রবিবার ,১৪ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 438

যে কারণে রাতে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে ঢুকলেন সোহান

চট্টগ্রামে প্রথম ওয়ানডের পর বাংলাদেশকে টি ২০ ব্যাটিংয়ে বেশি মনোযোগী হতে দেখা যায়। শুধু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে থাকা চার ক্রিকেটারকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই অনুশীলনে বাড়তি আকর্ষণ ছিলেন মুনিম শাহরিয়ার।

তবে ম্যাচের আগের রাতে বাংলাদেশের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নুরুল হাসান সোহানকে।

সোহানকে দলে অন্তর্ভুক্তির কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

যদিও গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে ছিলেন না সোহান। তবে সিরিজ শুরুর প্রাক্বালে তাকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই টি-টোয়েন্টির একাদশেই বিবেচিত হবেন এ উইকেটকিপার।

সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মে না থাকায় আফগানিস্তান সিরিজের জন্য বিবেচনায় ছিলেন না সোহান।

তবে বুধবার অনুশীলনের সময় হাতে চোট পান জাতীয় দলের সেরা উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম। তাই প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুশফিকের খেলাও অনিশ্চিত। মুশফিক না খেললে সোহানকেই দেখা যেতে পারে উইকেটরক্ষকের ভূমিকায়।

এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোনো কারণ জানানো না হলেও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সতর্কতার অংশ হিসেবেই সোহানকে দলে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মুশফিক ডান হাতের আঙুলে ব্যথা পেয়েছে। ২৪ ঘণ্টা না গেলে বলা যাচ্ছে না কী হয়। তাই সতর্কতার জন্য বাড়তি কিপার নেওয়া হয়েছে।

আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বেলা ৩টায় প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে মাহমুদউল্লাহর দল।

বাংলাদেশ তিন পেসার খেলাবে, নাকি দুজন খেলবেন আজ, সেটা নিশ্চিত করেননি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

বুধবার তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের এখনো ৫-৬ মাস বাকি। সামনে বেশ কিছু ম্যাচ আছে আমাদের। দল গুছিয়ে নেওয়ার জন্য এখন থেকে প্রস্তুত হওয়া প্রয়োজন। আমরা কী ধরনের ক্রিকেট খেলতে চাই। সফল হতেও পারি, না-ও পারি। তবে মানসিকতা যেন সব সময় একই রকম থাকে, এটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

একনজরে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস, মুনিম শাহরিয়ার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন ধ্রুব, শেখ মেহেদী হাসান, ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি, নুরুল হাসান সোহান, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, শহিদুল ইসলাম ও নাঈম শেখ।

স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

রাজশাহীর তানোরে পারিবারিক কলহের জেরে মালেকা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী উপজেলার কামারগাঁ পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত সোলেমান মণ্ডলের পুত্র আবু বাক্কারকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ মালেকার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা জুলফিকার আলী বাদী হয়ে তানোর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান আসামি নিহতের স্বামী আবু বক্কারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তানোর থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, বুধবার দুপুরে গ্রেফতার নিহতের স্বামীকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয় এবং ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে উত্তেজিত হয়ে স্ত্রী মালেকা বেগমকে চড়-থাপ্পড় দেয়। এতে তার স্ত্রী ক্ষিপ্ত হলে লাঠি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। ফলে মালেকা গুরুতর জখম হয়। এ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন মঙ্গলবার দুপুরে গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

ডাকাত সন্দেহে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপাড়িল গ্রামে ডাকাত সন্দেহে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে তাদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরেকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ইউনিয়নের বনপাড়িল গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার ইউসুফ আলীর ছেলে ব্যবসায়ী আলী আহমেদ দাবি করেন, ১০-১৫ জনের মুখোশধারী ডাকাত দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাত দলের সদস্য তাদের দুটি ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এর পর তারা ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং তিন লাখ টাকা লুটে নেয়।

এ সময় চিৎকার করলে ডাকাত সদস্যরা গুলি করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

প্রতিবেশীরা ডাকাতির বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ডাকাত আসার খবর প্রচার করেন। এর পর ডাকাত দলের সদস্য তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ডাকাত সদস্যদের ধাওয়া করেন।

পরে ডাকাত সদস্যরা পালিয়ে গেলেও স্থানীয় লোকজন তিনজনকে ধরে গণপিটুনি দেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে আহত তিনজনকে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ আহত ডাকাত সদস্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি আব্দুর রউফ সরকার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। গ্রামবাসী তিনজনকে গণপিটুনি দিয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজনের মৃত্যু হয়। আরেকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে এসআই টুটুল উদ্দিন বলেন, গণপিটুনিতে আহত তিন ডাকাত সদস্যকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই ডাকাতকে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। আহত আরেক ডাকাত সদস্য চিকিৎসাধীন। হতাহতের ডাকাতদের পরিচয় জানা যায়নি।

প্রতিরোধের মুখে রুশ বাহিনী

ইউক্রেনে আগ্রাসনের সপ্তম দিনে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী রাজধানী কিয়েভের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বুধবার কিয়েভ থেকে মাত্র ১৫ মাইল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রুশ বাহিনীকে অবস্থান করতে দেখা যায়।

তিন দিক থেকে কিয়েভ ঘিরে শহরটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে রাশিয়ার সেনারা। এছাড়া দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তর শহর খারকিভসহ বেশ কয়েকটি শহরে রুশ বাহিনী ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

মঙ্গলবার রাতভর ইউক্রেনের টেলিভিশন টাওয়ার, হাসপাতাল, মাতৃসদন, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রুশ বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। তবে রুশ বাহিনী চরম প্রতিরোধের মুখে পড়েছে।

রুশ সেনারা ইউক্রেনের প্রতিরোধযোদ্ধাদের মুখোমুখি ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে। ইউক্রেনের দাবি-এখন পর্যন্ত ৬ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার ৩০টি জঙ্গিবিমান, ৩১টি হেলিকপ্টার, ২১১টি ট্যাংক, ৬০টি ফুয়েল ট্যাংক এবং ৮৫০টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে।

তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার প্রথমবারের মতো তাদের সেনাদের হতাহতের খবর দিয়ে বলেছে, এ কদিনের যুদ্ধে রাশিয়ার ৪৯৮ সেনা নিহত ও ১৫৯৭ জন আহত হয়েছেন।

রাশিয়ার কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, আরেক দফা আলোচনার জন্য ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্তে পৌঁছতে কিয়েভ ছেড়েছে। সেখানে বৃহস্পতিবার সকালে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিনিধি দলকে রাশিয়ার সেনারা নিরাপত্তা দিচ্ছে। এদিকে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিতে ৮০ হাজার ইউক্রেনীয় নাগরিক দেশে ফিরেছেন এবং লাখ লাখ ইউক্রেনীয় সেনা প্রস্তুত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একাই দায়ী। এ যুদ্ধে পুতিনের পতন হবে। তাকে চরম মূল্য দিতে হবে।

এদিকে ইউক্রেনের বড় শহরগুলোয় প্রবেশ করতে গিয়ে রুশ বাহিনী বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বলে দাবি করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস।

তিনি বলেন, ইউক্রেনের ভূ-প্রাকৃতিক আকার এবং ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষের বিশাল জনগোষ্ঠী রুশ দখলদারত্বকে ‘খুবই কঠিন’ করে তুলবে। খারকিভে রাশিয়ার বোমাবর্ষণকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন।

অপরদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হবে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইউক্রেনে রুশ হামলায় এ পর্যন্ত ১৩ শিশুসহ ৫৩৬ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেনের ৬ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে।

খবর বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, আলজাজিরা ও সিএনএনের। ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আক্রমণ চালাতে সেনাদের নির্দেশ দেন। এরপর তিন দিক থেকে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী।

এ হামলা চলাকালে বুধবার ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সমঝোতা আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান মাক্সার টেকনোলজিসের দাবি-কিয়েভের উত্তরে সেনা সমাবেশ ক্রমাগত বাড়াচ্ছে রাশিয়া। সেখানে রুশ সেনাবাহিনীর প্রায় ৪০ মাইল দীর্ঘ একটি বহর জড়ো হয়েছে।

এর মধ্যে বহরটি কিয়েভ থেকে মাত্র ১৫ মাইল দূরত্বে অবস্থান করছে। এদিকে কিয়েভের টেলিভিশন টাওয়ারে রুশ রকেট হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

একই সঙ্গে হামলার কবলে পড়ে সেখানকার কলোকস্ট স্মৃতিসৌধও। কিয়েভের মেয়র জানিয়েছেন, দুটি রকেট টাওয়ারটিতে আঘাত হানে। এতে টাওয়ারের কিছু যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার ব্যাহত হয়েছে।

কিয়েভের কাছে নিজ বাসায় রুশ বোমা হামলায় ইউক্রেনের দুই ফুটবলার নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পেশাদার ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ফিফপ্রো’ এক টুইট বার্তায় এ তথ্য জানায়।

ইউক্রেনের ক্লাব কারপাতি লেভিভের যুবদলের খেলোয়াড় ২১ বছর বয়সি ভিতালি সাপিলো যুদ্ধে মারা গেছেন। আর ২৫ বছর বয়সি অপেশাদার ফুটবলার দিমিত্রো মার্তিনেঙ্কো স্থানীয় ক্লাব এফসি গোস্তোমেলে খেলতেন।

ফিফপ্রোর টুইটে বলা হয়, ইউক্রেনের তরুণ ফুটবলার ভিতালি সাপিলো ও দিমিত্রো মার্তিনেঙ্কোর পরিবার, বন্ধু ও সতীর্থদের পাশেই আছি আমরা। এ যুদ্ধে ফুটবলের প্রথম ক্ষতি। তাদের আত্মা শান্তিতে থাকুক।

চলমান সংঘাতে সবশেষ ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খারসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রুশ সেনারা। স্থানীয় সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাশিয়ার সাঁজোয়া যান ও সেনাদের রাস্তায় রাস্তায় টহল দিতে দেখা গেছে।

খারসনে রুশ বাহিনীর গোলাবর্ষণে এ পর্যন্ত ২০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক লোক। শহরটিতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস।

শহরটির মেয়র ইগর কলিখায়েব সরকার এবং সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছে খাদ্যপণ্য ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং আহতদের উদ্ধারে সাহায্যের আবেদন করেছেন।

মেয়র ফেসবুকে হৃদয়স্পর্শী স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, আবাসিক ভবনগুলোয় আগুন জ্বলছে। শহরের স্থাপনাগুলো পুড়ছে। শহরের রাস্তায় রুশ সৈন্যদের চলাচল দেখা যাচ্ছে। শহরের প্রধান ট্রেন স্টেশন এবং বন্দর দখল করা হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি-তাদের সৈন্যরা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খারসনে পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপন করেছে। ইউক্রেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জায়তোময়ারে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে। এতে ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আগুন ধরে যায়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্ব শহর খারকিভের পুলিশ বিভাগের একটি ভবনে রকেট হামলা করেছে রুশ বাহিনী। সেখানে রুশ ছত্রীসেনারা (প্যারাট্রুপাররা) অবতরণ করেছে। রুশ ভাষাভাষীদের এ শহরটিতে মঙ্গলবার থেকে রুশ গোলাবর্ষণ তীব্র করা হয়।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, বুধবার ভোরে খারকিভ ও আশপাশের এলাকায় বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। এরপর একটি আবাসিক এলাকায় রকেট হামলা হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রুশ ছত্রীসেনাদের হামলায় একটি ভবন জ্বলছে।

ভবনটি কারাজিন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কাছাকাছি অবস্থিত। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত গোলাবর্ষণে ২১ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং ১১২ জন আহত হয়েছেন। খারকিভের একটি সামরিক হাসপাতালেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে।

খারকিভের আঞ্চলিক প্রশাসক ওলে সিনেগোভবের দাবি-খারকিভে হামলার পর প্রতিরোধের কবলে পড়েছে রুশ সেনারা। ব্যাপক ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে। ইউক্রেনের সেনারাও প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে ইউক্রেনে ফিরেছেন ৮০ হাজার মানুষ : রাশিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত বিদেশ থেকে ৮০ হাজার ইউক্রেনীয় নাগরিক দেশে ফিরেছেন।

ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলা হয়, বিদেশফেরত ইউক্রেনীয়দের একটি বড় অংশ পুরুষ। তারা সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিরক্ষা দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা সোভেতলানা জালিচাক বলেছেন, রাশিয়ার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ইউক্রেনীয়রা একটু ভীতসন্ত্রস্ত। তবে তারা লড়াইয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ইউক্রেনের পশ্চিমের শহর বেরেগোভো থেকে তিনি আরও বলেন, পুতিনের সেনাবহর অগ্রসর হচ্ছে। আমাদের আশঙ্কা, পুতিন থামবেন না। কিন্তু রুশ বাহিনীকে থামাতে আমরাও প্রস্তুত।

সোভেতলানা জালিচাক আরও বলেন, রুশ বাহিনীকে রুখতে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ইউনিট গঠন করা হয়েছে। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সাধারণ নাগরিকরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করছেন।

গত কয়েকদিনে ইউক্রেনের প্রায় এক লাখ সাধারণ নাগরিক দেশটির স্বেচ্ছাসেবী প্রতিরক্ষা দলে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে তার ভাইও রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘ও (জালিচাকের ভাই) সেনাবাহিনীর কেউ নয়, কিন্তু ও বন্দুক হাতে তুলে নিয়েছে। কিয়েভের প্রবেশমুখে একটি শহরের সুরক্ষায় নিয়োজিত আছে।’

ইউক্রেন ছেড়েছেন ৬ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ : জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধ থেকে বাঁচতে ইউক্রেন ছেড়ে ৬ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোয় যেতে বাধ্য হয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ বিষয়ে সোমবার গণশুনানি শুরু করবেন হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত হবে পরমাণু অস্ত্র : তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে সেই যুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হবে এবং সেই যুদ্ধ হবে ধ্বংসাত্মক বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।

বুধবার তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে সক্ষম হলে তা হবে রাশিয়ার জন্য ‘সত্যিকারের বিপদ’। এর আগে মঙ্গলবার জেনেভা সম্মেলনে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের এ নতুন ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ইউক্রেন যাতে পরমাণু অস্ত্র বানাতে না পারে, সেজন্য হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপেও কোনো মার্কিন পারমাণু বোমা থাকতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত স্থিতিশীলতা নিয়ে রাশিয়া আলোচনা করতে প্রস্তুত। কিন্তু সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কোনো দেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে না ওয়াশিংটন।

রাশিয়া আমাদের মুছে ফেলতে চায় : রাশিয়া ইউক্রেনকে মুছে ফেলতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবার রুশ আগ্রাসনের সপ্তম দিনে এক ভিডিও ভাষণে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেন, এর ইতিহাস এবং জনগণকে মুছে ফেলার লক্ষ্যে কাজ করছে রাশিয়া। রুশ আগ্রাসন মোকাবিলায় পশ্চিমা দুনিয়ার প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা কি দেখতে পাচ্ছেন না কী ঘটছে? নাৎসিবাদের জন্ম হয় নীরবতার মধ্যে। তাই বেসামরিকদের হত্যার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন, ইউক্রেনীয়দের হত্যা সম্পর্কে আওয়াজ তুলুন।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের জন্য ইউক্রেনের আবেদনকে সমর্থন দিতে মিত্র দেশগুলোর প্রতিও তিনি আহ্বান জানান। আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে এ পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

পুতিনকে চরম মূল্য দিতে হবে : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একাই দায়ী।

এজন্য তাকে দীর্ঘ মেয়াদে অব্যাহতভাবে চড়া মূল্য গুনতে হবে। ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের পাশে আছে। প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি বলেন, স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না নিলে তারা আরও বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

জো বাইডেন বলেন, ইতিহাসে দেখা গেছে, আগ্রাসী আচরণের কারণে স্বৈরশাসকরা যদি মূল্য না দেন, তা হলে তারা আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন।

তিনি বলেন, কোনো রকম উসকানি ছাড়াই রাশিয়া পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনে হামলা করেছে। ইউক্রেনের জনগণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তারা হলেন ‘শক্তিশালী প্রাচীরের’ মতো, যেটি কেউ ধারণা করেনি।

ইউক্রেন দখল রাশিয়ার জন্য খুব কঠিন হবে : ইউক্রেনের বড় শহরগুলোয় প্রবেশ করতে গিয়ে রাশিয়া বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বলে দাবি করেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস।

তিনি বলেন, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী এবং বেসামরিক নাগরিকরা হাতের কাছে পাওয়া সবকিছু দিয়েই এগোতে থাকা শত্রুদের প্রতিহত করছেন।

বুধবার বিবিসি ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে বেন ওয়ালেস বলেন, রাশিয়ার সামরিক কৌশল হলো বড় শহরের কেন্দ্রগুলো ঘিরে ফেলে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ।

এরপর একটা জনগোষ্ঠীকে আটকে ফেলে তাদের ভেঙে পড়ার আশায় থাকা আর পরে অবশিষ্ট কিছু থাকলে তা দখল করা। তিনি আরও বলেন, কিন্তু ইউক্রেনের ভূ-প্রাকৃতিক আকার এবং ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষের বিশাল জনগোষ্ঠী রুশ দখলদারত্বকে ‘খুবই কঠিন’ করে তুলবে।

এ সময় তিনি চেচনিয়ায় রাশিয়ার অভিজ্ঞতা, আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বিপুল বাহিনী নিয়ে একটি দেশে আগ্রাসন চালানো একটি বিষয়, কিন্তু ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষ, যারা আপনার উপস্থিতি চায় না, তাদের দখল করা ভিন্ন বিষয়।’

ন্যাটোর নো-ফ্লাই জোন বাস্তবায়নের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া কোনো সীমা লঙ্ঘন করলে ইউরোপজুড়ে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।

ইউক্রেনকে ইইউ’র সদস্য করার সম্মতি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের : ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ’র সদস্যপদ লাভের জন্য ইউক্রেন যে আবেদন জানিয়েছিল তা গ্রহণ করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।

মঙ্গলবার রাতে পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত ভোটাভুটিতে আবেদনের পক্ষে ৬৩৪ ভোট পড়ে। বিপক্ষে ভোট দেয় ১৩ জন এবং ২৬ সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।

মঙ্গলবার ইইউ’র আটটি দেশ ইউক্রেনকে এই ইউনিয়নের সদস্য করার আবেদন খতিয়ে দেখতে জরুরি বৈঠক আহ্বান করার দাবি জানিয়েছিল। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইউক্রেনের আবেদন গৃহীত হওয়ার অর্থ হলো ইইউতে দেশটির সদস্যপদ পেয়ে যাওয়া নয়।

বরং ভোটাভুটির মাধ্যমে ইউক্রেনকে ইইউতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হলো মাত্র। ইইউতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য একটি দেশকে ‘কোপেনহেগেন ঘোষণা’ নামে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী পূরণ করতে হয়।

এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে-মুক্ত বাজার অর্থনীতি, স্থিতিশীল গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং ইউরোসহ ইইউ’র সব আইন মেনে নিতে প্রস্তুত থাকা।

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি রোববার এক আবেদনে বলেছিলেন- প্রয়োজনে বিশেষ পন্থা অবলম্বন করে হলেও যেন তার দেশকে ইইউর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

রুশ হামলায় ইউক্রেন ছেড়েছে ১০ লাখ মানুষ

রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে গত এক সপ্তাহে ইউক্রেন ছেড়েছে প্রায় ১০ লাখ মানুষ। তারা জীবনের ভয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

টুইটারে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে ইউক্রেনে থাকা লোকজনের জন্য মানবিক সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদক লেউইস গুডঅল জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে শরনার্থী সঙ্কটের সময় ১৩ লাখ শরনার্থী হয়েছিল ইউক্রেন থেকে। এক সপ্তাহেই এই সংখ্যা পেরিয়ে যেতে পারে।

ইউএনএইচসিআরের ধারণা, এ সংঘাতের কারণে এক কোটি ২০ লাখের মতো মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হবেন এবং ত্রাণের প্রয়োজন হবে।

গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে ‘সামরিক অভিযানের’ ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকে দেশজুড়ে ভয়াবহ সংঘাত চলছে।

এ পর্যন্ত খেরসনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর দখল করে নিয়েছে রুশ সেনারা। আরও কয়েকটি শহরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপেক্ষায় তারা।

১৪৫৪০ কোটি টাকা বাড়ল এক বছরে

রীতিমতো লাগামহীন হয়ে পড়েছে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ। এটি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া কোনো পদক্ষেপই কাজে আসছে না। ফলে বিদায়ি বছরে (২০২১) খেলাপি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর ২০২০ সালে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বাড়ল ১৪ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণসংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। প্রতিবেদনটি বুধবার অনুমোদন করেছেন গভর্নর ফজলে কবির।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণ কমাতে ঢালাও সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। করোনার কারণে গেল বছরও ঋণ পরিশোধে ছাড় ছিল। গত বছর যে অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করার কথা ছিল তার মাত্র ১৫ শতাংশ পরিশোধ করার পর কাউকে খেলাপি করা হয়নি। এরপরও খেলাপি ঋণের লাগাম টানা যাচ্ছে না। উল্টো বেড়েই চলেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে কোনো গ্রাহক ঋণ পরিশোধ না করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে তাকে খেলাপি করা হয়নি। ফলে আদায় তলানিতে নামলেও খেলাপি ঋণ কম ছিল। বছর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অঙ্ক কমে দাঁড়ায় ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকায়। যা ওই সময়ের বিতরণ করা ঋণের ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। কিন্তু ২০২১ সালে বিশেষ সুবিধার ছাড় কিছুটা কমায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়, গেল ডিসেম্বরের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে ঋণের ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলেই কেউ আর খেলাপি হবেন না। এরপরও ঋণখেলাপি বাড়তে থাকে। গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ গিয়ে ঠেকে ১ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ১২ শতাংশ। পরে বিভিন্ন মহলের চাপে খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বলা হয়, ২০২১ সালে একজন ঋণ গ্রহীতার যে পরিমাণ পরিশোধ করার কথা, তার ১৫ শতাংশ দিলে গ্রাহক খেলাপি হবে না। গত ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেওয়া নির্দেশনার আলোকে কেউ ২০ জানুয়ারির মধ্যে ঋণের ১৫ শতাংশ পরিশোধ করলেও গ্রাহক খেলাপি হয়নি। তারপরও আশানুরূপ খেলাপি ঋণ কমাতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ১ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এ সময় সরকারি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করে ২ লাখ ৩৩ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৪৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ১৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করে ৯ লাখ ৭০ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে ৫১ হাজার ৫২১ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৬৪ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ২ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। বিশেষায়িত তিন ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হয়েছে ৩ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। এ অঙ্ক বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ০২ শতাংশ। ব্যাংক তিনটি ঋণ বিতরণ করেছে ৩৩ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের সুযোগ দিয়ে লাভ নেই। তারা ঋণ পরিশোধ করবে না। উল্টো একের পর এক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তারা পার পেয়ে যাবেন। তাই ঢালাও সুযোগ কমিয়ে দেওয়া দরকার। তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের কেস-টু-কেস সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, খেলাপি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু এগুলো কেউ মানছে না। যদি নির্দেশনা না মানে তাহলে তা দিয়ে কী লাভ? তাই অযথা নির্দেশনা না দিয়ে ভালো হবে ব্যাংকগুলোকে ঋণ আদায়ে লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেবে। যদি তা অর্জন না হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন সাবেক এ গভর্নর।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এত সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরও যখন খেলাপি ঋণ বাড়ছে। এটা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। তবে প্রকৃত চিত্র দেখা যাবে মার্চ প্রান্তিকে। কারণ তখন কোনো ছাড় থাকবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৮ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে খেলাপি ঋণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। এর পরের বছর ২০১৮ সালে খেলাপি ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে ছিল ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা এবং ২০২০ সালে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা।

নিয়ন্ত্রণহীন ভোজ্য তেলের বাজার

সয়াবিন তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দামামা এবং আসন্ন রমজান ঘিরে অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুতের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তাদের অতিমুনাফার লোভে দাম বাড়ছে হু-হু করে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে রিফাইনারি কোম্পানিগুলো হঠাৎ করেই তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ডিলার ও পাইকারিতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে। বোতলজাত তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ৫ লিটার তেলের বোতল বাজার থেকে প্রায় উধাও হয়ে গেছে।

সরবরাহ সংকটের কারণে বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে প্রতি লিটার সয়াবিনের দাম গড়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। দুপুরের দিকে প্রতি লিটার ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায় পাওয়া যেত। সন্ধ্যায় তা বেড়ে ১৯০ থেকে ২০৫ টাকায় উঠেছে। এছাড়া অনেক দোকানে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে এগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছে বাড়তি দামে বিক্রির আশায়। খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে কোম্পানিগুলো একদিকে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে দামও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাড়তি দামেও তারা সয়াবিন পাচ্ছেন না। ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

এতে কয়েকদিন ধরে সয়াবিন তেলের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ও পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে ঊর্ধ্বমুখী। অথচ এসব বাজারে তেলের সরবরাহে কোনো কমতি নেই। এদিকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তারা প্রতি টন ১ হাজার ৭৩০ ডলারে কিনছেন। এক্ষেত্রে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনার মূল্যের পার্থক্য হচ্ছে ২৪৮ ডলার।

বুধবার বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেছেন, তার মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য আছে, মধ্যস্বত্বভোগীরা ভোজ্যতেলের মজুত গড়েছেন। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বাজারে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। সরকারি একাধিক সংস্থা তদারকিতে নেমেছে।

এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা বাজরে খোঁজখরব নিচ্ছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে তেল বিক্রির কারণে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে আমদানি কম হওয়ায় ব্যবসায়ীদের এলসি খোলার জন্য তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলারের জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়ারিন তেলের দাম গত কয়েকদিনের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ১০০ ডলার। রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে বেড়েছে জাহাজ ভাড়া। বাড়তি দাম ও বেশি জাহাজ ভাড়ার কারণে অনেকেই এখন নতুন এলসি খোলা কমিয়ে দিয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে।

আমদানি ও এলসি কমেছে : ভোজ্যতেল আমদানির এলসি খোলা ৫৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং আমদানি ৩০ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে পরিশোধিত তেল আমদানির এলসি খোলা ১০৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং আমদানি ৫৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে অপরিশোধিত তেল আমদানির এলসি খোলা ও আমদানি দুটোই কমেছে। অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশীয় কোম্পানিগুলো পরিশোধনের মাধ্যমে বাজারজাত করে। চাহিদার বড় অংশই দেশীয় কোম্পানিগুলো থেকে মেটানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। এ কারণে আমদানির হার আরও বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু অপরিশোধিত তেলের আমদানির এলসি খোলা কমেছে ১৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং আমদানি কমেছে ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে রিফাইনারি কোম্পানিগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতি লিটারে খোলা সয়াবিনের দাম ৭ টাকা এবং বোতলজাত তেলের দাম লিটারপ্রতি ৮ টাকা বাড়ানো হয়। এর পর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে তারা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে প্রতি লিটারে আরও ১২ টাকা বাড়ানের প্রস্তাব করে। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়।

রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার সকালে ও রাতের ব্যবধানে তেলের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়ে গেছে। সকালে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৭৫ টাকা। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৭৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা। রাতে তা বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে। এছাড়া বোতলজাত পাঁচ লিটারের সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৮৩০-৮৪০ টাকা। প্রতি লিটার খোলা পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে ১৫৮ টাকা।

তবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতি লিটার তেলে ৮ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সে সময় প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনের দর নির্ধারণ করা হয় ১৪৩ টাকা, বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন ১৬৮ টাকা ও বোতলজাত পাঁচ লিটারের সয়াবিন ৭৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া খোলা পাম অয়েলের দর নির্ধারণ করা হয় ১৩৩ টাকা। সেক্ষেত্রে সরকারি দর অনুযায়ী বাজারে বুধবার দুপুরে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ৩২ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন সরকারের নির্ধারিত দামের থেকে ১২ টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা বেশি দরে। সন্ধ্যার এ ব্যবধান আরও বেড়েছে।

রাজধানীর নয়াবাজারের খুচরা মুদি বিক্রেতা মো. তুহিন বলেন, কোম্পানিগুলো তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এর কারণে দাম বাড়ছে। পাইকারি বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত আছে। তবে মিল বা পরিবেশক পর্যায় থেকে রোজাকে ঘিরে দাম আরেক দফা বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। তারা বলছে বিশ্ববাজারে দাম বাড়তি যে কারণে আমদানি কম হচ্ছে। তাই সংকট রয়েছে। তাই মিল পর্যায় থেকে চাহিদামতো তেল দিচ্ছে না।

বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, বাজারে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। মিল বা পরিবেশক থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে তেল আছে। কিন্তু মিল বা পরিবেশক কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অভিযানে এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি গুদামজাতের মাধ্য কারসাজি করে তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে সক্রিয় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। তাই তাদের সম্পর্কে ভোক্তা অধিদপ্তরে তথ্য দিয়ে বা হটলাইন ১৬১২১ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি জানান, রোজা উপলক্ষ্যে কারসাজি করলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

খাতুনগঞ্জে কৃত্রিম সংকট : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে। সিন্ডিকেট করে অস্থির করা হচ্ছে বাজার। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরা পর্যায়ে দামের কোনো মিল নেই। খুচরা পর্যায়ে লিটারপ্রতি ১৮০ টাকার কমে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা পর্যায়ে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের দাবি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে বছরে ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। যার বেশির ভাগই আমদানিনির্ভর। মোট চাহিদার ৭০ শতাংশই খোলা তেল। এর মধ্যে পাম তেল ৫০ শতাংশ। বাকিটা খোলা সয়াবিন। রান্না ছাড়াও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার তৈরিতে ভোজ্যতেল ব্যবহার হয়। পাম তেলের মতো খোলা সয়াবিন তেলের দামও এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ২৭ শতাংশ। আর বোতলজাত তেলের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। কোম্পানিগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর বেশ কয়েকবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। খাতুনগঞ্জে বুধবার পামঅয়েল বিক্রি হয়েছে প্রতিমণ (৩৭.৩২ কেজি) ৫৮৯০ টাকা। প্রতিমণ সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৫শ’ টাকায়। পাইকারিতে প্রতি লিটার পাম অয়েলের দাম ১৫৮ টাকা। খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা থেকে ১৭৮ টাকা। পাইকারি পর্যায়ে সয়াবিন তেলের দাম পড়ছে কেজিতে ১৭৪ টাকার কিছু বেশি। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে দাম রাখা হচ্ছে ১৮০ টাকা থেকে ১৮৫ টাকা ।

কোম্পানি এবং ডিলারের প্রতিনিধিরা উধাও : কুমিল্লা ব্যুরো জানায়, কুমিল্লায় সয়াবিন তেল সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সয়াবিন তেলের ডিলার এবং বাজারজাতকারী বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, সচরাচর বাজারের অলিগলিতে ঘুরাফেরা করত ডিলার এবং কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা। এখন তারাও উধাও হয়ে গেছে। বুধবার নগরীর রাজগঞ্জ, চকবাজার, রানীরবাজার, বাদশা মিয়ার বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় ব্যবসায়ীরা কোম্পানি এবং ডিলারদের কাছ সয়াবিন তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেন। এ ছাড়া সয়াবিন তেলের সংকটে সরিষার তেল ও রাইসবার্ন তেলের সংকটও দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সয়াবিন প্রতি লিটারে ৩০-৪০ টাকা এবং সরিষার তেলে প্রতি লিটারে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ছে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ভোলায় ৩২ ব্যারেল সোয়াবিন তেল জব্দ : ভোলায় গত মঙ্গলবার একটি কভার্ডভ্যান থেকে ৩২ ব্যারেল চোরাই সয়াবিন (অপরিশুদ্ধ) তেল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা। এ সময় মো. ফরহাদ হোসেন (২৩) নামে ওই কাভার্ড ভ্যানের চালকে আটক করা হয়। পরে জব্দকৃত সয়াবিন ও আটক চালককে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভোলা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা সন্দেহ

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। দলটির শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে পরিচিত এ ব্যক্তির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সন্দেহের চোখে দেখছে হাইকমান্ড। সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্যের পেছনে তিনি এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলেও মনে করা হচ্ছে। বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এ দূরত্ব তৈরি হয়। সদ্য নির্বাচন কমিশন গঠনকে কেন্দ্র করে তা চরমে পৌঁছায়।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় জাফরুল্লাহর ভূমিকাকে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করে বিএনপি।

বিশেষ করে সার্চ কমিটির আমন্ত্রণে গিয়ে সম্ভাব্য নাম দেওয়ার বিষয়টিকে তারা মেনে নিতে পারছেন না। তার নামের মধ্যে নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়ালের নামও ছিল। সার্চ কমিটিতে তার দেওয়া নাম নিয়ে সেসময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিএনপি ডা. জাফরুল্লাহর মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশনের জন্য তাদের পছন্দের নাম দিয়েছে। এরপর হাবিবুল আউয়ালকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার পর ডা. জাফরুল্লাহ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন, হাবিবুল আউয়াল অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান লোক এবং তার ওপর যদি সরকার অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ সৃষ্টি না করে, তিনি ভালো কাজ করবেন। সবাইকে তার সহযোগিতা করা উচিত। তার এমন সার্টিফিকেট বিএনপির জন্য বড় আঘাত হিসাবে সামনে এসেছে বলে মনে করেন দলটির নেতারা। জাফরুল্লাহর নাম দেওয়া এবং তার প্রস্তাবিত ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হওয়াটা শুধু যে কাকতালীয় তা মানতে নারাজ তারা।

বিএনপির নেতাকার্মীরা মনে করেন, এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছে। প্রথমত, এর মাধ্যমে বিএনপি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে নেই-এমন বক্তব্য রাখার সুযোগ কমে এসেছে। দ্বিতীয়ত, সরকারের পছন্দের ব্যক্তিকে নয়, বরং সরকারের সমালোচক ব্যক্তির পছন্দের লোককে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমন একটি ধারণা সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

জাফরুল্লাহর এ ধরনের বক্তব্য প্রসঙ্গে ২৮ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ বিভাগে এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপির কেউ নন। তিনি যা বলেছেন, তা তার নিজস্ব বক্তব্য। নির্বাচন বিষয়ে তিনি বিএনপির পক্ষে কথা বলার কেউ নন।

এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স যুগান্তরকে বলেন, বিএনপির অনুষ্ঠানে এসে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ দল সম্পর্কে যা খুশি তা বলবে, এটা হতে পারে না। তার কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। তিনি আসলে কাদের হয়ে কাজ করছেন, এ প্রশ্নও উঠেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সার্চ কমিটিতে নাম দেওয়া এবং ইসি গঠনের পর ইতিবাচক মন্তব্য করায় ডা. জাফরুল্লাহর ওপর ক্ষুব্ধ হয় বিএনপি। এ অবস্থায় দলের হাইকমান্ড জাফরুল্লাহকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির কোনো অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ না জানানো এবং উনি কোনো অনুষ্ঠানে থাকলে সেখানে নেতাকর্মীদের না যেতে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। ইসি নিয়ে তার ভূমিকার পর জাফরুল্লাহকে পুরোপুরি বর্জন করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দলের একটি অংশ মনে করছে, জাফরুল্লাহ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সমাজে তার একটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাকে এভাবে এড়িয়ে চলা উচিত হবে না। প্রকাশ্যে এভাবে বিরোধ বাড়লে দলই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারে।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই তারেক রহমান ইস্যুতে ডা. জাফরুল্লাহর বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠান কিংবা গণমাধ্যমে তার দেওয়া বক্তব্য সবার নজরে আসে। সরকারের নানা ব্যর্থতার বিষয় এড়িয়ে গিয়ে তিনি বারবার তারেক রহমান ইস্যুতে বেশ সোচ্চার। তার এমন বক্তব্যের পেছনে কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে ব্যাপারেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে তার সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি তার সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চায়নি বিএনপি। তাকে এড়ানোর জন্য নানা কৌশল নেওয়া হয়েছে। তাকে এড়িয়ে চলার জন্য দলের নেতাকর্মীদের মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও বিএনপি সমর্থিত কিছু সংগঠন তাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছিল। এখন থেকে কেউ যাতে তাকে আমন্ত্রণ না জানায়, সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আমি থাকলে বিএনপি নেতারা অনুষ্ঠানে আসবে না বা আমাকে বর্জন করবে, সেটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তারা যদি মনে করে আমি থাকলে অসুবিধা হতে পারে, তাহলে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না। তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্নতার কারণে বিএনপি তাদের ভুল বুঝতে পারছে না। অনুধাবন করতে পারছে না কে তাদের বন্ধু আর কে শত্রু।

কয়েক মাস আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি, তারেক তুমি দুই বছর চুপচাপ বসে থাকো। পারলে বিলেতে (বিদেশ) লেখাপড়ায় যুক্ত হয়ে যাও, সেখানে বহুভাবে লেখাপড়া হয়।’ তার ওই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষিপ্ত হয়ে যান সভায় উপস্থিত থাকা ছাত্রদলের কয়েক নেতা। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ওমর ফারুক কাওছার সালাম ডা. জাফরুল্লাহকে থামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি বিএনপির কে? আপনি বিএনপি নিয়ে উলটাপালটা কথা বলেন কেন?

সূত্র জানায়, দলীয় নির্দেশ অমান্য করে ডা. জাফরুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করায় বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়কের পদ হারান জিএম সিরাজ।

বিজয় আমাদের সন্নিকটে: আমান

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, বিজয় আমাদের সন্নিকটে। তাই এই অবৈধ সরকারের পতন না ঘটিয়ে আমরা কেউ ঘরে ফিরব না। জনগণের ভোটের অধিকার কায়েম করে ঘরে ফিরব।

বৃহস্পতিবার বুধবার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া শহীদ মিনার এলাকায় জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবির সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, বেনজির আহমেদ টিটো।

সমাবেশে আমান উল্লাহ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন— গুম যারা হয়েছে, তাদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এ সরকারের কাছে কিছুই নিরাপদ নয়। তারা শুধু প্রশাসন দিয়ে বেঁচে আছে। শেখ হাসিনার পায়ের নিচে মাটি নেই। আমেরিকা এ সরকারের বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের স্যাংশন দিয়েছে। তাদের সঙ্গে কেউ নেই, থাকবে না৷ দুদিন পর বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনাকে স্যাংশন দেবে।

তিনি বলেন, আজ চালের দাম, তেল, পানি, গ্যাস বিদ্যুৎ, পানির দাম বাড়ানো হয়েছে। আজকের এ সমাবেশ জনগণের স্বার্থে, বিএনপি এবং তারেক রহমানের স্বার্থে নয়। এ সমাবেশ জনগণের স্বার্থে। আজকে ডিজেলের দাম বেড়েছে, বাস ভাড়া বেড়েছে। টাকা যাচ্ছে জনগণের পকেট থেকে।

আমান বলেন, এই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন— ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবেন। চাল কত আজকে, তারা ঘরে ঘরে চাকরি দেবে বলেছিল৷ আজকে চাকরি নেই। নারায়ণগঞ্জের মাটি উর্বর মাটি। গত ২০১৪ সালে আপনারা ভোট দিতে পারেননি। ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বরের ভোট হওয়ার কথা, ২৯ ডিসেম্বরেই ভোট হয়ে গেছে। এই যে আপনারা ভোট দিতে পারলেন না। সে কারণে এ সরকারের জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহিতা নেই। সে কারণেই আজ সবকিছুর দাম বাড়াচ্ছে।

ইউক্রেনে নিহত বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার হাদিসের বাড়িতে করুণ চিত্র

ইউক্রেনের অলিভিয়া পোর্টে রাশিয়ার রকেট হামলায় বরগুনার বেতাগী উপজেলার বাসিন্দা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান আরিফের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে আহাজারি, শোকের মাতমে দিশেহারা পরিবার।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান হাদিসকে হারিয়ে বাবা বাকরুদ্ধ ও মা বেহুঁশ।

বুধবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে ইউক্রেনের অলিভিয়া পোর্টে বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধিতে রকেটে করে বোমা হামলা চালায় রাশিয়া। এতে জাহাজে থাকা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান আরিফ নিহত হন। তিনি ওই জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আরিফের নিহতের খবর শোনার পর ওই ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি বেতাগীতে চলছে শোকের মাতম।

জানা যায়, ছোটবেলা থেকে অত্যন্ত মেধাবী ছিরেন হাদিস। এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ পাওয়া আরিফ চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির ৪৭তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন,লেখাপড়া শেষ করে তিনি এমভি বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি নেন।

হাদিসের বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ি ভর্তি মানুষ। বাকরুদ্ধ বাবা মাকে শান্তনা দিচ্ছেন প্রতিবেশীরা। ইউক্রেনে জাহাজটি আটকা পরার পর থেকেই তাদের পরিবারের সকলের দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে দিন কাটছিল। নানা শঙ্কার মধ্যে ছিলেন তারা। তাদের সেই শঙ্কাই সত্যি হলো। সন্তানের লাশ ফেরা নিয়ে এখন আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজটিতে পাঁচ বছর যাবৎ চাকরি করছিলেন আরিফ। ইউক্রেনের সময় বুধবার বিকাল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে তাদেও জাহাজে হামলা হয়েছে। জাহাজে আরিফসহ বাংলাদেশের ২৯ জন নাবিক ছিলেন। বাকিরা সুস্থ আছেন।

নিহত হাদিসের ছোট ভাই মো. তারেক যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা জাহাজে থাকা আরিফের সহকর্মীদের কাছেই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছি। এরপর থেকেই আমার বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছেন, মা বেহুঁশ।’

তিনি বলেন, ‘বুধবার সকালেও ভাই আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই সময়ে ফোনে বলেন,‘ভাই আমাদের আর ভাঙ্গা ঘরে থাকতে হবে না। বাড়িতে এসেই যেভাবে হোক ঘরের কাজ ধরবো।ফোনালাপে ইউক্রেনে বোমা, গুলির শব্দ ও যুদ্ধের অবস্থা নিয়েও কথা হয়। ভীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে আরিফ শঙ্কিত ছিল বলেও জানান তিনি। বাড়ি ফেরার তাড়া অনুভব হয়েছিল আরিফের কথায়। বাড়ি ফিরে কী কী কাজ করবে, ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তার একটি আলোচনাও করেন।
তারেক আরও বলেন, তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ করেন, যাতে দ্রুত তার ভাইয়ের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

তারেক বলেন,‘এক নজরের জন্য হলেও আমার ভাইয়ের লাশটা শুধু দেখতে চাই। ভাইকে হারিয়ে আমাদের পরিবারটি পথে বসে গেলো। এমনটা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ছোট ভাই তারেক।

প্রসঙ্গত, সিরামিকের কাঁচামাল ‘ক্লে’ পরিবহনের জন্য জাহাজটি তুরস্ক থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় পৌঁছায়। তবে যুদ্ধাবস্থা এড়াতে জাহাজটিকে সেখানে পৌঁছানোর পরই পণ্য বোঝাই না করে দ্রুত ফেরত আসার জন্য নির্দেশনা দেন শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা। শেষ মুহূর্তে বন্দরের পাইলট না পাওয়ায় ইউক্রেনের জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশের এই জাহাজ।