শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 464

বাহরাইনে প্রথম সফরে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট সোমবার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ বাহরাইন পৌঁছেছেন।

এ সফরে তিনি দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী সালমান বিন হামাদ আল খলিফার সঙ্গে বৈঠক করবেন। বেনেট বাহরাইন পৌঁছানোর আগে তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর আনাদোলুর।

বাহরাইনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের এক বছরের বেশি সময় পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী মানামা সফর করছেন। ইসরাইল ও বাহরাইনের মধ্যে এটিই হচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফর।

ইসরাইল এবং বাহরাইনের নেতারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বিশেষ করে কূটনীতিক এবং অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

সম্প্রতি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সমর্থীত সামরিক বাহিনী হামলা জোরদার করেছে। এর মধ্যেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বাহারাইন সফর করছেন।

সৌদি আরব এবং আমিরাতের সঙ্গে বাহারাইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে ইসরাইল।

এছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত না হলেও তেল বিব ও রিয়াদের মধ্যে গোপন সম্পর্ক দিন দিন আরও জোরদার হচ্ছে।

ইসরাইল থেকে বাহরাইনের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে নাফতালি বেনেট সাংবাদিকদের বলেন, তার এই সফর শুভেচ্ছার বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং অভিন্ন হুমকির বিরুদ্ধে অংশীদারিত্বমূলক অবস্থানের কথা তুলে ধরবে।

এ কথার মধ্য দিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী মূলত ইরানকে ইঙ্গিত করেছেন। বাহারাইন ও ইসরাইল দুই দেশই ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরোধিতা করে আসছে। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত।

পশ্চিমবঙ্গে পৌর নির্বাচনে ৯৭ শতাংশ ওয়ার্ডেই জিতল তৃণমূল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ৪ পৌরসভার নির্বাচনে ২২৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল জিতেছে ১৯৮টিতে। এর মধ্যে চন্দননগরে ৯৭ শতাংশ ওয়ার্ডে জিতেছে তৃণমূল।

সব মিলিয়ে ৪ পৌরসভার ৮৮ শতাংশ ওয়ার্ডে বিজয় হয়েছে তৃণমূলের। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

হুগলি জেলার চন্দননগর পৌরসভায় ৩২ ওয়ার্ডের মধ্যে একা তৃণমূলই জয় পেয়েছে ৩১টিতে। একটি মাত্র ওয়ার্ড নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বামদের। খাতা খুলতে পারেনি বিজেপি।

এর আগেও চন্দননগরে দাপট দেখিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। কিন্তু এবারের সাফল্য ছাপিয়ে গেছে অন্যান্য বারের নির্বাচনকে। তৃণমূলনেত্রী এই বিপুল জয়কে জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করে বলেছেন, ‘যত জিতব, তত নম্র হয়ে জনগণের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’

রাজ্যের চার পৌরসভার ২২৬টি ওয়ার্ডে ভোট হয়েছিল শনিবার। সোমবার ফল প্রকাশের পর দেখা গেল তৃণমূল সব মিলিয়ে ১৯৮টি ওয়ার্ডে জিতেছে।

চন্দননগরে তৃণমূলের সাবেক মেয়র রাম চক্রবর্তী বলছেন, ‘দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। দলনেত্রীর নির্দেশ মেনে নতুন পৌরবোর্ড আরও নম্রভাবে মানুষের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বে। তৃণমূল আরও উন্নত নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেবে মানুষের দুয়ারে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হলেন হাবিবুর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকেরই নির্বাহী পরিচালক। তাকে এই পদে নিয়োগ দিয়ে রোবাবর আদেশ জারি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ২০ জানুয়ারি এ নিয়োগ অনুমোদন করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সংক্রান্ত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাহী পরিচালক মো. হাবিবুর রহমানকে প্রধান অর্থনীতিবিদ পদের দায়িত্বসহ গভর্নর কর্তৃক সময়ে সময়ে আরোপিত অন্যান্য দায়িত্ব পালনের শর্তে নিয়োগ দেওয়া হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক এক দশক ধরে প্রধান অর্থনীতিবিদ পদে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী বাংলাদেশি নাগরিকদেরই নিয়োগ দিয়ে আসছিল। পদটি শূন্য হওয়ায়র পর বিগত বছরগুলোর মতো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ছিলেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট হাসান জামান। এখন তিনি বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা। এরপর ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রধান অর্থনীতিবিধ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কোর্টল্যান্ডের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের সহযোগী অধ্যাপক বিরূপাক্ষ পাল। তার পরে আইএমএফের অর্থনীতিবিদ ফয়সাল আহমেদকে প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি পদ ছেড়ে দিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. হাবিবুর রহমানকে প্রধান অর্থনীতিবিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন থেকেই তিনি এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। করোনার মধ্যে সময়মতো বিভিন্ন উদ্যোগ ও নীতি গ্রহণের কারণে তাকে এখন পূর্ণাঙ্গ প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেক দেখিয়ে ঋণ দেওয়া বন্ধের নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের চেক নিয়ে প্রতারণা করছে কয়েকটি নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আর এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেক দেখিয়ে ঋণ দেওয়া বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চেক নিয়ে নানা ধরনের জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে। এসব জালিয়াতির সঙ্গে কিছু ব্যাংক কর্মকর্তা এবং প্রতারক চক্র জড়িত। এখন জালিয়াতি বা প্রতারক চক্রের নজর পড়েছে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের চেকের দিকে। প্রতিষ্ঠানগুলো এ ব্যাপারে কঠোর গোপনীয়তা অনুসরণ করলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে তা ধরা পড়েছে।

এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিধিবহির্ভূতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো চেক যেন আর ব্যবহার না করা হয়। একই সঙ্গে চেক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চেক শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজেদের টাকা স্থানান্তর ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চেক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারে না। কারণ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কারও হিসাব নেই।

ফলে অন্য কাউকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেকও দেওয়া হয় না। কিন্তু এরপরও ঋণের অর্থছাড়ে বেআইনিভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেক ব্যবহার করার কয়েকটি ঘটনা ধরা পড়েছে। তারা নিয়ম মেনে চেক ইস্যু করলেও এটি ব্যবহার করা হয়েছে ঋণের টাকা তুলে নেওয়ার কাজে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

ছাত্রদলের দুই নেতাকে গুমের অভিযোগ রিজভীর

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই নেতাকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাদের অবিলম্বে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

এর আগে বিএনপি ও ছাত্রদল অভিযোগ করে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সোমবার বিকেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে এবং রোববার রাত দেড়টায় বরগুনা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব মো. ইমরান হোসেন মৃধাকে সিআইডি পরিচয়ে তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সোমবার অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রদলের এই দুই নেতাকে আটকের বিষয়টি এখনো স্বীকার করছে না রাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থা। তাদেরকে এখনো জনসন্মুখে হাজির করেনি। এই অবস্থায় তাদের পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে, এক বিবৃতিতে ছাত্রদলের দুই নেতার অবিলম্বে সন্ধান চেয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল।তাদের সন্ধান না পেলে ছাত্রসমাজকে কঠোর আন্দোলনে বাধ্য করার দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এই দুই নেতা।

অন্যকে দায়ী করে হুদা কমিশনের বিদায়

নির্বাচনে অনিয়ম-সহিংসতার ঘটনা এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যর্থতার দায় অন্যদের ওপর চাপিয়ে বিদায় নিলেন কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।

রাজনৈতিক দল, মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যম থেকে নির্বাচনি সহিংসতার তাৎক্ষণিক তথ্য না পাওয়ায় অনেক গুরুতর ঘটনার ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি-এমন দাবি করেন বিদায়ি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম।

এমনকি নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংসের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা কীভাবে হয়েছে, সেটিও জানেন না বলে দাবি সিইসির।

সোমবার বিদায়ি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন তারা। অন্যদিকে সিইসির সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরই নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার খোদ কমিশনের বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বড় দুর্বলতা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব, জালিয়াতি প্রভৃতি সম্পর্কে ভুক্তভোগীরা যেসব অভিযোগ করেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দৃষ্টান্ত বিরল। লিখিতভাবে যেসব অভিযোগ আসে, তারও যথাযথ নিষ্পত্তি হয় না।

নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে এমন পালটাপালটি অভিযোগের মধ্য দিয়ে নূরুল হুদা কমিশনের মেয়াদ শেষ হলো। সোমবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে নির্বাচন ভবন ত্যাগ করেন সিইসি ও তিন নির্বাচন কমিশনার। এর আগে নির্বাচন কর্মকর্তাদের দেওয়া সংবর্ধনাও নেন তারা।

ওই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টার কিছু সময় পর পর্যন্ত। এরপর নির্বাচন কর্মকর্তাদের আয়োজনে নৈশভোজে অংশ নেন কমিশনাররা।

ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগে বিদায়ের দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিইসি দুই শতাধিক ফাইলে স্বাক্ষর করেন। এদিন নির্বাচন কমিশনের জেলা পর্যায়ের অন্তত ১৩ কর্মকর্তাকেও বদলি করেন।

২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাঁচ বছর মেয়াদ সোমবার শেষ হলো। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি কাজ করছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন কমিশনার গঠন না হওয়া পর্যন্ত আগামী কয়েকদিন কমিশনার পদ ফাঁকা থাকছে।

বিদায়ের দিনেও নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে বিভক্তি ছিল প্রকাশ্য। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী অসুস্থ থাকায় এদিন অফিস করেননি। সিইসি ও বাকি তিন কমিশনার অফিস করেছেন।

সিইসির বিদায়ি সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার অংশ নেননি। তিনি পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। মুক্তভাবে কথা বলতেই তিনি পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন বলে জানান।

এছাড়া কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারও উপস্থিত ছিলেন না। ওই সময়ে তিনি কার্যালয়ে ছিলেন। তার পরিবর্তে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ অংশ নেন।

এই কমিশনের সময়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনের ব্যাপারে ব্যাপক অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ ওঠে। তবে কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রশংসিত হয়।

এছাড়া প্রবাসীদের ভোটার কার্যক্রম শুরু করলেও করোনায় আটকে যায়। ভোটে ইভিএম প্রযুক্তির ব্যবহার ফিরিয়ে আনে এ কমিশন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’খচিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে আলোচিত হয়।

ইসি জানায়, এই কমিশন পাঁচ বছরে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ছয় হাজার ৬৯০টি নির্বাচন করেছে।

কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ছাড়া বাকি নির্বাচন নিয়ে বর্তমান কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে।

নির্বাচনে অনিয়ম ও সহিংসতা বন্ধে পদক্ষেপ না নেওয়া, বক্তৃতার নামে টাকা নেওয়া, আরপিও থেকে প্রার্থিতা বাতিলে ইসির ক্ষমতাসম্পন্ন ধারা ৯১ই বাদ দেওয়ার উদ্যোগ এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে পুরো মেয়াদেই বিতর্ক ও সমালোচনা ছিল।

যদিও ওইসব অভিযোগ বরাবরের মতো সোমবারও নাকচ করলেন সিইসি। সুষ্ঠু নির্বাচনের দায় রাজনৈতিক দলসহ নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের ওপর ছেড়ে দিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই।

নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা দুষ্কর। রাজনৈতিক দল, তাদের কর্মী, সমর্থক এবং প্রার্থী যদি নির্বাচনি আইন ও আচরণবিধি যথাযথ মেনে চলেন তবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা।

বর্তমান কমিশনের বিরুদ্ধে নির্বাচনব্যবস্থায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ, অসদাচরণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করেন দেশের ৪২ নাগরিক। ওই অভিযোগ সব অসত্য বলেও দাবি করেন সিইসি।

এমনকি নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংসের দায়ভার নিতে অস্বীকার করেন তিনি। এ সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন ধাপে ভোট পড়ার হার উল্লেখ করে বলেন, ভোট হলো না কীভাবে?

বিভিন্ন প্রতীকের লোক নির্বাচিত হলো। তাহলে কীভাবে নির্বাচন ধ্বংস হলো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি কেউ বলে নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, কীভাবে ধ্বংস হয়েছে, সেটা আমি জানি না।

নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের ইসির ক্ষমতা ৯১ই ধারা বাদ দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েও দায় এড়িয়ে গেছে কমিশন। এর দায় আইন মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আইন সংস্কার কমিটি খতিয়ে দেখেছে।

এ ধরনের প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো হয়নি। আইন মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির কারণে এ ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ তৈরি হয়। তিনি বলেন, ৯১ই ধারায় শুধু ভোটগ্রহণের সময়ে অনিয়ম হলে ইসির পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আমরা ওই সময়সীমা বাড়ানোর পক্ষে ছিলাম। তবে ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন থেকে সর্বশেষ যে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, সেখানে এ ধারাটি শক্তিশালী করার পক্ষে কোনো প্রস্তাবনা দেওয়া হয়নি।

প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু ভোট করা কঠিন মন্তব্য করে কবিতা খানম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিটি কাজ যাতে গ্রহণযোগ্য হয়, সেই চেষ্টা করেছি। নির্বাচন শুধু ৫ জন কমিশনার করেন না, মাঠ পর্যায়ের পুলিশ-প্রশাসন করেন।

এটি টিমওয়ার্ক। তাদের সততা-দক্ষতা, সুষ্ঠুভাবে ভোট তুলে আনার মানসিকতা না থাকলে ভোট তুলে আনা কঠিন। বিশাল কর্মযজ্ঞ তুলে আনার ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনের সদিচ্ছা না থাকলে সুষ্ঠু ভোট করা কঠিন।

শুধু তাই নয়, নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়টি ইসিকে না জানানোর জন্য মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমকে দায়ী করেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, নির্বাচনের অনিয়মের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তথ্য না দিলে ইসির কিছু করণীয় নেই।

এক পর্যায়ে তিনি গণমাধ্যমের কর্মীদেরও দোষারোপ করেন। মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কী করেছি কী করতে পারি নাই আর কী করা উচিত ছিল এ নিয়ে প্রতিদিন বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। বলতে থাকেন ইসির অসীম ক্ষমতা।

আকাশের দিকে তাকিয়ে বলি এদের কি আল্লাহ-ভগবান নেই। তাদেরই তো কেবল অসীম ক্ষমতা। সংবিধান ও আইনের দ্বারা পরিচালিত হব এইটুকুই ছিল আমাদের শপথ। আল্লাহর আসনে বসিয়ে দেওয়া কি অন্যায় নয়?

অসীম ক্ষমতা কারও নাই। আর ইসির তো নেই-ই। আমাদের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আদালতে যেতে পারেন। আদালতের নির্দেশ মেনেছি। আমাদের ক্ষমতা অসীম হলে আদালত থাকে না, সৃষ্টিকর্তা থাকে না।

শেষ দিনে দুই শতাধিক ফাইল স্বাক্ষর : ইসি সূত্রে জানা যায়, বিদায়ের দিনে দুই শতাধিক ফাইলে স্বাক্ষর করেন নির্বাচন কমিশনাররা। এর বেশির ভাগই ইউনিয়ন পরিষদের গেজেট প্রকাশসংক্রান্ত।

এছাড়া নির্বাচন কর্মকর্তাদের বদলি, ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গণনা, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম সংরক্ষণ, ইসির কর্মকর্তাদের আপ্যায়নসংক্রান্ত ফাইলও রয়েছে।

বিদায়ের দিন ১৩ কর্মকর্তাকে বদলি করেছেন সিইসি কেএম নূরুল হুদা। যশোর, কুষ্টিয়া, সিলেট, নাটোর, দিনাজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, মাদারীপুর, নরসিংদী, নোয়াখালী, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও বরিশালের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দপ্তর বদল করা হয়।

রাত-দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে

দেশের কোথাও কোথাও শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। তবে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

সোমবার সকাল থেকে পরবর্তী তিন দিনে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বাড়তি অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর কাছাকাছি এলাকায় বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

সোমবার শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

এ ছাড়া টেকনাফে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় ঢাকায় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়।

অমর একুশে বইমেলা শুরু আজ

ভাষা আন্দোলনের চেতনায় ঋদ্ধ অমর একুশে বইমেলা ২০২২ শুরু হচ্ছে আজ। বিকাল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসাবে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এ মেলার উদ্বোধন করবেন। ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের বইমেলা। করোনার কারণে দুই সপ্তাহ পর শুরু হওয়া এ মেলা আপাতত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে সময় বাড়তে পারে। তবে কঠোরভাবে মানা হবে স্বাস্থ্যবিধি। মাস্ক ছাড়া বইমেলায় প্রবেশ করা যাবে না। লাগতে পারে টিকা সনদও।

বইমেলা উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে তিনি বলেন, মহান একুশের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলনে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মুক্তবুদ্ধির চর্চা, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার জন্য বর্তমানে দেশে অত্যন্ত সুন্দর ও আন্তরিক পরিবেশ বিরাজ করছে। অমর একুশে বইমেলার গুরুত্ব অপরিসীম। এ মেলা আমাদের জীবনবোধ ও চেতনাকে প্রতিনিয়ত শানিত করছে। বাণীতে তিনি বইয়ের মাধ্যমে মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে লেখক ও প্রকাশকদের প্রতি আহ্বান জানান। অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবুল মনসুর। অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২১ প্রদান করা হবে। বইমেলা নিয়ে বাংলা একাডেমিতে রোববার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, সচিব আবুল মনসুর, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, বাংলা একাডেমির সচিব এএইচএম লোকমান, বইমেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ৭ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৪২টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩২টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৩৪টি ইউনিট দেওয়া হয়েছে। প্যাভিলিয়ন থাকছে ৩৫টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের। এবার লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এম্ফি থিয়েটারের পূর্বদিকে মেলার মূল প্রাঙ্গণে। সেখানে ১২৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। এবারও শিশুচত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে। তবে কোভিড পরিস্থিতির কারণে প্রথমদিকে ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে না। থাকবে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪টি প্রবেশ ও ৩টি বাহির পথ থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মেলা এলাকাজুড়ে তিন শতাধিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী নিয়ে প্রতিদিন বিকাল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের এ বছর প্রকাশিত গুণগত মান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য ৩ প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এছাড়া এ বছর প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’। স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। ছুটির দিন ছাড়া বইমেলা ১৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের পর নতুন কেউ মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ২১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হবে সকাল ৮টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

‘টাইটানিক’ সিনেমার গান গাইলেন হিরো আলম

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে হলিউডের জনপ্রিয় ‘টাইটানিক’ সিনেমার গান গেয়েছেন হিরো আলম। গানের শিরোনাম— ‘মাই হার্ট উইল গো অন’। মিউজিক ভিডিওটিতে হিরো আলমের নায়িকা হয়েছেন মডেল ও নবাগত চিত্রনায়িকা নুসরাত।

আকাশ নিবিড়ের পরিচালনায় গানের সংগীতায়োজন করেছেন মোমো রহমান।

নতুন গান প্রসঙ্গে হিরো আলম বলেন, দর্শক সবসময় আমার কাছে নতুন গানের অনুরোধ করে। তাই আমি আমার মতো চেষ্টা করি দর্শকদের খুশি করতে। তাই এবার কষ্ট করে ইংরেজি সিনেমা টাইটানিকের গান ভালোবাসা দিবসে উপহার দিলাম। আশা করছি, এ গানটা দর্শক ভালোভাবে নেবে।

বগুড়ার ছেলে আশরাফুল আলম সবার কাছে হিরো আলম নামে পরিচিত। অভিনয়, প্রযোজনা ও গান নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। চলতি মাসেই বর্তমান সময়ের ভাইরাল ‘পুষ্পা’ সিনেমার গান নিয়ে হাজির হয়েছিলেন হিরো আলম।

ওমিক্রনে স্বাস্থ্যঝুঁকি কাদের, কী করবেন?

কোভিডের নতুন ধরন ওমিক্রন দাপট দেখাচ্ছে। দেশে বর্তমানে সংক্রমিত রোগীদের ৮০ ভাগের বেশি মানুষের দেহে ওমিক্রন ভাইরাস।

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টটি আগের উদ্বেগজনক সংস্করণগুলোর থেকে আলাদা। এর তীব্রতা কম। তবে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার একটি অদ্ভুত ক্ষমতা রাখে।

ওমিক্রনের উপসর্গ ও এ ভাইরাস কাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন আইইডিসিআরের ফিজিশিয়ান সায়েন্টিস্ট ডা. এম সেলিম উজ্জামান।

টিকা নিলে করোনার অন্যান্য ধরনগুলো থেকে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ওমিক্রন থেকে সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ওমিক্রন-মিউটেশনগুলো আমাদের ভ্যাকসিন দ্বারা প্রদত্ত সুরক্ষা ক্ষমতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ওমিক্রনের লক্ষণের ঝুঁকি নির্ভর করে টিকা এবং বুস্টার ডোজ নেওয়া হয়েছে কিনাসহ বয়স, সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং রোগ প্রতিরোধের পুষ্টিগত অবস্থার উপর।

‘ওমিক্রন সংক্রমণ’ পরবর্তী উপসর্গগুলো দ্রুত আসে, লক্ষণগুলো প্রকাশ হতে তিন দিন সময় লাগে, যা ডেল্টার ক্ষেত্রে প্রায় চার দিন সময় নেয়, এবং আগে কোভিড-১৯-এ পাঁচ দিন এরও বেশি সময় নিয়েছে। তবে আগের করোনাভাইরাস ভ্যারিয়েন্টগুলোর মতো ওমিক্রনে সংক্রমিত বেশিরভাগ রোগীর সমস্যাগুলো তুলনামূলকভাবে দ্রুত সমাধান হয় এবং হাসপাতালে ভর্তির তেমন প্রয়োজনও হয় না।

ওমিক্রনের লক্ষণগুলো সাধারণ শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের মতো, যেমন- সর্দি, গলা ব্যথা, নাক বন্ধ এবং হালকা-কাশি এবং জ্বর জ্বর ভাব।

ওমিক্রনের ৫টি প্রধান উপসর্গ/লক্ষণ হলো- সর্দি, নাক দিয়ে পানি পড়া, মাথা ব্যথা, তীব্র ক্লান্তি, হাঁচি এবং গলা ব্যথা।

তবে কো-মরবিড রোগীর (ডায়াবেটিস, স্থূলতা, ক্যানসার, হৃদরোগ, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, ইমিউনোসাপ্রেসড, অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী জটিল রোগ এবং যাদের অন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গুরুতর রোগ আছে, বয়স্ক ব্যক্তি বা অন্তর্নিহিত সমস্যা/রোগের অধিকারী ব্যক্তিরা, এসব অবস্থার কারণে) ক্ষেত্রে সেকেন্ডারি ইনফেকশন ও অন্যান্য গুরুতর রোগে জীবন-হুমকির অবস্থা হতে পারে।

কিছু রোগীর ক্ষেত্রে আইসিইউ এবং মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর প্রয়োজন হতে পারে। ওমিক্রনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর মতো গন্ধ ও স্বাদ হ্রাস পায় না এবং রোগীদের (বয়স্ক রোগীসহ) শ্বাসকষ্টের সমস্যাও তুলনামূলকভাবে কম।

এছাড়া ভাইরাসের আপাত পরিবর্তনে ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণও সাধারণত কম। তবে অনেকেই বমি-বমি ভাব, রাতে শরীরে ঘাম এবং পিঠের নিচের দিকে ব্যথা, উপসর্গগুলো কথা উল্লেখ করেন।

ওমিক্রন কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরুন।

সঠিকভাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

প্রত্যেককে টিকা নিন এবং অন্যকে উৎসাহিত করুন।

জনাকীর্ণ স্থানে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন।

অসুস্থবোধ করলে দ্রুত পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং বেসিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।