রবিবার ,১৪ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 434

চার নেতাতেই দুই বছর পার

সম্মেলনের দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসবক লীগে। ফলে চার নেতায় (উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক) চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ইউনিট।

দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা। তারা কোথাও পরিচয় দিতে পারছেন না। নাজুক অবস্থা ঢাকা মহানগরের থানা-ওয়ার্ড কমিটিগুলোতেও। দুই শাখার প্রায় সবগুলো থানা-ওয়ার্ড কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। সম্মেলন না হওয়ার অগোছালো অবস্থায় রয়েছে সংগঠনের তৃণমূল।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলছেন, করোনা সংকটের কারণে এবং মানবিক কাজে ব্যস্ত থাকায় এই কাজগুলো করতে বিলম্ব হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই উত্তর-দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা এবং শিগগিরই থানা-ওয়ার্ড সম্মেলন শুরু হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।

জানতে চাইলে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু যুগান্তরকে বলেন, করোনার সময়ে আমরা মানবিক কাজে বেশি ছিলাম। এখন যেহেতু করোনা কমে গেছে, তাই আমরা সংগঠন গোছানোর কাজে জোর দিয়েছি। আমাদের মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলাগুলোর সম্মেলন করছি। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে বেশ কয়েকটা মিটিংও করেছি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ মোটামুটি শেষের দিকে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ-উত্তর শাখার সর্বশেষ সম্মেলন ২০১৯ সালের ১১ ও ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ নভেম্বর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখায়ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।

উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হন ইসহাক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান নাঈম। দক্ষিণের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন কামরুল হাসান রিপন এবং সাধারণ সম্পাদক হন তারিক সাঈদ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর মেয়াদি এই কমিটি দুই বছরের বেশি সময় পার করলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি। এতে সংগঠনের পদপ্রত্যাশী নেতারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন যুগান্তরকে বলেন, করোনাকালীন আমাদের মানবিক কাজে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা শুরু থেকেই নানা কর্মসূচির মাধ্যমে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছি। পাশাপাশি আমরা আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজও করেছি। এটা অনেকদূর এগিয়েও নিয়েছি। যে কোনো সময় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সংগঠনের জন্য নিবেদিত এবং মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষিত নেতাদেরই কমিটিতে জায়গা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মাদক, চাঁদাবাজ ও হাইব্রিডমুক্ত কমিটি করার চেষ্টা করেছি। যারা এ ধরনের কাজে যুক্ত তারা কোনোভাবেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে এবং থানা-ওয়ার্ড কমিটিতেও জায়গা পাবে না।

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসহাক মিয়া যুগান্তরকে বলেন, আমরা আশা করছি এ মাসের (মার্চ) মধ্যেই আমাদের কমিটি দিয়ে দিতে পারব। ঢাকা মহানগর উত্তরের থানা-ওয়ার্ড কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পরই তো করোনা শুরু হয়। ফলে সেভাবে কমিটিগুলো নতুন করে করতে পারিনি। আগের করা কমিটি দিয়েই এখনো চলছে। এখন করোনা যেহেতু কমে গেছে, আশা করছি খুব শিগগিরই থানা-ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলনের কাজও শুরু করতে পারব।

এদিকে করোনার শুরু থেকেই নানা কর্মসূচি নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে ছিল স্বেচ্ছাসেবক লীগ। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলেও সাবেক ছাত্র নেতা ও পদপ্রত্যাশী নেতাদের নিয়ে দুই অংশের শীর্ষ নেতারা নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। শুরু থেকেই জনগণকে সচেতন করা, করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু, দুস্থদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে ছিল সংগঠনটি। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কামরুল হাসান রিপনসহ অন্যরা ব্যক্তিগত উদ্যোগেও নানাভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। দক্ষিণে পদপ্রত্যাশী নেতা বেশি হওয়ায় কমিটি চূড়ান্ত করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ঢাকা মহানগরের এই দুই শাখা কমিটি ১০১ সদস্যবিশিষ্ট করে।

কিন্তু পদপ্রত্যাশী নেতার সংখ্যা এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। যাদের বেশিরভাগই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং পদে আসার যোগ্য। এছাড়া ক্যাসিনোকাণ্ডে ঢাকা মহানগর যুবলীগের বড় ধাক্কা লাগার পর সাবেক ছাত্রনেতাদের অনেকেই এখন স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান।

এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের অধীনে ২৪টি থানা এবং ৫৪টা ওয়ার্ড রয়েছে। এবং দক্ষিণের অধীনে ২৫টি থানা এবং ৭৫টি ওয়ার্ড রয়েছে। এগুলোর প্রায় সবগুলোর কমিটিরই মেয়াদোত্তীর্ণ। এতে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়েও নেতৃত্বের ফাটল দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘদিন নতুন নেতৃত্ব না আসায় এসব থানা-ওয়ার্ডগুলোতে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারছে না। অনেকেই আবার দলের দুঃসময়ে কর্মী ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে নতুন বলয়কে সংগঠনে ভেড়াতে চাচ্ছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বিএনপির নিষ্ক্রিয় নেতাদের সক্রিয় করা হচ্ছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি বড় অংশ দৃশ্যত নিষ্ক্রিয়। সভা-সেমিনারে দেখা গেলেও মাঠের কোনো কর্মসূচিতে তাদের দেখা যায়নি। আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এসব নিষ্ক্রিয় নেতাকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এ ছাড়া ভাইস-চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের মতো সিনিয়র নেতাদেরও দলে গুরুত্ব বাড়ছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চলমান কর্মসূচি সফলে ইতোমধ্যে তাদের বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, এতদিন দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ঘুরেফিরে গুঁটি কয়েকজন নেতা দায়িত্ব পেয়েছেন। এখন এই নীতি পরিবর্তন করে সব নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে মাঠের কর্মসূচিতে সক্রিয় করা হচ্ছে। বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন এসব তথ্য।

বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটি ছাড়াও ৫০২ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে কর্মকর্তা-সম্পাদক হিসাবে আছেন ২০৯ জন, যার মধ্যে ভাইস-চেয়ারম্যান ৩৫ জন। এ ছাড়া নির্বাহী কমিটির সদস্য রয়েছেন ২৯৩ জন। পাশাপাশি ৭৩ সদস্যের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলও রয়েছে। যদিও এর মধ্যে অন্তত ৬০ জনের মতো নেতা ইন্তেকাল করেছেন। কয়েকজন পদত্যাগও করেছেন।

নেতারা জানান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির আকার বড় হলেও অধিকাংশ নেতাকেই মাঠের কর্মসূচিতে দেখা যায় না। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রত্যাশিত পদ না পেয়ে নিজ থেকেই নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। তাছাড়া বাস্তবতা হচ্ছে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নির্যাতন, হামলা-মামলার কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা আছে। গত জাতীয় নির্বাচনের পরে তা আরও বেড়েছে। এ সময়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা যদি সক্রিয়ভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন তাহলে কর্মীদের মধ্যেও হতাশা কমিয়ে তাদের চাঙ্গা করা সম্ভব হতো। বিষয়টি নিয়ে স্থায়ী কমিটির একাধিক বৈঠকে আলোচনা হয়। নেতাদের সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে জেলায় জেলায় সমাবেশে ভাইস-চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টাদেরও প্রধান অতিথি করা হয়। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চলমান কর্মসূচি সফল করতে ৮২ সাংগঠনিক জেলায় সাংগঠনিক টিম করা হয়েছে। যেখানেও নির্বাহী কমিটির বেশির ভাগ নেতাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ছিল। কিন্তু তা কাটিয়ে উঠে নেতাকর্মীদের মনোবল এখন আবারও চাঙ্গা হয়েছে। যার প্রমাণ জেলার সমাবেশে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণ। এখনো কর্মসূচি চলছে। শত বাধা সত্ত্বেও এসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মীর ঢল নামছে। কর্মসূচি সফল করতে সব সাংগঠনিক জেলায় টিম করা হয়েছে। সেখানে অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের কর্মসূচি সফলে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের মধ্যে মশিউর রহমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, জয়নুল আবেদিন ফারুক, অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, মনিরুল হক চৌধুরী, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুস সালামের মতো অনেকেও জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় সম্পাদক, সহ-সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্যদের অধিকাংশকেই টিম প্রধান করা হয়েছে। দায়িত্ব পেয়ে নেতারা সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

নিষ্ক্রিয় ও অভিজ্ঞ নেতাদের সক্রিয় করার বিষয়ে বিএনপির একাধিক নেতা জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচন টার্গেট করেই এসব করা হচ্ছে। কারণ বিএনপির মূল দাবি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার। এ দাবিতে আন্দোলনের কোনো বিকল্প দেখছে না দল।

পাশাপাশি বৃহত্তর ঐক্য গড়তে ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন দায়িত্বশীল নেতারা। ঐক্য ও আন্দোলন সফলে পর্যায়ক্রমে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সব নেতাকে সম্পৃক্ত করা হবে। সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি মধ্যমসারির কেন্দ্রীয় নেতাদেরও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে যাতে করে সব নেতার সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দাবি আদায় করা যায়। সেভাবেই নীতিনির্ধারকরা পরিকল্পনা করছেন।

নেতারা আরও জানান, কমিটি পুনর্গঠন কেন্দ করে ক্ষোভ থেকে তৃণমূলেরও অনেক নেতা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। যাদের মধ্যে অনেকে প্রত্যাশিত দলীয় পদ পাননি, আবার কেউ কেউ কোনো পদই পাননি। জেলা-উপজেলাসহ প্রায় সব পর্যায়ে যেসব নেতা নিষ্ক্রিয় তাদেরও তালিকা হচ্ছে। কেন্দ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতাদের যথাযথ পদ দিয়ে মূল্যায়ন করবে যাতে করে তারা আবারও সক্রিয় হন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী দিনের আন্দোলন কর্মসূচি সফল করতে পারেন।

সাগরে নিম্নচাপ, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। সাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। তবে পরবর্তী তিন দিনে আবহাওয়ার অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। খবর বাসসের।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর সমূহকে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য সাবধানতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার সমূহকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। পশ্চিমা লঘুচাপের বাড়তি অংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে।

শুক্রবার শ্রীমঙ্গলে সর্বোনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। টেকনাফে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ দিকে আবহাওয়ার সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

এটি গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ২ হাজার ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ৯৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্র-বন্দর থেকে ১ হাজার ৯৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ৯৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

সিজারিয়ান ডেলিভারি কমিয়ে আনা জরুরি

সিজারিয়ান ডেলিভারি কমিয়ে আনা জরুরি বলে মত দিয়েছেন দেশের গাইনি ও অবস বিভাগের বিশেষজ্ঞরা। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান ডেলিভারির বদনাম ঘোচাতে স্বাভাবিক প্রসবে মনোযোগ বাড়ানোর জন্য গাইনি চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

একই সঙ্গে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে চিকিৎসকদের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (৪ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গাইনি বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) আয়োজিত স্বাভাবিক ডেলিভারি বিষয়ক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা।

ওজিএসবির সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. গুলশান আরা বলেন, বিশ্বব্যাপী সিজারিয়ান ডেলিভারি বেড়ে গেছে। এর বিপরীতে স্বাভাবিক ডেলিভারি উদ্বেগজনক হারে কমে গেছে। সিজারিয়ান ডেলিভারিরে উপকার থাকলেও এর ক্ষতির দিকও অনেক বেশি। তাই সিজারিয়ান ডেলিভারি কমিয়ে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। এটা নিশ্চিত করতে চাইলে প্রথমেই প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো। পাশাপাশি পেশার প্রতি প্রতিশ্রুতি রক্ষার লক্ষ্যে তাদের মনিটরিং বাড়াতে হবে।

নারী স্বাস্থ্যের এ দিকটি চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওজিএসবি বিলগেটস ও মিলিন্ডা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আরেকটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। দেশের ১৩টি হাসপাতালে চলছে এ প্রশিক্ষণ, যার ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেক দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ভ্যাজাইনাল ডেলিভারি বহুলাংশে বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ওজিএসবি সেক্রেটারি বলেন, সিজারিয়ান ডেলিভারি রোধে সেবাদাতাদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদেরকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা জরুরি।

অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি ও কিংবদন্তি চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কোহিনুর বেগম বলেন, নরমাল ডেলিভারির জন্য যথাযথভাবে রোগীকে বাছাই করতে হবে। যাকে তাকে স্বাভাবিক ডেলিভারির জন্য বাছাই করা যাবে না। উপযুক্ত মাকে বাছাই করা গেলে সহজ ও সহনশীল প্রসব সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারের পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব, যে কারণে দেশে-বিদেশে আমাদের সীমাহীন বদনাম হয়ে গেছে। ঘরে-বাইরে, পৃথিবীর সব জায়গাতে আমাদের বদনাম হয়েছে। এ বদনাম ঘোচাতে চাইলে, নিজের গরজেই স্বাভাবিক ডেলিভারি বাড়াতে হবে।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্রযুক্তি রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন (RPA) এর উদ্বোধন

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবি) গত ১ মার্চ ২০২২ তারিখে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের একটি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্রযুক্তি রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন (RPA) এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে।
ইউসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জনাব আরিফ কাদরী রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন (RPA)
এর উদ্বোধন ঘোষনা করেন।
অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউসিবি’র অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সৈয়দ ফরিদুল
ইসলাম, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক
জনাব আবুল আলম ফেরদৌস, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব এন মুস্তাফা তারেক, উপ-ব্যবস্থাপনা
পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান
এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব এটিএম তাহমিদুজ্জামান এফসিএস সহ বিভিন্ন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মানের জাতীয় অঙ্গীকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার সাথে সমন্বয়
রেখে ইউসিবি’র সামগ্রিক ডিজিটাল অভিমুখে রুপান্তরের যাত্রার অংশ হিসাবে প্রবর্তিত হয়েছে রোবোটিক
প্রসেস অটোমেশন (RPA)। ইউসিবি বিশ্বাস করে, সর্বোত্তম গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে গ্রাহক নির্ভর ডিজিটাল
সেবা দ্রুততম এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।
রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন (RPA) বাস্তবায়নে ইউসিবি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান UiPath এর
সাথে কাজ করছে এবং বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড, বাংলাদেশ এবং ফিট
সিসটেমস লিমিটেড, ভারত।
ক্যাপশনঃ ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবি) ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
নির্ভর প্রযুক্তি রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন (RPA) এর উদ্বোধন করছেন ইউসিবি’র ব্যবস্থাপনা
পরিচালক ও সিইও জনাব আরিফ কাদরী। অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউসিবি’র অতিরিক্ত
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সৈয়দ ফরিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব নাবিল
মুস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আবুল আলম ফেরদৌস, উপ-ব্যবস্থাপনা
পরিচালক জনাব এন মুস্তাফা তারেক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপ-
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব এটিএম
তাহমিদুজ্জামান এফসিএস সহ বিভিন্ন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

বইমেলায় খোকন কুমার রায়ের ‘গীতিকাব্য’

এবারের অমর একুশে বইমেলায় এসেছে কবি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী খোকন কুমার রায়ের ‘গীতিকাব্য’।

এটি তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এবারের বইমেলায় কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেছে সুখবর প্রকাশ। পাওয়া যাচ্ছে ‘সপ্তর্ষি’র স্টলে (স্টল নম্বর ১৩, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)।

অনেক দিন ধরেই লেখালেখি, বিশেষ করে কবিতা লিখে আসছেন খোকন কুমার রায়। তার কবিতাগুলোর বড় বৈশিষ্ট্য হলো— ছন্দ মিলের কারণ। এগুলো গান হিসেবেও গাওয়া যায়।

এরই মধ্যে অনেক কবিতা গান হিসেবে গাওয়া হয়েছে, যা একটি পরিপূর্ণ অ্যালবাম হিসেবে আসছে শিগগিরই। গানগুলোতে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন দেশের সেরা শিল্পীরা। খোকন কুমার রায়ের কবিতাকে তাই গীতিকবিতা বলা যায়।

সরকারের নিবন্ধনপ্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল ‘সুখবর ডটকম’ এর সম্পাদক ও প্রকাশক খোকন কুমার রায় সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে দীর্ঘদিন ধরে নিরলস কাজ করে চলেছেন।

গীতিকবি খোকন কুমার রায়ের জন্ম ১৯৮০ সালের ২৫ আগস্ট ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নে। তার বাবা অবনী মোহন রায় ও মাতা মিলন রানী রায়।

জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা ঘোষণা

জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০২১-এর সংক্ষিপ্ত তালিকা ঘোষণা করেছেন পুরস্কার পর্ষদের সদস্য সচিব কবি শামীম রেজা। বুধবার তিনি এই তালিকা ঘোষণা করেন।
এক ভিডিও বার্তায় ঘোষিত ৫টি বইয়ের মধ্যে রয়েছে- উপন্যাস- ক্রমাগত হত্যার সেরেনাদে: অদিতি ফাল্গুনী, সংবেদ প্রকাশনা; কোলাহল থামার পরে : আফসানা বেগম, প্রথমা প্রকাশন।

গল্পগ্রন্থ- বখতিয়ার খানের সাইকেল : ফয়জুল ইসলাম, সমগ্র প্রকাশন; লুব্ধক : মাহবুব আজীজ, সমাবেশ।
কাব্যগ্রন্থ- চরণেরা হেঁটে যাচ্ছে মুণ্ডুহীন : ময়ুখ চৌধুরী, কবিতাভবন।

কবি শামীম রেজা বলেন, বিচারকমণ্ডলী দীর্ঘ তালিকার ১৩টি গ্রন্থ থেকে ৫টি গ্রন্থ সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করেছেন। পরবর্তী সময়ে এই ৫টি গ্রন্থ থেকে বিচারকমণ্ডলী একটি গ্রন্থকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করবেন।

তিনি আরো বলেন, মহামারির কারণে গতবছর অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। এবছর ২ এপ্রিল একসঙ্গে গতবারের বিজয়ীদের হাতেও পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

করোনা যেভাবে পর্দার প্রতি বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিল

সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস ইসলামিক ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন কাউন্সিলের প্রধান আলিয়া খানের নারীদের ফ্যাশনসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ছেপেছে।

তার চুম্বকাংশ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে কাতারভিত্তিক আরবি গণমাধ্যম আলজাজিরা মুবাশির। আরবি থেকে তা পরিমার্জিত ভাষান্তর করেছেন— বেলায়েত হুসাইন।

আলিয়া খান ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, করোনাক্রান্ত বিগত দুই বছরে বিশ্ব এমন এক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করল, যা মানবজীবনকে আমূল বদলে দিয়েছে। ঘরে ও কর্মক্ষেত্রে যেসব কঠোর পরিবর্তন এসেছে, তা মানুষের পোশাক-পরিচ্ছেদ পরিধান পদ্ধতিকে বেশ প্রভাবিত করেছে।

উল্লেখ্য, মহামারিতে মানবজীবনে যে রূপান্তর ঘটেছে— এটি যারা ইসলামি অনুশাসন মেনে জীবনযাপন করেন, তাদের স্বাভাবিক জীবনাচার। এটিকে ‘মডেস্ট লাইফস্টাইল’ বা বিনয়ী জীবনধারা আখ্যা দেওয়া হয়।

একটি শালীন ও নির্মল জীবন গঠনের জন্য সাধারণত শৈশব থেকেই মুসলমানরা একই সঙ্গে শালীনতা ও কমনীয়তায় বেড়ে উঠতে থাকে। করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য মুখমণ্ডল আচ্ছাদিত করার বিষয়টি একটি স্বাভাবিক আচরণে রূপ নেওয়ার পর আমার বোধগম্য হলো— ইসলামি ফ্যাশন তো এর কথাই বলে এবং এরূপ পরিচ্ছদের প্রতিই উৎসাহ দেয়, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আবর্জনা থেকে চেহারাকে মুক্ত রাখে।

ইসলামি ফ্যাশন মুসলমানদের ব্যবহারিক লক্ষ্যের প্রতি সহায়তা দেয়। কেননা তা প্রকৃতি, বাস্তবতা এবং শালীনতা ও বিশুদ্ধ জীবনযাত্রার প্রতিনিধিত্ব করে। এতদসত্ত্বেও ইসলামি ফ্যাশন ও জীবনমান কটূক্তির স্বীকার। পর্দাপালনের কারণে পশ্চিমারা মুসলিম নারীদের দুর্বল ও অবহেলিত আখ্যায়িত করে, যা অবান্তর ও অবাস্তব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা সংগঠন মুসলিম নারীদের হিজাব পরিধান ও পর্দাপালন নিষেধাজ্ঞার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। অথচ তাদের চোখ হিজাব পরিধানকারী পেশা; যেমন— নার্সিং, সার্জারি, কুকিং এবং অন্যান্য ধর্মের লোকদের; যেমন— শিখ, ইহুদী, ক্যাথলিক, হিন্দু ও বৌদ্ধদের মাথাবৃত করা প্রত্যক্ষ করে না।

কিন্তু কোভিড-১৯ আক্রান্ত বিগত দুই বছরে মাস্ক বিশ্বে নিকাবের প্রতীক হয়ে উঠেছে। মুখ ঢেকেরাখা এখন আমাদের সামাজিক সৌজন্য বোধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাস্ক পরিধানের দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর অসংখ্য নারী পর্দা বা মুসলিম নারীদের নেকাবে মুখ ঢাকার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছেন এবং অমুসলিম হওয়া সত্ত্বেও একটি আবরণের পেছনেই নিজেদের বেশি নিরাপদ অনুভব করছেন। বিশেষত পরপুরুষের অযাচিত দৃষ্টি থেকে নিজেদের সুরক্ষায় এটি তাদের মন কেড়েছে।

অথচ গত এপ্রিলেই ফরাসি সিনেটর এক সংশোধনী অনুমোদন করেছে, যেখানে বলা হয়েছে— ১৮ বছরের নিচের মেয়েরা হিজাব ও নেকাব পরিধান করতে পারবে না; এমনকি এমন একটি সক্রিয় পোশাক, যা আরাম, সৌন্দর্য ও দেহের সুরক্ষায় অতুলনীয়; সাঁতারের বুরকিনিও (সাঁতারের সময়ে পরার বিশেষ পোশাক) নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়; বরং এটি মুসলিম নারীদের মৌলিক পোশাকের সাদৃশ্য হওয়ায় পোশাকটিকে ফ্রান্সের জন্য হুমকি আখ্যায়িত করা হয়েছে। অথচ বুরকিনি ডাইভিং স্যুটসদৃশের বেশি কিছু নয়।

পর্দা নিয়ে ফ্রান্স দ্বিমুখী আচরণ করেছে। দেশটিতে কেউ যদি মেডিকেল মাস্ক পরিধানবিহীন জনসম্মুখে বের হয়, তা হলে তিনি ১৩৫ ইউরো জরিমানা গুনবেন। পক্ষান্তরে নারীরা নেকাবে মুখাবৃত করলে জরিমানা দিতে হবে ১৫০ ইউরো। এটি কেমন বিচার!

তবে আশা করা যাচ্ছে— করোনার কারণে ইসলামি ফ্যাশনের প্রতি বিশ্ববাসীর যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তা আগামী বছরগুলোতে পৃথিবীতে পোশাক পদ্ধতি ও অর্থনীতির মান গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য করছি— ইসলামি ফ্যাশন ও পোশাকরীতি বৃহৎ একটি জায়গা দখল করে নিয়েছে।

আশার ব্যাপার হলো— ইসলামি ফ্যাশনের ভবিষ্যৎকে অমিত সম্ভাবনাময় একটি খাত অনুভব করা যাচ্ছে, যার নানা নিদর্শন ইতোমধ্যে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। মুখাবরণের জন্য হিজাব পদ্ধতি একটি পরীক্ষিত, মার্জিত ও নিরাপদব্যবস্থা।

এ জন্য এখন এটি কথিত মূলধারার ফ্যাশনের অংশ হয়ে উঠেছে, যা আগামী পৃথিবীতে ব্যাপকতার ক্ষেত্রে ইসলামি ফ্যাশনের জন্য একটি বড় সুযোগ।

মুমিনের ঈদ: অনাবিল আনন্দের প্রতীক

‘ঈদ’ শব্দটি আরবি শব্দমূল ‘আউদ’ থেকে নির্গত। এর অর্থ যা ঘুরে ঘুরে বারবার আসে। ‘ফিতর’ শব্দের অর্থ ভেঙে দেওয়া, ইফতার করা।

ঈদুল ফিতর মানে সে আনন্দঘন উৎসব, যা প্রতি বছর দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঘুরে ঘুরে আসে। ঈদ আসে সুশৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ উৎসবের আমেজ নিয়ে।

নৈতিক, আত্মিক ও সামাজিক পরিশুদ্ধির সীমানা পেরিয়ে সামষ্টিক কল্যাণ নিয়ে ঈদ আসে। ঈদ আসে শুভ্র ও শুদ্ধতার প্রতীক হয়ে। তাকওয়ার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে নতুন জীবনে ফেরার অঙ্গীকার নিয়ে ঈদ আসে।

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতমণ্ডিত অফুরন্ত কল্যাণের সঙ্গে আলিঙ্গন করে ঈদ আসে। ঈদ আসে দোস্ত-দুশমন সবার প্রতি মিত্রতার হাত বাড়িয়ে দিতে।

ঈদ আসে ধনী-গরীবের শ্রেণিবৈষম্য দূর করে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করাতে। ঈদ আসে পবিত্র বিনোদনে মনকে মাতিয়ে তুলতে, শুদ্ধ মননকে প্রশান্তির ছোঁয়ায় দোলাতে।

ঈদ কী শুধুই উৎসব

ঈদুল ফিতর একাধারে আনন্দোৎসব ও ইবাদত। এ আনন্দ আল্লাহর রহমত ও ক্ষমাপ্রাপ্তির, জাহান্নাম থেকে মুক্তির। এ আনন্দ সিয়াম-কিয়ামের তাওফিক লাভের শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতার।

এ আনন্দে নেই কোনো অশ্লীলতা ও পাপ-পঙ্কিলতা। এ আনন্দে শুধুই সওয়াব ও পুণ্যময়তা। ধীরে ধীরে এ আনন্দ সংক্রমিত হতে থাকে হৃদয় থেকে হৃদয়ে। সদ্যপ্রসূত শিশু থেকে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার দেহ-মনে ঈদের ছোঁয়া লাগে। হতদরিদ্র, এতিম, দুস্থ, নিঃস্ব ও শত শত ছিন্নমূল মানুষের মুখেও হাসি ফোটে কিছু টাকা, কিছু নতুন কাপড় পেয়ে।

ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীরাও এ সময় ব্যস্ত হয়ে পড়েন সমানতালে। ঈদ উপলক্ষে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা তাঁরাও ভোগ করেন। এভাবেই সর্বজনীন হয়ে ওঠে ঈদ।

ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদুল ফিতর অর্থ রোজা খোলার আনন্দ। কিন্তু কেন সেই আনন্দ? আনন্দের জন্য তো কোনো কারণ থাকতে হবে! সুখবর পেলেই তো মানুষ আনন্দিত হয়!

এক মাস রোজার সাধনার পর এই দিনে সেই সাধনার পুরস্কার হিসেবে ক্ষমা পাওয়াই সেই আনন্দের কারণ।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা ঈদের দিন ফেরেশতাদের মধ্যে রোজাদারদের নিয়ে গর্ব করে বলেন, ‘হে ফেরেশতারা, আমার কর্তব্যপরায়ণ প্রেমিক বান্দার বিনিময় কী হতে পারে?’

ফেরেশতারা বলেন, ‘হে প্রভু, পুণ্যরূপে পুরস্কার দান করাই তো তার প্রতিদান।’ আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব (রোজা) পালন করেছে। অতঃপর দোয়া করতে করতে ঈদগাহে গমন করেছে। সুতরাং আমার মর্যাদা, সম্মান, দয়া ও বড়ত্বের কসম! আমি তাদের দোয়া কবুল করব এবং তাদেরকে মাফ করে দেব।’ (বায়হাকি : ৩/৩৪৩)

ইসলামে ঈদের প্রবর্তন

মুসলমানরা প্রথম ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়েন দ্বিতীয় হিজরি মোতাবেক ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ বা ৩১ মার্চ। ইসলাম-পূর্ব পৃথিবীর মানুষের জন্য বিভিন্ন আনন্দ উৎসব ছিল।

তাদের নিজস্ব মনগড়া বানানো সংস্কৃতির চর্চা হতো। বিভিন্ন দিন-তারিখকে কেন্দ্র করে আনন্দের ঢাকঢোল বাজাত। তাদের সংস্কৃতি কিংবা আনন্দ উৎসবে ছিল না সভ্যতার শিক্ষা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত। তাদের উৎসব ছিল না সবার জন্য সমান উন্মুক্ত ও ভেদাভেদমুক্ত।

মুসলমানদের ঈদ সংস্কৃতির আগে মদিনায় ‘নওরোজ’ ও ‘মেহেরজান’ নামে দুটি উৎসব পালিত হতো। দুটি উৎসবই পারস্য সংস্কৃতি ও সভ্যতার দর্পণ। বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে নাইরোজ এবং বসন্ত উৎসবকে উপলক্ষ করে মেহেরজান নামে দুটি বিনোদনমূলক উৎসব পালন করা হতো।

অপরিশুদ্ধ মানব মননে আবিষ্কৃৎত দুটি উৎসবই বেহায়াপনা-বেলেল্লাপনা ও অশ্লীলতার কালো নিকৃষ্ট আঁধারে ছিল নিমজ্জিত। তাদের ভিত্তিহীন সংস্কৃতির মূলোৎপাটন করে শুদ্ধ সংস্কৃতির উদ্‌যাপনের পাঠ দিলেন মানবতার নবী মুহাম্মদ (সা.)।

তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, ‘প্রতিটি জাতির আনন্দ-উৎসব আছে। আর আমাদের আনন্দ-উৎসব হলো দুই ঈদ।’ (বুখারি, হাদিস : ৯৫২)

ঈদ উৎসবে বর্জনীয়

অত্যন্ত পরিতাপের সাথে বলতে হচ্ছে, ঈদের প্রবর্তন করেছে ইসলাম। কিন্তু আমাদের ঈদ উদযাপনে ইসলামের ছোঁয়া নাই। ঈদকে কেন্দ্র করে নাটক, সিনেমা, হারাম খেলাধুলার হিড়িক পড়ে সমাজে, এসব অবশ্যই বর্জনীয়।

ঈদের জন্য নতুন ড্রেস মূখ্য নয়, এসব কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর ধান্ধা। চোখধাঁধানো বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই ঈদের জন্য পোশাক, মোবাইলসহ বিভিন্ন পন্যকে টার্গেট করে। কিনতে না পারলে কষ্ট পায়, আত্মহত্যা পর্যন্ত করে। এসব ইসলামে অত্যন্ত গর্হিত।

মহান আল্লাহ ইবাদতের মাধ্যমে সঠিকভাবে ঈদ উদযাপনের তাওফীক দান করুন। আমীন।

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ আরও অধিকহারে শান্তিরক্ষী সরবরাহ অব্যাহত রাখবে মর্মে প্রত্যাশার কথা জানান জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। গত ১ মার্চ বিকালে জাতিসংঘ সদর দফতরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় মহাসচিব শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশন। তারা রোহিঙ্গা সংকট ও এর সম্ভাব্য উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের এ সকল নাগরিকদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মহাসচিবকে অবহিত করেন এবং সকল রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের সহায়তা কামনা করেন। গুতেরেজ ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার যে উদারতার পরিচয় দিয়েছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমি মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে জাতিসংঘের পূর্ণসমর্থনের কথা আবারও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের অসামান্য আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন গুতেরেজ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনের বছরগুলোতে বিশেষ করে এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে আরও সাফল্য অর্জন করবে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের উচ্চ পর্যায়ের পদে এবং বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের বিভিন্ন রাজনৈতিক মিশনে মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি (এসআরএসজি) পদে আরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক নিয়োগের জন্য মহাসচিব গুতেরেজকে অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। ইউক্রেন সংকটজনিত কারণে ব্যস্ত সময়সূচি থাকা সত্ত্বেও এ বৈঠকের সুযোগ দেওয়ার জন্য মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে নিউইয়র্কে সফররত মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের নবনিযুক্ত বিশেষ দূত ড. নোলিন হাইজারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে আঞ্চলিক দেশগুলিসহ সকল অংশীজনদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য বিশেষ দূতকে অনুরোধ জানান। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাখাইন রাজ্যে এমন একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদে, নিরাপত্তার সাথে এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের নিজভূমিতে ফিরে যেতে পারে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোভিড-এর বিস্তার রোধ এবং রোহিঙ্গা শিশুদের মিয়ানমারের কারিকুলাম-ভিত্তিক শিক্ষা প্রদান বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা বিশেষদূতকে অবহিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য নতুন আবাসন তৈরির কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গারা জীবিকা নির্বাহের কাজে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ পাবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, স্বদেশে ফেরার তেমন কোনো আশা নেই দেখে রোহিঙ্গারা ক্রমশ: অবৈধ ও অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি মিস হেইজারকে যতটা দ্রুত সম্ভব কক্সবাজার ক্যাম্প ও ভাসানচর পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।

বিশেষ দূত মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার সহানুভূতি ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি তার সর্বোচ্চ এজেন্ডা এবং যত দ্রুত সম্ভব এই সংকটের একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার জন্য তিনি আঞ্চলিক দেশসমূহ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, রোহিঙ্গা নেতা এবং মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষসহ সব অংশীজনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত থাকবেন। উভয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. মো. মনোয়ার হোসেন