রবিবার ,১৪ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 431

ইমান আমল ধ্বংস করে পর্নোগ্রাফি

পর্নোগ্রাফি বলতে প্রকাশ্যে যৌনতা উৎপাদন ও প্রদর্শন করাকে বোঝায়। পাশ্চাত্য জগৎ স্বতন্ত্র শিল্পের দাবি নিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের চিত্তবিনোদনের জন্য আইনের স্বীকৃতিসহ আবির্ভূত প্রকাশ্যে যৌন দৃশ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাত ও বিপণন করে। এটি সত্য, আদিকাল থেকেই নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্কের উপস্থাপন নানাভাবে হয়েছে। সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা ও স্থাপত্যে নানাভাবে শিল্পসম্মত উপায়ে যৌনতা উপস্থাপিত হয়েছে। যৌনতার শিল্পসম্মত উপস্থাপন শিল্প, সাহিত্য ও জীবনবোধকে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু টেলিভিশন, ভিডিও ও ইন্টারনেট আবিষ্কারের পর ‘প্রাপ্তবয়স্কদের চিত্তবিনোদন’ বা মনোরঞ্জনের কথা বলে পর্নো ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে।

বিভিন্ন দেশে পর্নোগ্রাফির বিপুল চাহিদা সৃষ্টির পাশাপাশি পর্নো বাণিজ্যের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এর পেছনে অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক কার্যকারিতাকে যৌক্তিক রূপে দৃশ্যমান করে তোলা হচ্ছে। অথচ সমাজের ওপর তার ফলাফল মারাত্মক নেতিবাচক। পর্নোশিল্প শিশু, নারী-পুরুষ ও সমাজে বিষাক্ত দূষণ ছড়িয়ে দিচ্ছে। শিশু পর্নোগ্রাফি কোমলমতি শিশুদের সুন্দর মনকে অজ্ঞাতসারে বিষিয়ে তুলছে। পর্নোগ্রাফির ক্ষতিকর প্রভাবে ধর্ষণ, যৌন অপরাধ এবং পুরুষ-নারীর বিপথগামী আচরণ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও অনেক দিন ধরে অশ্লীল ছবি ও চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী চলছে এবং মুঠোফোনের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। অথচ বাংলাদেশের সংস্কৃতি, প্রচলিত মূল্যবোধ ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ পর্নোগ্রাফি বা অশ্লীল ছবির উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও প্রদর্শনীকে অনুমোদন করে না। এখানকার জনসাধারণের অধিকাংশের ধর্ম ইসলামে পর্নোগ্রাফিসহ সব ধরনের অশ্লীলতা নিষিদ্ধ।

পর্নোগ্রাফি একটি সর্বজন স্বীকৃত অশ্লীলতা। মানবসমাজকে পূতপবিত্র এবং বিশৃঙ্খলামুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে ইসলামে সব ধরনের অশ্লীলতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আপনি বলুন, আমার পালনকর্তা কেবল অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন-যা প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ, অন্যায়-অত্যাচার, আল্লাহর সঙ্গে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোনো সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না। আল্লাহ সব ধরনের অশ্লীলতা পরিহারের নির্দেশ প্রদান করে বলেন, ‘আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচারণ এবং আত্মীয়স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন-যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।’

কোনো মুসলিম অশ্লীল কোনো কাজে জড়িত হওয়া তো দূরের কথা, বরং অশ্লীল কাজে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো তার দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ অন্যায়-অশ্লীল কর্ম দেখলে তা শক্তি দ্বারা প্রতিহত করবে। যদি সমর্থ না হয়, তাহলে কথার দ্বারা প্রতিবাদ করবে। এতেও সমর্থ না হলে, বিবেক দ্বারা প্রতিহত করবে। আর এটিই হচ্ছে সবচেয়ে দুর্বল ইমান। ফলে ইসলাম প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব ধরনের অশ্লীলতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘লজ্জাকর কার্যে জড়িত হয়ো না, সে প্রকাশ্যেই বা গোপনে। ফলে অশ্লীল কর্ম সমাজে ছড়িয়ে দেওয়াও মারাত্মক অপরাধ। আল্লাহ বলেন, ‘যারা পছন্দ করে, ইমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার লাভ করুক তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানে, তোমরা জান না। কোনো নারীকে কটু কথা বলা, খারাপ ইশারা-ইঙ্গিত করা, হয়রানি করা, গালি দেওয়া, ঢিল মারা, পথরুদ্ধ করা যেমন অশ্লীল কাজ, তেমনি কোনো নারী-পুরুষের বিকৃত স্থির চিত্র বা নগ্ন ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা প্রত্যক্ষ করা অশ্লীল কাজ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) সব ধরনের অশ্লীল কাজকে নিষেধ করে বলেন, “অশ্লীলতা এবং অশ্লীলতার প্রসার কোনোটির স্থান ইসলামে নেই। নিশ্চয় ইসলামে সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে যার স্বভাব-চরিত্র সবার চেয়ে সুন্দর। ইসলাম এ অপরাধকে সরাসরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পাশাপাশি এ অপরাধ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অযাচিত ও রুচিহীন কয়েকটি কর্মকেও নিষিদ্ধ করেছে। নিুে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে ইসলামের ঐতিহাসিক বিধিবিধানের প্রায়োগিক দিকগুলো তুলে ধরা হলো-পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হচ্ছে, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও প্রদর্শনীতে কখনোই অনুমোদন করেনি। এখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবনাদর্শ ইসলাম পর্নোগ্রাফিসহ সব ধরনের অশ্লীলতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে এ অঞ্চলের মুসলিমরা ছিল সব ধরনের অশ্লীলতামুক্ত ও রুচিহীন ক্রিয়াকর্মের বিপরীতে উন্নত জীবনযাপনের প্রতি প্রত্যয়শীল। তাদের শিল্প, সাহিত্য, নাটক, সিনেমাসহ সব ধরনের সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এ উন্নত তাহযিব-তামাদ্দুনের পক্ষেই স্বাক্ষর বহন করে। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় স্যাটেলাইট, মোবাইল প্রযুক্তি, ইন্টারনেট, সাইবার ক্যাফে ইত্যাদি উদ্ভাবনের পর নৈতিকতাবিরোধী যে অশ্লীল ভিডিও ও স্থিরচিত্র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে তা নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট আইনগত পদক্ষেপ হিসাবে সরকার নতুন আইন প্রণয়ন করে। প্রস্তাবিত আইনে পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইন প্রণয়নের আবশ্যকতা সম্পর্কে প্রদত্ত বিবৃত্তি ও মূল আইনের শিরোনাম পরবর্তী উল্লিখিত আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট বর্ণনায় আইনটির যে প্রাসঙ্গিকতা ফুটে উঠেছে তা পক্ষান্তরে অশ্লীলতা নিয়ন্ত্রণে ইসলামি নৈতিকতায় ঐতিহাসিক ও উন্নত পদক্ষেপগুলোর তাৎপর্যই বহন করছে। ইসলাম মানবজীবন পরিচালনায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ নৈতিক চরিত্রে বিকশিত শাশ্বত আদর্শ। পর্নোগ্রাফির মতো একটি অনৈতিক কর্ম ইসলামি মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতির ভেতর কখনোই সৃষ্টি হতে পারে না। বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফি ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও জীবন নির্ধারণের সঠিক ও পূর্ণ অনুসরণ।

লেখক : মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান, পাঠানপাড়া, (খানবাড়ি) কদমতলী, সদর, সিলেট-৩১১১

লিস্ট ধরে বই কিনছে পাঠক

বসন্তকালের এই ফুরফুরে সময়টাতে বইমেলায়ও যেন বসন্ত লেগেছে। মার্চ মাসের বইমেলা কেমন হবে সেই সব আশঙ্কা কাটিয়ে মেলায় এখন বইয়ের বিক্রি তুমুলে। এ যেন শীতের স্থবিরতা কাটিয়ে বসন্তের উজ্জ্বল দিনের মতো। গত দুই বছরের করোনাকালের দুঃসময় কাটিয়ে সৃজনশীল বইয়ের প্রকাশকরা তাই হাসছেন সুখের হাসি। মেলায় এখন যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই বইয়ের ক্রেতা। পাঠকদের বড় একটি অংশ মেলায় বই কিনছেন লিস্ট ধরে ধরে।

শনিবার ছুটির দিনে বইমেলায় ছিল ভিড়। গত শুক্রবারের ভিড়ে বইয়ের ক্রেতা ও দর্শনাথী দুটোই মিশ্রণ ছিল। কিন্তু শনিবার সেদিক থেকে অনেকটাই ব্যতিক্রম। এদিন যারা মেলায় এসেছেন তারা মূলত বইয়ের ক্রেতা। কথাপ্রকাশের প্যাভিলিয়নের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখা গেল, কিছুক্ষণ পরপরই পাঠক আসছেন। যাদের মধ্যে অনেকেই এসেছেন লিস্ট ধরে বই কিনতে। প্রকাশনাটির মেলা ব্যবস্থাপক মো. ইউনুস আলী যুগান্তরকে বলেন, অনেক পাঠক এখন আমরা পাই যারা আগে থেকেই নানা বিষয় মাথায় নিয়ে আসেন। আমাদের প্রকাশনা থেকে প্রবন্ধের বই বেশি বলে ‘ইতিহাস’, ‘রাজনীতি’বিষয়ক বইগুলো লিস্ট করে নিয়ে এসে পাঠকরা সংগ্রহ করছেন।

অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা যুগান্তরকে বলেন, আমরা মেলা উপলক্ষ্যে এক হাজার ক্যাটালগ বিলি করেছি। আশা করছি এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ক্যাটালগ সঙ্গে করে বই কিনতে আসবেন। ইতোমধ্যে সেটি শুরু হয়ে গেছে। মেলা যেহেতু এখন শেষ সময়ের দিকে যাচ্ছে সেহেতু পাঠক এখন লিস্ট ধরে ধরেই বই কিনতে আসছে। অবসর থেকে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস সমগ্র ২২ খণ্ড পূর্ণাঙ্গভাবে এবার মেলায় এসেছে। এর মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় এই কথাসাহিত্যিকের সব উপন্যাসের সংকলন সমাপ্ত করল অবসর। আজকেও (শনিবার) আমরা এই উপন্যাস সমগ্রের পুরো সেট কয়েকটি বিক্রি করেছি।

ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, প্রচুর পাঠক এখন লিস্ট ধরে ধরে বই কিনছেন। এ ধরনের পাঠক-ক্রেতাই এখন বেশি। আমাদের প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত ৩৫ খণ্ডে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক রচনাবলি পাঠকদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে।

শনিবার ইউপিএল, আগামী, অন্যপ্রকাশ, সময়, প্রথমা, পাঞ্জেরী, অন্বেষা, ইত্যাদি, বাতিঘর, অনন্যা, কাকলী, উৎস, দিব্য, বিদ্যা, পুথিনিলয়, অ্যাডর্ন, শোভাসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রকাশনার প্যাভিলিয়ন ও স্টল ঘুরেও দেখা গেছে বইয়ের বিক্রির হিড়িক। সেখানেও লিস্ট ধরে ধরে পাঠকরা বই কিনছেন। মেলায় এদিনও সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ছিল শিশুপ্রহর।

রেজাউল হোসেনের ‘ওয়্যারলেস টু ক্যাশলেস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন : এদিন বইমেলায় মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ‘উপায়’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল হোসেন রচিত ‘ওয়্যারলেস টু ক্যাশলেস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হলো। এদিন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আদর্শ’র স্টলে বইটির মোড়ক উন্মোচন হয়।

বাংলাদেশের টেলিকম ও এমএফএস ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার ২৬ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখক এই বইতে নব্বইয়ের দশকের ওয়্যারলেস ফোন থেকে বর্তমানের ক্যাশলেস অর্থ ব্যবস্থায় বিবর্তনের চালচিত্র তুলে ধরেছেন। বইটি বিজনেস স্টাডিজের শিক্ষার্থী কিংবা করপোরেট পেশাজীবীদের গভীর অন্তর্দৃষ্টি খুলে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের টেলিকম ও এমএফএস ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে সাধারণ পাঠকদের নানা কৌতূহল মেটাবে।

মঞ্চের আয়োজন : বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ : কাজী মনজুরে মওলা ও হাবীবুল্লাহ সিরাজী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, আসাদ মান্নান এবং সাহেদ মন্তাজ। সভাপতিত্ব করেন সুব্রত বড়ুয়া।

আলোচকরা বলেন, বাংলা কবিতার ইতিহাসে কবি মনজুরে মওলা ও কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কবিতা যে স্থায়ী আসন অর্জন করেছেন, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যক্তিমানুষ হিসাবে মনজুরে মওলার রসবোধ ও সহজ-সরস সাহচর্য ছিল সবার উপভোগ্য। অন্যদিকে কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী ছিলেন সদাহাস্য, উদারচিত্ত ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। আমাদের মণিকোঠায় এ দুজন বরেণ্য মানুষ তাদের সৃষ্টিশীলতার গুণে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

এদিন লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন বিমল গুহ এবং শাহেদ কায়েস।

অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি ঝর্না রহমান এবং ইমরুল ইউসুফ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল ‘কাশফুল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন সাইদুর রহমান বয়াতী, আমিরুল ইসলাম, সঞ্জয় কুমার দাস, নাজমুল করিম মানিক, রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং শারমিন সুলতানা, শিমু দে।

নতুন বই : শনিবার বইমেলায় নতুন বই এসেছে ১২৯টি। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে কথাপ্রকাশ থেকে সৈয়দ আজিজুল হকের ‘মন ও মনন’, আনিসুল হকের ‘গুড্ডুবুড়া-৩’, একই প্রকাশনা থেকে সালেক খোকনের ‘সমতলের বারো জাতি’, সময় প্রকাশন থেকে দিলীপ চক্রবর্তীর ‘সক্রেটিস থেকে কার্ল মার্কস, মহাত্মা গান্ধি থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁহাদের স্মরণীয় বিচার কথা’, প্রথমা থেকে জাভেদ হুসেনের ভাষান্তরে ‘মওলানা রুমির কবিতা’। ঐতিহ্য থেকে এসেছে ঝর্না রহমানের গল্পগ্রন্থ ‘সমাধি প্রাঙ্গণে দুই বোন’ ও নির্ঝর নৈঃশব্দ্যের কাব্যগ্রন্থ ‘কুসুমের দেশে সন্ধ্যা চিরদিন’, শব্দশৈলী থেকে এসেছে ড. সুলতান মাহমুদের বঙ্গবন্ধুবিষয়ক ‘নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু : ভাষা-আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ’, অন্বয় প্রকাশ থেকে এসেছে বিমল সরকারের কাব্যগ্রন্থ ‘সৃষ্টি তোমার বড় উপহার’, অনন্যা থেকে এসেছে গোলাম মাওলা রনির গবেষণা ‘আজকের দিনে যদি হতেম প্রধানমন্ত্রী’, পঙ্খিরাজ থেকে এসেছে ফারুক নাওয়াজের কিশোর কবিতা ‘স্বদেশ প্রকৃতির ছড়া কবিতা’, ঝিঙে ফুল থেকে এসেছে ফররুখ আহমদের শিশুসাহিত্য ‘শিশুকিশোর সমগ্র’।

সন্ধ্যায় জনস্রোত, বিক্রির ধুম

অমর একুশে বইমেলায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোর চিত্র একেবারেই ভিন্ন। রবি থেকে বৃহস্পতিবার মেলায় লোকসমাগম মোটামুটি একইরকম থাকে। শুধু সন্ধ্যায় এসে কিছুটা ভিড় হয়।

সারাদিনই অল্প অল্প বিক্রি চলতে থাকে। কিন্তু শুক্র ও শনিবার সকাল থেকেই মানুষ মেলায় ভিড় করতে থাকে। আর সন্ধ্যায় এসে মানুষের ঢল নামে। মার্চের প্রথম শুক্রবারের বইমেলাও তার ব্যতিক্রম ছিল না। সন্ধ্যার জনারণ্যে বইয়ের বিক্রি হাসি ফুটিয়েছে প্রকাশকদের ঠোঁটে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুক্রবার সকালবেলাটা ছিল শিশুদের। তারা শিশুপ্রহরে বাবা-মায়ের হাত ধরেই চলে আসে সিসিমপুরের স্টেজে। তারপর হালুম, টুকটুকি আর ইকরিদের সঙ্গে নেচেগেয়ে লাফিয়ে সময় কাটায়।

এদিন সকাল সাড়ে ১১টা, বিকাল সাড়ে তিনটা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিসিমপুরের তিনটি শো ছিল। তিনবারই শিশুরা ভেসেছে খুশির জোয়ারে। পাশাপাশি শিশুচত্বরে তারা কিনেছে মজার মজার সব বই।

মেলার অন্যপাশটায় এই সময় লোকসমাগম কিছুটা কম ছিল। তবে সকাল থেকেই যারা আসছিলেন তাদের বেশিরভাগকেই বই কিনতে দেখা গেছে। দুুপুর গড়িয়ে বিকাল শুরু হতেই মেলার মানুষের স্রোত নামে। আর সন্ধ্যায় গিয়ে মেলার মাঠে অনেকটা তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। প্যাভিলিয়ন ও স্টলে বিক্রয়কর্মীদের ফুসরত ছিল না মোটেও। এ অবস্থা বজায় থাকে রাত ৯টায় বইমেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত।

এদিন কথাপ্রকাশের প্যাভিলিয়নে মেলা ব্যবস্থাপক মো. ইউনুস আলী যুগান্তরকে বলেন, মেলায় পাঠকসমাগম খুব ভালো। বিকাল থেকে বইয়ের বিক্রিও জমে উঠেছে। মেলার সামনের দিনগুলো আরও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হককে এদিন সকাল থেকেই বইমেলায় প্রথমার প্যাভিলিয়নে দেখা গেছে। শুক্রবার ছিল এই সাহিত্যিকের জন্মদিন। দুপুরে বইমেলাতেই তার জন্মদিনের কেক কাটার আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন সুহৃদ, পাঠকরা।

ভ্রমণকাহিনির বই ‘দেশ হতে দেশ দেশান্তরে’ : তরুণ প্রজন্মের ছয় জনপ্রিয় লেখকের ভ্রমণসাহিত্যের বই মলাটবন্দি হয়েছে। ‘দেশ হতে দেশ দেশান্তরে’ শিরোনামের বইটি প্রকাশ করেছে অবসর। এতে নাবিল মুহতাসিম, সাবাবা মঞ্জুর, শাহরিয়ার খান শিহাব, নিলয় ফয়সল, মিলু আমান ও কৌশিক জামানের ভারত, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, চীন, নেপাল ও ভুটান ভ্রমণের কাহিনিগুলো সংকলিত হয়েছে।

মঞ্চের আয়োজন : বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ : গাজীউল হক ও সিকান্দার আবু জাফর’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাসির আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেন আমিনুর রহমান সুলতান, আলফ্রেড খোকন এবং তারেক রেজা। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। এদিন লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন আবদুস সেলিম এবং বিধান রিবেরু।

নতুন বই : বাংলা একাডেমি থেকে দেয়া তথ্যমতে, শুক্রবার বইমেলায় নতুন বই এসেছে ২২০টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-কথাপ্রকাশ থেকে বেগম আকতার কামাল রচিত ‘কবিতার নান্দনিকতা : প্রাচীন ও মধ্যযুগ’, অনন্যা থেকে ইমদাদুল হক মিলনের কিশোরগল্প ‘রমাকান্ত কামারের মজার কাণ্ড’, চিরদিন থেকে কবি নির্মলেন্দু গুণের নতুন কবিতার বই ‘১১২০১৮৫০২৪৬০১২৩০১৯৪০২১৭০’, প্রত্যয় প্রকাশন সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘ঝর্ণাধারার সঙ্গীত’ ও আহসান হাবীবের উপন্যাস ‘একা এবং একা’, আগামী থেকে বিভুরঞ্জন সরকারের ‘বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের নির্মাতা’, ঐতিহ্য থেকে পিয়াস মজিদের ‘এইসব মকারি’, আগামী থেকে মাহবুবুল হকের ‘নজরুলকে নিয়ে’, কাব্যকথা থেকে আসাদ চৌধুরীর ‘গল্প থেকে গল্প’, নবান্ন প্রকাশনী থেকে সিজন নাহিয়ানের ‘নির্বাচিত কবিতা’, ছন্দ্রছাপ থেকে আনোয়ারা সৈয়দ হকের উপন্যাস ‘ঘুম’।

টনসিল ইনফেকশনের লক্ষণ, কী করবেন?

শীতকালে টনসিল একটি জটিল সমস্যা। অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। টনসিলাইটিস সাধারণত ৩ থেকে ১৪ বছরের শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে বড়দের ক্ষেত্রে যে একেবারেই হয় না, তা কিন্তু নয়।

টনসিল এক ধরনের লসিকাগ্রন্থি বা লিম্ফয়েড টিস্যু। এতে কোনো ধরনের ইনফেকশন বা প্রদাহ হলে আমরা এটাকে টনসিলাইটিস বলি। মানবদেহে গলার ভেতরে দুপাশে একজোড়া প্যালাটিন টনসিল থাকে, টনসিলের প্রদাহ বলতে আমরা এর ইনফেকশনকেই বুঝে থাকি।

টলসিল ইনফেকশনের লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায় নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেড-নেক সার্জন ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী।

টনসিল ইনফেকশনের জন্য ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া উভয়ই দায়ী। ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে প্রধানত বিটা হেমোলাইটিক স্ট্রেপ্টোকক্কাস দিয়ে হয়। এ ইনফেকশনের অন্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বারবার ঠান্ডা সর্দি লাগা, পুষ্টিহীনতা, পরিবেশ দূষণ, দেহে অপর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা; অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয়ে আসক্তি ও আবহাওয়ার পরিবর্তন।

লক্ষণ

* টনসিলে গলাব্যথা এবং সঙ্গে খাবার গিলতে সমস্যা হতে পারে এবং শরীরে ক্লান্তি ভাব থাকে।

* এ ক্ষেত্রে গলাব্যথার সঙ্গে জ্বর ১০২-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। সঙ্গে খাবার গ্রহণে অরুচি এবং বমির ভাব থাকতে পারে।

* গলার সঙ্গে কানের সম্পর্ক রয়েছে। তাই টনসিলের ইনফেকশনে কানে ব্যথা থাকবে এবং গায়ে ব্যথা হতে পারে।

* শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক সময় মুখ দিয়ে লালা পড়তে দেখা যায়।

* অনেক সময় মারাত্মক ইনফেকশনে মুখ খুলতে অসুবিধা হতে পারে।

এরকম সমস্যাকে তীব্র ইনফেকশন বা একিউট টলসিলাইটিস বলা হয়। চিকিৎসকের দেওয়া উপদেশ মেনে চললে এবং সঠিক সময়ে নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে টনসিলের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

সাধারণত এন্টিবায়োটিক, মাউথওয়াশ, ব্যথার ওষুধ, এন্টিহিস্টামিন ও প্রচুর পরিমাণে পানি পানের উপদেশের মাধ্যমে টনসিলের ইনফেকশনের চিকিৎসা করা হয়। তবে কেউ যদি সঠিকভাবে চিকিৎসা গ্রহণ না করে এবং চিকিৎসকের উপদেশ মেনে না চলে তবে বারবার দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ হয়ে থাকে, যাকে Chronic tonsillitis বলা হয়।

চিকিৎসা শাস্ত্রে Chronic tonsillitis-কে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, তবে এই দীর্ঘমেয়াদি ইনফেকশন যদি বছরে চার-পাঁচবার করে পরপর দুই বছর হয়, তবে অসুস্থ টনসিল অপারেশন করিয়ে নেওয়াই শ্রেয় এবং স্থায়ী সমাধান।

দীর্ঘমেয়াদি টনসিলের ইনফেকশন থাকলে অপারেশন না করালে নিন্মুক্ত সমস্যা হতে পারে

* টনসিলের ইনফেকশন চারপাশে ছড়িয়ে টনসিলে পুঁজ জমে ফোড়া হতে পারে।

* টনসিল বড় হয়ে শ্বাস নেওয়ার পথ বন্ধ করে দিলে শ্বাসকষ্টও হতে পারে। এ ছাড়া বড় টনসিলের কারণে খাবার গিলতে গেলে কষ্ট হতে পারে।

* ঘন ঘন ঠান্ডা লাগা থেকে কানে ইনফেকশন হতে পারে।

* রক্তের মাধ্যমে টনসিলের জীবাণু কিডনিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

* বয়স্কদের ক্ষেত্রে একদিকের টনসিল বড় থাকলে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ থাকলে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই এ ধরনের সমস্যা অবহেলা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধের মাধ্যমে যদি সমাধান না হয়, তবে টনসিল অস্ত্রোপচার করানো ভালো এবং নিরাপদ। আমাদের দেশে প্রতিদিন নিয়মিত টনসিলের অস্ত্রোপচার হচ্ছে।

কখন টনসিলের অপারেশন করা যাবে না

* টনসিলে তীব্র ইনফেকশন থাকলে অর্থাৎ জ্বর বা ব্যথা থাকা অবস্থায় অপারেশন করা যাবে না।

* তিন বছরের কম শিশুদের।

* এছাড়াও কারও রক্তে হিমেগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকলে/রক্তশূন্যতা থাকলে।

* হিমোফিলিয়া নামক রক্তরোগের ইতিহাস থাকলে।

* নারীদের মাসিক চলাকালীন অবস্থায়।

আশার কথা, তীব্র ইনফেকশন প্রথমে হলে সে ক্ষেত্রে সঠিকভাবে ভালো ওষুধ সেবন, উপদেশমতো ঠান্ডা এড়িয়ে চললে, কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গড়গড়া করলে এবং আদা-লেবু রং চা পান করলে অপারেশনের টেবিলে যাওয়া থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

শিক্ষক সংকটে শিক্ষার মান ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা

শিক্ষক সংকট আমাদের দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই একটি সাধারণ সমস্যা। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক আছে কী নেই, না থাকলে কবে নিয়োগ হবে, এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের খুব একটা মাথাব্যথা থাকে না। শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য যতগুলো শর্ত প্রযোজ্য, মানসম্মত শিক্ষক সেগুলোর মধ্যে প্রধান। তাই, সরকারি কিংবা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক থাকা একান্ত জরুরি। আমাদের দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা নিতান্তই কম, শেষ হিসাব অনুযায়ী ৬৮৩টি। এগুলোতেও রয়েছে শিক্ষক সংকট। এগুলোর শিক্ষকের সংকট কাটাতে ২০১৮ সালের ৯ নভেম্বর সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর ২ হাজার ১৫৫ জনকে সহকারী শিক্ষক হিসাবে নিয়োগের সুপারিশ করে ফল প্রকাশ করা হয়। এরপর পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ৩০ জানুয়ারি ২ হাজার ৬৫ জনকে পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু এ পদায়ন হয়েছে এলোমেলোভাবে-যেসব বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষক প্রয়োজন ছিল, সেসব বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষকদের পদায়ন করা হয়নি। শহর এবং ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে এমন এলাকার স্কুলগুলোতে পদের অতিরিক্ত শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে। অথচ বদলি ও পদায়ন নীতিমালায় নতুন নিয়োগকৃতদের প্রথমে উপজেলার স্কুলে পদায়নের কথা বলা আছে। কিন্তু নতুন শিক্ষকদের রাজধানীর সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জেলা সদরের স্কুলে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে স্বজনপ্রীতি ও ঘুস লেনদেনের অভিযোগ করেছেন অনেকে।

শহর এলাকার বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগ, যেসব স্কুলে শিক্ষক প্রয়োজন নেই, সেগুলোতে নতুন শিক্ষকদের পদায়ন করা হয়েছে। আর যেখানে শিক্ষক সংকট রয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষক দেওয়া হয়নি। কয়েক মাস আগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কাছ থেকে সারা দেশের হাইস্কুলগুলো থেকে শূন্যপদের তালিকা নিলেও পদায়নে সে তালিকার তোয়াক্কা করেননি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছামাফিক পদায়নে শিক্ষক সংকটে থাকা সরকারি স্কুলগুলোর শিক্ষার মান ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষকদের পদায়ন দেওয়া হয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর আগের শিক্ষকরা বদলি আতঙ্কে ভুগছেন। তারা বলছেন, অতিরিক্ত শিক্ষক পদায়ন দেওয়ায় বেতনভাতা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হবে। নতুন শিক্ষকদের নতুন করে পদায়ন দিয়ে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। বিষয়টিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা শূন্যপদের তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও সে হিসাবে পদায়ন হয়নি। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া শূন্যপদের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া যায়নি। এটি কেমন ব্যাখ্যা তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। এখানে যেটি হয়েছে তা হচ্ছে ‘তেলে মাথায় তেল দেওয়া’। পদের অতিরিক্ত শিক্ষক পদায়নের বিষয়ে তারা জানিয়েছেন, পদায়নের আদেশে পদ সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সমাধান দেবে। কারও কারও মতে, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা অনুসারে পদায়ন না করে বিষয়ভিত্তিক তালিকা অনুসরণ করে নতুন শিক্ষকদের পদায়ন দেওয়ায় এমন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

পত্রিকায় দেখলাম শরীয়তপুরের পালংতুলাসার গুরুদাস সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে নতুন করে ১২ জন শিক্ষককে পদায়ন করা হলেও আরও ১২টি শিক্ষক পদ শূন্য আছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘নতুন ১২ জন শিক্ষক পেলেও ইংরেজি, জীববিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ১২টি পদ শূন্য থাকবে। অথচ সামাজিক বিজ্ঞানে দুজন শিক্ষক পেয়েছি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে শূন্যপদের তথ্য দিয়েছি, তারপরও কেন এমন হলো বুঝতে পারছি না।’ নরসিংদী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় ও নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ১০ জন করে শিক্ষক পদায়ন দেওয়া হয়েছে। অথচ এ প্রতিষ্ঠান দুটিতে শূন্যপদ নেই। শূন্যপদ না থাকার পরও রাজধানীর সঙ্গে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় এ দুটি প্রতিষ্ঠানে ২০ জন অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ কেন হলো তা অনেকেই অনুমান করতে পারছেন।

বদলি ও পদায়ন নীতিমালায় নতুন নিয়োগকৃতদের প্রথমে উপজেলার স্কুলে কিংবা নতুন জেলা সদরে পদায়নের কথা বলা আছে; কিন্তু নতুন শিক্ষকদের রাজধানীর সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জেলা সদরের স্কুলে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, মন্ত্রণালয়ের সরকারি স্কুল শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা নতুন শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুস খেয়ে তাদের পছন্দ অনুযায়ী পদায়ন করেছেন। তারা হয়তো দেখছেন সবাই এসব কাজ করে টুপাইস কামাচ্ছে, আমরা বসে থাকব কেন? মাধ্যমিকের শিক্ষক নিয়োগ সরাসরি মন্ত্রণালয়কে দিতে হবে কেন? এটি থাকবে মাউশির কাছে। এখানে শক্ত নিয়মকানুন থাকবে, সেই নিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি বিষয়টিকে প্রভাবিত করতে না পারে। এমনিতেই সরকারি দপ্তরে কাজের পাহাড় জমা হয়ে থাকে বছরের পর বছর, জনগণ তাদের প্রকৃত সেবাপ্রাপ্তি থেকে সব সময়ই বঞ্চিত থাকছে, সেগুলো যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের এত ইনভলভমেন্ট স্মার্ট কাজের ইঙ্গিত বহন করে না। সাধারণভাবে থানা সদরের স্কুল থেকে প্রথমত জেলা সদর, এরপর পুরোনো জেলা সদর থেকে বিভাগীয় পর্যায়ের স্কুলে শিক্ষক বদলির বিষয় বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু নতুন পদায়নের ক্ষেত্রে নিজেদের জারি করা বদলি নীতিমালা মানেননি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। অধিদপ্তর যে তথ্য পাঠিয়েছে, সে অনুযায়ী পদায়ন হয়নি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তা অনুসরণ করেননি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেছেন, ‘নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের। অধিদপ্তরের দেওয়া শূন্যপদের তালিকা অনুযায়ী পদায়ন করা হয়েছে। শূন্যপদের বাইরে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে আগে থেকে যারা কর্মরত আছেন, তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে।’ কোনো ঘটনা ঘটার পরে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা এ ধরনের কথাই শুনে থাকি। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা আমরা কর্মকর্তাদের কাছে শুনি না।

৩০ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে পদায়নের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানপত্র তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করবেন। পদায়নকৃত পদে অন্য কোনো বিষয়ের শিক্ষক কর্মরত থাকলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে উদ্বৃত্ত শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানপত্র তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করবেন। পদায়নকৃত পদে অন্য কোনো বিষয়ের শিক্ষক কর্মরত থাকলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে উদ্বৃত্ত শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদের বিপরীতে সমন্বয়ের ব্যবস্থা করবেন। এদিকে অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালকও একইকথা বলেছেন। জেলা থেকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাতে হবে। জেলা শিক্ষা অফিস মাউশিকে লিখিতভাবে তথ্যটি জানাবেন, তখন পদ সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা হবে। এ জাতীয় সমাধানের কথা বলছেন শিক্ষা বিভাগের অন্য কর্মকর্তারাও। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধান শিক্ষকরা কি বিষয়টি জানেন না, জেনে না থাকলে সেটিও তো একটি বিভাগীয় দুর্বলতা। দ্বিতীয়ত, মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, সাংবাদিকদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা কেন করা হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে বলেই তো জনগণ, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি জানতে পেরেছেন। শুধু বিভাগের মধ্যে আটকা থাকলে সমাধান তো হয়ই না, বরং সমস্যা আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। সংবাদকর্মীরা এ জাতীয় কিছু সংবাদ পরিবেশন করেন বলেই তো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়, তখন কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।

আমাদের শিক্ষায় যে বহুমাত্রিক সংকট চলছে, শিক্ষক স্বল্পতা তার মধ্যে একটি। কী সরকারি, কী বেসরকারি প্রায় সর্বত্র একই অবস্থা। আর একটি বিষয় আমরা জানি, মাধ্যমিক পর্যায়ে এখনো বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সেভাবে পাওয়া যায় না। কিন্তু তাই বলে কি বসে থাকতে হবে? এ পর্যায়ে বিজ্ঞান ও ইংরেজির শিক্ষক স্বল্পতা এখনো বিরাজ করছে। সরাসরি বিজ্ঞান ও ইংরেজির শিক্ষক পাওয়া না গেলে যেসব শিক্ষকের এসব বিষয়ে আগ্রহ আছে, তাদের একটি লেভেল টেস্ট নিয়ে বিষয়ভিত্তিক বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে এ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে কর্তৃপক্ষের চিন্তা করার সময় কতটা আছে, সেটি একটি বড় প্রশ্ন।

মাছুম বিল্লাহ : প্রেসিডেন্ট, ইংলিশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, সাবেক ক্যাডেট কলেজ শিক্ষক

টিভি নাটকের দর্শক কেন কমছে

বাংলাদেশ স্বাধীনের পর থেকেই নাটকপ্রিয় দর্শকের ঘরোয়া বিনোদন মাধ্যম ছিল শুধু টিভি নাটক। একটিমাত্র চ্যানেলের (বিটিভি) মাধ্যমে তখন বিনোদনের চাহিদা পূরণ করা হতো। স্বাধীনতার পর থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত টিভি নাটক দর্শকের বিনোদন চাহিদা পূরণ করে এসেছে; তবে সেগুলো সংখ্যায় ছিল একেবারেই কম। একুশ শতকের শুরুতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হলে নাটক নির্মাণের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে দর্শক সংখ্যা এবং আগ্রহও বাড়তে থাকে। আগে সাপ্তাহিক নাটক প্রচার হলেও পরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো প্রতিদিন নাটক প্রচার করতে শুরু করে। নিত্যনতুন গল্প, নির্মাণে বৈচিত্র্য এবং দক্ষ অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয়ে নাটকগুলো বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে ওঠে। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যেই টিভি নাটকের প্রসার বৃদ্ধি পায়। ফলে নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব মাধ্যমই উপকৃত হতে থাকে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই অভিনয় পেশায় নাম লেখান। এতে করে নতুন-পুরোনোর সমন্বয়ে চমৎকার এক মেলবন্ধনের মাধ্যমে টিভি নাটক একটি শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম হিসাবে বিবেচিত হতে থাকে।

সাম্প্রতিক সময় টিভি নাটক পুরোনো গৌরব হারাতে বসেছে। এর জন্য প্রায় সব পক্ষই দায়ী। বাজেট স্বল্পতা, গল্পের দুর্বলতা, অদক্ষ অভিনয়শিল্পী নিয়ে কাজ করা এবং লাগামহীন বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে দর্শক টিভি নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। ফলে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এসব দর্শক বিকল্প বিনোদনের মাধ্যম হিসাবে অনলাইনে ঝুঁকেছেন। কারণ সুবিধাজনক সময়ে অনলাইন থেকে নাটক দেখে নিচ্ছেন দর্শক। এ ছাড়া একঝাঁক তরুণ নির্মাতার সঙ্গে কিছু নামি নির্মাতাও অনলাইনের দিকে ঝুঁকেছেন। এতে করে টিভি নাটক হয়ে পড়ছে বৈচিত্র্যহীন। শুধু উৎসবকেন্দ্রিক সময়গুলোতে কিছুটা বৈচিত্র্য কিংবা দর্শকের পছন্দের কথা মাথায় রেখে নাটক প্রচারের চেষ্টা করে টিভি চ্যানেলগুলো। এ থেকে উত্তরণের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না টিভি চ্যানেল কিংবা নির্মাতাদের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে কথিত আছে, টিভির নাটকগুলোর নিয়ন্ত্রণ এখন কিছু এজেন্সির কাছে। তারাই গল্প এবং অভিনয়শিল্পী ঠিক করে দিচ্ছেন। এতে করে মানের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। অনেকেই বলেন, বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্যই এখন নাটক প্রচার করা হয়। এ নিয়ে দর্শক মহল থেকে শুরু করে প্রখ্যাত অভিনয়শিল্পীরাও বিব্রত। প্রথম সারির অভিনয়শিল্পীরাও টিভি নাটক নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ অভিনেতা আবুল হায়াত বলেন, ‘টিভি নাটকে দর্শক কমে যাওয়ার নানা কারণ আছে। কোন সময়ে নাটক প্রচার হবে সেটাই মানুষ জানে না। এর সঙ্গে বিজ্ঞাপনের যন্ত্রণা তো আছেই। এ ছাড়া নাটকের মান নিয়ে তো প্রশ্ন থেকেই যায়। এসব বিষয়ে বহুবার বলা হয়েছে। বাজেট স্বল্পতার কারণে ভালো নির্মাতারা ঠিকমতো নাটক নির্মাণ করতে পারে না। এগুলোর সুরাহা না করলে টিভি নাটকে দর্শকের আগ্রহ কমতেই থাকবে।’

নাট্যাভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু বলেন, ‘অনলাইনে নাটক প্রচারের কারণে কিছু দর্শক টিভি থেকে হয়তো সরে গেছে। এটি স্বাভাবিক বিষয়ই মনে হয় আমার কাছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। তবে টিভি নাটককে যেন আরও সময়োপযোগী করা যায়, এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার কাজ করা উচিত। তরুণ দর্শকের সঙ্গে এখন বয়স্ক দর্শকও কিন্তু অনলাইনে ঝুঁকেছেন। টিভিতে নাটক প্রচারকালীন বিজ্ঞাপন প্রচার সীমিত করতে হবে। টিভি নাটকের এ সময়ে এসে আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে এর গ্রহণযোগ্যতা আরও নিুমুখী হয়ে যেতে পারে। নাটক তো একটা বাণিজ্যিক মাধ্যমও। শিল্পসম্মত কাজের মাধ্যমে যদি এ বিজনেসটা করা হয়, তাহলে সবার জন্যই ভালো হবে।’

পুরোনো গান নিয়ে নতুন ছন্দে ফিরছেন ডলি সায়ন্তনী

নিজের গাওয়া পুরোনো গান নতুন করে কণ্ঠে তুলছেন এক সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী। তিনি জানান, প্রতিনিয়তই তার ভক্তরা পুরোনো গান নতুন করে গেয়ে প্রকাশের জন্য অনুরোধ করছেন। তাদের অনুরোধেই ‘পৃথিবীর সব সুখ’, ‘বিরহী প্রহর’, ‘নয়নে নয়ন রাখিয়া’, ‘এখনো তোমায় ভেবে’সহ আরও কিছু গান নতুন করে কণ্ঠে তুলছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ডলি সায়ন্তনী বলেন, ‘মূলত ভক্তদের অনুরোধেই কাজটি করছি। তাদের অনুরোধ তো আর ফেলতে পারব না। ভক্তদের কারণেই আজকের আমি। তাদের ভালোবাসাই আমাকে আজকের এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। তাদের জন্য না হয় পুরোনো গানগুলো নতুন করে গাইলাম।’

‘৫ ম্যাচে মিস ৯ ক্যাচ’, যা বললেন পাপন-ডমিঙ্গো

‘অল্স ওয়েল দ্যাট ইন্ডস ওয়েল’। আর শেষটা ভালো না হওয়ায় আফগানিস্তান সিরিজটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েই রইল। শুধু খারাপই নয়; সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

ব্যাটিং-ফিল্ডিং-বোলিং কোনো ডিপার্টমেন্টেই বাঘের গর্জন শোনা যায়নি।

বৃহস্পতিবারের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট হাতে ১১৫ রান করে বাংলাদেশ। ফলে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে মাহমুদউল্লাহর দলকে হারিয়েছে মোহাম্মদ নবির দল।

অন্য দিকে গোটা সিরিজে ক্যাচ মিসের মহড়া দেখিয়েছে টাইগাররা। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির ৫ ম্যাচে নয়টি ক্যাচ মিস করেছে টাইগাররা।

টাইগারদের এমন পারফরম্যান্সে যারপরনাই হতাশ নাজমুল হাসান পাপন।

বিসিবি সভাপতির মতে, মিরপুর শেরেবাংলায় শনিবারের ম্যাচে টাইগারদের শরীরীভাষা দেখে মনে হচ্ছিল ওরা খেলার মধ্যে ছিল না।

পাপন বলেন, ‘মাত্র ১১৫ রান নিয়ে আপনি ফাইট দেবেন কী করে? ১৩০- ১৪০ হলেও একটা ফাইট দেওয়া যেতো। এরপরও হতে পারে, একদিন তো হারতেই পারি।’

ম্যাচে ক্যাচ মিসের মহড়া দেখিয়েছে স্বাগতিকরা। বিষয়টিতে ভীষণ হতাশ বিসিবিবস।

তিনি বলেন, ‘এক ম্যাচে তিন-চারটা সহজ ক্যাচ ফেলে দেওয়া, এটা দেখতে খুব বাজে লাগে। হারা-জেতা বড় কথা নয় এখানে। কিন্তু যে সমস্ত ক্যাচ ফেলেছে, তাতে মনেই হচ্ছিল না, ওরা খেলার মধ্যে আছে। এটা খুবই দুঃখজনক।’

পাপনের সুরে সুর মেলালেন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তিনি বললেন, ‘এভাবে ক্যাচ মিস করা মেনে নেওয়া কঠিন।পাঁচ ম্যাচে আমরা নয়টি ক্যাচ মিস করেছি। ক্যাচ মিসের জন্য আমরা বিশ্বকাপে মাশুল দিয়েছি। এখানেও ক্যাচ মিস হলো। অনুশীলনে সবাই ভালো করে। কিন্তু ম্যাচে ভুল হচ্ছে। এখন একটা কথাই বলা যায়, আমরা উন্নতি করার চেষ্টা করব।’

গোলোৎসবে মেতে পিএসজিকে কঠিন বার্তা দিল রিয়াল

ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে যখন মেসি-নেইমার-ডি মারিয়ার মলিনতায় হারল পিএসজি, তখন স্প্যানিশ লা লিগায় জালে গোলোৎসবে মাতল রিয়াল মাদ্রিদ।

সান্তিয়াগো বার্নাবেউয়ে শনিবার রাতে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে টিকে থাকার লড়াইয়ে বুধবার রাতে পিএসজির মুখোমুখি হবে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটি। তার আগে দারুণ জয়ে মেসি-নেইমারদের কঠিন বার্তা দিয়ে রাখলেন লস ব্লাংকোসরা।

ম্যাচে লিড নিয়েছিল সোসিয়েদাদ।

১০ম মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে ডেভিড সিলভাকে ফাউল করেন রিয়ালের দানি কারভাহাল। রেফারির বাঁশিতে পেনাল্টি পায় সোসিয়েদাদ।

সফল স্পটকিকে দলকে এগিয়ে দেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল।

এই ১০ মিনিট পর্যন্তই ছিল সোসিয়েদাদের জন্য সুখকর সময়। এর পর একের পর এক গোল হজম করে মাঠ ছাড়ে সোসিয়েদাদ।

আশ্চর্যজনক হলেও সত্য ম্যাচের বাকি ৮০ মিনিটে আর একটি শটও করতে পারেনি সোসিয়েদাদ।

অন্যদিকে সব মিলিয়ে গোলের জন্য ১৮টি শট করে রিয়াল মাদ্রিদ। যার মধ্যে ৮টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর, ৪টিতে মেলে গোল।

৪০ মিনিটের মাথায় ৩৫ গজ দূর থেকে এডুয়ার্ডো কামাভিঙ্গার বুলেট শট ঠেকাতে ব্যর্থ হন সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক।

এর দুই মিনিট পরই জালে বল জড়ান করিম বেনজেমা। তবে অফসাইডের বাঁশিতে গোল মেলেনি।

এর মিনিটখানেক পরই ৩০ গজ দূর থেকে দুরন্ত গতির শট নেন লুকা মদ্রিচ, সেটি জাল স্পর্শ করে।

২-১ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় মাদ্রিদ।

দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে বেনজেমার কোনাকুনি শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক আলেক্স রেমিরো। ৬১তম মিনিটে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার আরেকটি শটও কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক।

৬৯তম মিনিটে আবারও জালে বল পাঠান বেনজেমা। এবারও রদ্রিগো অফসাইডে ছিলেন, গোল পাননি বেনজেমা।

৭৬তম মিনিটে পর ভিনিসিউস জুনিয়র ডি-বক্সে ঢুকতেই ফাউলের শিকার হন। ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি দেন রেফারি।

সফল স্পট কিকে এবার গোলভাগ্য খুলে বেনজেমার। চলতি লিগে এটি ছিল বেনজেমার ২০তম গোল।

৩-১ গোলে এগিয়ে থাকার পরও তৃপ্ত হচ্ছিলেন না কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

৭৯তম মিনিটে রদ্রিগোর বদলি হিসেবে নামা অ্যাসেনসিওর প্লেসিং শটে এক হালি পূরণ করেন।

রেফারির শেষ বাঁশিতে ৪-১ গোলের বগ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

এই জয়ের পর ২৭ ম্যাচে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেই রয়েছে রিয়াল। রিয়াল সোসিয়েদাদ সমান ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে ছয় নম্বরে। দুইয়ে থাকা সেভিয়ার ঝুলিতে আছে ২৭ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট।

গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন

গাজীপুরের ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর কোনাবাড়ী মিতালী ক্লাব উত্তরপাড়ায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে জয়দেবপুর ও কাশিমপুর ডিবিএল ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা জানান, ইউনূস আলীর গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে পাশে আরও ১১টি ঝুটের গোডাউনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আবদুল হামিদ মিয়া জানান, ওই এলাকার ইউনূস আলীর ঝুটের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের আরও ১১টি ঝুটের গুদামে ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে জয়দেবপুর ও কাশিমপুর ডিবিএল ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে রাত পৌনের ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।