মঙ্গলবার ,৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 678

নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখেন: সমালোচকদের উদ্দেশে মুশফিক

দুশ্চিন্তায় ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। কবে ফর্মে ফিরবেন মুশফিক? অনেকদিন ধরেই মুশফিকের ব্যাট হাসছে না। গত সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ৫ ইনিংসে মুশফিক করেছিলেন মাত্র ৩৯ রান।

বিশ্বকাপে অবশ্য স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৬ রান করে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পরের ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ৮ নম্বরে।

বেশ কিছুদিন ফর্মে না থাকায় সমালোচকদের কথা হজম করতে হয়েছে জাতীয় দলের এই অন্যতম তারকাকে। এদিকে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দলের পরাজয় নিয়েও সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে তাকে।

কোচ, নির্বাচকদেরসহ বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ঠিকই আপন মহিমায় জ্বলে উঠবেন মুশফিক।

ঠিক তাই ঘটল। সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৪ নম্বরে নেমে ৩৭ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেছেন মি. ডিপেন্ডেবল।

সাম্প্রতিক সময়ের এই সমালোচনা নিয়ে ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে মুশফিক জানালেন, সমালোচনা তেমন একটা গায়ে মাখেন না তিনি। গালি ও তালি দুটোই হজম করতে অভ্যস্ত তিনি।

অবশ্য সমালোচকদের একহাত নিতে ছাড়লেন না মুশি।

বললেন, ‘যারা সমালোচনায় মগ্ন, তারা যেন নিজেদের চেহারাটা আয়নায় দেখেন।’

শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে মুশফিক বলেন, ‘মাঠের বাইরে কী কথা হচ্ছে? এমন কথা তো হবেই। ভালো করলে তালি দেবে, খারাপ করলে গালি দেবে। আমি ১৬ বছর ধরে খেলছি, আমার জন্য এসব নতুন কিছু না। আমার কাছে এসব খুবই স্বাভাবিক মনে হয়। যারা আমাদের নিয়ে এসব বলে তাদের উচিত নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখা। কারণ তারা তো বাংলাদেশের হয়ে খেলে না। আমরা খেলছি। আমরা সবাই ভালো করার চেষ্টা করি, কোনোদিন হয় কোনদিন হয় না।তবে দিনের শেষে আমরা দেশের প্রতিনিধিত্ব করি, আমাদের কাছে সবচেয়ে গর্বের বিষয় এটিই।’

টি-টোয়েন্টির মারমুখি ফরম্যাটে দেখেশুনে খেলে উইকেটে থিতু হওয়া নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘আমি কাইরন পোলার্ড নইযে ২-৩ বল পেলেই মারব। আমার একটু সময় লাগে। তবে আমারও শক্তির জায়গা আছে, দুর্বলতার জায়গাও আছে। কয়েকটা ম্যাচ হয়তো খারাপ গেছে একটু, তবে কথা শুনে মনে হচ্ছে, পাঁচ-ছয় বছর ধরে রান করি না। এটাও আমাকে বাড়তি উজ্জীবিত করেছে। আজ ভেবেছিলাম, যত বেশি রান করতে পারি। সেটা ১০ কিংবা ৮০ রান, যা-ই হোক না কেন।’

কোহলিদের হারিয়ে আইসিসির টুইটারে কভার পেজে শাহিন আফ্রিদিরা

ভারতের কাছে বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে টানা এক ডজন বার হারতে হয়েছে পাকিস্তানকে।

রোববার সেই হারের যেন বদলা নিলেন বাবর আজমরা। বিশ্বকাপের মঞ্চে ১৩তম ম্যাচে ভারতের লজ্জার দিনে জ্বলে উঠলেন বাবর আজমরা।

সেই হারের পর আইসিসির টুইটারের কভার পেজে দেখা গেল পাকিস্তান দলের ছবি। এর আগে টি২০ ক্রিকেটে কখনও ১০ উইকেটে হারেনি ভারত। পাকিস্তানও কখনও ১০ উইকেটে জেতেনি টি২০ ক্রিকেটে।

জাসপ্রিত বুমরা, মোহাম্মদ সামিদের দিশাহীন করে দিলেন শাহিন আফ্রিদিরা। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই রোহিত শর্মা এবং লোকেশ রাহুলকে হারিয়ে যে ধাক্কা খেয়েছিল ভারত, গোটা ম্যাচে তা থেকে বার হতেই পারলেন না কোহলিরা।

ম্যাচশেষে কোহলির মুখেও বারবার শোনা গেল শুরুতেই উইকেট হারানোর কথা। বিরল এক ইতিহাস রচিত হলো রোববার। বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতকে নাস্তানাবুদ করে হারিয়ে দিল পাকিস্তান।

ওয়াসিম আকরাম, শোয়েব আখতার, ইউনিস খান ও ইনজামামুল হকরা যা পারেননি, সেটিই হেসেখেলে করে দেখালেন বাবর আজম, শাহিন আফ্রিদি, মোহাম্মদ রিজওয়ানরা।

ভারতকে সব বিভাগেই নাজেহাল করে ছেড়েছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপের মঞ্চে ১৩তম ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ‘দুর্ভাগা’ হয়ে উঠল কোহলিদের কাছে।

চৌমুহনীতে হামলা: সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ৪

নোয়াখালীর চৌমুহনী উপজেলায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট থেকে ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া বেগমগঞ্জ থেকে গ্রেফতার তিন আসামিকে একই দিন বিকালে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো— সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা হারুন অর রশীদ, বেগমগঞ্জের কালিকাপুর গ্রামের মৃত হাজী মফিজ উল্যার ছেলে মো. আনোয়ারুল ইসলাম (২৯), আলীপুর গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের ছেলে মো. আবু তালেব (৪৭), হাজীপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আহম্মদের ছেলে মো. ফরহাদ (২৭)।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেগমগঞ্জ থানা এলাকায় পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে রোববার বেগমগঞ্জ উপজেলা থেকে আরও তিন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে একই দিন বিকালে তিন আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

অপরদিকে সেনবাগ থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী জানান, চৌমুহনীতে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর এবং দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াত নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার রাতে তাকে উপজেলার সেবারহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ওসি আরও জানান, সোমবার সকালে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে অভিযুক্ত আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

স্বামীর মৃত্যু শোক সইতে না পেরে মারা গেলেন স্ত্রীও

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় স্বামীর মৃত্যু শোক সইতে না পেরে তার স্ত্রী কোহিনুর বেগমও (৪৫) মারা গেছেন।

রোববার সাড়ে ৭টায় পৌরসভার শ্রীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন— লাকসাম পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের শ্রীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান আলী (৬৫) ও তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৪৫)।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর গ্রামের মরহুম অ্যাডভোকেট নোয়াব আলীর বড় ছেলে মো. শাহজাহান (৬৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন।

স্বামীর মৃত্যু শোক সইতে না পেরে কিছু সময়ের মধ্যে স্ত্রী কোহিনুর বেগম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্বামী-স্ত্রী দুজনের শোক সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে।

শাহজাহান আলীর শ্যালক জাবেদ হোসেন জানান, দুলাভাইয়ের (শাহজাহান) মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আমার বোন শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনিও মারা যান।

পাত্র পছন্দ না হওয়ায় মেয়েকে নেশামুক্তি কেন্দ্রে পাঠালেন মা!

মেয়ের পছন্দের পাত্র মায়ের পছন্দ হয়নি। তাই মেয়েকে ওই ছেলের সঙ্গে মেলামেশা করতে দিতে চাননি তিনি। মেয়ে ছিল নাছোড় বান্দা। তাই সেই পাত্রের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করতে অভিনব এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন মা। মেয়েকে নেশামুক্তি কেন্দ্রে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর থানা এলাকার বাঘা যতীন পল্লীতে।

ওই যুবক এখন থানায় থানায় ঘুরছেন প্রেমিকার সন্ধানে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

ওই যুবকের অভিযোগ, তরুণীকে জোর করে রাতের অন্ধকারে নেশামুক্তি কেন্দ্রের লোকজন তুলে নিয়ে গেছে। তাকে কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

রঞ্জন নাথ নামে ৩৯ বছর বয়সি ওই যুবক জানান, কয়েক বছর আগে জাতীয় গ্রন্থাগারে ওই তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
‘আমরা দু’জনে যা রোজগার করছি, তাতে ভালোভাবে চলে যাবে ভেবে নিউটাউনে ফ্ল্যাট নিয়ে একসঙ্গে থাকতে শুরু করি। সেখান থেকেই পূজার আগে কয়েক দিনের জন্য বাড়ি গিয়েছিল ও। তার পরেই এমন ঘটনা।’

পুলিশের কাছে অভিযোগ করে রঞ্জন জানান, গত ৭ অক্টোবর নিজের বাড়িতে ফিরেছিলেন ওই তরুণী। ৯ অক্টোবর তিনি রঞ্জনের সঙ্গে দেখা করতে বের হন। রাতে বাড়ি ফিরে রঞ্জনের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। রাত প্রায় ১টা নাগাদ তরুণী ফোনে জানান, কেউ কলিংবেল বাজাচ্ছেন। তাই তিনি ফোন ছেড়ে দরজা খুলতে যাচ্ছেন। তার পর থেকেই তরুণীর খোঁজ নেই।

রঞ্জন বলেন, প্রেমিকার বাড়িতে যাওয়ার পর তার মা জবাদেবী বলেন, মেয়ে রাগ করে বাড়ি থেকে চলে গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে বুঝতে পারি, উনি মিথ্যা বলছেন। শেষে জানতে পারি, ওকে নেশামুক্তি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। যে মেয়ে চা ছাড়া অন্য কোনো নেশা করে না, তাকে কেন আমার থেকে আলাদা করতে নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করানো হলো, সেই উত্তর পেতেই থানায় থানায় ঘুরছি। লালবাজারেও অভিযোগ করেছি।

জবাদেবী জানান, ওই ছেলেটির সঙ্গে মিশে আমার মেয়ে খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আমাকে ধরে মারে, বাড়িতে ভাঙচুর করে। কোনো নেশা করে না ঠিকই, কিন্তু মেয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছে। ওই কেন্দ্রে এককালীন ১২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। মাসে মাসে হয়তো ১০ হাজার টাকা করে দিতে হবে। তাতেই মেয়ে সুস্থ হবে।

নরেন্দ্রপুরের ওই নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে সুবীর নামে এক ব্যক্তি জানান, নেশামুক্তি কেন্দ্রটিতে নেশাগ্রস্ত আর মানসিক সমস্যায় ভোগা রোগীদের পৃথকভাবে রাখা হয়। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

আফগান ত্যাগ করতে উদগ্রীব ২০০ মার্কিন নাগরিক

আফগানিস্তানে এখনও আটকা পড়ে আছেন ৩৬৩ মার্কিন নাগরিক। এদের মধ্যে ১৭৬ জন দ্রুত দেশটি ছাড়তে উদগ্রীব বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির সংসদ সদস্যদের জানায়, এখন পর্যন্ত যেসব মার্কিন নাগরিক আফগানিস্তানে রয়ে গেছেন, তারা দ্রুত দেশটি ত্যাগ করতে চাচ্ছেন। খবর সিএনএনের।

৩১ আগস্টের পর আফগানিস্তান থেকে আটকেপড়া মার্কিন নাগরিকসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকদের ফেরত আনা বেশ কষ্টসাধ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

শেষ মুহুর্তে বেশ তড়িঘড়ি করে বাইডেন প্রশাসন আফগান ত্যাগ করায় অনেক মার্কিন আটকা পড়েন সেখানে।

তারা গত দুই মাস ধরে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের উদ্ধারে আকুতি জানিয়ে আসছেন।

তালেবানের বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই আফগানিস্তান ত্যাগ করেছে মার্কিন বাহিনী। ৩১ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ সব পশ্চিমা দেশকে আফগান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল তালেবান।

এ বছরের ৩০ আগস্ট মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ ফ্লাইটটি আফগানিস্তান ত্যাগ করেছে।

১৫ আগস্ট তালেবান কাবুল দখল করার পর অল্প সময়ের মধ্যে সব মিলিয়ে কাবুল থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দেশ নিয়ে গেছে।

২০ বছর ধরে চলা যুদ্ধেরও সমাপ্তি, যে যুদ্ধ আফগানিস্তানে ২০০১ সালের ১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছিল।

গত এপ্রিলেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে সৈন্য পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী সৈন্য প্রত্যাহার শেষ করলেন মার্কিনিরা।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে আল-কায়েদার জঙ্গি হামলার পর আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক বাহিনী অভিযান শুরু করে। অবশেষে সেই আফগান যুদ্ধের অবসান হলো।

মার্কিন অভিযানে ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত ইসলামি কট্টরপন্থি গোষ্ঠী তালেবান আবারও ক্ষমতায় ফিরেছে গত ১৫ আগস্ট।

সূচকের বড় পতনে শেষ হলো পুঁজিবাজারে লেনদেন

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র পাওয়া গেছে।

 

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিন ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৭০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৭ হাজার ৫ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই৩০ সূচক ১ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৩০ পয়েন্ট কমে যথাক্রমে অবস্থান করে ২৬৯৮ ও ১৪৮৭ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে দর বেড়েছে ৫৭টির, কমেছে ২৯২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টি কোম্পানির।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের লেনদেন শেষ হয়েছে বড় পতনে। সিএসই সার্বিক সূচক ১২২ পয়েন্ট কমে ২০ হাজার ৫৭০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এলসির বকেয়া ১২ হাজার কোটি টাকা

ব্যবসা-বাণিজ্যে করোনার নেতিবাচক প্রভাবের কারণে গত দেড় বছরে বকেয়া এলসির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় এটা ১২ হাজার ৪০ কোটি টাকার বেশি। উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার অভাবে এসব দেনা পরিশোধ আগে স্থগিত করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক দফায় এগুলো পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে বেশিরভাগ বকেয়া এলসি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এছাড়াও স্থগিত অন্যান্য বৈদেশিক ঋণের কিস্তিও এখন পরিশোধ করতে হচ্ছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোতে হঠাৎ করে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। এতে বেড়েছে দাম।

সূত্র জানায়, করোনার কারণে গত বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনের মতো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যও স্থবির ছিল। অক্টোবর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হলেও মন্দার ধাক্কা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়নি। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোক্তাদের নীতি সহায়তা দিতে এলসি পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়। গত বছরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দফায় সময় বাড়ানো হয়। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। ফলে এপ্রিল থেকে ব্যবসা বাণিজ্য ফের স্থবির হয়ে পড়ে। চলে আগস্ট পর্যন্ত। ফলে দুই দফায় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এলসির দেনা পরিশোধ স্থগিত করে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ বা বিদেশি ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রায় নেওয়া ঋণে খোলা এলসির দেনা পরিশোধের মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হয়। এসব কারণে জুন পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণে খোলা এলসির দেনা পরিশোধ করতে হয়নি। এগুলো জুলাই থেকে পরিশোধ শুরু হয়েছে। বিদেশি ব্যাংকের ঋণের খোলা এলসিসহ অন্যান্য বকেয়া এলসিও একই সময়ে পরিশোধ শুরু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যে কোনো দুর্যোগে হঠাৎ করে মুদ্রার হাতবদল স্থবির হয়ে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে অর্থের জোগান বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। যেমনটি হয়েছিল ২০০৮ সালের মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দার সময়ে। ওই সময়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ডলারের জোগান বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। পরে দেওয়া অর্থ ফেরত নেওয়া হয়। গত করোনায়ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিশ্বের প্রায় সব কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে মুদ্রার সরবরাহ বাড়িয়েছে। সেগুলো এখন ধীরে ধীরে পরিশোধ হচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার বা ১২ হাজার ৪০ কোটি টাকার এলসির দেনা বকেয়া পড়েছে। এর মধ্যে গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ১২৪ কোটি ডলার। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১৪ কোটি ডলার। করোনার ভয়াবহতা গত বছরের তুলনায় এবার কম হওয়ার কারণে ব্যবসা বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কম। যে জন্য এবার স্থগিত এলসির দেনাও কম বেড়েছে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, বকেয়া এলসির পরিমাণ আরও বেশি হতো। ব্যবসা চালু রাখার স্বার্থে অনেক উদ্যোক্তা যে কোনোভাবে হোক বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে স্থগিত এলসির দেনা শোধ করে এখন নতুন করে এলসি খুলছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নিয়ে খোলা ব্যাক টু ব্যাক এলসি (রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য খোলা এলসি) দেনা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬১ কোটি ডলার। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এ খাতে কোনো এলসি বকেয়া ছিল না। স্থগিত এলসির দেনা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ কোটি ডলার। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২০১৮ সালে ছিল ৩৯ কোটি ডলার, ২০১৭ সালে ছিল ৪৫ কোটি ডলার। গত কয়েক বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে স্থগিত এলসির দেনা। এগুলো এখন পরিশোধ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যবসা চালু রাখতে হলে এলসির দেনা নির্ধারিত সময়েই শোধ করতে হবে। তা না করলে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবসা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। যে জন্য আগে বকেয়া এলসি ছিল খুবই কম। করোনার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সহায়তা দেওয়ায় এ দেনা বেড়েছে। তবে এখন রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ায় আগের দেনা সমন্বয় করা হচ্ছে।

বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের নীতিমালা অনুযায়ী, এলসি খোলার সময় ক্রেতা-বিক্রেতার পক্ষে ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি হয়। এতে এলসির দেনা কিভাবে পরিশোধ করা হবে তার শর্ত উল্লেখ থাকে। তবে নীতিমালা অনুযায়ী তা ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। তা না করলে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে উদ্যোক্তা খেলাপি হয়ে পড়বেন। তখন আর নতুন এলসি খুলতে পারবেন না। এ কারণে এলসির দেনা শোধে কেউ সাধারণত পিছিয়ে থাকেন না। আর কোনো কারণে উদ্যোক্তা পরিশোধ না করতে পারলেও ব্যাংক ফোর্স লোন সৃষ্টি করে এলসির দেনা শোধ করে দেয়। এ কারণে আগে বকেয়া এলসি খুবই কম ছিল। যেগুলো বকেয়া থাকত সেগুলোও ছয় থেকে এক বছরের মধ্যে বেশির ভাগই মিটে যেত। কিন্তু করোনার কারণে স্বয়ং কেন্দ্রীয় ব্যাংকই এলসির দেনা শোধের মেয়াদ বাড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এলসির দেনা শোধ বা রপ্তানির বিল দেশে আনার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে।

বিএনপির দৃষ্টিসীমা এখন কুয়াশাচ্ছন্ন: সেতুমন্ত্রী

অগণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা দখলের দিবাস্বপ্ন ভেস্তে যাচ্ছে বলেই বিএনপির দৃষ্টিসীমা এখন কুয়াশাচ্ছন্ন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, অগ্রগতি এবং দেশ এগিয়ে যাওয়ার কোনো চিত্র বিএনপি দেখতে পায় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের মেরুদণ্ড শক্ত, কারণ সরকারের সঙ্গে জনগণ রয়েছে। কোনো দৃশ্যমান বা অদৃশ্য শক্তির কাছে বঙ্গবন্ধুকন্যা মাথা নত করেন না। বরং বিএনপির রাজনীতি চলছে অদৃশ্য সুতোর টানে।

সেতুমন্ত্রী রোববার দুপুরে তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। ‘দেশ এক অদৃশ্য শক্তি চালাচ্ছে, এ শক্তি বিএনপির ওপর খবরদারি করছে’-বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আসলে শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎমুখী রাজনীতি বিএনপির সুবিধাবাদী রাজনীতির ওপর অমানিশার ছায়া ফেলেছে। বর্তমানে দেশের মানুষ নির্ভয়ে এবং স্থিতিশীল পরিবেশে নিজ নিজ কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিচ্ছে।

‘দেশে আতঙ্ক ও নির্মম রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে’-বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের উত্তরে সেতুমন্ত্রী বলেন, তাদের এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। বর্তমান সরকার কোনো দলের ওপর খবরদারি করে না বরং সরকার পরিচালনাকে পবিত্র দায়িত্ব মনে করে। তিনি বলেন, বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগ চিরাচরিত ও কাল্পনিক, সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলার আগে তাদের নিজেদের শাসনকালের কথা মনে করা উচিত। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন-জনগণ নয়, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কারণে বর্ণচোরা, সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ এবং জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনকারীরা আতঙ্কে আছে। তিনি বলেন, ধর্মকে পুঁজি করে বিভেদ সৃষ্টিকারী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আতঙ্কে রয়েছে। আতঙ্কে আছে আগুন সন্ত্রাসীরা। দেশের সাধারণ মানুষ আতঙ্কে নয়, বরং ভালো আছে, স্বস্তিতে আছে।

বিএনপিকে আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখার পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা ক্ষমতায় থাকাকালে হাওয়া ভবন তৈরি করে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল, জনগণের অর্থ পাচার করে বিদেশে অর্থের পাহাড় গড়েছিল, পাচারকৃত অর্থে বিদেশে আয়েশি জীবন যাপন করেছে এবং তাদের কি বলব? তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি একজন দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারেনি, অথচ তারা আজ নতুন নতুন সবক দেয়।

সাম্প্রদায়িক হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছে আ.লীগ ছাত্রলীগ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে যেখানে সাম্প্রদায়িক হামলা ঘটেছে তার নেতৃত্ব দিচ্ছে ছাত্রলীগের ছেলেরা, আওয়ামী লীগের লোকেরা। পত্র-পত্রিকায়ও তা উঠে আসছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সরকার দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ভাইদের ধর্ম পালন, উপাসনালয়ের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। একইভাবে মুসলমান ভাইদেরও জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। গণতন্ত্রের সংগ্রামসহ বিভিন্ন বিষয় থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে সরকার এই সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে রোববার সকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির নির্বাহী সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের শামীমসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সম্প্রতি যেসব সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে, এর নেতৃত্বও দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। রংপুরে যে ঘটনা ঘটেছে সেখানে জড়িত ছাত্রলীগ নেতা। সুতরাং এটা পরিষ্কার জনগণের সঙ্গে এই সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে এই সরকার। সেদিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ সাম্প্রদায়িক হামলা চালাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের বিষয়েও সেই একই ঘটনা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশে তো নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। এখানে অনির্বাচিত সরকার, অবৈধ সরকার, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, তারা নির্বাচন নির্বাচন খেলা করে গত দুটি টার্ম জোর করে ক্ষমতায় আছে। আমরা তখনই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব, যখন নির্বাচনের সত্যিকার পরিবেশ তৈরি হবে।

সরকার মিথ্যাচার করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় : সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার দেউলিয়া হয়ে গেছে। মিথ্যাচার করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে বলেছে, বিএনপি করছে, বিএনপি করেছে। আমাদের নেতকর্মীদের ওপর মামলাও দিয়েছে। এখন পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুদের বাড়িঘর পোড়ানোর ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছে সৈকত নামের এক ছাত্রলীগ নেতা। পরে তারা মানুষকে বোকা বানানোর জন্য দুই ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কার করেছে। একই ঘটনা ঘটেছে চৌমুহনী ও কুমিল্লায়। এই মিথ্যাচার, এই নাটক লোকে বুঝে। আমাদের বলার দরকার নেই। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইয়েরা চিৎকার করে বলছে এই ঘটনার জন্য দায়ী সরকার। ইকবালকে গ্রেফতার করে নাটক করা হচ্ছে। এসব নাটক মিথ্যাচার দেশের মানুষ জেনে গেছে।

তিনি আরও বলেন, এই সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করেছে। কারণ আমরা চাল-ডাল-তেলের দাম বৃদ্ধির কথা বলছি, মানুষের নিরাপত্তার কথা বলছি, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের কথা বলছি, তারা এখান থেকে জগনণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চায়। আমরা বাংলাদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করি না। এখানে হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম খ্রিস্টান একই বাগানের ফুলের মতো বেড়ে উঠেছি। তারা হীন রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এসব করছে।

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সরকারদলীয় সাবেক হুইপ ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনের তিনবারের সংসদ-সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুল হক আসপিয়া স্মরণে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে রোববার বিকালে এই শোকসভার আয়োজন করা হয়।

মীর্জা ফখরুল তার নাতিদীর্ঘ বক্তব্যে বলেন, আমরা মর্মান্তিক, করুণ যন্ত্রণার মধ্যে বসবাস করছি। আমাদের সন্তানরা ঘরের বাইরে গেলে ফেরত আসবে কিনা এ নিয়ে আমরা শঙ্কিত। বিনা আপরাধে নিরীহ মা-বোনদের তুলে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশে এক চরম অরাজক অবস্থা চলছে। বিএনপির ৫শ’র ওপরে নেতাকর্মী গুম হয়েছে, সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। সরকার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া। দেশের সম্পদ লুট করে বাইরে নিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ছে। ’৭২ সাল থেকে ক্ষমতায় আসার পর তারাই দেশকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। গণতন্ত্রের কথা বলে তারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তারা সরকার গঠনের আগে বলেছিল ১০ টাকায় চাল, কম দামে তেল ও ডাল খাওয়াবে। ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। এখন ২৫ লাখ টাকার নিচে কোনো চাকরি মিলে না। চাকরি পেতে হলে আওয়ামী লীগের সার্টিফিকেট লাগে।

তিনি বলেন, বিচারালয়কে চরমভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালতে জামিন পায় না। এ দেশে সাধারণ মানুষ কোনো বিচার পায় না। রাষ্ট্রকে দলীয়করণ করা হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। সরকারের লোকজন মিথ্যাচার করে। ওবায়দুল কাদের প্রতিদিন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ-সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নুরুলের সঞ্চালনায় শোকসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন জীবন, সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন, কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জের সাবেক এমপি নজির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী, প্রয়াত ফজলুল হক আসপিয়ার ছেলে ব্যারিস্টার আবিদুল হক প্রমুখ।