রবিবার ,১৪ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 439

হেরোইনসহ ৫৭ জনকে গ্রেফতার

হেরোইন, ইয়াবা ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ অন্তত ৫৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও বেচাকেনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

বুধবার ভোর ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার একই সময় পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ২৯১৩৯ পিস ইয়াবা বড়ি, ২০৫ গ্রাম ১১০ পুরিয়া হেরোইন ও ২৪ কেজি ৮৯৫ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৯টি মামলা করা হয়েছে।

রায়ের পর যে প্রতিক্রিয়া জানালেন জায়েদ খান

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির (বিএফডিসি) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারের আপিল অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেওয়ায় জায়েদ খানই থাকছেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

রায়ের পর বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দুইটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন জায়েদ খান।

প্রথম স্ট্যাটাসে জায়েদ খান লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ,আলহামদুলিল্লাহ।’

একটু পরেই আরেকটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘খারাপ কখনো হার মানতে চায় না, আর ভালো কখনো হেরে যায় না। অভিনন্দন ও ভালোবাসা বেশুমার।’

বুধবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ জায়েদ খানের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন।

আদালতে জায়েদ খানের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। আর চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জায়েদ খান আইনজীবী, মিডিয়াসহ তার অনুরাগীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, আমার প্রাপ্য অধিকার আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি জয় পেয়েছি।

তবে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমার জয়ের পরও যারা আমার বিরোধিতা করে আমার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে তারা প্রতিনিয়ত আমার কাজে বাধা দেওয়অর চেষ্টা করবে। সবশেষে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ এবং শিল্পী সমিতির কাজ ভালোভাবে চালিয়ে যেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

এর আগে বুধবার রুলের শুনানির জন্য হাইকোর্টে পৌঁছান নিপুন ও জায়েদ।

গত ২৮ জানুয়ারি শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পর দিন প্রাথমিক ফলে জায়েদ খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জয়ী ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচনি আপিল বোর্ডের কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন নিপুণ।

আপিল বোর্ড সমাজসেবা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠায়। পরিপ্রেক্ষিতে ২ ফেব্রুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তর এক চিঠিতে জানায়, আপিল বোর্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ড জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে।

ইভ্যালিকাণ্ডে তাহসান মিথিলা ফারিয়ার সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ

বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকাণ্ডে সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান, অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা এবং অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ।

বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। তাই তাদের অব্যাহতি প্রদানে সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে ইভ্যালির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, ইভ্যালির প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক গ্রাহকের করা মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণে তাহসান, মিথিলা ও ফারিয়াসহ পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি- এমন প্রতিবেদন দিয়ে আদালতে তাদের অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

সাদ স্যাম রহমান নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক ৪ ডিসেম্বর গায়ক অভিনেতা তাহসান খান, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়াসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় মামলা করেন। মামলায় ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল, চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকেও আসামি করা হয়।

এ মামলায় ইভ্যালির রাসেল ও শামীমাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, আসামিরা প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে তিন লাখ ১৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তখন ইভ্যালির সঙ্গে যুক্ত তাহসান, মিথিলা ও ফারিয়ার উপস্থিতি ও তাদের ‘প্রমোশনাল’ কথাবার্তায় প্রলুব্ধ হয়ে তিনি পণ্যের অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু সে পণ্য এখনো পাননি, অর্থও ফেরত পাননি।

সূত্রমতে, মার্চে ইভ্যালির পণ্যদূত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান রহমান খান। পরে গ্রাহকদের অসন্তোষ নিয়ে নানা খবরের মধ্যে তিনি ওই চুক্তি বাতিল করার কথা জানান। ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হওয়ার পর শুভেচ্ছাদূত হিসাবে চুক্তিবদ্ধ থাকা অভিনেত্রী মিথিলাও চুক্তি বাতিলের খবর দিয়েছিলেন। আর ওই ই-কমার্স কোম্পানির জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা শবনম ফারিয়া চাকরি ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন।

এদিকে গত ২০ জানুয়ারি তাহসানের ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা এবং ৬ ফেব্রুয়ারি অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া স্থায়ী জামিন পান।

এর আগে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর শবনম ফারিয়ার আট সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন উচ্চ আদালত। ওইদিন মিথিলাও আট সপ্তাহের জামিন পান।

এতে লজ্জার কিছু নেই: তামিম

শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজেও প্রথম দুই ম্যাচ জেতার পর তৃতীয় ম্যাচে হেরে বসেন তামিমরা। এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে একই একাদশ তিন ম্যাচে খেলিয়েও পুরো ৩০ পয়েন্ট ঝুলিতে ভরতে পারল না বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে হতাশায় পুড়ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

তবে সেই কষ্ট ছাপিয়ে এখন আলোচনায় তিন ম্যাচেই একই বোলারের করা একইরকম ডেলিভারিতে তামিমের আউট হওয়া।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৫ বছর পার করা তামিমের ২১ বছর বয়সি আফগান পেসার ফজল হক ফারুকির কাছে বারবার পরাস্ত হওয়াকে মেনে নিতে পারছেন না বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীরা।

সাড়ে তিনশর বেশি ম্যাচ খেলেছেন তামিম, একটি দলের অধিনায়কও তিনি। আর তিনিই কিনা মাত্র ৩টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলা পেসার ফারুকির কাছে ধরাশায়ী হলেন।

তবে বিষয়টি নিয়ে লজ্জিত হন তামিম। বললেন, ‘এতে লজ্জার কিছু নেই, আরও ভালো হতে হবে আমাকে।’

ফারুকির হ্যাটট্রিক শিকারে পরিণত হয়ে সিরিজে তামিমে মোট সংগ্রহ মাত্র ৩১ রান (১১, ১২ ও ৮)। তিন ম্যাচ মিলে পঞ্চাশের কোটাও পার করতে পারেননি এ ড্যাশিং ওপেনার। এর চেয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স আর কি হতে পারে!

কিন্তু তামিম জানালেন, নিজের ব্যাটিং নিয়ে বরং গর্ব করেন তিনি। একই বোলারের কাছে বারবার আউট হওয়ার চেয়ে তাকে বেশি পোড়াচ্ছে অন্য কিছু। সিরিজে অবদান রাখতে না পারার হতাশায় ভুগছেন তিনি।

সোমবার তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হারের পর তামিম বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এক বোলারের বলেই বারবার (আউট হওয়া) এটা মনে নেওয়ায় বা লজ্জার কিছু নেই যে, সে আমাকে হারিয়ে দিয়েছে। এটা নিয়ে কাজ করতে হবে আমার মনে হয়। তবে একই ধরনের ডেলিভারিতে তিনবার আউট হয়েছি বলেই যে কাজ করতে হবে, এমন নয়। কারণ, ওই জায়গায় আমি অনেক রানও করেছি। হয়তো আমাকে আরেকটু ভালো করতে হবে। একটু ভালো হতে হবে। আর এটা নিয়ে আমি কাজ করে যাব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে, আমি সবসময় বলে এসেছি, কাজ করে যেতে হবে, করে যেতেই হবে। কাজ করতে থাকলে এতে ভালো হয়ে উঠবেনই।’

তিন ম্যাচেই কম রানে আউট হওয়া নিয়েই বেশি হতাশ তামিম। বলেন, ‘আউট হওয়ার ধরনের চেয়ে আমি বেশি হতাশ যে দলে অবদান রাখতে পারিনি। ওটা নিয়ে দুর্ভাবনা বেশি নেই আমার, কারণ এই জায়গাটায় আমি আগেও আউট হয়েছি, অনেক রানও করেছি। তবে গোটা সিরিজে রান না করা ও তিনবার আউট হওয়া হতাশাজনক। কারণ নিজের ব্যাটিংয়ে আমি অনেক গর্ব খুঁজে নেই এবং নিজের কাছে নিজের ব্যাটিংয়ের মানদণ্ড অনেক উঁচুতে।’

গত তিন ম্যাচের বিশ্লেষণে দেখা গেল, প্রতিবারই আড়াআড়ি পা নিয়ে অনসাইডে খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন তামিম।

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে এলবিডব্লিউ হন তামিম। দুবারই ফারুকির ভেতরে ঢোকা ডেলিভারি তিনি সামলাতে পারেননি। পা একটু বেশি বাড়িয়ে মাথার পজিশন নড়ে যাওয়াতেই বলে ব্যাট লাগাতে পারেননি, বল লাগে প্যাডে।

তৃতীয় ম্যাচের আগে ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স জানিয়েছিলেন, তামিম নিজেও সমস্যাটি অনুভব করছেন এবং তারা এটি নিয়ে কাজ করবেন।
কিন্তু ‘যেই লাউ সেই কদু’ প্রবাদের মতো তৃতীয় ম্যাচেও ফারুকির একই শটে আউট হন। এবার আরো বেশি। বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।

‘এখানে খেলার একটা আলাদা ইচ্ছা ছিল’

দীর্ঘ ২৪ বছর পর পাকিস্তান সফর করছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল।

রাওয়ালপিন্ডিতে ৪ মার্চ প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া। কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দলে রয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ৩৬ বছর বয়সি ক্রিকেটার উসমান খাজা।

তিনি পাকিস্তান সফরে গিয়ে বলেছেন, ‘পাকিস্তানে এসে ক্রিকেট খেলতে পারার অনুভূতিটাই আলাদা।’ খাজার জন্ম হয়েছিল ইসলামাবাদে। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান।

পাকিস্তান বংশোদ্ভূত এই ক্রিকেটার বলেন, পাকিস্তানের মাটিতে এসে খেলার ইচ্ছা আমার অনেক দিনের। রাওয়ালপিন্ডির পুরনো স্টেডিয়ামে আমি ছোটবেলায় যেতাম। তাই এখানে খেলার একটা আলাদা ইচ্ছা ছিল।’

সফরের আগে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন অজি তারকা ক্রিকেটাররা। তার কারণ জানুয়ারি মাসে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে বোমা হামলায় ৭ সেনা সদস্যসহ ২০ জন নিহত হয়েছেন।

এমন ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার তারকা ক্রিকেটাররা পাকিস্তান সফর নিয়ে বেশ শঙ্কিত ছিলেন। এমন শঙ্কার মধ্যেই সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে রেখে পাকিস্তান সফরে গেছেন উসমান খাজা।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪৬টি টেস্ট, ৪০টি ওয়ানডে আর ৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ১২টি সেঞ্চুরি আর ২৭টি ফিফটির সাহায্যে ৪ হাজার ৯৩৭ রান করা উসমান খাজা বলেন, আমি ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি, এটি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি যেভাবে পারি ক্রিকেট খেলতে চাই।

পাকিস্তানে জন্ম নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা উসমান খাজার ১১ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অতীতে জন্মভূমিতে খেলার সুযোগ হয়নি। এ কারণে এবারের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি খাজা।

পাকিস্তান সফরে তিনটি টেস্ট, তিন ম্যাচের ওয়ানডে আর একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল।

অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দল: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, অ্যাশটন অ্যাগার, স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, মার্কাস হ্যারিস, জশ হ্যাজেলউড, ট্র্যাভিস হেড, জশ ইঙ্গলিস, উসমান খাজা, নাথান লিয়ন, মিচেল মার্শ, মাইকেল নেসার, মিচেল স্টার্ক ও মিচেল সুইপসন।

কুড়িগ্রামে শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু

কুড়িগ্রামে ৫০তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

প্রতিযোগিতায় কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলা থেকে বিজয়ী ক্রীড়াবিদরা জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণ করছে। বিজয়ীরা আগামী ৬ মার্চ থেকে রংপুরে বিভাগীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। জেলার সাড়ে ৩ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ ডিসপ্লে, খেলাধুলা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কুড়িগ্রাম স্থানীয় সরকারি বিভাগের উপ-পরিচালক জিলুফা সুলতানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি মো. জাফর আলী, পৌর মেয়র কাজিউল ইসলাম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকু ও কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলু প্রমুখ।

নড়াইলে নারীর গলিত লাশ উদ্ধার

নড়াইলের কালিয়ায় অজ্ঞাত এক নারীর গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের চরবল্লারহাট এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নড়াগাতী থানার ওসি সুকান্ত সাহা জানান, আঠারোব্যকি নদীর পাশে লাশটি পড়ে ছিল। গলিত লাশটি চেনার কোনো উপায় নেই। এলাকাবাসীর খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তার পরনে কালো রংয়ের বোরকা আছে। ধারণা করা হচ্ছে- প্রায় দুই সপ্তাহ আগে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ইউক্রেনে দুই হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিক নিহত হয়েছে বলে বুধবার দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দেশটির ইমারজেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। রাশিয়ার হামলায় ১০ জন উদ্ধারকর্মীও নিহত হয়েছে।

রাশিয়ার ছোড়া বোমায় ধরে যাওয়া অন্তত ৪০০ জায়গার আগুন নেভানো হয়েছে। নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে ৪১৬টি বিস্ফোরক।

গত সাত দিনের যুদ্ধে রাশিয়া শত শত পরিবহন কেন্দ্র, আবাসিক ভবন, হাসপাতাল এবং কিন্ডারগার্টেন ধ্বংস করেছে বলে দেশটির ইমারজেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে।

এদিকে বুধবার রাশিয়ান সেনারা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খেরসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলের এক সদস্য বিবিসিকে বলেছেন, খেরসনে ২০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। এর বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। শহরটিতে প্রায় আড়াই লাখ লোক বাস করেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ইউক্রেনে ‘ভ্যাকুয়াম বোমা’ ব্যবহারের অভিযোগ, কতটা ভয়ংকর এই বোমা?

চলমান সংঘাতে ইউক্রেনে রাশিয়া ভ্যাকুয়াম বোমা বা থার্মোবারিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রাণঘাতী এই বোমা একই আকারের বিস্ফোরক দিয়ে তৈরি অন্য সাধারণ বোমার চেয়ে অনেক বেশি বিধ্বংসী। এই বিস্ফোরণের এলাকায় যে কারো ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে বলে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

সোমবার সুমি অঞ্চলে বিস্ফোরণে যে তেল পরিশোধনাগার বিধ্বস্ত হয়েছে সেখানে এই ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত। তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এই অভিযোগ যাচাই করতে পারেনি বলে বিবিসি জানিয়েছে।

কিভাবে কাজ করে বিধ্বংসী এই বোমা

ভ্যাকুয়াম বোমা বা থার্মোবারিক বোমা অ্যারোসল বোমা হিসেবেও পরিচিত। এই বোমায় থাকে একটি জ্বালানি তেলের কন্টেইনার এবং দুটি বিস্ফোরক চার্জার। এই বোমা দুই ধাপে কাজ করে। প্রথম ধাপের বিস্ফোরণে বাতাসে মেঘের মতো জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়ে।

দ্বিতীয় ধাপে এই জ্বালানি তেলের মেঘ আবার বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের গোলার মতো তৈরি হয়, যা বড় ধরনের শক ওয়েভ বা শব্দ তরঙ্গের ধাক্কা তৈরি করে এবং আশপাশের সব অক্সিজেন শুষে নেয়।

এ ব্যাপারে রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইন্সটিটিউটের গবেষক জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেছেন, সাধারণ বিস্ফোরকে ৩০ শতাংশ জ্বালানি তেল থাকে আর ৭০ শতাংশ থাকে অক্সিডাইজার। কিন্তু থার্মোবারিক বোমায় শুধু জ্বালানি তেল থাকে যা বাতাস থেকে সব অক্সিজেন শুষে নেয়। কিছু ওয়ারহেডের চেয়েও এটি অনেক বেশি শক্তিশালী।
ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

কিভাবে ব্যবহার করা হয় এই বোমা

এই বোমা রকেট আকারে নিক্ষেপ করা যায় অথবা বিমান থেকে ফেলা যায়। এই বোমা বিভিন্ন আকারের হতে পারে। যেমন হয়ত একজন সেনার অবস্থান লক্ষ করে ছোড়ার মতো হাতে বহনকারী, আবার রকেট লঞ্চার দিয়ে নিক্ষেপ করা যায় এমন বড়ই হতে পারে এই বোমা।

কেমন প্রভাব ফেলে এই বোমা?

ভ্যাকুয়াম বোমার ফলে ভয়াবহ তাপ ও চাপ সৃষ্টি হয়। এই বোমার একদম মাঝখানে যারা পড়বে তারা নিমিষেই বাষ্পের মতো উড়ে যাবে।

আর এর আশপাশে যারা থাকবে শব্দ তরঙ্গের ধাক্কায় তাদের শরীরের ভেতরের অঙ্গে বড় ধরনের আঘাত পাবে।

এ ব্যাপারে গবেষক জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেন, এই বোমায় মৃত্যু হয় মূলত এর কারণে ফুসফুস বা এরকম অভ্যন্তরীণ অন্যান্য অঙ্গ শরীরের ভেতরেই ফেটে চুরমার হয়ে যায়। বদ্ধ যায়গায় শব্দ তরঙ্গ আরও বড় আকার ধারণ করে। তাই যারা বদ্ধ কোনো প্রকোষ্ঠে যারা লুকিয়ে আছেন তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে বিধ্বংসী। এই বোমা কয়েক হাজার ডিগ্রির উচ্চ তাপ সৃষ্টি করে। যার ফলে শরীর ভয়াবহভাবে দগ্ধ হয়।

তবে কতটা ক্ষতি এই বোমা করবে তা তার আকারের উপরে নির্ভর করে।

কোথায় কোথায় এই বোমা ব্যবহার করা হয়েছে?

১৯৬০-এর দশক থেকে রাশিয়া ও পশ্চিমা বাহিনী ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহার করেছে। আফগানিস্তানে গুহার মধ্যে অবস্থান নেওয়া আল-কায়েদা যোদ্ধাদের আক্রমণে মার্কিন বাহিনী এই বোমা ব্যাবহার করেছে।

২০০০ সালে রাশিয়া চেচনিয়াতে এই বোমা ব্যবহার করেছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে।

সর্বশেষ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, সিরিয়াতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উপরে হামলায় রুশ এবং সরকারি বাহিনী এই বোমা ব্যবহার করেছে।

ইউক্রেনের শহরাঞ্চলে যদি ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যাবহার করা হয় তাহলে সেখানে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা হবে মারাত্মক ভয়াবহ।

কাজ শেষের আগেই সমাপ্ত ১২৪ প্রকল্প

কাজ শেষ না করেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে ১২৪টি উন্নয়ন প্রকল্প। এসব প্রকল্পের পেছনে খরচও হয়েছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু পুরো কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এগুলো গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য কতটুকু পূরণ হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এসব প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র। আজ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে। তবে এমন ঘটনা কেন ঘটছে তার সঠিক কোনো কারণ জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইনস্টিটিউট অব ইনক্লুসিভ ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফা কে মুজেরী মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, এরকম কাজ ঠিক হয়নি। এর অর্থ হতে পারে প্রকল্প দলিলে যেসব কাজ উল্লেখ ছিল তা পুরোপুরি শেষ করা হয়নি। অথবা এমন হতে পারে যে, প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে গিয়ে দেখা যায় এসব কাজের প্রয়োজন ছিল না। প্রকল্প তৈরির সময় বেশি টাকা নেওয়ার জন্য হোক বা অন্য যে কোনো কারণে হোক কাজগুলো ধরা হয়েছিল। যে কারণেই হোক এটি পরিকল্পনা ও আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি। কেননা একদিকে যেসব কাজ করার কথা সেগুলোতো হলোই না, অন্যদিকে যে টাকা খরচ হলো তা থেকেও পুরোপুরি সুবিধা পাওয়া গেল না। এটা এক ধরনের অপচয় ছাড়া কিছুই হলো না। তিনি আরও বলেন, প্রকল্প ডিজাইন যখন করা হয়েছিল সেখানে ভুল থাকতে পারে। ফলে পরে তড়িঘড়ি দায়সারাভাবে প্রকল্প শেষ করার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। যে কারণেই হোক, গোড়ায় যে গলদ ছিল তারই প্রকৃত উদাহরণ এসব প্রকল্প। এ থেকে বোঝা যায় রাজনৈতিক বিবেচনায় হোক আর যে কোনো উদ্দেশ্যেই হোক এডিপিতে যেনতেন ভাবে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। সেটি না হলে সমাপ্ত হওয়া প্রকল্পের প্রায় অর্ধেকের ক্ষেত্রে কেন এমন ঘটনা ঘটবে?

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে এডিপিভুক্ত মোট প্রকল্প ছিল ১ হাজার ৯৪৫টি। এর মধ্যে ৪৩৯টি উন্নয়ন প্রকল্প সমাপ্ত করার জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ২০২১ সালের জুনের মধ্যে শেষ হয়েছে ২৩৬টি প্রকল্প। এছাড়া সমাপ্তর জন্য নির্ধারিত না থাকলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে সমাপ্ত করা হয়েছে আরও ২৮টি প্রকল্প। ওই অর্থবছরে মোট প্রকল্প শেষ করা হয় ২৬৪টি। সমাপ্ত ঘোষণা করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ হয় ১৪০টির। বাকি ১২৪টি প্রকল্পের কাজ বাকি রেখেই সমাপ্ত করা হয়েছে। এগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোনোটি ৩৫-৪০ শতাংশ কাজ হলেও প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। ৬০ শতাংশের নিচে কাজ হয়েছে এমন প্রকল্পের সংখ্যাও রয়েছে উল্লেখযোগ্য। তবে কেন এমন হয়েছে তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি প্রতিবেদনে।

এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট ৩০৫টি উন্নয়ন প্রকল্প সমাপ্ত করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের জুনের মধ্যে ১৪১টির কাজ শেষ করা সম্ভব হয়। এছাড়া লক্ষ্যমাত্রা ছিল না কিন্তু তারপরও বাস্তবায়ন কাজ শেষ হয় ৪১টি প্রকল্পের। সব মিলিয়ে ওই অর্থবছরের শেষ হয়েছে ১৮২টি উন্নয়ন প্রকল্প। এগুলোর মধ্যে ৯০টি প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। বাকি ৯২টির কাজ শতভাগ শেষ না হলেও সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

আইএমইডির সাবেক সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লা মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, এসব প্রকল্পের বিষয়ে অবশ্যই ভাববার আছে। কেননা শতভাগ কাজ শেষ না করে প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণার মানেই হচ্ছে কোন কোন অঙ্গ হয়ত বাদ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রকল্পটি সম্ভাব্যতা যাচাই হয়তো ঠিকঠাক করা হয়নি। ফলে বাস্তবায়ন পর্যায়ে গিয়ে কিছু কিছু কাজ বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য যেমন ব্যাহত হতে পারে, তেমনি যে টাকা ব্যয় হয়েছে সেটিও কতটুকু কাজে লেগেছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তাই এরকম প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা দরকার।

আইএমইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইনস্টিটিউশনাল কো অপারেশন (বিটুইন স্ট্যাটিসটিকস সুইডেন অ্যান্ড বিবিএস) প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয় ২০১৯ সালের জুলাইয়ে। শেষ করা হয় ২০২০ সালের জুনে। এটির মোট ব্যয় ছিল ১৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে খরচ হয়েছে ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। প্রকল্পটি আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আর বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৩৮ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ প্রকল্পটির ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) যা ছিল প্রথম দিকে সুইডেন সব মেনে নিয়েছিল। অর্থায়ন ছিল সুইডেনের। কিন্তু প্রকল্প শুরুর পর তারা তাদের মতো করে অর্থ ব্যয় শুরু করে। অর্থাৎ আমাদের যা প্রয়োজন সেটি না করে তারা ইচ্ছমতো টাকা খরচ করতে থাকে। এমনটি সুইডেনের একজন পরামর্শক ছিলেন যিনি সুইডেন ভাষা ছাড়া কিছুই বোঝেন না বা বলতেও পারেন না। তিন তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একটি গাড়িও কেনেন প্রকল্পের টাকায়। এরকম পরিস্থিতিতে তখনকার সচিব স্যারের সিদ্ধান্তে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সেকেন্ড স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম সাইজ এন্টারপ্রেনিওর শীর্ষক প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এটির ব্যয় ধরা হয় ১৬ কাটি ৭১ লাখ টাকা। খরচ হয়েছিল ১৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তব কাজ শেষ হয় ৪৬ শতাংশ। তবে আর্থিক অগ্রগতি ছিল ৮৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। একই অবস্থা দেখা যায় প্রাণী ও মুরগির ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়সংক্রান্ত প্রকল্পে। এটি ২০১২ সালে হাতে নেওয়া হয়। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে চললেও বাস্তব অগ্রগতি হয় ৬০ শতাংশ । আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়ায় ৫৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ অবস্থায় সমাপ্ত করা হয়েছে। এরকম আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হচ্ছে-টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (টিপিপি) ফর প্রজেক্ট ডিজাইন অ্যাডভান্স (পিডিএ) ফর সিটি রিজিওন ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্ট। এটির আর্থিক অগ্রগতি ৪৪ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ। কনস্ট্রাকশন অব কানেকশন রোড উইথ শেখ হাসিনা ব্রিজ অন মহানন্দা রিভার আন্ডার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা। এটির বাস্তব অগ্রগতি ৩৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ২৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।