রবিবার ,১৪ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 433

মাধ্যমিকের ক্লাশও পুরোদমে শুরু হচ্ছে

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি কমে আসায় প্রাথমিকের পর চলতি মাসের মাঝামাঝিতে মাধ্যমিকের ক্লাশও পুরোদমে শুরু করার আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে ‘স্টাডি ইন ইন্ডিয়া এডুকেশন ফেয়ার-২০২২’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি, এ মাসের মাঝামাঝি থেকেই আমরা মাধ্যমিকে পুরোদমে ক্লাশ শুরু করতে পারব।’

করোনার দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি ক্লাশ শুরু করা হয়। এর আগে একমাস অনলাইনে ক্লাশ নেওয়া হয়। তবে মাধ্যমিকের ক্লাশ সপ্তাহের সবদিন নেওয়া হয়নি। শ্রেণিভিত্তিক রুটিনে সীমিত রুটিনে সীমিত সংখ্যায় ক্লাশ হচ্ছে ষষ্ঠ থেকে দশম পর্যন্ত।

পুরোদমে ক্লাস শুরু হলে ‘ব্লেন্ডেড এডুকেশন’ কীভাবে চলবে জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, ‘আমরা নীতিমালা তৈরি করছি। ২৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেটা তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে, এজন্য কার্যক্রম চলছে। সেটা হয়ে গেলে ঠিক করব কীভাবে, কোথায়, কখন প্রয়োগ করব। সেক্ষেত্রে আমাদের অনেক প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা যে অনলাইন ক্লাশ করছি সেটা সেই অর্থে পুরো ব্লেন্ডেড এডুকেশন না।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সরাসরি ও অনলাইন ক্লাশের মিশ্র পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ব্লেন্ডেড এডুকেশন। সেজন্য শ্রেণিকক্ষগুলোকে সেভাবে তৈরি করতে হবে। আমাদের প্রশিক্ষণ চলছে, এটা আরও দিতে হবে। কাজেই এই মুহূর্তে সব কাজ হয়ে যাচ্ছে তা কিন্তু না।’

দীপু মনি মনে করেন, করোনার কারণে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষাও সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হওয়া উচিত, সেটাই যৌক্তিক।’

টাকা লেনদেনের ফোনালাপ ফাঁস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের পাঁচটি অডিও ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। এতে একাধিক নিয়োগপ্রার্থীর সঙ্গে চবির একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথন উঠে এসেছে।

নিয়োগপ্রার্থীর সঙ্গে চবি উপাচার্যের সহকারী ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীন এবং হিসাব নিয়ামক অফিসের কর্মচারী আহমেদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঘটনা জানাজানি হলে উপাচার্যের সহকারী থেকে খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীনকে সরিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে বদলি করা হয়। অপর দিকে কর্মচারী আহমেদ হোসেনকে কারণ দর্র্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম মনিরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রথম ফোনালাপ : চবি কর্মচারী-আপনি কি এখানে (চবিতে) ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন করেছেন?

নিয়োগপ্রার্থী-আবেদন করেছি।

কর্মচারী-কোনো লবিং করেছেন কি?

নিয়োগপ্রার্থী-আপনি কে বলছেন, আপনার পরিচয়টা দিলে সুবিধা হয়।

কর্মচারী-আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টস থেকে বলছি। ১৪ তারিখ (১৪ নভেম্বর, ২০২১) আপনাদের (ইন্টারভিউ) মৌখিক পরীক্ষার তারিখ পড়েছে। এখানে আপনার নাম দেখে ফোন করেছি, লবিং করছেন কিনা, সেটা জানার জন্য।

নিয়োগপ্রার্থী-লবিং বলতে আমাদের চট্টগ্রাম আনোয়ারা থানার একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে একটা ডিও লেটার নিয়েছিলাম। যাই হোক আপনার নাম কী? বাড়ি কোথায় আপনার?

কর্মচারী-আমার নাম আহমদ হোসেন। বাড়ি এখানেই, হাটহাজারী।

নিয়োগপ্রার্থী-এখন কিভাবে কী করা যায়, আমাকে পরামর্শ দিন।

কর্মচারী-এখন তো আসলে লবিং ছাড়া কিছুই হবে না, এটা সবাই জানে।

নিয়োগপ্রার্থী-আমি আরবি বিভাগের এক ভাই এবং আমাদের চবির এক স্যারের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছি। তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। এখন বাস্তবতা কী, সেটা তো জানি না।

কর্মচারী-ঠিক আছে, এখানে চট্টগ্রামের দুজন আছে ক্যান্ডিডেট, এর মধ্যে আপনি একজন। যাই হোক, যদি প্রয়োজন মনে করেন অ্যাডভান্স দিতে পারবেন, ফোন দেবেন আরকি। আর যেহেতু আপনার পরিচিত মানুষ আছে, দেখেন কী করা যায়।

দ্বিতীয় ফোনালাপ : নিয়োগপ্রার্থী-আমাকে পদ্ধতিটা শিখিয়ে দিন, কার মাধ্যমে কী করতে হবে?

কর্মচারী-একটা জিনিস আপনিও বোঝেন, আমিও বুঝি, সবাই বোঝে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লেনদেন ছাড়া কোনো কিছুই হয় না। এজন্য মন্ত্রীর সুপারিশ বলেন বা যার সুপারিশই বলেন, কোনো কিছুই কার্যকরি হবে না। কারণ সব জায়গায় টাকা লাগে। এখন কথা হলো আপনাকে যদি ম্যাডামের (চবি উপাচার্য) সঙ্গে বসিয়ে দিই, আর ম্যাডাম যদি রাজি হন-তাহলে আপনাকে অর্ধেক পেমেন্ট (টাকা) আগে দিয়ে ফেলতে হবে। আর বাকি অর্ধেক আপনি অ্যাপয়েনমেন্ট লেটার পাওয়ার পর দিবেন।

নিয়োগপ্রার্থী-কাকে দিতে হবে পেমেন্ট? ম্যাডাম কে?

কর্মচারী-ম্যাডামকে না, ম্যাডাম কী সরাসরি (টাকা) নেবে নাকি? তাছাড়া ম্যাডাম আবার মন্ত্রণালয়ে লাইনঘাট সব ম্যানেজ করবেন। যাই হোক, এটা আমি জানি বলেই আপনাকে জানালাম। এখন আপনার যদি সম্মতি থাকে তাহলে আমি আলাপ করে দেখতে পারি। ম্যাডাম যদি রাজি হন, তাহলে আপনি অর্ধেক পেমেন্ট করবেন এবং পেমেন্ট যে করছেন সেটার একটা চেক অথবা ডকুমেন্ট দিতে হবে। কিন্তু ম্যাডাম যদি ‘না’ বলেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীও যদি ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশ করেন কোনো কাজ হবে না। এটাই শেষ কথা। কারণ ম্যাডাম নিজেও তো আসছেন অনেক টাকা খরচ করে। তবে এ সব কথা কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। তাহলে আপনারও বিপদ, আমারও বিপদ। এখন আপনার যদি সম্মতি থাকে এবং ম্যাডাম যদি রাজি হন, তাহলে একটা কন্ট্রাক্ট করা যায়।

নিয়োগপ্রার্থী-বুঝতে পারলাম, অ্যামাউন্ট কত?

কর্মচারী-অ্যামাউন্ট হলো ১৬।

নিয়োগপ্রার্থী-তাহলে তো কঠিন অবস্থা।

কর্মচারী-তৃতীয় শ্রেণির একটা চাকরির জন্য এখন ১০-১২ লাখ টাকা লাগে। চতুর্থ শ্রেণির-যেমন মালি, প্রহরীর এসব চাকরির জন্য লাগে আট লাখ টাকা। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলো সর্বোচ্চ সম্মানী পদ। কাজেই এখানে ১৬ লাখের কম দিলে হবে না।

নিয়োগপ্রার্থী-কার মারফতে দিতে হবে টাকা?

কর্মচারী-সেটা পরে জানাব। আগে আপনার যদি সম্মতি থাকে, তাহলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। যেভাবেই হোক আমি সেটা নেওয়ার ব্যবস্থা করব।

নিয়োগপ্রার্থী-ঠিক আছে।

কর্মচারী-যেহেতু চট্টগ্রামের বাহিরের মানুষ বেশি (নিয়োগপ্রার্থীদের মধ্যে)। চট্টগ্রামের মধ্যে আছেন আপনারা দুজন। আর আমিও চাই যে চট্টগ্রামের একজনের হোক। চট্টগ্রামের মানুষ হিসাবে চট্টগ্রামের যারা তাদের পক্ষে থাকাটাই তো স্বাভাবিক। এজন্য চট্টগ্রামের দুজনকেই বলছি আমি এ বিষয়ে।

নিয়োগপ্রার্থী-চট্টগ্রামের মধ্যে তো ৪-৫ জন আবেদন করেছে। রেজাল্ট ভালো দুজনের আরকি।

কর্মচারী-ও রকম হলে তো আমরা জানতাম। শুধু আবেদন করলেই তো হবে না। রেজাল্টও তো ভালো হতে হবে।

নিয়োগপ্রার্থী-ঠিক আছে। আমি দেখি, যদিও আমার জন্য এ টাকা ম্যানেজ করা কষ্টকর হয়ে যাবে। আমি গরিবের ছেলে। পড়াশোনা করেছি কষ্ট করে।

কর্মচারী-যাই হোক চিন্তাভাবনা করে জানাবেন। আর রেজাল্টও লাগবে। যার কারণে দুইটাই (রেজাল্ট এবং টাকা) প্রয়োজন। এখন এটা আপনার সম্মতির ওপর। এটা চাইলে বাইরের কাউকেও বলতে পারতাম।

নিয়োগ প্রার্থী-জি, পারলে দেব, না পারলে সাধারণভাবে গিয়ে পরীক্ষা দেব আরকি। যদিও এত টাকা সংগ্রহ করা আমার জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে।

কর্মচারী-ঠিক আছে আপনি চিন্তাভাবনা করে দেখেন।

তৃতীয় ফোনালাপ (ঢাবি ও চবির ফারসি বিভাগের দুই ছাত্রের কথোপকথন) : চবি ছাত্র-আব্দুল করিম (ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সভাপতি) স্যারের রুমে ঢোকার আগে ওয়াক্কাসকে (আরও এক নিয়োগপ্রার্থী) বলে দিয়েছি যে, তোমাকে ভাইভাতে কী কী জিজ্ঞেস করেছে এটা বলবে না এবং ভিসি ম্যাডাম কী কী বলেছে, সেটাও বলবে না। কারণ সে পলিটিক্স বোঝে না। এ ছাড়া আমি আপনাকে ভাইভার সময় নিচে (প্রশাসনিক ভবনের) জানিয়েছিলাম না, যে কথাবার্তা বলছেন কিনা? এটা কেন বলছি জানেন?

ঢাবি ছাত্র-কেন বলছেন?

চবি ছাত্র-কারণ ভিসি ম্যাডামের ভাতিজা (আফজাল কামাল চৌধুরী শাওন) মান্নান ভাইকে (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ল্যাব সহকারী) বলছে-‘চট্টগ্রামের যে ছেলেগুলো আছে, তারা লবিং করেছে কিনা তিনি জানেন না।’

মান্নান ভাইয়ের সঙ্গে আমার ২০ বছরের সম্পর্ক। তিনি আমাকে বলেছেন-‘চট্টগ্রামের কেউ আছে কি না? থাকলে ম্যানেজ করে দিতে পারতাম।’

তো আমি বলছি, চট্টগ্রামের একজন আছে আমাদের। আমি যোগাযোগ করে দেখি। সেজন্য আপনি কতটুকু লবিং করতে পারছেন বা পারেননি সেটা তো আমি জানি না। ওই নিউজটা আপনাকে দিলাম।

ঢাবি ছাত্র- জি, বুঝতে পেরেছি।

চতুর্থ ফোনালাপ : চবি ছাত্র-ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ সিদ্দিকী ওয়াক্কাসকে (মুহাম্মদ ওয়াক্কাস- ভাইভা বোর্ডের সুপারিশ পাওয়া নিয়োগপ্রার্থীদের একজন) ফোন দিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে ওয়াক্কাস আমাকে কল দিয়ে বিষয়টি জানায়। আমি বললাম, ‘সিদ্দিকী স্যার তো আমাদের কাছের মানুষ, কী বলেছে স্যার? সে বলল, স্যার একটা মোবাইল নম্বর দিয়েছে তাকে। নম্বরটা ওর কাছ থেকে নিয়ে দেখলাম যে এটা রবীন স্যারের (ডেপুটি রেজিস্ট্রার খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীন) নম্বর। পরে আমি ওয়াক্কাসকে রবীন স্যারের কাছে তাড়াতাড়ি যেতে বললাম। তা ছাড়া রবিন স্যার ভিসি ম্যামের কাছের মানুষ।

ঢাবি ছাত্র-আচ্ছা, তারপর?

চবি ছাত্র-ওয়াক্কাসকে আমি আগেই বলেছি, এখানে টাকা পয়সার যেহেতু একটা বিষয় আছে, টাকার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তুই যতটুকু দিতে পারবি, সেটা বলবি। রবীন স্যার কনফার্ম করে দেবে। পরে রবীন স্যার ওয়াক্কাসকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য বলেছে। আমি বিষয়টা ডিপার্টমেন্টের কোনো শিক্ষককেও বলতে নিষেধ করেছি। আপনিও এটা কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।

ঢাবি ছাত্র-এখন ওয়াক্কাস কি পাঁচ লাখ টাকা দিতে পারবে?

জসিম উদ্দিন-না, ও বোধহয় পাঁচ লাখ দিতে পারবে না।

পঞ্চম ফোনালাপ (উপাচার্যের সহকারী ও নিয়োগপ্রার্থীর মধ্যে কথোপকথন) : খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীন-ম্যাডামের (উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার) সঙ্গে দেখা হলে তোমার কথা বলব। ম্যাডাম যেভাবে বলে সেভাবে হবে।

নিয়োগপ্রার্থী-ঠিক আছে, আপনি একটু দয়া করে আমার বিষয়টা দেখবেন আরকি!

খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীন-ঠিক আছে ইনশাআল্লাহ। চট্টগ্রামের দেখেই তো আমি টান দিলাম (তোমাকে)। কিন্তু প্রেক্ষাপট বা বাস্তবতা হলো এগুলোই হচ্ছে সব জায়গায়। আমি তোমার ভাবির (খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীনের স্ত্রী) জন্যও চেষ্টা করেছি। কিন্তু গতবার আমি শুধু এটা (টাকা) দেইনি বলেই হয়নি (চাকরি)। আমি এখানেই আছি, অথচ আমার স্ত্রী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছে। বর্তমানে সে (আমার স্ত্রী) সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে আছে। কিন্তু তাদের সঙ্গে চুক্তি করিনি বলেই হয়নি এটা। অন্যথায় এতদিনে হয়ে যেত। সোজা কথা এটাই।

নিয়োগপ্রার্থী-আপনি যে কারণে ভিক্টিম হয়েছিলেন। আপনি যেহেতু এখন ম্যাডামের সঙ্গে আছেন, অন্য কেউ যেন এমন ভিক্টিম না হয়, আমি আপনার কাছে এটা আশা করব আরকি।

খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীন-আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। তবে বাস্তবতা যেটা, সেটা আমি তোমাকে ইঙ্গিত করলাম।

নিয়োগপ্রার্থী-বুঝতে পেরেছি। আপনি যদি ম্যাডামের (উপাচার্য) সঙ্গে আমার সাক্ষাতের বিষয়টা নিশ্চিত করতে পারেন, তাহলে আমি বিষয়টা দেখব ইনশাআল্লাহ।

খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীন-ঠিক আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম মনিরুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, নিয়োগসংক্রান্ত কথোপকথনের কয়েকটি অডিও রেকর্ড আমাদের হাতে এসেছে। এ ব্যাপারে ৯ জানুয়ারি হাটহাজারী থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। আমরা নিজেরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ইতোমধ্যে একজনকে বদলি ও অপর একজনকে শোকজ করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

দুই বছর পর একক অনুষ্ঠানে গাইবেন অণিমা রায়

দীর্ঘদিন পর আবারও একক সংগীতানুষ্ঠানে গান গাইবেন জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অণিমা রায়। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ বিকাল ৫টায় জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এককভাবে গাইবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে গানের ফাঁকে ফাঁকে দর্শকদের সঙ্গে আলাপচারিতাও থাকবে। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করছে ‘আমরা সূর্যমুখী’ নামে একটি সংগঠন। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। এর মাধ্যমে প্রায় দুবছর পর একক অনুষ্ঠান নিয়ে ফিরছেন অণিমা রায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রায় দুবছর তো বন্দি ছিলাম। এর মাঝে আমি আমার বাবাকেও হারালাম। অনেকেই নিকটাত্মীয় হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে আবারও নতুন করে বাঁচার এক চেষ্টাই যেন এ উদ্যোগ। সেই প্রাণ সঞ্চারটাই করতে চাই এবারের একক অনুষ্ঠানে। সবাই প্রার্থনা করবেন, ঈশ্বর যেন আমাদের এ সুন্দর পৃথিবীটাকে আগের মতো হাসি খুশিতে ভরে দেন।’ আয়োজকরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে।

১০০ কোটি আয় ছাড়িয়ে গেল ‘গাঙ্গুবাই’

‘গাঙ্গুবাই কাথিয়াওয়াড়ি’ সিনেমা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। সঞ্জয়লীলা বানসালি পরিচালিত সিনেমাটি এরই মধ্যে দুর্দান্ত সূচনা করেছে। নারীকেন্দ্রিক এ সিনেমা মুক্তির প্রথম দিনেই বাজিমাত করে।

প্রথম দিনেই ১০ কোটি। প্রথম সপ্তাহান্তেই ৩৯ কোটির ঘরে। আর দ্বিতীয় সপ্তাহান্তেই ১০৮.৩ কোটির ঘরে পা রাখে ছবিটি। ‘গাঙ্গুবাই’-এর আগে এই তালিকায় নাম রয়েছে ‘সূর্যবংশী’, ‘৮৩’, ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’-এর।

‘গাঙ্গুবাই কাথিয়াওয়াড়ি’ সিনেমা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। সঞ্জয়লীলা বানসালি পরিচালিত সিনেমাটি এরই মধ্যে দুর্দান্ত সূচনা করেছে। নারীকেন্দ্রিক এ সিনেমা মুক্তির প্রথম দিনেই করেছে বাজিমাত। দর্শকরা গাঙ্গুরূপী আলিয়ার জয়গান গাইছেন।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তির প্রথম দিন সাড়ে ১০ কোটি রুপি আয় করে গাঙ্গুবাই। আর ৪ মার্চ সেটি আয় করে ১০৮.৩ কোটি।বানসালি পোডাকশনের পক্ষ থেকে এক টুইট বার্তায় এমনটিই জানানো হয়।

এ সিনেমার প্রচারে কোনো কমতি রাখেননি আলিয়া। পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, মুম্বাইসহ নানা শহরে ঘুরে ঘুরে সিনেমা দেখার আবেদন করেছেন ভক্তদের। কলকাতা সফরে জলভরা সন্দেশে মিষ্টি মুখ করেছিলেন আলিয়া। সিনেমা মুক্তির আগে সেই সফরে তার চেহারায় চিন্তার ছাপ ছিল।

কারণ তিনি জানতেন, তার অভিনয় দক্ষতার ওপরই নির্ভর করছে সিনেমাটির বাণিজ্যিক লাভের অংক।

সিরিজ জয়ের লক্ষ্য আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি ২০ নিয়ে ভয় তাহলে কিছুটা দূর হলো। আফগানিস্তানকে যে খুদে ফরম্যাটে এগিয়ে রাখে বাংলাদেশ। তাদের বিপক্ষে প্রথম টি ২০তে ৬১ রানের জয় রানের হিসাবে বাংলাদেশের তৃতীয় বড় জয়। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে খেলতে নামার আগে তাই ফুরফুরে মেজাজে বাংলাদেশ দল।

স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাসের পালে হাওয়া দিচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। ইনজুরির কারণে প্রথম ম্যাচে খেলতে না পারা এই উইকেটকিপার-ব্যাটারের দ্বিতীয় টি ২০তে খেলতে আর কোনো বাধা নেই। ঐচ্ছিক অনুশীলনে কাল তাকে উৎফুল্ল দেখা গেল।

দ্বিতীয় ম্যাচও মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে বেলা ৩টায়।

দারুণ জয়ের পর বাংলাদেশ দলের ঐচ্ছিক অনুশীলনে ছিলেন একাদশের বাইরে থাকা বেশিরভাগ ক্রিকেটার। তাসকিন আহমেদ, শহিদুল ইসলামরা নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন বোলিংয়ে। মুশফিক দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করেছেন। আগের ম্যাচে অভিষিক্ত মুনিম শাহরিয়ারও ঘাম ঝরিয়েছেন।

মুশফিক একাদশে ফিরলে বাদ যেতে পারেন নাঈম শেখ। নড়বড়ে অবস্থা তার। একাদশে আর কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই বললেই চলে। শেষ ম্যাচে জয় পেতে লিটনের সঙ্গে অন্যদের কাছ থেকেও ভালো কিছুর প্রত্যাশা টিম ম্যানেজমেন্টের।

এই ম্যাচে একাদশে থাকলে মুশফিকুর রহিম একটি মাইলফলক স্পর্শ করবেন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসাবে একশ টি ২০ ম্যাচ খেলবেন তিনি।

প্রথম ম্যাচের উইকেটে সবার জন্যই সুবিধা ছিল। সেখানে দাপট দেখিয়েছেন স্পিনাররা। দুদলের অধিনায়কই জানিয়েছিলেন, ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো উইকেট ছিল। আজকের উইকেটও প্রায় একই।

আফগানিস্তান শেষ ম্যাচে একজন স্পিনার কম খেলাতে পারে। তাদের স্পিনারদের সহজে খেলতে পারছেন একমাত্র লিটন। বাংলাদেশের বাঁ-হাতিদের স্পিন ও পেস আক্রমণ প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের ধসিয়ে দিয়েছে।

বিশেষ করে নাসুম আহমেদের দুর্দান্ত বোলিং তাদের টপঅর্ডার পড়তেই পারেনি। বোলিং ইউনিটের কাছ থেকে আজও সেরাটার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ জানালেন, কাউকে বিশ্রাম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামবে দল। তিনি বলেন, ‘দুই ম্যাচের সিরিজ আমাদের জিততেই হবে। তাই আমরা কাউকে বিশ্রাম দেব না। সেরা একাদশই খেলাব।’

টি ২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে দুই হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে মাহমুদউল্লাহর প্রয়োজন আর মাত্র ১৯ রান। দারুণ ছন্দে থাকা লিটনের সামনে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করার হাতছানি। তার লাগবে আরও ৯৬ রান।

আগের ম্যাচ জিতে আফগানিস্তানকে টপকে বাংলাদেশ উঠে গেছে আইসিসি দলীয় টি ২০ র‌্যাংকিংয়ের আটে। মাহমুদউল্লাহদের রেটিং পয়েন্ট ২৩২। আফগানিস্তানের ২৩০। আজ হারলে বাংলাদেশ আবার আফগানিস্তানের নিচে নেমে যাবে। জিতলে আট নম্বরে অবস্থান আরও পোক্ত হবে।

একই সঙ্গে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি ২০ সিরিজ জয় হবে বাংলাদেশের। এর আগে ২০১৮ সালে ভারতের দেরাদুনে তিন ম্যাচের টি ২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। বাকি ম্যাচগুলোতে দুদল মুখোমুখি হয়েছে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপে।

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হেরে গেল বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত সুযোগ পেয়ে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের মেয়েদের।

যদিও বল হাতে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাঘিনীরা। কিন্তু শেষে রক্ষা হয়নি। ব্যাটাররা এনে দিতে পারেনি কাঙ্ক্ষিত জয়।

ডানেডিনে শনিবার বাংলাদেশকে ৩২ রানে হারিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

প্রথমে ব্যাট করে জাহানারা-ফারিহাদের তোপে এক বল বাকি থাকতে ২০৭ রানেই গুটিয়ে যায় প্রোটিয়ারা।

প্রথম জয় তুলে নিতে ২০৮ রানের তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৩ বলে ১৭৫ রানে থেমে গেছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

ব্যাট হাতে শুরুটাও ভালোই করে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার শামিমা সুলতানা ও শারমিন আখতার ৬৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন।

২০তম ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিতে ২৭ রানে শামিমা আউট হলে বেশিক্ষণ টেকেননি শারমিনও। ৭৫ বলে ৩৪ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

এরপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেটের পতন হতে থাকে বাংলাদেশের।

তবে মিডলঅর্ডার ব্যাটার রুমানা আহমেদ ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা যথাক্রমে ২১ ও ২৯ রান করেন। এরপর ৩৮ বলে ২৭ রানের ইনিংস ছাড়া আর কেউ দুই অংকের ঘরে পৌঁছুতে পারেননি।

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সফল আয়াবঙ্গা খাকা। ১০ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি।

৩৬ রান দিয়ে দুটি উইকেট পেয়েছেন মাসাবাতা ক্লাস। একটি করে উইকেট পেয়েছেন ইসমাইল ও মারিজেইন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রোটিয়া ব্যাটারদের কেউ হাফসেঞ্চুরি করতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন মারিজান কেপ। ৪১ আসে ওপেনার লরা ভলভার্টের ব্যাট থেকে।

বাংলাদেশি বোলাররদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ফারিহা তৃষা। ৩৫ রানে ৩টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। জাহানারা আলম ও রিতু মনির শিকার দুটি করে উইকেট।

মুখে ওড়না পেঁচিয়ে বেঁধে ধর্ষণ, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান প্রিয়তা

শিক্ষানবিশ নার্স শাহনাজ পারভীন প্রিয়তাকে (২১) ধর্ষণের পর হত্যা করে অটোরিকশাচালক রুবেল। তাকে পেছন দিক থেকে জাপটে ধরে ধস্তাধস্তি করে এবং মুখে ওড়না পেঁচিয়ে বেঁধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এসময় প্রিয়তা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার মো. রুবেল হোসেনের (২৮) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানা যায়।

শুক্রবার দুপুর ১২টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) দীপক জ্যোতি খীসা।

এর আগে ভোরে সুবর্ণচর উপজেলার চর রশিদ এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে নিহত প্রিয়তার ব্যবহৃত মোবাইল ও সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত রুবেল পেশায় অটোরিকশাচালক।

গ্রেফতার অটোরিকশাচালক মো. রুবেল হোসেন বসুরহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মকবুল আহমেদের পালিত ছেলে। নিহত শাহনাজ পারভীন প্রিয়তা কবিরহাট উপজেলার বাটইয়া ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্রামের নুর নবীর মেয়ে। তিনি বসুরহাট পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াছিন মোল্লা বাড়িতে (নানাবাড়ি) থেকে সরকারি মুজিব কলেজ ও শিক্ষানবিশ নার্স হিসেবে পড়াশোনা করতেন।

সংবাদ সম্মেলনে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) দীপক জ্যোতি খীসা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দি দিয়েছেন। রুবেল জানায়, প্রিয়তার প্রতি তার খারাপ দৃষ্টি ছিল দীর্ঘদিন ধরে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রিয়তা নানার বাড়ি যাওয়ার জন্য তার অটোরিকশায় ওঠেন। রুবেল প্রিয়তার চেনা পথে না গিয়ে জমির আইল ধরে এক কাঁচা সড়কে রওনা হয়। প্রিয়তা প্রতিবাদ করলে সে জানায় এটা তার নানারবাড়ি যাবার সবচেয়ে সহজ পথ। তখন ওই প্রিয়তা রিকশা থেকে নেমে হাঁটা শুরু করে।

অটোরিকশাচালক রুবেল তাকে পেছন দিক থেকে জাপটে ধরে ধস্তাধস্তি করে এবং মুখে ওড়না পেঁচিয়ে বেঁধে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এসময় প্রিয়তা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।

দীপক জ্যোতি খীসা বলেন, তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল প্রিয়তাকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছে। আরও বিস্তারিত জানতে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তার রিমান্ড আবেদন করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বসুরহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াছিন মোল্লাবাড়ির পেছনের ধানক্ষেত থেকে শাহনাজ পারভীন প্রিয়তা নামে শিক্ষানবিশ নার্স ও সরকারি মুজিব কলেজের অনার্স পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ১ মার্চ নিহতের বাবা নুরুনবী বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ইতোপূর্বে গত মঙ্গলবার রাতে এ মামলায় মমিনুল হক ফারুক নামে বম্বে সুইটসের এক বিক্রয় প্রতিনিধিকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।

মায়ের গলা টান দিয়ে ধরে মেয়ে, ছুরি চালায় সোহেল

মাকে মাটিতে চিৎ করে শুইয়ে বুকের ওপর বসে দুই হাতে মাথা ও গলা টান দিয়ে ধরে আর সহকর্মী সোহেল ছুরি দিয়ে জবাই করে। মায়ের মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় তারা।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে মাকে হত্যার দায় স্বীকার করে মেয়ে শেফালী। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শেফালী তার সহকর্মীর সহযোগিতায় লাখ টাকার চুক্তিতে মাকে হত্যার এ লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

শুক্রবার সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক আমজাদ শেখ এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, মিনারা বেগমের অন্য কোনো ওয়ারিশ না থাকায় আট বছর আগে একমাত্র মেয়ে শেফালীকে জমি উইল করে দেন। এ জমির জন্যই মেয়ের হাতে নির্মমভাবে খুন হতে হলো মাকে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বৃহস্পতিবার গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহমেদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে শেফালী ও সোহেল রানা। এ সময় কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন ও শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভুঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক আমজাদ শেখ জানান, শেফালী তার সংসারে টাকার দরকার হলে বিষয়টি মা মিনারা বেগমকে জানায়। বাবার কাছ থেকে পাওয়া প্রায় ৯ শতাংশ জমি ও দুটি গরু বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য মিনারা বেগমকে চাপ দেয় শেফালী। এতে মিনারা বেগম রাজি না হওয়ায় শেফালীর সঙ্গে মিনারার ঝগড়া হয়। মিনারা রাগ করে চড়-থাপ্পড় মেরে শেফালীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এতে সে ক্ষুব্ধ হয়ে মাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। মাকে হত্যার জন্য তার সহকর্মী সোহেল রানাকে বিষয়টি জানায়। মিনারাকে হত্যা করতে ১ লাখ টাকা দাবি করে সোহেল। শেফালী রাজি হয়ে সোহেলকে ১৫ হাজার টাকা অগ্রিম দেয় এবং বাকি ৮৫ হাজার টাকা কাজ শেষে দেবে জানিয়ে তারা মিনারা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি মাহফিলে ওয়াজ শোনার কথা বলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মা ও মেয়েসহ তিনজন একটি অটোরিকশা ভাড়া করে উপজেলার বরমীর উদ্দেশে রওনা দেন।

পথে সোহেল একটি সেভেন আপে (কোমলপানীয়) চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে মিনারাকে খেতে দেয়। মুহূর্তে মিনারা অচেতন হয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরমীর ভিটিপাড়া গ্রামের সাধুখার টেক এলাকার গভীর জঙ্গলের ভেতর নিয়ে শেফালী তার মাকে মাটিতে চিৎ করে শুইয়ে বুকের ওপর বসে দুই হাতে মাথা ও গলা টান দিয়ে ধরে আর সহকর্মী সোহেল ছুরি দিয়ে জবাই করে। দুজনে মিলে হত্যা নিশ্চিত করে লাশ পুকুরে ফেলে ফিরে আসে।

জেলার শ্রীপুরে বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া গ্রামে গভীর জঙ্গল থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একমাত্র মেয়ে শেফালী ও তার সহকর্মীর সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে শ্রীপুর থানা পুলিশ। মা মিনারা বেগম (৫৭) শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি গ্রামের আবু তাহেরের স্ত্রী। মাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার একমাত্র মেয়ে শেফালী (৩৫) শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্ব খণ্ড (পুকুরপাড়) গ্রামের ফরিদের স্ত্রী। সহকর্মী সোহেল রানা (২৫) শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী থানার খড়িয়াকাজিরচর গ্রামের মেরাজ উদ্দিনের ছেলে। শ্রীপুরের বিজিবেড গার্মেন্টসে শেফালী ও সোহেল চাকরি করত।

এ ঘটনায় ওইদিন থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করে। মামলাটি তদন্ত করে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক আমজাদ শেখ। পাশাপাশি র‌্যাব, সিআইডি, পিবিআইর এর বিশেষজ্ঞ দল অজ্ঞাতনামা লাশ শনাক্তকরণে ব্যর্থ হয়। ক্লুবিহীন মামলা তদন্ত করতে পুলিশ বিভিন্ন আঙ্গিকে তদন্ত শুরু করে।

২ মার্চ বুধবার পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে সকাল ১১টায় ফরিদ ও বিকাল ৪টায় শেফালীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শেফালীর দেওয়া তথ্যমতে, ৩ মার্চ ভোরে শেফালীর সহযোগী সোহেল রানাকে ভাংনাহাটি এলাকা থেকে আটক করে ঘটনাস্থলের পাশের একটি পুকুর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করা হয়।

কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে মেয়ে তার মাকে হত্যা করতে পারে এমন ধারণাই ছিল না পুলিশের। অবশেষে পুলিশ একটি ক্লুলেস হত্যার ঘটনা সফলভাবে উদ্ঘাটন করেছে।

বইমেলায় ‘শেয়ারবাজারের সহজপাঠ’

এবারের বইমেলায় বের হয়েছে সাংবাদিক আবু আলীর ‘শেয়ারবাজারের সহজপাঠ’। বইটি প্রকাশ করেছে ‘জ্যোতিপ্রকাশ। বাংলা একাডেমি চত্বরে ৬৩৪ নম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির স্টলে এ বইটি পাওয়া যাবে।

বইটিতে শেয়ারবাজারে কখন এবং কীভাবে বিনিয়োগ করবেন সেটি তুলে ধরেছেন। এছাড়াও কীভাবে চিনবেন ভালো-মন্দ শেয়ার? কোন শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করবেন সেটিও সাবলীল ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

সাধারণ মানুষ কীভাবে শেয়ারবাজারে ব্যবসা শুরু করবেন সে বিষয়টি অত্ন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে এ বইয়ে।

এতে আরো বলা হয়েছে,দেশের মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়গুলো সংগ্রহ করে বৃহদাকার পুঁজির সংস্থান করা যায়। এই পুঁজিবাজারই দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়গুলো বৃহদাকার শিল্পায়নে বিনিয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিনিয়োগকারীদেরও ব্যাপক লাভের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে, তবে এই বাজারে বিনিয়োগে সতর্ক না হলে বড় ধরণের লোকসান হতে পারে । এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ‘শেয়ারবাজারের সহজপাঠ’ রচনা করেছেন লেখক।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক আবু আলী যুগান্তরকে বলেন, অনেক সময় বিনিয়োগকারীরা আবেগে বিনিয়োগ করে থাকেন। এতে লোকসানের মুখোমুখি হয়ে ক্ষতির শিকার হন। সব বিনিয়োগকারীই মুনাফা করতে চান। কিন্তু পারেন না। এজন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কথা বিবেচনা করেই আমি এ বইটি লিখেছি।

বইটির মূল্য : ১৮০ টাকা। মেলা উপলক্ষে ২৫% কমে ১৩৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, আবু আলী এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজার রিপোর্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি শেয়ারবাজারে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) সাধারণ সম্পাদক।

আবু আলীর প্রথম বই বের হয় ২০১৮ সালে। তার লেখা প্রথম বই ‘শেয়ারবাজারের প্রাথমিক ধারণা’ । ২০২০ সালের একুশে বইমেলায় তার ‘মেঘ পাহাড়ের আলিঙ্গন ও ২০২১ সালে অমর একুশে বইমেলায় ভ্রমণ সংক্রান্ত ‘আকাশ থেকে জলে’ প্রকাশিত হয়।

রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বহুমুখী বাধার মুখে

ইউক্রেন আক্রমণের ঘটনায় রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বহুমুখী বাধার মুখে পড়েছে। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বাধার পরিধি আরও বেড়েছে। রাশিয়ার পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ ও আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞাকে সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের দরপতনের কারণে এর প্রতি আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের আমদানিকারকরা রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানির কোনো এলসি খুলছেন না। রপ্তানিকারকরাও নতুন পণ্য জাহাজীকরণ করছে না। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন আপাতত বন্ধ রেখেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেনের বিকল্প পথ খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে তারা বিকল্প লেনদেনের একাধিক পদ্ধতির সুযোগ বিবেচনায় নিয়েছে। তবে এখনো কোনোটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডা রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর অংশ হিসাবে বেলজিয়ামভিত্তিক অনলাইনে আর্থিক লেনদেনকারী সংস্থা সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ইন্টার ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন (সুইফট) রাশিয়ার বেশ কিছু ব্যাংকের লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার বেশিরভাগ আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।

তবে যেসব ব্যাংকের ওপর সুইফট কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি সেসব ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করতে কোনো বাধা নেই। তারপরও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেননা বর্তমানে পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তন হচ্ছে। রাশিয়ার বিভিন্ন তহবিল আটকে দেওয়া হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার আওতা বাড়ছে। এ অবস্থায় নিষেধাজ্ঞা নেই এমন সব ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করলেও হঠাৎ তা আটকে যেতে পারে।

এছাড়া সুইফটের বাইরে গিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে অর্থ লেনদেনের কী কী বিকল্প আছে সেগুলোর ব্যাপারেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে একটি রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে সরকার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সূত্র জানায়, রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য খুবই কম। তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার মোটা অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করায় আর্থিক লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে ৯০ শতাংশ বা ১ হাজার ৩২০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া। তবে ঋণের অর্থ তারা সরাসরি বাংলাদেশকে দিচ্ছে না। ঋণের অর্থে যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির খরচ ও প্রকল্প নির্মাণের আনুষঙ্গিক খরচ রাশিয়া পরিশোধ করছে। এ অর্থ লেনদেন হচ্ছে রাশিয়ার ভেনশেকনম ব্যাংক বা ভিইবির (ব্যাংক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ফরেন ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স) মাধ্যমে। এ ব্যাংকটি সুইফটের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে। ফলে আগের মতো এখন আর এ ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, রাশিয়ার আরও বেশকিছু ব্যাংক রয়েছে যেগুলো সুইফটের সদস্য এবং তাদের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ওইসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের মুদ্রায় এলসি খোলার সুযোগ রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গেও চীনের লেনদেন হচ্ছে নিজস্ব ব্যাংক ব্যবস্থায়। চীন হয়েও লেনদেন করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, আমেরিকা বা ইউরোপ বাংলাদেশের বড় রপ্তানির বাজার। ওইসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে এ পদ্ধতিতে লেনদেন করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যায়। তবে এতে খরচ বেশি হবে।

এদিকে রাশিয়ার পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ওই দেশ থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য যন্ত্রপাতি আমদানিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যদিও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী রাশিয়ান সংস্থা রোসাটম গত ১ মার্চ এক বিবৃতিতে বলেছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ও কাজের শিডিউলের মধ্যে কোনো সমস্যা তারা এখনো দেখছেন না।

সুইফটে নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের লেনদেনও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ গত অর্থবছরে রাশিয়া থেকে আমদানি করেছে ৪৮ কোটি ডলারের পণ্য। এর আগের অর্থবছরে ছিল ৭৮ কোটি ডলার। এক বছরে আমদানি কমেছে ৩০ কোটি ডলার। আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে এনিমেল প্রোডাক্ট ৬ লাখ ডলার. ভেজিটেবল প্রোডাক্ট ৩৬ লাখ ডলার, গম ও ভুট্টা ৩২ কোটি ডলার এবং ৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের সার আমদানি হয়েছে।

এর বিপরীতে রাশিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ৫৪ কোটি ৭১ লাখ ডলারের। আগের বছরে রপ্তানি হয়েছিল ৪১ কোটি ৬১ লাখ ডলার। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ১৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক সামগ্রী ৫২ কোটি ৭১ লাখ ডলার। আগের বছর যা ছিল ৪০ কোটি ৪১ লাখ ডলার।

এদিকে রাশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন পটাশ সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি বাধার মুখে পড়েছে। তবে বিমানপথে আমদানি-রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এতে খরচ বেশি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সুইফটে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু সব পথ বন্ধ হয়ে যায়নি। বিকল্প পথ এখনো খোলা আছে। এতে খরচ বাড়বে। তবে লেনদেন করা যাবে। এখন ডিজিটাল কারেন্সিতেও লেনদেন হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশে এটি নিষিদ্ধ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালের পর রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো বিনিয়োগ ২০১১ সালের আগে ছিল না। ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশে রাশিয়া বিনিয়োগ করতে থাকে। তবে তা খুবই ছোট অঙ্কে। ২০১৫ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে প্রযুক্তি ও ঋণের চুক্তি হলে তাদের বিনিয়োগ বাড়তে থাকে। এখন পর্যন্ত রাশিয়ার মোট বিনিয়োগের স্তিতি ১৪ কোটি ৩২ লাখ ডলার।

এর মধ্যে গত অর্থবছরে এসেছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এর আগে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫০ হাজার ডলার, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩ লাখ ডলার, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২ লাখ ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১২ লাখ ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৬ লাখ ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০ লাখ ডলার, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৮ লাখ ডলার এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১১ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ এসেছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে চলমান বহুমুখী নিষেধাজ্ঞায় সে দেশের মুদ্রা রুবলের বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। ডলারের বিপরীতে প্রায় ৪৮ শতাংশ এবং টাকার বিপরীতে ৩১ শতাংশ হয়েছে দরপতন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ১ ডলারে পাওয়া যেত ৭৫ রুবল। গত বৃহস্পতিবার পাওয়া গেছে ১১০ রুবল। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ১ টাকায় পাওয়া যেত ০.৭৮ রুবল।

গত বৃহস্পতিবার পাওয়া গেছে ১.২৮ রুবল। অন্যান্য সব মুদ্রার বিপরীতেই রাশিয়ার রুবলের দাম কমছে। এতে রাশিয়ার গ্রাহকরা স্থানীয় ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। একই সঙ্গে অন্য মুদ্রায় রূপান্তর করছে। রাশিয়াতে রুবলকে অন্য মুদ্রায় রূপান্তরে কোনো বিধিনিষেধ এখনো সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জারি করেনি।

তবে আর্থিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা রাখতে এ ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যাংকাররা। এদিকে মুদ্রার দরপতন ঠেকাতে সে দেশের শেয়ারবাজারও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারেও রুবলের চাহিদা কমে গেছে। গ্রাহকরা রুবল ছেড়ে অন্য মুদ্রায় বিনিয়োগ করছেন। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নীতিনির্ধারণী সুদের হার সাড়ে ৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করেছে। যাতে বিদেশি গ্রাহকরা রুবল হাতছাড়া না করে। কিন্তু এ সিদ্ধান্তও রুবলের দরপতন ঠেকাতে পারছে না। এদিকে রুবলের দরপতনে বাংলাদেশের সে দেশ থেকে সাময়িকভাবে আমদানি খরচ কমবে। একই সঙ্গে কমবে রপ্তানি আয়ও।

রাশিয়া তেল, গ্যাস, গম, খনিজসম্পদসহ অন্যান্য রপ্তানির অর্থ সংগ্রহ ও আমদানির বিল পরিশোধ করে সুইফটের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় তাদের ওই লেনদেন বাধাগ্রস্ত হবে। সুইফটের মোট লেনদেনের দেড় শতাংশ করে রাশিয়া। সুইফটের বাইরে গিয়ে এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে লেনদেন করলে খরচ বাড়বে। এতে আয় কম হবে।

২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রাইমিয়া দখল করলে সুইফট থেকে রাশিয়াকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয় ইউরোপীয় দেশগুলো। এরপর রাশিয়া দ্রুত তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে এমন প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য চালু করার চেষ্টা করে। এর লেনদেনের জন্য চালু করে সুইফটের বিকল্প সিস্টেমস ফর ট্রান্সফার ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এসটিএফএস)। এর বাইরে চালু করে ন্যাশনাল পেমেন্ট কার্ড। যা এখন তেমন একটা কার্যকর নেই। বর্তমানে রাশিয়া লেনদেনে চীননির্ভরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।