বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 480

বিদায় বেলায় সরকার হিংস্র হয়ে উঠেছে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেষ সময়ে আবারও হিংস্র হয়ে ওঠেছে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা।

রিজভী বলেন, সিরাজগঞ্জে যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার পর শুক্রবার নাটোরের গুরদাসপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আজিজকে নৃশংসভাবে হামলা করে গুরুতর আহত করেছে।

‘গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার পর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মাঠে নেমে বাংলাদেশকে বধ্যভূমি বানাতে চায়। তারা বুঝে গেছে তাদের সময় শেষ। তাই তারা এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। সন্ত্রাসী কায়দা অবলম্বন করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চায়।’

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এই বিক্ষোভ মিছিল হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতা শওকত, জামাল, বাবুসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

রিজভী আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। এদেশে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকরা বার বার বলেছেন করোনা পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় তাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারপরও আওয়ামী নেতারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মিথ্যাচার করছে।

উন্নয়ন রুখতেই বিএনপির দেশবিরোধী লবিস্ট নিয়োগ: পরশ

দেশের উন্নয়ন রুখে দিতে দেশবিরোধী লবিস্ট নিয়োগ করেছে বিএনপি। এমন মন্তব্য করেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।
শনিবার রাজধানীর ইসলামবাগ ঈদগাহ মাঠে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উদ্যোগে অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, আমি আশা করেছিলাম বিএনপি রাষ্ট্র, সরকার এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে পার্থক্য বোঝে। কিন্তু না, তারা তা বোঝে না। তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে, দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান প্রকাশ করেছে।

তারা বাংলাদেশের উন্নয়নকে রুখে দিতেই দেশবিরোধী লবিস্ট নিয়োগ করেছে। এর আগে বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়াও বিদেশিদের কাছে দেশের বিরুদ্ধে চিঠি দিয়েছিলেন। আমি মনে করি, বিএনপির এসব ষড়যন্ত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। তা দেখে বিএনপি-জামাত আজ নানা ধরণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আপনারা জানেন বিএনপি-জামাতের রাজনীতি মানেই আগুন সন্ত্রাস, খুন, গুম, হত্যার রাজনীতি।

ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা’র সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজার সঞ্চালনায় আয়োজনটিতে আরও বক্তব্য রাখেন যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি জোদ্দার। তাজ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম জোয়ার্দার সৈকত, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দিন খসরু, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শামছুল আলম অনিক, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. মোঃ হেমায়েত উদ্দিন মোল্লা, উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা প্রমুখ।

গুমের তালিকার অনেকে মরেছে ভূমধ্যসাগরে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, জাতিসংঘের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান গুমের তালিকায় যে লোকজনের নাম দিয়েছিল, তাদের অনেকের ভূমধ্যসাগরে সলিলসমাধি হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি আসল কারণ নয়। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তাই অনেক দেশ গুমের প্রসঙ্গটি সামনে এনে চাপ প্রয়োগ করে স্বার্থ হাসিল করতে চায়। রাজধানীর একটি হোটেলে শনিবার এক আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চলতি মাসে জাতিসংঘের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের গুমের প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসার কথা রয়েছে। এ নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ নয়, জাতিসংঘের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের একটি তালিকা দিয়েছিল। পরে দেখা গেল, অনেক লোকের ভূমধ্যসাগরে সলিলসমাধি হয়েছে। বাংলাদেশি একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে তারা (জাতিসংঘের কমিটি) প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তাদের নিজেদের কোনো গবেষণা নেই। খুবই পক্ষপাতিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানের তথ্য দিয়ে তারা (জাতিসংঘের কমিটি) বলল, ‘আপনার দেশে অতজন লোক (গুম হয়েছে)। তারপর কিছু লোকের নাম দিয়েছেন। নাম দেওয়ার পর দেখা গেল, আমাদের লোকজন দুয়েকজন ছাড়া ওই তালিকার কাউকেই চেনেন না। আপনারা তাদের নাম জানেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুম হওয়া লোকজনের বিষয়ে তথ্য নিতে পুলিশ তাদের পরিবারের কাছে দু-একবার গেছে। পুলিশের ধারণা, দিনের বেলায় তারা থাকবেন না, তাই রাতের বেলায় গেছে। তখন তারা অভিযোগ করেছেন যে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। পুলিশ জানতে চায়, তাদের পরিবারের সদস্য কবে, কোথায়, কেন গেছেন, কিছু জানেন কি না। কারণ, অনেকেই আবার ফেরত চলে আসেন। দু-একদিন এ রকম করার পর তারা অভিযোগ করলেন।

গুমের অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের (গুম হওয়া লোকজনের পরিবারের সদস্যদের) একটি আলোচনায় রাখার জন্য বলেছি, সেখানে সংবাদকর্মীরাও থাকবেন। ওনারা তখন বলবেন যে তাদের পরিবারের সদস্যদের কবে কোথায় কীভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কিংবা ফেরত এসেছেন কি না।’

‘কিছু কিছু দুর্ঘটনার’ খবর পাওয়া যায় না উল্লেখ করে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উদাহরণ টানেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেমন আমরা অনেকদিন ধরে জানি, হারিছ সাহেব (বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী) গুম হয়ে গিয়েছিলেন। এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স (জোরপূর্বক অন্তর্ধান)। এখন দেখি, না, তিনি দেশেই ছিলেন এবং দেশেই নাকি মারা গেছেন। তার মেয়ে বলেছেন। আমরা একসময় দেখলাম, একজন নেতা তিনি দেশে নেই, তারপর ভারতের হোটেলে ভারতীয়রা তাকে ধরল। ওইসব গুম-খুন বলা হয়, কতটুকু সত্য, তা আমরা ঠিক জানি না।’

দেশে একটা লোকও গুম বা খুনের শিকার হোক, সরকার তা চায় না উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স শব্দই তো নেই। আমরা চাই না, কাউকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা চাই, প্রত্যেকের আইনের মাধ্যমে বিচার হবে।’

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘যেহেতু আমরা রাজনৈতিক-কৌশলগত খুব ভালো অবস্থানে আছি। আমাদের আশপাশের বড় বড় দেশ এবং আমাদের সমুদ্রে অবাধে যাতায়াতের বিষয়ে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন। সেজন্য এখন আমরা সবার চক্ষুশূল। আসল উদ্দেশ্য কিন্তু মানবাধিকার নয়, গুম-খুনও নয়। আসল উদ্দেশ্য, এসব চাপ দিয়ে কিছু ফায়দা সংগ্রহ করা যায় কি না।’ এগুলো অপপ্রচার কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই এগুলো অপপ্রচার।

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পর এবার মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হলো।
রোববার রাজধানীর মিরপুরের একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হচ্ছে।

সকালে মিরপুর জামিয়া সিদ্দীকিয়া নুরানি মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ঢাকা সিভিল সার্জন উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ও অধিদপ্তরের করোনার টিকাবিষয়ক কমিটির সদস্যসচিব ডা. শামসুল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দুই মাস আগে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়া শুরু করে সরকার। তখন একই বয়সি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সরকারি হিসাবে দেশে কওমি মাদ্রাসা আছে ১৯ হাজার ১৯৯টি। এসব মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি।

এ বিষয়ে সরকারের করোনা টিকা ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. শামসুল হক জানান, ঢাকায় ভাসমান মানুষ ও ঢাকাসহ সারা দেশে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়া শুরু হবে। পরে বাদ পড়া অন্য জনগোষ্ঠীদেরও টিকা দেওয়া হবে।

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর আর নেই

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর আর নেই। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে রোববার সকালে ৯২ বছর বয়সে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১১ জানুয়ারি তিনি মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হন। গত চার সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

সম্প্রতি অবস্থার উন্নতিও হচ্ছিল। কিন্তু শনিবার হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। তাকে নিতে হয় ভেন্টিলেশনে। সেখান থেকে আর ফেরানো যায়নি লতাকে।

নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত ছিলেন নবতিপর শিল্পী। প্রথম থেকেই তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল।

৩০ জানুয়ারি শিল্পীর কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। কিন্তু বয়সজনিত নানা সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত আর লড়তে পারলেন না তিনি।

এর আগেও সংকটজনক অবস্থায় একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল লতাকে। কিন্তু অনুরাগীদের আশ্বস্ত করে প্রত্যেকবারই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন।

১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর লতার জন্ম এক মারাঠি পরিবারে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারান। তার আগে অবশ্য বাবার হাত ধরেই অভিনয় এবং গান শিখতে শুরু করে দিয়েছিলেন।

১৩-১৪ বছর বয়সেই প্রথমবার সিনেমায় গান গেয়েছে মারাঠি ছবিতে। মুম্বাই যাওয়ার পর ১৯৪৮ সালে প্রথম হিন্দি গান গেয়েছেন ‘মজবুর’ ছবিতে।

তেল

ছোটবেলায় দেশে থাকতে শুনেছি যে, বাংলাদেশে সরকারি বা বেসরকারি কর্মী বলে কোনো কথা নেই- তাদের কাছে কোনো কিছুর জন্য গেলেই হয় সালামি না হয় ঘুস দিতে হয়। চাকরিতে প্রমোশনের দরকার, বসকে পটাতে হবে; বদলি হওয়ার দরকার তও বসকে তেল দিতে হবে।

বস হয়তো কিছু আশা করেননি তারপরও অনেকে নিজ থেকে কিছু নিয়ে বসের বাড়ি হাজির হয়েছে। এটাও শুনেছি একবার একজন ইলিশ মাছ নিয়ে বসকে বলেছিলেন এ মাছ তার নিজের পুকুরের।

এখন ঘুস, সালামি বা নিজ থেকে কাউকে কিছু দেওয়া এ ধরনের রেয়াজ বাংলাদেশে অতীতে যেমন ছিল এখনো আছো। তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত কেও কারো সম্পদ বা অর্থ হরণ না করে বরং বিনিময় করে তাকে ঘুস বলা হয়। আবার যেমন পাম্পপট্টি মারা, বা তেল দেওয়া এসবও কিন্তু আমাদের সমাজে খুব প্রচলন। আমরা তেল মেরে, ঘুস দিয়ে/নিয়ে বা পাম্পপট্টি মেরে আমাদের কার্য সাধন করতে ওস্তাদ।

আজ একটি ঘটনা চোখে পড়ল সেটা দেখার পর এক বন্ধুকে ফোন করলাম। তাকে জিজ্ঞেস করলাম আচ্ছা বলতো কি কারণ থাকতে পারে বাঙালিদের এত তেল মারার পেছনে? ও’মা সে দিব্বি আমাকে তেলের বর্ণনা থেকে শুরু করে তেল মারার গুণাগুণ সম্পর্কে অনেক কিছু জানালো। শুধু কি তাই? হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর তেলের ওপর লিখাটি আমাকে ধরিয়ে দিল যার অংশ বিশেষ যেমন “তৈল যে কি পদার্থ, তাহা সংস্কৃত কবিরা কতক বুঝিয়াছিলেন। তাহাদের মতে তৈলের অপর নাম স্নেহ।

বাস্তবিকও স্নেহ ও তৈল একই পদার্থ। আমি তোমায় স্নেহ করি, তুমি আমায় স্নেহ কর অর্থাৎ আমরা পরস্পরকে তৈল দিয়া থাকি। স্নেহ কি? যাহা স্নিগ্ধ বা ঠান্ডা করে , তাহার নাম স্নেহ। তৈলের ন্যায় ঠাণ্ডা করিতে আর কিসে পারে? বাস্তবিকই তৈল সর্বশক্তিমান; যাহা বলের অসাধ্য, যাহা বিদ্যার অসাধ্য, যাহা ধনের অসাধ্য, যাহা কৌশলের অসাধ্য, তাহা কেবল একমাত্র তৈল দ্বারা সিদ্ধ হইতে পারে।

যে সর্বশক্তিময় তৈল ব্যবহার করিতে জানে, সে সর্বশক্তিমান। তাহার কাছে জগতের সকল কাজই সোজা। তাহার চাকরির জন্য ভাবিতে হয় না —যে তৈল দিতে পারিবে,তাহার বিদ্যা না থাকিলেও সে প্রফেসার হইতে পারে। আহাম্মক হইলেও ম্যাজিস্ট্রেট হইতে পারে, সাহস না থাকিলেও সেনাপতি হইতে পারে এবং দুর্লভরাম হইয়াও উড়িষ্যার গভর্নর হইতে পারে।

প্রদীপ জ্বলে না, ব্যঞ্জন সুস্বাদু হয় না, চেহারা খোলে না, হাজার গুন থাকুক তাহার পরিচয় পাওয়া যায় না, তৈল থাকিলে তাহার কিছুরই অভাব থাকে না। পূর্বেই বলা গিয়াছে, যে তৈল দিতে পারে, সে সর্বশক্তিমান, কিন্তু তৈল দিলেই হয় না। দিবার পাত্র আছে, সময় আছে, কৌশল আছে। কে যে তৈল দিবার পাত্র নয় ,তাহা বলা যায় না। পুঁটে তেলি হইতে লাটসাহেব পর্যন্ত তৈল দিবার পাত্র। তৈল এমন জিনিস নয় যে, নষ্ট হয় । একবার দিয়া রাখিলে নিশ্চয়ই কোন না কোন ফল ফলিবে। কিন্তু উপযুক্ত সময়ে অল্প তৈলে অধিক কাজ হয় ।

কৌশল — পূর্বেই উল্লেখ করা গিয়েছে, যেরূপেই হোক, তৈল দিলে কিছু না কিছু উপকার হইবে। যেহেতু তৈল নষ্ট হয় না, তথাপি দিবার কৌশল আছে।

যাহার বিদ্যা আছে,তাহার তৈল আমার তৈল হইতে মূল্যবান। বিদ্যার উপর যাহার বুদ্ধি আছে, তাহার আরও মূল্যবান। তাহার উপর যদি ধন থাকে, তবে তাহার প্রতি বিন্দুর মূল্য লক্ষ টাকা। কিন্তু তৈল না থাকিলে তাহার বুদ্ধি থাকুক, হাজার বিদ্যা থাকুক, হাজার ধন থাকুক, কেহই টের পায় না।

তৈল সবাই দিয়া থাকেন —কিন্তু কেহই স্বীকার করেন না যে, আমি দেই। সুতরাং এ বিদ্যার অধ্যাপক জোটা ভার। এ বিদ্যা শিখিতে হইলে দেখিয়া শুনিয়া শিখিতে হয়। রীতিমত লেকচার পাওয়া যায় না। শেষে মনে রাখা উচিত, এক তৈলে চাকাও ঘোরে আর তৈলে মনও ফেরে”।

ছোটবেলায় সাগরিকা ছবি দেখেছিলাম ঢাকার পিলখানা সিনেমা হলে, তখন কেদার দাকে তার এক বন্ধু নাম মনে নেই বলেছিল নিজের চর্কায় তেল দিতে, তখন কেদার দা উত্তরে বলেছিল যতটুকু মনে পড়ে, “যার তেল দেবার অভ্যাস তার কাছে নিজ আর পর বলে কিছু নেই, চর্কা পেলেই তেল দেয়”। সে বহু বছর আগের কথা, তবে তেল দেওয়া নিয়ে এত সুন্দর করে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লিখেছেন তা আমার জানা ছিল না।

আমি আমার জীবনে এত সুন্দরভাবে বিষয়টি নিয়ে কখনো ভাবিনি। ভেবেছিলাম তেলের ওপর অনেক কিছু লিখব যেমন তেলের গুরুত্ব, তেলের ব্যবহার এবং এর উপকারিতা আমার মতো করে। কিন্তু তেল এমন এক বস্তু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। এটি পানির সাথে মেশে না; অথচ জৈব দ্রাবকের সাথে মিশে যায়। তেলে উচ্চমাত্রার কার্বন এবং হাইড্রোজেন রয়েছে।

বিভিন্ন প্রকারের তেল, যেমন: উদ্ভিজ্জতেল, ঔষুধি তেল এবং অপরিহার্য উদ্বায়ী তেল প্রদত্ত সাধারণ সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। সব ধরনের তেলই আদিতে জৈব পদার্থ থেকে উৎসারিত। বিশেষ করে সরিষার তেল পরিপাক, রক্ত সংবহন ও রেচনতন্ত্রের শক্তিশালী উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া খাওয়ার পাশাপাশি বাহ্যিকভাবে শরীরে মালিশ করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন এবং ঘর্মগ্রন্থি উদ্দীপিত হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।

সরিষার তেলে গ্লুকোসিনোলেট নামক উপাদান থাকে, যা অ্যান্টিকারসিনোজেনিক উপাদান হিসেবে পরিচিত। তাই এটি ক্যান্সারজনিত টিউমারের গঠন প্রতিরোধে সাহায্য করে। এর ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট কোলোরেক্টাল ও গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ক্যানসার থেকে সুরক্ষাও প্রদান করে।তবে সেটা শতভাগ ভেজাল মুক্ত হতে হবে।

ওপরের বর্ণনায় যতটুকু জানলাম তাতে আমি মুগ্ধ হয়েছি। তেলের গুরত্ব আমাদের জীবনে এত বেশি আগে আমার জানা ছিলো না। তবে এতটুকু বলতে চাই তা হলো ভেজাল সরিষার তেল কি আমাদের জন্য উপকার বয়ে আনবে? মোটেও তা নয়। দোকানের খোলা সরিষার তেলে ভেজাল মিশ্রিত থাকে, যা ব্যবহার করলে নানা রকম অসুখ–বিসুখ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই খাঁটি সরিষার তেল কেনার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। তাছাড়া অতিরিক্ত তেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

শিক্ষণীয় বা ভালো কিছু থেকে যখন আমরা নতুন কিছু শিখি সেটাকে আমরা নানাভাবে প্রয়োগ করি। অতএব তেলের গুণাগুণ এবং তার ব্যবহার বা তেল মারা অভ্যাসটা সেভাবেই আমাদের আচরণে ঢুকেছে। শিক্ষককে খুশি করতে আমরা সালাম করি, আদব কায়দা বা মার্জিত ভাষা ব্যবহার করি, প্রতিদিন আল্লাহকে খুশি করতে ভালো কাজ করি।

সব কিছুই মূলত তেল মারার মধ্যেই কিন্তু পড়ে। বন্ধুর কথায় যুক্তি দেখে আমি তার সঙ্গে তর্কে না গিয়ে একটু তেল মেরে অন্য প্রসঙ্গে কথা বলে আলোচনা শেষ করলাম। তবে আমাদের কথার শেষের দিকে আমরা দুইজনই কেন যেন একমত হলাম সেটা হলো- বেশি তেল খাওয়া, ব্যবহার করা, এমনকি বেশি তেল মারা ভালো না।

এই তো প্রবাস জীবন

খাবারের পানি আনতে গেলে সিরিয়াল, খাইতে গেলে সিরিয়াল, টয়লেট করতে গেলে সিরিয়াল, গোসল করতে গেলে সিরিয়াল, ব্যাংকে টাকা পাঠাতে গেলে সিরিয়াল, ডাক্তারের কাছে গেলে সিরিয়াল। শুধু সিরিয়াল আর সিরিয়াল। এসব সিরিয়াল নিয়েই থাকতে হয় অধিকাংশ সাধারণ প্রবাসী ভাইদের।

আর ঘুমাতে গেলে ছাড়পোকার জ্বালাতন তো আছেই। বৈধ কর্মরত লোকদের এরকম অবস্থানের সম্মুখীন হতে হয়। আর যারা অবৈধ কর্মরত আছেন তারা আরও কতই না কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। মাস শেষে বেতন পায় না। অনেকের বেতনও মেরে দেয়। দেশে সহজে টাকা পাঠানো যায় না।

আমি আমার একটি ঘটনা বলি, মালদ্বীপে চায়না স্টেট কোম্পানিতে এসেই ঘুরে ঘুরে দেখলাম আশেপাশে কোথায় কী আছে?ঘুরতে ঘুরতে এই কোম্পানির কর্মরত একবাঙালি ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হলো। সে বলল, ‘আরে ভাই,কিল্লেগা যে মালদ্বীপে আইলেন?

যে দেহ নিয়া আইলেন, সে দেহ তো এমন থাকবে না রে ভাই। কাজে যে পরিশ্রম, আর যে রোদ, দুইদিন কাজ করলে তো কাজের সাইডে পাওয়া যাবে না আপনাকে। মালদ্বীপে কারো জ্বর হলে, সেই জ্বর কতটা যে ভয়ংকর; যার হয় সেই বুঝে। এই তো কয়েক দিন হলো এক লোক জ্বরে মারা গেছে। লোকটারে চাপা মাটি দিয়া ফেলছে। মইরা গেলে লাশটা দেশেও পাঠায় না।’

এভাবে লোকটি আমাকে আরো অনেক কিছু বলল। আমার মনে ভয় ঢুকে দিলো। চিন্তা পড়ে গেলাম।কেউ কেউ জ্বরে ভুগতেছে এবং কাঁদতেছে তাও দেখলাম।

অবশেষে কাজ শুরু করলাম।এক সপ্তাহ কাজ না করতেই শরীর ব্যথা আর জ্বর-জ্বর ভাব। বিছানা থেকে উঠতে কষ্ট হচ্ছে, কাজের সাইডে যাব কী করে? তাহলে কি লোকটির কথাই সত্যি? আমি জ্বরে মারা গেলে আমার লাশ চাপা মাটি দিয়ে ফেলবে? লাশ দেশে যাবে না?

নীরবে কিছুক্ষণ কাঁদলাম। আরো দশ-বারোজন আমার মতো অসু্স্থ, জ্বর হয়েছে। কোম্পানির একবাংলা বস আমাদের হাসপাতালে নিয়ে যাবে চিকিৎসা করার জন্য।

হাসপাতালে আসলাম, ডাক্তারের ভিজিট এই দেশের দুইশত রুপিয়া, বাংলা টাকা প্রায় এক হাজার টাকা। রক্ত পরীক্ষা করলাম। রক্ত পরীক্ষা করতে ছয়শত রুপিয়া। তারপর ডাক্তারের কাছে গেলাম।সিরিয়াল তো আছেই।সকালে এসেছি বিকেল হয়ে যাচ্ছে।

পেসক্রিপশন লিখে দিল। ফার্মেসির দোকানে গিয়ে মাত্র পনেরো রুপিয়া বাংলা টাকা পঁচাত্তর টাকার ঔষদ দেয়া হলো। সব টাকা বাংলা বসেই দিচ্ছে। এর দুই দিন পর সুস্থ হয়ে গেলাম। তারপর ঠিকমতো কাজ-কর্ম করতে লাগলাম।

মাস শেষে, যখন বেতন পাইলাম তখন দেখি বেতন থেকে পঞ্চাশ ডলার কেটে রেখেছে। কারণ জানতে চাইলে বলে,এই পরিমাণ নাকি আমার চিকিৎসার সময় খরচ হয়েছিল। আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল।

এক-দুই ডলার না,পঞ্চাশ ডলার। বাংলা টাকা চার হাজারের কিছু বেশি হবে। শুধু আমার নয় সবার কাছ থেকে ডলার কেটে রেখেছে।

যাই হোক, এক বছর পর এই কোম্পানি থেকে পালিয়ে অন্য কোম্পানিতে যুক্ত হলাম। অবৈধভাবে এখন কর্মরত। আমার মতো অনেকেই এই কোম্পানি থেকে পালিয়েছে,অনেকে বা দেশে চলে গেছে। যাদের নিজস্ব লোক আছে, তাদের অন্য কোনো কোম্পানিতে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে না। আমার মতো যাদের কেউ নেই,ধরতে হয় দালাল। সেই দালালই টাকার বিনিময়ে কাজ ঠিক করে দেয়। কেউ বা প্রতারণার শিকার হয়ে চোখের জল ঝরিয়ে নিজে নিজেকেই শান্তনা দিতে থাকে।
আমারা এখানে প্রায় এক লাখ বাঙালি প্রবাসী আছি। এর মধ্যে পঞ্চাশ হাজারের মতো অবৈধভাবে কর্মরত। আবার শতাধিক বাঙালি মাদকের ফাঁদে, নারী কেলেঙ্কারি, এছাড়া মহামারিসহ অন্য কোনো অপরাধ করার কারণে মালদ্বীপের কারাগারে বন্দি আছেন। এর কোনো বিহিতও হচ্ছে না।

যা হোক, কাগজ-পত্র ঠিক না থাকায়, ব্যাংকে টাকা পাঠানো যায় না।অনেক কোম্পানি আছে ডলারের বেতন ধরে ডলার দেয় না। দেয় মালদ্বীপের স্থানীয় টাকা (রুপিয়া)। এই টাকা (রুপিয়া) ব্যাংকে নেয় না।তবে রুপিয়া দিয়ে ডলার কেনা যায়।ডলার কিনে তারপর দেশে টাকা পাঠানো হয় ব্যাংকের মাধ্যমেই (যাদের কাগজপত্র ঠিক আছে)। আমার মতো যাদের কাগজপত্র ঠিক নেই, পাঠাতে হয় বিকাশে।

ব্যাংক রেট যদি এক রুপিয়া বাংলা পাঁচ টাকা হয় বিকাশ রেটে গিয়ে চার টাকা। মাঝে মাঝে বিকাশওয়ালারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিকাশ খরচ বাড়িয়ে ফেলে।

বিকাশে বিশ হাজার পাঠালে প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ পরে যায়। সব জায়গায় বিকাশ খরচ এক রকম নিচ্ছে না। জায়গা বুঝে তারা বিকাশ খরচটা বাড়িয়ে ফেলে। নিরুপায় হয়ে আমাদের ছাড়তে হয় এই বিকাশে। রুপিয়া দিয়ে ডলার কিনতে গেলে এক ডলার প্রায় উনিশ টাকা আর বেচতে গেলে পনেরো-ষোলো রুপিয়া পাওয়া যায়।

এছাড়া অবৈধভাবে যারা কর্মরত আছে তাদের, কিছু কিছু কোম্পানির বাঙালি কন্ট্রাক্টদার বেতন গুলো মেরে দেয়, এমনকি এদেশের কিছু কোম্পানির মালিকও। তাহলে কোথায় যাবে সাধারণ প্রবাসী ভাই! আমার মতো যারা অবৈধভাবে আছে মারা গেলে লাশটিও দেশে পাঠানো যায় না। যদিও পাঠায়, ভিক্ষা করে চাঁদা তুলে পাঠানো হয়। দেশে লাশ পাঠাতে প্রায় দুই-তিন লাখ খরচ হয়ে যায়।যদি এই পরিমাণে চাঁদার মাধ্যমে টাকা না ওঠে তাহলে মালদ্বীপেই লাশ দাফন করে ফেলতে বাধ্য হয়।

এই তো ২২ ডিসেম্বর ২০২১ বুধবার বাংলাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহের আমন্ত্রণে মালদ্বীপ এসেছিলেন ছয় দিনের সফরে।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সংযোগের উন্নয়নে ফলপ্রসু আলোচনা করেছেন। বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন- অবৈধদের বৈধকরণ করা, রাষ্ট্রীয়ভাবে সহজে লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা, কারাগারে যারা আছেন তাদের দেশে নিয়ে বিচারের ব্যবস্থা করা, বেতন সমস্যা সমাধান করা, বাংলাদেশে যাতে সহজভাবে স্বল্প খরচে টাকা পাঠানো যায় এ ব্যাপারে একটি ব্যাংকের দ্রুত ব্যবস্থা করুন।

গাজীপুরের সাহিত্য জগৎ

গাজীপুর এক ঐতিহাসিক জনপদ। ইতিহাসখ্যাত ‘ভাওয়াল পরগনা’ই বর্তমানে গাজীপুর জেলা। কিন্তু জেলা হিসাবে গাজীপুর নতুন হলেও এর রয়েছে সমৃদ্ধ ও কালোত্তীর্ণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তান-ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, মোগল আমলে বাংলার বারো ভূঁইয়াদের স্বাধীনচেতা কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গাজীপুরবাসীদের রয়েছে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা। রাজনীতি-শিল্পসংস্কৃতি ধারার পাশাপাশি সেই ব্রিটিশ আমল থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত গাজীপুরের সাহিত্যের ধারাটিও যথেষ্ট পরিপুষ্ট ও সমৃদ্ধ। গাজীপুরে সাহিত্যচর্চায় যারা অবদান রেখেছেন নিচে তাদের পরিচিতি দেওয়া হলো।

গোবিন্দচন্দ্র দাস (১৮৫৫-১৯১৮) : অতীতের দিকে দৃষ্টি ফেরালে প্রথমেই যে কবির নামটি উল্লেখ করতে হয় তিনি হলেন কবি গোবিন্দচন্দ্র দাস (১৮৫৫-১৯১৮ খ্রি.)। বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘স্বভাব কবি’ এ অভিধায় পরিচিতি পেলেও মূলত বাংলার নিভৃত পল্লির পরিমণ্ডলের কাব্যধারায় তাকে প্রকৃতি ও প্রেম, মাতৃভূমিপ্রীতি, স্বজনবিরহ, জুলুম/নির্যাতন-অবিচারবিরোধী দ্রোহ-চেতনার কবি-মানস বলাই সঙ্গত। তার রচিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা দশটি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থটি হচ্ছে ‘মগের মুল্লুক’ (১৮৯৩ খ্রি.)। ভাওয়ালের তৎকালীন রায় চৌধুরী সামন্তশাসকদের অন্যায়-অবিচার-জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী বক্তব্যধর্মী এ কাব্যটি ইতিহাসের এক আকর। তার রচিত বহু কবিতা স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে অনন্য। তার রচিত বিখ্যাত কবিতার মধ্যে রয়েছে : ‘ভাওয়াল আমার অস্থিমজ্জা ভাওয়াল আমার প্রাণ/আমি তার নির্বাসিত অধম সন্তান।’ এ ছাড়া ‘দিন ফুরায়ে যায়রে আমার দিন ফুরায়ে যায়/মাঝের রবি ডুবছে সাঁঝে/দিনটা গেল বৃথা কাজে/কেমন করে হিসাব দিবি নিকাশ যদি চায়।’

কালীপ্রসন্ন ঘোষ (১৮৪৩-১৯১০ খ্রি.) সুসাহিত্যিক ও বহু গ্রন্থপ্রণেতা কালীপ্রসন্ন ঘোষের জন্ম মুন্সীগঞ্জে (তৎকালীন বিক্রমপুর) হলেও ভাওয়াল পরগনার ম্যানেজার থাকার সুবাদে তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত হয়েছে গাজীপুরে (তৎকালীন জয়দেবপুর)। তিনি বিখ্যাত ‘বান্ধব’ ও ‘শুভসাধিনী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তিনি জয়দেবপুরে ‘সাহিত্য সমালোচনা সভা’ নামে একটি সাহিত্য সংসদও গড়ে তুলেছিলেন। তার অমূল্য সাহিত্য রচনার অনেক জয়দেবপুর বসবাসকালীন সময়ে রচিত হয়েছিল।

নরেন্দ্রনারায়ণ রায় চৌধুরী (১৮৮০-১৯৪৪ খ্রি.) গাজীপুর সদরের বাড়ীয়া ইউনিয়নের বলধার জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায় চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন গাজীপুরের গাছা গ্রামে। গাছার জমিদার মহিমচন্দ্র ঘোষের দুপুত্রের মধ্যে কনিষ্ঠপুত্র ছিলেন নরেন্দ্রনারায়ণ। বলধার জমিদার হরেন্দ্রচন্দ্র রায় চৌধুরী তাকে দত্তক পুত্র নেন। নরেন্দ্রনারায়ণ ঢাকার বিখ্যাত ‘বলধা গার্ডেন’-এর নির্মাতা। তিনি ছিলেন নাটক পাগল। তার রচিত ১৩৮ বইয়ের নাম জানা যায়। অল্প কয়েকটি ছাড়া বাকি সবই ছিল তার রচিত নাটক। বলধায় তিনি একটি স্থায়ী নাট্যমঞ্চ নির্মাণ করেছিলেন। এ নাট্যমঞ্চে এবং ঢাকার বলধা (নিমফ) হাউজ নাট্যমঞ্চে নিয়মিত তার রচিত নাটক মঞ্চস্থ হতো। তার রচিত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থও রয়েছে।

আবু জাফর শামসুদ্দিন (১৯১১-১৯৮৮ খ্রি.) প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দিন কালীগঞ্জের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। একজন সুসাহিত্যিক ছাড়াও তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক। কলামিস্ট হিসাবেও তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। মূলত উপন্যাস রচয়িতা হলেও তিনি অনেক গল্প, প্রবন্ধ, আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, ভ্রমণকাহিনি ইত্যাদি লিখেছেন। তার একটি বিখ্যাত বই হচ্ছে ‘ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান’ (১৯৬০ খ্রি.)। বইটিতে ভাওয়ালের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি স্থান পেয়েছে।

ড. মুহাম্মদ এখলাস উদ্দীন (১৯৩৮-১৯৮৪ খ্রি.)

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন পদার্থবিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ এখলাসউদ্দীন একজন জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক। তিনি টঙ্গীর দত্তপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। বাংলার পাশাপাশি তিনি ইংরেজি ও আরবিতে ছিলেন দক্ষ। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রথম স্থান পেয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে লন্ডন থেকে ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশি-বিদেশি বহু জার্নালে তার অনেক গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক। তার জনপ্রিয় বহু শিশুবিষয়ক লেখা দেশের নানা শিশুপাঠ্যপুস্তকে প্রকাশিত হয়েছে।

ব্যারিস্টার অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪ খ্রি.)

প্রখ্যাত কবি, গীতিকার, সংগীত সম্রাট ব্যারিস্টার অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন গাজীপুরের কাওরাইদের জমিদার কালীনারায়ণ গুপ্তের (১৮৩০-১৯৩০ খ্রি.) দৌহিত্র। তার পূর্বপুরুষদের বাড়ি বৃহত্তর ফরিদপুর জেলায় থাকলেও তিনি ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাহিত্যচর্চা করেছেন মূলত কাওরাইদে বসে। তার বিখ্যাত ‘মোদের গরব মোদের আশা, আ’মরি বাংলাভাষা’-এ গানটিও তিনি কাওরাইদে বসেই রচনা করেছিলেন। জানা যায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১ খ্রি.) ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর এ গানটি তাকে উৎসর্গ করেছিলেন অতুলপ্রসাদ সেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ট্রেনে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের ৭ ফেব্রুয়ারি কাওরাইদে অতুলপ্রসাদ সেনের আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন। উল্লেখ্য, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামও (১৮৯৯-১৯৭৬খ্রি.) তার নির্বাচনী প্রচারণায় ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে জয়দেবপুর এসেছিলেন। এ সময় তিনি ‘জয়দেবপুরের পথে’ (পরে নাম দেন ‘চাঁদনী রাতে’) নামে একটি কবিতা রচনা করেছিলেন।

কালীনারায়ণ গুপ্ত (১৮৩০-১৯৩০খ্রি.) গাজীপুরের কাওরাইদ এলাকার জমিদার কালীনারায়ণ গুপ্ত ছিলেন গীতিকার ও গায়ক। কালীনারায়ণ রচিত বহু গানে এলাকার প্রকৃতি-পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা লক্ষ করা যায়। তিনি ‘সংগীত’ নামে একটি জনপ্রিয় গানের বই রচনা করেন যেটি সে সময় সমগ্র ভারতবর্ষে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। কালীনারায়ণের পুত্র স্যার কে জি গুপ্ত (ব্যারিস্টার) ছিলেন প্রথম বাঙালি আইসিএস অফিসার, ইন্ডিয়ান ভাইসরয়ের ইন্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য এবং ইংল্যান্ডের ‘হাউজ অব কমন্স’-এর সম্মানিত সদস্য। তার মামাতো ভাই গিরীশচন্দ্র সেন পবিত্র কুরআন শরিফের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেছিলেন। কে জি গুপ্তের ভাগ্নে অতুলপ্রসাদ সেন আর অতুলপ্রসাদ সেনের ভাগ্নে হলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচিত্রের কিংবদন্তিতুল্য প্রবাদপুরুষ সত্যজিৎ রায়।

এ প্রসঙ্গে গাজীপুরের সাহিত্য জগতে লেখক-কবি-প্রাবন্ধিক-নাট্যকার হিসাবে আরও যাদের নাম উল্লেখ করতে হয় তাদের তালিকা নিুে দেওয়া হল। (উল্লেখ্য, প্রবন্ধের পরিসর সীমিত রাখতে এবং সময়ের স্বল্পতায় কারও নাম বাদ পড়ে গেলে তার জন্যে আমি দুঃখিত)।

মোলায়েম হোসাইন উয়ায়েসী মোলায়েম হোসাইন উয়ায়েসী-ভাওয়াল রাজপরিবার ও রাজাদের ওপর গবেষণাধর্মী বই ‘পরগনায়ে ভাওয়াল ও সন্ন্যাসী কুমার’ (১৯৯২) প্রকাশ করে খ্যাতি লাভ করেছেন। মো. নুরুল ইসলাম (ভাওয়ালরত্ন)-জয়দেবপুর রাণী বিলাসমণি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক। বহু সংখ্যক কবিতা লেখার পাশাপাশি ভাওয়াল ও গাজীপুরের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তার লেখা অনেক প্রবন্ধ রয়েছে।

কালিয়াকৈরের বাড়ইপাড়া গ্রামের কালীচরণ চারণকবি হিসেবে স্বদেশি ও দেশাত্মবোধক এবং দেহতত্ত্বমূলক অনেক গান রচনা করেছেন। গাজীপুর সদরের রাহাপাড়া গ্রামের মো. আবদুর রউফ চারণ নাট্যকার হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরের শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের সুযোগ্য কন্যা বর্তমান সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি ও অপর কন্যা মাহজাবিন আহমদ সিমিও অনেক প্রবন্ধ রচনা করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন ও অবসরপ্রাপ্ত পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা আখতার হোসেন খানও বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক। নাট্যচর্চা প্রসারে অধ্যাপক মো. আয়েশ উদ্দিন, কাজী মোখলেসুর রহমান (কাজী বাটা), প্রফেসর ড. রশীদ হারুন, মো. ফিরোজ উদ্দিন, আহমেদ ফজলুর রহমান, ম. আহাদ ভাওয়ালী, প্রয়াত আহসানুল কবির ভূইয়া কাকুল, আবদুল হাই দুর্বভর, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. আব্দুর রউফ, রুহুল আমিন, হেলাল মিয়া, সেকানুল ইসলাম শাহী, যাত্রাশিল্পে মো. মোজাফ্ফর হোসেন মোহন কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। আবৃত্তিশিল্পে কবি এড. মু. ইস্তেকবাল হোসেন, লিয়াকত চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম জানু, সাজেদা রোজী, প্রয়াত মোবারক হোসেনের নাম উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া গাজীপুরে সাহিত্য-শিল্প-জগতে আরও যারা বিশিষ্ট ভূমিকা রেখেছেন তারা হলেন অধ্যাপক ইয়াকুব আলী সরকার, প্রয়াত অধ্যাপক অবনীকুমার বর্মণ, প্রফেসর এম.এ বারী, গোলাম সোলায়মান, প্রয়াত অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান (মুক্তিযুদ্ধ গবেষক), অধ্যাপক ড. ফরিদ আহম্মদ (ইতিহাস-ঐতিহ্য গবেষক), অধ্যাপক আমজাদ হোসাইন, অধ্যাপক অসীম বিভাকর, মমিনুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন স্বপন, প্রয়াত ডা. খালেদ শামসুল ইসলাম ডলার, মো. হুমায়ুন কবির, কবি অশোক কুমার নাথ, কবি আবু নাসির খান তপন, কবি মোশাররফ হোসেন কায়েস, কবি নিখিল দাস, কবি ছামান আলী, কবি মেজবাহ উদ্দিন, কবি আদিত্য নজরুল, কবি অনন্ত খায়রুল, নাট্যচর্চায় মো. বিল্লাল হোসেন, মতিউর রহমান গাজীপুরী প্রমুখ। তরুণদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক কথাসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ইজাজ আহ্মেদ মিলন। তিনি ইতোমধ্যে তার সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে সাড়া ফেলেছেন সারাদেশে। দুবার অর্জন করেছেন বজলুর রহমান স্মৃতি পদক। এ ছাড়া কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার লাভ করেছেন গত বছর।

উল্লেখ্য, বাংলাভাষায় প্রথম দ্বিভাষিক অভিধান ও খণ্ডিত ব্যাকরণ এবং বাংলাভাষায় প্রথম গদ্যের বই এ ভাওয়ালে তথা গাজীপুরেই রচিত হয়। সুদূর পর্তুগাল থেকে ধর্ম প্রচারের জন্য গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী খ্রিষ্টান পল্লিতে এসে রোমান পর্তুগিজ পাদ্রি ম্যানুয়েল দা আসসুম্পসাঁউ (অবস্থান ১৭৩৮-৫৪ খ্রি.) প্রথম বাংলাভাষা ও সাহিত্যের দ্বি-ভাষিক অভিধান ‘বাংলা-পর্তুগিজ শব্দকোষ’ (Vocabulario em Indio ma Bengali-Portuguer) ও খণ্ডিত ব্যাকরণ রচনা করেন। তা ছাড়া তিনি ‘কৃপাশাস্ত্রের অর্থভেদ’ নামেও একটি বই (বাংলাভাষার দ্বিতীয় বই) লেখেন। অপরদিকে নাগরীর সেন্ট নিকোলাস টলেন্টিনো চার্চে বসেই দোম আন্তোনি দো রোজারিও ১৭৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ভাওয়াল অঞ্চলের গদ্যরীতিতে ‘ব্রাহ্মণ-রোমান ক্যাথলিক সংবাদ’ নামে প্রথম বাংলা গদ্য রচনা করেন। সে সময় ভাওয়ালে কোনো ছাপাখানা না থাকায় ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে বই তিনটি পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে ছাপিয়ে পুরো ভারতবর্ষে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার

জনাব মো. নুরুল ইসলাম (ভাওয়ালরত্ন)

গাজীপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য (লেখক : ড. ফরিদ আহম্মদ)

বলধা গার্ডেন ও নরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরী (লেখক : ড. মোহাম্মদ আলী খান)

বিশ্বজয়

কখনো কি দেখেছো?
বিনম্র শ্রদ্ধায়
শহিদ মিনারের কান্না,
স্মৃতিসৌধের রক্তাত্ত বেদনা।
কখনো কি দেখেছো?
লাশের মিছিলে রাজপথ
প্রাণহীন লাশের শহর,
জয়নালের দুর্ভিক্ষ দুর্লভ।
কখনো কি দেখেছো?
মনের ভিতরের হিংস্রতা
কেড়ে নেয় ভ্রাতৃত্ব ভালবাসা,
লজ্জায় ফাঁসির কাষ্টে মানবতা!
কখনো কি দেখেছো?
জীবনে বেঁচে থাকা বিচরণ
রাত্রির আঁধারে চোখের জল,
আজানের ধ্বনিতে বক্ষ ঢলমল।
কখনো কি দেখেছো?
দু’হাত তুলে চেয়েছো
স্বার্থের হুলিয়ায় পালিয়ে খুঁজেছো,
নিজের আভিজাত্যে মেতে উঠেছো।
কখনো কি দেখেছো?
আয়নার সম্মুখে দাঁড়িয়ে
অতীতের জানালায় স্মৃতির নগর,
বুলেটের আঘাতে এক ছাদে মরণ।
কখনো কি দেখেছো?
অন্যায়ের কাছে ধানমন্ডি রক্তের ক্ষয়
ত্যাগের মহিমায় স্বাধীনতার সূর্যোদ্বয়
লাল-সবুজ পতাকায় মোদের বিশ্বজয়।

পবিত্র শবেমেরাজ ২৮ ফেব্রুয়ারি

দেশের আকাশে পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে, আগামীকাল ৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে পবিত্র রজব মাস গণনা শুরু হবে। ফলে পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ পালিত হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি (২৬ রজব) রাতে।

বুধবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দেশে লাইলাতুল মেরাজের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ দিন ঐচ্ছিক ছুটি।

আরবি শব্দ ‘লাইলাতুল’ অর্থ রাত, আর ‘মেরাজ’ অর্থ ঊর্ধ্বগমন। মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী, ২৬ রজব রাতে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহতায়ালার সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন। এ বছর সেই রাতটি পড়েছে ২২ মার্চ। লাইলাতুল মেরাজ মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদার। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে এ মূল্যবান রাত কাটান। অনেকে নফল রোজাও রাখেন এ দিন।