শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 463

স্তনে ব্যথা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

নারীরা মাঝেমধ্যেই স্তনে ব্যথা অনুভব করেন। স্তনে ব্যথা করলে অনেক নারীই ভাবেন তার হয়তো স্তন ক্যান্সার হয়েছে। স্তন ব্যথা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। স্তন ব্যথার সঠিক কারণ জানা থাকলে অহেতুক আতঙ্ক দূর হবে।

স্তন ব্যথা হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আবার কিশোরীদের মাসিকের সময়ও এই ব্যথা হতে পারে। স্তন ব্যথার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইবনেসিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আজিজুর রহমান।

স্তনে ব্যথা আঘাতের কারণে হতে পারে কিংবা অন্য কোনো কারণেও হতে পারে। দেহে হরমোনের পরিবর্তনে কিশোরী মেয়েদের যখন পিরিয়ড হয় প্রকৃতিগতভাবেই তারা তাদের স্তনে হালকা ব্যথা অনুভব করে থাকেন। অনেক সময় পিরিয়ড হওয়ার আগেও স্তনে ব্যথা হয়। পিরিয়ড হওয়ার আগে ও পরে দেহে হরমোনের পরিবর্তনের কারণেই এ ব্যথা হয়ে থাকে। তাই ভয়ের কোনো কারণ নেই। পিরিয়ড শেষ হয়ে গেলে এ ব্যথা থাকে না।

গর্ভকালীন গর্ভধারণের সময় নারীরা স্তনে ব্যথা অনুভব করেন। সাধারণত গর্ভবতীর গর্ভাবস্থা তিন মাস চলাকালীন স্তনে ব্যথা হওয়া শুরু হয়। তখন স্তনের আকার বৃদ্ধি পায় এবং অনেক সময় স্তনের ওপর দিয়ে নীলশিরা দেখা যায়, এর কারণ তখন দেহে অনেক বেশি পরিমাণে রক্ত প্রবাহ হতে থাকে ও হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। অনেক সময় নারীদের স্তনে প্রদাহজনিত সমস্যা হয়। এটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা ফাঙ্গাসের আক্রমণে হয়ে থাকে। এ সময় অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে এবং এ ব্যথা থেকে জ্বরও আসতে পারে। ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

স্তনের ভেতর এক ধরনের সিস্ট হতে পারে, এর ভেতর তরল জাতীয় পদার্থ থাকে এবং এর নাম ব্রিজসিস্ট। স্তনের গ্রন্থি যখন বৃদ্ধি পায় তখন অনেক সময় এ সিস্ট দেখা দেয়। সিস্টের কারণে স্তনে ব্যথা হয়। যখন সিস্টের আকার বৃদ্ধি পায় তখন আপনি নিজেও বুকে হাত দিয়ে এ সিস্ট অনুভব করতে পারবেন। সিস্ট অনুভব করতে পারলে অতি শিগগির স্তন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

মা হওয়ার পর সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও অনেক নারী স্তনে ব্যথা পেয়ে থাকেন। বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর আগে ও পরে সব সময় স্তন পরিষ্কার করে নেয়া ভালো। এতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা ফাঙ্গাস হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। অনেক সময় স্তনে ঘা হয়ে থাকে যার কারণে স্তনে ব্যথা হয়। এ সমস্যাটি হয় যখন স্তনের নিপলে ব্যাকটেরিয়া দেখা দেয় এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় যখন ভাইরাস আক্রমণ করে।

এ সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। বুকে ব্যথা হওয়ার মারাত্মক কারণ হল স্তন ক্যান্সার। স্তনে ব্যথা অবিরত তখন হবে যখন আপনি দীর্ঘদিন ধরে স্তন ক্যানসারে ভুগবেন।

কী করবেন

জীবন চর্চায় কিছুটা পরিবর্তন এনে স্তনে ব্যথা হওয়ার প্রবণতা কমে আসতে পারে। যেমন-

* স্তনের মাপ অনুযায়ী ব্রা পরুন। ছোট মাপের ব্রা এড়িয়ে চলুন।

* স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করুন যাতে চর্বি কম ও পুষ্টি বেশি থাকে।

* দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন তাহলে আপনার দেহে হরমোন পরিবর্তনের সমস্যা দূর হবে।

* ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি১ (থায়ামিন) এবং ভিটামিন ই এসব উপাদান দেহের জন্য দরকার। এ উপাদানসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।

বসন্তের রঙে রাঙিয়ে দিয়ে যাও

সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে, যাকে অন্যভাবে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন্স উৎসবও বলা হয়; যা বর্তমান সময়ে “বিশ্ব ভালোবাসা দিবস” হিসেবেই সমাদ্রিত। বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে দিনটিকে খুবই আনন্দের সঙ্গে ঘটা করে পালন করা হয়।

ভালোবাসা দিবসের ইতিহাসের দিকে তাকাতে গেলে আমরা বিভিন্ন দ্বিমত দেখেতে পাই। প্রাচীন রোমে ১৪ ফেব্রুয়ারি রোমান দেব-দেবীর রানী জুনোর (নারী ও প্রেমের দেবী) সম্মানে ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়। কারো কারো মতে এটিকে ভালোবাসা দিবস বলার কারণ ছিল।

আবার কেউ বলেছেন, ২০০ খ্রিস্টাব্দে রোমের সম্রাট ক্লডিয়াস দেশে বিয়ে প্রথাকে নিষিদ্ধ করেন। তিনি ঘোষণা করে দেন- “আজ থেকে কোনো যুবক বিয়ে করতে পারবে না। যুবকদের জন্য শুধুই যুদ্ধ।” কেননা যুবকরা বিয়ে করলে যুদ্ধের প্রতি অনীহা করতে থাকে। তার মতে যুবকরা যদি বিয়ে করে তবে যুদ্ধ করবে কারা?

সম্রাটের এমন অন্যায় ঘোষণার প্রতিবাদ করেন ভ্যালেন্টাইন নামের এক যুবক। অসীম সাহসী এই যুবকের প্রতিবাদে ক্ষেপে উঠেছিলেন স্বয়ং সম্রাট। রাজদ্রোহের শাস্তি হিসেবে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা মাথা কেটে ফেলে তার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ভালোবাসার জন্য ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগকে স্মরণ করতে তখন থেকেই এ দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

আবার প্রাচীনকালে বিশ্বাস করা হতো ১৪ ফেব্রুয়ারি পাখিদের বিয়ের দিন। পাখিরা তাদের জীবন সাথীকে এদিনে বিয়ে করত। বসন্ত ঋতুটি যেন ছিল তাদের বিয়ের ও ভালোবাসার ঋতু। তাই ভালোবাসার এমন নিদর্শনকে পরবর্তীকালে ভালোবাসা দিবসের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

আবার এখানেও অনেকে দ্বিমত প্রকাশ করে বলেন, প্রাচীন রোমে ভ্যালেন্টাইন নামের একজন চিকিৎসক ছিলেন যিনি ভালোবেসে রোগীর সেবা করতেন এবং তেতো ওষুধের সাথে মধু ও দুধ মিশিয়ে রোগীদের খাওয়াতেন। একদিন রোমের এক কারাপ্রধান চিকিৎসার জন্য তার অন্ধ মেয়েকে ভ্যালেন্টাইনের কাছে নিয়ে এসেছিলেন।

ভ্যালেন্টাইন তার সাধ্যমতো চিকিৎসা করে মেয়েটিকে সুস্থ করে তোলার জন্য। মেয়েটির চিকিৎসা চলাকালীন হঠাৎ একদিন রোমান সৈন্যরা এসে ভ্যালেন্টাইনকে বেঁধে নিয়ে যায়। কেননা ডাক্তার ছিল খ্রিস্টান ধর্মের। সেই সময় এটি ছিল একটি অপরাধ।

যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ভ্যালেন্টাইনের বুঝতে বাকি ছিল না খ্রিস্টান হওয়ার অপরাধে তাকে মেরে ফেলা হবে। ভ্যালেন্টাইন অন্ধ মেয়েটিকে বিদায় জানিয়ে একটি চিরকুট লিখে রেখে গিয়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল— ‘ইতি তোমার ভ্যালেন্টাইন’ (‘From your Valentine’)।

ভ্যালেন্টাইনের হত্যার পর কারাপ্রধান চিরকুটটি মেয়েটিকে দিয়েছিলেন। মেয়েটি চিরকুটের ভেতরে বসন্তের হলুদ ত্রৌকস ফুলের আশ্চর্য সুন্দর রং দেখতে পেয়েছিল; কারণ ইতোমধ্যে ভ্যালেন্টাইনের চিকিৎসায় মেয়েটির অন্ধ দুই চোখে দৃষ্টি ফিরে এসেছিল। ২৬৯ খ্রিস্টাব্দে বা কারও মতে ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রোম সম্রাট ক্লডিয়াসের আদেশে ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ভালোবাসার এসব কীর্তির জন্য ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ জেলাসিয়ুস ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকেই দিনটিকে মানুষেরা ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে পালন করা হয়ে আসছে।

তবে আজ থেকে কয়েক বছর আগে ও দিবসটি এত জনপ্রিয় ছিল না। দিবসটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্য সভ্যতার অংশ হিসেবে উদযাপন করা হতো; কিন্তু বর্তমানে দিনটি যেন পুরো বিশ্বে ভালোবাসা প্রকাশের একটি অন্যতম মধ্যমে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম যায়যায়দিন পত্রিকার সাংবাদিক এবং সম্পাদক শফিক রেহমান ১৯৯৩ সালে ভালোবাসা দিবস পালন করেন। লন্ডনে পড়ালেখা করার সময় পশ্চিমা সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসেন তিনি। এরপর দেশের মানুষের মাঝে এই দিনটি তুলে ধরেন ভালোবাসার দিন হিসেবে।

বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের দেশে ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত উৎসব উদযাপিত হয় পহেলা ফাল্গুনে। ভালোবাসার লাল রঙে রঙিন হয়ে ওঠে প্রকৃতি। চারিদিকে ফুল আর কোকিলের মধুর কন্ঠে গান যেন প্রকৃতিকে নতুন রূপে রাঙিয়ে তোলে।

প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য যেন মানুষকে নতুন করে ভালোবাসতে শেখায়। চারেদিক থেকে বসন্তের গানই ভেসে ওঠে “বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিলো নেশা, কারা যে ডাকিছে পিছে বসন্ত এসে গেছে”। এ বাতাসে যেন প্রেমের গন্ধ ভাসতে থাকে। রমণীরা লাল বা বাসন্তী শাড়ি আর মাথায় তাজা ফুল পরে বর্ণিল আয়োজনে বরণ করে বসন্ত কে।

তরুণ সমাজের কাছে বসন্ত পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ও বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতির মিশ্রণে ভিন্নভাবে “বিশ্ব ভালোবাসা দিবস” নামে এটি পালিত হয়। বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবস শুধু প্রকৃতিকে নতুন করে সাজায় সেরকম না। বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, টিভি চ্যানেল গুলোতে প্রচারিত হয় বিভিন্ন ভালোবাসার গান, নাটক, গল্প ইত্যাদি।

ভালোবাসা দিবসের জনপ্রিয় নাটক “ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প”; যা দর্শকরা লিখে পাঠান। তার মধ্যে মনোনীত করে সবচেয়ে সুন্দর গল্প নিয়ে বানানো হয় অসাধারণ ভালোবাসার তিনটি নাটক; যা এখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এছাড়া ফুলের দোকান, উপহার সামগ্রীর বিতান, শপিং মল ও রেস্তোরাঁগুলোতে থাকে বিভিন্ন অফার। কেবলমাত্র তরুণ সমাজই নয়, পরিবার ও বন্ধুবান্ধব সবাই মিলে উদযাপন করা হয় ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসার এমন দিনে সবায় যেন কাছের মানুষটির সাথে ভালোবাসা ভাগাভাগি করে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভালোবাসার এ উৎসব পালিত হয় বিভিন্নভাবে। বর্তমানে পাশ্চাত্যে ধুমধাম করে এ উৎসব উদ্যাপন করা হয়। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্টে মানুষ প্রায় কোটি ডলার ব্যয় করে ভালোবাসা দিবসের জন্য কার্ড, ফুল, চকোলেট, অন্যান্য উপহারসামগ্রী ও শুভেচ্ছা কার্ড ক্রয় করে এবং আনুমানিক প্রায় ৩ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদান করা হয়। তবে দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়নি।

মহাসমারোহে ভালোবাসার উৎসব পালন করা হলেও বিভিন্ন দেশে ভ্যালেন্টাইন্স ডে’কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার ভ্যালেন্টাইন্স উৎসব নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কেননা পাশ্চাত্যের ক্ষেত্রে জন্মদিনের উৎসব, ধর্মোৎসব সবক্ষেত্রেই ভোগের বিষয়টি মুখ্য করে দেখা হয়। তাই গির্জার অভ্যন্তরেও মদ্যপানে তারা বিরত থাকে না। খ্রিস্টীয় চেতনা ভ্যালেন্টাইন দিবসের কারণে বিনষ্ট হওয়ার কারণেই ফ্রান্সে ভ্যালেন্টাইন্স ডে’কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইংল্যান্ডের ক্ষমতাসীন পিউরিটানরাও প্রশাসনিক নিষিদ্ধ করেছিল ভ্যালেন্টাইন ডে। এছাড়া ও অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে এ দিবসটি জনগণ ও সরকারিভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।

২০০৯ সাল থেকে ইরানে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ফুল, কার্ড, চকলেট ইত্যাদি দেওয়াকে নিষিদ্ধ করেছে। ইসলামী বিধানের পরিপন্থী হওয়ার ইন্দোনেশিয়া ও ভ্যালেন্টাইন ডে পালন নিষিদ্ধ করেছে। সর্বশেষ পাকিস্তানে ও দিনটি উদযাপনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক ভ্যালেনটাইন্স ডে পালন করা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে বর্তমানে ভ্যালেনটাইন্স আর বসন্ত উৎসব যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। বাসন্তী আর লাল রঙে কেবল প্রকৃতিই নয় রঙিন হয়ে ওঠে প্রত্যেকটি মানুষের মন। বর্তমানে ভালোবাসা দিবস কেবল প্রেমিক প্রেমিকারা পালন করে এমন নয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব বয়সের মানুষ উদযাপন করে ভালোবাসার এ উৎসব। সবাই মিলে মেতে ওঠে ভালোবাসা আদান প্রদানের মাধ্যমে মনকে নতুন রঙে রাঙাতে। সবাই যেন নিজের অজান্তেই গেয়ে ওঠে—

“রাঙিয়ে দিয়ে যাও
যাও গো এবার যাবার আগে।”

নুসরাত জাহান শুচি
শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

সর্বোচ্চ প্রকাশনায় সম্মাননা পেলেন জাবি অধ্যাপক শাহেদুর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ওয়েবসাইটে সর্বাধিক সংখ্যক প্রকাশনা প্রকাশ হওয়ায় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহেদুর রশিদকে ‘আবু জাফর শামসুদ্দিন ও আয়েশা আখতার খাতুন মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে সেন্টার অব এক্সিলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিংয়ের (সিইটিএল) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শাহেদুর রশিদকে সম্মাননা সনদ ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়।

এ সময় অধ্যাপক মো. শাহেদুর রশিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও গবেষক সবার জন্য এ সম্মাননা একটা স্বীকৃতি। গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট উন্নয়নের জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেক প্রকাশনা আছে, ওয়েবসাইটের মানোন্নয়ন করা হলে সেখানে আপলোড করা যাবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও বেড়ে যাবে।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আবু জাফর শামসুদ্দিন ও আয়েশা আখতার খাতুনের ছেলে দারা শামসুদ্দিন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আকবার হোসেন প্রমুখ।

অধ্যাপক মো. শাহেদুর রশিদ জাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ থেকে ১৯৮৯ সালে স্নাতক ও ১৯৯০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ডুরহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

পরে ১৯৯৩ সালে তিনি জাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০০৫ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ১৫৬টি গবেষণা নিবন্ধন প্রকাশিত হয়েছে।

বাউবির এসএসসির ফল প্রকাশ, পাশের হার ৭৯.১৫%

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের বিষয়ভিত্তিক ফলসহ চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে পাশের হার শতকরা ৭৯ দশমিক ১৫ শতাংশ।

উন্মুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মেজবাহ উদ্দিন তুহিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাউবির এসএসসি-২০২১ ব্যাচে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৮৪ হাজার ২০৪। এ পরীক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে ৬৬ হাজার ৫৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

চূড়ান্ত পরীক্ষায় ৩২ হাজার ৮৮১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। উত্তীর্ণ হয় ২৬ হাজার ২৬ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৪ জন অ+, ৮৯৪ অ, ৪ হাজার ১৫ অ-, ৮ হাজার ৬০ ই, ১২ হাজার ৪৯৯ ঈ এবং ৫৪৪ জন উ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে।

উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ হাজার ৫৯৩ জন ছাত্র এবং ১০ হাজার ৪৩৩ জন ছাত্রী। ফলাফল সংক্রান্ত বিস্তারিত জানা যাবে www.bou.ac.bd ওয়েবসাইটে।

জায়েদ-নিপুণের শুনানির দিন ফের পেছাল

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির (এফডিসি) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে জায়েদ নিপুণের দ্বন্দ্বের আজও কোনো সুরাহা হয়নি। এ বিষয়ে হাইকোর্টে দায়ের হওয়া রিটের রুল শুনানির দিন ফের পিছিয়েছে।

শুনানির জন্য আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে সোমবার চিত্রনায়ক জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদে চেম্বারজজ আদালতের জারি করা স্থিতাবস্থাও বহাল রাখা হয়।

সে হিসেবে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ শূন্যই থাকছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিপুণকে ১৩ ভোটে হারিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। ফল না মেনে নির্বাচনের সময় ‘ভোট কেনার’ অভিযোগ তুলে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেন অভিনেত্রী নিপুণ আক্তার।

এমনকি এ পদে পুনরায় ভোটের দাবিও তোলেন তিনি। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জায়েদ খানের পদ বা প্রার্থিতা বাতিল হবে কী না- সে বিষয়ে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে এফডিসিতে বসেন শিল্পী সমিতির আপিল বোর্ড।

অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার দায়ে বিজয়ী প্রার্থী জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করেন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান।একই সঙ্গে নিপুণকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দেন।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ডের প্রার্থিতা বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান।

এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন জায়েদ খান। ৭ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন নিপুণ। ৯ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে স্থিতাবস্থা জারি করেন চেম্বার আদালত।

নিপুণের আবেদনটি ১৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনে ওই সময়ে দুই পক্ষকে (নিপুণ ও জায়েদ) স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেন। কিন্তু ধার্য তারিখে (১৩ ফেব্রুয়ারি) লিভ টু আপিল করার কথা জানান নিপুণের আইনজীবী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি শুনানির জন্য ছিল।

পরের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদে স্থিতাবস্থাও বহাল রাখা হয়। পাশাপাশি এ বিষয়ে জারি করা রুল হাইকোর্টকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় আজ রুল শুনানি হওয়ার কথা ছিল।

অঙ্কুশের জন্মদিনে ভালোবাসার যে বার্তা দিলেন ঐন্দ্রিলা

ভালোবাসা দিবসে ছিল অঙ্কুশের জন্মদিন। বিশেষ দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার আবেগঘন বার্তা দিলেন টালিউড অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেন। প্রেমিকের বিশেষ দিনে ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি-নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেয়ালজুড়ে ফেস্টুন, হলুদ-কালো বেলুন, পেছনে বেলুন দিয়ে বড় বড় করে লেখা— ‘হ্যাপি বার্থ ডে অঙ্কুশ’। বার্থ ডে বয় অঙ্কুশকে আদর করে জড়িয়ে ধরে রয়েছেন ঐন্দ্রিলা। প্রেমিকার কপালে আদর চুমু এঁকে দিচ্ছেন অভিনেতা।

ক্যাপশনে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ঐন্দ্রিলা লিখেছেন— শুভ জন্মদিন আমার জীবনের সেই মানুষটাকে যে চিরকালের জন্য আমার হৃদয় অধিকার করে রেখেছে। যতটা সম্ভব, ততটাই ভালো কাটুক জন্মদিন। তুমি আমার কাছে হীরের মতো অঙ্কুশ।

অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলার এই ছবি দেখে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন অনুরাগীরা। অঙ্কুশকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তারা। ছবিতে টালিউড তারকা জুটিকে ঘরোয়া পোশাকে দেখা মিলেছে। তাদের সম্পর্কের রসায়ন যে বেশ গাঢ় তা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পিডিএতে চোখ রাখলেই বোঝা যায়।

রিয়ালের বিপক্ষে কি খেলছেন নেইমার?

নভেম্বরের শেষ দিকে ইনজুরিতে পড়ে মাঠের বাইরে ছিটকে গিয়েছিলেন নেইমার। বেশ কিছু সময় মাঠের বাইরে তিনি। ইতোমধ্যে ক্লাবের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। আজ রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার মাঠে নামতে পারেন এমন আভাস পাওয়া গেছে।

সূত্র বলছে, ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে নকআউট পর্বে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরছেন নেইমার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) সঙ্গে অনুশীলন করেছেন নেইমার। পিএসজি বলছে, রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা আছে নেইমারের।

প্রায় তিন মাস পর মাঠে নামছেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার।

নেইমারের খেলার বিষয় দলের অধিনায়ক মারকিনিয়োস বলেন, ‘নেইমার ভালো আছে এবং পুরো আত্মবিশ্বাস নিয়ে আছে। সে যদি খেলে শতভাগ দিয়েই খেলবে। তবে তাকে খেলানোর সিদ্ধান্ত শুধুই কোচের।’

নেইমারের ফেরার সম্ভাবনার ম্যাচে খেলতে পারছেন না পিএসজির তারকা ডিফেন্ডার সার্হিও রামোস। ইনজুরিতে মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন এই তারকা। তার সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে প্রথম লেগের ম্যাচে তাই দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে রামোসকে।

এই ম্যাচ দিয়ে বড় পরীক্ষা দিতে হচ্ছে পিএসজির কোচ মারিসিও পচেত্তিনোর। চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতার স্বপ্নের বোঝা এখন তার ঘাড়ে।

এই স্বপ্ন পূরণের পথে কোচের তুরুপের তাস হতে পারেন লিওনেল মেসি। রিয়ালের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি গোল করা খেলোয়াড় তিনি। সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের এই আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা হচ্ছেন মেসি।

আইপিএলে দল পাননি ভারতীয় যেসব তারকা

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আসন্ন ১৫তম আসরের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়ে গেল রোব ও সোমবার।

বেঙ্গালুরুর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত প্লেয়ার বেচাকেনার এ আসরে অনেক তারকা, উঠতি তারকা ক্রিকেটার সুযোগ পেলেও দল পাননি ভারতের অনেক রথি-মহারথি।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ে নিষিদ্ধ কাটিয়ে অনেক আগ্রহ নিয়েই এবারের আইপিএলের নিলামে নাম দিয়েছিলেন এস শ্রীশান্ত। কিন্তু তাকে নেয়নি আইপিএলের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি।

নিলামে ৬০০ জন ক্রিকেটারের মধ্যে দল পেয়েছেন ২০৪ জন। বেশিরভাগ ক্রিকেটার নিলামে দল পাননি।

দল না পাওয়াদের তালিকায় রয়েছেন ভারতের সাবেক ও বর্তমান বেশ কিছু তারকা। আইপিএলের শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন অলরাউন্ডার সুরেশ রায়না। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে চেন্নাই সুপার কিংসের একাধিক শিরোপাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন রায়না। কিন্তু এবারের আসরে তাকে দলে নেয়নি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি।

এবারের নিলামে দল পাননি আইপিএলের কিংবদন্তি লেগ স্পিনার অমিত মিশ্র। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৬৬ উইকেট শিকার করা ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এবার হয়ে গেছেন আইপিএল দর্শক।

আইপিএল ১৫তম আসরে দল পাননি ভারতের টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্য পেস বোলার ইশান্ত শর্মা, লেগ স্পিনার পীযূষ চাওলা, অফ স্পিনার কেদার যাদব, মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান চেতেশ্বর পূজারা, সৌরভ তিওয়ারি, হনুমা বিহারী, মনোজ তিওয়ারি, মোহিত শর্মা, মুরলি বিজয় ও এস শ্রীশান্ত।

মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভ

হাজিরা বোনাস বৈষম্য, বেতন আটকে দেওয়া ও দুই সেকশনের শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন গার্মেন্ট শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশও তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের টঙ্গী মিলগেট নামাবাজারে গোরিয়ং ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা এ বিক্ষোভ করেন। তবে একপর্যায়ে শিল্পপুলিশের পক্ষ থেকে কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

কারখানার শ্রমিক বিনা রানী দাস, মুন্নি, আরজিনা, সুমিসহ অনেকে জানান, কারখানায় ফিনিশিং সেকশনের শ্রমিকদের মাসিক হাজিরা বোনাস ৫০০ টাকা দেওয়া হয়। অথচ সুইং সেকশনের কাউকে ৩০০ এবং কয়েকজনকে ২০০ টাকা হাজিরা বোনাস দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছিল।

এ ছাড়া গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাদের জানুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করা হলেও যাদের অফিসে অনুপস্থিতির সংখ্যা বেশি ছিল, তাদের বেতন আটকে দেওয়া হয়। বেতন আটকে দেওয়া প্রায় ২৫-২৮ শ্রমিক ওই দিন বিক্ষোভ করেন। এরই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার ফিনিশিং সেকশনের সুমিসহ কয়েকজন মিলে সুইং সেকশনের নারী শ্রমিকদের মারধর করেন। এতে দুই সেকশনের শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে শনিবার যথারীতি শ্রমিকরা কারখানায় কাজে যোগ দিয়ে সুইং সেকশন কর্তৃপক্ষের কাছে সহকর্মী মারধরের বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে কারখানা কর্তৃপক্ষ রোববার কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন।

ফের সোমবার কারখানায় এসে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে আবার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা চেরাগআলী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ১০ মিনিট অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এ বিষয়ে কারখানার সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, কারখানায় গত বৃহস্পতিবার থেকে কাজ হচ্ছে না। শ্রমিকরা মারধরের বিচারের দাবিতে কাজে যোগ না দিয়ে আন্দোলনে নামেন। এমন পরিস্থিতিতে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ না আসায় কারখানায় অচলাবস্থা দেখা দেয়।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মো. হাসিবুল আলম বলেন, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একপর্যায়ে শিল্পপুলিশের পক্ষ থেকে কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

দেশের বৃহত্তম রাবার ড্যামে ফুটো, দুশ্চিন্তায় কৃষক

ভরা সেচ মৌসুমে রাবার ফুটো হয়ে অকেজো হয়ে পড়ে আছে দেশের বৃহত্তম দিনাজপুরের মোহনপুর রাবার ড্যাম। এতে সেচ সংকটে পড়েছে এই রাবার ড্যামের ওপর নির্ভরশীল দিনাজপুরের দুটি উপজেলার ৯ ইউনিয়নের প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমি।

ফলে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই এলাকার হাজার হাজার কৃষক। তবে রাবার ড্যামটি মেরামতের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের তথ্যানুযায়ী, কৃষিনির্ভর দিনাজপুরে সেচ সংকট কাটাতে গত ২০১১ সালে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আত্রাই নদীর মোহনপুর ব্রিজ এলাকায় একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ শুরু করে সরকার। ১৩৫ মিটার দীর্ঘ দেশের বৃহত্তম এই রাবার ড্যামটি ২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

খরা মৌসুমে এই ড্যাম ফুলিয়ে আত্রাই নদীর ৪৪ কিলোমিটার এলাকায় ধরে রাখা হয় পানি। আর সেই পানি দিয়েই দিনাজপুর সদর ও চিরিরবন্দর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করা হয়।

কিন্তু এবার সেই ড্যামটির রাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ধরে রাখতে পারছে না পানি। শুকিয়ে গেছে দুই উপজেলার ৯ ইউনিয়নে চাষাবাদের জন্য সেচের প্রধান উৎস আত্রাই নদীর পানি। নদীর বিভিন্ন স্থানে পানি থাকার বদলে পরিণত হয়েছে ধু-ধু বালুচরে। সেচনির্ভর ভরা বোরো মৌসুমে এ অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই এলাকার হাজার হাজার কৃষক।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ভাবকী গ্রামের কৃষক আজিজার রহমান জানান, আড়াই বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। প্রতিবছর আত্রাই নদীতে রাবার ড্যাম দিয়ে আটকানো পানি দিয়েই তিনি এই বোরো আবাদ করে থাকেন। কিন্তু এবার রাবার ড্যামটি নষ্ট হয়ে থাকায় আত্রাই নদীতে নেই কোনো পানি। এদিকে বোরো চারাও বড় হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পানির অভাবে জমিও প্রস্তুত করতে পারছেন না, আর বোরো ধান রোপন করতে পারছেন না তিনি। এ অবস্থায় বোরো আবাদ দুশ্চিন্তায় এই কৃষক।

একই এলাকার কৃষক মিন্টু হোসেন জানান, প্রতিবছর পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করে করে থাকেন তিনি। রাবার ড্যাম দিয়ে আটকানো আত্রাই নদীর পানি সেচ দিয়ে এই বোরো আবাদ করায় জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও নেই তার। কিন্তু মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও পানির অভাবে বোরো আবাদ শুরু করতে পারেননি তিনি।

রাবার ড্যামটি নির্মাণ হয় স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে। আর এর রক্ষণাবেক্ষণের কাজও করে থাকেন এই দপ্তরটি।

রাবার ড্যামের রাবার নষ্ট হয়ে থাকার কথা স্বীকার করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল আজিজ জানান, রাবার ড্যামটির রাবার ফুটো হয়ে গেছে। তা ড়া রাবার ড্যামের দুইধারে মেরামত কাজও করতে হবে।

তিনি বলেন, এটি মেরামতে