রবিবার ,১৬ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 410

নাসিরুদ্দিন শাহর ভাতিজি সায়রা উপনির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী

বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহর ভাতিজি সায়রা শাহ হালিম এবার কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে নাম লেখালেন।

পশ্চিমবঙ্গের বালিগঞ্জ আসনের উপনির্বাচনে বাম মনোনীত সিপিএম প্রার্থী হচ্ছেন তিনি। বুধবার দুপুরে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে নাম ঘোষণার পরে সন্ধ্যাতেই প্রচারে নেমে পড়ছেন সায়রা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

আগে স্বামীর হয়ে নির্বানী প্রচারে অংশ নিয়েছেন তিনি। কিন্তু এবার নিজেই প্রার্থী হয়ে যাওয়ার পরে এই লড়াইটাকে ‘ভীষণ চ্যালেঞ্জিং’ মনে হচ্ছে।

সায়রার কলকাতাতেই জন্ম। কিন্তু লেখাপড়া, বড় হওয়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে।ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী সায়রা কাজ চালানোর মতো বাংলা বলতে পারেন।

সায়রা অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের ভাতিজি। তার বাবা জমিরুদ্দিন শাহ ছিলেন ভারতীয় সেনা বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল।

সৈনিক বাবার মেয়ে হিসেবে ছোটবেলাটাই কেটেছে দেশের নানা প্রান্তে ঘুরে ঘুরে। একেবারে ছেলেবেলাটা কেটেছে কলকাতার রেস কোর্সের কাছে সেনা কোয়ার্টারে।

এর পরে জমিরুদ্দিন মেয়েকে ভর্তি করে দেন উটির লরেন্স স্কুলে। সেখানে পাঠ শেষ হতে না হতেই সায়রার বাবা ভারতীয় কূটনীতিক হিসেবে সৌদি আরবে চলে যান।

ফলে সায়রা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন রিয়াদের এক স্কুলে। এর পরে কলেজ আবার রাজস্থানের অজমেরে। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী সায়রা নিজের জন্ম শহর কলকাতায় ফেরেন বিবাহসূত্রে।

রেফারিকে চশমা পরতে বললেন রোনাল্ডো

গত সপ্তাহে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে মেসির পিএসজি। মঙ্গলবার রাতে রোনাল্ডোর ম্যানইউকেও শেষ ষোলো থেকে বিদায় করে দিল রিয়ালের পড়শি আতলেতিকো মাদ্রিদ।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রিয় প্রতিপক্ষের গোলমুখে কোনো শটই নিতে পারেননি টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনাল্ডো। ম্যানইউর ডেরায় ১-০ গোলে জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ গোলের অগ্রগামিতায় কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে দিয়েগো সিমিওনের দল। এই হারে নিশ্চিত হয়ে গেল ম্যানইউর পাঁচ বছরের শিরোপাখরা এবারও কাটছে না।

আতলেতিকোর মাঠে প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ফিরতি ম্যাচে ম্যানইউ আক্রমণের ঝড় তুললেও কাজের কাজটা করে আতলেতিকো। ৪১ মিনিটে গ্রিজমানের ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান গড়ে দেওয়া একমাত্র গোলটি করেন ব্রাজিলীয় ডিফেন্ডার রেনান লোদি। গোলের আগে ম্যানইউর অ্যান্থনি এলাঙ্গা ফাউলের শিকার হয়েছেন ভেবে খেলা থামিয়ে দিয়েছিলেন রোনাল্ডোরা। কিন্তু বৈধ ট্যাকলের কারণে রেফারি ফাউল ধরেননি। সুযোগটা লুফে নেয় আতলেতিকো। রাগে, ক্ষোভে রেফারির দিকে তেড়ে গিয়ে তাকে চশমা পরতে বলেন রোনাল্ডো। আরেক ম্যাচে আয়াক্সকে তাদেরই মাঠে ১-০ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলের অগ্রগামিতায় শেষ আটে আতলেতিকোর সঙ্গী হয়েছে বেনফিকা।

রাজার কাছে হাফিজের হার

জাতীয় দলের সঙ্গে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ দক্ষিণ আফ্রিকায়। আগেরদিন ঢাকায় আসা মোহাম্মদ হাফিজের সঙ্গে সৌম্য সরকারদের নিয়ে মাঠে নামা মোহামেডান ‘শাইন’ করতে পারেনি নিজেদের প্রথম ম্যাচে।

শাইনপুকুরের কাছে ৪১ রানে হেরে এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) শুরু করল তারা। দিনের অপর ম্যাচে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ছয় উইকেটে হারিয়েছে খেলাঘর কল্যাণ সমিতিকে।

বুধবার মিরপুর শেরেবাংলায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শাইনপুকুর ২৫০ রান তোলে সাত উইকেটে। মোহামেডান জবাব দেয় ২০৯ রান করে। শাইনপুকুরের সাজ্জাদুল হক ৭০ ও আলাউদ্দিন বাবু ৪৬ রান করেন। মোহামেডানের ওপেনার পারভেজ হোসেন ৫৪ এবং সোহরাওয়ার্দী শুভ ৫১ রান করেন। দুটি করে উইকেট নেন আলাউদ্দিন বাবু ও সিকান্দার রাজা। ব্যাট হাতে ৪২ রান করা জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার রাজার কাছে হেরেছেন পাকিস্তান্মের হাফিজ। ব্যাট হাতে ব্যর্থ মোহামেডানের সৌম্য (৭) বল হাতে নিয়েছেন তিন উইকেট। হাফিজ চার বলে চার রান এবং এক উইকেট। বিকেএসপিতে খেলাঘরের ২২১/৭ শেখ জামাল (২২৪/৪) অনায়াসে টপকে যায় সৈকত আলী (৬৩) ও সাইফ হাসানের (৬২) ১১১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে। ৪৭ রান আসে জহুরুল ইসলামের ব্যাট থেকে। বিফলে যায় খেলাঘরের অমিত হাসানের সেঞ্চুরি (১০৭*)। লিগের প্রথম দুদিনে এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

মোহামেডান ও শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। শাইনপুকুর ২৫০/৭, ৫০ ওভারে (আনিসুল ইসলাম ১৪, রাকিন আহমেদ ৩৯, সিকান্দার রাজা ৪২, সাজ্জাদুল হক ৭০, আলাউদ্দিন বাবু ৪৬*। সালাউদ্দিন শাকিল ২/৪৯, সৌম্য সরকার ৩/৫২)। মোহামেডান ২০৯, ৪৮.৩ ওভারে (পারভেজ হোসেন ৫৪, জাহিদুজ্জামান ১৮, সোহরাওয়ার্দী শুভ ৫১, ইয়াসিন আরাফাত ৩৮। আলাউদ্দিন বাবু ২/৫৫, সিকান্দার রাজা ২/৩৬, আনিসুল ইসলাম ২/১৪)। ফল : শাইনপুকুর ৪১ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : আলাউদ্দিন বাবু (শাইনপুকুর)।

খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতি ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। খেলাঘর ২২১/৭, ৫০ ওভারে (প্রিতম কুমার ২৬, অমিত হাসান ১০৭*, অশক মেনারিয়া ৩২, মাসুম খান ৩০। মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ২/৩৭, সাইফ হাসান ৩/৩০)। শেখ জামাল ২২২/৪, ৪৭.৪ ওভারে (সৈকত আলী ৬৩, সাইফ হাসান ৬২, ইমরুল কায়েস ১৬, জহুরুল ইসলাম ৪৭, নুরুল হাসান ২৫। হোসেন আলী ২/৩০)। ফল : শেখ জামাল ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সাইফ হাসান (শেখ জামাল)।

আমি একান্তভাবে সিলেটের মানুষ: মুহিত

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের গুণীশ্রেষ্ঠ সম্মাননা পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করেন বাংলাদেশের কীর্তিমান রাজনীতিবিদ, সফল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তিনি বলেছেন, নিজের জন্মস্থানে এমন একটি সম্মাননা গৌরবের। আমি একান্তভাবে সিলেটের মানুষ। আমার ভুল-ত্রুটি মাফ করে দেবেন।

বুধবার সন্ধ্যায় সিলেটের ঐতিহ্যবাহি আলী আমজদের ঘড়ি ঘরের সামনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) পক্ষ থেকে তার আজীবন সুকীর্তির স্বীকৃতি স্বরূপ দেওয়া সম্মাননায় আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব কথা বলেন।

বুধবার রাত আটটায় তিনি অনুষ্ঠান স্থলে হাজির হলে সিলেট মহানগর পুলিশের বাদক দল তাকে অর্ভ্যথনা জানায়। এরপর মঞ্চে মেয়র, কাউন্সিলরসহ সিসিকের কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী গুণীশ্রেষ্ঠ সম্মাননা স্মারক হিসেবে শতবর্ষী আলী আমজদের ঘড়ির স্বর্ণ খচিত র্যাপলিকা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্থান্তর করেন।

অনুষ্ঠানের নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন, নর্থইষ্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য্য ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী।

হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন, সাপ্তাহিক ছুটি ও পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষ্যে টানা তিন দিন দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।

একই সঙ্গে বন্দরের অভ্যন্তরের সব ধরনের কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে। তবে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে পাসপোর্টধারী যাত্রী ফেরা চালু থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্দর দিয়ে দুদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে, বন্ধ থাকবে শনিবার পর্যন্ত। রোববার পুনরায় বন্দর দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়াসহ সব কার্যক্রম শুরু হবে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি থাকায় হিলি কাস্টমসের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

বিষয়টি আমাদের পক্ষ থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এক চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। রোববার থেকে পুনরায় বন্দর দিয়ে দুদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ বন্দরের সব কার্যক্রম শুরু হবে।

রাশিয়া তার লক্ষ্য অর্জন করবেই: পুতিন

ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানে রাশিয়া তার লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বুধবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। খরব আলজাজিরার।

পুতিন বলেন, কিয়েভ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়। পশ্চিমা দেশগুলো বিভিন্ন সময়ে এ ব্যাপারে কিয়েভকে সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে। এটা সত্যিকার অর্থেই রাশিয়ার জন্য হুমকি ছিল। কারণ, নিকট ভবিষ্যতেই পশ্চিমের সহায়তায় কিয়েভের নব্য নাৎসিপন্থী শাসকদল ব্যাপক বিধ্বংসী পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত এবং নিশ্চিতভাবেই সেসব ব্যবহার করত আমাদের বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, কিন্তু তাদের এই অভিপ্রায় সফল হবে না। ইউক্রেনে রাশিয়া তার লক্ষ্য অর্জন করবেই।

ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর এক নিষেধজ্ঞা জারির সমালোচনা করে পুতিন বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো আগে থেকেই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল এবং এ ক্ষেত্রে ইউক্রেনের সামরিক অভিযানকে তারা অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছে।

তিনি আরও বলেন, তারা একদম খোলাখুলি ভাবে রাশিয়ার প্রতি তাদের বৈরী মনোভাব ব্যক্ত করেছে। রাশিয়াকে শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে তারা দেখতে চায় না বরং চায় একটি দুর্বল ও নির্ভরশীল রাশিয়া তাদের পছন্দ।

তিনি বলেন, এই দেশকে তারা খণ্ড-বিখণ্ড করতে চায় এবং একঘরে করে রাখতে চায়। ভণ্ডামিপূর্ণ কথাবার্তার আড়ালে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো তাদের নিষ্ঠুর অভিপ্রায় বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

পুতিন বলেন, কিন্তু এ লক্ষ্য কোনো দিন সফল হবে না। কারণ, রাশিয়ার ইতিহাস ও এই দেশের জনগণ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই।

নিজ ভাষণে পশ্চিমা দেশগুলোর সাধারণ জনগণের উদ্দেশেও বক্তব্য দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। এ বিষয় তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যেও আমি কিছু কথা বলতে চাই। সেসব দেশের শাসকগোষ্ঠী বা অভিজাতরা নিজ দেশের জনগণের কাছে প্রচার করছে যে, বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনে তারা যেসব সমস্যার মুখোমুখী হচ্ছে— তার জন্য রাশিয়া দায়ী।

যে শর্তে মারিওপোলের মেয়রকে ছেড়ে দিল রুশ সেনারা

পাঁচ দিন জিম্মি থাকার পর রুশ সেনাদের হাতে থেকে মুক্তি পেয়েছেন মারিওপোলের মেয়র ইভান ফেডোরভ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ জন রাশিয়ান বন্দির বিনিময় মেয়র ইভান ফেডোরভ মুক্তি দেওয়া হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রধান মুখপাত্র দাশা জারিভনার মতে, মারিওপোলের মেয়র ইভান ফেডোরভকে অপহরণ করে রুশ বাহিনী পাঁচ দিন ধরে বন্দি করে রেখেছিল।

ইউক্রেনীয় টেলিভিশনে কথা বলার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের একজন প্রেস সেক্রেটারি বলেন, রাশিয়ান নিয়োগপ্রাপ্তদের বয়স ১৮-১৯ বছরের বয়সের বন্দিদের মুক্তির বিনিময় মেয়রকে মুক্ত করা হয়েছে।

পাঁচ দিন আগে ফেডোরভের অপহরণের পর মারিওপোলের বাসিন্দারা তার অপহরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে নেমেছিল।

দক্ষিণ ইউক্রেনের মারিওপোল শহরের মেয়র ইভান ফেডোরভকে অহরণ করেছেন রুশ সেনারা। শুক্রবার তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

এক টুইটবার্তায় ইউক্রেনের পার্লামেন্ট তিনি জানিয়েছিলেন, ১০ জনের একটি দল মারিওপোলের মেয়র ইভান ফেডোরভকে অপহরণ করেছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি।

ভ্যাট ছাড়ে লাভবান আমদানিকারকরা

আসন্ন রমজান ও ঈদুলফিতর উপলক্ষ্যে সয়াবিন তেলের দাম সহনীয় রাখতে এবার আমদানি পর্যায়ে ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানিতে এ সুবিধা ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।

তবে আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বুধবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর আগে গত সোমবার উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং বিপণন পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ওই সুবিধাও ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এতে লাভবান হবেন আমদানিকারকরাই। কারণ এর সুফল আসন্ন রোজার মধ্যে ভোক্তারা পাবেন না। এই সুবিধায় বন্দর থেকে ছাড় করা সয়াবিন পরিশোধন হয়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

এছাড়া এখন যেসব সয়াবিনবাহী জাহাজ বন্দরে ভিড়ছে, সেগুলোর এলসি খোলা হয়েছে অন্তত দুই থেকে তিন মাস আগে। ওই সময়ে প্রতি টন সয়াবিনের দাম ছিল ১১০০ থেকে ১২০০ ডলার। তখন জ্বালানি তেলের দামও ছিল কম। এমনকি জাহাজ ভাড়াও এখনকার মতো এত বেশি ছিল না।

ফলে এগুলোর আমদানি খরচ কম ছিল। গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম টনপ্রতি দেড় হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেলে আমাদানিকারকরা স্থানীয় বাজারেও তেলের দাম লিটারপ্রতি ১২ টাকা বাড়ানোর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানায়।

কিন্তু তা নাকচ করে দেয়। এরপরই বাজার থেকে সয়াবিন তেল একরকম উদাও হয়ে যায়। আর যেগুলো বাজারে ছিল, সেগুলোর দাম ছিল অসহনীয়। অথচ এসব তেলের এলসি করা হয়েছিল অনেক কম দামে। এক্ষেত্রে ভোক্তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আমদানিকারকদের পকেটে গেছে।

পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত ছিল। এখন ১০ শতাংশ প্রত্যাহার করায় বাকি ৫ শতাংশ বহাল থাকল। আগে পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি ও বিপণনে ২০ শতাংশ ভ্যাট ছিল।

এর মধ্যে আমদানি পর্যায়ে ১০ শতাংশ ও বিপণন পর্যায়ে ৫ শতাংশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন আমদানি পর্যায়ে শুধু ৫ শতাংশ দিতে হবে। অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ৩৫ শতাংশ ভ্যাট ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। শুধু আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আমাদানি পর্যায়ে ১০ শতাংশ কমানোয় বর্তমান হিসাবে লিটারপ্রতি ১০-১২ টাকা খরচ কমতে পারে। এর আগে উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ২০ শতাংশ কমানোর ফলে ২ থেকে ৩ টাকা প্রতি লিটারে কমতে পারে। দুই পর্যায়ে ভ্যাট কমানোর ফলে প্রতি লিটারে খরচ ১২ থেকে ১৫ টাকা কমতে পারে।

এদিকে সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম ও ভ্যাট কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে এর দাম কেমন কমতে পারে, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন একটি কাঠামো তৈরি করবে। এর আলোকে পরবর্তী সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তেলের দামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

গত আগস্ট থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়তে থাকে। করোনার প্রকোপ কমার পর হঠাৎ করে চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে এর দাম আরও বাড়তে থাকে। সর্বশেষ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে এর দামও তৃতীয় দফায় বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তেলের দাম সহনীয় রাখতেই সরকার ভ্যাট প্রত্যাহারসহ অন্যান্য নীতিসহায়তা প্রদান করেছে।

জানা যায়, দেশের চাহিদার বেশির ভাগই আসে অপরিশোধিত আকারে। এগুলো স্থানীয় কারখানায় পরিশোধন করে বাজারজাত করা হয়। দুই দফায় সয়াবিন তেলের ওপর ভ্যাট কমানোর ফলে এর প্রভাব বাজারে এখনই পড়বে না।

আরও বেশ সময় লাগবে। তবে সরকার দাম না বাড়ানোর কারণে সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত দরের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বাজারে অভিযান পরিচালনা করছে।

সরকার ৬ ফেব্রুয়ারি বৈঠক করে বোতলজাত সয়াবিন প্রতি লিটার ১৬৮ টাকা, খোলা ১৪৩ টাকা ও পাম অয়েল ১৩৩ টাকা লিটার নির্ধারণ করে। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এই দর কার্যকর হলেও বাজারে এই দামে তেল পাওয়া যায়নি।

প্রতি লিটারের দাম পর্যায়ক্রমে বেড়ে সর্বোচ্চ ২০৫ টাকায় উঠেছিল। ভ্যাট প্রত্যাহারের পর এখন ধীরে ধীরে কমছে। মিল মালিকরা মনে করেন, ভ্যাট কমানোর ফলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে মেঘনা গ্রুপের জ্যেষ্ঠ সহকারী মহাব্যবস্থাপক তাসলিম শাহরিয়ার বলেন, এনবিআরের নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে বাজারে তেলের দাম কমবে।

তবে ইতোমধ্যেই যেসব চালান ইন-বন্ড করা হয়েছে, সেগুলোর ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করা হয়েছে বিধায় দাম খুব বেশি কমার সম্ভাবনা নেই। খালাস পর্যায়ে যেসব অপরিশোধিত তেল রয়েছে, সেগুলোর দামে প্রভাব পড়বে।

তিনি আরও বলেন, দামে প্রভাব ফেলতে চাইলে যেসব অপরিশোধিত তেলের চালান ইন-বন্ড করে কারখানা পরিশোধনের জন্য পাঠানো হয়েছে, সেগুলোয় ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়া উচিত ছিল। তাহলে বাজারে দ্রুত প্রভাব পড়ত তেলের দামে।

ভ্যাট কমানোয় বাজারে তেলের দামে কেমন প্রভাব পড়তে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি নির্ভর করবে কত দামে ভোজ্যতেল আমদানি করা হয়েছে তার ওপর।

যেমন বর্তমানে টনপ্রতি এক হাজার ৮০০ ডলারের বেশি দরে অপরিশোধিত তেল আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। কেউ আবার এক হাজার ৭০০ ডলারে খুলেছে। এক্ষেত্রে দুই চালানের ভ্যাট ছাড় সুবিধা দুই রকম হবে। তবে ১০ শতাংশ কমানোয় বর্তমান হিসাবে লিটারপ্রতি ১০-১২ টাকা খরচ কমতে পারে।

উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ভ্যাট কমানোর ফলে কারখানা থেকে পরিশোধন হয়ে যেসব তেল বাজারে আসছে সেগুলোর বিপরীতে ২০ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে না। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাটের সুফল ভোগ করবে আমদানিকারকরা। বাকি ৫ শতাংশ ভোগ করবে পাইকারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা। এসব তেল বাজারে আসতে রোজার মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে আসবে।

আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট কমানোর ফলে এখন যেসব সয়াবিন তেল বন্দর থেকে খালাস হবে, সেগুলোর বিপরীতে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। বন্দর থেকে খালাস হয়ে পরিশোধনের পর এগুলো বাজারে আসতে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ মাস সময় লেগে যাবে।

এদিকে সয়াবিন তেলের তিনটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। এগুলোয় প্রায় ৭৫ হাজার টন তেল রয়েছে। এগুলো কম হ্রাসকৃত ভ্যাটে ছাড় করা যাবে।

এদিকে সয়াবিন আমদানি বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এলসি মার্জিন প্রত্যাহার করেছে। একই সঙ্গে এলসি কমিশন ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই সুবিধা নিয়ে এখন সয়াবিন তেল আমদানির এলসি খোলা হলে সেগুলো দেশে আসতে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগবে।

এগুলো বন্দর থেকে খালাস করে পরিশোধের মাধ্যমে বাজারজাত করতে আরও ২ থেকে ৩ মাস লাগতে পারে। আগে ১০০ টাকার তেল আমদানি করতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দিতে ব্যাংক। বাকি ২০ থেকে ৩০ টাকা দিতে হতো আমদানিকারককে।

মার্জিন প্রত্যাহার করায় এখন পুরো অর্থই ব্যাংক ঋণ হিসাবে দেবে। ফলে আমদানিকারকের নগদ টাকা লাগছে না। এতে সয়াবিনের আমদানি বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

এলসি কমিশন শূন্য দশমিক ৩০ থেকে শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ। সর্বনিম্ন কমিশন ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা। এ কমিশন কমে ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় নেমে আসবে। ফলে এখানেও আমদানিকারকদের অর্থ সাশ্রয় হবে।

সরকারি ব্যাংকগুলোকে সয়াবিন তেলের এলসি খোলার জন্য ব্যবসায়ীরা গেলে দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে এলসি বিদেশি ব্যাংকে দ্রুত পাঠাতে হবে।

এতে আমদানিতে সময় কম লাগবে। এদিকে বন্দরগুলোকেও সয়াবিন তেল দ্রুত খালাস করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন্দরের ব্যাংকগুলোকেও এসব কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

আখাউড়া স্থলবন্দরে টানা ৩ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর দিয়ে টানা তিন দিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত ওই স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে বলে জানা গেছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বন্দরের বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।

আগামীকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে। পর দিন ১৯ মার্চ শনিবার পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষ্যে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। রোববার সকাল থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম ফের শুরু হবে।

তবে এ সময় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও কাস্টমসের দাপ্তরিক সব কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে বলে আখাউড়া কাস্টমস স্থল শুল্ক (রাজস্ব) কর্মকর্তা শাহ নোমান সিদ্দিকী যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

আখাউড়া ইমিগ্রেশন ইনচার্জ আব্দুল হামিদ যুগান্তরকে জানান, এ পথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে।

মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব হৃদয়ের মণিকোঠায় চিরভাস্বর

আজ ১৭ মার্চ। ১৯২০ সালের এই দিনে রাত ৮টায় তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান।

তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা শেখ সায়েরা খাতুন। ৪ কন্যা এবং ২ পুত্রসন্তানের মধ্যে আদরের মুজিব ছিলেন তৃতীয়। মা-বাবা ডাকতেন ‘খোকা’ বলে। যিনি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির ‘মুজিব ভাই’, ‘বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘জাতির পিতা’।

তার হাত ধরেই আসে বাঙালির স্বাধীনতা, জন্ম নেয় বাংলাদেশ। মাত্র ৫৫ বছর বয়সে হায়েনার দল কেড়ে নেয় তার প্রাণ। ঘাতকরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে তার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল; কিন্তু পারেনি। জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু আরও শক্তিশালী ও তেজস্বী। তিনি চিরভাস্বর হয়ে আছেন প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায়।

দেশের প্রতিটি কোনায় আজ উচ্চারিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই…’। এটি যেন শুধু গান নয়, বাঙালির আকৃতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু কিংবা জন্মবার্ষিকীতে এ গানটি বাজানো হয় অবধারিতভাবেই। আজও সারা দেশে তা শোনা যাবে। কারণ বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায় এখনো তিনি চিরভাস্বর। কবির ভাষায়-‘মানলে তাঁকে, অতীত যাকে হয় না কিছুই কীর্তিহারা/অনাথ জাতি ভরসা পায় থাকে না আর পিতৃহারা/ ধর্ম যেমন ধর্ম তো নয় মঠ মসজিদ চার্চকে ছাড়া/ বাঙালি কি বাঙালি হয় সতেরই মার্চকে ছাড়া।/ শাস্তি স্থিতি কিংবা লড়াই জয় নেই রণ তূর্য ছাড়া/ বাংলাদেশের মুক্তিও নেই মুজিব নামের সূর্য ছাড়া।’

এদিকে ১০২তম জন্মবার্ষিকীতেও গোটা বাঙালি জাতি শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, কৃতজ্ঞচিত্তে আজ স্মরণ করবে জাতির পিতাকে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এবার বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় সাত দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টিভি চ্যানেল এবং সংবাদপত্রগুলোয় বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনটি জাতীয় শিশু দিবসও। দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ সরকারি ছুটি। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির চিরন্তন প্রেরণার উৎস। রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু ছিলেন নীতি ও আদর্শের প্রতীক। বাংলাদেশকে জানতে হলে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে জাতি এগিয়ে যাক ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে, নোঙর ফেলুক বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলায়’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্ব এবং সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব সমগ্র জাতিকে একসূত্রে গ্রথিত করেছিল। যার ফলে আমরা পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। বিকাশ ঘটেছে বাঙালি জাতিসত্তার। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শুধু বাঙালি জাতিরই নয়, তিনি ছিলেন বিশ্বের সব নিপীড়িত-শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায় ও মুক্তির অগ্রনায়ক। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর ১০২তম জন্মবার্ষিকী এবং ‘জাতীয় শিশু দিবস-২০২২’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

১৯৩৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ১৮ বছর বয়সে শেখ ফজিলাতুন নেছাকে (রেণু) বিয়ে করেন। তাদের দুই কন্যা-শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তিন পুত্র-শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল। ১৯৪২ সালে শেখ মুজিব গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। একই বছরে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে (বর্তমানে মওলানা আজাদ কলেজ) ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে এই কলেজ থেকেই স্নাতক সম্পন্ন করেন। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু স্কুলজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কৈশোরে গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকাবস্থায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন। কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের মতো রাজনীতিকের সান্নিধ্যে আসেন। এ নেতাদের সাহচর্যে তিনি নিজেকে ছাত্রনেতা-যুবনেতা হিসাবে রাজনীতির অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেন।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতালাভের পরপরই ঢাকায় ফিরে নতুন রাজনৈতিক চিন্তাচেতনা নিয়ে অগ্রসর হন বঙ্গবন্ধু। সহকর্মীদের নিয়ে ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ গঠন করেন। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠিত হলে তরুণ নেতা শেখ মুজিব দলটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক পদ পান। পরে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নামকরণ করা হয় আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, আটান্নর আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনসহ পাকিস্তানি সামরিক শাসনবিরোধী সব আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাঙালির অধিকার আদায়ের এসব আন্দোলনের কারণে বারবার কারাগারেও যেতে হয় তাকে।

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পান তিনি। আওয়ামী লীগপ্রধান হিসাবে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন তথা বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তানের স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুসহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নামে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে তাদের কারাগারে পাঠায়। উনসত্তরের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাঙালি শেখ মুজিবকে কারামুক্ত করে। এ সময়ে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করা হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তানের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নানা চক্রান্ত করে বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। এরপর বঙ্গবন্ধু স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রথমে স্বাধিকার আন্দোলন এবং চূড়ান্তপর্বে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ দেন।

এ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় একাত্তরের মার্চে নজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বজ কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শতাব্দীর ঘৃণ্যতম গণহত্যা চালায়। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতা ঘোষণার পরপর পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে এবং তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হলেও তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এদিকে ১০ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় এবং গণপরিষদ কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (বর্তমানে মুজিবনগর) বাংলাদেশ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নয় মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহিদের আত্মদান এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বিশ্বমানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের।

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। সেদিনই তিনি ঢাকার উদ্দেশে লন্ডনযাত্রা করেন। ৯ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের সঙ্গে দেখা করেন। ঢাকায় ফেরার আগে তিনি নয়াদিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে বিমানবন্দরে সাদর অভ্যর্থনা জানান। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের বুকে ফিরে আসেন। সেদিন বাঙালি জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে অবিস্মরণীয় সংবর্ধনা জানায়। লাখো জনতার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় স্নাত হয়ে বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রেসকোর্স ময়দানে আসেন এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।

এর মাত্র দুদিন পর ১২ জানুয়ারি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে তিনি নতুন বাংলাদেশকে শক্ত ভিত্তির ওপর স্থাপন করেন। এক কোটি বাঙালি শরণার্থীর পুনর্বাসন, স্বাধীন হওয়ার তিন মাসের মধ্যে ভারতীয় সশস্ত্রবাহিনীকে ফেরত পাঠানো, ১০ মাসের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রের জন্য সংবিধান প্রণয়ন, একশরও বেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায়, জাতিসংঘ, ন্যাম, ওআইসি, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ প্রভৃতি ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৭ জুন জাতীয় দল হিসাবে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ বা ‘বাকশাল’-এর কাঠামো ঘোষণা করা হয়। এর কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সৈনিক, আমলা বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের নেওয়া হয়। প্রতিকূল অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সামাল দিতে বঙ্গবন্ধু ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’-এর সূচনা করেছিলেন। নতুন কর্মসূচি গ্রহণের পর পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু বেশিদিন দেশগঠনের কাজ করে যেতে পারেননি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভোরে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নিজ বাসভবনে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী ও উচ্চাভিলাষী বিশ্বাসঘাতক অফিসারের হাতে সপরিবারে নিহত হন। দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে অন্ধকারতম দিন। বাঙালি জাতি এই দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসাবে পালন করে এবং সঙ্গে সঙ্গে স্মরণ করে বিশাল হৃদয়ের সেই মহাপ্রাণ মানুষটিকে, যিনি তার সাহস, শৌর্য, আদর্শের মধ্য দিয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন বাঙালি জাতির অন্তরে।