বৃহস্পতিবার ,১৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 610

সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন দম্পতি

সন্তান হত্যার বিচার দাবিতে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন দরিদ্র ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মো. আবু সাঈদ ও তার স্ত্রী নাসরিন সুলতানা।

বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনে নিহত যুবক সাজ্জাদ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের মামি রেশমী আক্তার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চলতি বছরের ১৮ আগস্ট নুরু মুন্সী ও আব্দুল মান্নান পাইনার নেতৃত্বে শহরের দিয়ার ধানড়গড়া মহল্লাবাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সয়াগোবিন্দ মহল্লাবাসীর ওপর হামলা চালায়। এ সময় সাজ্জাদ হোসেন ওষুধ কিনতে যাওয়ার পথে ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফাহিম মোল্লার নির্দেশে সন্ত্রাসী সোহাগ গ্যাং তাকে ধারালো ফলার আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করে।

এ ঘটনায় ৩০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করা হয়। কিন্তু ওই মামলাকে ধামাচাপা দিতে বাদীর পরিবার ও সয়াগোবিন্দ মহল্লাবাসীর বিরুদ্ধে চারটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এদিকে সাজ্জাদের পরিবারের করা হত্যা মামলায় কয়েকজন আসামি গ্রেফতার থাকলেও তাদের রিমান্ডে না নিয়ে জামাই আদরে রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে নিহত সাজ্জাদের বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেউ স্বজন হারানোর বেদনা বোঝে না। তাই তার কাছে দাবি— সন্তান হত্যার মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে স্থানান্তর করে হত্যাকারীদের ফাঁসি দেওয়া হোক।

এই সংবাদ সম্মেলনে সয়াগোবিন্দ মহল্লার বুদ্দু শেখ, নওসের আলীসহ নিহত সাজ্জাদ হোসেনের আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

১৩ ইউনিয়নের ১৬ চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ১৩ ইউনিয়নের ১৬ চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, ৭ জন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এবং ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।

গত ২৮ নভেম্বর আলমডাঙ্গা উপজলার ১৩ ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আইন অনুযায়ী নির্বাচনে পোলকৃত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়া প্রার্থীদের জামানত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজেয়াপ্ত হয়। সে অনুযায়ী ১৬ জনের চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

আলমডাঙ্গার বেলগাছি ইউনিয়নে মোট ভোটের সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৫টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা) সমীর কুমার দে পেয়েছেন ১০২ ভোট, যা পোলকৃত মোট বৈধ ভোটের শতকরা মাত্র ১ ভাগ।

চিৎলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা) আবদুল বাতেন পেয়েছেন ৮২৭ ভোট, যা পোলকৃত মোট ভোটের শতকরা ৬ ভাগ। একই ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইমদাদুল হক পেয়েছেন ৬৬৪ ভোট যা, পোলকৃত ভোটের প্রায় ৫ শতাংশ। একই ইউনিয়ন অটোরিকশা প্রতীকের স্বতন্ত প্রার্থী উজির আলী পেয়েছেন ৪২ ভোট, যা পোলকৃত ভোটের এক শতাংশেরও কম।

কালীদাসপুর ইউনিয়ন চশমা প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহসান উল্লাহ পেয়েছেন ৬৮০ ভোট, যা পোলকৃত ভোটের প্রায় ৪ শতাংশ।

খাসকররা ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদশের প্রার্থী আব্বাস উদ্দিন পেয়েছেন ৪১৩ ভোট, যা পোলকৃত ভোটের প্রায় ৩ শতাংশ।

ডাউকি ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাউসার আহমদ পেয়েছেন ৫৯১ ভোট, যা পোলকৃত মোট ভোটের প্রায় ৪ শতাংশ। একই ইউনিয়ন হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুল মজিদ পেয়েছেন ৭৫ ভোট, যা ভোটের ১ শতাংশের কম। একই ইউনিয়ন স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহানুর রহমান চশমা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৪ ভোট, যা পোলকৃত মোট বৈধ ভোটের ১ শতাংশের কম।

হারদী ইউনিয়নে পোলকৃত ভোটের মধ্যে মাত্র ৪২৮ ভোট পেয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমিনুল হক, যা পোলকৃত বৈধ ভোটের শতকরা প্রায় ২ ভাগ।

ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মাত্র ৭৪ ভোট পেয়েছেন, যা পোলকৃত মোট বৈধ ভোটের এক শতাংশের নিচে।

বাড়াদী ইউনিয়ন ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশিকুর রহমান পেয়েছেন মাত্র ৫৭০ ভোট, যা পোলকৃত মোট ভোটের ৪ শতাংশ।

জেহালা ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইদ্রিস আলী পেয়েছেন ৩৯০ ভোট, যা ভোটের প্রায় ৩ শতাংশ। একই ইউনিয়ন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান পেয়েছেন ৩৬৩ ভোট, যা পোলকৃত ভোটের প্রায় ৩ শতাংশ।

গাংনী ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নাজিম উদ্দীন ৩১৯ ভোট পেয়েছেন, যা ভোটের প্রায় ২ শতাংশ। একই ইউনিয়ন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসলাম মামুন পেয়েছেন মাত্র ২৭ ভোট, যা পোলকৃত মোট ভোটের এক শতাংশের কম।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেদ জানান, কোনো প্রার্থী কাস্টিং ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে না। অন্যথায় বাজেয়াপ্ত হবে। আর বাজেয়াপ্ত হলে জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়ে যা বললেন তনুশ্রী

শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয় পুরো ভারতে বিভিন্ন দল থেকে নেতাদের ‘ভাগিয়ে এনে’ দল ভারি করছে তৃণমূল। এমন সময় বিজেপির হয়ে নির্বাচনে লড়ে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়ে গুঞ্জন থাকবে এটিই স্বাভাবিক। ভারতীয় বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী তনুশ্রীর ক্ষেত্রেও ঘটেছে এমনটি।

১০ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়-তনুশ্রী চক্রবর্তীর ছবি ‘অন্তর্ধান’।

সিনেমা ও সামনের দিনে তার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের সঙ্গে।

আলাপে রাজনীতির প্রসঙ্গ এলে তনুশ্রী বলেন, এক সঙ্গে দুটো কাজ তখনই করতে পারব যখন দুটো কাজেই সমান পারদর্শী হব। রাজনীতিতে এসে বুঝলাম, অনেক কিছুই শেখা বাকি রয়ে গেছে। আমায় আরও রাজনীতি শিখতে হবে। এখন সিনেমায় মন দিলাম।

তা হলে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, বনি সেনগুপ্তের মতোই কি রাজনীতি থেকে নির্বাসন নিতে চাইছেন অভিনেত্রী?

যদিও ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগে তনুশ্রী বলেছিলেন, জনসেবা করতে চাই। তার জন্য রাজনৈতিক মঞ্চ দরকার। যে মঞ্চ আমায় দ্রুত সাধারণের কাছে পৌঁছে দেবে।

কিন্তু জনগণ তাকে সেবার করার সুযোগ দেয়নি। অর্থাৎ বিজেপির এ প্রার্থী হেরেছেন নির্বাচনে।

এবার এ অভিনেত্রী সরাসরি জানিয়ে দিলেন, রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চাওয়ার কথা।

রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চাওয়ার বিষয় আসতেই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল প্রসঙ্গ চলে আসে। তাই তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় তৃণমূল থেকে ডাক এলে কি করবেন?

এবার উত্তর দেওয়ার সময় একটু সংযত মনে হয় তনুশ্রীকে। তিনি বলেন, আমি যা করব তা সবাই জানতে পারবেন। কোনো কিছুই গোপনে করব না।

রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও ব্যস্ত সময় পার করবেন তনুশ্রী। ‘অন্তর্ধান’ ছাড়াও মুক্তির পথে ‘টনিক’, ‘আবার বছর ২০ পরে’, ‘আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা’। সেই সব ছবির প্রচারে থাকতে হবে তাকে। চলছে জিৎ প্রযোজিত এবং অভিনীত ‘রাবণ’ ছবির শুটিং। সবমিলিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও ব্যস্ততা পিছু ছাড়ছে না তনুশ্রীর।

আফগান শরণার্থীদের প্রশংসায় প্রিন্স উইলিয়াম

যুক্তরাজ্যে ইয়র্কশায়ারে আশ্রয় নেওয়া আফগান শরণার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ব্রিটিশ প্রিন্স উইলিয়াম।

মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ব্রিটিশ সেনাদের সহায়তা করায় এসব আফগান নাগরিককে তাদের সাহসিকতার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রিন্স। খবর আরব নিউজের।

ইয়র্কশায়ারে একটি হোটেলে আশ্রয় নেওয়া কাবুল থেকে আসা এসব শরণার্থী পরিবারকে দেখতে যান প্রিন্স উইলিয়াম।

হোটেলটিতে বর্তমানে ১৭৫ জন আফগান শরণার্থী বসবাস করছেন। খুব শিগগির তাদের স্থায়ী নিবাসে স্থানান্তর করবে ব্রিটিশ সরকার।

প্রিন্স উইলিয়াম তাদের অভয় দিয়ে বলেন, আপনারা এখানে পুরোপুরি নিরাপদে আছেন। আপনাদের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা হচ্ছে। চাকরিরও জোগাড় হচ্ছে।

এ সময় হোসেন শহিদ সামানগান তার পরিবার নিয়ে কাবুল থেকে পালিয়ে যুক্তরাজ্যে আসার কাহিনি পিন্স উইলিয়ামকে বলেন।

গত ১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর কাবুল থেকে ৭ হাজার শরণার্থীকে উদ্ধার করে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

তাদের অবস্থা জানতেই সম্প্রতি হোটেলে গিয়ে দেখা করেন ব্রিটিশ প্রিন্স উইলিয়াম।

সূচকের বড় উত্থানে চলছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

সূচকের বড় উত্থানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন চলছে।

এ সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিন বেলা ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনে ডিএসইর সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স সূচক ৯৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৬ হাজার ৮০০ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৪২৭ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ২৫৫৬ পয়েন্টে।

এ পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩১৩টি কোম্পানির শেয়ারের। দাম কমেছে ১৮টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির।

অপরদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ১৮৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৯ হাজার ৭৯৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

ঘাটতি ১০ হাজার কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) জুলাই-অক্টোবর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই সময়ে ৮৮ হাজার ১৬০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। বিপরীতে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৯ কোটি টাকা।

এমন পরিস্থিতিতে করদাতাদের জন্য সহজ পদ্ধতি প্রণয়নসহ ইলেকট্রনিক পেমেন্ট (ই-পেমেন্ট) ও ভ্যাট আদায়ে অটোমেটেড চালান (এ-চালান) দ্রুত চালু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও মহানিয়ন্ত্রক কার্যালয়কে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এবং ক্যাশ অ্যান্ড ডেট ম্যানেজমেন্ট কমিটির (সিডিএমসি) পৃথক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম, এটি আমাদের ঐতিহ্যে দাঁড়িয়েছে। এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করতে হবে। এজন্য মনিটরিং জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে যতসংখ্যক টিআইএন-ধারী আছেন, রিটার্ন জমার সংখ্যা এর তুলনায় কম। কেন এটি হচ্ছে, সেখানে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এমন একটি নিয়ম করা হয়েছে-রিটার্ন জমা দিলে তাকে মিনিমাম কর দিতে হয়। এ ভয়ে অনেকে টিআইএন করলেও রিটার্ন জমা দিচ্ছেন না। অনেকে ভ্যাট নিচ্ছেন। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন মেশিন ব্যবহার করছেন না। এসব প্রশাসনিক জটিলতা ও দুর্বলতা দূর করতে হবে।

সূত্র জানায়, রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে ওই বৈঠক হয়েছে। সেখানে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। বলা হয়, অক্টোবর পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৮৮ দশমিক ৬২ শতাংশ (৭৮ হাজার ৭৯ কোটি টাকা) আদায় হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হলেও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায়ের হার ছিল ৮৩ দশমিক ২১ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধি হয় ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

ওই বৈঠকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেষ্ট থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া রাজস্ব খাতের সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানদের যথাযথভাবে মনিটরিং করে প্রতিমাসে গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিভাগের মহাপরিচালকের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সমন্বয় সভায় উপস্থাপনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, বৈঠকে ভ্যাট আদায় বাড়ানোর জন্য ইএফডি (ইলেকট্রনকি ফিসক্যাল ডিভাইস) মেশিন স্থাপন, অনলাইনে ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন, সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা, ই-পেমেন্টে আয়কর আহরণ, অন্যান্য কর বিক্রয় ও করদাতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়ে একধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে সরকার। কারণ, বর্তমান চিকিৎসা খাতে ব্যয় বেড়েছে। এটি সামাল দিতে গিয়ে সরকারকে বেশি মনোযোগ দিতে হচ্ছে রাজস্ব খাতে। অপরদিকে সেভাবে রাজস্ব আদায়ের হারও বাড়ছে না।

এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘ক্যাশ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (সিডিএমসি) কমিটির বৈঠকে রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার। বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, রাজস্ব আদায়ের আওতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং তা অব্যাহত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থ সচিব। সেখানে বলা হয়, রাজস্ব আদায় কার্যক্রম পুরোপুরি ‘এ-চালান’-এর আওতায় আনতে হবে। তবে সেটি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত করদাতাদের রাজস্ব প্রদান আরও সহজ করতে ই-পেমেন্ট পদ্ধতি ও ভ্যাট আদায়ে এ চালানব্যবস্থা দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে যে রাজস্ব আদায় হবে, সেটি সরাসরি সরকারের ট্রেজারিতে জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

জানা যায়, করোনাকালীন চলতি অর্থবছরের জন্য জাতীয় বাজেটে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরই মধ্যে অনেকটাই গতি ফিরেছে অর্থনীতির। চাঙা হয়ে উঠছে ব্যবসা-বাণিজ্য। পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্বাভাবিক হলেও গেল চার মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে চলে আসছে করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’। এই ভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক বাড়ছে। ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হওয়া দেশগুলো থেকে আসা-যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা ও সভা-সমাবেশ সীমিত করাসহ চার সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় কিছু সফর বাতিল করা হয়েছে। জেনেভায় বাণিজ্য সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বৈঠক ডব্লিউটিও মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী তিন ডিসেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। এছাড়া ইউরোপের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার আবার সংকটের মধ্যে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি আরেক দফা সংকটের মধ্যে পড়তে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পৃক্ত আছে। অর্থনীতিতে কোনো ধরনের প্রতিঘাত যেন না আসে, সেজন্য রাজস্ব খাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রামপুরার ঘটনায় জামায়াত-বিএনপির ষড়যন্ত্র খতিয়ে দেখার আহ্বান কাদেরের

রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় কলেজছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনাটি বিএনপি-জামায়াতের অতীত সহিংস অপকর্মের পুনরাবৃত্তি কিনা খতিয়ে দেখতে জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত ‘ফাইভজি: দ্য ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি’ শীর্ষক সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রাজধানীর রামপুরার সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে এসব কথা বলেন।

ওই কলেজছাত্রের মৃত্যুতে গভীর শোকাহত ও ব্যথিত উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য মতে ঘটনাটি ঘটে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে, এর ১২ মিনিট পর ১০টা ৫৭ মিনিটে নিরাপদ সড়ক চাই ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে ওই স্থান থেকে লাইভ করা হয়। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ১৭টি বাসে আগুন দেওয়া হয় এবং অসংখ্য গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবারও প্রশ্ন রেখে বলেন, এটা কি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পূর্ব পরিকল্পিত।

সেতুমন্ত্রী বলেন, রাত ১১টায় জামায়াত পরিচালিত টেলিগ্রাম চ্যানেলে খবরটি প্রকাশিত হয় এবং দুর্ঘটনার স্থান থেকেই ইন্টারনেটে সমস্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, খবরটি ছড়িয়ে পড়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই প্রায় ১৫টি বাসে আগুন দেওয়া শেষ হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিষয়টি আসলেই দুর্ঘটনা কিনা?

ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রেখে আরও জানতে চান, ঘটনার ১২ মিনিটেই নিরাপদ সড়ক চাই পেইজ লাইভে গেলো কিভাবে? নাকি তারা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল? বাঁশেরকেল্লা ১৫ মিনিটের মধ্যেই সব খবর পেয়ে গেল কিভাবে? আর বাকি ১০ মিনিটেই ১০টি গাড়িতে আগুন কিভাবে দেওয়া হলো?

ওবায়দুল কাদের জানতে চান, এতো জনবল রাত ১১টার পর ঘটনাস্থলে এলো কিভাবে? তাহলে তার কি আগেই প্রস্তুত ছিল?

সেনাবাহিনী, পুলিশ বা ফায়ার বিগ্রেড ঘটনাস্থলে এতো তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পারে না যতটা দ্রুত গাড়ি পোড়ানো হয়েছে—এমনটা মনে করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, এতো রাতে অল্প বয়সী শিক্ষার্থীরা কি এতো দ্রুত পৌঁছে গেছে?

তিনি বলেন, এমনিতেই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আন্দোলন চলছে, যারাই দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছেন তারা সবাই শিক্ষার্থী।

গাড়িতে কি ছাত্র ছাড়া অন্য আর যাত্রী থাকে না? প্রশ্ন ওবায়দুল কাদেরের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে মোবাইল ফাইভ-জি সেবা দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহর, শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্ভর এলাকাগুলোতে বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

‘খালেদা জিয়ার হিমোগ্লোবিন কমেছে’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হিমোগ্লোবিন কমে গেছে বলে জানিয়েছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ড্যাবের শীর্ষ নেতারা একথা জানান।

ড্যাব নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থ। তিনি লিভারের মারাত্মক জটিলতাসহ কয়েকটি জটিল রোগে ভুগছেন। গত চব্বিশ ঘন্টায় তার রক্তের হিমোগ্লোবিন কমেছে। বাংলাদেশের যত চিকিৎসা প্রযুক্তি আছে তার জন্য সবগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে। এখন তাকে পূর্ণ সুস্থ করতে হলে অনতিবিলম্বে বিদেশের উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো জরুরি।

যেসব খাতে পাকিস্তান-ভারতকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ

গত ৩০ বছরে উৎপাদন খাতসহ বেশ কয়েকটি খাতে প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও ভারতকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।

বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক উন্নয়ন সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

‘বাংলাদেশ ইন কম্পরেটিভ পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিআইডিএস মহাপরিচালক ড. বিনায়েক সেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ হারে বাড়লেও এখন সেটি বেড়ে ৫ দশমিক ০৩ শতাংশ হয়েছে।

ওই সময় ভারতের মাথাপিছু আয় ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ হারে বাড়ত। কিন্তু এখন তা কমে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে।

একইভাবে নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এটি এখন আরও কমে শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ হয়েছে।

নব্বইয়ের দশকে মাথাপিছু আয়ে পাকিস্তানের চেয়ে ৪৫ শতাংশ পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এখন পাকিস্তানের চেয়ে মাথাপিছু আয় ১০ শতাংশ এগিয়ে।

উৎপাদন খাতেও ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

নব্বইয়ের দশকে এ খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি ছিল ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। এখন হয়েছে ১৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

একই সময়ে ভারতে উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

‘৯০ দশকে এ খাতে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

নগরায়ণেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের নগরায়ণ হার ছিল ১৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। এখন বেড়ে হয়েছে ৩৪ দশমিক ১৭ শতাংশ।

ভারতে একই সময়ে নগরায়ণের হার ছিল ২৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এখন দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।

নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানে নগরায়ণ হার ছিল ৩০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এখন হয়েছে ৩৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। ফলে বাংলাদেশে নগরায়ণ বেড়ে চলেছে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায়।

সব মানুষের সুরক্ষার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: তথ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশের সব মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, কোনো বিশেষ পেশার মানুষের জন্য নয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এ ধরনের আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে মঙ্গলবার বেসরকারি সংস্থা ডিপ্লোম্যাটস আয়োজিত ‘ফ্যাক্ট অ্যান্ড ইমপ্যাক্ট অব ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ সেমিনারে নিজ দপ্তর থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মো. আমিন উদ্দিন এবং আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন। ব্যারিস্টার এসএম শফিউল্লাহ রহমান, ব্যারিস্টার আলী আসিফ খান রাজীব এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন মূল আলোচনায় অংশ নেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে যখন ডিজিটাল বিষয় ছিল না, তখন এ আইনের প্রয়োজন ছিল না। আজকে যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অনলাইনে একজন গৃহিণীর চরিত্র হনন করা বা মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়, তা হলে তিনি কোন আইনের বলে প্রতিকার পাবেন?

একজন কৃষক, ছাত্র, লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা একজন রাজনীতিবিদের ক্ষেত্রে যদি সেটি ঘটে, তা হলে প্রতিকার পাওয়ার জন্য আইনের প্রয়োজন রয়েছে এবং সেই প্রয়োজনীয়তার নিরিখেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রণয়ন করা হয়েছে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ভারতে দি ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্ট ২০০০, পাকিস্তানে দ্য প্রিভেনশন অব ক্রাইম অ্যাক্ট ২০১৬ এবং সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়াতেও এ ধরনের আইন করা আছে। একটি ফ্রেমওয়ার্ক আইনের অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত দেশগুলো এ ধরনের আইন প্রণয়ন করেছে, অর্থাৎ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এ আইন করা হচ্ছে।

 

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তার বক্তৃতায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আমাদের দেশ আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে, বিধায় এই করোনার মধ্যেও পৃথিবীর মাত্র যে ২০ দেশের জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থানে।

এই করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশে মানুষের মাথাপিছু আয় ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। এগুলো সম্ভবপর হয়েছে দেশ ডিজিটাল হয়েছে বিধায়। দেশে সব মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেই ডিজিটাল বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।