বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 479

কুয়েটে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতারা পাচ্ছেন পরীক্ষার সুযোগ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) কুয়েটে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফার্স্ট সেমিস্টার (পর্ব) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ২৪ মার্চ ওই পরীক্ষা শেষ হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক পরিচালক ইসমাঈল সাইফুল্লাহ জানান, করোনা মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। তবে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় অনলাইনের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে কুয়েটে পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা থাকায় সম্প্রতি বহিষ্কারসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শাস্তি পাওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের তিনজনসহ বৃহস্পতিবার কেউ কেউ পরীক্ষা দিয়েছেন।

জানা গেছে, ৩০ নভেম্বর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন ক্যাম্পাসের কাছের ভাড়া বাসায় মারা যান। অভিযোগ ওঠে মৃত্যুর দিন দুপুরে বাসায় ফেরার পথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অধ্যাপক সেলিমকে বিভাগে তার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তার ওপর মানসিক নিপীড়ন চালানো হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

২৮ নভেম্বর প্রশাসনের কাছে ৯টি সুপারিশসহ ৪৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয় ওই কমিটি। এরপর ৫ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তে চারজনকে চিরতরে কুয়েট থেকে বহিষ্কার, সাতজনকে দুই শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার, একজনকে এক শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার করা হয়। এর বাইরে ২২ জন শিক্ষার্থীকে এক শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার করা হয়। তবে ওই ২২ জনের বহিষ্কার আদেশ আপাতত স্থগিত ছিল।

এ ছাড়া ১০ জন ছাত্রকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। ২৭ জানুয়ারি সাদমান নাহিয়ান ১২ জন শিক্ষার্থীর পক্ষে বহিষ্কারাদেশসহ সব ধরনের শাস্তির বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে এক রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ১ ফেব্রুয়ারি রিট আবেদনের শুনানি শেষে তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

২ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সাজা পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের কাছে চিঠি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আনিছুর রহমান ভূঞা। তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনার চিঠি পেয়ে আমরা সেই মোতাবেক তা বাস্তবায়ন করেছি। আইনি অন্য কোনো বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’ কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান বলেন, ১২ জনের সবারই কোনো না কোনো পরীক্ষা আছে। কেউ কেউ শুরুর দিন পরীক্ষা দিয়েছেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ শপথ নিচ্ছেন আজ

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে বিজয়ীরা আজ শপথ নিচ্ছেন।

আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তে সাধারণ সম্পাদক পদে নিপুণকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে শনিবার। সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চন ও সাধারণ সম্পাদক নিপুণসহ নবনির্বাচিত কমিটি আজ বিকাল ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন বলে শিল্পী সমিতির নির্বাচন কমিশনের সদস্য জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন।

শিল্পী সমিতির স্টাডি রুমে শপথের আয়োজন করা হয়েছে।

গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত এই নির্বাচনে ইলিয়াস কাঞ্চনকে সভাপতি এবং জায়েদ খানকে সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পরে নিপুণ জায়েদ খানের বিরুদ্ধে টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার অভিযোগ তোলেন। নিপুণের আপিলে ফল বদলে যায়।

তবে জায়েদ খান আপিল বোর্ডের ফল মেনে নেননি। তিনি আপিল বোর্ডের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়েছেন।

শপথ নেওয়ার পর প্রথমে যা করবেন নিপুণ

বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার এক বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান।

সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চন ও সাধারণ সম্পাদক নিপুণসহ নবনির্বাচিত কমিটি আজ বিকাল ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন বলে শিল্পী সমিতির নির্বাচন কমিশনের সদস্য জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন।

আর দায়িত্ব নিয়েই প্রথমে কী করবেন, সেটাও জানালেন নিপুণ।

বললেন, ‘প্রথম থেকেই আমার যে পরিকল্পনা, আপনারা শুনে এসেছেন সেটা হলো – মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এফডিসিতে নিয়ে আসতে চাই আমি। এটাই আমার এখন প্রথম কাজ। ওনাকে এখানে আনতে হবে। উনি না আসলে এফডিসির অবস্থা ভালো হবে না। যে বিশ্বাস থেকে ভোটাররা আমাকে জয়ী করেছেন, তাদের সে বিশ্বাসটা আমি রাখতে চাই।’

এর আগে শনিবার সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করার পর খুশিতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিপুণ বলেছিলেন, ‘শুধু আমার জয় হয়নি, পুরো বাংলাদেশের জয় হয়েছে। আমার ভোটারদের অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। এজন্য জানাব যে, আজকে যদি ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি হতো, তাহলে কিন্তু বোঝা যেত যে আমি এই জায়গাটার জন্য যোগ্য না। কিন্তু আমাদের ডিফারেন্স ছিল মাত্র অল্প ভোটের।’

এদিকে জায়েদ খান আপিল বোর্ডের ফল মেনে নেননি। তিনি আপিল বোর্ডের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ৩৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম নারী সেক্রেটারি পেলো চলচ্চিত্র শিল্পীরা। দুই বছরের জন্য এই পদে নেতৃত্ব দেবেন অভিনেত্রী নিপুণ।

১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির প্রথম নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন নায়করাজ রাজ্জাক। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন খল অভিনেতা আহমেদ শরীফ৷ সেই থেকে আজকের আগ পর্যন্ত পুরুষরাই সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিসিবির কোচের বিরুদ্ধে ঘুস চাওয়ার অভিযোগ

বাগেরহাটে বিসিবি মনোনীত কোচ আবু তাহেরের বিরুদ্ধে ঘুস চাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেটার মোহাম্মদ নাঈম।

তার দাবি, কোচ দলে সুযোগ দেওয়ার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা ঘুস চেয়েছেন তার কাছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে শনিবার মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে দুপক্ষের উপস্থিতিতে শুনানি হয়। ঘুস চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কোচ তাহের।

কিন্তু বিসিবিতে আসার আগে নাঈমকে ফোন করে কোচ অনুরোধ করেছিলেন ঘুসের বিষয়টি যেন চেপে যাওয়া হয়। তাদের সেই কথোপকথনের রেকর্ড প্রমাণ হিসাবে বোর্ডের কাছে জমা দিয়েছেন নাঈম। বিসিবি পরিচালক ওবেদ নিজাম শুনানি শেষে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এমন কিছু প্রমাণ হলে ছাড় দেওয়া হবে না কোচকে।’

নাঈম বলেন, ‘মিডিয়ায় কোচের বিরুদ্ধে সত্য প্রকাশের পর তিনি কতটা আমাকে দেখভাল করবেন, আপনারাও তা বোঝেন। জেলা দল গঠনের আগে আরও একজনের কাছে ৩০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন কোচ। আমি ভেবেছিলাম মজা করছেন। কারণ আমার এত টাকা দেওয়ার অবস্থা নেই, সেটি সবাই জানে। আমি পারফর্ম করার পরও বাদ পড়ায় বুঝতে পারি টাকা দিতে না পারাই আসল কারণ।’

তিনি বলেন, ‘কোচ অনেকের কাছ থেকেই সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। বোর্ড থেকে কোচকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ওপেনার হিসাবে কাকে রাখা হয়েছে। কোচ বললেন, উইকেটকিপার রাখা হয়েছে। উইকেটকিপার তো ওপেনার না, চার-পাঁচে ব্যাট করে। কোচ তখন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান।’

ঢাকায় আসার পথেও বাসে এক ব্যক্তি নাঈমকে চড় মেরেছেন। সে কার লোক, বুঝতে পারেননি। গরিব বাবা-মায়ের সমর্থন না থাকার পরও স্বপ্নের পেছনে ছুটতে পালিয়ে ক্রিকেট খেলেন নাঈম। তিনি বলেন, ‘পরিবারের কোনো সমর্থন পাইনি। বাড়ি থেকে পালিয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করি। স্বপ্ন, হয়তো জাতীয় দলে খেলব। আমার পরিশ্রম দেখে অনেকে পাগলও বলে।’ বিসিবি নাঈমকে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার জন্য বললেও দলে ফেরানোর ব্যাপারে আশ্বাস দেয়নি।

ছোটদের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ভারত

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে শনিবার রাতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করেছে ভারত।

এর মাধ্যমে পঞ্চমবারের মত যুব বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলল দেশটি।

এর আগে ২০২০ বিশ্বকাপের ফাইনালেও খেলে ম্যান ইন ব্লুরা। তবে সেবার বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। কিন্তু দুই বছর বাদেই ফাইনালে উঠে শিরোপা জয় করল তারা।

এন্টিগায় স্যার ভিভ রিচার্ড স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংলিশরা। আর আগে ব্যাট করে ৪৪.৫ ওভার খেলে মাত্র ১৮৯ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

জবাবে ভারত ৪৭.৪ ওভার খেলে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌছে যায়। ম্যাচটিতে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ সমান ৫০ রান করে করেন শেখ রাশেদ ও নিশান সিন্ধু। ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে কম ২৪ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন জসুয়া বয়ডেন।

এর আগে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যেও ম্যাচটিতে ইংলিশ মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যান জেমস র দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৯৫ রান করেন। ৯৫ রান করতে তিনি খেলেন ১১৬টি বল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যান জেমস জেলস। তিনি ৬৫ বল খেলে ৩৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

দলের ওপেনার ও মিডল অর্ডারের অন্য ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হওয়ায় ইংল্যান্ড অল্পতেই থামে।

ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৫টি উইকেট তুলে নেন রাজ বাওয়া। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন রবি কুমার। এই দুইজনের বোলিং তোপেই কুপোকাত হয় ইংলিশরা।

মাত্র ৩১ রান দিয়ে ৫টি উইকেট তুলে নেওয়ায় ফাইনালে ম্যান অব দি ম্যাচের পুরষ্কার জিতেছেন রাজ বাওয়া।

‘দলকে জেতাতে না পারলে আগভাগে আউট হয়ে যাও’

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এ মুহূর্তে এক নম্বর ব্যাটার বাবর আজমের ব্যাটিং নিয়ে সন্তুষ্ট নন তার স্বদেশি কিংবদন্তি ইনজামাম-উল হক।

পাকিস্তান অধিনায়কের ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে এ সাবেক তারকা বলেছেন, দলকে জেতাতে না পারলে আগভাগে আউট হয়ে যেতে।

এ মুহূর্তে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) করাচি কিংসের হয়ে খেলছেন বাবর। দলটির অধিনায়ক তিনি।

গত ৪ জানুয়ারি পেশোয়ার জালমির বিপক্ষে বাবর আজমের ব্যাটিং পারফরম্যান্স ভালো লাগেনি ইনজামামের।

সে ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৭৩ রান তুলেছিল পেশোয়ার। ১৭৪ রানের তাড়ায় পুরো ২০ ওভার খেলে ৯ রানে হারে করাচি। ৬ উইকেটে ১৬৪ রানে থেমেছে করাচির ইনিংস। ম্যাচে ওপেনিংয়ে নেমে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করে অপরাজিত থাকেন করাচির অধিনায়ক বাবর আজম।

কিন্তু দলকে জেতাতে পারেননি তিনি। ৬৩ বলে ৯০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

কিন্তু দলকে জেতাতে না পারায় বাবরের সমালোচনা করেন পাকিস্তানের এই সাবেক অধিনায়ক।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘জিয়ো নিউজ’-এর অনুষ্ঠান ‘জশন-ই-ক্রিকেট’কে ইনজামাম বলেন, ‘তুমি যদি বিশ্বের ১ নম্বর ক্রিকেটার হও এবং পুরো ২০ ওভার উইকেটে থাকো, তা হলে ম্যাচটা শেষ করে আসা উচিত। তা না পারলে আগভাগে আউট হয়ে যাও।’

শেষ ওভারে করাচির প্রয়োজন পড়ে ২৯ রান। বাবর ওই ওভারে চারটি চার হাঁকালে দলে রান যুক্ত হয় ১৯।

ইনজামামের প্রশ্ন— ১৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে বাবর উইকেটে থাকতেও করাচিকে শেষ ২ ওভারে কেন ৪৩ রান তাড়া করতে হবে।

কমেছে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ, বেড়েছে দাম

বৃষ্টির কারণে দিনাজপুরে হিলির পাইকারি ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ছয় টাকা। হঠাৎ করে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ।

এদিকে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

রোববার হিলি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।

পেঁয়াজ কিনতে আসা মাজহারুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, গত দুদিন আগেই দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ২০ টাকা। সেই পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা দরে। হঠাৎ দাম বৃদ্ধির কারণে পেঁয়াজ কিনতে এসে বিপাকে পড়তে হচ্ছে আমার মতো সাধারণ ক্রেতাদের।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা শাকিল মাহমুদ যুগান্তরকে জানান, ভারত থেকে আগের মতো আর পেঁয়াজ আসছে না। যার কারণে দেশি পেঁয়াজের চাহিদা অনেকটাই বেড়ে গেছে। বর্তমানে হিলির বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে, সেই সঙ্গে বৃষ্টির কারণে দুদিন থেকে আড়ৎগুলোতে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহও কমে গেছে। এতে দাম কিছুটা বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে দাম আবারও কমে আসবে। দাম বাড়ার কারণে বেচাকেনাও কমে গেছে।

পেন্টাগনে অনধিকার প্রবেশে গ্রেফতার মুরগি!

মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের নিরাপত্তার ফাঁক গলে ঢুকে পড়েছিল একটি মুরগি।

তা নিয়েই তুমুল হইচই পড়ে যায় পেন্টাগনে। অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে সেই মুরগিটিকে। খবর দ্যা গার্ডিয়ানের।

পেন্টাগন এবং আশপাশের এলাকা নিরাপত্তাবেষ্টনীতে মোড়া। কাক-পক্ষীতেও সেই নিরাপত্তার নজর এড়িয়ে ঢুকে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

যে নিরাপত্তাবেষ্টনীকে কোনো মানুষ ভাঙতে পারে না,আশ্চর্যজনকভাবে সেই বেষ্টনীকেই বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিব্যি পেন্টাগনের ভেতরে ঢুকে পড়ায় শোরগোল পড়ে যায়।

আমেরিকার নিরাপত্তাসংক্রান্ত সদর কার্যালয়ে গত সোমবার সেই মুরগিটি উদ্ধার করা হয়েছে।

একটি প্রাণী সংস্থাকে এর পর ডাকা হয়। তার পর তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘আসামি’কে। মুরগিটির একটি নামও দিয়েছেন পেন্টাগনের কর্মীরা। নাম দেওয়া হয়েছে ‘হেনি পেনি’।

বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু

চট্টগ্রাম বন্দর ও ইউরোপের বন্দরের মধ্যে শুরু হয়েছে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চলাচল। এর ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যোগ হলো নতুন মাত্রা। সাশ্রয় হবে সময় ও অর্থ। ইউরোপের বাজারে পণ্য রপ্তানি হবে সহজতর।

বাংলাদেশ-ইতালি সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চলাচল শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ইউরোপ সমুদ্র বাণিজ্যে খুলে গেল নতুন দুয়ার।

আগে ইউরোপে পণ্য রপ্তানি হতো ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের মাধ্যমে। সেখানে বেশ সময় ব্যয় হতো। কখনো কখনো যথাসময়ে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হতো না।

সমুদ্রপথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হওয়ায় এখন থেকে আর ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ধকল পোহাতে হবে না। ইউরোপের বাজারে পণ্য পাঠাতে আগে যেখানে এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত সময় লাগত, এখন সেখানে লাগবে ১৭ দিন। খরচও কমবে প্রায় ৪০ শতাংশ।

শনিবার দুপুর ১টার দিকে ইতালি থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-৪ জেটিতে ভিড়ে এ রুটের প্রথম জাহাজ ‘এমভি সোঙ্গা চিতা’।

গত ১৭ জানুয়ারি এটি ইতালির রেভেনা বন্দর থেকে রওনা দেয়। আসার সময় জাহাজটি নিয়ে এসেছে প্রায় ৯০০টি খালি ও সাতটি পণ্যবোঝাই কনটেইনার।

ইউরোপের ক্রেতাদের কেনা বাংলাদেশের গার্মেন্টপণ্য নিতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। এখান থেকে তৈরি পোশাকবোঝাই ৯৮৩ কনটেইনার নিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি ইতালির রেভেনা বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে জাহাজটির। সেখান থেকে ক্রেতারা নিজ নিজ পণ্য নিয়ে যাবেন। এ জাহাজে জার্মানির ক্রেতাদের পণ্যও রয়েছে। তারা ইতালি থেকে এগুলো সড়কপথে নিয়ে যাবেন।

এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ইতালি থেকে চট্টগ্রামে সরাসরি জাহাজ আসে। তাতে সফল হওয়ার পর শনিবার থেকে শুরু হলো পণ্য পরিবহণ।

সমুদ্রপথে দেশের আমদানি রপ্তানির প্রায় ৯২ শতাংশই হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে শীর্ষে আছে তৈরি পোশাক; যার বেশিরভাগই যায় ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, ইতালি থেকে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়েছে। পোশাক রফতানির গুরুত্ব বিবেচনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতালি-চট্টগ্রাম রুটের জাহাজকে বার্থিং, কি গ্যান্ট্রি ক্রেন বরাদ্দসহ সব সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেবে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপের সঙ্গে চট্টগ্রামের সরাসরি জাহাজ যোগাযোগ এই প্রথম। এতে সুফল পাবেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা। সরাসরি জাহাজ যোগাযোগ হলে মাঝখানে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে যে সময় ব্যয় হতো, তার আর প্রয়োজন হবে না। আমাদের রপ্তানিকারকরা কম সময়ে পণ্য পৌঁছাতে পারবেন ইউরোপের বাজারে। এ থেকে তারা লাভবান হবেন। দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে। দেশের সার্বিক উন্নতির এটা একটা মাইলফলক।

সমুদ্র-বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা জানান, এতদিন চট্টগ্রাম থেকে ফিডার জাহাজ রপ্তানি পণ্য নিয়ে যেত সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাংয়ের মতো ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে। সেখান থেকে বড় জাহাজে তুলে সেই পণ্য নিয়ে যাওয়া হতো ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে। চট্টগ্রাম থেকে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে পাঠানো এবং সেখান থেকে পুনরায় ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছাতে সময়ক্ষেপণ ও ব্যয় বেশি হতো।

এ পদ্ধতিতে ইতালিতে পণ্য যেতে স্বাভাবিকভাবে সময় লাগে প্রায় এক মাস বা তারও বেশি। ট্রন্সশিপমেন্ট বন্দরে বড় জাহাজে বুকিং পেতে দেরি হলে লাগে দেড় মাস পর্যন্ত। অথচ সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে সময় লাগে মাত্র ১৭ দিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যে জাহাজটি শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে তা পাঠিয়েছেন মূলত তৈরি পোশাক ক্রেতারা। বড় রফতানিকারক ও বায়াররা জোট করেই এ রুটে আপাতত জাহাজ আনবেন বলে জানা গেছে। করোনার স্থবিরতায় জাহাজ সংকটসহ নানা জটিলতায় বাংলাদেশের উৎপাদিত গার্মেন্টপণ্য বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পাঠাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরে। এ অবস্থায় ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট বাংলাদেশ থেকে পণ্য নিতে নিজেরাই জাহাজ পাঠাতে রাজি হয়েছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে ইউরোপের সরাসরি জাহাজ চলাচল একটা বড় অর্জন। এখন ১৬-১৭ দিনে ইউরোপে পণ্য পৌঁছে যাবে। তাই খরচ কমে আসবে। সময় মতো ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠানো সম্ভব হবে। আসার সময় এই রুটের জাহাজগুলো খালি কনটেইনার নিয়ে আসতে পারবে। তাই কনটেইনারের সংকটও হবে না।

তিনি জানান, তৈরি পোশাকের বড় বায়াররা একত্রিত হয়ে সার্ভিসটি দিয়েছে। আপাতত এভাবেই এ রুটে জাহাজ চলবে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, প্রাথমিক অবস্থায় একটি বিদেশি শিপিং কোম্পানির দুটি জাহাজ এই রুটে চলাচল করবে। এর একটি হলো এমভি সোঙ্গা চিতা ও অপরটি ক্যাপ ফ্লোরেস। প্রতি মাসে অন্তত একটি করে ট্রিপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। রুটটি জনপ্রিয় হলে পর্যায়ক্রমে তারা আরও জাহাজ বাড়াতে পারে।

এমনকি ইউরোপের অন্যান্য বন্দরেও সরাসরি পণ্য নিয়ে যেতে পারে। অন্য শিপিং কোম্পানিও জাহাজ চালাতে পারে।

জাহাজ দুটির লোকাল এজেন্ট রিলায়েন্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ জানান, ইউরোপের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ যোগাযোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হয়ে চট্টগ্রাম থেকে ইউরোপে কনটেইনার পাঠাতে সময় লাগে ৪০ দিন। সরাসরি পাঠাতে লাগবে ১৭ দিন। এর ফলে খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ কমে আসবে। তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে জাহাজ ভাড়া বিদেশি ক্রেতাই বহন করে থাকে। তাই কোন জাহাজে পণ্য পাঠানো হবে তা নির্ভর করে ক্রেতার পছন্দ-অপছন্দের ওপর।

আসার সঙ্গে সঙ্গে এমভি সোঙ্গা চিতাকে বার্থিং দেওয়ায় ইউরোপসহ বহির্বিশ্বে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে জানান তিনি।

করোনা-পরবর্তী ব্যাংক ব্যবস্থাপনা

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণ হলো ব্যাংক ব্যবস্থাপনা। এই ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো প্রত্যক্ষভাবে অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করে। আমাদের দেশে বর্তমান সময়ে তফশিলভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৬১। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা ৫৫। এই ৫৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ৯টি হলো বিদেশি। ৪৬টি দেশীয় ব্যাংকের মধ্যে ৪০টি বেসরকারি ও ৬টি সরকারি ব্যাংক হিসাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

ব্যাংকগুলোয় মোট আমানতকারী গ্রাহকের সংখ্যা ১২ কোটি ৩৫ লাখ। তবে একই গ্রাহকের একাধিক ব্যাংকে কিংবা একই ব্যাংকে একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকায় প্রকৃত গ্রাহকের সংখ্যা আরও কম হবে। এই বিপুলসংখ্যক গ্রাহক স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলোয় যে পরিমাণ আমানত জমা করেছেন, তার পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ কোটি টাকা। এই আমানত থেকেই ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ঋণ দিয়ে থাকে। এসব ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে কাজ করে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নামে পরিচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়া হিসাবের সংখ্যা হলো ১ কোটি ১৭ লাখ ১১ হাজার টাকা।

তবে এখানেও প্রকৃত সংখ্যা অনেক কম হবে। কারণ, একই গ্রাহক কিংবা প্রতিষ্ঠান একই নামে একাধিক হিসাব থেকে ঋণ নিয়েছে। বিভিন্ন জরিপ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশেরও কম মানুষ ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসেছে। আর ঋণ পাওয়া জনগোষ্ঠীর হার ৫ শতাংশেরও কম। ব্যাংক ব্যবস্থাপনার এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কারণেই এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল খাত। এ খাতের যে কোনো ভালো-মন্দ আমাদের আশা-নিরাশার দোলায় দোলাতে চায়। আমাদের স্বস্তি ও অস্বস্তির মধ্যে ফেলে। আমাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

করোনা অতিমারির কারণে ২০২০ সালের প্রায় পুরো সময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হওয়া সত্ত্বেও সারা দেশের ব্যাংকগুলোয় আমানত প্রবৃদ্ধির হার ছিল উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ২০২০ সালের জুলাই-নভেম্বরে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছিল ৮৬ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। আমানতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫৮ শতাংশেরও বেশি। কিন্তু ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সাল অনেকটাই কর্মমুখর ছিল। তা সত্ত্বেও আমানত বৃদ্ধির হার কমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০২১ সালের জুলাই-নভেম্বরে ব্যাংকগুলোয় আমানত বেড়েছে মাত্র ৪২ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে ২০২০ সালের তুলনায় আমানত প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় ৫১ শতাংশ। ২০২০ সালে একই সময়ে মেয়াদি আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩৯ শতাংশ। কিন্তু ২০২১ সালে এসে তা কমেছে প্রায় ৪১ শতাংশ। এটি একটি পরস্পরবিরোধী চিত্র। যখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির ছিল, তখন আমানত বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে, আর যখন অর্থনীতি সচল হয়ে ওঠে, তখন তা কমে যায়-এটি মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়া এর একটি কারণ হতে পারে।

দ্বিতীয় কারণটি উদ্বেগের। তাদের মতে, অর্থ পাচার বেড়ে যেতে পারে। এখন অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে ব্যবসা করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বড় ব্যবসায়ী তো বটেই, মাঝারি ও ছোট ব্যবসায়ীরাও এখন ক্ষেত্র হিসাবে দুবাইকে পছন্দ করছেন। সেখানে বিনিয়োগের জন্য টাকা পাচার হতে পারে। তাছাড়া সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও ব্যবসায়ীদের পছন্দের তালিকায় আছে। বড় ব্যবসায়ীরা আমদানি-রপ্তানি পণ্যের আড়ালে অর্থ পাচার করছেন, আর মাঝারি ও ছোট ব্যবসায়ীরা হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমগুলো এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলছে, সম্প্রতি দেশে খুচরা বাজারে (কার্ব মার্কেট) মার্কিন ডলারের দাম ৯২ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। অথচ ব্যাংকগুলোয় প্রতি ডলারের বিনিময় হার হলো ৮৬ টাকা। ব্যাংক খাতের সঙ্গে খুচরা বাজারে ডলারের দামের এই বড় ধরনের তারতম্যের সঙ্গে অর্থ পাচারের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমানতের উচ্চ প্রবৃদ্ধি থমকে যাওয়া সম্পর্কে ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। সরকার বিলবন্ডের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বাড়িয়েছে। ডলারের তীব্র চাহিদা মেটাতে অর্থবছরের প্রথমার্ধেই ব্যাংকগুলোর কাছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মাধ্যমে বাজার থেকে সমপরিমাণ টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক তুলেও নিয়েছে। এসব কারণে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। আমানতের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য হলো, ২০২১ সালের নভেম্বরে ব্যাংক খাতে মেয়াদি ও তলবি আমানতের পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা ছিল মেয়াদি আমানত। আর তলবি আমানত ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ১০৪ কোটি টাকা।

২০২০ সালে আমানতের এই উল্লম্ফনের কারণে তারল্য বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোয় অলস টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো আমানতি সুদ বহন করতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যায়। তারা আমানতের ওপর সুদহার কমাতে কমাতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে ফেলে। তিন মাস মেয়াদি আমানতের সুদহার ৩ শতাংশেরও নিচে নামিয়ে ফেলে। সরকার তখন আমানতকারীদের পক্ষে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত দেয় যে, আমানতি সুদের হার কোনোক্রমেই বার্ষিক মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম করা যাবে না। ধারণা করা হয়েছিল, তাতে ব্যাংক আমানত বাড়বে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। অনেকে মনে করেন, করোনাকালে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কম হওয়ায় টাকা ব্যাংকে জমা ছিল। তাছাড়া ২০২০ সালে মানুষের পারিবারিক ব্যয়ও কমে গিয়েছিল, যা এখন অনেক মাত্রায় বেড়েছে। আমানত কমে যাওয়ার এটাও একটি কারণ। ব্যাংক খাতে সুদের হার কমে যাওয়ায় অনেকেই পুঁজিবাজারের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ব্যাংক থেকে মেয়াদি আমানত তুলে নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। এর পক্ষে যুক্তি হলো, ২০২০ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দৈনিক গড়ে লেনদেন যেখানে ছিল ৬৪৮ কোটি টাকা, সেখানে ২০২১ সালে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা।

ব্যাংক ব্যবস্থাপনার দ্বিতীয় অস্বস্তির খবর হলো, দিনদিন প্রতিষ্ঠানগুলো বড় বড় গ্রাহকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ছে। বড় ধরনের ঋণের ঝুঁকিতে আছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংক তার ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি অ্যাসিসমেন্ট রিপোর্টে বলছে, এ মুহূর্তে দেশের ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো শীর্ষ গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের অর্থ আদায় করা। পরিস্থিতি এমন যে, শীর্ষ মাত্র তিন গ্রাহক যদি খেলাপি হয়ে যায়, তাহলে ১৬টি ব্যাংক তার ন্যূনতম মূলধন সক্ষমতা হারাবে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ তো বছর বছরই বাড়ছে। সেক্ষেত্রে যদি আর মাত্র ৩ শতাংশ খেলাপি ঋণ বাড়ে, তাহলে চারটি ব্যাংকের মূলধন সক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। আবার সর্বোচ্চ ঋণ স্থিতি থাকা খাতের খেলাপি ঋণ যদি ৩ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে অন্তত তিনটি ব্যাংক তার ন্যূনতম মূলধন সক্ষমতা হারাবে। সুতরাং বড় বড় গ্রাহকের আচরণের ওপর পুরো ব্যাংক খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

এই বড় যে কত বড়, তা একটি উদাহরণ দিলেই বোঝা যাবে। দেশে এমনও বড় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেটি একাই ৩০-৩৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছে। দেশের ব্যাংকগুলো থেকে বিতরণকৃত মোট ঋণের ৬৬ শতাংশই মাত্র ১০০টি প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত। এই বড় বড় গ্রাহককে সামাল দিতেই ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা ব্যতিব্যস্ত। তাদের মতে, ‘ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কর্মঘণ্টার বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে শীর্ষ গ্রাহকদের ঋণ নিয়মিত রাখার স্বার্থে। ঋণ নিয়মিত দেখানোর জন্য নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করেই এ ধরনের গ্রাহকদের অবারিত সুযোগ দিচ্ছে ব্যাংক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শুধু ঋণ দেওয়ার জন্যই ব্যাংকারদের সহযোগিতায় নিত্যনতুন কোম্পানি খোলা হচ্ছে। নতুন ঋণ দিয়ে পুরোনো ঋণের সুদ আদায় দেখানো হচ্ছে। পুনঃতফশিলসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিনিয়ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বড় গ্রাহকদের ঋণের নথি পাঠাচ্ছে ব্যাংক। এসব ফাইল পর্যালোচনা ও অনুমোদন দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।’

বড় বড় গ্রাহকের সুদ মওকুফ এখন ব্যাংক খাতের একটি নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি একাধিক সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক বড় কয়েকজন গ্রাহকের হাজার হাজার কোটি টাকার সুদ মওকুফ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। একথা ঠিক যে, যেহেতু বড় গ্রাহকরা মুনাফার বড় অংশের জোগান দেয়, স্বাভাবিক কারণেই তাদের নিয়ে দৌড়ঝাঁপ বেশি। কিন্তু বিপরীতভাবে এটাও মনে রাখতে হবে, একজন বড় গ্রাহক ঋণখেলাপি হলে ব্যাংক যতটা ঝুঁকিতে পড়ে, ছোট ১০০ গ্রাহক খেলাপি হলেও ঝুঁকির পরিমাণ তার চেয়ে কম থাকে।

বড় গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকব্যবস্থা জিম্মি হয়ে পড়াটা একটি জাতীয় সমস্যা বলে অনেকে মনে করেন। এর সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি আমরা।

মুঈদ রহমান : অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ব^বিদ্যালয়