রবিবার ,৩ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 705

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ আটকাল ইরানের স্পিডবোট

ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) স্পিডবোট যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাহাজ আটকানোর দাবি করেছে। পারস্য উপসাগরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খবর প্রকাশ করেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, গত কয়েক দিনে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানেন না।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরজিসির একটি স্পিডবোট থেকে ধারণকৃত ভিডিও প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাধারী একটি জাহাজকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের স্পিডবোট তাড়া করছে। ভিডিওটিতে ফার্সি ভাষায় বলতে শোনা যায়, ‘তাদের ধর।’ তবে কখন এই ঘটনা ঘটেছে খবরে সেটা বলা হয়নি।

আল-আরাবিয়ার খবরে বলা হয়েছে, এমন এক সময় এই ঘটনা ঘটল যখন পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরমাণু উত্তেজনা সমাধান করতে গত এপ্রিল মাস থেকে ভিয়েনায় পাঁচ শক্তিশালী দেশের সঙ্গে ছয় দফা সংলাপে বসেছিল। তবে ওই সংলাপ থেকে চুক্তিতে পৌঁছানোর মতো ফলাফল আসেনি।

ইরানের এলিট ফোর্স কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ আটকানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম মুখপাত্র কমোডর তিমোথি হকিন্স বলেন, গত দুই দিনে ইরানের সঙ্গে কোনো অনিরাপদ মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে এমন তথ্য তিনি জানেন না।

গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছিল, হরমুজ প্রণালীতে তাদের একটি যুদ্ধ জাহাজের দিকে ইরানের আটটি দ্রুত গতির স্পিডবোট ধেয়ে আসছিল। তবে ইরান এই ঘটনা অস্বীকার করে।

১০ পৌরসভায় নৌকার টিকিট পেলেন যারা

দেশের দুটি উপজেলা ও ১০টি পৌরসভার উপনির্বাচন এবং প্রার্থীদের মৃত্যুজনিত কারণে স্থগিত হওয়া দুটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এসব নির্বাচনে দলীয় চূড়ান্ত করা হয়। দলের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের এই যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে জানানো হয়- রাজশাহী বিভাগের বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মো. রেজাউল করিম (মন্টু) এবং ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় মোছা. নার্গিস বেগম চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

১০টি পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার টিকিট পেলেন যারা, তারা হলেন- রংপুর বিভাগের দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভায় মো. ইউনুছ আলী, নীলফামারীর ডোমার পৌরসভায় গনেশ কুমার আগর ওয়ালা, রাজশাহী বিভাগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় মো. মোখলেসুর রহমান, বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভায় মো. শাহিদুল বারী খাঁন, খুলনা বিভাগের নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভায় সৈয়দ মসিয়ূর রহমান, ঢাকা বিভাগের নরসিংদীর ঘোড়াশাল পৌরসভায় মো. আল মুজাহিদ হোসেন, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভায় মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আকন্দ, চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভায় মো. গোলাম হাক্কানী, ফেনীর ছাগলনাইয়া পৌরসভায় মোহাম্মদ মোস্তফা এবং খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভায় মো. রফিকুল আলম (কামাল) মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।

পাশাপাশি সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে (মৃত্যুজনিত কারণে স্থগিত হওয়া) বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের খাউলিয়ায় মো. সাইদুর রহমান এবং রামপালের রাজনগরে মোসা. সুলতানা পারভীনকে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।

আ.লীগ প্রার্থীদের জয়জয়কার

দেশের স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদে ২৮ উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব উপ-নির্বাচনের বেশিরভাগ পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

এদিন ১২ উপজেলা পরিষদ, চার সিটি করপোরেশনের পাঁচ কাউন্সিলর ও পাঁচ পৌরসভার এক মেয়র ও চার কাউন্সিলর এবং ছয় ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে। দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে সংঘর্ষে এক র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত অয়েজুদ্দিন বিশ্বাস বেসরকারি ফলাফলে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে তিনি ৬ হাজার ২৮৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস নারিকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৬১৬ ভোট।

অপর দুই প্রার্থী বিএনপি সমর্থিত গোলাম কিবরিয়া রুলু মোবাইল ফোন প্রতীকে ২৭৬ ও জামায়াতের আমিনুল ইসলাম জগ প্রতীকে ৩০ ভোট পেয়েছেন। ১৬টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ চলে।

এদিকে, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা (পশ্চিম) আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল জামান। তিনি টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৭১৯ ভোট।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ঠেলাগাড়ি প্রতীকে একেএম রাশেদুল হাসান টুলু ১ হাজার ৫৫১ ভোট, রেডিও প্রতীকে শামিমুর রহমান ৯১১ ভোট, করাত প্রতীকে সাইফুল্লাহ শান্ত ৪৭ এবং ঘুড়ি প্রতীকে সোহরাব হোসেন বাবু ৩৮ ভোট পেয়েছেন। বেলা ১২টার দিকে হোসনীগঞ্জ এলাকায় ভোটকেন্দ্রের সামনে এক প্রার্থীর সমর্থকরা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে।

দশমিনা (পটুয়াখালী) : সাধারণ সদস্য পদে ভোটযুদ্ধে ভাগ্নে মো. আফজাল হোসেন মোরগ প্রতীক নিয়ে মামা মো. ইকবাল হোসেন মৃধা (তালা প্রতীক) ২৩২ ভোটে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৫নং বহরমপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে কোনো অপ্রতিকার ঘটনা ঘটেনি। বহরমপুর ইউনিয়নে ৮নং ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১ হাজার ৫শ ৪৪ ভোটের মধ্যে ৯৪৭ জন ভোটার ভোট দেন ও ১৫ ভোট বাতিল হয়। দুই মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে মো. আফজাল হোসেন মোরগ প্রার্থীকে ৫৮২ ও মো. ইকবাল হোসেন তালা প্রতীকে ৩৫০ ভোট পেয়েছেন।

চট্টগ্রাম : কারাগারে থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর (চকবাজার) ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন নূর মোস্তফা টিনু। তিনি ভোট (মিষ্টি কুমড়া প্রতীকে) পেয়েছেন ৭৮৯টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আবদুর রউফ।

তিনি ভোট (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট) পেয়েছেন ৭৭৩টি। ১৫টি ভোটকেন্দ্রে ৮৬টি ভোটকক্ষে ভোট দেন ভোটাররা। ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে ২১ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) : পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পৌরসভার (৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ড) সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের উপ-নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। তিন নারী প্রার্থীর মধ্যে রেহেনা বেগম (জবা ফুল) ৭০১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হাফিজা বেগম (অটোরিকশা)। তিনি পেয়েছেন ৫৩৭ ভোট। ২ হাজার ৬৯৬ জন ভোটারের মধ্যে ১৮১৯ জন ভোট দিয়েছেন।

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ভানু লাল রায় নৌকা প্রতীক নিয়ে ৫৮ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রেম সাগর হাজরা আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ২৮৩ ভোট।

নির্বাচনে কারচুপি ও ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনে অপর দুই প্রার্থী উপজেলা কৃষক লীগ নেতা আফজল হকের প্রাপ্ত ভোট ১২ হাজার ৪৪৬ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকে মো. মিজানুর রব পেয়েছেন ৭৯৪ ভোট । অন্যদিকে, চা বাগান অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের কাসিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে জনতার সাথে র‌্যাবের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় র‌্যাবের এক সদস্য আহত হয়েছে। র‌্যাব আত্মরক্ষার্থে এক রাউন্ড এসএমজির গুলি ছুড়েছে বলে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়া জানান।

দুমকি (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ৩নং মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে ভোট নেওয়া হয়েছে। ২১ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে এ ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্যের প্রতিদ্বন্দ্বী ২ প্রার্থী সমসংখ্যক ভোট পাওয়ায় ফলাফল অমীমাংসিত থাকায় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। পুনঃনির্বাচনে সমসংখ্যক ভোট পাওয়া মো. মাসুম বিল্লাহ (ফুটবল) ও মো. মশিউর রহমান (তালা) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বরিশাল : বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইভিএমে ৩টি কেন্দ্রে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে জাহিদ হোসেন, ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে হুমায়ন কবির এবং লাটিম প্রতীক নিয়ে সৈয়দ গোলাম কবির মামুন।

চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মী অনেকেই বঞ্চিত

দেড় বছর আগে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণের পরপরই সর্বত্র নেমে আসে আতঙ্ক। রাজধানীসহ সারা দেশেই প্রতিদিনই বাড়তে থাকে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দফায় দফায় কঠোর বিধিনিষেধে সৃষ্টি হয়েছিল ভীতিকর পরিস্থিতি।

নিজেকে নিরাপদ রাখতে পরিবারের সদস্যরাও যথাসম্ভব আক্রান্তদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলছিলেন। এমন দুঃসময়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সম্মুখযোদ্ধা-চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা (মাঠ পর্যায়ের নমুনা সংগ্রহাকারী, পিসিআর ল্যাবে কর্মরত টেকনোলজিস্ট)।

রাতদিন সেবা দিয়েছেন তারা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়েও একই ধরনের ব্যস্ত সময় পার করেছেন তারা। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারাও গেছেন অনেকে। এ পর্যন্ত প্রাণ গেছে ১৮৬ চিকিৎসক ও ৩৭ নার্সের।

আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ১২২ চিকিৎসক, ২ হাজার ২৮৪ নার্স ও ৪ হাজার ২৯ স্বাস্থ্যকর্মী। তাদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজের কথা বিবেচনা করে সরকার বিশেষ সম্মানি (প্রণোদনা প্যাকেজ) ঘোষণা করে।

বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৫০ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ১১০ কোটি টাকা। কিন্তু কয়েক দফা আবেদনের পরও অদ্যাবধি প্রণোদনার টাকা পাননি তাদের অনেকেই। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

করোনাকালে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হয়। তবে অধিকাংশই শহরাঞ্চলে। মফস্বলে সরকারি হাসপাতালই ছিল রোগীদের ভরসা। সেই অর্থে প্রায় সারা দেশের চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা আক্রান্তদের সেবা দেন।

কিন্তু নানা দেনদরবার ও তদবির করে শহর পর্যায়ের অনেক চিকিৎসক তাদের প্রণোদনার অর্থ তুলতে সক্ষম হয়েছেন। সেই তুলনায় বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অন্যরা তা উঠাতে পারেননি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট) ড. এনামূল হক যুগান্তরকে বলেন, করোনাকালে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ সম্মানি (প্রণোদনা) বণ্টন হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মাধ্যমে ইতোমধ্যে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্সরা পেয়েছেন।

এ খাতে দেড়শ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১১০ কোটি টাকা বণ্টন হয়েছে। বাকি বরাদ্দের অর্থও সংশ্লিষ্টরা প্রাপ্যতা সাপেক্ষে দ্রুত পেয়ে যাবেন।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ যুগান্তরকে বলেন, চিকিৎসকরা প্রণোদনার জন্য নয় বরং দায়িত্ববোধ থেকে রোগীদের সেবা দিয়েছেন।

সেবা দিতে গিয়ে যেমন নিজেরা আক্রান্ত হয়েছেন, তেমনই তাদের পরিবারের অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন। এত ঝুঁকির মধ্যেও পেশাগত নৈতিকতা ও দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করছেন।

ফলে প্রধানমন্ত্রী খুশি হয়ে প্রণোদনা ঘোষণা দেন। অর্থ মন্ত্রণালয় তা বরাদ্দও দিয়েছে। বর্তমানে মহামারি শেষ হতে চলছে; কিন্তু চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রণোদনা পাচ্ছেন না-এটা দুঃখজনক।

মূলত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অদক্ষতার ফলে এমনটা হচ্ছে, যা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তাদের উদাসীনতায় চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবল ভেঙে পরবে। পরবর্তী দুর্যোগে এর প্রভাব পড়তে পারে। সুতরাং বরাদ্দকৃত অর্থ দ্রুত পরিশোধ করা উচিত।

যশোরের মনিরামপুর উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের নার্স নাজমা বেগম যুগান্তরকে বলেন, মহামারির শুরু থেকে কোভিড আক্রান্তদের সেবা দিচ্ছেন। যশোরে প্রথম রোগী শানাক্ত হয় তাদের হাসপাতালে।

কাজের স্বীকৃতি হিসাবে সম্মানি ঘোষণায় খুশি হয়েছিলেন। এজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই দফায় প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠিয়েছেন। কিন্তু এখানকার ডাক্তার-নার্স এখন পর্যন্ত কেউ কিছু পায়নি। সর্বশেষ মঙ্গলবার অধিদপ্তর বরাবর আবারও ডাকযোগে তথ্য পাঠিয়েছেন।

রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাশহুরুল আলমের অভিযোগ-হাসপাতালে ১৫ দিন ডিউটির পর ১৫ দিন কোয়ারেন্টিনের খরচ সরকারের দেওয়ার কথা।

তিনি মুগদা হাসপাতালের কোভিড আইসিইউতে ১৬ মাস ডিউটি করছেন। কর্তৃপক্ষ প্রথম তিন মাস প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের অংশ হিসাবে হোটেলে থাকা-খাওয়ার খরচ দিলেও বাকি ১৩ মাস নিজের থেকে দিতে হয়েছে।

এ সময় প্রায় ৩ লাখ টাকা চলে গেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি কোভিড হাসপাতালে আইসিইউর মতো স্পর্শকাতর জায়গায় দিনরাত রোগীর সেবা দিয়েছেন।

এজন্য প্রণোদনার কিছু অর্থ পেয়েছেন। হাসপাতালের কোভিড আইসিইউ-১-এ ২৪ জন এবং আইসিইউ-২তে ১৬ জন চিকিৎসককে ১৩ মাস পকেটের টাকা দিয়ে হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ার বিভাগ) ডা. এফবিএম আব্দুল লতিফ করোনা আক্রান্ত হয়ে গত বছরের ৬ আগস্ট মারা যান। তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম যুগান্তরকে বলেন, অধিদপ্তরের পরিচালক হিসাবে তিনি বিভিন্ন হাসপাতাল গিয়েছেন।

হঠাৎ জ্বরভাব দেখা দিলে ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে আসেন। পরিস্থিতি খারাপ হলে বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চেস্ট সিটিস্ক্যান করে ৭০ শতাংশ ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানান, করোনা আক্রান্তের ফলে এমনটা হয়েছিল।

হাসপাতালে ভর্তি করলে করোনা পজিটিভ আসে। সে সময় রোগীর দিকে বেশি নজর দেওয়ায় আরটিপিসিআর পরীক্ষা রিপোর্টের কপি নেওয়া হয়নি। তাছাড়া ভর্তির ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই স্বামীর মৃত্যু হয়।

এরপর ক্লিনিক্যাল রিপোর্টসহ অধিদপ্তরে দুই দফায় কাগজপত্র জমা দিলেও আরটিপিসিআর ল্যাবের রিপোর্ট না থাকায় মন্ত্রণালয়ে তারা পাঠায়নি। ফলে অবসরকালীন অর্থ পেলেও মৃত্যু ক্ষতিপূরণ বা সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসাবে কোনো প্রণোদনা পাননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. ফরিদ উদ্দীন মিঞা যুগান্তরকে বলেন, দেশে করোনা ডেডিকেটেড সরকারি হাসপাতাল ছিল ১৫৪টি।

এর মধ্যে ঢাকার ১৭টি সরকারি ও ৩১টি বেসরকারি হাসপাতালে ৫ হাজার ৪৬৬টি সাধারণ শয্যা এবং ৮০৩টি কোভিড আইসিইউ ও ৪৪৩ কোভিড এইচডিইউ শয্যা রয়েছে।

সারা দেশে করোনা রোগীদের জন্য ১৫ হাজার ৮৬টি সাধারণ, ১ হাজার ২৬২টি আইসিইউ ও ৭৩৩টি এইচডিইউ শয্যা রয়েছে।

তবে দেশের ২ হাজার ২৫৮টি সরকারি হাসপাতালে ও ৯ হাজার ২২৯টি বেসরকারি হাসপাতালের প্রায় সবখানেই করোনা উপসর্গ যুক্ত বা উপসর্গহীন রোগীরা সেবা নিয়েছেন।

ভাইরাসটির প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের পিক টাইমে শয্যার বাইরেও অসংখ্য রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা রোস্টার ডিউটি করেছেন।

এদিকে করোনাকালে সেবাদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা পেতে কতজন চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী আবেদন করেছেন এবং কতজন পেয়েছেন সে তথ্য জানাতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের বাজেট এবং অর্থ বিভাগের পরিচালক ডা. মো. মঞ্জুরুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার কাছে নেই। পরিচালকের (প্রশাসন) সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

পরে যোগাযোগ করা হলে প্রশাসনিক শাখার পরিচালক ডা. শামিউল ইসলামের নির্দেশে সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মাদ মইনুল হক খান যুগান্তরকে বলেন, তাদের কাছে ১৩২টি হাসপাতাল প্রণোদনার অর্থ পেতে আবেদন করছে।

সেগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অর্থ প্রেরণ করায় কোন হাসপাতালের কতজন চিকিৎসক কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রণোদনা পেয়েছে সে তথ্য অধিদপ্তরের কাছে নেই।

এছাড়া করোনায় মৃত্যুবরণকারী চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮ জনের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছে।

এর মধ্যে ১৬ জনের তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, বাকি দুজনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন। এর মধ্যে ১৩ জন ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে নিশ্চিত করে।

একইভাবে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. মো. আব্দুল লতিফ যুগান্তরকে বলেন, করোনা রোগীদের সেবাদানে নিয়োজিত নার্সদের বেতন কাঠামো একেকজনের একেকরকম হওয়ায় প্রণোদনার অর্থও কমবেশি পেয়েছে।

একজন নার্সের সর্বনিু বেসিক (মূল বেতন) ১৬ হাজার টাকা হিসাবে বেসিক অনুযায়ী দুটি প্রণোদনা পেয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ হাজার ৪৭০ জন নার্স প্রণোদনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৪৭ জন পেয়েছে।

অধিদপ্তরের হিসাবে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩৭ জন নার্স ও মিডওয়াইফ মারা গেছেন।

এর মধ্যে ১৯ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ৩৭ লাখ ৫০ লাখ টাকা ও ৩ জন সহকারী স্টাফ নার্স ২৫ লাখ টাকা মৃত্যজনিত ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। বাকিদের তালিকা হাতে পাওয়া সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বছরের ৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে করোনা রোগীদের সেবার সঙ্গে জড়িতদের জন্য বিশেষ সম্মানী ঘোষণা করেন। মহামারিতে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের (চিকিৎসক, নার্সসহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মী) প্রণোদনা ছিল দুই মাসের মূল বেতন।

এ ছাড়া করোনা হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের ১৫ দিনের দৈনিক ২ হাজার টাকা ভাতা ছিল। করোনা আক্রান্ত হলে চিকিৎসকদের জন্য ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবিমা এবং মারা গেলে তা পাঁচগুণ হবে।

দেশে ভূমিকম্প অনুভূত

রাজধানী ঢাকায় হঠাৎ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ কম্পন অনুভূত হয়।

মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানেও।

রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। এর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের মনিওয়া নামক এলাকা থেকে ৪৬.১ কিলোমিটার পূর্ব- দক্ষিণ-পূর্বে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১১৪ কিলোমিটার গভীরে এ কম্পনের সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দপ্তরের (ইউএসজিএস) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এ ভূমিকম্প বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বেশি অনুভূত হয়েছে। তবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাঁপুনি টের পেয়েছেন অনেকেই।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের অবস্থান ঢাকা থেকে ৪৭৭ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্ব দিকে।

যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট

পড়ন্ত বিকাল। সামারের শেষদিক। সেপ্টেম্বরের এ শেষের সময়টায় ঠাণ্ডা শুরু হওয়ার কথা। সাধারণত সেপ্টেম্বরের প্রথম থেকেই ঠাণ্ডা শুরু হয়ে যায়। গ্রিনহাউস এফেক্টের কারণে সামার প্রলম্বিত এবং শীত আগমনে বিলম্ব হচ্ছে। সামারের গরমটুকু শেষ হওয়ার পথে।

টেমস নদীর ওপর দিয়ে সূর্যিমামা দিন শেষে বিদায় নেওয়ার আগে তার শেষ আভাটুকু চারিদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজের উপর দিয়ে হেঁটে আসার সময় ইমদাদ এবং নিতুর এই দৃশ্য দেখতে অপূর্ব লাগছিল। অনেক দিন পর আজ ইমদাদ এবং নিতু ঘুরতে বেরিয়েছে। শুধুমাত্র ওরা দুজন। বাসায় বাচ্চাগুলো রেখে এসেছে। বাচ্চারা স্কুল থেকে এসে নাস্তা করে যার যার মতো হোমওয়ার্ক করছে।

ওরা দুজন আজ লন্ডনের টেমস নদীর তীরে টাওয়ার ব্রিজের পশ্চিমে পাশে যেখানে সিটি হল সেখানকার সবুজ ঘাসের গালিচায় বসে আছে। হাতের বাম দিকে লন্ডন ব্রিজ এবং ডান দিকে টাওয়ার ব্রিজ। লন্ডনের আইকন হচ্ছে এই টাওয়ার ব্রিজ। পশ্চিমে লন্ডন ব্রিজ এর আগে নোঙর করা একটি যুদ্ধজাহাজ তাদের দৃষ্টিকে আটকে দিচ্ছে। এ জাহাজের নাম হচ্ছে এইচএমএস বেলফাস্ট।

এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত একটি যুদ্ধজাহাজ; যা বর্তমানে মিউজিয়াম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ওদের থেকে একটু দূরে আইসক্রিমের গাড়ির সামনে কিছু বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন রঙের বাচ্চা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটাই লন্ডনের বৈচিত্র্য। কালচারাল ডাইভারসিটি।

ঢাকায় যেমন বাংলাদেশের সব জেলার লোক পাওয়া যায় ঠিক তেমনি লন্ডনে পৃথিবীর সব দেশের, সব ভাষার লোকদের পাওয়া যায়। সবাই মিলে মিশে বসবাস করছে, কাজ করছে। নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করছে। ওদের পেছনে বিশ-বাইশ বছরের দুজন কপোত-কপোতি খুব ঘনিষ্ঠভাবে বসে ভালোবাসার কথা প্রকাশ করছে।

ওদের ঠিক সামনেই আশি ঊর্ধ্ব দুজন ব্রিটিশ নর-নারী খুব মজা করে আইসক্রিম খাচ্ছে। এই বয়সে ওদের ভালোবাসা দেখে ওদের নিজেদের লজ্জা লাগছে। সারাক্ষণ দুজনে হাত ধরে বসে আছে এবং একজন আরেকজনকে আইসক্রিম খাইয়ে দিচ্ছে। ওরাও একটু আগে দুটো আইসক্রিম কিনে খেতে খেতে নিজেদের ফেলে আসা দিনগুলো নিয়ে কথা বলছিল।

এই তুমি এতো কী ভাবছো আজ? হঠাৎই নিতুর প্রশ্নে ইমদাদের ভাবনায় ছেদ পরে। না, কিছু না তো! ভাবছিলাম কোথা থেকে কোথায় আসলাম আজ।

মাঝে মাঝে তোমার কথার মাথা-মুণ্ডু বুঝি না। অন্য সময় মুখ ঝামটা দিলেও আজ তার পুনরাবৃত্তি করলো না নিতু। কেন জানি মনে হচ্ছে শেষ বিকেলের এই পরিবেশে মুখ ঝামটা দেওয়াটা অন্যায় হবে। কেন জানি আজ ইমদাদকে একটু বেশিই ভালোবাসতে ইচ্ছে করছে তার। সামনের বুড়ো-বুড়ির দেখাদেখি ও আরেকটু ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে ইমদাদ।

তোমার কি মনে আছে যখন আমি প্রথম লন্ডনে আসি সেদিনকার কথা। ইমদাদ শুরু করে।

আমি জানবো কী করে? আমি তো তখন তোমাকে চিনতাম না। নিতু উত্তর দেয়।

না, সেই কথা বলছি না। তোমাকে তো বলেছিলাম লন্ডনে আসার পরে আমার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কথা। সংগ্রামের কথা। আজ শুনবে কি আবার সেই পুরনো দিনের কথাগুলো!

বলো না আবার প্লিজ। যতবার শুনি ততবারই ভালো লাগে। কতই না কষ্ট করেছো তুমি! আমাদের দুজনের আজকের এই একান্ত সময়টুকু পাওয়ার জন্য আমাদের কতই না কাঠ-খড় পোড়াতে হয়েছে। কাজ-ঘর-বাচ্চা এই ছিল আমাদের জীবনের ধরাবাঁধা রুটিন। হাঁপিয়ে উঠছিলাম। আজ আবার শুনবো নতুন করে। বলো তুমি। নিতু ইমদাদের ঘাড়ে হেলান দিয়ে বসে।

২০০১ সালের কথা। আশপাশের বন্ধু-বান্ধব যার যার মতো প্রতিষ্ঠিত হলেও নিজে যেন দাঁড়াতে পারছিলাম না। তিতুমীর কলেজের থেকে পড়া শেষ করে মিল্টন ওয়ার্ল্ড ভিশনে, মনির বিএটিসির ডিস্ট্রিবিউশনে, হেদায়েত এক কোম্পানিতে এবং মিজানও কোনো এক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিল। রফিক নামের এক বন্ধুকে সরকারি দফতরে চাকরির জন্য টাকা দিয়ে ধরা খেয়েছি। এখানে বন্ধু রফিকের কোনো দোষ ছিল না। সে তো আমার জন্যই চেষ্টা করছিল। বন্ধু এরশাদ তখন বিএটিসিতে কাজ করত।

এরশাদের সহযোগিতায় পাবনায় গিয়ে তার এরিয়ার এক ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে কাজও পেয়েছিলাম আমি ও বন্ধু মনির। কিন্তু বাসা থেকে পারমিশন মিলল না পাবনায় থেকে কাজ করার জন্য। ড্যাফোডিলে কম্পিউটার ডিপ্লোমায় ভর্তি হলাম। পাশাপাশি নিজের চেষ্টায় আরেক বন্ধু ইমুর সাথে হস্ত শিল্পের ব্যবসা শুরু করলাম। প্রাইভেটে মাস্টার্স করলাম। আইসিএমএ তে যেতাম মাঝে মাঝে।

সব কিছু নিয়ে যেন কেমন তাল-গোল পাকিয়ে ফেলছিলাম। সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছিলাম না। মানুষ বাবা-মার টাকা- পয়সা নষ্ট করে নেশা-পানি- আড্ডায়। আর আমি নষ্ট করেছি পড়া-লেখা-কাজ-ব্যবসা ইত্যাদির নামে। আমার কলেজ জীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাপ্পী আন্তরিকভাবে চাচ্ছিল আমি যেন আমেরিকায় তার কাছে চলে যাই। কিন্ত আল্লাহর ইচ্ছা ছিল ভিন্ন। দুইবার চেষ্টা করার পরেও আমেরিকার ভিসা পাইনি।

এমন সময়ই আল্লাহর ইচ্ছায় লন্ডনে আসার একটি সুযোগ পেয়ে যাই। আব্বার কাছে অনুরোধ করি আমাকে যেন সে লন্ডনে পাঠিয়ে দেয়। আব্বার ব্যবসার অবস্হা তখন ভালো ছিল না। সে তার এক কলিগের কাছ থেকে টাকা ধার করে আমাকে এক সেমিস্টারের টিউশন ফি দেয়। আমিও লন্ডনে এসে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচি।

লন্ডনে এসে উঠি টংগির বন্ধু জামিলের আরেক বন্ধু আলমগীরের ওখানে। ইচ্ছে করেই ডেফোডিলের ছোট ভাই তারেকের ওখানে উঠিনি যার সাথে একসাথে কম্পিউটার ডিপ্লোমা করেছি। আলমগীর মাঝে মাঝে আমাদের টঙ্গীর বাসায় আসতো। তখন থেকেই ঘনিষ্ঠতা। আলমগীর তখন ক্লাপহাম কমনের মহারানী রেস্টুরেন্টে কাজ করতো। কাজে থাকায় আমাকে হিথ্রো এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভও করেনি।

আমার সংগ্রামের শুরু সেদিন থেকেই। দুটি বড় বড় লাগেজ টেনে-হেঁচড়ে অপরিচিত লন্ডন শহরের অপরিচিত আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেনে চড়ে বন্ধুর রেস্টুরেন্টে চলে আসি। আসার পথে ট্রেন পরিবর্তন করার সময় প্রতিবারই বন্ধু আলমগীরকে কল করে ডিরেকশন নিয়েছিলাম। বন্ধুকে দেখে যেন আমার ঘাম ছেড়ে জ্বর ছাড়ে।

দুই রাত আলমগীরের রেস্টুরেন্টে কাটিয়ে তৃতীয় দিনের মাথায় লন্ডনের বাঙালিপাড়া ব্রিকলেনের এক বাঙালি জব সেন্টার থেকে বিশ পাউন্ডের বিনিময়ে রেস্টুরেন্টের ওয়েটারের কাজ পাই ব্রমলি সাউথ নামক জায়গায় যা লন্ডন ব্রিজ স্টেশন থেকে ট্রেনে বিশ মিনিটের দূরত্বে।

কি ঘুমিয়ে পড়লে নাকি! নিতুকে জিজ্ঞেস করে ইমদাদ। একটু লম্বা হয়ে যাচ্ছে না!

না না। আমি শুনছি তোমার জীবন যুদ্ধের কথা। আমরা সবাই যোদ্ধা। আমরা প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছি। তুমি বলে যাও, থেমো না।

লন্ডনের ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট গুলোর নব্বই ভাগই বাংলাদেশি মালিকানাধীন কিন্ত নামে ইন্ডিয়ান। ইংরেজরা ভারত শোষণ করার সময় থেকেই ভারতীয় ফুডের সাথে পরিচিত। তাই এখানকার বাংলাদেশিরা ব্যবসা হারানোর ভয়ে তাদের রেস্টুরেন্টগুলো ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট নামেই পরিচিত করিয়েছে। ইংল্যান্ডের বাংলাদেশিদের আবার নব্বই ভাগই সিলেট অঞ্চলের।

রেস্টুরেন্টে কাজে যোগ দিয়েই পরের দিন কলেজে ভর্তি হয়ে এক দিন ক্লাস করে ড্রপ দিয়ে দিই। থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্হা রেস্টুরেন্টের ভিতর। লন্ডন থেকে একটু দূরে হওয়ায় স্টাফরা কাজ শেষে রেস্টুরেন্টের উপরের ঘরে থেকে যেতো এবং শুধুমাত্র উইক এন্ডে ঘরে যেতো পরিবারের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য। আমার কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। তাই রেস্টুরেন্টের উপরের ঘরেই থাকতাম। রেস্টুরেন্টের সিলেটি স্টাফ গুলো আমাকে প্রথম প্রথম মেনে নিতে পারছিল না।

ওদের ভাষায় আমি ছিলাম ঢাকাইয়া, শিক্ষিত। এত শিক্ষিত হয়েও আমি কেন রেস্টুরেন্টে কাজ করব? টাকার জন্য? বাংলাদেশের সিলেট বাদে বাকি সব অঞ্চলের লোকদের সিলেটিরা ঢাকাইয়া বলতো। আমি কোনোরকমে মুখ বুঁজে ওদের টিকা-টিপ্পনি সহ্য করে কাজ করে যাচ্ছিলাম।

আমার তো যাওয়ার আর কোনো জায়গা ছিল না। নতুন এসেছি লন্ডনে। ভালো ইংরেজিও বলতে পারি না যে অন্য কোথাও কাজ নিব। কাজ নিলেও বাসা ভাড়া ও খাওয়া-দাওয়ার পর হাতে কিছু সেভিংস থাকবে না। দেশে কীভাবে টাকা পাঠাব? এসব চিন্তায় সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করে যেতাম।

একদিন বন্ধু তানিম যে নটরডেম কলেজে পড়তো এবং একসাথে প্রাইভেট পড়েছি, আমার সাথে দেখা করতে রেস্টুরেন্টে আসে সেই সুদূর অক্সফোর্ড থেকে। সে অক্সফোর্ডে তার মামার রেস্টুরেন্টে কাজ করতো। খুবই চাপা স্বভাবের এবং মেধাবী ছাত্র ছিল সে। হঠাৎ কি হলো তার কে জানে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সে রাশিয়ার চলে যায় উচ্চশিক্ষার জন্য। সেখানে কয়েক বছর থেকে কাগজপত্র ছাড়াই ইংল্যান্ডে এসে মামার রেস্টুরেন্টে কাজে লেগে যায়। পড়ালেখা আর করে নাই। আমার তো এখন মনে হয় সে তখন আমার মতোই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। সেইদিন তানিম আমার সাথে কিছু সময় কাটিয়ে আবার অক্সফোর্ডে ফিরে গিয়েছিল কিছু না খেয়ে। তানিম নিজে সিলেটি, তাই হয়তো বুঝেছিল আমাকে আবার কথা শুনতে হবে সে রেস্টুরেন্টে কিছু খেলে।

কথা বলাতে ব্যস্ত থাকায় ওরা খেয়াল করেনি কখন যেন সূর্যিমামা টুপ করে পানিতে হারিয়ে গেছে। চারিদিকে নিয়ন লাইট গুলো একে একে স্বয়ংক্রিয় ভাবে জ্বলে উঠছে। ওদের আশে পাশের পুরনো লোকগুলো চলে গিয়ে নতুন লোক চলে এসেছে। কেউ কেউ আবার অফিস ফেরত। গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডের সাথে বসে উবার, ডেলিভারো ইত্যাদির মাধ্যমে টেকওয়ে অর্ডার করে রাতের ডিনার খোলা আকাশের নিচে করে নিচ্ছে।

চলো উঠি। সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। ইমদাদ তাড়া দেয় নিতুকে।

না। আরেকটু বসি। তোমার কথাগুলো শেষ করো। অনেকক্ষণ ধরে তন্ময় হয়ে শুনছিলাম নিতু।

আবার শুরু করে ইমদাদ। ব্রমলি সাউথের রেস্টুরেন্টে সর্বমোট দুই মাস কাজ করি। কলেজ থেকে ওয়ার্নিং লেটার আসছিল যে কলেজে ফেরত না আসলে তারা হোম অফিসকে ইনফর্ম করবে।

আবার কিছু দিন কলেজে ক্লাস করে বন্ধু আলমগীরের সহযোগিতায় ওয়েস্ট লন্ডনের বাটারসি পার্ক রোডের একটি রেস্টুরেন্টে কাজ নিই। এখান থেকে কলেজের দূরত্ব কিছুটা কম। কলেজ ছিল লন্ডন ব্রিজ এলাকায়। এক বাসেই যাওয়া আসা করা যেত।

সপ্তাহে তিন দিন ক্লাস ছিল। রেস্টুরেন্টের কাজ থেকে একদিন অফ পেতাম। শুধুমাত্র অফ দিনেই ক্লাস করতাম কিন্তু বাকি দুই দিন ক্লাস না করায় পড়ালেখার চাপ বেশি পরে যাচ্ছিল এবং কলেজে নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় কলেজ থেকেও চাপ আসছিল।

রেস্টুরেন্টের গাভনার (লন্ডনের রেস্টুরেন্ট মালিককে গাভনার বলে) আমাকে ভালোবাসতো। তাকে অনুরোধ করে সপ্তাহে কলেজের তিন দিন অফ নিয়েছিলাম। তারপর থেকে আমার অফ দিনে নিয়মিত কলেজের ক্লাসে যোগ দিয়েছিলাম। বাকি দিন গুলো রেস্টুরেন্টে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছিলাম। অফ দিনে সকাল নয়টা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত ক্লাস করে আবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত একটা পর্যন্ত কাজ করতে হতো।

পড়ার চাপ বেড়ে যাওয়ায় রেস্টুরেন্টের উপরে রুমে একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ধার এনেছিলাম আলমগীরের বন্ধু মইনের কাছ থেকে। তখন কম্পিউটারে ওয়াইফাই বা ইন্টারনেটের কোনো কানেকশন ছিল না। বিশ-পঁচিশ মিনিট হাঁটা দূরত্বে ক্লাপহাম জংশনের পাবলিক লাইব্রেরিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য বুকিং দিয়ে রাখতাম। উইকএন্ডে অথবা কলেজের অফ ডেতে লাঞ্চ ব্রেকে লাইব্রেরি ব্যবহার করে অ্যাসাইনমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় ইনফরমেশন ফ্লপিড্রাইভে সেভ করে রাখতাম।

আমি আগে থেকেই নিয়মিত নামাজ পড়তাম কিন্তু ক্লাস এবং কাজের চাপে নামাজ সময়মতো পড়তে পারতাম না। আবার এ কথাও সত্য যে, রেস্টুরেন্টে আমাকে অ্যালকোহল সার্ভ করতে হতো। প্রতিদিন কাজ শেষে গোসল করে সারাদিনের নামাজ এক সাথে পড়তাম।

তারপর ফ্লপিড্রাইভে সেভ করা রাখা ইনফরমেশনগুলো দিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট সাজাতাম। রাত শেষের দিকে এক-দুই ঘণ্টা ঘুমিয়ে কলেজে চলে যেতাম। এভাবেই দিন পার করছিলাম। কলেজের এক সেমিস্টার ক্রেডিট স্কোর নিয়ে পাশ করলাম। বাবার কাছ থেকে নেয়া টিউশন ফি পরিশোধ করে দিলাম।

অনেক দিন থেকেই মনের মধ্যে অপরাধ বোধের জন্ম নিচ্ছিল। আমি নামাজ পড়ছি আবার অ্যালকোহল সার্ভ করছি। দুটি বিপরীত ধর্মী কাজ কীভাবে করছি? ঠিক করছি? নবিজির স্পষ্ট হাদিস, এলকোহলের সাথে জড়িত চৌদ্দ প্রকার লোক জাহান্নামে যাবে। যে এলকোহল খায়, যে বানায়, যে সার্ভ করে, যে পরিবহন করে ইত্যাদি। আমার ইনকাম কি তাহলে হালাল হচ্ছে?

হালাল না হলে এই হারাম পয়সা আবার দেশে পাঠাচ্ছি! আবার ভাবি আমার তো কোন উপায় নেই। অন্য কোথায় কাজ পাবো? এই কাজ ছেড়ে দিলে খাবো কি? থাকবো কোথায়? কলেজের টিউশন ফি কিভাবে দিব? উপায় নাই বলতে আমি কি বুঝাচ্ছি। আমি কি চেষ্টা করেছি? না খেয়ে মারা যাচ্ছি? নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে আবার নিজেই প্রতিনিয়ত হেরে যেতাম।

হঠাৎ করে কোথা থেকে আমার মনের মধ্যে শক্তি আসলো জানি না। আল্লাহর হেদায়েত প্রাপ্ত হলাম। আল্লাহর ওপর ভরসা করে ডিসিশন নিলাম এই হারামের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ আর করবো না। কাজ ছেড়ে দিব। কপালে যা আছে তাই হবে। শয়তান কানে কানে বলছিল ইমোশনাল না হতে।

কাজ ছেড়ে দিলে খাবো কী? লন্ডনেই বা থাকবো কীভাবে ইত্যাদি। শয়তানের কথা না শুনে আল্লাহর ওপর ভরসা করে রেস্টুরেন্টের কাজ ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দিলাম যেখানে দীর্ঘ চার মাস কাজ করেছি। আমার জীবন-মরণের মালিক যেখানে আল্লাহ। সেখানে কী রিজিকের ভার তাঁর ওপর দিয়ে ভরসা করতে পারব না?

অক্সফোর্ডের তানিম আমাকে অনেকদিন থেকেই ওর ওখানে কয়েক দিন বেড়িয়ে যেতে বলছিল। কাজ ছাড়ার দিনই তানিমের ওখানে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম কিন্তু ওকে আমার কাজ ছেড়ে দেবার কথা কিছুই বললাম না। খামোখা চিন্তা করবে।

গাভনার আমাকে কাজে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছিল। বেতন বাড়িয়ে দিবে, অফ ডে বাড়িয়ে দিবে ইত্যাদি। সকল প্রলোভন দূরে রেখে আমি এক সকালে আবার সেই লাগেজ দুটি নিয়ে আল্লাহর নামে অনিশ্চিত পথে বেরিয়ে পড়লাম। প্রথমেই নটিংহিল গেটের বাংলাদেশ সেন্টারে ডেফোডিলের পরিচিত ছোটভাই সাজ্জাদের ওখানে লাগেজগুলো রেখে শুধুমাত্র হাতব্যাগ নিয়ে অক্সফোর্ডে রওনা দিলাম।

অক্সফোর্ডে বিনা চিন্তায় দুই দিন ঘুরলাম, খেলাম। আসার দিনের আগের রাতে সাজ্জাদ ফোনে বললো যে পরের দিন লিভারপুল স্ট্রিটে ফাস্ট ফুড শপ আপারক্রাস্টে ইন্টারভিউ আছে। যদি সকাল সকাল আসতে পারি তাহলে সে আমার নাম দিবে ইন্টারভিউয়ের জন্য। আমি রাজি হয়ে গেলাম। খুশিতে মনটা ভরে ওঠল। আল্লাহ সাজ্জাদের মাধ্যমে আমার জন্য কাজের ব্যবস্হা করে দিয়েছেন। কেন যেন মনে হচ্ছিল আমার কাজ হয়ে যাবে।

পরের দিন আপারক্রাস্টে ইন্টারভিউ দিয়ে আমি, সাজ্জাদ এবং ড্যাফোডিলের আরেক ছোটভাই তারেকসহ বেরিয়ে পড়লাম থাকার জায়গা খুঁজতে।

লিভারপুল স্ট্রিট থেকে হেঁটে হেঁটে ব্রিকলেন, হোয়াইটচেপেল হয়ে স্টেপনিগ্রিন পর্যন্ত চলে আসলাম প্রতিটি দোকান, মসজিদে সাবলেট খুঁজতে খুঁজতে; কিন্তু পেলাম না। বাংলাদেশের মতো এখানে দেয়ালে, গাছে টু-লেট কিংবা সাব-লেটের নোটিশ লাগানো যায় না। রাত হয়ে যাচ্ছিল কিন্তু মাথা গুজবার জায়গা পাচ্ছিলাম না। স্টেপনিগ্রিন মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে সাজ্জাদ মসজিদের সামনে ওসেন এস্টেটের একটি ফ্লাটে রুম ভাড়া নিয়ে নিল। একটি ছোট রুম। আমার জন্য একটু এক্সপেন্সিভ।

তবুও নিয়ে নিলাম, কিন্তু খাব কী? সাজ্জাদ তাড়াতাড়ি পাশের রহিম ব্রাদার্স নামক গ্রোসারি শপ থেকে দুটি পাতিল, চাল, ডাল, পেঁয়াজ, মুরগি, মসল্লা ইত্যাদি বাজার করে রান্না করে দিয়ে গেল। বলে গেল দুই দিন পরে আবার এসে রান্না করে দিয়ে যাবে। খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়লাম। শান্তির ঘুম দিলাম। আল্লাহ আমার রুজি-রুটির মালিক। আমার আবার ভয় কী?

পরের দিন সানডে। ব্রিকলেনের সানডে মার্কেট থেকে একটি পুরনো সাইকেল কিনে কলেজ যাওয়া শুরু করলাম। এক সপ্তাহের মাথায় আপারক্রাস্টে কাজে যোগদান করার সুখবর পেলাম। আলহামদুলিল্লাহ। আরো এক সপ্তাহের মাথায় আমরা সাতজন পরিচিতরা মিলে শেডওয়েলে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিলাম। নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

দেখো, আজ পড়ালেখার পাশাপাশি বিয়ে করে আমরা তিন কন্যার পিতামাতা। তুমিও আমার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কষ্ট করে এ পর্যন্ত এসেছো। আল্লাহর ওপর ভরসা করে হারাম কাজ ছেড়ে দিয়েছিলাম বলেই হয়তো আল্লাহ আজ আমাদের লন্ডনে স্হায়ী করেছেন, ভালো কাজের সংস্হান করে দিয়েছেন। ইমদাদ তার দীর্ঘ আলাপের ইতি টানে।

নিতু এতক্ষণ তন্ময় হয়ে ইমদাদের কথা শুনছিল। চোখ ছল ছল। ইমদাদের এই বাস্তব ঘটনা আরও কয়েকবার ওর মুখে শুনেছে। আল্লাহর প্রতি ওর অবিচল বিশ্বাস ওকে আরো ইমদাদের প্রতি সন্মান ও ভালোবাসা বাড়িয়ে দেয়। কষ্ট করে হলেও ওরা হালাল-হারাম বেছে চলছে। আল্লাহর রহমতে মেয়েরাও বাবা-মাকে অনুসরণ করছে। এসব মনে মনে ভাবলেও নিতু ইমদাদকে বলে, চলো চলো এক কথা কয়বার বলবে? একবার শুরু করলে আর থামার নাম নেই।

গল্পের ঘোরে বুঝতেই ওরা পারেনি যে মামাদের ডিউটি পরিবর্তন হয়ে গেছে। সূর্যিমামার জায়গায় কখন চাঁদ মামা চলে এসেছে বুঝতেই পারেনি। অনেক দিন পর ওরা দুজন একান্তে কিছু সময় কাটানোয় ভালোই লাগছে। রাত হয়ে যাওয়াতে ওরাও ঘরের দিকে রওনা দেয়। সামনেই টাওয়ার গেটওয়ে ডিএলআর স্টেশন। ওখান থেকে ট্রেন নিয়ে পপলার স্টেশনে চেঞ্জ করে দুটো স্টপেজ পরেই ওদের গন্তব্যস্থল।

কষ্ট আসবে, বাধা আসবে। বাবা-মা ভুল বুঝবে। বন্ধু-বান্ধব দূরে চলে যাবে। কারণ এসবের মাধ্যমে আল্লাহ তার ঈমানদার বান্দাদের পরীক্ষা করেন। আল্লাহর ওপর ভরসা করে যে চেষ্টা করে যায়, সে কখনো হেরে যায় না। দুনিয়ার মানুষের কাছে সে পরাজিত হলেও আল্লাহর কাছে সে জয়ী। বিশ্বাসে মেলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। আল্লাহু আকবার।

উভয় জগতের কল্যাণ হয় যে আমলে

মুমিন বান্দাকে আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক ভালোবাসেন। একজন মুমিন বান্দা কীভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে, সেটিও আল্লাহ কুরআনে শিখিয়ে দিয়েছেন।

বোখারি ও মুসলিম শরিফে হজরত আনাস (রা.) বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনের প্রায়ই সময় এ দোয়াটি পড়তেন— ‘রাব্বানা আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আজাবান্নার।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দান কর। আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচাও।’ (সুরা বাকারাহ, আয়াত ২০১)

একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক রোগী দেখতে গেলেন। তিনি দেখলেন— রোগী একেবারে হাড্ডিসার হয়ে গেছে।

নবীজী (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি আল্লাহর কাছে কি কোনো প্রার্থনা করেছিলে? সে নিবেদন করল, হ্যাঁ। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, হে আল্লাহ! আমার পরকালের শাস্তি আপনি আমাকে দুনিয়াতেই দিয়ে দিন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর শাস্তি সহ্য করার ক্ষমতা কি কারও আছে? তুমি এখন থেকে এ দোয়া করতে থাক, রাব্বানা আতিনা…। ’ দেখা গেল, এ দোয়ার বরকতে আল্লাহতায়ালা তাকে আরোগ্য দান করলেন।

আজও আমরা আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনার পাশাপাশি জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি থেকে বাঁচতে চাই।

হে আল্লাহ! মুসলিম উম্মাহকে আপনার শেখানো দোয়ার মাধ্যমে কল্যাণ কামনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আজারবাইজান ও তুরস্কের যৌথ সামরিক মহড়া

যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে আজারবাইজান ও তুরস্ক। গত ৫ অক্টোবর থেকে আজারবাইজানের নাখচিভান অঞ্চলে এই মহড়া শুরু হয়। আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত যৌথ এ সামরিক মহড়া চলবে।

আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘অটুট ভ্রাতিত্ব’ নামে এ মগড়ায় সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় সাধনের অনুশীলন সম্পন্ন করা হয়েছে। খবর ডেইলি সাবাহর।

তবে এই মহড়ায় কতজন সেনা অংশ নিচ্ছে এবং কী ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার হচ্ছে তা আজারি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে তুরস্ক, পাকিস্তান ও আজারবাইজান যৌথ সামরিক মহড়ার আয়োজন করে। ১২ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই মহড়া চলে।

আজারবাইজান ও তুরস্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আর্মেনিয়ার সঙ্গে যুদ্ধেও আজারবাইজানকে ব্যাপক সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছে তুরস্ক।

১৩ হাজারাকে হত্যা: অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন নিয়ে যা বলল তালেবান সরকার

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যশনালের দাবি, আফগানিস্তানের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকে দায়কুন্দি প্রদেশে হাজারা সম্প্রদায়ের ১৩ সদস্যকে হত্যা করেছে তালেবান। নিহতদের মধ্যে মাসুমা নামের ১৭ বছরের এক মেয়েও ছিল। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে তালেবান সরকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০ আগস্ট তালেবানের তিনশর মতো সদস্য খিদির জেলায় প্রবেশ করে। সেখানে আফগান ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এএনএসএফ) ১১ সদস্যকে হত্যা করে। যাদের মধ্যে ৯ জনকে নিকটবর্তী নদীর কাছে নেওয়ার পর সেখানে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে দুজন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, এ হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, তালেবান পূর্বের মতো ভয়াবহ কাণ্ড ঘটাচ্ছে।

টোলো নিউজের খবরে বলা হয়, আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খোস্তি বলেন, প্রতিবেদনটি সত্য ও নিরপেক্ষ নয়।

‘প্রতিবেদনটি অসত্য, কারণ এতে ইসলামি আমিরাতের দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এটি একতরফাভাবে তদন্ত করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে নথিভুক্ত তথ্যপ্রমাণ থাকা জরুরি ছিল কিন্তু সেখানে তা নেই’, যোগ করেন সাঈদ খোস্তি।

১৪ আগস্ট দায়কুন্দি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এর পর থেকে সে প্রদেশের বহু বাসিন্দাকে নিজেদের বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে।

আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি পালিয়ে গেলে ১৫ আগস্ট দেশটির রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণে নেয় তালেবান। এর পর সেপ্টেম্বরের শুরুতে নতুন সরকার গঠন করে গোষ্ঠীটি।

সাউন্ডক্লাউডে ‘আমার দেখা নয়াচীন’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিনির্ভর ভ্রমণকাহিনি ‘আমার দেখা নয়াচীন’ প্রকাশ হয়েছে মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফরম সাউন্ড ক্লাউডে। অনলাইনে পুরো লেখাটি পর্ব আকারে শুনতে পারবেন শ্রোতারা। অডিও বইটি প্রকাশ করেছে আইসিটি বিভাগ। ২১টি পর্বে মোট সাড়ে চার ঘণ্টার এ অডিওক্লিপে সংযোজিত হয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড যা শ্রোতাকে কাহিনির বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়; ভাসিয়ে নিয়ে যায় কল্পনার দেউড়িতে। ১৯৫৪ সালে যখন রাজবন্দি হিসাবে কারাগারে ছিলেন তখন এ ডায়েরিটি লিখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার লেখা খাতাখানার ওপর গোয়েন্দা সংস্থার সেন্সর ও কারাগার কর্তৃপক্ষের যে সিল দেওয়া আছে তা থেকেই সময়কালটা জানা যায়। ২০২০ সালে প্রথম ‘আমার দেখা নয়াচীন’ বইটি প্রকাশিত হয়। এ লিঙ্ক https://soundcloud.com/user-571466493 থেকে শোনা যাবে অডিও বইটি।