হলফনামা কি আমলনামায় বদলে যেতে পারে?

0
115

আমরা আনন্দের সঙ্গে লক্ষ করছি, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই সংবাদপত্রের পাতা খুললেই দেখা যায় বিভিন্ন প্রার্থীর হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যের নানা বিশ্লেষণ। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০০৫ সালে বিচারপতি এম এ মতিনের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের হলফনামার মাধ্যমে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা; অতীতের ও বর্তমান মামলার বিবরণী; নিজেদের ও নির্ভরশীলদের আয়, সম্পদ, দায়-দেনাসহ আট ধরনের তথ্য মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেন। একই সঙ্গে আদালত নির্বাচন কমিশনকে এসব তথ্য জনগণের মধ্যে বিতরণ করার নির্দেশনা প্রদান করেন, যাতে তাঁরা জেনে-শুনে-বুঝে পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারেন [আবদুল মতিন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ, ৬৬ডিএলআর (২০০৪)]।

নির্বাচন কমিশন আদালতের নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হলেও আমরা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পক্ষ থেকে প্রার্থীদের হলফনামার তথ্যের ভিত্তিতে আসনভিত্তিক তুলনামূলক চিত্র তৈরি করে ২০০৫ সাল থেকে ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করে আসছি। এসব তথ্যের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আমরা এ পর্যন্ত গত তিনটি সংসদ নির্বাচনের জন্য তিনটি বড় ভলিউম প্রকাশ করেছি। নির্বাচনসংক্রান্ত আরও অনেক তথ্য আমরা সুজনের ওয়েবসাইটে (www.votebd.org) প্রকাশ করেছি।

পাশাপাশি আমরা গণমাধ্যমকে এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রার্থীদের সম্পর্কে প্রতিবেদন তৈরি করে জনগণকে সচেতন করতে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। আমরা আনন্দিত যে গণমাধ্যম এসব তথ্য ব্যবহার করে হলফনামায় নানা অসংগতি তুলে ধরছে। প্রসঙ্গত, আমাদের প্রচেষ্টায় হলফনামার ভিত্তিতে তথ্য প্রদানের বিধান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া সব কটি স্থানীয় সরকার আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ব্যর্থ হয়েছে এক দুর্বৃত্তকে ব্যবহার করে আদালতের মাধ্যমে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এই বিধানকে ভন্ডুল করার প্রচেষ্টা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here