বৃহস্পতিবার ,১৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 611

নবীজির জীবনযাপন যেমন ছিল

নবী-রাসুলদের জীবন কত সহজ-সরল ছিল তা আমরা বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর কর্মময় জীবন থেকে সহজেই জানতে পারি।

বাস গৃহের ব্যাপারে তিনি (সা.) সাদাসিধা থাকা পছন্দ করতেন। সাধারণতঃ তার ঘরগুলো হত এক কামরার এবং তার সামনে ছোট আঙ্গিনা।

সেই কামরার মাঝখান দিয়ে টানানো থাকতো একটা রশি। সেই রশির ওপর কাপড় ঝুলিয়ে দিয়ে তিনি (সা.) আলাদা এক পাশে সাক্ষাৎ প্রার্থীদের সাথে কথাবার্তা বলতেন। তিনি চৌকি বা খাট ব্যবহার করতেন না। বরং, মাটির ওপরই বিছানা পেতে শুতেন।

তিনি জীবন-যাপনের ক্ষেত্রে এত বেশী সাদা-সিধে ছিলেন যে, হজরত আয়শা (রা.) মহানবী (সা.)-এর ওফাতের পর বলেছিলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবিতকালে আমাদেরকে কয়েকবার শুধু পানি আর খেজুর খেয়েই দিন কাটাতে হয়েছিল। এমনকি, যেদিন তার মৃত্যু হয় সেদিনও আমাদের ঘরে পানি ও খেজুর ছাড়া আর কিছুই ছিল না। (বোখারি)।

হজরত রাসুল করিম (সা.)-এর বিছানাপত্রও ছিল নিতান্ত অনাড়ম্বর। সাধারণতঃ একটি চামড়া কিংবা উটের পশম দিয়ে তৈরী একটি কাপড়। হজরত আয়শা (রা.) বলেছেন, আমাদের বিছানা এত ছোট ছিল যে, যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে ইবাদত করার জন্য উঠতেন তখন আমি এক পাশে সরে গিয়ে জড়ো হয়ে থাকতাম। কারন, বিছানা ছিল ছোট। যখন ইবাদতের সময় তিনি দাঁড়াতেন তখন আমি হাটু সোজা করতে পারতাম, আর যখন তিনি সিজদা করতেন তখন আমি হাটু জড়ো করে নিতাম। (বোখারি)।

পানাহারের ব্যাপারেও তিনি (সা.) সর্বদা অত্যন্ত সরল ছিলেন। খাবারের মধ্যে লবন বেশী হল বা কম হল কিংবা রান্না খারাপ হল এসব ব্যাপারে তিনি কখনই কিছু বলতেন না, বা অসন্তোষ প্রকাশ করতেন না। এ ধরনের খাবার যতটা সম্ভব খেয়ে নিয়ে তিনি রাধুঁনির মনোকষ্ট দূর করার চেষ্টা করতেন। কিন্তু তা যদি একেবারেই খাওয়ার অযোগ্য হয়, তাহলে তিনি হাত সরিয়ে রাখতেন এবং কখনোই বলতেন না যে, এই খাবার খেতে আমার অসুবিধা হচ্ছে’ (বোখারি)।

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনও এক নাগাড়ে তিন দিন পেট ভরে খাবার খাননি এবং এই অবস্থা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত পর্যন্ত চলেছিল’ (বোখারি)।

আজ আমরা যদি এই মহান ও শ্রেষ্ঠ রাসুলের জীবনাদর্শ অনুসরণ করে চলি তাহলে আমাদের প্রতিটি পরিবার জান্নাতে পরিণত হবে সেই সাথে দেশ থেকে মুছে যাবে সকল অশান্তি।

মহানবী (সা.) হলেন মানবজাতির জন্য অনুকরণীয়, সব জগতের জন্য রহমত এবং আল্লাহর প্রিয় সেই স্বত্ত্বা যিনি আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি মানুষের দু:খ-কষ্ট লাঘব করার জন্য সারা রাত নিঘূর্ম কাটিয়েছেন।
তিনি (সা.) আল্লাহর সৃষ্টিজীব মানুষকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য যে ব্যাকুলতার প্রদর্শন করেছেন এবং যে কষ্টে ও বেদনায় নিজেকে নিপতিত করেছেন তা দেখে আরশের অধিপতি স্বয়ং তাকে (সা.) সম্বোধন করে বললেন, ‘তারা মুমিন হচ্ছে না বলে তুমি কি নিজ প্রাণ বিনাশ করে ফেলবে?’ (সুরা আশ শোআরা, আয়াত: ৩)।

আমাদের সবার উচিত হবে, শ্রেষ্ঠ রাসুলের জীবন অনুসরণ করে আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি অর্জন করা, অসহায়দের সেবায় এগিয়ে যাওয়া, প্রতিবেশির খোজ নেয়া, অনাহারীর মুখে খাবার তুলে দেয়া, বস্ত্রহীনদের গায়ে বস্ত্র পড়িয়ে দেয়া।

আমরা যদি শুধু ব্যক্তিগত সার্থকে না দেখে সবার কথা ভাবি তাহলে এদেশে যেমন থাকবে না কোনো অভাবী তেমনি দেশের সকল প্রকার অপরাধও অনেকটা কমে যাবে।

আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে বিশ্বনবীর আদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন, আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

কাস্টম হাউসে চাকরির সুযোগ

শূন্যপদে জনবল নিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন কাস্টম হাউস আইসিডি। এতে ৮ ভিন্ন পদে ২২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১১)
পদ সংখ্যা: ২ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক পাস হতে হবে।
বেতন: ১২,৫০০/- থেকে ৩০,২৩০/-

পদের নাম: সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৪)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস হতে হবে।
বেতন: ১০,২০০/- থেকে ২৪,৬৮০/-

পদের নাম: ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (গ্রেড-১৬)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস হতে হবে।
বেতন: ৯,৩০০/- থেকে ২২,৪৯০/-

পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (গ্রেড-১৬)
পদ সংখ্যা: ৫ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস হতে হবে।
বেতন: ৯,৩০০/- থেকে ২২,৪৯০/-

পদের নাম: টেলিফোন অপারেটর (গ্রেড-১৬)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস হতে হবে।
বেতন: ৯,৩০০/- থেকে ২২,৪৯০/-

পদের নাম: সিপাই (গ্রেড-১৭)
পদ সংখ্যা: ৫ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক পাস হতে হবে।
বেতন: ৯,০০০/- থেকে ২১,৮০০/-

পদের নাম: অফিস সহায়ক
পদ সংখ্যা: ৬ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক পাস হতে হবে।
বেতন: ৮,২৫০/- থেকে ২০,০১০/-

পদের নাম: নৈশপ্রহরী
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে।
বেতন: ৮,২৫০/- থেকে ২০,০১০/-

বয়স: আগ্রহী প্রার্থীর বয়স ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর হিসাবে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তারিখে ৩২ বছর হলেও আবেদন করা যাবে।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://chicd.teletalk.com.bd/ -এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ রাত ১২টা পর্যন্ত।

কেন করাবেন কোলনস্কোপি

কোলনস্কোপি এক ধরনের অ্যান্ডোসকপিক পরীক্ষা যার মাধ্যমে কোলন বা বৃহদান্ত্রের যে কোনো ধরনের রোগ শনাক্ত করা হয়। কোলনস্কোপি কোনো কঠিন পরীক্ষা পদ্ধতি নয় তবে সার্জনের এটি করতে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রয়োজন।

এটি করার আগে বাওয়েলকে প্রস্তুত করতে হয় অর্থাৎ রোগীকে সম্পূর্ণ পায়খানামুক্ত করতে হয়। এতে ল্যাক্সেটিভ ও পারজেটিভ ব্যবহার করতে হয় ও প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হয়।

কোলনস্কোপি কেন করা হয়, কীভাবে করা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন আরএ হাসপাতালের বৃহদান্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রাকিবুল আনোয়ার।

রোগীদের কোলনস্কোপি করার ব্যাপারে বেশ ভীতি আছে। কোলনস্কোপি দুভাবে করা যায়- একটি হচ্ছে শর্ট জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে ব্যথার ওষুধ দিয়ে।

সারা পৃথিবীতে এখন জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে কোলনস্কোপি করা হচ্ছে না কারণ বয়স্কদের শারীরিক জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বর্তমানে পেইন কিলার ও সিডেশন বা ঘুমের ওষুধ দিয়ে এ প্রক্রিয়া করা হয়। রোগীর সঙ্গে গল্প করে কোলনস্কোপি করা হয়।
এতে রোগীর ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

প্রায় ৭৬ ভাগ রোগী কোনো ব্যথার অভিযোগ করে না। ২৪ ভাগ রোগী মৃদু ধরনের অস্বস্তির কথা জানান।

কোলনস্কোপি ঠিকমতো করা না হলেই ব্যথা হতে পারে। ঠিকমতো করা না হলে কোলন ছিঁড়ে ফেলার বা ফুটো হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বর্ণিল সাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান আগামীকাল বুধবার শুরু হচ্ছে। এ অনুষ্ঠান সামনে রেখে বাঙালি জাতির অন্যতম আলোকবর্তিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) লাল-নীল আলোর বর্ণিল সাজে সেজেছে। ঢাবি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে জাঁকজমকভাবে শতবর্ষ পূর্তির অনুষ্ঠান করতে না পারার আক্ষেপ ঘুচাতে আয়োজনের কমতি রাখেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক, টিএসসি, কার্জন হল, উপাচার্য চত্বর, স্মৃতি চিরন্তন, কলা ভবন এবং আবাসিক হলগুলোকে নানা রঙের আলোয় আলোকিত করা হয়েছে। ঢাবি ক্যাম্পাস রীতিমতো উৎসবে পরিণত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আহসান প্রামাণিক বলেন, ঢাবি শতবর্ষ এবং দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। দেখে মনে হচ্ছে-যেন নববধূর সাজে বসে আছে আমার প্রিয় শিক্ষাঙ্গন, প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঘুরতে আসা ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী ঝুমা নাজমা বেলেন, খুব কম সময় বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন বর্ণিল সাজে দেখেছি। নিজের চোখকে সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছি না। মনে হয় আবার প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়ে নিয়মিত ক্লাস শুরু করি।

শতবর্ষ পূর্তির সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ঢাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল যুগান্তরকে বলেন, শতবর্ষের সুভ্যেনির তৈরি হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য দেশের সেরা ১০০ শিল্পীকে নির্বাচন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তারাও তাদের পূর্বপ্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। বলতে গেলে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

অনুষ্ঠানের সময়সূচি : ১ ডিসেম্বর ঢাবির শতবর্ষ ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। এতে শুভেচ্ছা বার্তা দেবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লে শেরিং। সম্মানীয় অতিথি থাকবেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একে আজাদ, ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এদিন বিকাল ৪টায় ঢাবির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা হবে। এতে সম্মানীয় অতিথি থাকবেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত হবে।

আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে বিকাল ৪টায় ঢাবির ইমেরিটাস অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য ড. একে আজাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ডাক-টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান সমাপ্ত হবে।

৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিন ঢাবির বঙ্গবন্ধুর চেয়ার ও অনারারি অধ্যাপক ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচক হিসাবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সম্মানীয় অতিথি থাকবেন কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক চন্দ্রিকা এন বিজয়ারত্নে। এদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্ত হবে।

৪ ডিসেম্বর বিকাল ৪টায় ঢাবির সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহাদত আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।

১২ ডিসেম্বর বিকাল ৪টায় ঢাবির সাবেক উপ-উপাচার্য ড. নাসরীন আহমদের সভাপতিত্বে আলোচক থাকবেন রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী প্রমুখ।

১৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আতশবাজি ও লেজার শোর মাধ্যমে ঢাবির শতবর্ষের কর্মসূচির সমাপ্ত হবে।

জিৎ-দা আমি তোমাকে ভালোবাসি, তোমায় যদি বিয়ে করতে পারতাম: সায়ন্তিকা

ভারতের বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক জিৎ-এর প্রতি নিজের প্রেমের কথা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভারতীয় বাংলা সিনেমার এ অভিনেতার জন্মদিনে তার প্রতি আকর্ষণ সম্পর্কে জানিয়েছেন সায়ন্তিকা।

জিৎ এর জন্মদিন উপলক্ষে সায়ন্তিকা এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’-এর কথা অজস্র বার শুনেছি। ছোট থেকে হিন্দি ছবিতে দেখেওছি। নায়ককে দেখেই নাকি নায়িকা প্রেমে পড়ে যায়। কখনও আবার উল্টোটা। ভাবতাম, এই প্রথম দেখায় প্রেম-টেম শুধু ছবিতেই হয়। আমার মতো সাধারণ মেয়ের সঙ্গে কি এ সব হতে পারে! আমি তো আর ‘কভি খুশি কভি গম’-এর কাজল নই যে শাহরুখ আমাকে দেখেই প্রেমে এক্কেবারে হাবুডুবু খাবে! কিন্তু জিৎ-দা এসে আমার যাবতীয় ভাবনা, অবিশ্বাসকে এক লহমায় তছনছ করে দিয়ে চলে গেল। প্রথম দর্শনেই ধপাস করে ওর প্রেমে পড়ে গেলাম!

সে বহু বছর আগের কথা। তখন আমি স্কুলে পড়ি। শুনেছিলাম কোনও এক নতুন নায়কের ছবি আসছে। নাম ‘সাথী’। মা-বাবাকে রাজি করিয়ে ছুট দিয়েছিলাম প্রেক্ষাগৃহে। সেই সময়ে ঝাঁ চকচকে মাল্টিপ্লেক্স ছিল না। ছিল না কাউন্টার থেকে ভেসে আসা ক্যারামেল পপকর্ণের মিষ্টি গন্ধ। কাঠের শক্ত চেয়ারে বসে আলো-আঁধারি হলের পর্দায় প্রথম দেখেছিলাম জিৎ-দাকে। সেই যে দেখলাম, প্রেমে পড়ে গেলাম। ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’। সেই প্রেম রয়েই গেল। তখনও কি জানতাম এই মানুষটার সঙ্গেই এক দিন ছবি করব? তার নায়িকা হব?

কাট টু ২০১২। ‘আওয়ারা’ ছবিতে আমি জিৎ-দার নায়িকা। মানে সুপারস্টার জিতের নায়িকা। তার আগেও বেশ কিছু ছবি করেছিলাম। ক্যামেরার সঙ্গে আলাপটা মোটামুটি হয়েই গিয়েছিল। কিন্তু প্রিয় নায়কের বিপরীতে কাজ করব ভেবেই ভয়ে-আনন্দে হাত-পা যেন অবশ হয়ে যাচ্ছিল। এই ছবির প্রস্তাব আমার কাছে হঠাৎ করেই এসেছিল! আচমকা একদিন মহেন্দ্র সোনি আর শ্রীকান্ত মোহতা ফোন করে বললেন, তারা একটি ছবির বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। আমিও সাত-পাঁচ চিন্তা না করে হায়দরাবাদের বিমানে উড়ে গেলাম। সেখানেই রবি স্যার (রবি কিনাগি, ছবির পরিচালক) আমার পরীক্ষা নেন। কিছু ক্ষণের মধ্যেই জানতে পারি, আমি জিৎ-দার নায়িকা! তখন যে ঠিক কতটা খুশি হয়েছিলাম, সেটা এখনও লিখে বুঝিয়ে উঠতে পারব না। পরে জেনেছিলাম, জিৎ-দাই নাকি আমাকে এই ছবিতে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। এই ছবি আমায় নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ দিয়েছে। ওর কাছে আমি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব।

হায়দরাবাদ, মালয়েশিয়া, লাদাখ— নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে শ্যুট করেছিলাম আমরা। আমার যখন শট থাকত না, জিৎ-দাকে দেখতাম। বাধ্য ছাত্রীর মতো শেখার চেষ্টা করতাম। ভুল হলে জিৎ-দা কোনো দিন বকাবকি করেননি। ও খুব শান্ত ভাবে ভুলটা ধরিয়ে দিত। এ রকম ঠাণ্ডা মাথার মানুষ আমি খুব কম দেখেছি। এখনও যখন ছোটপর্দায় ‘আওয়ারা’ চলে বা কোথাও ছবির গানগুলো শুনি, সে দিনগুলোর কথা ছবির মতো চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

জিৎ-দার সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু মাত্র পেশাদারি নয়। ও আমার খুব কাছের একজন বন্ধু। ওকে আমি শ্রদ্ধা করি। ভালোবাসি। মাঝেমধ্যে বলেও ফেলি, ‘জিৎ-দা আমি তোমাকে ভালবাসি। আই লাভ ইউ। তোমায় যদি বিয়ে করতে পারতাম!’ জিৎ-দা আমার কথা শুনে হাসে। তার পর আমার পিঠে স্নেহের হাত রেখে বলে, ‘আই লাভ ইউ টু বাবু’। ওর মুখে এই কথা শুনে এখনও একজন ‘ফ্যানগার্ল’-এর মতোই আনন্দ পাই। অনেকেই ‘আওয়ারা’ দেখে আমার সঙ্গে জিৎ-দার রসায়নের প্রশংসা করেন। আমি বলি, জিৎ-দার প্রতি আমার মনে যে প্রেম আছে, সেই প্রেমই মনে হয় পর্দায় ফুটে উঠেছিল!

জিৎ-দার থেকে অনেকেই অনেক কিছু শিখতে পারেন। কিন্তু নারীকে কীভাবে সম্মান করা উচিত, সেটি বোধ হয় ওকে দেখলে সব থেকে ভাল ভাবে শেখা যায়। পেশাগত জীবনের বাইরেও কোনও সমস্যায় পড়লে আমি জিৎ-দার কাছে ছুটে যাই। ওর থেকে পরামর্শ চাই। কারণ জিৎ-দা কখনও মন ভোলানো কথা বলে না। আমি যেটা শুনে আনন্দ পাব, ও সেটা বলবে না। বরং যেটা করলে আমার ভাল হবে, ও আমাকে সেটাই করতে বলবে। এ রকম নির্ঝঞ্ঝাট, সৎ, কাজ-পাগল মানুষ আমি জীবনে খুব কম দেখেছি। ওর জন্মদিনে আরও একবার বলব, এই মানুষটাকে আমি সত্যিই খুব ভালোবাসি।

জিৎ-দার জন্মদিনে ওকে নিয়ে লিখতে বসে কত কথাই মনে আসছে। সবটা ভাল করে লিখেও উঠতে পারছি না। আবেগের কাছে শব্দ কি আর ধোপে টেকে! আমার কাছে জিৎ-দা আর প্রেম সমার্থক। সেই কবে থেকে এই মানুষটাকে ভালোবাসছি। এখনও ভালবাসি, ভবিষ্যতেও ভালোবাসব।

জিৎ-দা তুমি আক্ষরিক অর্থেই ‘নায়ক’। যে নায়ক পাশে থাকতে জানে, ভালোবাসতে জানে। জানে ঠিক-ভুলের যাচাই করতে। যা কিছু ভালো, সবই তুমি জয় করেছ। জন্মদিনে উপহার হিসেবে এই লেখা আর শ্রদ্ধা ছাড়া তোমাকে আর কী-ই বা দেব!

ক্যাটরিনার নতুন ফ্ল্যাটের ভাড়া কত?

বলিউডের এখনকার আলোচনার শীর্ষ অংশ হচ্ছে ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনা কাইফের বিয়ে। এ বিষয়ে বিভিন্ন খবর ভাসছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে। আর এ দুই তারকার বিয়ের ফুলের গন্ধ মুম্বাই থেকে রাজস্থানে পৌঁছে গেছে।

রাজস্থানের একটি বিলাসবহুল প্রাসাদে বিয়ে করবেন দুই তারকা। আর বিয়ের পর ভিকি-ক্যাটরিনা যে বাসায় থাকবেন, সেই বাসার ফ্ল্যাটের ভাড়া বিষয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মুম্বাইয়ের জুহুতে পাঁচ বছরের জন্য একটি বাসার অষ্টম তলায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন এ জুটি। বিয়ের পর সেখানেই থাকবেন তারা। এখনই সেই ফ্ল্যাটের কাজ ৯৮ শতাংশ প্রস্তুত হয়ে গেছে। আর ভিকি ও ক্যাটরিনার বিয়ে শেষ হতে হতেই বাকি ২ শতাংশ কাজও তৈরি হয়ে যাবে।

সেই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেওয়ার সময়ে প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা জমা রেখেছেন ভিকি। প্রথম ৩৬ মাস ভিকি এবং ক্যাটরিনা প্রতি মাসে ৮ লাখ টাকা করে ভাড়া দেবেন। তার পরের ১২ মাস ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা করে এবং তার পরের এক বছর ধরে প্রতি মাসে ৮ লাখ ৮০ হাজার করে টাকা দেবেন।

জনপ্রিয় এই জুটির বিয়ের আগেই এত টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট তৈরি করার খবরে নেটিজেনরা অনেকেই বলছেন, প্রতি মাসে এত টাকা ভাড়া দিলে তাদের সংসার চলবে কীভাবে!

আগামী বছরে ভিকি ও ক্যাটরিনা দুজনেরই চারটি করে ছবির চুক্তি রয়েছে এখন পর্যন্ত। কিন্তু ছবি করে তারা কত টাকা পান তা নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি।

পাকিস্তানের কাছে বিশাল ব্যবধানেই হারল বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম টেস্টে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। পঞ্চম ও শেষ দিনের প্রথম সেশনেই ম‍্যাচ শেষ করে দিয়েছে পাকিস্তান। ২০২ রানের লক্ষ‍্য কেবল দুই ওপেরকে হারিয়েই ছুঁয়ে ফেলেছে বাবর আজমের দল।

৯১ রান করে আবিদ আলির বিদায়ের পর অবিচ্ছিন্ন ৩৩ রানের জুটিতে বাকিটা সেরেছেন বাবর আজম ও আজহার আলি।

চট্টগ্রাম টেস্ট ৮ উইকেটে জিতে টেস্ট চ‍্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় জয় পেয়েছে পাকিস্তান। সঙ্গে এগিয়ে গেছে দুই ম‍্যাচের সিরিজে। আগামী শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩৩০

পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ২৮৬

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ১৫৭

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৮.৩ ওভারে ২০৩/২ (আবিদ ৯১, শফিক ৭৩, আজহার ২৪*, বাবর ১৩*; তাইজুল ২৮-৪-৮৯-১, ইবাদত ৮-২-৩০-০, মিরাজ ১৮.৩-৪-৫৯-১, আবু জায়েদ ৪-০-২৩-০)

বাবরকে জীবন দিলেন তাইজুল

বাবর আজমকে আবারও দ্রুত ফেরানোর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু ফিরতি ক‍্যাচ মুঠোয় জমাতে পারেননি তাইজুল ইসলাম।

বেরিয়ে এসে বাঁহাতি স্পিনারকে ড্রাইভ করেন বাবর। যত উপরে তুলেত চেয়েছিলেন পারেননি। অনেকটা মাথা উচ্চতার ক‍্যাচ হাতে নিতে পারেননি তাইজুল। সে সময় ৫ রানে ছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। পরেরর বলেই তিনি মারেন বাউন্ডারি।

পঞ্চম দিনের সকালে বাংলাদেশের দুই সাফল্য

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২০২ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৫১ রানে উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছে পাকিস্তানের। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন আবদুল্লাহ শফিক। তিনি ৭৩ রান করেছিলেন। এরপর দলীয় ২০ রান যোগ করার পরই ফিরে যান আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা আবিদ আলী। তিনি ৯১ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

এর আগে চতুর্থ দিনে ২০২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আবিদ আলী ও আব্দুল্লাহ শফিকের হাফ সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০৯ রান সংগ্রহ করে। প্রথম তিন দিন দোলাচল, চতুর্থ দিন শেষে জয়ের দুয়ারে পাকিস্তান। তৃতীয় দিন সকালে তাইজুল যে ঝলক দেখিয়েছিলেন, তেমনই কোনো জাদুর পরশই শুধু জাগিয়ে তুলতে পারে স্বাগতিকদের সম্ভাবনা। অলৌকিক কিছুর আশায় আজ শেষদিনে মাঠে নেমেছেন মুমিনুলরা। শেষদিনে পাকিস্তানের প্রয়োজন ৯৩ রান। বাংলাদেশের দরকার ১০ উইকেট।

প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের রয়েছে মিল। প্রথম ইনিংসে প্রায় দুই সেশন ব্যাটিং করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৪৬ রান তুলেছিল পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসেও এক সেশনের বেশি ব্যাট করে তারা তুলেছে ১০৯/০ রান। তবে পরের দিন পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে যে টর্নেডো হয়েছিল, সেটারই পুনরাবৃত্তি আজ বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরাতে পারে।

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আবিদ ৫৬ এবং হাফ সেঞ্চুরিয়ান শফিক ৫৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। সাগরিকার সকালে থাকা সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে যে তাদের ৯৩ রানের মধ্যে অলআউট করা অসম্ভব নয়, বুঝতে পারছে স্বাগতিকরা। তবে কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে যে বিশেষ কিছু করতে হবে, সেটা জেনেই কাল ঘুমাতে যান মুমিনুলরা।

মাদ্রাসাছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণে শিক্ষকের যাবজ্জীবন

বরগুনায় মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে গাইডবই দেওয়ার কথা বলে বসতঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগে এক শিক্ষককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার দুপুরে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল।

এদিকে এ মামলায় অপর আসামি রাশিদা বেগমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো— বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের সাহেবের হাওলা গ্রামের মাওলানা ইব্রাহীম খলিলের ছেলে মাওলানা সাইফুল ইসলাম। তিনি গুদিঘাটা দাখিল মাদ্রাসার শরীর চর্চার শিক্ষক।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি মাওলানা সাইফুল ইসলাম অষ্টম শ্রেণির নাবালিকা ছাত্রীকে গাইডবই দেওয়ার কথা বলে তার খালি বাড়িতে ডেকে নেয়। বেলা সাড়ে ১১টায় আসামির বসতঘরের দোতলায় ছাত্রীকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে ছাত্রীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ভিকটিমের বড় বোন ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় না দেখে খুঁজতে থাকে। এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে বড় বোন জানতে পারে ভিকটিম সাইফুলের সঙ্গে তার বাড়িতে গেছে।

বড় বোন সাইফুলের বাড়িতে গিয়ে দেখে তার ছোট বোন রক্তাক্ত অবস্থায় কাঁদছে। এই ফাঁকে সাইফুল পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে ভিকটিমকে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় একই দিন (২০ জানুয়ারি) সাহেবের হাওলা হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য বাবুল গাজী বাদী হয়ে বরগুনা থানায় মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তার বাবা মাওলানা ইব্রাহীম খলিল ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফারুক ফকির তদন্ত শেষে আসামি সাইফুলের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ৯ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রায় ঘোষণার পর বাদীর বাবা বলেন, আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। আর যেন কোনো শিক্ষক এ রকম অপরাধ না করে।

আসামি কোর্ট বারান্দায় বলেন, আমি নির্দোষ। উচ্চ আদালতে আপিল করব। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আশ্রাফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মামলা প্রমাণে সক্ষম হয়েছি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে।

ঘনকুয়াশায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবক নিহত

ঘনকুয়াশায় রাজশাহীর তানোর উপজেলায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জুবাইর হোসেন (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মোহর-মথুরাপুর সড়কের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জুবাইর হোসেন তানোর পৌর এলাকার জিওল মহল্লার কুতুব উদ্দিনের ছেলে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জুবাইর তার বোনের বাড়ি উপজেলার মোহর গ্রাম থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজ বাড়িতে আসছিলেন। এ সময় ঘনকুয়াশায় মোহর-মথুরাপুর সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে তানোর ফায়ার সার্ভিস অফিসের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেন। তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

এ ব্যাপারে তানোর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, নিহতের পরিবার লাশ শনাক্ত করে। লাশ দাফনের জন্য পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।