি সংসার। একটি চাবির গোছা। একটি আন্দোলন। নান্দনিক পোস্টারের এই স্লোগান পড়ে মনে হতে পারে কয়েকজন নারী আর একটি চাবির গোছা নিয়ে এক আটপৌরে বাঙালি পরিবারের গল্প। কিন্তু সেটি ছিল আসলে একটি রাষ্ট্রের গল্প। রাষ্ট্রের অধিকার আদায়ের গল্প। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমির গল্প।
কালজয়ী নির্মাতা জহির রায়হান পরিচালিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবির এই গল্প ছিল যেন স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এক সাংস্কৃতিক মুখবন্ধ। ২০২০ সালের ১০ এপ্রিল চলচ্চিত্রটি মুক্তির অর্ধশতক পূর্ণ হয়। জহির রায়হানের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় আনিস ফিল্মস করপোরেশনের পরিবেশনায় ১৯৭০ সালে মুক্তি পেয়েছিল ছবিটি।

সবার বুকে তখন মুক্তির আগুন। মুখে বারুদমাখা স্লোগান। পরাধীনতার নিষ্পেষণের একসময়ে জহির রায়হান সেলুলয়েডে অমর করে রাখলেন বাঙালির মুক্তির অধিকার আদায়ের আখ্যান। তখনকার চলচ্চিত্রের গুণীদের মধ্যে কে ছিলেন না ছবিটিতে! সবার আগে কান্ডারি জহির রায়হান। ছিলেন খান আতাউর রহমান, আনোয়ার হোসেন, শওকত আকবর, রওশন জামিল, রাজ্জাক, রোজী সামাদ, আমজাদ হোসেন। তাঁরা সবাই প্রয়াত। তাঁদের সঙ্গে আলাপচারিতা অসম্ভব।
পুরোনো সাক্ষাৎকার, স্মৃতিচারণা আর চলচ্চিত্রবিষয়ক প্রকাশনা থেকে তৈরি করে নিতে হলো এ ছবির পেছনের গল্প। অতীতে প্রথম আলোকে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দেওয়া রাজ্জাক, আমজাদ হোসেন আর সুচন্দার স্মৃতিচারণা এবং অনুপম হায়াতের লেখা জহির রায়হানের চলচ্চিত্র: পটভূমি বিষয় ও বৈশিষ্ট্য, সম্পাদিত বই চলচ্চিত্র সমালোচনা থেকে সাজানো হলো গল্পটি।

ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে ইসরায়েলি গোয়েন্দাকে- ইরান

ইরানের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের সিস্তান অ্যান্ড বালুচিস্তান প্রদেশে এক ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তির নাম–পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আজ শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ওই ব্যক্তি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করতেন বলে মনে করে ইরান।

গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং সেসব তথ্য পরে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার (বিশেষত ইসরায়েলের মোসাদ) কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ ছিল ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এসব তথ্য জানানো হয়েছে ইরানের বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত সংবাদমাধ্যম।