মঙ্গলবার ,৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 679

মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরা শুরু

২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ মধ্যরাত থেকে পদ্মা-মেঘনাসহ নদনদীতে ইলিশ ধরা শুরু হচ্ছে।

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম রক্ষায় ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ায় ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ইলিশ ধরতে পারবেন জেলেরা।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে এবার ১ হাজার ৮৯২টি মোবাইল কোর্ট ও ১৫ হাজার ৩৮৮টি অভিযান চালানো হয়েছে। ৮৮৪ লাখ মিটার অবৈধ জাল আটক করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত সারা দেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহণ, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আজ মধ্যরাতে সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে। এর পর ইলিশ ধরায় কোনো বাধা থাকবে না।

ঢাকা-পায়রা-কুয়াকাটা রেলপথে অগ্রাধিকার

দেশের দক্ষিণাঞ্চল রেলওয়ের আওতায় আসছে। ঢাকা-যশোর রেলপথ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন পথ। এবার ঢাকা-বরিশাল, পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা পর্যন্ত রেলপথ হবে। এজন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে। ঢাকা-বরিশাল-পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। এতে অর্থায়নে একাধিক দেশ এগিয়ে এসেছে। অত্যাধুনিক ব্রডগেজ ডাবল লাইন এ প্রকল্পে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চালানোর ব্যবস্থাও থাকছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির সমীক্ষা শেষ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ও সৌদিআরব অর্থায়ন করার প্রস্তাব দিয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর কাজ শুরু হবে। এসব বিষয় নিয়ে আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হবে।

এ প্রসঙ্গে রোববার দুপুরে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে যুগান্তরের কথা হয়। তিনি বলেন, ঢাকা-যশোর রেলপথের সঙ্গে নতুন করে ঢাকা-ভাঙ্গা, বরিশাল-পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেলপথ হচ্ছে। রেলপথের লোকসান কমিয়ে আয় বাড়াতে এর কোনো বিকল্প নেই। গুরুত্বপূর্ণ এটিসহ আরও বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে-পায়রা বন্দর থেকে পণ্যবাহী ট্রেন ঢাকাসহ পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল চলাচল করবে। বন্দর থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার অন্যতম মাধ্যম হবে এ রেলপথ। সড়কের চেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যয় সাশ্রয় হবে ব্যবসায়ীদের। ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় পণ্য পৌঁছবে ঢাকায়। এ লাইন হয়ে একাধিক আন্তঃনগর যাত্রীবাহী ট্রেনও চলাচল করবে। পর্যটন এলাকা-কুয়াকাটায় পর্যটক উপচে পড়বে।

রেলপথমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পে যে ব্যয় ধরা হয়েছে তা বাড়তেও পারে, কমতেও পারে। ব্রডগেজ ডাবল লাইনে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চালানোরও ব্যবস্থা থাকবে। গতি সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠবে। এ পথে পণ্যবাহী ট্রেন ৬০ কিলোমিটারের বেশি গতি নিয়ে চলবে। আমরা পরিকল্পনা করছি, পণ্যবাহী ট্রেন চালানোর জন্য আলাদা লাইন স্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বৈঠকে আলোচনা হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ান প্রভিডাস ইনভেস্টমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড বাংলাদেশ রেলে প্রথমবারের মতো বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। চলতি বছরের ৭ অক্টোবর রেলপথ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে- ঋণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। অস্ট্রেলিয়ান প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ভাঙ্গা-পায়রা রেল লিংক ও হাইস্পিড গতির রেল প্রকল্পের জন্য ১৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রস্তাব করেছে। গত ২৬ আগষ্ট রেলওয়ে মহাপরিচালক ডি এন মজুমদার স্বাক্ষরিত রেলপথ সচিব বরাবর চিঠিতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ান বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এ প্রকল্পে বিনিয়োগ ও নির্মাণে অংশগ্রহণের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার অর্থাৎ বাংলাদেশস্থ অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনের মতামত জানা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। এদিকে প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ান বিনিয়োগকারীরা বেসপোক পোর্টফোলিওর মাধ্যমে তহবিল সরবরাহ করবেন-এটি বিশ্ব মুদ্রা বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের একটি প্রক্রিয়া।

রেলওয়ে মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অস্ট্রেলিয়ার প্রোভিডাস ইনভেস্টমেন্টস বাংলাদেশের দুটি মেগা প্রকল্প-ঢাকা-চট্টগ্রাম হাই-স্পিড ট্রেন লাইন এবং ভাঙ্গা-পায়রা-কুয়াকাটা রেল সংযোগ বাস্তবায়নের জন্য ঋণের অফার দেয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদান করবে। চীনের করপোরেশনসহ একাধিক বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠান কম সুদের প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে ৯ মার্চ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন।

তাদের প্রস্তাবে বলা হয়, প্রভিডাস স্বল্প সুদে এই ঋণ দিতে চায়, যা এর আগে অন্যান্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রস্তাবের চেয়েও আকর্ষণীয়। ঋণ পরিশোধের সময় ধরা হয়েছে ৩০ বছর। গ্রেস পিরিয়ড হিসাবে প্রকল্পের নির্মাণকালে ঋণের ওপর সুদ আরোপ করবে না। তাছাড়া প্রকল্প সমাপ্ত হলে সরাসরি রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখা-১ থেকে প্রস্তাবনাটি মূল্যায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হয়েছে। ভাঙ্গা-পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেলপথটি হবে ২১৫ রোট কিলোমিটার। ট্র্যাক হবে ৩৬৯ কিলোমিটার। এতে ১৯টি স্টেশন, ২২টি বড় এবং ৫০টি ছোট ও মাঝারি সেতু এবং ৪৩৪টি লেভেল ক্রসিং আন্ডারপাস এবং বক্স কালভার্ট থাকবে।

রোববার বিকালে রেলপথ সচিব সেলিম রেজা যুগান্তরকে বলেন, সোমবার এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নে প্রস্তাব পাওয়া যাচ্ছে। আমরা ইআরডিতে প্রস্তাবের ব্যাখ্যাসহ পাঠিয়েছি। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও সৌদি আরব এ প্রকল্পে অর্থায়ন করতে চাচ্ছে। রেলের জন্য যেটা ভালো হয় মঙ্গল হয় আমরা সেটাই গ্রহণ করব।

রেলওয়ে মহাপরিচালক ডিএন মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা-ভাঙ্গা-যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত চলছে। আমরা ভাঙ্গা থেকে পায়রা হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত নতুন লাইন নির্মাণের জন্য সমীক্ষা সমাপ্ত করেছি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বেশ কয়েকটি বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। আমি মনে করি সবচেয়ে যোগ্য প্রতিষ্ঠানই কাজ পাবে। যে প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ দ্বারা রেলের লাভ ও বাংলাদেশ উপকৃত হবে। সুদ কম হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামছুল হক যুগান্তরকে বলেন, রেলে বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সেবা বাড়ছে না। নিশ্চিত হচ্ছে না যাত্রীর নিরাপত্তা। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্রুতগতির লাইন স্থাপন, ইঞ্জিন ও কোচ কেনা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে ট্রেনের গতি-সেবা বাড়ছে না। ঢাকা-বরিশাল, পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ হবে, এটা নিশ্চয় ভালো খবর। কিন্তু এর ব্যয় নির্ধারণে রেল ও দেশের সর্বোচ্চ স্বার্থ দেখতে হবে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা সৌদি আরব যদি অর্থায়নে আগ্রহ থাকে, তাহলে সর্বোচ্চ কম সুদের ঋণ গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়িত প্রকল্পে সেবা ও নির্ধারিত গতি নিশ্চিত করতে হবে। এর নড়চড় হলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শীতের শুরুতে শিশুর যত্ন ও স্বাস্থ্যকথা

শীত আসছে। এ সময় শিশুকে কীভাবে সুস্থ রাখা সম্ভব, কী করলে রোগব্যাধির আক্রমণ কম হবে তা সবারই জানা দরকার। শীতের কারণে সাধারণ সর্দি-কাশি, অ্যাজমা বা হাঁপানি বাড়ে, ব্রংকাইটিস হয়, ঋতু পরিবর্তনের জন্য কিছু ভাইরাস জ্বরও হচ্ছে। এ সময় টনসিল ফুলে যায়, সাইনোসাইটিস হয়। শীতকালে আর্দ্রতা কমে যায়, বাতাসে ধুলাবালি বেশি ওড়ে, তাই সর্দি-কাশি, অ্যাজমা বা হাঁপানি, ব্রংকাইটিস ও ব্রংকিউলাইটিসের প্রকোপ বেশি হয়। ত্বকের শুষ্কতা বাড়ার জন্য বিভিন্ন চর্মরোগ ও অ্যালার্জি হয়। শিশুকে সুস্থ রাখার জন্য শীতের প্রস্তুতি ও চিকিৎসা নিয়ে লিখেছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন

পৌষ ও মাঘ এ দুই মাস হলো শীতকাল অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু নভেম্বর থেকেই হালকা শীতের আমেজ অনুভব করা যায়। ঋতু পরিবর্তনের সময় রোগব্যাধির প্রকোপ স্বভাবতই বেড়ে যায়। ছোট শিশু ও বয়স্ক, যাদের বয়স ৬০-৭০ বছর, তাদের রোগব্যাধিতে বেশি আক্রান্ত করে। শিশু ও বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার ফলে তারা আক্রান্ত হন বেশি। শীতের শুরুতে এবং শীত চলে যাওয়ার সময়ে তাপমাত্রা পরিবর্তনের জন্য এর প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। প্রায়ই দেখা যায়, দুই-তিন দিন নাক বন্ধ থাকে বা নাক দিয়ে পানি ঝরে। তাই এ সময়টাতে সবাইকে একটু সতর্ক থাকতে হবে।

করণীয়

শীত থেকে বাঁচতে হলে সামর্থ্য অনুযায়ী যথাসম্ভব গরম কাপড় পরতে হবে। বিশেষ করে বাচ্চাদের গরম কাপড় দিয়ে মাথা ঢাকতে বা টুপি পরাতে হবে। কানে শীত বেশি লাগে, তাই কান ঢেকে রাখতে হবে। ধুলাবালি থেকে যতদূর সম্ভব নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। যাদের সুযোগ আছে তারা উষ্ণ গরম পানি দিয়ে গোসল করবেন। অথবা দুপুরের দিকে গোসল করতে হবে, তখন পানিতে ঠান্ডা কম থাকে। শোয়ার সময় লেপ বা কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, যাতে ঠান্ডা না লাগে। আবার অতিরিক্ত গরম কাপড়ের জন্য যাতে ঘেমে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, শিশুরা যাতে ধুলাবালিতে খেলতে না যায়, আইসক্রিমসহ অন্যান্য ঠান্ডা পানীয় বা খাবার যেন যেন না খায়। কুসুম কুসুম গরম পানি খেতে হবে।

ফ্রিজের ঠান্ডা খাবার না খেয়ে, তাজা রান্না করা গরম খাবার খাওয়াই ভালো। ধূলিকণা থেকে বাঁচতে হলে মাস্ক পরতে হবে, যতটা সম্ভব কম জনসমাগম ও ভিড়ের জায়গা যেমন শপিংমল, হাটবাজার বা বিয়েবাড়িতে শিশুদের না নেওয়াই ভালো। রাস্তা-ঘাটে পানি ছিটাতে হবে যাতে ধুলাবালি ও জীবাণু অনেক কমে যাবে।

নবজাতক শিশুর যত্ন

নবজাতকের তাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা খুবই কম, তাই অল্প শীতেই তারা কাবু হয়ে যায়। যে বাচ্চা পূর্ণ ৩৭ সপ্তাহ মাতৃগর্ভে কাটিয়ে জন্ম নিয়েছে তার ক্ষেত্রে জটিলতা কম। সময়ের আগেই জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। শিশু মায়ের পেটে উষ্ণ তাপমাত্রায় অবস্থান করে। তাই পৃথিবীর তাপমাত্রায় সে শীত অনুভব করে। তা ছাড়া শিশুর শরীরে তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি তৈরি হতেও সময় লাগে। শিশুকে উষ্ণ তাপমাত্রায় রাখতে হবে। যদি ঘরের তাপমাত্রা ২৫ সেলসিয়াস হয়, তবে সুতির কাপড় পরিয়ে কাঁথা দিয়ে মুড়ে রাখুন। এ মাত্রার নিচে হলে সোয়েটার ব্যবহার করতে হবে। বাচ্চা বুকের দুধ খাওয়ার সময় সাধারণত ঘেমে যায়। তাই ওই সময় সোয়েটার আলগা করে দিন। শীতে নবজাতককে অবশ্যই হাতমোজা, পা’মোজা ও কানটুপি পরাতে হবে।

মনে রাখবেন

* বাচ্চাকে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ান। বুকের দুধে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। ফলে শিশু সহজে ঠান্ডা, কাশি ইত্যাদিতে আক্রান্ত হয় না।

* দিনে ঘরের জানালা খুলে রোদ ও নির্মল বাতাস ঘরে ঢুকতে দেওয়া ভালো, ঠান্ডা বাতাস এলেও ক্ষতি নেই। ঘরের মধ্যে ভিজা কাপড় না শুকিয়ে অবশ্যই রোদে শুকাতে হবে।

* শীতকালে বাচ্চাকে দোলনায় বা আলাদা মশারির নিচে না রেখে মায়ের কোলঘেঁষে শোয়াতে হবে। এতে বাচ্চা উষ্ণ থাকবে, মায়ের সঙ্গে আন্তরিকতা বাড়বে ও বুকের দুধ খাওয়াতে সুবিধা হবে।

* যদি পরিবারের কোনো সদস্যের বা কোনো আত্মীয়ের সর্দি, কাশি, ভাইরাল জ্বর ইত্যাদি থাকে, তবে তারা মা ও নবজাতক শিশুর কাছে আসা থেকে বিরত থাকতে হবে।

* শিশুকে শীতকালে ঘরের বাইরে নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। রোদে দিতে হলে জানালার পাশে বা ঘরের বারান্দা থেকে রোদ লাগান।

* নবজাতক শিশুকে জন্মের সঙ্গে সঙ্গে গোসল করানোর দরকার নেই। জন্মের ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত গোসল করানো উচিত নয়। এর মধ্যে শিশুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা গড়ে উঠবে।

* বাচ্চার নাভি না শুকানো পর্যন্ত তাকে গোসল না করানোই ভালো। সপ্তাহে দুদিন গোসল করানোই যথেষ্ট। গোসলের আগে ঘরের দরজা-জানালা লাগিয়ে নিন। গোসলের জন্য প্রয়োজনীয় ঈষদুষ্ণ পানি (৪৫ সে.), নরম কাপড় বা স্পঞ্জ, তোয়ালে, ভ্যাসলিন, ডায়াপার ইত্যাদি সব হাতের কাছে গুছিয়ে নিয়ে গোসল করাতে বসুন।

* নবজাতক শিশুর সামান্য কাশি বা হাঁচিও কিন্তু সন্দেহজনক। তাই কাশি, শব্দ করে শ্বাস টানা, দুধ টেনে খেতে না পারা, শ্বাস নিতে কষ্ট বা পাঁজর নিঃশ্বাসের সঙ্গে বেঁকে যেতে থাকলে অতি দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

যা করা যাবে না

* শীতকালে নবজাতকের মাথা কামানো যাবে না। গর্ভকালীন চুল অপবিত্র বলে অনেকে জন্মের পর চুল কামান। এর কোনো প্রয়োজন নেই। চুল মাথার তাপমাত্রা ধরে রাখে, চুল কামিয়ে দিলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। শিশুর নাক বা মুখের ওপর কাপড়, লেপ, কম্বল ইত্যাদি দেবেন না।

* ঘরে কয়লা ও তুষের আগুন রাখবেন না যেন, এতে শিশুর ক্ষতি হয়।

* জন্মের পর ত্বকে এক ধরনের সাদা আবরণ দেখা যায়। অনেকেই এটি নোংরা ভেবে মুছে দেন বা গোসল করিয়ে ধুয়ে দেন। আসলে কিন্তু এ আবরণ নবজাতকের দেহের তাপমাত্রা ধরে রাখে, জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং ত্বককে সুরক্ষা দেয়। তাই এটি সঙ্গে সঙ্গে মোছা উচিত নয়।

* নাভিতে কিছু লাগানো নিষেধ। শীতে অনেকে বাচ্চার নাভিতে তেল মেখে রোদে শুইয়ে রাখেন। এতে নাভিতে সংক্রমণ হতে পারে।

* ডায়াপার ছয় ঘণ্টার বেশি কোনোভাবেই রাখা উচিত না। ডায়াপার থেকে র‌্যাশ হতে পারে, তাই আগে থেকে ভেসলিন বা জিংকসমৃদ্ধ ক্রিম লাগাতে হবে।

দেড় মাস থেকে এক বছর বয়সি শিশুর যত্ন

* শিশুকে প্রয়োজন অনুযায়ী উষ্ণ রাখুন। ঠান্ডা পরিবেশে রাখা যাবে না। স্যাঁতসেঁতে ঘরেও তাকে রাখা ঠিক হবে না। বাচ্চাকে বুকের দুধ নিয়মিত খাওয়ান। ছয় মাসের বেশি হলে বাচ্চাকে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবার দিন। খিচুড়িতে ডিমের সাদা অংশ, লাল শাক, পালং শাক অল্প করে দিতে পারেন। লেবুর রস দেবেন, কমলার রস খাওয়াবেন। এতে বাচ্চার রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়বে।

* যেসব বাচ্চা হামাগুড়ি দেয়, দেখবেন তারা যেন ঠান্ডা মেঝেতে হামাগুড়ি না দেয়। তবে কার্পেট ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ কার্পেটের রোয়া থেকে বা ধুলো থেকে অ্যালার্জি হয়। তাই মাদুর বা ম্যাট ব্যবহার করা ভালো।

এক থেকে ছয় বছর বয়সের শিশুর যত্ন

এ বয়সে শিশুরা অনেক খেলাধুলা ও দৌড়াদৌড়ি করে থাকে, তাই খুব বেশি গরম ও ভারী কাপড় পরার প্রয়োজন হয় না। সকালে স্কুলে যাওয়া ও বিকালে খেলতে যাওয়ার সময় পর্যন্ত উষ্ণতা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুরা স্কুলে পরস্পরের মাধ্যমে সর্দি-কাশি, ফ্লুসহ শীতকালের কিছু ছোঁয়াচে চর্মরোগে আক্রান্ত হয়। এ ব্যাপারে শিশুকে স্বাস্থ্যবিধি শেখাতে হবে। নিয়মিত লোশন লাগাতে হবে যেন ত্বক শুষ্ক হয়ে না যায়। শীতকালীন শাকসবজি ও ফল বেশি করে খেতে দিতে হবে।

দাঁতের চিকিৎসা ও মুখের আলসার

পারদের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি এবং ESDO (Environment and Social Development Organiæation) যৌথভাবে ২০১৮ সালে সেমিনারের আয়োজন করেছে। দাঁতের চিকিৎসায় স্থায়ী ফিলিং দেওয়ার সময় অর্থাৎ সিলভার এমালগাম ফিলিং দেওয়ার সময় মারকারি বা পারদ ব্যবহার করা হয়। ডেন্টাল এমালগাম ফিলিংয়ে প্রায় ৫০ ভাগ মারকারি বা পারদ বিদ্যমান থাকে। পারদ সহজেই বাষ্পীভূত হয় এবং চর্ম ও শ্বাসনালি দ্বারা শোষিত হয়। পারদ প্রাকৃতিক পরিবেশকে দূষিত করে। ডেন্টাল এমালগাম ফিলিং দেওয়ার সময় কোনোভাবে পারদ মুখের মিউকাস মেমব্রেনের সংস্পর্শে এলে এবং মোটামুটি একটি নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করলে মুখে আলসার বা অন্য যে কোনো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পারদের বাষ্প কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকারক যা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। মারকারি বা পারদের প্রভাবে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ডিজেনারেশন হয়ে থাকে। সিলভার এমালগাম ফিলিং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিষাক্ত পারদের বাষ্প সিলভার এমালগাম ফিলিং থেকে নিঃসৃত হয়। এমালগাম ফিলিং যে দাঁতে থাকে তার পাশে মিউকোসায় রেটিকুলেট, লেসি, প্ল্যাকের মতো বা ইরোসিভ লাইকেনয়েড রিঅ্যাকশন দেখতে পাওয়া যায়। তবে সব সময় বা সবার ক্ষেত্রে এ ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না। দাঁতে সিলভার এমালগাম ফিলিং দেওয়ার সময় অসাবধানতা বশতঃ ফিলিংয়ের উপাদান মুখে থেকে গেলে তা মুখের মিউকোসাতে পিগমেন্টেড প্লাগ তৈরি করতে পারে যা এমালগাম টাট্টু নামে পরিচিত। অনেক সময় মুখের মিউকোসাতে মারকারি বা পারদ শোষিত হলে মুখের মিউকোসাতে আলসার দেখা যায় যা ভালো হতে সময় লাগে। তাই আমাদের সবার মারকারিমুক্ত ফিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

লেখক : মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

রক্তের ক্যানসার মাল্টিপল মায়ালোমা

মাল্টিপল মায়ালোমা এক ধরনের ব্লাড বা লিকুইড ক্যানসার। একে Bone Marrow ক্যানসারও বলা হয়। বোন মেরো হল হাড়ের মজ্জা। এ মজ্জা হলো রক্ত তৈরির কারখানা। রক্তের মূল উপাদান বিভিন্ন ব্লাড সেল তৈরি করা এ বোন মেরোর প্রধান কাজ। চিকিৎসকরা মায়ালোমাকে সুনির্দিষ্টভাবে প্লাজমা সেল ক্যানসার বলতে পছন্দ করেন। কারণ প্লাজমা সেলই এ ক্যানসারের মূল কারণ। রক্তের তরল উপাদান প্লাজমা আর এ প্লাজমা সেল একই নয়।

রক্ত দুটো উপাদান দিয়ে তৈরি। ব্লাড সেল আর প্লাজমা। প্লাজমা অংশ লিকুইড। ব্লাড সেল তিন ধরনের থাকে। RBC, WBC এবং প্লেটেলেটস। WBC কয়েক ধরনের আছে। তার একটি ধরন প্লাজমা সেল। এটি তৈরি করে B সেল। তাই অনেকে একে আরও সহজ করে বোঝাতে শুধু প্লাজমা সেল না বলে প্লাজমা বি সেল বলে। প্লাজমা সেলের কাজ রক্তে এন্টিবডি তৈরি করা। এন্টিবডির কাজ শরীরে কোনো রোগজীবাণু ঢুকলে তাকে মেরে ফেলা।

মায়ালোমা হলে ত্রুটিযুক্ত প্লাজমা সেলের সংখ্যা হাড়ের মজ্জায় বেড়ে গেলে হাড়ের অন্য সেল তৈরির কাজেও ব্যাঘাত ঘটে। তাই দেখা যায় মায়ালোমা হলে WBC প্রোডাকশনে সমস্যা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে RBC এবং প্লেটলেটস-এর প্রোডাকশনও কমে যায়। শরীর মারাত্মক ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে তখন। RBC’র অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়, রক্তের লোহিত কণিকার অভাব হলে অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সহজে বিভিন্ন ইনফেকশন বাসা বাঁধে। প্লেটেলেটস কমে যায় বলে রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না বলে সহজে নাক দাঁত থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে।

মায়ালোমার শুরু হাড়ে। হাড়ের কাজ প্লাজমা সেল তৈরি করা। কিন্তু মায়ালোমা বোনের মজ্জা বা অস্থিমজ্জার স্বাভাবিক কাজকে নষ্ট করে দেয়। এটি নারীদের চেয়ে পুরুষদের বেশি হয়। কালো লোকদের বেশি হয় সাদাদের চেয়ে। এটি বয়সি লোকদের বেশি হয়। বিশেষ করে ষাট বছরের ঊর্ধ্বে। মায়ালোমার কারণ চিকিৎসকরা স্পষ্ট করে এখনো জানে না। তবে একটি কারণ চিহ্নিত করতে পেরেছে। যাদের শরীরে monoclonal gammopathy of unknown significance বা সংক্ষেপে গটেঝ থাকে, তাদের এটি হওয়ার আশংকা বেশি। এটির কারণ যেমন অস্পষ্ট, তেমনি এটির শুরুও খুব অস্পষ্ট থাকে। সহজে লক্ষণ উপসর্গ দেখা দেয় না, যতদিন না পর্যন্ত অ্যাডভানস স্টেজে যায়। শুরুর দিকে শরীরের বিভিন্ন হাড় যুক্ত অংশ ব্যাক, স্পাইন, হিপ, ফিট এমন সব জায়গায় ব্যথা করে, খুব ফ্যাটিগ বা দুর্বল লাগে। সময়ে ধীরে ধীরে অন্য উপসর্গগুলো দেখা দেয়। এটি যেহেতু খুব আস্তে আস্তে প্রগ্রেস হয়, শুরুতে ডায়াগনোসিস এবং ট্রিটমেন্ট শুরু করতে পারলে কিউর না করতে পারলেও প্রগ্রেসকে ঠেকিয়ে রেখে, সিম্পটমগুলোকে কমিয়ে অনেক বছর বেঁচে থাকা যায়। অ্যাডভান্স স্টেজে চলে গেলে পাঁচ থেকে সাত বছর বাঁচার আশংকা থাকলেও রোগের শুরুতে ডায়াগনোসিস এবং ট্রিটমেন্ট শুরু করতে পারলে দশ থেকে পনেরো বছরও মাল্টিপল মায়ালোমা নিয়ে উপসর্গ কমিয়ে রাখা যায়।

বর্তমানে মাল্টিপল মায়ালোমা অনেক উন্নত ধরনের ট্রিটমেন্ট আছে। রোগের বিস্তার অনুযায়ী টার্গেটেড থেরাপিতে কম্বাইন্ড মেডিসিন, ক্যানসার কোষগুলোকে মারতে কেমোথেরাপি, অথবা শরীরের ইমিউনিটি বাড়িয়ে তার মাধ্যমে ক্যানসার সেলকে দমানোর ইমিউনোথেরাপি, ইত্যাদির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।

লেখক : চিকিৎসক, ইংল্যান্ডে কর্মরত

আবার শুরু এইচএসসির ফরম পূরণ

চলতি বছরের (২০২১) এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য আবার সুযোগ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামীকাল রোববার থেকে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে প্রতিষ্ঠান থেকে এসএমএস পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন। আর এসএমএস পাওয়া শিক্ষার্থীরা আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত ফরম পূরণের ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

গত ১২ আগস্ট থেকে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফরম পূরণের কাজ শুরু হয়। ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়।

পরে সময় বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়। ১৬ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আবারও ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। শেষ হবে ৩০ ডিসেম্বর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়েছে ভর্তি পরীক্ষা, চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। প্রতি আসনের বিপরীতে লড়বেন ৭৩.৮১ জন।

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে এবার মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৮১ জন। আর মোট আসন সংখ্যা ১৫৭০টি।

এই ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের এমসিকিউ ও ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। এমসিকিউ পরীক্ষা ৪৫ মিনিট ও লিখিত পরীক্ষা ৪৫ মিনিট অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের ফলাফলের (জিপিএ) ওপর ২০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ঢাবির বিজনেজ স্টাডিজ অনুষদে অগ্নিকাণ্ড

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেজ স্টাডিজ অনুষদের এমবিএ ভবনের চতুর্থ তলায় আগুন লেগেছে।

শনিবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

জানা গেছে, চতুর্থ তলার এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এসিটি দীর্ঘদিন ধরে খারাপ অবস্থায় ছিল। সেখান থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে: শাহরুখপুত্র

একাধিকবার জামিনের শুনানিতে হেরে গেছেন আরিয়ান খানের আইনজীবী সতীশ মানিশিন্দে।

যে কারণে শাহরুখপুত্রের এখন ঠিকানা মুম্বাইয়ের আর্থার রোডের জেলে বন্দীজীবন পার করছেন। আগামী মঙ্গলবার ফের জামিনের শুনানি চলবে। সেদিন আরিয়ান জামিন পাবেন কি? তা এখনও স্পষ্ট নয়।

মূলত আরিয়ানের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটকে পুঁজি করেই জিতে যাচ্ছে ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এনসিবি)।

প্রভাবশালী হওয়ায় জামিন পেলে তথ্যপ্রমাণ নয়ছয় করতে পারেন তিনি— জামিনের আবেদন খারিজ করার সময় এনসিবির এই যুক্তিতে বারবারই সহমত দিয়েছেন বিশেষ আদালতে।

কিন্তু যেই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটকে ঘিরে এতো যুক্তি দাঁড় করেছে এনসিবি — তার কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি আরিয়ানের।

আরিয়ান দাবি করেছেন, তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের ভুল ব্যাখ্যা করছে এনসিবি। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

জামিনের জন্য আবেদন করে হাইকোর্টকে এমনই বললেন শাহরুখপুত্র।

বুধবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আরিয়ান। ২৬ অক্টোবর তার জামিনের শুনানি।

সেখানে আরিয়ান বলেন, আমার হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনকে ‘ভুল এবং অন্যায়’ ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ওই পার্টিতে আমার কাছ থেকে কোনো মাদক পায়নি এনসিবির গোয়েন্দারা। ওই পার্টিতে আসা আরবাজ শেঠ মার্চেন্ট ছাড়া আর কারও সঙ্গেই পরিচয় নেই আমার। হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের উপর ভিত্তি করে এনসিবি যে তদন্ত চালাচ্ছে, তার সঙ্গে এই মাদককাণ্ডের কোনো যোগসূত্র নেই। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আইনত আগে থেকেই ধরে নেওয়া যায় না যে একজন ব্যক্তি প্রভাবশালী হলেই তিনি তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা করবেন।

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত মাদককাণ্ডে মোট ২০ জনকে গ্রেফতার করেছেন এনসিবি। এরই মধ্যে আরিয়ানের সেই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের জেরে তৃতীয় দফায় তলব করা হয়েছে বলিউডের উঠতি অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডেকে। সোমবার তাকে তলব করা হয়।

আরিয়ান খানের বাল্যবন্ধু অনন্যা।

এনসিবির কর্মকর্তাদের দাবি, একটি কথোপকথনে আরিয়ানকে গাঁজার যোগান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অনন্যা।

ওই কথোপকথনে অভিনেত্রী লিখেছিলেন, ‘আমি ব্যবস্থা করব।’

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার পত্রিকা

গাঁজা যে মাদক সে কথাই জানতাম না: অভিনেত্রী অনন্যা

শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ানের মাদককাণ্ডে নতুন করে আলোচনায় সুদর্শিনী অনন্যা পাণ্ডে। অনন্যা পাণ্ডে বলিউড অভিনেতা চাঙ্কি পাণ্ডের কন্যা এবং আরিয়ান খানের বাল্যবন্ধু।

অনন্যার বিরুদ্ধে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে আরিয়ান খানকে গাঁজার যোগান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অনন্যা।

ওই কথোপকথনে অভিনেত্রী লিখেছিলেন, ‘আমি ব্যবস্থা করব।’

আর এমন অভিযোগের বিপরীতে আরিয়ানকে গাঁজার জোগান দেওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন অনন্যা।

অনন্যা বলেছেন, গাঁজা যে কোনো প্রকার মাদক, তা তিনি আমি জানতামই না। আমি নিজে জীবনে কোনোদিন মাদক সেবন করেননি।

তবে হোয়াটঅ্যাপে আরিয়ানকে কেন গাঁজা এনে দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি?

অনন্যার জবাব, নিছক রসিকতা করে এই কথোপকথন হয়েছিল, আর এ কথা এক বছরের পুরনো। এখন কেন নিয়ে ঘাটাঘাটি চলছে!

শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় এনসিবির গোয়েন্দাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাকে জেরা করা হয়।

সেখানেই আরিয়ানের মাদককাণ্ডের তদন্ত কর্মকর্তা সমীর ওয়াংখেড়ের সামনে এসব কথা বলেন অনন্যা।

অবশ্য অনন্যার বিরুদ্ধে গাঁজা সংগ্রহ বা সরবরাহের কোনো প্রমাণ এখনও হাতে আসেনি এনসবিরি।

তবে অনন্যার এসব বক্তব্যে খুশি হয়নি এনসিসি। সোমবারও তাকে তলব করা হয়েছে।

এনসিবির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল অশোক জৈন জানান, সোমবার সকাল সকাল অনন্যাকে এনসিবির দপ্তরে পৌঁছে যেতে বলা হয়েছে। চাঙ্কি পাণ্ডের কন্যা তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।

এদিকে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের পুরনো কাসুন্দি ঘাটাঘাটি করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি আরিয়ান খানের।

বুধবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আরিয়ান। সেখানে আরিয়ান বলেন, আমার হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনকে ‘ভুল এবং অন্যায়’ ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ওই পার্টিতে আমার কাছ থেকে কোনো মাদক পায়নি এনসিবির গোয়েন্দারা। ওই পার্টিতে আসা আরবাজ শেঠ মার্চেন্ট ছাড়া আর কারও সঙ্গেই পরিচয় নেই আমার। হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের উপর ভিত্তি করে এনসিবি যে তদন্ত চালাচ্ছে, তার সঙ্গে এই মাদককাণ্ডের কোনো যোগসূত্র নেই। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা