শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 475

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চমক, ধরাশায়ী আ.লীগ

এবারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়ের ক্ষেত্রে গতবারের তুলনায় চমক দেখালেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তাদের কাছে এক রকম ধরাশায়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা।

সাত ধাপে ঘোষিত ফলাফলে মোট চার হাজার ৫০টি ইউপির মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন এক হাজার ৭৮৯টিতে। এ হিসাবে ৪৪ শতাংশই তাদের নিয়ন্ত্রণে।

অথচ পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সাল অনুষ্ঠিত চার হাজার ১০৪টি ইউপির মধ্যে তারা জিতেছিলেন ৮৮৯টিতে। এই সময়ের ব্যবধানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দ্বিগুণের বেশি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন।

সর্বশেষ সোমবার অনুষ্ঠিত সপ্তম ধাপের নির্বাচনে ১৩৪টির মধ্যে ৮৬টিতেই স্বতন্ত্ররা জয়ী হোন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতেছেন ৪০টিতে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এ নির্বাচনে। এছাড়া বিএনপি দলীয় প্রতীকে অংশ না নিলেও দলটির অনেক নেতাকর্মী স্বতন্ত্র হিসাবে নির্বাচন করেন।

স্বতন্ত্রদের জয়ের পাল্লা ভারী হওয়ার প্রভাব পড়েছে নৌকা প্রতীকে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ফলাফল ভালো নয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, গতবার বিএনপি ভোটে ছিল, কিন্তু দলটি এবার নেই।

সেই হিসাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের গতবারের তুলনায় অধিকসংখ্যক পদে জয়ী হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি। এবার দলটির প্রার্থীরা দুই হাজার ১৯০টিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

পক্ষান্তরে ২০১৬ আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতেছিলেন দুই হাজার ৬৫২টিতে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। আরও দেখা গেছে, গত বছরের ২১ জুন থেকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত ধাপে ভোট হয়।

এসব ধাপে চার হাজার ১১১টি ইউনিয়ন পরিষদের তফশিল ঘোষণা করা হয়। গতকাল পর্যন্ত ফল প্রকাশ হয়েছে চার হাজার ৫০টির। বাকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

এই ফলাফলে জাতীয় পার্টি ৪৪টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৮টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ৭টি ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ২টি ইউনিয়ন পরিষদে জয় পেয়েছেন।

এছাড়া খেলাফত মজলিশ ১টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ২টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ৩টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ২টি ও জাকের পার্টি ১টিতে জয় পেয়েছেন।

ইসি সূত্র জানায়, সদ্যসমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিনা ভোটে জয়ের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এবার ৩৭১ জন চেয়ারম্যান ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৬৫ জনই আওয়ামী লীগের। বাকি ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

গতবারের তুলনায় এবার ভোটও কম পড়েছে। ২০১৬ সালে ভোট পড়ার হার ছিল ৭৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। এবার ভোট পড়েছে গড়ে ৭১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

তবে গত নির্বাচনের চেয়ে এবার সহিংসতায় মৃত্যুর সংখ্যা কম। ইসির হিসাবে এবার নির্বাচনে মারা গেছেন ১০০ জন। অপরদিকে ২০১৬ সালে নির্বাচনি সহিংসতা মারা যান একশ জনের বেশি।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৬ সালে প্রথমবার দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপিও দলীয় প্রতীকে ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে অংশ না নেওয়ায় একদিকে বিনা ভোটে জয়ী প্রার্থীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিল।

এছাড়া বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী স্বতন্ত্রভাবে এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া করোনার প্রভাবেও ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। এসব কারণে এবারের ফলাফলে বেশ কিছু চমক এসেছে।

পাঁচ বছরের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের এমন ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় বিএনপি-জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধীরা নৌকার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

তাদের লক্ষ্যই ছিল নৌকাকে হারানো। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মী। সুতরাং নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী জয়ের সংখ্যা কমলেও দলীয় ভোটের সংখ্যা কমেনি।

তিনি বলেন, এ নির্বাচন প্রমাণ করেছে এই সরকারের অধীনেই বিপুলসংখ্যক মানুষ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। দলীয় সরকারের অধীনে ভোটে বিমুখতার যে অপপ্রচার চালানো হয়-তা অসত্য প্রমাণিত হয়েছে।

একইসঙ্গে সরকারের সফলতা হচ্ছে মানুষ কেন্দ্রে গিয়ে উৎসব-উদ্দীপনা নিয়ে কেন্দ্রে গেছেন-সেই পরিবেশ বজায় রাখতে পেরেছে।

প্রার্থী বাছাইয়ে ত্রুটিসহ কয়েকটি কারণে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ধরাশায়ী হয়েছেন বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এ নির্বাচনে প্রকাশ্যে মাঠে ছিল না। ফলে নির্বাচনের মাঠ একচেটিয়াভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দখলেই ছিল।

প্রার্থী বাছাইয়ে ত্রুটি, নির্বাচনের মাঠে প্রশাসনসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রভাব ও আন্তঃকোন্দলসহ কয়েকটি কারণে সরকারি দলের প্রার্থীরা আশানুরূপ জয় পাননি।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ফল : এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এক হাজার ৭৮৯টিতে জয় পেয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৮৮ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৩৩০ জন, তৃতীয় ধাপে ৪৪৬ জন, চতুর্থ ধাপে ৩৯৮ জন, পঞ্চম ধাপে ৩৪৬ জন, ষষ্ঠ ধাপে ৯৫ জন এবং সপ্তম ধাপে ৮৬ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

পঞ্চম ও সপ্তম ধাপে আওয়ামী লীগের তুলনায় স্বতন্ত্ররা বেশি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন। এবার ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

বাকি এক হাজার ৭৮৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চেয়ারম্যান হয়েছেন। ২০১৬ সালে স্বতন্ত্ররা জয়ী হয়েছিলেন ৮৮৯টিতে। ওই হিসাবে এবার দ্বিগুণের বেশি ইউনিয়ন পরিষদে জয় পেলেন তারা।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা প্রথম ধাপে ২৬৮ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৪৮৫ জন, তৃতীয় ধাপে ৫২৮ জন, চতুর্থ ধাপে ৪১১ জন, পঞ্চম ধাপে ৩৪১ জন, ষষ্ঠ ধাপে ১১৭ জন এবং সপ্তম ধাপে ৪০ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে দলটির দুই হাজার ১৯০ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

তাদের মধ্যে ৩৬৫ জন বিনা ভোটে জয়ী হয়েছেন। বাকি এক হাজার ৮২৫ জন লড়াই করে জিতেছেন। অথচ ২০১৬ সালে দলীয় প্রতীকে প্রথমবার অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের দুই হাজার ৬৫২ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের রেকর্ড : এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে নির্বাচন কমিশন। সাত ধাপে ৩৭১ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।

এ ছাড়া কয়েক হাজার সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই জয়ী হয়েছেন। এ হিসাবে এবার ৯ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না।

এর আগে ২০১৬ সালে চেয়ারম্যান পদে মাত্র ২০৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন; যা ভোট হওয়া মোট ইউনিয়ন পরিষদের মাত্র ৫ শতাংশ।

এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপে ৭১ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৮১ জন, তৃতীয় ধাপে ১০০ জন, চতুর্থ ধাপে ৪৮ জন, পঞ্চম ধাপে ৪৮ জন, ষষ্ঠ ধাপে ১২ জন ও সপ্তম ধাপে ১১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন।

সহিংসতায় একশ মানুষের মৃত্যু : এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপিসহ সমমানের অনেক রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। গতবারের চেয়ে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশি সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়।

তবুও এ নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব হিসাবেই সাত ধাপে সহিংসতায় একশ মানুষের মৃত্যুর তথ্য উঠে এসেছে। সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় দ্বিতীয়, তৃতীয় ও পঞ্চম ধাপে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে পাঁচজন, দ্বিতীয় ধাপে ৩০ জন ও তৃতীয় ধাপে ২৬ জনের প্রাণহানি হয়। চতুর্থ ধাপে ১০ জন, পঞ্চম ধাপে ২৩ জন, ষষ্ঠ ধাপে চারজন এবং সপ্তম ধাপে দুজন নিহত হন।

তবে বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিহতের সংখ্যা দেড়শর বেশি। নির্বাচনে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হলেও এর দায় নিতে রাজি হয়নি কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। সিইসি ও ইসি সচিব বারবার তাদের বক্তব্যে এর দায় রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, তাদের সমর্থকদের ওপর চাপিয়ে আসছে।

ইসি সূত্র জানায়, গতবারের চেয়ে এবার নির্বাচনে বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। তবুও সহিংসতা ঠেকানো যায়নি।

হতাহতের সংখ্যা কমাতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে প্রথম থেকে পঞ্চম ধাপ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রের পাহারায় অন্তত ৮৬ হাজার ৬৯৮ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এ ছাড়া মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে ৬৩ হাজার ৫৩০ জন পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল।

র‌্যাবের সদস্য ছিল ১২ হাজার ২৬ জন এবং বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সদস্য ছিল ৪১ হাজার ৯০ জন। ষষ্ঠ ও সপ্তম ধাপেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

কমেছে ভোট পড়ার হার : পাঁচ বছরের ব্যবধানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার পাঁচ শতাংশ কমেছে। ২০১৬ সালে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৭৬ দশমিক ৫২ শতাংশ।

অপরদিকে এবার ভোট পড়েছে গড়ে ৭১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এবার প্রথম ধাপে ৬৭ দশমিক ০৪ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৭৩ দশমিক ৬১ শতাংশ, তৃতীয় ধাপে ৭৪ দশমিক ২১ শতাংশ, চতুর্থ ধাপে ৭২ দশমিক ৪১ শতাংশ, পঞ্চম ধাপে ৭৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ষষ্ঠ ধাপে ৬৭ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং সপ্তম ধাপে ৬৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।

অপর দিকে ২০১৬ সালে প্রথম ধাপে ৭৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৭৯ দশমিক ০৮ শতাংশ, তৃতীয় ধাপে ৭৬ দশমিক ৮১ শতাংশ, চতুর্থ ধাপে ৭৭ দশমিক ০৯ শতাংশ, পঞ্চম ধাপে ৭৬ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ষষ্ঠ ধাপে ৭৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল।

সপ্তম ধাপের ফলাফল : সোমবার সপ্তম ধাপে ১৩৬টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। সহিংসতার কারণে চারটি ইউনিয়ন পরিষদের ফল স্থগিত রয়েছে। বাকি ইউপির মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৮৬টিত জয়ী হয়েছেন।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জিতেছেন ৪০টিতে। এর মধ্যে ১১টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছেন দলটির প্রার্থীরা।

এই সংখ্যা বাদ দিলে মাত্র ২৯টি ইউপিতে ভোট করে নৌকার প্রার্থীরা জিতেছেন। এ ধাপে তিনটি ইউপিতে জাতীয় পার্টি ও একটিতে জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থীরা জিতেছেন। এ ছাড়া চারটি ইউপির ফলাফল স্থগিত রয়েছে।

এ ধাপে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউপিতে। এই ইউপিতে ভোট পড়েছে ৯১.৪১%।

এখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী জিহাদ মন্ডল ১৫ হাজার ৫৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র মুক্তার হোসেন মন্ডল পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৫২ ভোট।

অপপ্রচারের জবাব দিতে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছানো ও বিরোধীদের অপপ্রচারের জবাব দিতে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আওয়ামী লীগের বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের সদস্যরা কাজ শুরু করবেন।

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলনের মাধ্যমে দলকে তৃণমূল পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের মিথ্যা ও অপ্রচারের জবাব দেবেন তারা।

মঙ্গলবার বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সভায় এমন নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় দলের সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যেসব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন এখনো বাকি আছে সেগুলো দ্রুত সম্মেলনের মাধ্যমে ঢেলে সাজানোর নির্দেশনা দেন। ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে করোনার বিধিনিষেধ রয়েছে। এই সময়ের পরে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আট বিভাগের জন্য গঠিত আট সাংগঠনিক টিমের সদস্যরা তাদের কাজ শুরু করবেন।

সভায় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক বিভাগে যাওয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সংগঠনকে তৃণমূল পর্যন্ত সম্মেলনের মাধ্যমে ঢেলে সাজাতে হবে। এর মধ্য দিয়ে দলের ভেতরে যেসব আগাছা আছে, তা উপড়ে ফেলতে হবে। নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকলে তা দূর করে তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের মিথ্যা ও অপ্রচারের জবাব দিতে হবে। মানুষের কাছে গিয়ে সত্যটা তুলে ধরতে হবে।

সভায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ কয়েকটি উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় এসব নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ অন্য সব নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় বিদ্রোহী বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি আগের মতোই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করেছে, তারা আগামীতে কোনো নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পাবে না। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদেও তাদের রাখা হবে না। দলের তো একটা শৃঙ্খলা থাকতে হবে। দলের সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে চলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বিকাল সাড়ে চারটায় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্যাহ, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ড. আবদুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটির কাছে নাম জমা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কীভাবে এই নাম পাঠানো যায় তা সবার কাছে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, সবার কাছ থেকে ১০টি করে নাম নেওয়ার। এ সময় তাদের ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর প্রত্যেক সদস্য কাগজে লিখে ১০টি করে নাম দলীয় সভাপতির কাছে জমা দেন। প্রস্তাবকৃত নামের মধ্য থেকে কমন নাম পাঠানো হবে বলে জানানো হয়। তবে উপস্থিত নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন-নাম পাঠানোর বিষয়ে আপনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই চূড়ান্ত।

সূত্র জানায়, পৃথক পৃথক নাম দেওয়া হলেও ৪০-৪৫ জনের তালিকা দলীয় সভাপতির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই নাম থেকে ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা পাঠানো হবে সার্চ কমিটিতে। ইসিতে বসাতে যেসব নাম পাওয়া গেছে এসবগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন-সাবেক প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি, সাবেক সচিব, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্টজনরা।

সভায় র‌্যাপিট অ্যাকশন বাটিলিয়ন-র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনে র‌্যাবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যরা আমেরিকার বিচারবহির্ভূত হত্যার চিত্র তুলে ধরে বলেন, তারা যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন এটার যৌক্তিকতা নেই। বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা বলেন, র‌্যাবের এই বিষয়টি নিয়ে আমরা দেশে ও দেশের বাইরে যখন কথা বলব তখন সবাইকে বোঝাব। র‌্যাবের দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য দেশে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দমন হয়েছে। এটা করলে (নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে) তো আবার এগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

সভায় সভাপতিমণ্ডলীতে জায়গা পাওয়া নতুন তিন সদস্য-এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন ড. আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান।

দেশ বদলে দিয়েছি জনগণ আমাদেরই ভোট দেবে : এর আগে সভার সূচনা বক্তব্যে আগামী নির্বাচনেও দেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে আশা করি জনগণ আমাদের ভোট দেবে। কারণ একটা দেশকে আমরা বদলে দিয়েছি। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, জনগণের ওপর আমাদের আস্থা আছে। করোনা মহামারি মোকাবিলায় তার সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা বৈঠকে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস সংকটে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আমরা স্থিতিশীল রেখেছি। বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৯১ মার্কিন ডলার।

আওয়ামী লীগ সভাপতি তার বক্তৃতায় আরও বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। আজকে আমরা ক্ষমতায় রয়েছি বলেই মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক, আমার বাড়ি আমার খামার ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে সব সুযোগ-সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি।

দেশের কেউ গৃহহীন থাকবে না; শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে।

নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

তালাক যথাযথভাবে হয়নি জেনেও অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু তামিমা সুলতানা তাম্মীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ের আদেশ আজ।

২৪ জানুয়ারি ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন। এ মামলার অপর আসামি হলেন— তামিমার মা সুমি আক্তার।

এ মামলায় গত বছরের ৩১ অক্টোবর নাসির, তামিমা ও সুমি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। সেদিন আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির, তামিমা ও সুমির বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আদালত সেদিন পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নেন। এ ছাড়া মামলার তিন আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারির আদেশ দেন।

অভিযোগ গঠনের শুনানির শুরুতে ক্রিকেটার নাসিরের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ আদালতে বলেন, তামিমার সঙ্গে মামলার বাদী রাকিবের তালাক কার্যকর হয়েছে ২০১৭ সালের ২২ এপ্রিল। আর নাসির তামিমাকে বিয়ে করেন এর চার বছর পর। সুতরাং নাসিরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ টেকে না। আর তামিমা আইন মেনে রাকিবকে যথাযথভাবে তালাক দিয়েছেন, তালাক কার্যকর হয়েছে। তালাকের নোটিশ দেওয়ার দায়িত্ব কাজী অফিসের। তামিমার মায়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও সঠিক নয়।

পরে ক্রিকেটার নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তিনি আদালতকে বলেন, আসামিপক্ষ থেকে ২০১৭ সালে রাকিব ও তামিমার মধ্যে তালাক কার্যকর করার কথা সঠিক নয়। তামিমা ২০১৮ সালের পাসপোর্টে স্বামীর নাম হিসেবে রাকিবের নাম উল্লেখ করেন। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নিয়েছেন আসামিরা।

আদালত উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে অভিযোগ গঠনের বিষয় আদেশের জন্য নতুন দিন ঠিক করেন।

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় নাসির ও তামিমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এরপর নতুন করে বিতর্ক ওঠে এই ক্রিকেটারকে ঘিরে। তামিমা তার আগের স্বামীকে তালাক না দিয়ে নাসিরকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা করেন তামিমার আগের স্বামী রাকিব হাসান।

নায়িকা নিপুণের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারের আপিল আবেদনের শুনানি হবে আজ।

হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে মঙ্গলবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে নিপুণ আপিল আবেদন করেন। নিপুণের আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ আপিল করলে চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শুনানির দিন ধার্য করেন।

চিত্রনায়ক জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নিপুণকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে জয়ী করে আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত এর আগে সোমবার স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

জায়েদ খানের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে জায়েদ খানের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আহসানুল করীম ও আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথী। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মজিবুল হক ভূঁইয়া। নিপুণের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ।

সোমবার আহসানুল করীম বলেছিলেন, জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে বিজয়ী ঘোষণা করে আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে সমাজসেবা অধিদপ্তরের চিঠি এবং আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, এ মর্মে এক সপ্তাহের রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

এছাড়া জায়েদ খানের দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার বাধা না দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে রুল শুনানির জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি দিন রেখেছেন হাইকোর্ট।

এর আগে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নিপুণকে সাধারণ সম্পাদক হিসাব বিজয়ী ঘোষণা করে আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্তের চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনাসহ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ আনা হয়।

৫ ফেব্রুয়ারি সেই পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বোর্ড জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল করে। পরে আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চিত্রনায়িকা নিপুণকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী ঘোষণা করেন।

এরপর থেকে বিষয়টি ‘বেআইনি’ বলে দাবি করে আসছেন জায়েদ খান। রোববার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে ইলিয়াস কাঞ্চন ও নিপুণ আক্তারের নেতৃত্বে নতুন কমিটির একাংশ শপথ নেয়।

পরে শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে তারা নিজ নিজ পদের চেয়ারে বসেন। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন শিল্পী সমিতির সদস্যরা।

করজাল বাড়াতে বাড়ির মালিকদের তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে

‘করজাল বাড়াতে বিভাগীয় শহরে বাড়ির মালিকদের টিআইএন ও রিটার্নের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। হোল্ডিং নম্বর ধরে ধরে বাড়ির মালিকের টিআইএন আছে কি না, থাকলে নিয়মিত রিটার্ন জমা দেন কি না- সেই তথ্য যাচাই শুরু হয়েছে।’

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে মঙ্গলবার প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ তথ্য জানান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ইআরএফ সভাপতি শারমিন রিনভী ও সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নেট (করজাল) বাড়ানো এবং রেট (করহার) কমানোর স্লোগান নিয়ে এনবিআর কাজ করছে। যত দ্রুত নেট বাড়ানো এবং রেট কমানো দরকার, সেটা হয়তো হচ্ছে না। তবে এক সকালেই সেটা সম্ভবও নয়। ধীরে ধীরে এগোচ্ছি। করপোরেট করহার কমানো হয়েছে। করজাল বাড়ানোর জন্য বিভাগীয় শহরের বাড়ির মালিকদের টিআইএন যাচাইয়ের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, অনলাইনে রিটার্ন জনপ্রিয় করতে পারলে করজাল বাড়বে। এখন একজন মানুষকে রিটার্ন জমা দিতে আয়কর আইনজীবীর শরণাপন্ন হতে হয়। এটি কীভাবে আরও সহজ করা যায়, সে পরিকল্পনা আছে।

দেশে কর সংস্কৃতি গড়ে উঠেনি মন্তব্য করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘করজাল বাড়ানোর বড় অন্তরায় কর সংস্কৃতি গড়ে না ওঠা। কর দেব কেন, কর দিয়ে কী পাই- এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে মানুষ কেন কর দেবে। এখন এসব প্রশ্নের উত্তর দৃশ্যমান। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলের মতো বড় বড় প্রকল্প করা হচ্ছে। এখন বলতে পারি মানুষের করের টাকায় এগুলো হয়েছে, হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু সাধারণ মানুষ নন, সরকারি প্রতিষ্ঠানও কর দিতে চায় না, ছাড় চায়। তারা বলে সরকারের টাকা সরকারের কাছেই তো যাচ্ছে। কিন্তু এতে কর সংস্কৃতির বিকাশ হচ্ছে না।’

বিদেশি কর্মীদের বিষয়ে তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিকরা ট্যুরিস্ট ভিসায় দেশে কাজ করলে এনবিআরের পক্ষে সেটা দেখা সম্ভব নয়। এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ। তারপর বিমানবন্দরে আয়কর বুথ করা আছে। সেখানে নজর রাখা হয়ে থাকে। তবে এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ তারাই জানে কোন কোন প্রতিষ্ঠান বিদেশিদের নিয়োগ দিয়েছে।

ইআরএফের প্রস্তাবনা : আগামী বাজেটে বিবেচনার জন্য শুল্ক-করসংক্রান্ত ২০টি প্রস্তাব দিয়েছে ইআরএফ। এগুলোর মধ্যে উল্লে­খযোগ্য হচ্ছে- করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ন্যূনতম করহার কমানো, বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে কর আদায় করতে জরিপ চালানো, অনলাইনে রিটার্ন জমা বাড়ানো, প্রচার-প্রচারণা চালানো, অর্থ পাচার রোধে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো আইনি বিধান প্রণয়ন, সবুজ শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে করপোরেট করের ব্যবধান ৫ শতাংশ করা, ভ্যাট আদায়ে ইএফডি মেশিন ব্যবহার নিশ্চিত করতে মনিটরিং বাড়ানো এবং বোতলজাত পানির সম্পূরক শুল্ক শিথিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

যেসব কাজ করলে মনোবল দৃঢ় হয়

সফল হতে চাইলেই তো আর সফল হওয়া যায় না। তবে সফল হতে গেলে যেটা সবার আগে প্রয়োজন তা হলো মানসিকভাবে শক্ত হওয়া।

পরিস্থিতি যে সব সময় আপনার অনুকূল হবে তা কিন্তু নয়। পরিস্থিতি আপনার প্রতিকূলেও যেতে পারে, এটা অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার। সেই কথা মাথায় রেখেই যেকোনো নতুন কাজ করা উচিত।

তবে মানসিকভাবে শক্ত হওয়ার জন্য নিজের মনকেই সবার আগে স্থির করতে হবে। কিন্তু অনেকেই মনের জোড় না বাড়িয়ে নিজের ভাগ্যকেই দোষারোপ করতে থাকেন। ভাগ্যকে দোষারোপ না করে নিজের মনের জোর বাড়াতে চেষ্টা করুন।

এবার দেখে নিন কীভাবে নিজের মনের জোর বাড়িয়ে সফলতাকে আপনার সঙ্গী করবেন…

১. নিজের প্রতি দুঃখিত না হওয়া

নিজের প্রতি কখনোই দুঃখিত বোধ করবেন না। নিজেকে আহারে, বলার কোনও দরকার নেই এতে আপনার সময়ই নষ্ট হবে। আখেরে আপনার কোনো লাভ হবে না। সেখান থেকে উঠে দাঁড়ান। কাজে দেবে।

২. লক্ষ্যে স্থির হওয়া

আপনার পাশে যদি কেউ না দাঁড়ায় তাহলে ভয় পাবেন না। নিজেই নিজের সব থেকে বড় লাঠি হয়ে দাঁড়ান। যদি কেউ আপনার সঙ্গে চলতে না চায় তাহলে একাই চলুন। সাফল্য পাওয়ার পর কারোর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে হবে না।

৩. পরিবর্তনকে ভয় না পাওয়া

আপনার রোজকার জীবনে যদি কোনও পরিবর্তন ঘটে তাহলে ভয় পাবেন না। জানবেন, সব পরিবর্তন আপনার প্রতি এক একটা চ্যালেঞ্জ। তাই ভয় না পেয়ে পরিবর্তনকে আপন করে নিন।

৪. পছন্দ না হওয়া কাজ না করা

ধরুন এমন কাজ যা আপনার ঠিক পছন্দ নয়। তাই আপনি ঠিক পারবেন না। এমনকি আপনার মনে কাজের প্রতি অতটা আত্মবিশ্বাস নেই। তখন সেই কাজ না করাই ভালো। যে কাজ আপনি মন থেকে ভালোবাসেন সেই কাজ করুন।

৫. অন্যের কথার গুরুত্ব না দেওয়া

কে কী বলল তাতে আপনার কী! কারোর কথায় গুরুত্ব দেওয়া ছেড়ে দিন। নিজের জীবন কীভাবে কাটাবেন, কী কাজ করে ভালো থাকবেন, তা একান্ত আপনার সিদ্ধান্ত। আপনার জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব অন্য কারোর হাতে কখনোই দেবেন না।

৬. ভাগ্যকে দোষারোপ না করা

কী হয়নি তা নিয়ে বেশি ভাবনা-চিন্তা করার দরকার নেই। কী হতে পারে, সেই নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করুন। তাতে আপনার সময়ও বাঁচবে এবং নিজের মনোবলও বাড়বে।

৭. একই ভুল বারবার না করা

একই ভুল বারবার করার কোনও মানেই হয় না। বারবার একই ভুল করতে থাকলে আস্তে আস্তে নিজের মনোবল ভেঙে যাবে। তাই একই ভুল বারবার না করে ধীরে সুস্থে কাজ করুন।

৮. অন্যের খুশিতে খুশি হওয়া

অন্যের খুশিতে খুশি হওয়ার চেষ্টা করুন। মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখুন। দেখবেন আপনার সাফল্যতে এবং খারাপ সময় অনেকের সঙ্গ পাবেন। তবে যদি অন্যের খুশিতে খুশি না হন, তাহলে আপনি ভেঙে পড়বেন।

৯. প্রথমবার সফল হতে না পেরে ভেঙে পড়া

যদি প্রথমবার সফল হতে না পারেন, তাহলে আবার চেষ্টা করুন। দেখুন, চেষ্টা না করলে কেউই কখনও সফল হতে পারে না। তাই প্রথমবার যদি কোনোভাবে সফল হতে না পারেন, তাহলে ভেঙে না পড়ে, শক্ত হয়ে উঠে দাঁড়ান।

১০. একাকীত্বকে ভয় না পাওয়া।

আপনার সঙ্গে কেউ না থাকলেও একাকীত্বকে ভয় পাবেন না। যদি খারাপ সময় কেউ আপনার পাশে দাঁড়াতে না চায় তাহলে ক্ষতি কী। একাই পরিস্থিতির মোকাবিলা করুন। দেখবেন, এতে আপনার মন যেভাবে শক্ত হবে তা কখনোই ভাঙা যাবে না।

১১. ধীর স্থিরভাবে কাজ করা

যখন পরিস্থিতি আপনার অনুকূল না হবে, তখন ধীর স্থিরভাবে কাজ করুন। তাড়াহুড়ো করে কাজ করলে কিছুই হবে না। অনেক ভুল হয়ে যাবে। তাই পরিস্থিতি আপনার প্রতিকূল হলে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করুন।

১২. কাজের পর নিজেকে জাহির না করা

আপনি আপনার লক্ষ্যে স্থির থাকুন। যাতে কেউ না আপনাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে পারে। সফল হওয়ার পর নিজেকে জাহির করবেন না। কারণ, নিজের ঢাক নিজে না পেটানোই ভালো। এতটা আপনার নিজের পক্ষেও খুব একটা ভালো হবে না।

ঢাবিতে থাকছে না ‘ঘ’ ইউনিট

আগামী ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঁচটি ইউনিটের পারিবর্তে ৪টি ইউনিটের (ক,খ,গ,চ) অধীনে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটকে কলা অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। সোমবার সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির এক বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সভাপতিত্বে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

সভার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ঘ’ ইউনিট না রাখার বিষয়ে আমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আজকের সভায় সেটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তা চূড়ান্ত হবে।
উপাচার্য আরো বলেন, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘খ’, বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ এবং চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটে আমরা ভর্তি পরীক্ষা এবং শিক্ষার্থী ভর্তি নেব। ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ইউনিট পরিবর্তনের নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ডিনস্ সাব কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আসন সংখ্যা পুনর্র্নিধারণ বিষয়ে ঢাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, আমরা এর আগে বিভাগ থেকে ডিন অফিসের মাধ্যমে বিভাগওয়ারী বা ইনস্টিটিউটওয়ারী শিক্ষার্থী ভর্তির একটা সুপারিশ পেয়েছিলাম। সেটা পাওয়ার পর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে কত জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হবে সে বিষয়ে ডিনদের একটা সভায় পুনঃবিবেচনা করে যে সংখ্যাটা নিরূপন করা হয়েছিল সেটার জাস্টিফিকেশন আজ করা হয়েছে। ভর্তির যৌক্তিক আসন সংখ্যা নির্ধারণ বিষয়ে সুপারিশ প্রণীতও হয়েছে। এই সুপারিশ অনুমোদনের জন্য পরবর্তী একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় পেশ করা হবে।

উল্লেখ্য, পরিচালন সক্ষমতা ও চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থী আসন পুনর্র্নিধারণ করার বিষয়ে সুপারিশ এনে গত জনুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেয় ডিনস কমিটি।

ওই প্রতিবেদনে ৪৪টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থী আসন কমানোর সুপারিশ করা হয়। আর আসন বাড়ানোর কথা বলা হয় ১৫টিতে। বাকি ২৬ বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার কথা বলা হয়। ডিনস কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মাতক পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে ১ হাজার ১৫টি আসন কমবে।

লিজার ভ্যালেন্টাইন চমক

প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে থেকে গান-ভিডিও তৈরি করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় গায়িকা লিজা।

এক যুগের ক্যারিয়ারে ‘পাগলী সুরাইয়া’, ‘ভুল করে যদি কখনো’, ‘যাবি কত দূরে’, ‘পাখি’, ‘এই তো ভালোবাসা’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন সানিয়া সুলতানা লিজা।

গত নভেম্বরে আমেরিকায় নিউইয়র্ক থেকে গান-ভিডিওটি করেন লিজা। যার শিরোনাম ‘চাই তোমায়’। এটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশের তরুণ সংগীত পরিচালক নাভেদ পারভেজ। কথা লিখেছেন শিমুল এসবি।

লিজা বলেন, ‘এবার আমেরিকায় গিয়ে আমি বেশ কিছুদিন ছিলাম। হঠাৎ মাথায় আসে সেখানে বসে একটি গান-ভিডিও তৈরির। তারপর নাভেদের সঙ্গে কথা বলি। সে সেখানে থাকাতে কাজটা সহজ হয়ে যায়। এটা আমার জন্য নতুন একটি অভিজ্ঞতা। নিউইয়র্কে বসে পুরো গান-ভিডিও তৈরির প্রক্রিয়াটি আমি বেশ উপভোগ করেছি। শ্রোতাদেরও মনে ধরবে আশা করি।

এই গায়িকা আরও জানান, ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে আগামী ১২ বা ১৩ ফেব্রুয়ারি ইউটিউবে নিজের নামে খোলা চ্যানেল থেকে ‘চাই তোমায়’ উন্মুক্ত করবেন তিনি।

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখেই পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন উসমান খাজা

সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে না থেকে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ পাকিস্তান সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটসম্যান উসমান খাজা।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সফরে গিয়েও ম্যাচ শুরুর ঠিক ঘণ্টাখানেক আগে নিরাপত্তার কথা বলে সফর বাতিল করে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। কিউইদের এমন সিদ্ধান্তের কারণেই পরের মাসে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা ছিল ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের, তারা সেই সফর বাতিল করে।

আগামী মার্চে ২৪ বছর পর পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল। সফরের আগে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত অজি তারকা ক্রিকেটাররা। তার কারণ জানুয়ারি মাসে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে বোমা হামলায় ৭ সেনা সদস্যসহ ২০ জন নিহত হয়েছেন।

এমন ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার তারকা ক্রিকেটাররা পাকিস্তান সফর নিয়ে বেশ শঙ্কিত। এমন শঙ্কার মধ্যেই সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে রেখে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অজি তারকা ক্রিকেটার উসমান খাজা।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪৬টি টেস্ট, ৪০টি ওয়ানডে আর ৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ১২টি সেঞ্চুরি আর ২৭টি ফিফটির সাহায্যে ৪ হাজার ৯৩৭ রান করা উসমান খাজা বলেন, আমি ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি, এটি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি যেভাবে পারি ক্রিকেট খেলতে চাই।

পাকিস্তানে জন্ম নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা উসমান খাজার ১১ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অতীতে জন্মভূমিতে খেলার সুযোগ হয়নি। যে কারণে এবারের সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ খাজা।

৩৫ বছর বয়সী এই তারকা ক্রিকেটার বলেন, পাকিস্তানের করাচিতে আমার অনেক আত্মীয় আছে। আমি সেখানে জন্মগ্রহণ করেছি, তাই সেখানে গিয়ে খেলতে পারলে ভালো লাগবে। এটা আমার কাছে বিশেষ মুহূর্ত হবে। আমি মনে করি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের জন্যও এটি দুর্দান্ত হবে।

পাকিস্তান সফরে তিনটি টেস্ট, তিন ম্যাচের ওয়ানডে আর একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ৪ মার্চ রাওয়ালপিন্ডিতে টেস্টের মধ্য দিয়ে সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দল: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, অ্যাশটন অ্যাগার, স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, মার্কাস হ্যারিস, জশ হ্যাজেলউড, ট্র্যাভিস হেড, জশ ইঙ্গলিস, উসমান খাজা, নাথান লিয়ন, মিচেল মার্শ, মাইকেল নেসার, মিচেল স্টার্ক ও মিচেল সুইপসন।

আইভীর শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামীকাল বুধবার শপথ নিতে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নবনির্বাচিত মেয়র ও ৩৬ জন কাউন্সিলর। তবে করোনার বিধি-নিষেধের কারণে এবার সরাসরি শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন না প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শপথ গ্রহণের জন্য ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নির্বাচিত সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও কাউন্সিলরদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ইসমাত মাহমুদা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে- ৯ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল ১০টায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়রকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। রাজধানীর গণভবন ও ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি নাসিকের ২৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে এবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। এ নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ৬৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো সিটি মেয়র নির্বাচিত হন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

এছাড়া ২৭টি ওয়ার্ডে ২৭ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন নির্বাচিত হন। ২৭ জানুয়ারি এ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।