রবিবার ,১৪ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 432

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়: জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ১৫ সাংবাদিকের জিডি

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ সাংবাদিক জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ত্রিশাল থানায় জিডি করেছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ত্রিশাল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ১৫ সাংবাদিক। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবরও একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তারা।

সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ওয়ালিদ নিহাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে জড়িতদের বিচার দাবি করে আন্দোলন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনা কেন্দ্র করে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ না দিতেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এরই মধ্যে শুক্রবার আরেক শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু হলে জোর করিয়ে লিখিত বক্তব্য নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যেখানে সেই শিক্ষার্থীকে দিয়ে জোর করিয়ে সংবাদকর্মীর নাম উল্লেখ করিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর বক্তব্য লিখে নেওয়া হয়, যা স্বীকার করেছে ওই শিক্ষার্থী। এ ছাড়া বিভাগের মাধ্যমে হুমকি প্রদানেরও অভিযোগ উঠেছে আন্দোলন নিয়ে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে। এ ঘটনায় নিজেদের অনিরাপদ মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকরা।

বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছে— দৈনিক দেশ রূপান্তর প্রতিনিধি নিহার সরকার অংকুর, আমার সংবাদের হাবিবউল্লাহ বেলালি, যায়যায়দিনের বায়েজিদ হাসান, খোলা কাগজের তিতলি দাস, একুশে টিভি অনলাইনের আশিক আরেফিন, দৈনিক সময়ের আলোর আশিকুর রহমান, বাংলা ভিশন অনলাইনের জিসাদুজ্জামান জিসান, বাংলা ট্রিবিউনের মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, দৈনিক অধিকারের সরকার আব্দুল্লাহ তুহিন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের ফটোগ্রাফার মোস্তাফিজুর রহমান ও নওশাদ, প্রেসক্লাবের সদস্য সিফাত শাহরিয়ার প্রিয়ান, নওয়াব শওকত জাহান কিবরিয়া, শর্মিষ্ঠা ভট্টাচার্য ও ফজলুল হক পাভেল।

এ বিষয়ে জানাতে চাইলে সংবাদকর্মীরা বলেন, আমরা ওয়ালিদ নিহাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনার সংবাদ করায় বিভিন্নভাবে তারা সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। যা গত শুক্রবার সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। ওইদিন রাতে এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে জোর করিয়ে তাকে দিয়ে লিখিয়ে নেয় যে এ আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা করার পরিকল্পনা রয়েছে। যার নেতৃত্বে কতিপয় সাংবাদিক রয়েছে। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

এ ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক তাদের যা অভিযোগ তা প্রক্টর মহোদয়ের কাছে জমা দিলেই হবে। ওয়ালিদ নিহাদের চলমান তদন্তের সঙ্গেই কাজ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘আমি আর কাঁদতে পারছি না’

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার ১০ দিনের পরিস্থিতি বর্ণনা করেছে বিবিসি। সেখানে মার্তা শোকালো নামে বিবিসির ইউক্রেনীয় সার্ভিসের এক কর্মীর সংবাদ সংগ্রহ ও সেখানে বসবাসের কঠিন সংগ্রাম উঠে এসেছে।

‘আমরা এখন যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহ পার করছি, আমরা এখনও ভালো আছি। আমি খেয়াল করে দেখেছি-আমি এখন আর কাঁদতে পারছি না।’

মার্তা শোকালো তার প্রাত্যাহিক জীবন নিয়ে বলেন, আমি সারারাত খবর পড়ার পর দিন শুরু করি। এরপর ইউক্রেনের চারপাশে নতুন বিস্ফোরণ গণনা করি। দুদিন আগেও কিয়েভে বড় রকেট হামলার শব্দে আমি জেগে উঠি। সেখানে আমার বাবা থাকেন। তাকে ফোন করার সাহস জোগাতে আমার ১০ মিনিট সময় লেগেছে-শুধু তাকে জিজ্ঞাসা করতে তিনি ঠিক আছেন কিনা, তার সঙ্গী ঠিক আছেন কিনা? তারা ঠিক ছিলেন, পরে আমি স্বস্তি পাই।

আমার মা নিজের চেয়ে তার কুকুর এবং বিড়ালদের জন্য কীভাবে খাবার সংগ্রহ করবেন তা নিয়ে বেশি চিন্তিত। তিনি একদিন কুকুর ও বিড়ালদের জন্য দুটি রুটি কিনতে পেরে আনন্দিত হয়েছিলেন, যেটি তিনি ফোন করে জানিয়েছিলেন। তিনি এমন এক শহরে থাকেন যেখানে একসময় প্রচুর খাবার পাওয়া যেত। এখন খাবার সঙ্কট চলছে।

আমি এখন যে গ্রামে বসবাস করছি, সেখানে স্থানীয় লোকরা দুটি চেকপোস্ট করেছে। তারা তাদের সবকিছু দিয়ে ছোট সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে প্রস্তুত।

ইউক্রেনবাসী বিজয়ের আশা করছে জানিয়ে মার্তা শোকালো বলেন, ইউক্রেনীয়দের মধ্যে ঐক্য এতটা শক্তিশালী ছিল না। তবে এখন তারা মৌমাছির মতো তাদের মৌচাক রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তারা বিজয়ের আশা করছে।

ইউক্রেনে রুশ হামলার ১১ তম দিন চলছে। আজ এই ইস্যুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এদিকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েও হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বিপক্ষে চীন

চীনের স্টেট কাউন্সিলর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট শুধু সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে এবং চীন এমন বিষয়ের পক্ষে রয়েছে। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নিলে তা আগুনে ঘি ঢালার মতো হতে পারে এবং চীন এমন পদক্ষেপের পক্ষে নয়।

শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি তাকে এ কথা জানান। দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি তাদের দ্বিতীয় ফোনালাপ। খবর গ্লোবাল টাইমস ও বিবিসির।

ফোনালাপে ব্লিংকেন রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট নিয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যুক্তরাষ্টের অবস্থান জানান। এ সময় ওয়াং বলেন, চীন চায় না রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট আর দীর্ঘস্থায়ী হোক।

ওয়াং বলেন, ইউক্রেন ইস্যুটি একটি জটিল বিষয়, যার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতি এবং সব পক্ষের স্বার্থ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। চীন বিশ্বাস করে যে, ইউক্রেন সংকট জাতিসংঘের সনদের উদ্দেশ্য এবং নীতি অনুসারে সমাধান করা উচিত এবং এই সংকট আলোচনা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা উচিত।

ওয়াং বলেন, চীন আশা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ক্রসফায়ার বন্ধ করা এবং স্থলভাগের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বড় আকারের মানবিক সংকট রোধ করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আমরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে না। কারণ আমরা মনে করি এটি শুধু রাশিয়াকে আরও উষকে দেবে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে। চীন একটি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের পক্ষে রয়েছে।

তিনি বলেন, যদিও বর্তমান পরিস্থিতি এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান কঠিন, তবুও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সহযোগিতা করা এবং সমর্থন করা যতক্ষণ না তাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়, এবং শান্তিতে সম্মত হয়।

ওয়াং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ন্যাটোর ক্রমাগত সম্প্রসারণের ফলে রাশিয়ার নিরাপত্তায় যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তা সমাধানে রাশিয়ার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ন্যায্য আলোচনা করতে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বহুমুখী বাধার মুখে

ইউক্রেন আক্রমণের ঘটনায় রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বহুমুখী বাধার মুখে পড়েছে। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বাধার পরিধি আরও বেড়েছে। রাশিয়ার পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ ও আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞাকে সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের দরপতনের কারণে এর প্রতি আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের আমদানিকারকরা রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানির কোনো এলসি খুলছেন না। রপ্তানিকারকরাও নতুন পণ্য জাহাজীকরণ করছে না। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন আপাতত বন্ধ রেখেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেনের বিকল্প পথ খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে তারা বিকল্প লেনদেনের একাধিক পদ্ধতির সুযোগ বিবেচনায় নিয়েছে। তবে এখনো কোনোটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডা রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর অংশ হিসাবে বেলজিয়ামভিত্তিক অনলাইনে আর্থিক লেনদেনকারী সংস্থা সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ইন্টার ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন (সুইফট) রাশিয়ার বেশ কিছু ব্যাংকের লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার বেশিরভাগ আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।

তবে যেসব ব্যাংকের ওপর সুইফট কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি সেসব ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করতে কোনো বাধা নেই। তারপরও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেননা বর্তমানে পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তন হচ্ছে। রাশিয়ার বিভিন্ন তহবিল আটকে দেওয়া হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার আওতা বাড়ছে। এ অবস্থায় নিষেধাজ্ঞা নেই এমন সব ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করলেও হঠাৎ তা আটকে যেতে পারে।

এছাড়া সুইফটের বাইরে গিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে অর্থ লেনদেনের কী কী বিকল্প আছে সেগুলোর ব্যাপারেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে একটি রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে সরকার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সূত্র জানায়, রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য খুবই কম। তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার মোটা অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করায় আর্থিক লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে ৯০ শতাংশ বা ১ হাজার ৩২০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া। তবে ঋণের অর্থ তারা সরাসরি বাংলাদেশকে দিচ্ছে না। ঋণের অর্থে যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির খরচ ও প্রকল্প নির্মাণের আনুষঙ্গিক খরচ রাশিয়া পরিশোধ করছে। এ অর্থ লেনদেন হচ্ছে রাশিয়ার ভেনশেকনম ব্যাংক বা ভিইবির (ব্যাংক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ফরেন ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স) মাধ্যমে। এ ব্যাংকটি সুইফটের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে। ফলে আগের মতো এখন আর এ ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, রাশিয়ার আরও বেশকিছু ব্যাংক রয়েছে যেগুলো সুইফটের সদস্য এবং তাদের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ওইসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের মুদ্রায় এলসি খোলার সুযোগ রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গেও চীনের লেনদেন হচ্ছে নিজস্ব ব্যাংক ব্যবস্থায়। চীন হয়েও লেনদেন করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, আমেরিকা বা ইউরোপ বাংলাদেশের বড় রপ্তানির বাজার। ওইসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে এ পদ্ধতিতে লেনদেন করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যায়। তবে এতে খরচ বেশি হবে।

এদিকে রাশিয়ার পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ওই দেশ থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য যন্ত্রপাতি আমদানিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যদিও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী রাশিয়ান সংস্থা রোসাটম গত ১ মার্চ এক বিবৃতিতে বলেছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ও কাজের শিডিউলের মধ্যে কোনো সমস্যা তারা এখনো দেখছেন না।

সুইফটে নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের লেনদেনও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ গত অর্থবছরে রাশিয়া থেকে আমদানি করেছে ৪৮ কোটি ডলারের পণ্য। এর আগের অর্থবছরে ছিল ৭৮ কোটি ডলার। এক বছরে আমদানি কমেছে ৩০ কোটি ডলার। আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে এনিমেল প্রোডাক্ট ৬ লাখ ডলার. ভেজিটেবল প্রোডাক্ট ৩৬ লাখ ডলার, গম ও ভুট্টা ৩২ কোটি ডলার এবং ৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের সার আমদানি হয়েছে।

এর বিপরীতে রাশিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ৫৪ কোটি ৭১ লাখ ডলারের। আগের বছরে রপ্তানি হয়েছিল ৪১ কোটি ৬১ লাখ ডলার। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ১৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক সামগ্রী ৫২ কোটি ৭১ লাখ ডলার। আগের বছর যা ছিল ৪০ কোটি ৪১ লাখ ডলার।

এদিকে রাশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন পটাশ সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি বাধার মুখে পড়েছে। তবে বিমানপথে আমদানি-রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এতে খরচ বেশি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সুইফটে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু সব পথ বন্ধ হয়ে যায়নি। বিকল্প পথ এখনো খোলা আছে। এতে খরচ বাড়বে। তবে লেনদেন করা যাবে। এখন ডিজিটাল কারেন্সিতেও লেনদেন হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশে এটি নিষিদ্ধ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালের পর রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো বিনিয়োগ ২০১১ সালের আগে ছিল না। ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশে রাশিয়া বিনিয়োগ করতে থাকে। তবে তা খুবই ছোট অঙ্কে। ২০১৫ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে প্রযুক্তি ও ঋণের চুক্তি হলে তাদের বিনিয়োগ বাড়তে থাকে। এখন পর্যন্ত রাশিয়ার মোট বিনিয়োগের স্তিতি ১৪ কোটি ৩২ লাখ ডলার।

এর মধ্যে গত অর্থবছরে এসেছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এর আগে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫০ হাজার ডলার, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩ লাখ ডলার, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২ লাখ ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১২ লাখ ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৬ লাখ ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০ লাখ ডলার, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৮ লাখ ডলার এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১১ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ এসেছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে চলমান বহুমুখী নিষেধাজ্ঞায় সে দেশের মুদ্রা রুবলের বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। ডলারের বিপরীতে প্রায় ৪৮ শতাংশ এবং টাকার বিপরীতে ৩১ শতাংশ হয়েছে দরপতন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ১ ডলারে পাওয়া যেত ৭৫ রুবল। গত বৃহস্পতিবার পাওয়া গেছে ১১০ রুবল। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ১ টাকায় পাওয়া যেত ০.৭৮ রুবল।

গত বৃহস্পতিবার পাওয়া গেছে ১.২৮ রুবল। অন্যান্য সব মুদ্রার বিপরীতেই রাশিয়ার রুবলের দাম কমছে। এতে রাশিয়ার গ্রাহকরা স্থানীয় ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। একই সঙ্গে অন্য মুদ্রায় রূপান্তর করছে। রাশিয়াতে রুবলকে অন্য মুদ্রায় রূপান্তরে কোনো বিধিনিষেধ এখনো সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জারি করেনি।

তবে আর্থিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা রাখতে এ ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যাংকাররা। এদিকে মুদ্রার দরপতন ঠেকাতে সে দেশের শেয়ারবাজারও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারেও রুবলের চাহিদা কমে গেছে। গ্রাহকরা রুবল ছেড়ে অন্য মুদ্রায় বিনিয়োগ করছেন। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নীতিনির্ধারণী সুদের হার সাড়ে ৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করেছে। যাতে বিদেশি গ্রাহকরা রুবল হাতছাড়া না করে। কিন্তু এ সিদ্ধান্তও রুবলের দরপতন ঠেকাতে পারছে না। এদিকে রুবলের দরপতনে বাংলাদেশের সে দেশ থেকে সাময়িকভাবে আমদানি খরচ কমবে। একই সঙ্গে কমবে রপ্তানি আয়ও।

রাশিয়া তেল, গ্যাস, গম, খনিজসম্পদসহ অন্যান্য রপ্তানির অর্থ সংগ্রহ ও আমদানির বিল পরিশোধ করে সুইফটের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় তাদের ওই লেনদেন বাধাগ্রস্ত হবে। সুইফটের মোট লেনদেনের দেড় শতাংশ করে রাশিয়া। সুইফটের বাইরে গিয়ে এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে লেনদেন করলে খরচ বাড়বে। এতে আয় কম হবে।

২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রাইমিয়া দখল করলে সুইফট থেকে রাশিয়াকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয় ইউরোপীয় দেশগুলো। এরপর রাশিয়া দ্রুত তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে এমন প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য চালু করার চেষ্টা করে। এর লেনদেনের জন্য চালু করে সুইফটের বিকল্প সিস্টেমস ফর ট্রান্সফার ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এসটিএফএস)। এর বাইরে চালু করে ন্যাশনাল পেমেন্ট কার্ড। যা এখন তেমন একটা কার্যকর নেই। বর্তমানে রাশিয়া লেনদেনে চীননির্ভরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

সরকারের সবুজ সংকেত পেলে যে আবেদন করতে পারে বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষ মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে শিগগিরই আবারও আবেদন করবে তার পরিবার। আগামী ২৪ মার্চের আগে যে কোনো সময় এ আবেদন করা হবে।

তবে এবার সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সঙ্গে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিশেষ আবেদনও করা হতে পারে। খালেদা জিয়ার পরিবার ও বিএনপি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সরকারের নির্বাহী আদেশে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে ৬ মাসের জন্য মুক্তি পান খালেদা জিয়া। ফৌজদারি কার্যবিধিতে এ সাজা স্থগিত দেখিয়ে এ পর্যন্ত চার দফায় মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। আগামী ২৪ মার্চ তার মুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে।

খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আবেদন তো করতেই হবে। তবে কবে আবেদন করা হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। শামীম (শামীম ইস্কান্দার) বিষয়টি দেখছেন। খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আবেদন করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদেশে পাঠানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন করাই আছে। কিন্তু তারা অনুমতি দিচ্ছে না। এখন কী করা যায় দেখি।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের একটি নমুনা তৈরি আছে। আগের আবেদনের যে কপি আছে তাতে তারিখসহ কিছু বিষয় পরিবর্তন করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে সেলিমা ইসলামের স্বাক্ষর নিয়ে যে কোনো দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা দেওয়া হবে। তবে এবার চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার মেডিকেল রিপোর্টগুলো আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ পাঠাতে সরকারের অনুমতির জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে পরিবার ও দল। উদ্যোগটি কার্যকর হবে তা নির্ভর করছে সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার ওপর।

এদিকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজাতে থাকা খালেদা জিয়ার অসুস্থতা আগের তুলনায় বেড়েছে। তার পা ফুলে গেছে। ফলে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর হাঁটাচলা করতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে সেলিমা ইসলাম বলেন, চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।

তবে এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্বাধীনতাবিরোধীরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে: ইসলামী ঐক্যজোট

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের মতো এখনো স্বাধীনতাবিরোধীরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিসবাহুর রহমান চৌধুরী।

তিনি বলেন, দেশবিরোধী একটি চক্র বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গুজব ছড়িয়ে তাদের ইমেজ নষ্ট করতে চাচ্ছে। যা দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইমেজ নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

মিসবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন আমেরিকা, বৃটেন, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে সফরে যান তখন সেসব দেশে বসবাসকারী আওয়ামী লীগ নেতারা পদ-পদবি নিয়ে মারমুখী অবস্থান নেন। কিছু নেতা-কর্মী ছাড়া বেশিরভাগ নেতারা আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সফর শেষ হলেই তাদের দায়িত্বের কথা ভুলে যান। অন্যদিকে সরকার বিরোধী ও স্বাধীনতা বিরোধিরা এক হয়ে দিনরাত মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে।

কিছু ব্যতিক্রম ঘটনা ছাড়া দেশের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম প্রশংসনীয় দাবি করে মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, এসব বাহিনী উগ্র জঙ্গিবাদীদের তৎপরতা প্রায় নির্মূল করেছে। এই উগ্রবাদীরা আমাদের দেশকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে জঙ্গিদের অভয়ারণ্য করতে চেয়েছিল। এই অপরাধগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম হলেও তাদের প্রতি জনসমর্থন এখন পর্যন্ত বহাল আছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, গ্যাস, ভোজ্য তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজারমূল্য সীমাহীন বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হয় না। বাণিজ্যমন্ত্রী যেদিন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন সেই দিন থেকে আরেক ধাপ বৃদ্ধি পায়। রমজান মাস সামনে রেখে একশ্রেণীর কালোবাজারি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুদ করে কৃত্রিমভাবে মূল্য বৃদ্ধি করছে। আমরা এর বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করি।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, একশ্রেণীর সরলমনা আলেম ষড়যন্ত্রকারীদের ফাঁদে পা দিয়ে তাদের তাণ্ডবের দায়ভার বহন করেছেন। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, অনেকে কারাগারে আছেন। এরা বেশির ভাগ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষ কিংবা মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করতেন। সরকার কাছে দাদি করবো, পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেফতার হওয়া আলেমদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হোক।

এছাড়া সঠিক তদন্তের মাধ্যমে নাশকতায় জড়িতদের বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার দাবিও তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এতে কেন্দ্রীয় মহাসচিব, ঢাকা মহানগরীর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন ।

দশ বছরে লোকসান ৪১৭২ কোটি টাকা

এক সময়ে দেশের গৌরবের সোনালি আঁশ। বর্তমানে অর্থনীতির অন্যতম দায় দেশের পাটখাত। মুনাফা তো দূরের কথা, ১০ বছরে সরকারের ২৫টি জুট মিলে লোকসান দিতে হয়েছে ৪ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। আর জুট মিলসহ সামগ্রিকভাবে পাট খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। দুর্নীতি-অনিয়মসহ নানা সীমাবদ্ধতায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশে পাটের জীবন রহস্য আবিষ্কারের পর নতুন করে সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নানা উদ্যোগের কথা বলছে সরকার। এ বাস্তবতা সামনে রেখে ষষ্ঠবারের মতো আজ দেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় পাট দিবস। এবারের পাট দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘সোনালি আঁশের সোনার দেশ, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ।’ দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসাবে পাটের ভূমিকা একটি স্বীকৃত ইতিহাস। এ খাতকে কেন্দ্র করে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাট দিবসের আলোচনায় এ খাত নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা জানান পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

জানা গেছে, পাট খাতের এ দুরবস্থার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে সীমাহীন দুর্নীতি, অদক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, শ্রমিক ইউনিয়নের স্বেচ্ছাচারিতা, সুস্থ প্রতিযোগিতার অভাব এবং সরকারের অবহেলা। তবে সম্ভাবনাও কম নয়। কারণ বিশ্বে পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার ৫ হাজার কোটি (৫০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের। এরমধ্যে চীনের দখলে অধিকাংশ বাজার থাকলেও বাংলাদেশের অবস্থান আছে ছোট আকারে। ২০১৮ সালে ইউরোপের বাজারে সিনথেটিক পণ্য নিষিদ্ধ হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী বাড়ছে বায়োডাইবারফিকেশন ব্যাগ ও পণ্যের চাহিদা। যা বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পাটের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ষষ্ঠবারের মতো এবার জাতীয় পাট দিবস পালন করবে সরকার। দিবসটি উপলক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী নানান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-পাট খাতে গবেষণা বাড়ানো, নতুন পাট নীতি প্রণয়ন, সংস্কারের আওতায় আসছে জুট মিল করপোরেশন এবং পণ্যের ব্যবহার পলিথিনের ওপর ইকো ট্যাক্স আরোপ। এসব উদ্যোগের দুটি উদ্দেশ্য। একদিকে দেশে পাট পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং অন্যদিকে রপ্তানি বাড়ানো। সব মিলে এ খাতের বিশাল বাজার সৃষ্টি করতে কর্মসংস্থান বাড়াতে চায় সরকার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ খাতে সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। জানতে চাইলে তত্ত্বাধবায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, জন্মরহস্য আবিষ্কার হওয়ায় পাটের সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। বিশ্ববাজারেও পাটপণ্যের চাহিদা রয়েছে। ফলে এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এ খাতে বিনিয়োগ জরুরি। তিনি বলেন, এ খাতে গবেষণা আরও বাড়াতে হবে।

জানা গেছে- ২০১৩ সালে দেশীয় পাটের জন্মরহস্য আবিষ্কার করে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। ফলে জীবাণপ্রতিরোধক পাট উৎপাদন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দেশি পাট দিয়ে বস্ত্রশিল্পের উপযোগী সুতা উৎপাদন করাও সম্ভব। আর এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই নানা উদ্যোগ। এদিকে পলিথিনের মোড়ক ব্যবহার করে পণ্য বাজারজাত করে এমন কোম্পানির ওপর এক শতাংশ ইকো ট্যাক্স আরোপ করা হয়। অবৈধ পলিথিন নির্মূল ও পলিথিন রি-সাইক্লিংয়ের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্র জানায়, পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১১৬ দশমিক ১৪ লাখ ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে। আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৪২ কোটি ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত অর্থবছরের চেয়ে ২৬ কোটি ডলার বেশি। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে প্রতিবছর ১২ দশমিক ৩৫ লাখ একর জমিতে পাট চাষ হয়। এতে মোট উৎপাদনের পরিমাণ ৮০ লাখের বেশি। মোট উৎপাদনের ৭৫ শতাংশই দেশে ব্যবহার হয়। বর্তমানে দেশে জুট মিলের সংখ্যা ২০৩টি। এরমধ্যে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতায় ২৫টি। বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) আওতায় ৮১টি এবং বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় ৯৭টি। সরকারি হিসাবে তিন খাতে মোট শ্রমিক ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৪৯।

১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল আদমজী পাটকল। পরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলে গড়ে ওঠে অনেক পাটকল যার বেশিরভাগই ছিল লাভজনক। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রথমে ৬৭টি পাটকলকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। পরে আরও পাটকল সরকারি করে বিজেএমসির আওতায় আনা হয় মোট ৮২টি পাটকলকে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর নেতৃত্ব ও কর্মপরিকল্পনায় কার্যকর কোনো কর্মপরিকল্পনা কখনো হয়নি, যা ক্রমশ পাটকলগুলোকে দুর্বল করেছে।

২০০২ সালে আদমজী জুট মিলস বন্ধ করা হয়। এরপর বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীনে বর্তমানে পাটকল আছে ৩২টি। ৫টি মিলের মামলা আদালতে বিচারাধীন। একটিতে ভিসকোস উৎপাদন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আর একটিতে বিক্রয়োত্তর মামলা রয়েছে। সর্বশেষ তিনটি নন-জুট মিলসহ সচল ছিল ২৫টি। তবে অব্যাহত লোকসানের কারণে ২০২০ সালের জুলাইয়ে সব পাটকল বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। মিলগুলো বন্ধ থাকায় গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে স্বেচ্ছায় অবসর বা গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে শ্রমিকদের পাওনা নগদ ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে। ৪টি মিলের (জাতীয়, খালিশপুর, দৌলতপুর ও কেএফডি) মিলের শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে। বন্ধ থাকা এসব জুটমিলের মধ্যে ১৭টি ইজারা দিচ্ছে সরকার। এসব মিলগুলোর ৫টি চট্টগ্রাম অঞ্চলের, ঢাকা অঞ্চলের ৪টি ও খুলনা অঞ্চলের ৮টি। বিজেএমসির তথ্যানুযায়ী, ঢাকা জোনে পাটকল ৭টি। যার মধ্যে চারটি ইজারা দেওয়া হবে। চট্টগ্রাম জোনে মিল ১০টি, যার মধ্যে পাঁচটি ইজারা দেওয়া হবে।

সূত্র আরও জানায়, দেশে পাট খাতে এখন বেশ সাড়া মিলেছে। এজন্য প্রায় এক দশক পরে নীতিমালা তৈরি হয়েছে। এই নীতিতে বন্ধ হওয়া সরকারি পাটকলগুলো ক্রমান্বয়ে চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার এবং পাটপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আইনগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাট বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনায় বিএডিসির সক্ষমতা বাড়ানো, পাটচাষিদের অর্থ সংকট লাঘবে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, বিক্রয়ের সঙ্গে সঙ্গে পাটচাষিরা অর্থ পেয়ে যান- এসব বিষয় পাটনীতিতে স্পষ্ট করে তুলে ধরা হচ্ছে।

বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান, আইভোরিকোস্ট, ব্রাজিল, ইথিওপিয়া, জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ড, মিসর, চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। দেশের ভেতরেও পাটজাত পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে বেসরকারি পাটকলগুলো। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি এ খাতে সমস্যাও কম নেই। উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার, দক্ষ শ্রমিক, পণ্য বৈচিত্র্যকরণ ও বিপণন কৌশলের অভাব রয়েছে পাট শিল্পে। সহযোগিতাও নেই পাট গবেষণায়। এসব দিকে এখনই নজর না দিলে বিশ্ব বাজারে অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হবে। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। এ খাতের ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে এ খাত ছাড়িয়ে যেতে পারে তৈরি পোশাক শিল্পকে। এজন্য গুরুত্ব দিতে হবে বীজ উৎপাদনে। কারণ মানসম্মত বীজের অভাব রয়েছে।

জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে সাড়ে ১২শ টন উৎপাদন হলেও পাট বীজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় পাঁচ হাজার টন। ফলে ভারত বা চীন থেকে প্রতিবছর বীজ আমদানিতে চলে যাচ্ছে বড় অঙ্কের অর্থ। তবে পাট খাতে সরকারি বিনিয়োগে অসন্তোষ অবস্থানে রয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এ সংস্থার মতে, অদক্ষতা, লুটপাট, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে লোকসানি মিলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে নতুন করে পাটের পুনর্জাগরণে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিতের (পিপিপি) ভিত্তিতে পুনরায় পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পাট দিবসের বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসাবে পাটের ভূমিকা একটি স্বীকৃত ইতিহাস। এক সময়ের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট এখনও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। এ খাতকে কেন্দ্র করে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, দেশ বিভাগের পর থেকেই তৎকালীন পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী দেশের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হতে অর্জিত মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার ন্যায্য হিসাব থেকে বঞ্চিত করে। এ অন্যায়, অবিচার ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৬ দফা কর্মসূচির ৫ম দফায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করেন। পাটকে জাতীয় সম্পদ হিসাবে বিকাশের পরিকল্পনা করেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর পাট খাতে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। লোকসান দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে পাটশিল্পকে ধ্বংসের মুখে ফেলা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে এ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ এবং এ সংক্রান্ত বিধিমালা দেশের পরিবেশ রক্ষায় ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় ইতিবাচক ধারা সৃষ্টি করেছে। ‘পাট আইন-২০১৭’ ও ‘জাতীয় পাটনীতি-২০১৮’ পাট খাতের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসাবে কাজ করছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে বিশ্বসভায় প্রতিষ্ঠিত করা।

গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বিশ্বে পলিথিনের ব্যবহার বাড়লেও টেকসই উন্নয়নের যুগে পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এ কারণে পাটকে নিয়ে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে সরকার। এরমধ্যে রয়েছে-পাট পণ্যের প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণ, পাটচাষি পাটপণ্যের উৎপাদনকারী ব্যবসায়ীদের সহায়তা, বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উদ্যোক্তা এবং পাটজাত পণ্যের ব্যবহারের বাড়ানো। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের লক্ষ্যে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এই আইনের আওতায় ১৯টি পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাট চাষ নিশ্চিতকরণে বীজ সরবরাহ সঠিক রাখার পাশাপাশি কৃষককে অন্যান্য উপকরণ সহায়তার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাটের উৎপাদন বহুগুণে বেড়েছে। পাট মৌসুমে হাট-বাজারে নজরদারি জোরদার করা, নিয়মবহির্ভূত মজুত ও বিদেশে কাঁচা পাট পাচার রোধে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। বিজেএমসির সাময়িক বন্ধকৃত মিলগুলো অবসায়নের পর সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়ার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে নরসিংদীর বাংলাদেশ জুটমিল এবং চট্টগ্রামের কেএফডি জুট মিলস ভাড়াভিত্তিক ইজারার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আরও দুটি জুট মিলের লিজ দেওয়ার কাজ চলমান। অবশিষ্ট ১৩টি মিল লিজ দেওয়ার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো ইওআই (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) আহ্বান করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত আরও কিছু মিল চালু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এ বছর ১১টি ক্যাটাগরিতে ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

গোয়েন্দা নজরদারিতে ভোজ্যতেল

গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে ভোজ্যতেল, ভোজ্যতেল রিফাইনারি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন। এছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি, দেশের ভেতর উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গোপনে অনুসন্ধান হচ্ছে অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকারের এজেন্সিগুলো। আর জেলা পর্যায়ে সব ডিসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাজার মনিটরিংয়ের। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সূত্র আরও জানায়, দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এরই মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বাজারে পণ্যের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার জন্য এ নির্দেশ দেওয়া হয়। আর প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশ এরই মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে দেশের শীর্ষ পর্যায়ে ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীদের কাছে। তাদের মন্ত্রণালয়ে ডেকে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীরা কোন কোন পর্যায়ে গোপনে ভোজ্যতেল মজুত করছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধের প্রভাবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে। আগামীতে আরও বাড়বে তাই বেশি মুনাফার আশায় অবৈধ মজুত করা হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি নিজেও সম্প্রতি দ্রব্যমূল্য নিয়ে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সংবাদিকদের বলেছেন, ভোজ্যতেল অবৈধ মজুত করছে মধ্যস্বত্বভোগী পর্যায়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে সরকারের এজেন্সি ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে কাজ শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল কেনার পর রিফাইনারি থেকে ডিলারদের কাছে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) দেওয়া হয়। সেখান থেকে ডিও আসছে পাইকারি বাজারে। কোন পর্যায়ে এসব মূল্য বাড়ানো হয়েছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া অবৈধ মজুতধারীদের খুঁজে বের করতে সরকারের এজেন্সিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোডে অবস্থিত আবুল খায়ের ট্রেডিংয়ের অবৈধ ভোজ্যতেল মজুতের ২২ হাজার লিটার উদ্ধার করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে এ অভিযান চালানো হয়। অবৈধ মজুত ভোজ্যতেল উদ্ধারের পর প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগদ জরিমানা করা হয়েছে ২ লাখ টাকা।

অভিযান পরিচালনার সঙ্গে জড়িত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের অভিযান আগামীতে আরও চলবে। যারা ভোজ্যতেলের অবৈধ মজুত গড়ে তুলছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের কষ্ট দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে রাজধানীর কাওরান বাজারে অভিযান চালিয়ে এক দোকানির গুদামে অবৈধ ভোজ্যতেল মজুত উদ্ধার করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর। ওই দোকানে সিলগালা করে শুনানির জন্য অধিদপ্তরে ডাকা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য উইং প্রধান অতিরিক্ত সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান জানান, ভোজ্যতেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার সব রিফাইনারিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে গত তিন মাসে আমদানির পরিমাণ, রিফাইন করে বাজার সরবরাহ কতটুকু করা হয়েছে সে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এছাড়া সরবরাহ পর্যায়ে সমস্যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে আরও দুই মাস পরে। রোজাকে সামনে রেখে সরবরাহ চেইনে অসাধু ব্যবসায়ীরা অস্থিরতা তৈরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আশা করছি ভোজ্যতেলের বাজারে সম্প্রতি যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরবরাহ চেইনে সমস্যা তৈরি হয়েছে তাদের আইনের আশ্রয় নিয়ে বাজার স্বাভাবিক করতে পারব।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আমদানি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে বিদেশ থেকে ভোজ্যতেল আমদানি কম করেছে রিফাইনারিরা। ২০২০-২১ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় ভোজ্যতেল আমদানি কম হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ১২২ টন। এরমধ্যে পামওয়েল ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৭৬ টন এবং সয়াবিন ৪৩ হাজার ৬৪৬ টন। পাশাপাশি ভোজ্যতেল আমদানির এলসি খোলাও কম হয়েছে। এলসি খোলা কমের পরিমাণ হচ্ছে ১ লাখ ২২ হাজার ১২৪ টন। এরমধ্যে সয়াবিন ৬৪ হাজার ৯৮১ টন এবং পামওয়েল ৫৭ হাজার ১৪৩ টন।

মূলত ওমিক্রন ও করোনার প্রভাবে এ আমদানি কম হয়েছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ। যে কারণে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে। একদিকে আমদানি কম ও অন্য দিকে বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি এসব সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের বাজার অস্থির করে তুলেছে। টিসিবির হিসাবে শনিবার এক লিটার লুজ সয়াবিনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১৬৫ টাকা থেকে ১৭০ টাকা এবং লুজ পামওয়েল ১৫৫ থেকে ১৫৮ টাকা। কিন্তু সাধারণভাবে বাজারে ২শ টাকা লিটার এবং কোথাও কোথাও এরচেয়ে বেশি আদায় করা হচ্ছে। অনেক স্থানে লুজ তেল সাধারণ ক্রেতার কাছে কম বিক্রি করা হচ্ছে। কারণ বিভিন্ন বেকারি শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পে বেশি পরিমাণে একসঙ্গে বিক্রির আশায় এ অসাধু পথ অবলম্বন করছেন ব্যবসায়ীরা

শিশু হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ, কী করবেন?

শিশুর জটিল রোগগুলোর একটি হৃদরোগ। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদেরও হৃদরোগ হচ্ছে। অনেক শিশু জন্মগত হৃদরোগী।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সোসাইটি অব বাংলাদেশের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন

হৃদরোগের অনেক উপসর্গ রয়েছে। কিছু কিছু উপসর্গ থাকলে শিশুর হৃদরোগ আছে তা দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। জন্মগত হলেও জন্মের পর বা কিছু সময়ের জন্য জন্মগত হৃদরোগের কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। কখনও কখনও সাধারণ জন্মগত হৃদরোগ, যেমন ‘হোল-ইন-হার্ট’ জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে শনাক্ত করা যায় না।

সবচেয়ে সাধারণ হৃদরোগ যেমন ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট এবং পেটেন্ট ডাক্টাস আর্টেরিওসাস প্রথম ১-৪ সপ্তাহে লক্ষণহীন থাকতে পারে। এটি ফুসফুসের চাপ এবং রক্তপ্রবাহ পরিপক্কতায় বিলম্বের কারণে ঘটে থাকে। ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ত্রুটি এবং পেটেন্ট ডাক্টাস আর্টেরিওসাস (ভিএসডি এবং পিডিএ) ধীরে ধীরে ফুসফুসের চাপ ও রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং হার্টের আকারও বাড়ায়।

হৃৎপিণ্ডে একটি বড় ছিদ্র হলে ফুসফুস এবং শরীরের মধ্যে রক্ত প্রবাহের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে। হৃৎপিণ্ডে একটি বড় ছিদ্র বর্ধিত শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রচেষ্টার জন্য হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায়। এর ফলে শরীরের বৃদ্ধি ধীর হয়, দুর্বল বা ওজন বৃদ্ধি পায় না। জন্মের ৪-৬ সপ্তাহ পরে লক্ষণগুলো শুরু হয়।

অ্যাট্রিয়াল সেপ্টাল ডিফেক্ট হলো আরেক ধরনের ছিদ্র, যা অনেক বছর ধরে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সুপ্ত থাকতে পারে। স্টেনোসিস বা ভালভের সংকীর্ণতা যে কোনো বয়সে এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের দ্বারা পরীক্ষা করানো উচিত। যারা হৃদরোগের জন্য কিছু সূত্র খুঁজে বের করতে ক্লিনিকাল পরীক্ষা ছাড়াও বিশেষ কিছু পরীক্ষা যেমন বুকের এক্স-রে, ইকো এবং ইকোকার্ডিওগ্রাফি উপর ভিত্তি করে CHD-এর উপস্থিতি সনাক্ত করতে পারে।

নিম্নলিখিত বিশেষ বিশেষ লক্ষণ দেখা গেলে অবশ্যই জন্মগত হৃদরোগের ব্যপারে শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

* দুধ খাওয়ার সমস্যা : শিশু যদি কিছু সময় দুধ চুষেই হাপিয়ে যায় এবং দুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়, তারপর আবার চুষতে শুরু করে অথবা দুধ খেতে বেশি সময় নেয় (>২০ মিনিট), কিংবা খাওয়ার সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায় এবং ঘাম হয়।
* ওজন বৃদ্ধি সন্তোষজনক না হলে : শিশুর ওজন বৃদ্ধির হার বয়সের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণ না হলে।
* ঘনঘন ঠান্ডা লাগা বা কাশি হওয়া : শিশুর বারবার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে তাহলে আংশকা থাকে তার হার্টের ত্রুটি আছে।
* জ্বর বা কাশি ছাড়া, ক্রমাগত দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস (এমনকি ঘুমের সময়) এবং বুকের পাজর বা খাঁচা দেবে যাওয়া।
* শিশুর হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত চলে (এমনকি ঘুমের সময়ও)। মা-ই এ বিষয়টি সহজে ধরতে পারবেন।
* শিশুর ঠোঁট, জিহ্বা এবং নখ নীলাভ হবে বা কান্নার সময় নীল হয়ে যায়। জন্মগত হৃদরোগের কারণে ত্বক, নখ, জিহ্বা এবং ঠোঁটের রঙ পরিবর্তন হতে পারে। এটি ঘটে যখন ভালো বা অক্সিজেন সমৃদ্ধ লাল রক্ত অক্সিজেন ক্ষয়প্রাপ্ত নীল রক্তের সঙ্গে মিশে যায় এবং শরীরে সঞ্চালিত হয় যা ত্বক, নখ, জিহ্বা এবং ঠোঁটে সর্বদা বা কমপক্ষে যখন সে কাঁদে তখন স্পষ্ট হয়।
এটি একটি গুরুতর জন্মগত হৃদরোগ, যার জন্য প্রাথমিকভাবে ওপেন হার্ট সার্জারির প্রয়োজন হয়। উপরের কয়েকটি লক্ষণ বা সমস্যা পরিলক্ষিত হলে ডাক্তারের পরামর্শে জন্মের প্রথম কয়েক সপ্তাহে হার্ট সার্জারি করাতে হবে।
জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর যত্ন

কিছু কিছু CHD-এর প্রাথমিক বা জরুরী হস্তক্ষেপ ও চিকিৎসা প্রয়োজন হয়, অন্যথায় শিশুর বেঁচে থাকা ঝুঁকিতে পড়ে বা অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। CHD-এর লক্ষণ ও টাইপের উপর নির্ভর করে কিছু CHD নিয়মিত ফলো-আপের প্রয়োজন হয় এবং প্রথম দিকে প্রতি কয়েক সপ্তাহ পর পর প্রয়োজনীয় ফলো-আপ প্রয়োজন হতে পারে।

জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশু স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, তবে কিছু কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তাই মাতা-পিতাই সঠিক ভাবে যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারেন। যদি সময় মতো CHD নির্ণয় করা হয় এবং চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয় তবে বেশিরভাগ CHD নিরাময়যোগ্য। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি এবং কিছু ক্ষেত্রে দেরিতে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে, CHD-এর বেশিরভাগই সাধারণ ত্রুটি এবং অনেক ক্ষেত্রে শুধু ঔষধেই নিরাময়যোগ্য। যেসব শিশু সময়মতো চিকিৎসা পায়, তারা তাদের পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী জীবন ধারন করতে পারে। অন্যদিকে, CHD আক্রান্ত প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু পূর্ণ ক্ষমতা অর্জন করতে পারে না এবং তাদের একটি সীমাবদ্ধ ও পরিমিত জীবনধারা পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রেও তাদের একাধিক পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে। নীল শিশুরা ডিহাইড্রেশন এবং রক্তস্বল্পতা সহ্য করতে পারে না, তাই এই নীল শিশুরা কান্না করলে তাদের সমস্যা গুরুতর হয়ে যায়, যাকে স্পেল বলা হয়। যখন তারা দ্রুত শ্বাস নেয় ও আরও নীল হয়ে যায় এবং নিস্তেজ হয়ে পড়ে তখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। এই শিশুদের ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
CHD আক্রান্ত হলে সময়মতো চিকিৎসা সর্বোত্তম ফলাফল নিয়ে আসে। প্রথম সন্তান যদি CHD-তে আক্রান্ত হলে সেই মা যদি দ্বিতীয়বার গর্ভবতী হন তাহলে অনাগত শিশুদের মধ্যে ২-৫% এর CHD-তে আক্রান্ত ঝুঁকি থাকে। এক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় প্রসূতি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো চলা উচিৎ। ১৬ থেকে ১৯ সপ্তাহের মধ্যে ইকোকার্ডিওগ্রাফি করে গর্ভের শিশুর CHD ধরা পড়লে গর্ভপাতের পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে জেনেটিক কাউন্সেলিংয়েরও সুপারিশ করা হয়।

* পরিচর্যাকারীকে অবশ্যই কঠোরভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।

* বয়স্ক শিশুদের দাঁতের স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই শেখানো উচিত।

* খাদ্যতালিকা ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে।

* এ ধরনের শিশুদের জন্য ব্যায়াম সীমিত ও কাস্টমাইজ করা আবশ্যক, কিন্তু বন্ধ করা উচিত নয়।

* সুরক্ষার জন্য টিকাদান সময়মতো সম্পন্ন করতে হবে। অতিরিক্ত অত্যাবশ্যক টিকা যেমন- নিউমোকোক্কাল ভ্যাকসিন, মেনিনোকোক্কাল ভ্যাকসিন এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন দিতে হবে।

* সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে যাদের জ্বর, কাশি, সর্দি, হাম, চিকেনপক্স এবং ডায়রিয়া আছে।

* যদি ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট জ্বর হয় বা নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্রোপচার করাতে হলে বা যাদের করা হয়েছে, তাদের অবশ্যই পরামর্শমতো অ্যান্টিবায়োটিক প্রফিল্যাক্সিস দিতে হবে।

* জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে বেশি। বিশেষ করে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ যেমন, নিউমোনিয়া হওয়ার আশংকা বেশি দেখা যায়।

থাইরয়েড ক্যানসার বুঝবেন কীভাবে?

থাইরয়েড গ্লান্ডের ক্যানসার একটি জটিল রোগ। থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো অংশের কোষ সংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেলে তাকে থাইরয়েড ক্যানসার বলে। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিতে পারলে থাইরয়েড ক্যানসার থেকে নিরাময় সম্ভব।

থাইরয়েড ক্যানসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন সিওমেক হাসপাতালের নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেড-নেক সার্জন রেজিস্ট্রার, ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী।

ক্যানসারে আক্রান্ত পুরুষদের মধ্যে প্রায় ৫.৪ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ৬.৫ শতাংশ থাইরয়েড ক্যানসারভুক্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর কারণ অস্পষ্ট।

থাইরয়েড ক্যানসারে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে-

গলার সম্মুখভাগে ফুলে ওঠা এবং এই ফোলা খাবার গ্রহণে ঢোক গেলার সময় ওঠানামা করে। ক্যানসার হলে সেই ফোলা অংশটি বেশ শক্ত হয়। সঙ্গে ওজন কমে যায়।

থাইরয়েড গ্রন্থির আশপাশে একটি বা একাধিক টিউমার হতে পারে; উভয় পাশে টিউমার হতে পারে। আশপাশের লিম্ফ নোডগুলো ফুলে উঠতে পারে।

থাইরয়েড টিউমার স্নায়ুকে আক্রান্ত করলে গলার স্বর পরিবর্তন হতে পারে। গলার স্বর মোটা বা ফ্যাসফ্যাসে হতে পারে।

থাইরয়েড টিউমার শ্বাসনালির ওপর চাপ সৃষ্টির ফলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

এ সময় খেয়াল রাখতে হবে বংশে বা পরিবারে কারও থাইরয়েড ক্যানসারের ইতিহাস আছে কিনা।

থায়রয়েড ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা সময়মতো চিকিৎসা করলে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ সম্ভব। তবে অবশ্যই সময়মতো সম্পূর্ণ চিকিৎসা করাতে হবে। গলার সামনে ফুলে উঠলে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত। তিনি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা (আলট্রাসনোগ্রাম, থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট এবং সবচেয়ে স্পেসিফিক FNAC) করে দেখবেন এটা কোন ধরনের রোগ। থাইরয়েড ক্যানসারের ক্ষেত্রে কার্যকরী চিকিৎসা হচ্ছে অপারেশন বা সার্জারি করা। পরীক্ষার পর আক্রান্তের ধরনের ওপর নির্ভর করবে থাইরয়েড গ্রন্থির কতটুকু কাটতে হবে। অপারেশনের পর এর প্রকারভেদের ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট ডোজের রেডিও আয়োডিন থেরাপি নেওয়া লাগতে পারে। রোগীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে অপারেশনের পর চিকিৎসকের অধীনে সারা জীবন ফলোআপে থাকতে হবে।