রবিবার ,১৪ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 440

বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম

ইউক্রেনে রুশ হামলার মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েই চলেছে। ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পর থেকে দফায় দফায় বেড়েছে তেলের দাম। বুধবার চলমান সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ১১৩ মার্কিন ডলার। বিবিসি বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইউক্রেনে রুশ হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে সাত বছরে সর্বোচ্চ বেড়েছে তেলের দাম।

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার সদস্যরা জরুরি মজুদ থেকে ৬০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়াতে সম্মত হওয়ার পরেও বেড়েছে তেলের দাম।

রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শক্তি উৎপাদনকারী দেশ। তাই এ সংঘাতময় পরিস্থিতিতে তেল বা গ্যাস সরবরাহ প্রভাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে যুদ্ধের দামামায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়েছে। এছাড়া নিরাপদ বিনিয়োগ খ্যাত সোনার দামও ঊর্ধ্বমুখী। অ্যালুমিনিয়ামের দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়বে-এমন আশঙ্কা এখন প্রবল। সিএমসি মার্কেটসের বিশ্লেষক টিনা টেং বলেছেন, দাম আরও বাড়বে।

ঐক্যের জন্য পাকিস্তানকে দরকার: ডা. জাফরুল্লাহ

মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের জন্য পাকিস্তানকে দরকার বলে মনে ক‌রেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের ওপর যে অন্যায় করা হচ্ছে, সেই অন্যায় থেকে তাদের রক্ষা করা সব মুসলামান রাষ্ট্রের কর্তব্য। তবে এই কর্তব্য পরিপূর্ণ হবে না, যদি পাকিস্তানকে যুক্ত না করা যায়।’

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক সেমিনার তিনি এসব কথা বলেন।

জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আন্তর্জাতিক কুদস সপ্তাহ উপলক্ষে কুদস গ্লোবাল উইক বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জেরুজালেমের বুকে ইসরায়েলি সন্ত্রাস: বিশ্ব মানবতার দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক আসাদ পারভেজ, কুদস গ্লোবাল উইক বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর মুহাইমিনুল হাসান রিয়াদসহ আরও অ‌নে‌কে।

জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘জামায়াতিদের বলতে পারি, আপনাদের গোয়ার্তুমি বাদ দেন। আরেকবার ক্ষমা চান। যদিও আপনারা অপরাধী না। আপনাদের বাবা-দাদারা অপরাধী। পরিষ্কার রাজনীতির ভেতর আসেন। একইভাবে আমি বলি, পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে।’

রোহিঙ্গা সমস্যার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য সারা দেশে যে আওয়াজ উঠার কথা- তা উঠে নাই। এর জন্য দুর্ভাগ্যবশত আমাদের প্রধানমন্ত্রী দায়ী। কেননা উনি এদেরকে বললেন, ১৮ কোটি মানুষকে খাবার দিতে পারি তাহলে এই ১২ লাখকেও খাবার দিতে পারব। দিতে পারলেও, আগে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আজকে ফি‌লিস্তিনিরা যেমন যুদ্ধ করছে, তেমন আমাদের রোহিঙ্গাদের অস্ত্রসজ্জিত করতে হবে, ট্রেনিং দিতে হবে। তারা যাতে তাদের আরাকানকে মুক্ত করতে পারে। তা না করে দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশ ভারতের পাল্লায় পড়ে আমরা চীনকেও হারিয়েছি, রাশিয়াকেও হারিয়েছি।’

বাংলাদেশ ভারতের অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘পাঁচ হাজার টন পাট বীজ আমদানি করছি ভারত থেকে। আমরা পাটের দেশ অথচ পাটের বীজ আমদানি করছি এর থেকে দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি ভারতের এই আধিপত্যবাদকে চিনতে শিখেন। কাশ্মীরকে সমর্থন দেন। কাশ্মীরের জনগণের মুক্তির জন্য সমর্থন দেন। ফিলিস্তিনের জন্য যা যা করা দরকার, তাদের একটা অ্যাম্বাসি (দূতাবাস) করলেই যথেষ্ট নয়, তাদেকে সর্বপ্রকার সাহায্য সহযোগিতা করেন। আমরা আপনার সঙ্গে থাকব।’

‘ফাইজলামি’ করে কোনো লাভ হবে না: আসম রব

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই- এই সরকারের অধীনে আমরা কোনো নির্বাচন করব না। আমরা এই সরকারকে মানি না। এরা ডাকাত, রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতি করে। এরা জালিম। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের পদত্যাগের পর ঐক্যবদ্ধভাবে ন্যূনতম সময়ের মধ্যে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচন কমিশন করে ‘ফাইজলামি’ করে কোনো লাভ হবে না। বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের আস্থা নাই।

বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে জেএসডি আয়োজিত ‘২ মার্চ ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবসের ৫১তম বছর ও বাঙালির তৃতীয় জাগরণের মাইলফলক’ শীর্ষক এক স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রব বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধে যাদের অবদান তাদের কাউকেই এই সরকার স্মরণ করে না। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে। কিন্তু মাওলানা ভাসানীর নামটা একবার উচ্চারণ করা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে যিনি ৯ মাস সরকার চালিয়েছেন, সেই তাজউদ্দীনের নামটাও একবার উচ্চারণ করা হয় নাই। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন জেনারেল এমএজি ওসমানীর নামও একবার উচ্চারণ করার নাই। কাদের সিদ্দিকীর নাম একবার উচ্চারণ করা হয় নাই। স্বাধীনতার ইতিহাস এক দল ও এক পরিবারের কাছে বলি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সরকার সব খেয়ে ফেলেছে। দেশটা খেয়ে ফেলছে, স্বাধীনতা খেয়ে ফেলছে। তাই আমি আজকে পতাকা উত্তোলনের কোনো স্মৃতিচারণ করব না। ৫০ বছরের স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার নৈতিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রশাসনকে দলীয় সম্পদে রূপান্তর করা হয়েছে।

আসম রব বলেন, এই দেশকে রক্ষা করতে হলে জাতীয় সরকার গঠন করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও সাংবিধানিক অধিকারকে ধ্বংস করে দিল। এই দল ক্ষমতায় থাকলে কখনো নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না। এই সরকারকে বিদায় করে জাতীয় সরকারের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সবাই মিলে যে সিদ্ধান্ত নিবে, তাতে আমরা নির্বাচন করব।

সভায় আরও উপস্থিত আছেন- বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকি, অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, নুরুল হক নুর প্রমুখ।

আরএডিপিতে কমল সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা

প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ২ লাখ ৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি জানান, সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২ লাখ ৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক খাত থেকে ৭০ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

এর আগে চলতি অর্থবছরে এডিপিতে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে সংশোধিত এডিপিতে কমেছে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা।

২০ মার্চ থেকে ক্লাশে ফিরছে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

করোনার কারণে দুই বছর ধরে বন্ধ থাকার পর প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ক্লাশ শুরু হচ্ছে আগামী ২০ মার্চ থেকে।

বুধবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২০ মার্চ থেকে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রথম শ্রেণির আগের এই শ্রেণিগুলোতে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তির কয়েক মাস পরই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। এই দুই বছর প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ভার্চুয়ালি পাঠদান দেওয়া হয়েছে।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ কমে আসায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে খুললেও প্রাক-প্রাথমিক খোলা হয়নি। এরপর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবার চলতি বছরের জানুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়। এখন সংক্রমণ আবার কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে।

সয়াবিন-পামঅয়েল খোলা বিক্রি করা যাবে না: টিপু মুনশি

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, আগামী ৩১ মে থেকে সয়াবিন এবং ৩১ ডিসেম্বর থেকে পামঅয়েল খোলা বিক্রি করা যাবে না। এসব তেল বোতলে বিক্রি করতে হবে।

বুধবার বিকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

এর আগে আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে আসেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের মজুত যথেষ্ট পরিমাণে আছে। সব আমাদের হাতে আছে, কোনোটার সমস্যা নেই। হঠাৎ করে টিসিবি সিদ্ধান্ত নেয় এক কোটি মানুষকে পণ্য দেবে, সে ব্যবস্থাও তারা করেছে।

পণ্যের দাম বিষয়ে কেউ আইন মানেন না- সাংবাদিকরা মন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, আমরা আরও অ্যাকটিভ (সক্রিয়) হবে। ভোক্তা অধিকারকে বলব- শিল্প মন্ত্রণালয়ের যে দায়িত্ব সেটা যেন তাদের জানানো হয়। আমরাও আমাদের ব্যবস্থা নেবে।

সরকারের চেয়ে বড় হাত কারো নয়- এমন সতর্কবার্তা দিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে টিপু মুনশি বলেন, আমরা বসতে চাই- সুবিধা দিতে চাই। কিন্তু তাই বলে এমন না তারা (ব্যবসায়ীরা) সুযোগ নেবেন। কিছুদিন আগে তারা এসেছিলেন তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে। আমরা পরিষ্কার বলে দিয়েছি- নট পসিবল (সম্ভব নয়)। আমরা দেখতে চাই এবং কোথাও সুযোগ নিতে দেবে না।

এ সময় মন্ত্রী গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আপনাদের একটু সহযোগিতা চাই। আমাদের প্রশ্ন করেই শেষ করবেন না, আপনারা বাজারেও ঢুকে পড়েন। আপনারা কথা বলেন, স্ক্রল, পেপারে লেখেন। নির্দিষ্ট করে বলেন- ‘এটার বেশি দাম দেবেন না, সচেতন হোন’।

মোবাইল ইন্টারনেট ডাটার বিষয়ে সুখবর

মোবাইল ইন্টারনেট ডাটার প্যাকেজের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা আগামী ১৫ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন প্যাকেজে ডাটার অফারের সংখ্যা কমিয়ে পুরোনো উদ্বৃত্ত ডাটা নতুন প্যাকেজে যুক্ত করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

সোমবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) উপ-পরিচালক মো. জাকির হোসেন খান জানান, নতুন নির্দেশনা ১ মার্চ থেকে বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। এর পরিবর্তে আগামী ১৫ মার্চ থেকে এটি কার্যকর হবে।

বিটিআরসি থেকে জানানো হয়, ডাটা এবং ডাটা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্যাকেজ সম্পর্কে জারিকৃত নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী- দেশের সব মোবাইল অপারেটরকে নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্যাকেজ, সিস্টেম ডিজাইন ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং ডাটা প্যাকেজগুলোর অনুমোদন বিটিআরসি থেকে নিতে হবে। এরপর পূর্বঘোষিত ১ মার্চের পরিবর্তে আগামী ১৫ মার্চ দিবাগত রাত ১২টা থেকেই জারিকৃত নির্দেশিকার সব নির্দেশনা অনুযায়ী ডাটা এবং ডাটা সংশ্লিষ্ট সব প্যাকেজ পরিচালনা করা হবে।

বিটিআরসির নির্দেশিকা অনুযায়ী, একটি মোবাইল অপারেটর তিনটি বিভাগে ৯৫টি প্যাকেজ অফার করতে পারবে। তিনটি প্যাকেজ হলো- নিয়মিত প্যাকেজ, গ্রাহক কেন্দ্রিক প্যাকেজ, উন্নয়ন ও গবেষণা প্যাকেজ।

ডায়াবেটিসে শরীরে যেসব সমস্যা হতে পারে, জেনে নিন করণীয়

সাধারণত ডায়াবেটিসে নিউরোলজিক্যাল সমস্যাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটি হচ্ছে— পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি। পায়ে-হাতে যে সমস্যাটি হয়। আরেকটা হচ্ছে— ইন্টার্নাল অর্গানের নার্ভ যখন যুক্ত হয়, সেটাকে বলা হয় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি। এর ফলে দেহের ভিতরের অনেক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সমস্যা হতে পারে।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়েছেন বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ডায়াবেটিস ও হরমোন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারিয়া আফসানা।

পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি

সাধারণত রোগীর কিছু নিউরোপ্যাথলজিক্যাল উপসর্গ (হাতে-পায়ে ঝি ঝি করা, জ্বালাপোড়া করা, ব্যথা করা, অলটার সেন্সেশন বা হেঁটে যাচ্ছেন পায়ের তলায় নরমাল একটা সেনসেশন হচ্ছে) দেখা দিতে পারে।

অটোনমিক নিউরোপ্যাথি

অটোনমিক নার্ভ আক্রান্ত হলে দেহের ভিতরের অনেক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সমস্যা হতে পারে। যেমন আমাদের হৃদপিণ্ড ও রক্ত পরিবহন তন্ত্র আক্রান্ত হলে হৃদপিণ্ডের গতি বেড়ে যায়। শোয়া বা বসা থেকে উঠে দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যায় ও মাথা ঘোরে। অনেকসময় পরিপাক তন্ত্রেরও সমস্যা হয়। ফলে মনে হয় পেটের মধ্যে খাবার জমে আছে।

তাছাড়াও যৌন ক্ষমতাও অনেক সময় কমে যায়। প্রস্রাব ও মল ত্যাগে নানারকম সমস্যা দেখা যায়। শরীরের নীচের অংশে ঘাম কম তৈরি হয়। ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। এর ফলে পা ফেটে যায় ও পায়ে আলসার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার অনেক ক্ষেত্রে অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি রোগী হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে বুঝতে পারে না। যার ফলে তার গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়।

বিশেষ করে কার্ডিয়াক বা হার্টের সমস্যা নিয়ে, যেমন- পুসচারাল ড্রপ বা পুসচারাল হাইপারটেনশন নিয়ে প্রেজেন্ট করতে পারে।

ইউরোলজিক্যাল বা ইউরিনারি ব্লাডারের সমস্যা হলে- প্রস্রাবের কিছু সমস্যা হতে পারে। (রিটেনশন হয়ে যাওয়া, প্রস্রাব আটকে থাকা, কন্ট্রোলে না থাকা) এই ধরনের সমস্যা ডায়াবেটিসে নিউরোপ্যাথি নিয়ে আসতে পারে।

তাহলে এই নিউরোপ্যাথির উপসর্গগুলো কিন্তু আমাদের আসলে কো-রিলেট করতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীর যখন অর্গানের জটিলতা শুরু হয়, তখন সার্চ করতে হবে অন্যান্য অর্গানের নিউরোপ্যাথি আছে কি না? সেটাও দেখে নিতে হবে। সাধারণভাবে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি বা হাতে-পায়ের এই উপসর্গগুলো নিয়েই কিন্তু বেশি পেশেন্ট এসে থাকে নিউরোলজিক্যাল উপসর্গ নিয়ে।

সেই ক্ষেত্রে আমরা নিউরোলজিক্যাল কিছু পরীক্ষা আছে সেটার মাধ্যমে ডায়াগনোসিস করি। রোগীর নিউরোপ্যাথি আছে কি না। আর ইন্টার্নাল অর্গানে বা অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি যেগুলো, সেগুলো একটা অর্গানে যদি নিউরোপ্যাথি থাকে, তাহলে আমরা ধরে নেই অন্যান্য অর্গানেও নিউরোপ্যাথি হয়েছে। সেই হিসেবে সব অর্গানের চিকিৎসা করতে হবে।

ডায়াবেটিসে আরও যেসব সমস্যা হতে পারে?

ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যা বা রেটিনোপ্যাথি, ডায়াবেটিসজনিত কিডনি বা নেফ্রোপ্যাথি, এবং ডায়াবেটিসজনিত পায়ের নার্ভ বা নিউরোপ্যাথিক সমস্যা হতে পারে। এই প্রধান সমস্যাগুলো আমরা মাইক্রোভাস্কুলার কম্প্লিকেশন হিসেবে পেয়ে থাকি।

আরেকটা জটিলতা হচ্ছে ম্যাক্রোফেস্কুলার বা বড় বড় রক্তনালীগুলো যখন ইনভলভ হয়। যেমন- স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক অথবা পায়েল রক্ত চলাচলে সমস্যা, পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ নিয়েও আসতে পারে। মোটামুটি ভাবে এইগুলোই বড় কম্প্লিকেশন।

অবশ্যই মনে রাখতে হবে, এই জটিলতাগুলো শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নাই। যদি ডায়াবেটিস সুনিয়ন্ত্রিত থাকে অবশ্যই আমরা জটিলতা থেকে মুক্ত থাকতে পারি।

সূত্র: ডক্টর টিভি

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম হলে কী করবেন?

নারীদেহের একটি জটিল রোগ পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম। হরমোনের তারতম্যের কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়। রোগটির মূল উপসর্গ হিসেবে নারীর ডিম্বাশয়ে বিভিন্ন বয়সি, বিভিন্ন আকারের ও বিভিন্ন সংখ্যার সিস্ট দেখা দেয়। এর ফলে অনিয়মিত মাসিক, সন্তান ধারণে সমস্যাসহ নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ এবং এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম।

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম হচ্ছে নারীদেহে এন্ড্রোজেনের (পুরুষ যৌন হরমোন) আধিক্যের কারণে সংঘটিত শারীরিক সমস্যা। এর প্রভাবে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে থাকে। যেমন- ক. অনিয়মিত মাসিক খ. অতিরিক্ত রক্তস্রাব গ. মুখে ও শরীরে অত্যধিক লোম (পুরুষালি) ঘ. ব্রণ মুখে ও শরীরের অন্যান্য অংশে।

আরও কিছু শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে- তলপেটে ব্যথা, মকমলের মতো কালো ত্বক (ঘাড়, বগল ইত্যাদি জায়গায়), বন্ধ্যত্ব। রোগীদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এদের অনেকেই দৈহিক স্থূ’লতায় আক্রান্ত হয়, নাকডাকা ও ঘুমের সময় হঠাৎ করে শ্বাস বন্ধ হওয়া, হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া, মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

জিনগত ত্রুটি আছে এমন কিশোরীর দৈহিক ওজন বৃদ্ধি পাওয়া, খুব কম শারীরিক শ্রম সম্পাদন করা ও ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করা ইত্যাদি এ রোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমে ডিম্বাশয় অতিরিক্ত পরিমাণে টেস্টোস্টেরন হরমোন তৈরি করতে উদ্দীপ্ত হয়।

যার পেছনে পিটুইটারি গ্রন্থি কর্তৃক অতিরিক্ত এলএইচ নিঃস্বরণ ও দেহে ইনসুলিন রেজিস্ট্রেন্সের উপস্থিতিই কারণ।

রোগ শনাক্তকরণ

নিম্নের উপসর্গ দেখা দিলে পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম হিসেবে রোগটিকে চিহ্নিত করবেন

* অনিয়মিত ঋতুস্রাব।

* নারীদেহে অতিরিক্ত এন্ড্রোজেন হরমোন উপস্থিতি।

* ডিম্বাশয়ে সিস্ট।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা

* সিরাম টেস্টোস্টেরন, এলিস, এফএসএইচ।

* পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম।

* ওজিটিটি।

চিকিৎসা

জীবনযাত্রা ব্যবস্থাপনা : চিকিৎসার শুরুতেই খাদ্য ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। রোগীর দৈহিক ওজন কাক্সিক্ষত মাত্রায় পৌঁছতে সাহায্য করবে, বিপাকীয় প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটাবে যাতে করে ইনসুলিন রেজিস্ট্রেন্স কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। আদর্শ জীবনযাপন ব্যবস্থাপনা রোগীর হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমাবে।

এ রোগীদের খাদ্য তালিকায় শর্করার আধিক্য কম থাকবে, শাকসবজি (আলু বাদে), রঙিন ফল-মূল ও আমিষজাতীয় খাদ্য প্রাধান্য পাবে।

দৈহিক ওজন বা বিএমআই বিবেচনায় রেখে শারীরিক শ্রমের ব্যবস্থা করতে হবে।

ওষুধ

* নারীদের জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত পিলগুলো যাতে স্বল্প মাত্রায় ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্ট্রেরন থাকে, তা সহায়ক ওষুধ।

* মেটফরমিন

* অবাঞ্ছিত লোম দূর করার ক্রিম

* প্রজনন সম্ভাবনা বৃদ্ধির ওষুধ

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত নারীদের অধিকাংশই এ সমস্যার শারীরিক লক্ষণগুলো খুব দ্রুত বুঝতে পারেন না। কেউ কেউ লক্ষণগুলো বুঝতে পারলেও সংকোচ বোধের কারণে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে দেরি করেন। যেহেতু রোগটির ব্যাপকতা ও সুদূরপ্রসারী স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে, তাই প্রজননক্ষম বয়সের সব নারীকে তার এ সমস্যা আছে কিনা জানার জন্য হরমোন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

সিলেবাস ঠিক না করায় উদ্বেগে শিক্ষার্থীরা

এমবিবিএসে ভর্তি-ইচ্ছুক হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এবারের পরীক্ষার্থীরা এইচএসসিতে ‘কাস্টমাইজড’ (সংক্ষিপ্ত) সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়ে এসেছে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা পুরো সিলেবাসের ওপরই নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এতে একদিকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ভর্তির পথ রুদ্ধ হওয়ার ঘোরতর আশঙ্কা আছে। অন্যদিকে গত বছরে পাশ করে আসা শিক্ষার্থীদের ‘চান্স’ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষও দেখা দিয়েছে।

এমবিবিএসে ভর্তির আবেদন কার্যক্রম সোমবার শুরু হয়েছে। অনলাইনে একটানা ১০ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আর ভর্তি পরীক্ষা হবে ১ এপ্রিল।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, কোন সিলেবাসে পরীক্ষা হচ্ছে, সেটা তিনি জানেন না। এ নিয়ে একটি কমিটি আছে। গোপনীয়তার স্বার্থে সেই কমিটির নাম প্রকাশ করা যাবে না। এবারে এমবিবিএসে ভর্তির লক্ষ্যে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নীতিমালা আর ২৩ ফেব্রুয়ারি নির্দেশনা জারি করা হয়। নীতিমালার ৩.৩ অনুচ্ছেদে এইচএসসি বা সমমানের সিলেবাস অনুযায়ী ১০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, পরীক্ষায় ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটির প্রশ্নের মান ১। পরীক্ষা হবে ১ ঘণ্টায়। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যায় ২০, রসায়নে ২৫, জীববিজ্ঞানে ৩০, ইংরেজিতে ১৫ এবং সাধারণজ্ঞানে (বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ) ১০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে।

এছাড়া এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের কত পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের অংশ কীভাগে ফলের সঙ্গে হিসাব করা হবে, তা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, যারা ২০২০ বা ২০২১ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় (পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞানসহ) উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা আবেদন করতে পারবেন। ২০১৮ সালের আগে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না।

তবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, নীতিমালায় স্পষ্ট না করার কারণ হচ্ছে গোটা সিলেবাসেই পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর কারণ হচ্ছে, ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা না হলেও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা পুরা সিলেবাসে হয়েছে। আর এ বছর যেহেতু বোর্ড পরীক্ষা হয়েছে, তাই ফুল সিলেবাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নীতিমালা নিয়ে প্রথমত ধোঁয়াশা আর দ্বিতীয়ত সংকট তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেননা নিয়মিত (২০২১ সালের) শিক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত পরীক্ষা দিয়ে এসেছে। আর ২০২০ সালে এইচএসসি শিক্ষার্র্থীরা যদিও অটোপাশ করে এসেছে, কিন্তু তারা পরীক্ষা দেওয়ার আশায় গোটা সিলেবাসই পড়ে এসেছে। উল্লিখিত অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করা হয়নি আংশিক না গোটা সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হবে। ফলে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা একধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে আছে।

এতে সামগ্রিকভাবে তাদের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটছে। অন্যদিকে এইচএসসির পুরো সিলেবাসে পরীক্ষা হলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে ২০২০ সালে বা এক বছর আগে পাশ করে আসা শিক্ষার্থীরা।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সেদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, এইচএসসি পরীক্ষা যে সিলেবাসে নেওয়া হয়েছে সেটাতেই হওয়া উচিত ভর্তি পরীক্ষা। এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিএমডিসির (বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল) সঙ্গে কথা হয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও কথা বলা হবে।

জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর একে একে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ইঞ্জিনিয়ারিং গুচ্ছের তিন বিশ্ববিদ্যালয় চুয়েট, কুয়েট ও রুয়েট, জিএসডি গ্রুপের ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ও এই সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বাকিগুলোও এ নিয়ে ইতিবাচক ভাবছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে একাধিক শিক্ষার্থী যুগান্তরে ফোন করেছেন। নাম প্রকাশ না করে তারা বলছেন, শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর তারা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এখন যদি পুরো সিলেবাসেই ভর্তি পরীক্ষা হয়, তাহলে প্রস্তুতি যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হবে। এতে বেশি সুবিধা পাবে গত বছরে পাশ করা এবং সচ্ছল পরিবারের সন্তান ও শহরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। কেননা, ২০২০ সালের বোর্ড পরীক্ষার্থীরা এখন পর্যন্ত পড়ার সুবিধা পেয়েছে।

গত বছর বা ২০২১ সালের শিক্ষার্থীরা গোটা সিলেবাস পড়েনি। আর সব পড়ার জন্য সময় পাচ্ছে মাত্র ৩ মাস। তাছাড়া এই শিক্ষার্থীরা সশরীরে তেমন ক্লাসই করতে পারেনি। যতটুকু প্রস্তুতি নিয়েছে তাও অনলাইনে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশ প্রশ্নই বিজ্ঞানের বিষয়গুলো থেকে করা হয়। এগুলো পাঠ্যপুস্তক হতে বুঝে পড়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার এবং শিক্ষকদের সহায়তার প্রয়োজন হয়। বোর্ড পরীক্ষার চেয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাশের পড়া আলাদা হওয়ায় এমনও আছে যে, একটি সিলেবাসে বেশকিছু অংশই হয়তো কোনো কোনো শিক্ষার্থী কোনোদিনই পড়েনি। তাছাড়া অনলাইন শিক্ষার সুবিধা প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা তেমন পায়নি।

অনেকে প্রাইভেট-কোচিংয়ের সুবিধাও তেমন পায়নি। ফলে এই বাস্তবতায় বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি বৈষম্য তৈরি হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এই বৈষম্যের শিকার হবে বেশি। এক্ষেত্রে দুবছর ধরে প্রস্তুতি নেওয়া ২০২০ সালের শিক্ষার্থীরা সুবিধা পাবে আরও বেশি। তাই শিক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা দাবি করেছে।