রবিবার ,৩ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 706

দেশে মোবাইল ইন্টারনেটে গ্রাহক ১১ কোটি ৫৪ লাখ

নতুন ১৭ লাখ ২০ হাজার ইন্টারনেট গ্রাহক পেয়েছে দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। বিটিআরসির সর্বশেষ হিসাবে, আগস্ট মাসে দেশে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যা ১১ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজারে পৌঁছেছে। জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার। ওই মাসটিতে এ গ্রাহক বেড়েছিল ৩৬ লাখ। সে হিসাবে এক মাস পরই এই বৃদ্ধির হার অর্ধেকে নেমেছে। জুন মাসে এটি ছিল ১১ কোটি ৯০ হাজার। এ মাসটিতে ২৫ লাখ ৯০ হাজার নতুন গ্রাহক পেয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো।

এদিকে, আগস্টে ১৬ লাখ ৭০ হাজার নতুন গ্রাহক সংযোগ পেয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। বিটিআরসির সর্বশেষ হিসাবে, আগস্টে দেশে মোট মোবাইল ফোন গ্রাহকসংখ্যা ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের আট কোটি ৩১ লাখ ৮০ হাজার, রবির পাঁচ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার, বাংলালিংকের তিন কোটি ৬৯ লাখ এবং টেলিটকের ৬২ লাখ ৭০ হাজার সংযোগ রয়েছে।

‘সন্ত্রাসবাদকে ধর্ম বা জাতীয়তার সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়’

কোনো বিশেষ ধর্ম বা জাতীয়তার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে যুক্ত করার যে কোনো প্রচেষ্টাকেই বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করে ও এর তীব্র নিন্দা জানায়। সন্ত্রাসবাদ কোনো ধর্ম, জাতি, বিশ্বাস, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠী বা সমাজের সাথে যুক্ত হতে পারে না এবং তা হওয়া উচিতও নয়। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় প্রদত্ত বক্তৃতায় এ কথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

প্রদত্ত বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদ ও এর যে কোনো রূপ বা ধরনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতির পুনরাবৃত্তি করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। সন্ত্রাসবাদ, সহিংস চরমপন্থা, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও এতদসংশ্লিষ্ট যে কোনো হুমকি প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার যেসব আইনি ও নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করেছে তা তুলে ধরেন তিনি।

বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের ওপর কোভিড-১৯ এর প্রভাবের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, অতিমারিটি সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসবিরোধী জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রচেষ্টাসমূহকে ব্যাহত করেছে। এক্ষেত্রে তিনি বৈশ্বিকভাবে অন্তর্ভূক্তিমূলক ও স্থিতিশীল পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টা গ্রহণের পাশাপাশি সক্ষমতা বিনির্মাণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, নারী ও যুবদের ক্ষমতায়ন, অনলাইন প্লাটফর্মে সৃষ্ট ঘৃণ্য বক্তব্য, জাতিগত বিদ্বেষ ও উদ্দেশ্যমূলক তথ্য-বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান।

সন্ত্রাসবাদ ও এর যে কোনো রূপ বা ধরন মোকাবিলায় গৃহীত সব আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে থাকার প্রতি বাংলাদেশের যে দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে তাও উল্লেখ করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি।

আমিরাতে মিউজিক ভিশনের বর্ষপূর্তি উদযাপন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় গত শুক্রবার (১ অক্টোবর) মিউজিক ভিশন সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্যোগে স্থানীয় রেস্টুরেন্টে ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের আয়োজক নারী সংগঠক ও মিউজিক ভিশনের অ্যাডমিন শবনম আক্তারের সভাপতিত্বে আলমা আকবার ও ইঞ্জিনিয়ার আহাম্মদ ইখতিয়ার পাবেলের যৌথ সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন- বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা হাবিবুর রহমান টিপু, মোসারফ হোসেন, মোস্তাক হোসেন, মোহাম্মদ হাবিব, মোহাম্মদ আবছার, জসিম উদ্দিন জসিম, মোহাম্মদ কামাল, নাজমুল, হাবিবুর রহমান, ব্যাংকার সামিমা নাসরিন, লোপা কামরুন নাহার, মমতাজ আইয়ূব, লুবা, রাশিদা, সাবিনা, মাকসুদা, মিউজিক ভিশনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ইয়াসমিন ইসলাম মেরুনা, জাহাঙ্গীর আলম রূপু, করিমুল হক, আহমেদ ইকতিয়ার পাভেল, ফামিদা চৌধুরী, মাহাবুবা সিদ্দিকা, শিমা ইসহাক, শিবলী আল সাদেক, মোহাম্মদ মুসা, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন মান্না, আফতাব মনির, আনোয়ার হোসেন, আল আমিন, মডারেটর প্যানেলের সদস্য সোনিয়া সামিয়া, মাহমুদা রহমান, আজমেরি বেগম, রেখা মরিয়াম, সালাউদ্দিন কাদের বাপ্পি, বোরহান উদ্দিন বোরহান ও সাংবাদিক ওবায়দুল হক মানিক।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও রক্তশূন্যতা দূর করে ড্রাগন ফল

একটা সময় ড্রাগন ফল আমাদের দেশে অপরিচিত থাকলেও বর্তমানে প্রায় সবাই এটিকে চেনে। লাল টকটকে সুমিষ্ট ও সুস্বাদু দানাযুক্ত ফলটির সুপারফুড হিসেবেও বেশ খ্যাতি কুড়িয়েছে।

বিদেশি এই ফলটির স্বাস্থ্য উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। এটি বর্তমানে আমাদের দেশেও চাষ হচ্ছে। ড্রাগন ফলে থাকা ভিটামিন সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও ত্বক ভালো রাখতে সহায়তা করে। আর এটি কোষ্ঠকাঠিন্য ও রক্তশূন্যতা দূর করতেও অনেক কার্যকরী।

এ ছাড়া ড্রাগন ফলের রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। আসুন জেনে নিই সেই সম্পর্কে—

১. দীর্ঘস্থায়ী রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে
ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি ফ্রি র্যাডিকেলগুলোর কারণে হওয়া প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি থেকে হওয়া রোগের বিরুদ্ধে লড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং আর্থ্রাইটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

২. হজমে উপকারী
ড্রাগনে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে এবং এ ফলটি অনেকটা পিচ্ছিলজাতীয় হওয়ায় এটি হজমে অনেক ভালো। এ ছাড়া গবেষণায় বলা হয়েছে— এটি হৃদরোগ থেকে রক্ষা করতে; টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এবং সুস্থ শরীরের ওজন বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

৩. পচনতন্ত্র ভালো রাখে ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি কমায়
ড্রাগন ফলের মধ্যে প্রিবায়োটিক থাকার কারণে এটি অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যকে উন্নত করতে পারে। আর নিয়মিত প্রিবায়োটিক গ্রহণ করলে সেটি আপনার পচনতন্ত্র ভালো রাখতে এবং ডায়রিয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি কমতে পারে। ভ্রমণকারীদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা ভ্রমণের আগে এবং সময়কালে প্রিবায়োটিক সেবন করেছিলেন, তাদের কমসংখ্যক ডায়রিয়ার অভিজ্ঞতা পেয়েছিলেন।

৪. ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে
ড্রাগন ফলের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি ও ক্যারোটিনয়েডগুলো আপনার ইমিউন সিস্টেমকে বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং শ্বেত রক্তকণিকাগুলোকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

৫. আয়রন মাত্রা বৃদ্ধি করে
শরীরে আয়রনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে অন্যতম একটি ফল হচ্ছে ড্রাগন। আর আয়রন আপনার পুরো শরীরজুড়ে অক্সিজেন পরিবহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং খাদ্যকে শক্তিতে বিভক্ত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৬. ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস
এক কাপ পরিমাণ ড্রাগন ফলে প্রায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত ম্যাগনেসিয়াম থাকে এবং এটি অধিকাংশ ফলের তুলনায় বেশি। আর ম্যাগনেসিয়াম এমন একটি খনিজ, যা প্রতিটি কোষে উপস্থিত থাকে এবং আমাদের শরীরের ৬০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে— এটি খাদ্যকে ভেঙে শক্তিতে রূপান্তরিত করা, পেশি সংকোচনে, হাড়ের গঠনে এবং ডিএনএ (DNA) তৈরির প্রয়োজনীয় বিক্রিয়াগুলোতে অংশ নেয়।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন ডটকম

বায়োনিক চোখে অন্ধত্বের সমাধান!

বিভিন্ন কারণে দৃষ্টিহীনতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা চিকিৎসার মাধ্যমে সেই দৃষ্টি ফিরে পেতে পারেন। কিন্তু যাদের চোখ নেই কিংবা কোনো কারণে চোখ হারিয়ে ফেলেছেন তাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ আসছে বায়োনিক চোখ।

মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম বায়োনিক আই বা চোখ নির্মিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ উদ্ভাবনের ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও দেখতে পারবেন পৃথিবী।

মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক ও কম্পিউটার সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আর্থার লোরি বলেন, আমাদের ডিজাইনটি ১৭২টি লাইটস্পট থেকে একটি প্যাটার্ন তৈরি করে; যা একজন ব্যক্তির ভেতর ও বাহিরে চলাচলের জন্য সাহায্য করবে। এটি আশপাশের বস্তুর উপস্থিতিও নিরূপণ করতে পারবে।

নিরাময় অযোগ্য নিউরোলজিকাল সমস্যায় সাহায্য করার মাধ্যমে জীবনকে আরেকটু সহজ করার উদ্দেশ্যেই আমরা এটা তৈরি করেছি, বলছেন গবেষকরা।

জানা গেছে, প্রায় দুইশ ঘণ্টার পরীক্ষা চালানো হয় ভেড়ার ওপর যাতে খুব সামান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গবেষকরা বলছেন, অনেকটা সফলতা পেয়েছে এ বায়োনিক চোখ।

তারা এখন প্রথম স্তরের মানবিক ক্লিনিকাল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ পরীক্ষা মেলবোর্নে পরিচালিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা বলছেন, যাদের চোখের দৃষ্টি আংশিক বা পুরোপুরি দৃষ্টিহীন তাদের সবার কাজে আসবে এটি। বায়োনিক চোখ মূলত মানুষের রেটিনার মতোই কাজ করে। এজন্য কাঠামোগত যত নিখুঁত নকশা প্রয়োজন তা যুক্ত করেছেন গবেষকরা। মানুষের চোখের মতোই কার্যক্ষম ডিভাইসটি উচ্চ রেজুলেশন ধারণ করতে পারে। এতে থাকা ক্ষুদ্র সেন্সর ছবিকে রূপান্তর করতে পারে, যা মানুষের চোখের আলোকসংবেদী কোষের অনুরূপ। এ সেন্সরগুলো অ্যালুমিনিয়াম এবং টাংস্টেন দিয়ে তৈরি একটি ঝিল্লির মধ্যে থাকে, যা মানুষের রেটিনা নকল করার উদ্দেশ্যে অর্ধগোলকের আকারে তৈরি।

প্রসবের পর কখন থেকে মাসিক শুরু হয়?

প্রসবের আগে ও পরে নারীদের শরীরে অনেক পরিবর্তন আসে। এর প্রভাবে অনেক কিছু বদলে যেতে শুরু করে। তারই একটি হলো পিরিয়ড বা মাসিক সার্কেল।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ডা. দীনা লায়লা হোসেন।

মাসিকের সময় অনেক মায়ের লাল রঙের ভেজাইনাল স্রাব হয়, যাকে অনেকে মাসিক মনে করে ভুল করেন। আসলে এটা রক্ত আর মিউকাস।

গর্ভাবস্থায় পুরো সময়টাই নারীদের মাসিক বন্ধ থাকে। প্রসবের পরও তা শুরু হতে কিছুটা সময় লাগে। এই সময় লাগাটা যে সবার ক্ষেত্রে একই হবে তা নয়।

কিছু কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে প্রসবরে পর মাসিক শুরু হওয়াটা। একেক জনের একেক রকম হতে পারে।

সাধারণত ডেলিভারির কত দিনের মধ্যে মাসিক হবে এটা নির্ভর করে মায়ের উপরেই। মা কীভাবে বাচ্চাটাকে ব্রেস্টফিডিং করাচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে।

যদি মা বাচ্চাকে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিটিং করায়। রাতে দুই বা তার বেশি বার খাওয়ায়, তাহলে ছয় থেকে আট মাস পর্যন্ত মাসিক নাও হতে পারে। তবে এই সময়ে পাশাপাশি কন্ট্রাসেপশন নিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই সময়সীমা আরও বাড়তে পারে।

অনেকের ক্ষেত্রে দুই তিন মাস পরে হতে পারে মাসিক। সুতরাং এটা নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তার বিষয় নয়। তবে কন্ট্রাসেপশনটা ভালোভাবে নিতে হবে। বলে রাখি, এই সময়টা কারও কারও ক্ষেত্রে ১৮ মাস থেকে ২ বছরও হয়ে থাকে।

এক্ষেত্রে আমরা বলে থাকি, বাচ্চার বয়স ছয় মাস পার হলে পিল খাবেন। এটা শুরু করলে দেখবেন আপনার নিয়মিত মাসিক শুরু হয়েছে।

পাহাড় ঝর্ণা গুহা- তিনে মিলে সোনাইছড়ি

দে-ছুট ভ্রমণ সংঘের দামালদের ভ্রমণে প্রথম পছন্দই পাহাড়, ঝিরি, ঝর্ণা কিংবা ঘুটঘুটে অন্ধকারাচ্ছন্ন কোনো গুহার প্রান্তর। সেই লক্ষ্যেই ছুটে যাই সোনাইছড়ি ট্রেইলে। রাত্রের প্রথম প্রহরেই গাড়ি ছাড়ি। চট্টগামের ফাঁকা সড়কে মাইক্রো ছুটছে ধুমছে।

পথিমধ্যে নানান জায়গায় টি-ব্রেক মারতে মারতেও রাত পৌনে ৩টায় পৌঁছে যাই মিরসরাই মুরগির ফার্ম। গাইডকে ফোন দিতেই সে এসে হাজির। তাকে নিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে হাদি-ফকির হাট দিয়ে গিয়ে রেললাইনের ধারে গাড়ি পার্কিং করা হয়। তখন রাত প্রায় শেষের দিকে। স্থানীয় জনৈক খাবার দোকানিকে ডেকে তুলে সঙ্গে নেওয়া বাড়তি মালছামানা তার ঘরে রাখা হয়।

এরপর ভ্রমণসঙ্গী স্বেচ্ছাসেবকরা পেঁয়াজ-মরিচ কাটাকুটিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। চড়িয়ে দেয়া হয় লাকড়ির চুলায় খিচুড়ি। রাঁধতে রাঁধতে সুবহেসাদেক। ওয়াক্ত অনুযায়ী ফজর নামাজ পড়ে গরম-গরম খিচুড়ি খেয়ে ট্র্যাকিং করার প্রস্তুতি। কিছুটা আলো ফুটতেই পাহাড় ঘেরা মেঠোপথে হাঁটতে শুরু করি। হাঁটতে হাঁটতে একটা সময় পাথুরে ঝিরি, বোল্ডারের সান্নিধ্যে চলে যাই। শুরু হয় পাথুরে পিচ্ছিল পথে হাইকিং-ট্র্যাকিং।

ট্রেইলটা সোনাইছড়ি নামে পরিচিত। তবে শুরুতেই দেখব বাদুইজ্জাখুম; যা এই ট্রেইলের অন্যতম আকর্ষণ। বেশ কিছুটা সময় চড়াই-উতরাই শেষে বাদুইজ্জাখুমের সামনে পৌঁছি। ওমা! একি দেখছি? হাজার হাজার বাদুরের উড়াউড়ি। ভিতরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। মাঝখানটা ফাঁকা করে দুইপাশে উঠে গেছে খাড়া পাহাড়। গুহার ভিতর হতে বহমান পানীয় ধারা। কিছুটা পা বাড়াতেই কোমর পর্যন্ত পানি। পায়ের তলায় কর্দমাক্ত মাটি। হাই ভোল্টেজের টর্চের আলোয় সাহস করে আমরা এগোতে থাকি। মাথার উপর বৃষ্টির ধারার মতো বাদুরের বিষ্ঠা পড়তে থাকে। দম বন্ধ হওয়ার মতো উটকো গন্ধ।

এরইমধ্যে আমাদের কেউ একজন সাঁতার দিয়ে আরও এগিয়ে গিয়ে চিৎকার করে ডাকতে শুরু করল। আর ওমনি আমরা আরও কয়েকজন দিলাম সাঁতার। সরু গুহার ভিতর সাঁতরে গিয়ে যা দেখলাম, তাতে সবার চোখ চড়কগাছ। এক ফালি আলোয় যৌবনা ঝর্ণাধারা। উচ্ছ্বাস আর অপ্রত্যাশিত ঝর্ণার সৌন্দর্য দেখে যারপরনাই আনন্দে বিগলতি হয়ে যাই। দুঃখের ব্যাপার দাঁড়িয়ে ছবি তোলার মতো পরিস্থিতি ছিল না। থাক নাইবা তুললাম ছবি; না চাইতেই প্রকৃতির যে রূপ দেখেছি- তাইবা কম কী?

এরপর কিছুটা পথ ঘুরে এসে আবারো হাইকিং-ট্র্যাকিং। একের পর এক বেশ বড়সড় পাথুরে বোল্ডার অতিক্রম করে এগিয়ে চলছি। কিছুক্ষণ আগে যে গুহার ভিতরে ছিলাম এখন সেই বাদুইজ্জাখুমের ঠিক উপরেই। দৃষ্টির খুব কাছাকাছি হাজার হাজার বাদুড়ের উড়াউড়ি। তখন ভাবছিলাম গুহায় প্রবেশের কারণে হয়তো তারা বিরক্ত হয়ে অনবরত উড়ছে আর কিচিরমিচির করছে। কিন্তু এখন দেখলাম বাদুড়ের দল এমনিতেই সারাক্ষণ নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই আপন মনে ঘুরে-ঘুরে উড়ছে।

চলতি পথে অনেক দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যে চোখ আটকায়। কখনো কখনো সেই সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য থমকে দাঁড়াই। বুক ভরা নি:শ্বাস আর ভালোলাগার স্মৃতি নিয়ে আবারো হাঁটা শুরু করি। চলতে চলতে ছোটবড় কিছু ক্যাসকেড, ঝিরি ও বুনোপথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যাই সোনাইছড়ি ঝর্ণায়।

আগের রাতে বৃষ্টি হওয়াতে ঝর্ণায় বেশ পানিপ্রবাহ ছিল। সকাল সকাল পৌঁছে যাওয়ায় আমরা ছাড়া আর কোনো পর্যটকের ভিড় ছিল না। তাই পরিবেশটাও ছিল বেশ নিঝুম। হালকার ওপর ঝাপসা স্যুপ খেয়ে নেমে যাই ঝর্ণার পানিতে অবগাহনে।

সোনাইছড়ি ঝর্ণার উচ্চতা খুব বেশি নয়। বড় জোড় ৪০-৫০ ফুট হবে হয়তো। তবে এর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। ইচ্ছেমতো দেহ ভিজাতে ভিজাতে আড্ডাও চলে সমানতালে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা বাড়তে থাকলে আমরাও ফিরতি পথ ধরি। ও হ্যাঁ, আগেই জানিয়ে রাখি- দে-ছুট বেশিরভাগ ভ্রমণেই যে পথে যায় সে পথে আর ফিরে না। তাতে প্রকৃতির নতুনত্ব কোনো সৌন্দর্য দেখার সুযোগ মিলে।

তাই বরাবরের মতো সোনাইছড়ি হতেও ভিন্নপথে এগোলাম। জঙ্গলাপূর্ণ পথে যেতে যেতে ঢালা পাহাড় সামনে পড়ে। সেটাকে টপকেই তবে লোকালয়ে ফিরতে হবে। খানিকটা বিরতি দিয়ে শুরু হলো ট্র্যাকিং। উঠতে উঠতে মনে হলো পাহাড়ের কিছুটা অংশ প্রায় ৮০ ডিগ্রি খাড়া। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এর উচ্চতা প্রায় ৮০০ হতে ১০০০ ফুট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লকডাউনে পর্যটকদের পদচারণা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ঢালা পাহাড়ের প্রকৃতি বেশ নয়নাভিরামভাবে সেজে রয়েছে। পাহাড়টি আপন বলয়ে গুছানোর সুযোগ পেয়েছে। বন্ধুর পথই তার স্বাক্ষর।

দে-ছুট বন্ধুরা খাড়া পিচ্ছিল পথে জঙ্গলি ফুলপাতার গন্ধ শুকতে শুকতে চূড়ায় যখন পৌঁছি, তখন বেলা প্রায় সাড়ে ১২টা। এরপর প্রখর রৌদ্রে হাইকিং। কোনো বাতাস নেই। পুরো একটা গুমোট পরিস্থিতি। গাছের একটি পাতাও নড়ছে না। এমন অবস্থায় হঠাৎ করে বড় এক গাছের মূল মাথা মটমট করে ভাঙার আওয়াজ। জসিম আমাকে গাছটা দেখাল। তাকে বললাম দেখতো কোনো বন্য জন্তু দেখা যায় কিনা। আমিও গাছের আরো কিছুটা কাছাকাছি গিয়ে ভালো করে খেয়াল করলাম।

কিন্তু কিছুই চোখে পড়ল না। টনক ফিরল যখন দে-ছুটের কেউ একজন বলল, ভাই আপনি কি এখনো বুঝতে পারেন নাই। ব্যাস যা বুঝার বুঝে নিয়ে দ্রুত দোয়া-দরুদ পড়ে সটকে পড়লাম। ঘটনাটা আমাদের মন্থর গতির হাঁটায়, স্পিড জুগিয়েছিল বেশ। লোকালয়ে ফিরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে ঘটনার সত্যতা পেলাম। এরপর ফেসবুকেও পোস্ট দিয়ে সোনাইছড়ি ট্রেইলে জ্বিনের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হলাম। সোনাইছড়ি এমন একটা রোমাঞ্চকর ট্রেইল, যেখানে এক ট্রেইলে গুহা, ঝর্ণা ও পাহাড় ট্র্যাকিংয়ের আনন্দ উপভোগ করা যায়। আর যদি কিসমত ভালো থাকে তাহলে তো হরর মুভি বাস্তবেও দেখা যেতে পারে।

যাতায়াত: ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল হতে চট্টগ্রামের বাস ছেড়ে যায়। নেমে যেতে হবে মিরসরাই। সেখান হতে অটো-সিএনজি করে হাদি ফকির হাট রেললাইন। এরপর হাঁটা। রেললাইন হতে সব মিলিয়ে ৬ ঘণ্টার মধ্যেই ঘুরে আসা সম্ভব।

টপস:
# সোনাইছড়ি ঝর্ণা খুব বেশি বড় নয়। সাধারণত এসব আকারের ঝর্ণা বান্দরবানের ট্রিপে ভালোভাবে খেয়ালও করি না। কিন্তু সোনাইছড়ি ট্রেইলটা ঢাকার ধারে-কাছে হিসেবে বেশ চমৎকার। যার অন্যতম ভালোলাগার মতো হবে বাদুইজ্জাখুমের ভিতরে প্রবেশ। তবে সাঁতার না জানা ও সাপ বিচ্ছু ভয় পাওয়া পর্যটকরা এড়িয়ে চলুন। কারণ সাপের অন্যতম পছন্দের খাবার হলো বাদুড়।
# অবশ্যই স্থানীয় গাইড নিয়ে যাবেন। নতুবা পথ হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। রেললাইনের পাশে থাকা দোকানিদের সঙ্গে আলাপ করে গাইড জোগাড় করে নেওয়া যাবে।

 

নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি

জনবল নিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। পাঁচ পদে ২২ জনকে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। তবে শুধু নোয়াখালী জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা এতে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করা যাবে ডাকযোগে। ১০ অক্টোবর থেকে করা যাবে আবেদন।

পদের নাম: সাঁটলিপিকার কাম-কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৩)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। কম্পিউটার পরিচালনা ও লিখনে দক্ষতা থাকতে হবে।
বেতন: ১১,০০০/- থেকে ২৬,৫৯০/-

পদের নাম: সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৪)
পদ সংখ্যা: ৪ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। কম্পিউটার পরিচালনা ও লিখনে দক্ষতা থাকতে হবে।
বেতন: ১০,২০০/- থেকে ২৪,৬৮০/-

পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (গ্রেড-১৬)
পদ সংখ্যা: ১৫ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস। কম্পিউটার পরিচালনা ও লিখনে দক্ষতা থাকতে হবে।
বেতন: ৯,৩০০/- থেকে ২২,৪৯০/-

পদের নাম: হিসাব সহকারী (গ্রেড-১৬)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস। কম্পিউটার পরিচালনা ও লিখনে দক্ষতা থাকতে হবে।
বেতন: ৯,৩০০/- থেকে ২২,৪৯০/-

পদের নাম: লাইব্রেরি সহকারী (গ্রেড-১৬)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস। কম্পিউটার পরিচালনা ও লিখনে দক্ষতা থাকতে হবে।
বেতন: ৯,৩০০/- থেকে ২২,৪৯০/-

বয়স: প্রার্থীর বয়স ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তারিখ হিসাবে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে হলেও আবেদন করা যাবে; প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://dcnoakhali.teletalk.com.bd -এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি দেখা যাবে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে- http://noakhali.gov.bd/

আবেদনের শেষ সময়: আগামী ৮ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

যবিপ্রবিতে নিয়োগ

শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দেবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। স্থায়ী ও অস্থায়ী ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। আগ্রহীরা যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন অনলাইনে।

 

পদের বিস্তারিত
১. অধ্যাপক-
পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগে ১ জন
ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন বিভাগে ১ জন
বেতন ৫৬,৫০০/- থেকে ৭৪,৪০০/-

২. সহযোগী অধ্যাপক
অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগে ১ জন
পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২ জন
বেতন ৫০,০০০/- থেকে ৭১,২০০/-

৩. প্রভাষক
ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন বিভাগে ২ জন
বেতন- ২২,০০০/- থেকে ৫৩,০৬০/-

আবেদনের নিয়ম
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফরম https://www.career.just.edu.bd/ -এ গিয়ে আবেদনের জন্য সব প্রয়োজনীয় কাগজের স্ক্যান কপি ও ফিসহ আবেদন করতে হবে। যেভাবে আবেদন করবেন- https://career.just.edu.bd/docs/how-to-apply.pdf

আবেদনের শেষ সময়
আগ্রহীরা ১১ নভেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদনপত্র করতে পারবেন।

বেরোবি শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে প্রায় দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ইতোমধ্যে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলতে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলো পর্যায়ক্রমে খুলে দেয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা নিশ্চিত করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ওঠার বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণে অনীহা রয়েছে। এছাড়া করোনার টিকা গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় টিকা গ্রহণের রেজিস্ট্রেশন করা যাচ্ছে না।

এ পরিস্থিতির কারণে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) খোলার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ বলছে পরপর তিনবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে; যার ফলে ক্যাম্পাস খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণ করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে টিকা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য যে ফরম দেয়া হয়েছিল তা অধিকাংশ শিক্ষার্থী জানেনই না। তাই টিকা সংক্রান্ত যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে তা সঠিক নয়। শিক্ষার্থীদের টিকা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তাহলেই প্রকৃত তথ্য পাওয়া সম্ভব। যে উদ্যোগ প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে চলতি মাসেই দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এ কথা জানান। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের কাছে শিক্ষার্থীদের অতি সম্প্রতি টিকা গ্রহণের কোনো তথ্য নেই। তবে ১০-১৫ দিন আগের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে টিকার দুটি ডোজ গ্রহণ করেছে ১০০৩ জন এবং এক ডোজ গ্রহণ করেছে ৮৯৮ জন। সেই হিসেবে দুই ডোজ গ্রহণকারীর সংখ্যা ১১ শতাংশ এবং এক ডোজ গ্রহণকারীর সংখ্যা ৯ শতাংশ। সব মিলিয়ে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার আওতায় এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে টিকা গ্রহণ করেছেন ১৩৫ জন (৯৩%), কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলে গ্রহণ করেছে ৩৬২ জন (প্রায় ৭০ শতাংশ)।

শিক্ষার্থীদের কত শতাংশ রেজিস্ট্রেশন করে টিকা পায়নি বা কত শতাংশ রেজিস্ট্রেশনই করেননি- জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. এহতেরামুল হক বলেন, আমাদের কাছে হালনাগাদ করা এ ধরনের তেমন কোনো তথ্য নেই। তথ্য সংগ্রহ হলে আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. কবির হোসেন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীর টিকা গ্রহণের বিষয়ে যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে তা সঠিক নয়। কারণ তথ্য সংগ্রহের জন্য তারা যে ফরম দিয়েছিল তা অধিকাংশ টিকা গ্রহণ করা শিক্ষার্থী জানেনই না। তাই প্রশাসনের উচিত তথ্য সংগ্রহে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা, যাতে সব শিক্ষার্থী বিষয়টি অবগত হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদেরও উচিত স্বতঃস্ফূর্তফাবে টিকা গ্রহণ করা।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোন্নাফ আল কিবরিয়া তুষার বলেন, সরকার যেখানে দেশের মানুষকে টিকার আওতায় আনতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে সেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণে অনীহার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আমার অনুরোধ তারা যেন যত দ্রুত সম্ভব টিকা গ্রহণ করে এবং যা ক্যাম্পাস খুলে দিতে প্রশাসনকে সাহায্য করবে।

এদিকে চলতি মাসে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সোমবার শিক্ষামন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিফলিত হবে বলে মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. সরিফা সালোয়া ডিনার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে এক ডোজ করে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণে অনীহা দেখা যাচ্ছে। পর পর তিনবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না, যা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। শিক্ষামন্ত্রীর চলতি মাসে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা সম্পর্কে তিনি বলেন, ঘোষণা তো শুনেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে না রেখে, বাস্তবতা পর্যালোচনা করেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।

উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলেছে স্কুল-কলেজ। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে বাধা নেই বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। ইতোমধ্যে দেশের ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ও খুলেছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সশরীর পরীক্ষা গ্রহণ অথবা হল খুলে দিয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা তৈরি করছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়।

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্তত ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ মাসেই খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।