রবিবার ,১৬ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 411

জাতীয় পার্টির কারো সঙ্গে জোট নাই, ৩০০ আসন দেওয়া হবে

কোনো দলের সঙ্গে জোটে নেই জানিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। জাতীয় পার্টি কারো সঙ্গে জোট নাই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩শ আসনেই প্রার্থী দেবে জাতীয় পার্টি। জনগণ আওয়ামী লীগ বিএনপির বিকল্প হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করাবে।

বুধবার সকালে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতি ও প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, সামনে সুদিন আসবে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকারের পালাবদলে দেশের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩শ আসনে প্রার্থী দেবে।

মুজিবুল হক চুন্নু আরও বলেন, দেশের ৫ কোটি মানুষ এখন বেকার। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে বেকার সমস্যার সমাধান করবে। উপজেলা পর্যায় স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন করবে। মানুষের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করা হবে।

বর্তমান সরকারের আমলে দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি ও অনাচারের কড়া সমালোচনা করে আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের আহবান জানান তিনি।

সিলেট জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির যৌথ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ও সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল হক জহির, রেজাউল হক ভূঁইয়া, এটিইউ তাজ রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন, আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, সাবেক সংসদ সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু, ভাইস চেয়ারম্যান সাব্বির আহমদ, সাবেক সংসদ সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান এহিয়া চৌধুরী এহিয়া, জাতীয় পার্টি নেতা ইশরাকুল হোসেন শামীম, আবদুস শহীদ লস্কর বশির, আব্দুর রহমান চৌধুরী, আহসান হাবীব মঈন, মো. ওসমান আলী, মোহাম্মদ মজির উদ্দিন চাকলাদার, মোহাম্মদ বশির উদ্দিন, মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, দেলওয়ার হোসেন, মৌলভী আবুল কালাম দুলাল, এম মুর্শেদ খান, এম বরকত আলী, রুনা চৌধুরী, সামসুজ্জামান বাবুল, বেলাল আহমদ, কবির আহমদ, আব্দুল করিম পাখি, তাজুল ইসলাম তাজু, আফরোজ মিয়া, মোহাম্মদ সাহেল রাজা চৌধুরী প্রমুখ।

মহানায়কের শুভ জন্মদিন আজ

আজ ১৭ মার্চ, ২০২২ সাল। বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শুভ জন্মদিন। বাংলার মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতার জন্মদিন ঘিরে দেশে-বিদেশে নানামুখী কর্মকাণ্ড গৃহীত হয়েছে।

এসব কর্মকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন যেমন গুরুত্ব পেয়েছে, তেমনিভাবে সম্মানিত হচ্ছে উদীয়মান বাংলাদেশের গণমুখী কার্যক্রম। যে মহামানবের জন্ম না হলে বাংলাদেশ পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত হতে পারত না, তাকে ঘিরে একটু অন্যরকম আনন্দ-উৎসব হবে-এটাই স্বাভাবিক। বঙ্গবন্ধুর মর্যাদা বৃদ্ধি পেলে বাঙালি জাতিও সম্মানিত হয়।

কেননা বঙ্গবন্ধুর লড়াই-সংগ্রামের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বাঙালির জীবনমান উন্নতকরণ। নিপীড়িত বাঙালির ত্রাতা হিসাবে-জননায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের আপসহীন নেতৃত্ব চিরদিন বাঙালি জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

বঙ্গবন্ধুই বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ পরিচয়। পঁচাত্তর-পরবর্তী দীর্ঘ একুশ বছর এ পরিচয়চিহ্ন মুছে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়েছে; কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নাম কোনোদিনই মুছে যাওয়ার নয়।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপন ক্রমে ক্রমে সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য আনন্দঘন উৎসবে পরিণত হচ্ছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মৌখিকভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন করার প্রস্তাব উত্থাপন করি।

আমার প্রস্তাব ছিল ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত বছরব্যাপী জন্মোৎসব পালন। কিছুদিন পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাবের সঙ্গে তার নিজের কিছু পরিকল্পনা যুক্ত করে তিনি এটাকে ২০২০-২০২১ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেন।

এর ফলে দুটো সুবিধা হয়েছে, একটি হলো-সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন, অন্যটি হলো-স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন।

এ দুটি বিষয়ের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। সুতরাং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে চিন্তা থেকে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করেছেন এবং যে সময় তিনি নির্ধারণ করেছেন (২০২০-২০২১) তা যথার্থই হয়েছে।

বিশ্ব এখনো করোনা মহামারির ভয়ংকর থাবা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। করোনার কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের উৎসব কিছুটা ধীরগতিতে হয়েছে বটে; আশা করি, এবার ১৭ মার্চের কর্মসূচি বর্ণাঢ্য ও সফল হবে।

শেখ মুজিব আজ শুধু আর বঙ্গবন্ধু নন, তিনি এখন বিশ্ববন্ধু। তার চিন্তা-চেতনা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা পৃথিবীর মানুষকে চমকিত করেছে, তার মতো সাহসী ও আপসহীন নেতা শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

এ কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা, যেমন-ইউএনও, ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুকে সম্মানিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে এসব আন্তর্জাতিক সংস্থা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ১২ ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেছে।

ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর নামে শান্তিপদকও ঘোষণা করেছে। ইউনেস্কো বিশ্বের শোষিত মানুষের মুক্তির দূত বঙ্গবন্ধুর নামে শান্তিপদক ঘোষণা করে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই আমি বিশ্বাস করি।

বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু শোষিত মানুষের পক্ষেই লড়াই করে গেছেন। এ কারণেই তিনি বাংলাদেশের কৃষক-শ্রমিককে যুক্ত করে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠন করে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। আজকের বিশ্বব্যবস্থায় ‘শোষিতের গণতন্ত্র’ই নিরন্ন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারে, বঙ্গবন্ধু অনেক আগেই এ কথা ভেবেছিলেন।

এজন্যই তিনি ‘শোষিতের গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বাংলা সত্যিকার অর্থেই সোনার বাংলা হয়ে উঠত। ঘাতকের দল বঙ্গবন্ধুকে সেই সুযোগ না দিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। এর ফলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ, মুখ থুবড়ে পড়ে বঙ্গবন্ধুর আজন্মলালিত স্বপ্ন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার প্রদর্শিত পথেই নিরলসভাবে হেঁটে চলেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে বাংলাদেশ সর্বদিক থেকেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নয় লক্ষ গৃহহীন পরিবারকে গৃহপ্রদান করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি ঐতিহাসিক কাজ করেছেন।

বাংলার মানুষ না খেয়ে থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না, তারা ভাত-কাপড়-বাসস্থান সবকিছুই পাবে-তাদের মুখে একদিন হাসি ফুটবে-এমন স্বপ্নই খেলা করত বঙ্গবন্ধুর চোখে। বঙ্গবন্ধু তার স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে না পারলেও তার কন্যা বঙ্গবন্ধুর অসম্পূর্ণ কাজগুলো নানান প্রতিকূলতার মধ্যেও ধীরে ধীরে সম্পন্ন করছেন। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এ কথা বলাই যায়, লড়াকু বাঙালি জাতিকে আর দাবায়ে রাখা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।

বঙ্গবন্ধু আমাদের দিশারি। বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করে আমরা সৎ হতে পারি, সচেতন হতে পারি, দক্ষ কর্মী ও দেশপ্রেমিক হয়ে দেশকে গড়ে তুলতে পারি। এ কথা এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে, বঙ্গবন্ধুই আমাদের ঐতিহ্য, বঙ্গবন্ধুই আমাদের ভবিষ্যৎ। বঙ্গবন্ধু আমাদের মঙ্গলের জন্য, দেশের কল্যাণের জন্যই জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু প্রদর্শিত পথে অগ্রসর হয়ে যদি আমরা এ দেশে শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি, যদি এ দেশের নিপীড়িত জনগণের জন্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তবেই বঙ্গবন্ধুর আত্মদান সার্থক হবে। আর এ কার্যসাধনে বঙ্গবন্ধুর অমলিন স্মৃতিই হবে আমাদের পথপ্রদর্শক। আজ যদি আমরা বঙ্গবন্ধুকে ভুলে যাই, তার আদর্শ থেকে বিস্মৃত হই, তবে যে জাতি হিসাবেই আমাদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়ে পড়বে তা-ই নয়, পৃথিবীর জন্যও তা এক মহাক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের শোষিত ও নিপীড়িত জনগণের জন্য প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যেসব বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা সারা পৃথিবীর মানুষের জন্যই শিক্ষণীয় ও অনুকরণীয় বিষয়।

এতদিন আমাদের মুজিবপ্রেম ছিল অনেকটা লোকদেখানো বিষয়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে তা মননে ঢুকতে শুরু করেছে। এটি শুভ লক্ষণ। আগে বঙ্গবন্ধুর জন্ম ও শাহাদত দিবসে নেতাকর্মীরা মাইক বাজাত, তোরণ বানাত আর খিচুড়ি খেত, এখন এ প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রচনা প্রতিযোগিতা, কুইজ ও নানামুখী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। আজ বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর হয়েছে, প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘আমার দেখা নয়া চীন’। তার এবং স্বাধীনতার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হচ্ছে নানারকম ভাস্কর্য ও স্মৃতিসৌধ, যেমন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্লাসটাওয়ার, শিখা চিরন্তন, বঙ্গবন্ধু মুজিবের জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ইত্যাদি। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর সমাধির যে চেহারা ছিল আজ তা নেই। তার বাড়ির ভাঙা দরজাও আজ বদলে গেছে। এ ছবিগুলো আছে ‘হু কিলড মুজিব’ আর ‘বাংলাদেশের সমাজবিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন’ গ্রন্থে। ছবিগুলো সে সময় দিল্লিতে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত দিয়েই ‘হু কিলড মুজিব’ গ্রন্থের লেখক এএল খতিবের (আবদুল লতিফ খতিব) হাতে পৌঁছেছিল। ছবিগুলো সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমারও কিছু ভূমিকা ছিল। কিন্তু আমাদের শুধু এখানেই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললে হবে না, আরও ব্যাপকভাবে কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত কর্মীরা কেউ মাথায় পাগড়ি বেঁধে ফেরিওয়ালা হয়ে পালিয়েছিল, কেউ স্বেচ্ছায় গ্রেফতার হয়েছিল ঘরের মধ্যে বসে থেকে। আমার ভয় হয়, আবার যদি ১৫ আগস্টের মতো কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের অবস্থা কী হবে? আমরা আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সাংস্কৃতিক শুদ্ধতা নিয়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাবেন।

আজকের সভ্য মানুষ সমঅধিকারে বিশ্বাস রাখার পাশাপাশি চাচ্ছে শান্তিপূর্ণ সুখী জীবন। একটি শান্তিপূর্ণ জীবন পেলে, সার্বিক নিরাপত্তা পেলে ব্যক্তিমানুষের আর কোনো আকাক্সক্ষা থাকে না। জোর করে কোনোকিছু চাপিয়ে দিয়ে প্রগতিকে রোধ করা যায় না। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্ব এগিয়ে যাবে, তবে নতুন বিশ্ব কোন্ পথে চলবে, নতুন দিনের সমাজতাত্ত্বিকদের সেই কথাটাই ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে আবেগকে প্রাধান্য না দিয়ে যুক্তিকেই মূল্য দিতে হবে। পৃথিবী অতীতে দুটি বিশ্বযুদ্ধ, সমাজতন্ত্র, ধনতন্ত্র ও সাম্রাজ্যবাদের রক্তাক্ত ইতিহাস প্রত্যক্ষ করেছে, ভবিষ্যতে সমাজতন্ত্রের কাল্পনিক কাব্যকথা শুনতে মানুষ রাজি নয়। পৃথিবীব্যাপী মানুষ আজ একটি মানবিক বিশ্বব্যবস্থা ও আইনের শাসন কামনা করছে। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেই গড়ে তোলা সম্ভব হবে আগামী দিনের সুখী, সমৃদ্ধিশালী, সুন্দর পৃথিবী।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাঙ্ক্ষিত মহামানব যখন ধরণির বুকে পদার্পণ করেন, তখন দিকে দিকে রোমাঞ্চ সঞ্চারিত হয়, মর্ত্য-ধূলির ঘাসে ঘাসে জাগে প্রাণপ্রবাহ। বাংলার মহাকালজয়ী মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মমুহূর্তেও নতুন করে সেজেছিল বাংলার প্রাণ-প্রকৃতি। তার আবির্ভাবে নিপীড়িত বাংলা পীড়ন থেকে মুক্তি পায়, স্বাধীনতার আনন্দে উদ্ভাসিত হয় বাংলার উর্বর প্রান্তর। যে মহামানবের আপসহীন সংগ্রাম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব বিশ্বের বুকে নতুন পরিচয়ে বাঙালিকে পরিচিত করে, শুভ জন্মতিথিতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

মোনায়েম সরকার : রাজনীতিক, লেখক; মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ

জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন।

প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এ বছরের জাতীয় শিশু দিবস ২০২২-এর প্রতিপাদ্য ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অঙ্গীকার, সব শিশুর সমান অধিকার’।

এ ছাড়া জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘টুঙ্গিপাড়া: হৃদয়ে পিতৃভূমি’ প্রতিপাদ্যে টুঙ্গিপাড়ায় দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় সভাপতি হিসাবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অনুভূতি প্রকাশ করবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শিশুদের প্রতিনিধির বক্তব্য— মুজিববর্ষের থিম সং, অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রদর্শন ও শিশুশিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে। সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ মাঠ, টুঙ্গিপাড়ায় ২১-২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে মুজিববর্ষ লোকজ মেলা।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষ্যে মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসাবে বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সকাল ৮টায় তেজগাঁও গির্জায়, সকাল ৯টায় মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ (৩/৭-এ সেনপাড়া, পবর্তা, মিরপুর-১০)-এ খ্রিস্টান সম্প্রদায়, সকাল ১০টায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং বেলা ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনাসভার আয়োজন করেছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোয় দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন হচ্ছে। দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের পক্ষ্য থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতির পিতার সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের ১নং গেটসংলগ্ন প্রাঙ্গণে এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ ১৭ মার্চ। ১৯২০ সালের এই দিনে রাত ৮টায় তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান।

তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা শেখ সায়েরা খাতুন। ৪ কন্যা এবং ২ পুত্রসন্তানের মধ্যে আদরের মুজিব ছিলেন তৃতীয়। মা-বাবা ডাকতেন ‘খোকা’ বলে। যিনি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির ‘মুজিব ভাই’, ‘বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘জাতির পিতা’।

তার হাত ধরেই আসে বাঙালির স্বাধীনতা, জন্ম নেয় বাংলাদেশ। মাত্র ৫৫ বছর বয়সে হায়েনার দল কেড়ে নেয় তার প্রাণ। ঘাতকরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে তার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল; কিন্তু পারেনি। জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু আরও শক্তিশালী ও তেজস্বী। তিনি চিরভাস্বর হয়ে আছেন প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভি পদত্যাগের স্রোতে আঘাত করেছে

ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং এর চারপাশে প্রচারের নিন্দা জানিয়ে সোমবারের রাতের খবরে যখন মেরিনা ওভস্যানিকোভা রাশিয়ান লিভিং রুমে ফেটে পড়ে, তখন তার প্রতিবাদ রাশিয়ার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র-চালিত টিভি থেকে পদত্যাগের একটি শান্ত কিন্তু স্থির প্রবাহকে তুলে ধরে।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার প্রচার পদ্ধতির জন্য কাজ করছেন এমন কাউকে পদত্যাগ করার জন্য আবেদন করেছেন। তিনি সতর্ক করে দেন যে কোনো সাংবাদিক যাকে তিনি ক্ষমতার চতুর্থ শাখা হিসেবে অভিহিত করেন তাতে নিষেধাজ্ঞা এবং “যুদ্ধাপরাধের ন্যায্যতা প্রমাণ করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল” ঝুঁকিপূর্ণ।

রাষ্ট্র পরিচালিত টিভিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে বড় চিয়ারলিডারদের মধ্যে কয়েকজন ইতিমধ্যেই নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ভ্লাদিমির সলোভিভ যিনি রাশিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যানেল রসিয়া-1-এ একটি টক শো উপস্থাপন করেন এবং মার্গারিটা সিমোনিয়ান যিনি এই সময়ে রাশিয়ান হওয়ার জন্য লজ্জিত কাউকে অভিযুক্ত করেছেন। সত্যিই রাশিয়ান হচ্ছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্র-চালিত চ্যানেলগুলিকে ক্রেমলিন লাইনে আঙুল দিতে হবে, তাই যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় কে পদত্যাগ করেছে?

মারিনা ওভস্যানিকোভা-এর অন-স্ক্রিন প্রতিবাদের কয়েক ঘণ্টা পর, তিনটি পদত্যাগ প্রকাশ্যে আসে।

চ্যানেল ওয়ানের সহকর্মী জান্না আগালাকোভা ইউরোপ সংবাদদাতা হিসাবে তার চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং দুই সাংবাদিক প্রতিদ্বন্দ্বী এনটিভি ছেড়েছেন। লিলিয়া গিলদেয়েভা 2006 সাল থেকে উপস্থাপক হিসাবে চ্যানেলের জন্য কাজ করেছিলেন এবং ভাদিম গ্লুস্কার প্রায় 30 বছর ধরে এনটিভিতে ছিলেন।

সঙ্কটের মূহূর্তে বিশ্বনেতার ভূমিকা নিন, আমেরিকার কংগ্রেসে আর্জি জেলেনস্কির

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্বে পার্ল হারবারে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে হামলা এবং ৯/১১ সন্ত্রাসের সঙ্গে ইউক্রেনে রুশ হানাদারির তুলনা করলেন ভোলাদিমির জেলেনস্কি। বুধবার আমেরিকার কংগ্রেসে ভার্চুয়াল বক্তৃতায় জো বাইডেন এবং ওয়াশিংটনের কাছে ‘সঙ্কটের মুহূর্তে বিশ্বনেতার ভূমিকা’য় অবতীর্ণ হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

পার্ল হারবারের ঘাঁটিতে জাপানি হামলার পরেই সক্রিয় ভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল আমেরিকা। দু’দশক আগে নিউ ইউর্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আল কায়দা হানা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পেন্টাগনের লড়াইকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল।

রুশ বাহিনীর হামলায় রাজধানী কিভ-সহ ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার ক্যাপিটল কমপ্লেক্সে আমেরিকার আইন প্রণেতাদের কাছে জেলেনস্কির আবেদন, ‘‘আমাদের এখনই আপনাদের সাহায্যের প্রয়োজন।’’ আমেরিকার প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘আপনার কাছে আমাদের আবেদন, শান্তি ফেরাতে রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক আঘাত হানা প্রয়োজন।’’

যুদ্ধের সূচনাপর্বে জেলেনস্কি আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোর কাছে রুশ হামলা ঠেকাতে ‘সামরিক সক্রিয়তা’র আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের ২২তম দিনে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে শান্তি ফেরানোর উপরেই জোর দিতে চেয়েছেন তিনি। কিভ থেকে আমেরিকার কংগ্রেসে তাঁর ভার্চুয়াল বক্তৃতার পরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর স্পিকার ন্যান্সি পোলেসি বলেন, ‘‘ভোলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেনের গর্ব।’’

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের নিন্দা করলেও যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে চায় না আমেরিকা। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাইডেনের এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ। প্রথম কারণ অর্থনীতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সব চেয়ে বড় এই যুদ্ধে অংশ নিলে অতিমারিতে বিধ্বস্ত আমেরিকার অর্থনীতি আরও টাল খাবে। আমেরিকার কোনও সীমান্তও নেই ইউক্রেনের। তা ছাড়াও, আমেরিকা কূটনীতিকদের ব্যাখ্যা, রাশিয়া ও আমেরিকার মতো দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র যুদ্ধে লিপ্ত হলে তার ফল আখেরে সারা বিশ্বের পক্ষেই ক্ষতিকর হবে।

 

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবি) অডিট ও আইসিসি কনফারেন্স সম্পন্ন

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবি) অডিট ও আইসিসি কনফারেন্স ২০২২ গত ১৪ মার্চ ২০২২ তারিখে ঢাকার স্থানীয় একটি হোটেলে সম্পন্ন হয়। কনফারেন্সের মূল লক্ষ্য ছিল আর্থিক ঝুঁকি প্রশমনে একটি কার্যকর নিরীক্ষা ও পরিপালন সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন ইউসিবি’র অডিট কমিটির চেয়ারম্যান জনাব আখতার মতিন চৌধুরী; ইউসিবি’র স্বতন্ত্র্য পরিচালক ড অপরুপ চৌধুরী; ইউসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জনাব আরিফ কাদরী; ইউসিবি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব আইসিসিডি জনাব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম এবং ইউসিবি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি জনাব এ টি এম তাহমিদুজ্জামান এফসিএস সহ অডিট ও আইসিসিডির বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ।

টেলিটক মোবাইল ডাটা ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান টেলিটকে ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।এই অপারেটরে ইন্টারনেট ডাটা প্যাকেজে মেয়াদের সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিটিআরসি মিলনায়তনে মোবাইল অপারেটরদের ডাটা ও ডাটা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্যাকেজ সম্পর্কিত নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিষয়ক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

আগামী ১৭ মার্চ থেকে টেলিটক এটি কার্যকর করবে। ফলে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে আর ডাটার মেয়াদ শেষ হবে না। অর্থাৎ যত দিন ব্যালেন্স থাকবে, ততদিন ব্যবহার করা যাবে।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, বিশ্বে এই প্রথম মোবাইল ডাটার কোনো মেয়াদ রাখার সীমাবদ্ধতা থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে এলো। টেলিটকের পর অন্য অপারেটরগুলোও পর্যায়ক্রমে এটি চালু করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডাটার মেয়াদ তুলে দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার ডাটা আমি ব্যবহার করব, যতদিন ব্যালেন্স থাকবে ততদিন করব- গ্রাহকদের এটাই দাবি। আমরা সেই দাবিই বাস্তবায়ন করছি।’

বেলা বুঝি এবার ফুরালো

বইমেলায় চলছে শেষ মুহূর্তের বিক্রি। এখনো বিকালে পাঠকরা মেলায় আসছেন। অনেকের এখানে এসে বইয়ের সঙ্গে সময় কাটানোটা এই অল্প সময়ে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বেলা বুঝি এবার ফুরালো। বইমেলায় বিদায়-রাগিণী বেজে উঠেছে।

সেখানে এখন তাই ভাঙনের সুর। প্রকাশনাগুলোর প্যাভিলিয়ন স্টলে শেষ মুহূর্তেই বিক্রির পাশাপাশি মেলা শেষে কিভাবে কাঠামো ভেঙে ফেলবে, কিভাবে বই যার যার অফিসে নিয়ে যাওয়া হবে সেই আলোচনাও হচ্ছে।

মঙ্গলবার বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে গিয়ে দেখা যায়, বিকাল হতেই বেশ অনেক মানুষ আসতে শুরু করেছেন। এদিন সোমবারের তুলনায় পাঠকের অংশগ্রহণ বেশি ছিল। এসেছিলেন লেখকরাও। মেলার ছোট-বড় প্রতিটি প্যাভিলিয়ন ও স্টলেই টুকটাক বিক্রি চলছিল।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে এ বইমেলা আমাদের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, এই বইমেলাকে কেন্দ্র করে তরুণদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস জানার আগ্রহ হোক, তরুণরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করুক, তাই হবে বইমেলার সফলতা। মঙ্গলবার বিকালে একুশে বইমেলায় গ্রন্থ উন্মোচন মঞ্চে রাজনীতিক রাশেক রহমান রচিত ‘প্রণয়ের রাজনীতি’, কৃষিবিদ সালেহ মোহাম্মদ রশীদ অলক গ্রন্থিত ‘গণমাধ্যমে হাতেখড়ি’, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী অবলম্বনে তথ্য ক্যাডার কর্মকর্তা আফরোজা নাইচ রিমার কাব্যগ্রন্থ ‘শতবর্ষে শত কবিতা’, কবি সৌমিত্র দেব সম্পাদিত প্রবন্ধ সংকলন ‘বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ’ এবং সাংবাদিক সাজেদা পারভীন সাজুর কাব্যগ্রন্থ ‘অপেক্ষা’র মোড়ক উন্মোচন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুসহ আরও অনেকে।

এদিন সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসাবে বঙ্গবন্ধু-মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন বিষয়ক ১০টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সবগুলো বই-ই প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী। বইগুলো হলো আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ‘ইডিপাশের গল্প এবং বাংলাদেশ’, ড. মেসবাহ কামাল সম্পাদিত ‘একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবী : মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নির্মাণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড, আনোয়ারা সৈয়দ হকের ‘বঙ্গমাতা ও দুই কন্যার কথা’ এবং ‘রাসেল তার আব্বুর হাত ধরে হেঁটে যায়’, ‘মোনায়েম সরকার রচনাবলি প্রথম খণ্ড; বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ’, অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদারের ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নপূরণে সুশাসন’, বিভুরঞ্জন সরকারের ‘বঙ্গবন্ধু : ইতিহাসের নির্মাতা’, ড. এম আবদুল আলীমের ‘রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলন : জেলাভিত্তিক ইতিহাস’ এবং সিরাজুল ইসলাম মুনিরের ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি’। কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গণিসহ আরও কয়েকজন লেখক এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।

মঞ্চের আয়োজন : বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘ভাষাসংগ্রামী অজিত কুমার গুহ : জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।

প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসান ইমাম মজুমদার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাফর ওয়াজেদ, মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন এবং রাজীব সরকার। সভাপতিত্ব করেন বেগম আকতার কামাল।

প্রাবন্ধিক বলেন, পূর্ববাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম অজিত কুমার গুহ। শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে, মানবতার মূল্যবোধ ও সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আমৃত্যু লড়াই করে ইতিহাসে নিজের আসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। প্রগতিশীল চিন্তার বাহক, মুক্তমনের অধিকারী, আপসহীন, দৃঢ়চেতা, আদর্শবাদী, বুদ্ধিজীবী, বাগ্মী, শিক্ষাবিদ প্রভৃতি যে বিশেষণেই বিশেষিত করা হোক না কেন, তার অন্যতম প্রধান পরিচয় ভাষাসংগ্রামী অজিত কুমার গুহ। যে-কোনো রাষ্ট্রিক-সামাজিক বিপর্যয়ে ভাষা-আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী অধ্যাপক অজিত কুমার গুহর সাহসী অবস্থান লক্ষণীয়।

আলোচকরা বলেন, খুব তরুণ বয়স থেকেই অজিত কুমার গুহর মধ্যে স্বাধীনচেতা, অসাম্প্রদায়িক এক আদর্শ গড়ে উঠেছিল। নিজের মূল্যবোধ ও আদর্শ থেকে তিনি কখনও বিচ্যুত হননি। তিনি এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করতে চেয়েছিলেন যারা দেশ, দেশের মানুষ এবং শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিকে ভালোবাসবে। নতুন প্রজন্মের সামনে অধ্যাপক অজিত কুমার গুহর আলোকিত জীবন ও মূল্যবান রচনা তুলে ধরতে পারলে জাতি উপকৃত হবে।

বেগম আকতার কামাল বলেন, ছাত্রদের মধ্যে আদর্শ একটি জীবনচেতনা গড়ে তোলাই ছিল অজিত কুমার গুহর শিক্ষক জীবনের লক্ষ্য। অসাম্প্রদায়িক চেতনার এ বিরল মানুষ বহু অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছেন। মানবতাবাদী, দেশপ্রেমী ও উদার মানসিকতার অধিকারী অজিত কুমার গুহ যে আদর্শ আমাদের সামনে রেখে গেছেন তা অনুসরণ করেই আগামীর পথে অগ্রসর হতে হবে।

এদিন ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন আহমাদ মোস্তফা কামাল।

অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি রাম চন্দ্র দাস, মোতাহের হোসেন মাহবুব, আয়শা জাহান নূপুর এবং ইসমাত শান্তি। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান, সুবর্ণা আরফীন, নাসিমা খান বকুল, ফারজানা করিম এবং রুমা সরকার। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল ফয়জুল্লাহ সাঈদের পরিচালনায় আবৃত্তি সংগঠন ‘ঢাকা স্বরকল্পন’, অতনু করণজাইয়ের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ভোলা থিয়েটার’, মো. মাসুম হুসাইনের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘পরম্পরা নৃত্যালয়’ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন সুফী ব্যান্ড ‘আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া’র পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সাধিকা সৃজনী তানিয়া।

নতুন বই : মঙ্গলবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১২১টি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশ হয়েছে আসাদুুদ জামানের ‘রাহাতের রাত দিন’, অবসর থেকে মলয় পাঁড়ে অনূদিত আবদুলরাজাক গুরনাহের ‘প্যারাডাইস’, পলল প্রকাশনী থেকে খান মাহবুবের ‘পূর্বাপরে আফগানিস্তান’, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন থেকে তুষার কবিরের ‘প্রেম সংক্রমণ’। শান্তির প্রবেশ এনেছে রাসেল আশিকীর তিনিট বই ‘নামহীন মহাকাব্য’, ‘ভালোবাসার সিলমোহর’ ও ‘ভাবতরঙ্গের আলো’, বাংলা একাডেমি এনেছে তানভীর আহমেদ সিডনীর ‘বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি চেতনা, বীরেন মুখার্জির ‘বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা’, সুবর্ণ এনেছে মুনতাসীর মামুনের ‘একাত্তরে গানে গানে জাগরণী’, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি এনেছে ফকর উদ্দিন তালুকদার, মো. খালিদ আওরঙ্গজেব ও খলিল আহমদ সম্পাদিত ‘ছাদকৃষির সহজপাঠ’ ও ‘পশুপাথি পালনের সহজপাঠ’, আরডিএম মিডিয়া এনেছে মো. জিহাদ সরকারের ‘একজন জিন্নাহ ভারত-পাকিস্তান স্বাধীনতা’, বইঘর এনেছে মুহম্মদ নূরুল হুদার ‘আয় দুখু আয়’, অয়ন প্রকাশন এনেছে দিলু খন্দকারের ‘ক্রীড়া সাংবাদিকতায় চার দশক’, পুথিনিলয় এনেছে ইমরান-উজ-জামানের প্রবন্ধ ‘বাংলাদেশের মেলা পার্বণ’।

এক মাসের মেলা আরও সুসংস্কৃত হওয়া উচিত

আমি চট্টগ্রামে থাকি। তাই প্রতিদিন অমর একুশে বইমেলায় আসার সৌভাগ্য হয় না। কিন্তু বইমেলাকে উপলক্ষ্য করেই এ সময়টাতে দু-একবার মেলা প্রাঙ্গণে আসা হয়। প্রতিবারই বইমেলাকে আমার কাছে নতুন মনে হয়। যেহেতু দূরে থাকি।

দূরের জিনিসের প্রতি মানুষের এক ধরনের দুনির্বার আকর্ষণ থাকে। ঢাকায় যারা থাকেন নিত্যদিনের দেখার কোনো একটা চমৎকার জিনিসও হয়তো কখনো ম্লান মনে হয় তাদের। কিন্তু আমরা যারা দূরে থাকি তাদের কাছে আকর্ষণটা ভিন্ন। এ দূরে থাকার কারণেই বইমেলার প্রতি এক ধরনের প্রীতি ও ভালোবাসা আছে। এ কারণে বইমেলায় বারবার আসি। মেলার অনেক ত্রুটির কথা জেনেও যে কদিন থাকি, মেলাকে উপভোগ করি আনন্দের সাথে।

তবে এটি বললে ঠিক হবে না যে, এবারের বইমেলা সর্বার্থেই ভালো হয়েছে। দিনে দিনে আমাদের উন্নতি হচ্ছে। সেটা রাষ্ট্রীয়, অবকাঠামো, শিক্ষার ক্ষেত্রে। লেখালেখির ক্ষেত্রেও হচ্ছে। সেদিক থেকে বলতে গেলে বইমেলার যে উত্তরণ, সেটাও হওয়া উচিত। গতবছর মেলায় বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি। সুন্দর করে মেলামাঠে ইট বিছানো ছিল। বেশ কয়েকবার পানি ছিটাতেও দেখেছি। কিন্তু এবার সেরকম কিছু চোখে পড়েনি। মেলায় অনেক ধুলোবালি উড়ছে। অনেক জায়গায় ইট বিছানো নেই। আবার অনেক স্টলে ইট এমন অগোছালোভাবে বিছানো হয়েছে তাতে কাউকে কাউকে হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতে দেখেছি।

আরেকটি বিষয় বলতেই হয়। অনেকে বিশেষ করে মধ্যবয়সি ও বয়স্ক মানুষ দূরদূরান্ত থেকে আসেন। নানা কারণে ওয়াশরুম ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে তাদের। কিন্তু এবার সেখানে বেশ নোংরা অবস্থা দেখেছি। মেলায় আগতদের বসার জন্য ভালো ব্যবস্থা এবার করা হয়নি। কিছু সাদা বেঞ্চ দেওয়া হলেও সেগুলো মিডিয়ার মানুষদের ব্যবহারের জন্যই ছিল বলে মনে হয়েছে। অল্প-বয়সিরাই সেগুলো দখলে রেখেছেন। কিন্তু বয়স্ক বা মধ্যবয়সি মানুষের জন্য পুরো মেলায় যে বসার ব্যবস্থা তা নেই। তারা ক্লান্ত হয়ে গেলে কোথাও একটু শান্তি নিয়ে বসবেন সে জায়গা নেই।

বইয়ের দোকানগুলো খুঁজে নেওয়াটা খুব কঠিন হয়ে গেছে। একদিন আমি নিজেও প্রয়োজনে দুটি স্টল খুঁজে বের করতে পারিনি। তারপর আরেকদিন গিয়ে খুঁজে পেয়েছি।

তবে বইমেলার যে বিস্তৃতি সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসার। সেই বিস্তৃতির সঙ্গে বসায় জায়গা, পানি ছিটিয়ে ধুলো নিয়ন্ত্রণ, পরিছন্ন ওয়াশরুম, সুন্দর করে সব জায়গায় ইট বিছানো বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। যে বইমেলার সঙ্গে গোটা বাঙালির চিন্তা ও ভালোবাসা জড়িয়ে আছে এবং প্রতিবছর হয় সেটা এক মাসের জন্য কেন সুসংস্কৃত হবে না। আরামপ্রদ হবে না। মনে রাখতে হবে, এখানে যারা আসেন তারা বইয়ের টানেই আসেন।

সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে ছাত্রলীগের ঢুকতে মানা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অধ্যক্ষ জহুরুল আলম এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে অভিযাগ করেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুল ইসলাম রাব্বী।

সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে মঙ্গলবার বেলা ১২টায় ফেসবুক লাইভে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন ছাত্রলীগ নেতা রাব্বী ও সংগঠনের অন্য সদস্যরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ভিডিটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে।

সাড়ে চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায় কলেজে ঢুকতে না পেরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা অধ্যক্ষের দুর্নীতি, ভর্তির অতিরিক্ত ফি আদায়, কলেজ ড্রেস বানানোর নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও স্বেচ্ছাচারিতার সমালোচনা করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

রাব্বী অভিযোগ করে বলেন, ‘অধ্যক্ষ জানেন ক্যাাম্পাসে ছাত্রলীগ থাকলে তার দুর্নীতির গোমর ফাঁস হয়ে যাবে। তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার জন্য দুদক একটি চিঠিও দিয়েছে ।’

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রলীগ করার কারণে সাধারণ ছাত্ররাও এ কলেজে ঢুকতে পারে না।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয় বলেন, ‘সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বছর খানেক আগে বিলুপ্ত করা হয়েছে।’

অধ্যক্ষ জহুরুল আলম বলেন, ‘আমার কলেজে ছাত্রলীগের কোন কমিটি নেই। আজ যারা এসেছিলো তারা বহিরাগত। খেলাধূলার একটা অনুষ্ঠান ছিল। বহিরাগত ও অছাত্ররা চেয়েছিলো কলেজে ঢুকে সেই অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে। তারা আমাকেও আক্রমণ করতে চেয়েছিল। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও তা জানে।’

পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, ‘সকালে সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে লোকজন জড়ো হয়েছে শুনে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’