বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 481

ইসলামে দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব ও জরুরি আদব

ইসলামে দাওয়াতি কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং একইসঙ্গে প্রশংসনীয়। কারণ এতে বহু বিধর্মী ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসার সুযোগ পায়।

কুরআনের ভালোবাসায় ও ইসলামকে সত্য জেনে অনেকে খুঁজে পান চিরস্থায়ী মুক্তির পথ। এই ফিরে আসার পথে তারা অনুপ্রাণিত ও উপকৃত হয় ইসলামি দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে।

কারণ যে ‘দাওয়াত’ তাদের জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্তদের একজন করে থাকে।। মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আর সেই ব্যাক্তির কথা অপেক্ষা অধিক ভালো কথা আর কার হতে পারে?যে আল্লাহর দিকে ডাকে, নেক আমল করে এবং বলে আমি মুসলিম। (হা-মীম সিজদা-৩৩)

তিনি আরও বলেন, হে নবী! আপনার রবের পথের দিকে দাওয়াত দিন হিকমত ও নসীহতের সাহায্যে। (সুরা নাহল: ১২৫)

হাদিসে এসেছে- আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) এরশাদ করেছেন, একটি আয়াত হলেও তা আমার পক্ষ হতে প্রচার কর। (বুখারী)

বর্তমান বিশ্বে দাওয়াতি কাজ বেশ জনপ্রিয় এবং চ্যালেঞ্জেরও। কাজেই এই বিষয়ে কাজ করতে হলে কিছু বিষয়ে জানা আবশ্যক। যার মধ্যে দিয়ে দাওয়াতি কাজে সফলতা লাভ করতে পারবে বলে আশাবাদী।

ক. অনেকই ধারণা দাওয়াতি কাজ করতে গেলে ইসলামি স্কলার হতে হবে এমন। আদতে স্কলার হতে তেমন নয়,তবে স্কলারের মতো কথা না বলে নিজের জানা বিষয়ে শুরু করা যেকোনো আলোচনা শুরু করা ভালো। যেমন:বেসিক ইসলাম,তাওহীদ,ইসলামের পাঁচটি স্তম্ব এবং শিরক ইত্যাদি।

খ. বিধর্মী ভাইদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভালোবাসা ও সহমর্মিতা পূর্ণ আচরণ করতে হবে। আদবের বিষয়টা সদা খেয়াল রাখা প্রয়োজন। কারণ তিনি ইসলামকে বুঝবে আপনার আচার-আচরণ দ্বারা।

গ. আলোচনার শুরুতে রাজনীতিক বিষয়ে কথা না বলা উত্তম। কারণ এতে বিতর্ক শুরু হতে পারে। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, আর লোকদের সঙ্গে পরস্পর বিতর্ক কর উত্তম পন্থায়। (সুরা নাহল-১২৫)

ব্যাক্তি সম্পর্ক উন্নতি হলে নানা বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করা যেতে পারে। আলোচনা যাতে দীর্ঘ স্থায়ী হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে জেনারেল বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।

ঘ. সবসময় বুঝতে হবে সে ইসলামের কোন বিষয়টা জানতে আগ্রহী এবং তার যথার্থ উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা। তার আগ্রহের বিষয়ের উপর ফোকাস করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে লেকচার না দেওয়া ভালো।

ঙ. অন্যকারো ধর্মের উপর যাতে কোন আক্রমণ না হয় সে বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। কখনো বলা যাবে না যে, যেমন: বাইবেলে ভুল আছে, চার্চের শিক্ষা ব্যবস্থা খারাপ,ইত্যাদি। একইসঙ্গে ধর্মীয় বিষয়ে রশিকতা যেন না হয় সে বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।

সর্বোপরি দাওয়াতি কাজের জন্য হিকমত ও বিচক্ষণতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এই দুই গুণের যথার্থ প্রয়োগের মাধ্যমে এই কাজে সফলতা লাভের আশা করা যায়।

নাক দিয়ে রক্ত পড়লে কী করবেন?

নাক দিয়ে হঠাৎ রক্ত এলে আমরা ঘাবড়ে যাই। এর সঠিক কারণ জানা থাকলে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। জটিলতা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন নাক, কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন অধ্যাপক ডা. জাহীর আল-আমিন।

নাক দিয়ে যে কোনো ধরনের রক্ত পড়াকে মেডিকেল ভাষায় এপিসট্যাক্সিস বলে। কারণ ভেদে এবং পরিমাণ ভেদে নাকের সামনের দিক দিয়ে রক্ত ঝরতে পারে বা নাকের পেছন দিক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে মুখ দিয়ে বের হয়ে আসতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটা নিজ থেকেই বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিমাণে খুব বেশি হয় না।

কারণ

* হার্টের অসুখে রক্ত পাতলা করার জন্য দেয়া হয়। যেমন- এসপিরিন, ওয়ারফেরিন ইত্যাদি।

* অনিয়মিত উচ্চরক্তচাপ।

* নাকের ভেতর বিভিন্ন রকম ইনফেকশন। নাকের দীর্ঘদিনের ইনফেকশনের মধ্যে নাকের যক্ষ্মা অন্যতম।

* নাকের আঘাতজনিত কারণ যেমন- অ্যাক্সিডেন্ট, নাকে ঘুষি খাওয়া ইত্যাদি।

* মেকানিক্যাল কারণ যেমন নাকের হাড় বাঁকা, নাকের মধ্যে বোতাম বা বিচি জাতীয় কিছু ঢুকে যাওয়া বা নাকের পলিপ বা নাকের অ্যালার্জি।

* নাকের ভেতর টিউমার বা ক্যান্সার।

* নাকের ভেতর বিভিন্ন ধরনের ইমিউনোলজিক্যাল রোগ বা নাকের বিভিন্ন ধরনের ক্ষত।

পরীক্ষা : নাকের রক্তপড়া বেশি মাত্রায় হয় অথবা সহজে বন্ধ হতে চায় না বা যত দিন যায় তত বেশিমাত্রায় রক্ত পড়তে থাকে, সেক্ষেত্রে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে, যেমন- সাধারণ রক্ত পরীক্ষা বা নাকের এবং সাইনাসের এক্স-রে, এমআরআই, নাকের মাংস নিয়ে তার বায়োপসি, কিডনির পরীক্ষা, রক্তের বিভিন্ন ধরনের জটিল পরীক্ষা, হরমোন ইত্যাদি। নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেবেন।

যাদের নিয়মিত নাক দিয়ে রক্ত পড়ে তাদের অবশ্যই একজন নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ দিয়ে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে নাকের ভেতর ভালোভাবে দেখে নেয়া উচিত।

করণীয়

* নাক খোঁচাবেন না, নাকের ভেতর তুলা, কাপড় বা রুমালের কোণা ঢুকাবেন না।

* অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা গরম পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।

* পরিশ্রান্ত হবেন না। ২-৩ সপ্তাহ অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে বিরত থাকুন।

* ঠাণ্ডা বা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের থেকে দূরে থাকুন।

* ৪-৫ দিন গরম পানীয় (চা, কফি) এবং উত্তেজকপানীয় পরিহার করুন।

* কমপক্ষে ৪-৫ দিন ধূমপান থেকে বিরত থাকুন। আপনি যদি এসপিরিন বা ডিসপিরিন জাতীয় ওষুধ খেতে থাকেন তাহলে তা ৫ দিন বন্ধ রাখুন।

* রোগী যদি কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে ভুগে থাকেন তাহলে বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল এবং আঁশযুক্ত খাবার খাবেন। মূলত্যাগের সময় বেশি চাপ দেবেন না।

* পুনরায় রক্তক্ষরণ হলে আতংকিত হবেন না। বসে সামনের দিকে মাথা ঝুঁকে থাকুন। বরফের টুকরো কাপড়ে জড়িয়ে নাক ও কপালে ঠাণ্ডা ছ্যাঁক দিন এবং এক টুকরো বরফ চুষতে থাকুন। নাকের সামনের নরম অংশ দুই আঙুল দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরুন এবং কমপক্ষে ৫ মিনিট ধরে রাখুন।

সার্জিক্যাল চিকিৎসা : আধুনিককালে এন্ডোসকপি ব্যবহারের ফলে এর আর প্রয়োজন নেই। নাকের রক্তপাত বন্ধ না হলে এন্ডোসকপির সাহায্যে নাকের ভেতর পরীক্ষা করুন।

বার্ধক্যে অবসাদ দূর করতে জেনে নিন করণীয়

আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম গুচ্ছ পরিবার দেখে বড় হয়েছেন। স্বভাবতই তাদের মধ্যে একটা নীরব অপ্রকাশিত প্রত্যাশা রয়েছে যে বৃদ্ধ বয়সে তারা ছেলেমেয়ে ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় পার করবেন।

কিন্তু বর্তমানে পেশাগত কারণে চাকরিজীবী ছেলেমেয়েরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দূরে সেটেল্ড (স্থায়ী) হয় (একটা বড় অংশই বিদেশে)।

সন্তান-সন্ততি দূরে চলে যাওয়ার ফলে অনেক বাবা-মাকে একাকিত্ব বরণ করতে হয়। একাকিত্বের মাঝে বসে তারা যখন জীবনের সব হিসাব-নিকাশ-প্রত্যাশা মেলানোর চেষ্টা করেন তখন আর হিসাব মেলে না। তাদের জীবনে তখন ভর করে অবসাদ। স্বামী বা স্ত্রী হারানোদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি হয় আরও দুর্বিষহ।

গত বুধবার রাতে আবু মহসিন খানের (ঢাকাই ছবির নায়ক রিয়াজের শ্বশুর) ফেইসবুক লাইভে আত্মহত্যার খবর দেখে ভীষণ ভয় হচ্ছে। উনি যা যা বলে বলে আত্মহত্যা করেছেন তা আসলে বর্তমানে আমাদের দেশের অধিকাংশ বয়স্ক মানুষের জীবনের আত্মকথন।

‘আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়’ —এ বাক্যটা উপদেশ হিসেবে দেওয়া যতটা সহজ, যে কিনা ক্রনিক ডিপ্রেশনে ভোগেন তার জন্য তা মেনে চলা ততটাই কঠিন। প্রশ্ন হলো— ব্যক্তি হিসেবে তাদের জন্য আমরা কি করতে পারি?

প্রথমত কখনও আমাদের নিজের চিন্তাধারা দিয়ে অন্য কারও পরিস্থিতি বিবেচনা করতে চাওয়াটা উচিত না। আমরা খুব সহজেই বলে দেই, ‘আরে টেনশনের কিছু নেই, এটা কোন ব্যাপার হলো!’।

হয়তো বা আপনার কাছে এটি কোনো ব্যাপার না; কিন্তু যিনি ডিপ্রেশনে আছেন তিনি এ কথা শুনে আরও হীনমন্যতায় ভুগতে পারেন। তার সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কারও কাছে নিজের সমস্যা প্রকাশ করতে পারাটাও আসলে অনেক বিশাল সাপোর্ট হিসেবে কাজ করে। যেহেতু আপনি প্রফেশনালি ট্রেইন্ড না, কোনো পরামর্শ দিতে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

দুই. মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যারা কাজ করছেন, তাদের দরকার কাজের পরিধি বাড়ানো। বয়স্কদের দিকেও নজর দেওয়া ও তাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। বয়স্ক নারী ও পুরুষের শারীরিক পরিবর্তন যেমন মেনোপজ বা দুরারোগ্য ব্যাধিও যে বিষণ্নতার কারণ হতে পারে মানুষকে এই ব্যাপারে অপেক্ষাকৃত তরুণদের সচেতন করা।

কিছু প্রচলিত বাক্য যেমন ‘বুড়া হইছে তো তাই মাথাটাও গেছে’, ‘বয়স দিন দিন মনে হয় কমে’ থেকে বের হয়ে আসতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। এ ধরনের কথাবার্তা বয়স্কদের আবেগ-অনুভূতি প্রকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যারা কাজ করেন তাদেরকে সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিন. আমাদের দেশে ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা-মা অবসরে গেলে অন্য কোন কাজে যোগ না দিয়ে শুধু আরাম আয়েশ করতে উদ্বুদ্ধ করে। মানুষের জীবনে ব্যস্ততা প্রয়োজন। চাকরি জীবনে সারাদিন অফিস করে বাসায় আসলে যতটা প্রাধান্য পেতেন। রিটায়ারমেন্টের পর সারাদিন ঘরে থাকলে দেখা যায় সে পরিমাণ প্রাধান্য পাচ্ছেন না (যা খুবই স্বাভাবিক)। হুট করে এ পরিস্থিতির সঙ্গে মানাতে গিয়ে অনেকেই হীনমন্যতায় ভোগেন। ভাবেন, ‘চাকরিতে থাকতে আমাকে অনেক সম্মান ও আদর-আপ্যায়ন করা হতো, এখন আর কেউ আগের মতো ভালোবাসে না’।

চার. আপনি যদি পিতামাতার কাছ থেকে দূরে থাকেন, তা হলে চেষ্টা করুন সবসময় তাদের খোঁজখবর রাখতে। বেশি না, প্রতিদিন এক-দুই মিনিটই যথেষ্ট। যদি তাও ম্যানেজ করতে না পারেন তা হলে অন্তত সপ্তাহের ছুটির দিনে কথা বলুন। আর যদি তাও না পারেন, তা হলে আপনার আশপাশে যার বাবা-মা নেই তাদের সঙ্গে একটু কথা বলুন; তারা হয়তো তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে একবারের জন্য কথা বলতে হাজারও মাইল পাড়ি দিতে রাজি। তাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝবেন আপনি এখনও কতটা ভাগ্যবান।

পাঁচ. বয়সকালে কেউ স্বামী অথবা স্ত্রী হারালে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যিনি বেঁচে থাকেন তিনি চূড়ান্ত একাকিত্বে ভোগেন। আমাদের সমাজে বৃদ্ধবয়সে বিয়ে করাটা এক ধরনের ট্যাবু। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার বাবা অথবা মা হওয়ার আগে তারা একেকজন মানুষ। যৌন চাহিদার চেয়ে পারস্পরিক সাহচর্যটা এ ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সে বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত।

ছয়. আমাদের দেশে একটা প্রবণতা আছে— বাবা-মায়েরা আমৃত্যু ছেলেমেয়েদের জন্য স্যাক্রিফাইস করে যাবেন। অনেক পিতামাতা নিজের জন্য কোনো সঞ্চয় না রেখে সব কিছু ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের জন্য খরচ করে ফেলেন, অনেকে আবার সঞ্চিত সব অর্থ ছেলেমেয়েদের হাতে তুলে দেন। এ দুটি বিষয়ই বয়সকালে তাদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। একেবারে অর্থশূন্য হয়ে পড়ার কারণে অনেক সময় চিকিৎসা বা দৈনন্দিন খরচের জন্য তাদের ছেলেমেয়ের কাছে হাত পাততে হয়, যা কিনা একপর্যায়ে তাদের জন্য যন্ত্রণার কারণ হয়ে ওঠে।

সুতরাং নিজের শেষ বয়সের চিকিৎসা, প্রাত্যহিক ব্যয় ও বিনোদনের জন্য পরিমিত অর্থ হাতে রাখাই পিতামাতার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।

বয়স্করা সম্ভব হলে নিজেদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে পারেন। অন্যের মুখে হাসি দেখতে পাওয়াটা অনেকটা নেশার মতো। হয়তোবা এখান থেকে অন্যের উপকারের পাশাপাশি সেলফ সেটিসফেকশন বা জীবনের নতুন লক্ষ্য খুঁজে পেতে পারেন। চাকরি বা সংসারের ঘানি টানতে টানতে হয়তো বা জীবনের অনেক ইচ্ছাই পূর্ণতা পায়নি, অবসর সময়ে সে অপূর্ণ শখ পূরণের চেষ্টা করতে পারেন।

লেখক: জাফর আহমেদ
স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র।

সানজিদা সুলতানা রুপা
কাউন্সেলিং সাইকোলজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মনের দৈন্য ঘোচাতে পড়তে হবে বই

দেশের ৮৩ শতাংশ মানুষ সৃজনশীল বই এবং ৮৫ শতাংশ মানুষ সংবাদপত্র পড়েন না। শিক্ষিতদের মধ্যে এ হার অর্ধেকের বেশি। আর অতি ধনীদের মধ্যে বই ও সংবাদপত্র না পড়ার হার প্রায় ৭৫ শতাংশ। ২০১৬ সালে গণসাক্ষরতা অভিযানের এক সমীক্ষায় এ তথ্য প্রকাশিত হয় (যুগান্তর, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬)।

গত ৫ বছরে অবস্থার উন্নতি হয়েছে কিনা, এ তথ্য জানা নেই। তবে ওপরের তথ্য দেখে বলার অপেক্ষা রাখে না, আজকাল মানুষের মাঝে বই পড়ার প্রবণতা কমে এসেছে। এর নানাবিধ কারণ রয়েছে। সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য, নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও প্রসার।

একে একে আবিষ্কার হলো বেতার যন্ত্র (রেডিও), ফটোগ্রাফি, নির্বাক-সবাক চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, টেপ রেকর্ডার, ভিসিপি-ভিসিআর। ল্যান্ডফোনের যুগের অবসান, এলো বাটন, টাচ ও স্মার্টমোবাইল ফোন। ডিশ কালচার, নেট কালচারে ভাসছে দুনিয়া। খুলেছে ‘ভার্চুয়াল বিশ্ব’ নামে নতুন জগৎ। ১৬-১৭ কোটি লোকের দেশে নেটের গ্রাহক ১২ কোটির বেশি। আমি আশাবাদী মানুষ। ভার্চুয়াল রিডার হিসাবে ধরলে পাঠক সংখ্যা বেড়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিবারের মতো, এবারও এসেছে ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘সুবর্ণজয়ন্তীর অঙ্গীকার ডিজিটাল গ্রন্থাগার’। এটি খুবই সময়োপযোগী স্লোগান। বাংলাদেশে ২০১৮ সালে প্রথম দিবসটি উদযাপন শুরু হয়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি দিবসই গুরুত্বপূর্ণ। তারপরও কোনো কাজের অধিকতর গুরুত্ব বোঝাতে আমরা সুনির্দিষ্ট তারিখকে ‘বিশেষ দিবস’ ঘোষণা করি, আড়ম্বরের সঙ্গে উদযাপন করি। ৫ ফেব্রুয়ারি গ্রন্থাগারের জন্য তেমনই একটি দিবস।

বর্তমানে ভার্চুয়াল বিশ্বে যুক্ত হয়ে নিজের ঘর, অফিস কিংবা পৃথিবীর যে কোনো স্থানে বসে বই পড়া যায়। তাই পাঠক লাইব্রেরিতে গিয়ে ‘প্রিন্ট’ কপি বই পড়তে তত আগ্রহী হন না। তাই আমি বলব, বই পড়ার অভ্যাস কমেনি, বেড়েছে, বদলেছে পড়ার ধরন। প্রিন্ট বই ছেড়ে ঝুঁকছে ভার্চুয়াল বিশ্বে (ফেসবুক-ইন্টারনেট)।

বর্তমানে দেশে পাবলিক লাইব্রেরি বা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সংখ্যা ৭১। এটি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সরকার এ গ্রন্থাগারগুলো পর্যায়ক্রমে ‘ডিজিটালাইজড’ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বেসরকারি গ্রন্থাগার আছে ১ হাজার ৯৫৬টি।

জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অর্থ প্রয়োজন, তেমনি মনের দৈন্য ঘোচাতে পড়তে হবে বই, এর বিকল্প নেই। যে জাতি যত বেশি বই পড়ে, তারা জ্ঞান-গরীমায় তত উন্নত। বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা তারাই রাখে।

‘বই পড়া’র গুরুত্ব সম্পর্কে ইতিহাসের খ্যাতিমান লেখক, সাহিত্যিক, পণ্ডিত, গবেষক, বুদ্ধিজীবীরা সব সময় সোচ্চার ছিলেন। যার প্রতিফলন দেখতে পাই তাদের প্রবন্ধ-নিবন্ধে। যদিও তাদের সময়ে আজকের মতো প্রযুক্তির এতটা উন্নতি হয়নি। তবে তাদের লেখার গুরুত্ব এতটুকুন কমেনি।

এ রকম কিছু লেখার সারবস্তু নিচে তুলে ধরছি-বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘মহাসমুদ্রের শত বছরের কল্লোল কেহ যদি এমন করিয়া বাঁধিয়া রাখিতে পারিত যে, সে ঘুমাইয়া পড়া শিশুটির মতো নিশ্চুপ করিয়া থাকিত, তবে সেই নীরব মহাশব্দের সহিত এই লাইব্রেরির তুলনা হইত। এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, প্রবাহ স্থির হইয়া আছে, মানবাত্মার অমর আলোক কালো অক্ষরের শৃঙ্খলে কাগজের কারাগারে বাঁধা পড়িয়া আছে। ইহারা সহসা যদি বিদ্রোহী হইয়া ওঠে, নিস্তব্ধতা ভাঙিয়া ফেলে, অক্ষরের বেড়া দগ্ধ করিয়া একেবারে বাহির হইয়া আসে! হিমালয়ের মাথার উপরে কঠিন বরফের মধ্যে যেমন কত কত বন্যা বাধা আছে, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে মানব হৃদয়ের বন্যাকে বাঁধিয়া রাখিয়াছে!’

ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘সকলেই জানেন যত রকমের দান আছে, তার মধ্যে বিদ্যাদান সবার চেয়ে বড়। সেজন্য এখন অনেকে স্কুল করিয়া বিদ্যাদান করিতেছেন। সুসভ্য জাতি ভিন্ন এই দানের মাহাত্ম্য লোকে বুঝিতে পারে না। যাহারা সুসভ্য নয়, তাহারা অন্নদান, ভূমিদান, জলদান প্রভৃতিতেই খুশি থাকে। তাহারা বুঝে না যে এক বিদ্যাদান হইলে, তাহা হইতেই আর সব-দান আপনা আসিয়া জুটে। বিদ্যাদান অপেক্ষাও লাইব্রেরিয়ান আরও বড়। কেননা লাইব্রেরি বিদ্যার মূল।

বিদ্যাকে যদি গাছের সঙ্গে তুলনা করো, লাইব্রেরি তাহার জড় (মূল)। বিদ্যাকে যদি নদীর সঙ্গে তুলনা করো, লাইব্রেরি তাহার ফোয়ারা, অনন্ত জলরাশির আধার। সুতরাং যাহারা লাইব্রেরি দান করেন, তাহারা, শ্রেষ্ঠ দানের ওপরও যদি কিছু শ্রেষ্ঠ দান থাকে তাই করিয়া থাকেন। স্কুলে যে বিদ্যাদান হয়, সেটা ছেলেদের। লাইব্রেরিতে যে বিদ্যাদান হইয়া থাকে, সেটা ছেলে-বুড়া সবারই। স্কুলে যে বিদ্যাদান হয়, তাহা ছেলেরা কয়েক বছর মাত্র গ্রহণ করিতে পারে। কিন্তু লাইব্রেরিতে যে বিদ্যাদান হয়, তাহা বারো মাস তিরিশ দিন, মানুষ যতদিন বাঁচে ততদিনই মানুষ লইতে পারে।’

‘বই পড়া’ প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী লিখেছেন, ‘আমরা যত বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করব ততবেশি উপকার হবে। আমার মনে হয়, এদেশে লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় এবং স্কুল-কলেজের চাইতে একটু বেশি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘স্কুল-কলেজের শিক্ষা যে অনেকাংশে ব্যর্থ, সে বিষয়ে প্রায় অধিকাংশ লোকই একমত। আমি বলি, শুধু ব্যর্থ নয়, অনেক স্থলে মারাত্মক; কেননা আমাদের স্কুল-কলেজ ছেলেদের স্বশিক্ষিত হওয়ার সে সুযোগ দেয় না, শুধু তাই নয়, স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পর্যন্ত নষ্ট করে।

আমাদের শিক্ষাযন্ত্রের মধ্যে যে যুবক নিষ্পেষিত হয়ে বেরিয়ে আসে, তার আপনার বলতে বেশি কিছু থাকে না, যদি না তার প্রাণ অত্যন্ত কড়া হয়। সৌভাগ্যের বিষয়, এই ক্ষীণপ্রাণ জাতির মধ্যেও জনকতক এমন কঠিন প্রাণের লোক আছে, এহেন শিক্ষা পদ্ধতি যাদের মনকে জখম করলেও একেবারে বধ করতে পারে না।’

‘আমি লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিই এই কারণে যে, এ স্থলে লোকে স্বেচ্ছায় স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়; প্রতি লোক তার স্বীয় শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মর রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। স্কুল-কলেজ বর্তমানে আমাদের যে অপকার করছে, সে অপকারের প্রতিকারের জন্য শুধু নগরে নগরে নয়, গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা কর্তব্য। আমি পূর্বে বলেছি, লাইব্রেরি হাসপাতালের চাইতে কম উপকারী নয়; তার কারণ আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় লাইব্রেরি হচ্ছে একরকম মনের হাসপাতাল।’

মোতাহের হোসেন চৌধুরী তার ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘লাইব্রেরি সম্বন্ধে আমার শেষ বক্তব্য এই যে, তা জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানদণ্ড। লাইব্রেরির সংখ্যার দিকে নজর রেখে, জাতীয় উন্নতি ও সভ্যতার পরিমাপ করলে অন্যায় হবে না। কারণ উন্নতি মানে মনের উন্নতি, পুস্তক মনের উন্নতির সহায়, আর লাইব্রেরি পুস্তকের সমাহার ছাড়া আর কিছুই নয়।

অতএব বলা যেতে পারে, লাইব্রেরি সৃষ্টির ব্যাপারে যে জাতি যত অগ্রসর, জাতীয় কল্যাণ সৃষ্টির কাজে সে জাতি তত অগ্রগামী। জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে লাইব্রেরি আন্দোলন সমান তালে না চললে জাতীয় আন্দোলনের উপকারিতা সম্বন্ধে সন্দিহান হতে হয়। কারণ বুদ্ধি জাগরণ ভিন্ন জাতীয় আন্দোলন হুজুগপ্রিয়তা ও ভাব বিলাসিতার নামান্তর, আর পুস্তক অধ্যয়ন ব্যতীত বুদ্ধির জাগরণ অসম্ভব।’

রম্যলেখক সৈয়দ মুজতবা আলী মনীষী ওমর খৈয়ামের উদ্ধৃতি দিয়ে তার ‘বই কেনা’ প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘Here with a loaf of bread/Beneath the bough,/A flask of wine, a book of/Verse and thou,/Beside me singing in the wilderness/An wilderness is paradise enow.’ অর্থাৎ রুটি পানীয় ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে, কিন্তু বইখানা অনন্ত যৌবনা-যদি তেমন বই হয়। তাই বোধকরি খৈয়াম তার বেহেশতের সরঞ্জামের ফিরিস্তি বানাতে গিয়ে কেতাবের কথা ভোলেননি।’

এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া : সভাপতি, বাংলাদেশ গ্রন্থসুহৃদ সমিতি ও বেরাইদ গণপাঠাগার

কুয়েটে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতারা পাচ্ছেন পরীক্ষার সুযোগ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) কুয়েটে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফার্স্ট সেমিস্টার (পর্ব) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ২৪ মার্চ ওই পরীক্ষা শেষ হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক পরিচালক ইসমাঈল সাইফুল্লাহ জানান, করোনা মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। তবে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় অনলাইনের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে কুয়েটে পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা থাকায় সম্প্রতি বহিষ্কারসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শাস্তি পাওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের তিনজনসহ বৃহস্পতিবার কেউ কেউ পরীক্ষা দিয়েছেন।

জানা গেছে, ৩০ নভেম্বর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন ক্যাম্পাসের কাছের ভাড়া বাসায় মারা যান। অভিযোগ ওঠে মৃত্যুর দিন দুপুরে বাসায় ফেরার পথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অধ্যাপক সেলিমকে বিভাগে তার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তার ওপর মানসিক নিপীড়ন চালানো হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

২৮ নভেম্বর প্রশাসনের কাছে ৯টি সুপারিশসহ ৪৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয় ওই কমিটি। এরপর ৫ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তে চারজনকে চিরতরে কুয়েট থেকে বহিষ্কার, সাতজনকে দুই শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার, একজনকে এক শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার করা হয়। এর বাইরে ২২ জন শিক্ষার্থীকে এক শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার করা হয়। তবে ওই ২২ জনের বহিষ্কার আদেশ আপাতত স্থগিত ছিল।

এ ছাড়া ১০ জন ছাত্রকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। ২৭ জানুয়ারি সাদমান নাহিয়ান ১২ জন শিক্ষার্থীর পক্ষে বহিষ্কারাদেশসহ সব ধরনের শাস্তির বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে এক রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ১ ফেব্রুয়ারি রিট আবেদনের শুনানি শেষে তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

২ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সাজা পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের কাছে চিঠি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আনিছুর রহমান ভূঞা। তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনার চিঠি পেয়ে আমরা সেই মোতাবেক তা বাস্তবায়ন করেছি। আইনি অন্য কোনো বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’ কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান বলেন, ১২ জনের সবারই কোনো না কোনো পরীক্ষা আছে। কেউ কেউ শুরুর দিন পরীক্ষা দিয়েছেন।

বিলাসবহুল বাড়িসহ শিল্পাকে ৩৮ কোটি টাকার সম্পদ দিলেন স্বামী!

অভিনেত্রী স্ত্রী শিল্পা শেঠির হাতেই নিজের সম্পত্তি তুলে দিলেন রাজ কুন্দ্রা।

জুহুর এক বিলাসবহুল আবাসনে ফ্ল্যাট এবং অন্য জিনিসপত্র মিলিয়ে মোট সাড়ে ৩৮ কোটি টাকার সম্পত্তি শিল্পার হাতে তুলে দিয়েছেন তার ব্যবসায়ী স্বামী। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

পর্নকাণ্ডে কিছু দিন আগে জামিন পেয়েছেন রাজ। জুহুর ওই বিলাশবহুল আবাসনে পাঁচটি ফ্ল্যাট এবং গোটা বেসমেন্ট রাজ লিখে দিয়েছেন স্ত্রীর নামে।

যার মোট পরিমাণ প্রায় ৫৯৯৬ বর্গফুট। সেই হস্তান্তরের নথির জন্য ১.৯ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয়েছে। সম্পত্তি হস্তান্তর হয়েছে চলতি বাজারদর অনুযায়ী, প্রতি বর্গফুটে ৬৫ হাজার টাকা দরে।

পর্ন ছবি তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে। পুলিশি টানাহ্যাঁচড়ার পর থেকেই সমালোচনা যেন পিছু ছাড়ছে না শিল্পা-রাজের।

সম্প্রতি বোন শমিতা শেঠির জন্মদিনের পার্টিতে রাজের হাত ধরে ঘুরতে দেখা গিয়েছে শিল্পাকে। সেই ছবি নেটমাধ্যমে আসতেই ফের রসিকতা আর কটাক্ষের বন্যা।

আপিল বোর্ডকে জায়েদ খানের কড়া হুঁশিয়ারি

দিক নির্দেশনা চেয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আসা চিঠি নিয়ে শনিবার জায়েদ খান ও নিপুণকে নিয়ে মিটিং করার কথা আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহানের।

মিটিংয়ে অংশ নিতে নিপুণ আগ্রহী হলেও সাফ ‘না’ করে দিলেন জায়েদ খান।

শুধু না করেই ক্ষান্ত হননি, আপিল বোর্ডকে কড়া হুঁশিয়ারি বার্তাও দিলেন। জানালেন, কোনো অবৈধ কমিটির মিটিংয়ে তিনি বসবেন না।

মিটিংয়ে উপস্থিত থাকার কথা মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে কার্যকরী সদস্য পদে জয়ী চুন্নুরও।

শুক্রবার জায়েদ খান জানালেন, তিনি বা চুন্নু কেউই উপস্থিত হবেন না মিটিংয়ে।

কেন যাবেন না এর ব্যাখ্যায় সাংবাদিকদের জায়েদ খান বলেন, ‘আমি কেন অবৈধ কমিটির কাছে যাব। কেন? আর গেলেই বা কী। মিটিংয়ে যে রায় হবে, তাতে আমার কিছুই যায়-আসে না। কারণ তারা অবৈধ কমিটি। তাদের চ্যালেঞ্জ করতে হলে আদালতে যেতে হবে।২৯ জানুয়ারি আমাকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারপরও তারা যদি এটি নিয়ে লড়তে চান, সেটা আদালতে হবে। আপিল বোর্ডের কোনো কার্যকারিতাই নেই। আমার আইন উপদেষ্টা একই কথা বলছেন।’

জায়েদ খান আরও বলেন, ‘আপিল বিভাগ হাস্যকর কর্মকাণ্ড করছে। তারা বলেছে, ২৯ তারিখে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। আমরা সেই চিঠি বের করে দেখেছি, সেটা ১ ফেব্রুয়ারিতে পাঠান। ২৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের কার্যকারিতা শেষ। ১ ফেব্রুয়ারি তারা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাতে পারে না। মন্ত্রণালয়ের কাছেও ওই চিঠি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

এরপর আপিল বোর্ডকে কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা দেন জায়েদ খান।

বলেন, ‘আপিল বিভাগের কার্যকারিতা সম্পর্কে হয়তো জানে না মন্ত্রণালয়। এ কারণেই এসব ভুল কার্যক্রম বন্ধ করতে মন্ত্রণালয়সহ আপিল বিভাগের পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি। এই কার্যক্রম থামানোর অনুরোধ করছি। যদি তা না করে ৫ ফেব্রুয়ারি মিটিং করে, তাহলে এই অবৈধ কার্যক্রমের কারণে সবার নামে মামলা করব।’

হঠাৎ বিপিএল ছাড়লেন রাসেল

আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ক্যাম্পে যোগ দিতে বিপিএল ছাড়ছেন মিনিস্টার ঢাকার অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কলকাতার প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হবে। আর সেখানে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তিনি।

শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ধরবেন তিনি।

দলের সবাইকে শুভকামনা জানিয়ে রাসেল বলেন, আমরা শিরোপা জেতার মতো একটি দল। মিনিস্টার ঢাকার সমর্থকরা সমর্থন জুগিয়ে যান। ডালাসে থেকে আমিও সমর্থনে অংশ নেব। টুর্নামেন্টের আরও অর্ধেক বাকি। একটু আগেই চলে যেতে হচ্ছে। তবে ফিটনেস নিয়ে কিছু কাজ করতে হবে। অনেক উপভোগ করেছি। দারুণ একটা দল ঢাকা, তাদের কাপ জেতার সামর্থ্য আছে।

চলমান বিপিএলে ঢাকার হয়ে ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন রাসেল। চার ইনিংসে ব্যাট করে ৬১ রান করেছেন এই ব্যাটসম্যান এবং উইকেট পেয়েছেন ৮টি।

কাতার বিশ্বকাপে দর্শকদের টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক

ভূমধ্যসাগরের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কাতার। এবারের ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে পৃথিবীকে স্বাগতম জানাবে দেশটি।

বিশ্বকাপের উদ্বোধন ঘিরে দিন যত ঘনিয়ে আসছে দেশটির মধ্যে বসবাসরত অভিবাসী ও কাতারি নাগরিকদের মাঝে উৎসবের মাত্রাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চলতি বছরের নভেম্বর মাসেই ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী পর্দা উন্মোচন করা হবে কাতারে। বিশ্ববাসীকে একটি ঐতিহাসিক আনন্দ মুখর বিশ্বকাপ উপহার দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ দেশ কাতার।
ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের প্রথম দাপ টিকেট বিক্রির আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ফিফা। এতে করে কাতারে ও বহির্বিশ্বে উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত স্টেডিয়ামগুলোয় ফুঠে উঠেছে নান্দনিকতার ছাপ, শৈল্পিক কারুকাজে সজ্জিত স্টেডিয়াম দেখে আনন্দিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতামূলক এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের এবারের আসর। এছাড়া বিশ্বকাপে উপস্থিত দর্শকদের জন্য করোনার টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে কাতার সরকার।

বিশ্বকাপের সবকয়টি ম্যাচ দেখার আগ্রহ রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের। এবারের মধ্যপ্রাচ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বিশ্বকাপ আসর প্রবাসীদের জন্য এক বাড়তি আনন্দের।

হিলিতে জেঁকে বসেছে শীত

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলাসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে একদিনের ব্যবধানে আবারো কমেছে তাপমাত্রা, সেই সঙ্গে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে জেঁকে বসেছে শীতের প্রকোপ। সকাল ৯টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। আকাশে মেঘ জমে আছে। তবে কুয়াশা নেই। যে কোনো সময় বৃষ্টি হতে পারে।

মাহফুজার রহমান নামে এক কৃষক জানান, একদিকে শীত অন্যদিকে বৃষ্টি। জমিতে কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে। তবুও কাজ করতে হচ্ছে। কারণ এখন বোরো ধান লাগানোর সময়। জমিতে পানি দিয়ে চাষ শুরু করেছি।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, শনিবার দিনাজপুরে সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ৯৫ শতাংশ, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪-৫ কিমি।

এছাড়াও সৈয়দপুর ১২.২, রংপুর ১২.৮, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১৩.০, ডিমলা ১২.৭, নওগাঁ ১২.৫, রাজশাহী ১১.৬, চুয়াডাঙ্গা ১৪.৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় এখন পর্যন্ত ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি আরও জানান, সারাদেশে বৃষ্টির পরিমাণ দিনাজপুরে ৫৯, খুলনায় ৬৮, সৈয়দপুরে ৩৫, রংপুরে ৫৫, নওগাঁয় ৩৩, রাজশাহীতে ৩০, ডিমলায় ৫৫, কুড়িগ্রামে ৫০ মিলিমিটার। আজ বিকাল থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে।