রবিবার ,১৬ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 409

ইউরোপের বিভেদ ভেঙে এক হওয়ার আহ্বান জেলেনস্কির

বিভেদের দেয়াল ভেঙে ইউরোপের এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

বৃহস্পতিবার জার্মানির পার্লামেন্টে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এ আহ্বান জানান তিনি। খবর এএফপির

মধ্য ইউরোপের স্বাধীনতা ও বন্ধনের মধ্যে একধরনের বিভেদের দেয়াল তৈরি হচ্ছে। ইউক্রেনের মাটিতে রাশিয়ার ফেলা প্রতিটি বোমার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই দেয়াল আরও বিস্তৃত হচ্ছে। রাশিয়ার তৈরি এই ‘নতুন দেয়াল’ ভেঙে ফেলার আহ্বান জানান জেলেনস্কি।

জেলেনস্কি বলেন, এটা নতুন কোনো বার্লিন দেয়াল নয়। এ দেয়াল রাশিয়ার তৈরি বিভেদের।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট তার দেশের বৃহত্তর সংহতি রক্ষায় জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা কামনা করেন।

জেলেনস্কি বলেন, প্রিয় শলৎজ, আপনি এই দেয়াল ভেঙে ফেলেন। বার্লিন দেয়াল নিয়ে ১৯৮৭ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের অনুরোধের সুর শোনা যায় জেলেনস্কির এই অনুরোধে।

তিনি আরও বলেন, জার্মানির জন্য যে ধরনের নেতৃত্ব প্রয়োজন, আপনি সে ধরনের নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে আমি আশা করি।

রাশিয়ার সঙ্গে জার্মানির সম্পর্কের সমালোচনাও করেন জেলেনস্কি। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে রাশিয়ার সঙ্গে জার্মানির দৃঢ় বন্ধনের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম, নর্ড স্ট্রিমের মাধ্যমে (গ্যাস পাইপলাইপ) যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার একধরনের প্রস্তুতি ছিল।

‘যুদ্ধের পেছনে আমরা যে কারণ খুঁজে পেয়েছি, সেটি পুরোপুরি অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত।’ তিনি জোর দিয়ে তিনবার অর্থনীতির কথা বলেন। তিনি বলেন, অর্থনীতিই নতুন দেয়ালের রসদ।

জেলেনস্কি বলেন, চলমান যুদ্ধের কারণে ইউরোপের ভবিষ্যৎ এখন হুমকির মুখে। তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

১৫ মিনিটের বক্তব্যে কিছুটা সমালোচনার সুর থাকলেও বক্তব্য শেষে জার্মানির পার্লামেন্ট সদস্যরা দাঁড়িয়ে আরেক দফা সম্মান জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে

দেশে কোটিপতি বাড়ছে

দেশে কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে। গত এক বছরে কোটিপতি আমানতকারী ৮ হাজারের বেশি বেড়ে ১ লাখ ১ হাজার ৯৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আর দেশে করোনার ২১ মাসে (মার্চ-২০২০ থেকে ডিসেম্বর-২০২১) এমন আমানতকারী বেড়েছে ১৯ হাজার ৩৫১ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে কোটি টাকার বেশি আমানতের হিসাব (অ্যাকাউন্ট) ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ এক হাজার ৯৭৬টিতে। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোটিপতি হিসাব (অ্যাকাউন্ট) বেড়েছে ৮ হাজার ৮৬টি।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০২০ সালের মার্চে দেশে যখন করোনা ছড়িয়ে পড়ে তখন ব্যাংক খাতে কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা হিসাবের (অ্যাকাউন্ট) সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৬২৫টি। মহামারি চলাকালে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরেই কোটিপতি হিসাবের ওই অংক ১ লাখ ছাড়ায়। ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে তা দাঁড়ায় এক লাখ এক হাজার ৯৭৬ টিতে। সে হিসাবে মহামারির ২১ মাসে দেশে কোটিপতি হিসাব (অ্যাকাউন্ট) বেড়েছে ১৯ হাজার ৩৫১টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে ১২ কোটি ৪৮ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩৪টি ব্যাংক হিসাব (অ্যাকাউন্ট) খোলা হয়। যেখানে জমা ছিল ১৫ লাখ ১২ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে কোটি টাকার বেশি হিসাবে (অ্যাকাউন্ট) জমা ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে কোটিপতি ব্যাংক হিসাবগুলোতে জমা ছিল ৫ লাখ ৯৫ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। ওই সময় মোট আমানতের স্থিতি ছিল ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, এক কোটি এক টাকা থেকে পাঁচ কোটি টাকার আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৯ হাজার ৮৮৩টি। যাদের হিসাবে জমা টাকার অংক এক লাখ ৬৬ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। পাঁচ কোটি থেকে ২০ কোটির মধ্যে রয়েছে ১৭ হাজার ৯টি অ্যাকাউন্ট। তাদের অ্যাকাউন্টে টাকার অংক এক লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটির উপরে মোট হিসাবধারীর সংখ্যা ৫ হাজার ৮৪টি। এই হিসাবগুলোতে জমার অংক তিন লাখ ২৮ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা।

ব্যাংকাররা জানান, কোটি টাকার হিসাব মানেই কোটিপতি ব্যক্তির হিসাব নয়। কারণ ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি অর্থ রাখার তালিকায় ব্যক্তি ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। আবার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কতটি ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। ফলে এক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির একাধিক হিসাবও রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কোটি টাকার হিসাবও রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন। ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি। ২০২০ সালে ডিসেম্বর শেষে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টিতে।

খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে ১ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

সেচনির্ভর কৃষি খাত এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা এক লাখ ৭০ হাজার দরিদ্র মানুষের আয় বাড়াতে সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশকে ১২ কোটি ডলার বা প্রায় ১ হাজার ২০ কোটি টাকা দিচ্ছে সংস্থাটি (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)।

‘ক্লাইমেট-স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে এই অর্থ দেওয়া হবে। এক বিবৃতিতে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

প্রকল্পটি খাদ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন এবং সেচ অবকাঠামোর আধুনিকায়নের মাধ্যমে জলবায়ু সহিষ্ণুতা বাড়াবে বলে জানায় বিশ্বব্যাংক। বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও ভুটানে

বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যান ড্যান চেন খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অর্জনের কথা উল্লেখ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃষি খাতে বাংলাদেশের সফলতার শেকড় অনেক গভীরে। বড় একটি জনসংখ্যা এবং আবাদি জমির স্বল্পতার মধ্যে দেশটির খাদ্য উৎপাদন এমন মাত্রায় রয়েছে, যা বড় একটি অর্জন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাওয়ার কারণে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়েছে।

ড্যান ড্যান চেন বলেন, প্রকল্পটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্নত বন্যা ব্যবস্থাপনা, সেচ এবং নালা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খাদ্যশস্য এবং মৎস্যসম্পদের সুরক্ষা দিয়ে বাংলাদেশকে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে সহায়তা করবে। এক্ষেত্রে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি এবং বর্ষা-পরবর্তী সময়ে পানিস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ১৯টি বন্যা ব্যবস্থাপনা, সেচ ও নিষ্কাশন পরিকল্পনাকে আবারও সচল করা হবে বলে বিবৃতিতে জানায় বিশ্বব্যাংক।

ক্লাইমেট-স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, ফসলের বৈচিত্র্য এবং ফসল তোলার পর সেসবের ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক লাখ কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া ধান, মাছ ও চিংড়ি চাষ এবং সংরক্ষণের জন্য হিমাগার তৈরি করা হবে এবং স্থানীয় বাজারের উন্নয়নের চেষ্টা করা হবে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন প্রায় ৩৭ শতাংশ, সবজি ১০ শতাংশ এবং চালের উৎপাদন ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে। বিশ্বব্যাংকের ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’ থেকে নেওয়া এই ঋণ ৫ বছরের রেয়াতসহ ৩৫ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

এজন্য রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে মঙ্গলবার চুক্তি সই হয়েছে। ইআরডি সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যান ড্যান চেন এতে সই করেন।

বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার সাধ্য কারো নেই: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ইতিহাসের মহাফলকে চলিষ্ণু অঙ্গুলি ইতিহাস যার নাম লিখে যায়, তার নাম মুছে ফেলার সাধ্য কারো নেই। বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলার সাধ্যও কারো নেই।

‘যতদিন চন্দ্র-সূর্য উদয় হবে, পাখির কলকাকলি থাকবে, নদীর কলতান থাকবে, সমুদ্রের গর্জন থাকবে। ততদিন এই শস্য শ্যামল বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু অমর হয়ে থাকবেন।’

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না। তিনি বলেন, বাংলার হাজার বছরের মহাবীর, মহাজন্মদিনে তোমাকে অভিবাদন, তোমাকে স্যালুট।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে বিএনপি

নিত্যপণ্যের ঊর্দ্ধগতির প্রতিবাদে কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে বিএনপি। দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ৮ টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভার্চুয়াল সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

চাল, তেল, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। ক্রয়ক্ষমতার বাইরে হওয়ায় ভোক্তাদের নাভিশ্বাস। জনগণের এই ক্ষোভ কাজ লাগাতে চায় বিএনপি। এ কারণে গত কয়েকদিন ধরে কর্মসূচি পালন করে আসছে দলের নেতাকর্মীরা।

স্থায়ী কমিটির সভায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচি মহানগর, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে হাট সভা পালিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। আসন্ন রমজান মাসের পূর্বে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয় সভায়।
আগামী দিনের কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যরিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

আজ পবিত্র শবেবরাত

দিন শেষে আজ যে রাত নেমে আসছে সেটি একটি মহিমান্বিত রাত। ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ সৌভাগ্য। অর্থাৎ ‘শবেবরাত’ শব্দের অর্থ ‘সৌভাগ্যের রাত’।

আরবিতে একে বলে ‘লাইলাতুল বরাত’। ১৫ শাবানের এ রাতটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এবাদত-বন্দেগি ও জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে কাটান। বিভিন্ন বর্ণনামতে, এ রাতে মহান আল্লাহ বান্দাদের জন্য তার রহমতের দরজা খুলে দেন।

পবিত্র এ রাত উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। আরও বাণী দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, মানুষের ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির জন্য ইসলামের সুমহান আদর্শ আমাদের পাথেয়। এ পবিত্র রজনীতে আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে অশেষ রহমত ও বরকত কামনার পাশাপাশি দেশের অব্যাহত অগ্রগতি, কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্যের প্রার্থনা জানাই। সৌভাগ্যমণ্ডিত পবিত্র শবেবরাতের পূর্ণ ফজিলত আমাদের ওপর বর্ষিত হোক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে শবেবরাত উপলক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আসুন সকল প্রকার অন্যায়, অনাচার হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনা ব্যক্তি সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ রাত সম্পর্কে বলেন, শাবান মাসের এই রাতকে ইসলামে ‘লাইলাতুল নিসফি মিন শাবান’ বলা হয়েছে। এ রাতে আল্লাহ অসংখ্য মানুষকে ক্ষমা করেন, কেবল মুশরিক (আল্লাহর সঙ্গে তুলনাকারী) ও হিংসুক ছাড়া।

এ সময়ে দুই থেকে তিনটি রোজা রাখা যেতে পারে। কেননা, এই সময়টা আইয়ামে বিজের মধ্যে পড়ে। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর পক্ষ থেকে এ রাতে এবাদতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে এদিন বাড়াবাড়ি পর্যায়ের খাওয়া-দাওয়ার চেয়ে এবাদত-বন্দেগির দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

এশা ও ফজরের নামাজ অবশ্যই জামাতের সঙ্গে পড়তে হবে। এ ছাড়া নফল এবাদত, কুরআন তেলাওয়াত ও তসবিহ পাঠ করা যেতে পারে। পটকাবাজি-আতশবাজি অবশ্যই করা যাবে না। এটা শবেবরাতের কোনো অংশ নয়।

রেওয়াজ অনুযায়ী, উপমহাদেশের মুসলমানদের অনেকেই মহিমান্বিত রজনী উদযাপনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রোজা রেখেছেন তারা। আজ এবং কালও সিয়াম সাধনা করবেন অনেকে। রাষ্ট্রীয়ভাবেও বাংলাদেশে দিনটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। যে কারণে শবেবরাতের পরদিন সরকারি ছুটি থাকে। কালও সরকারি ছুটি, তবে এবার তা সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মধ্যে পড়েছে।

শবেবরাত বাঙালি মুসলমানদের কাছে একটি উৎসবও। ঘরে সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো খাবার, মুখরোচক হালুয়া, রুটি ও পায়েস ইত্যাদি তৈরি হয়। এসব খাবার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে পাঠানো হয়। বিতরণ করা হয় গরিব-দুঃখীর মাঝে। তবে ইসলামি বিশেষজ্ঞরা এগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে এবাদত-বন্দেগিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষ্যে আজ বাদ মাগরিব ও বাদ এশা এবং রাত ২টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘পবিত্র শবেবরাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এতে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে আজ।

আতশবাজি নিষিদ্ধ : আজ সন্ধ্যা থেকে আতশবাজি নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শবেবরাতের পবিত্রতা রক্ষার্থে এবং অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৮ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা হতে ১৯ মার্চ ভোর ৬টা পর্যন্ত ক্ষার জাতীয় বা বিস্ফোরক দ্রব্য, আতশবাজি, পটকাবাজি, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং ফোটানো নিষিদ্ধ।’ দেশের অন্যান্য নগর ও শহরগুলোতেও অনুরূপভাবে আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভার্চুয়াল জুয়ায় বছরে পাচার হাজার কোটি টাকা

ভার্চুয়াল জুয়া দিনদিন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। এতে ডিজিটাল মাধ্যমে বিদেশে পাচার হচ্ছে বছরে হাজার কোটি টাকা। গুগল-ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে কাস্টমার ধরছেন এর কর্ণধাররা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরাই তাদের প্রধান টার্গেট। হাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোন থাকলেই খেলা যাচ্ছে জুয়া। একযোগে ভার্চুয়াল জুয়ায় মেতে উঠছেন শহর-গ্রামের হাজারো তরুণ-তরুণী। রিকশাচালক থেকে শুরু করে বাদ যাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও।

জুয়ার টাকার জোগান দিতে অন্য অপরাধের পাশাপাশি খুনের ঘটনাও ঘটছে। সর্বশেষ গত ১৩ মার্চ নিজের গাড়িচালকের হাতে খুন হয়েছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা। ঘাতক হৃদয় বেপারীকে গ্রেফতারের পর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, সে ভার্চুয়াল জুয়ায় আসক্ত ছিল। জুয়ার টাকার জোগান দিতে স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই সে এ খুনের ঘটনা ঘটায়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভার্চুয়াল কারেন্সিতে জুয়া চললেও টাকা লেনদেন হচ্ছে মূলত মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। গত কয়েক মাসে ডিবি, সিআইডি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ভার্চুয়াল জুয়ার সঙ্গে জড়িত অর্ধশতাধিক লোককে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে সুপার অ্যাডমিন ও এজেন্টও রয়েছেন।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ভারত, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বসে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভার্চুয়াল জুয়ার সাইট চালাচ্ছে। বিটিআরসি এ পর্যন্ত দুই শতাধিক এ ধরনের সাইট বন্ধ করেছে। কিন্তু এগুলোয় প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করে খেলা চলছে।

সম্প্রতি মোস্টবেট-বিডিডটকম ও ওয়ানএক্সবেটবিডিডটকম নামের বেটিং সাইটের (রাশিয়া থেকে পরিচালিত) সঙ্গে জড়িত এজেন্টসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সিআইডি জানতে পারে রাশিয়ায় বসে এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করছেন আল আমিন, আশিকুর রহমান ও নাঈম ওরফে হাল্ক নামের তিন বাংলাদেশি যুবক।

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার যুগান্তরকে বলেন, বিদেশ থেকে ওয়েব হোস্টিং ক্রয়ের কারণে এসব জুয়ার ওয়েব ও অ্যাপ বন্ধের স্থায়ী কোনো উপায় নেই। নজরে আসার পর বিটিআরসির মাধ্যমে ব্লক করালেও ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে আবার পরিচালিত হয়। আমরা মনিটরিং বাড়াচ্ছি।

তিনি বলেন, ভার্চুয়াল জুয়ার কারণে পারিবারিক সহিংসতা বেড়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রিকশাচালক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পর্যন্ত ভার্চুয়াল জুয়ায় ঝুঁকছে। তিনি বলেন, আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে না তুললে এ ব্যাধি থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভার্চুয়াল জুয়ার কর্ণধার ও এজেন্টরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে গ্রুপ ও পেজ খুলে তাদের সাইটে কাস্টমার ধরা এবং কারেন্সি লোড করার বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। লোভনীয় এসব বিজ্ঞাপনে সাড়াও পাচ্ছেন যথেষ্ট। কারণ বেশির ভাগ বেকার তরুণ-তরুণী অল্প পরিশ্রমে বেশি মুনাফার লোভে এসব জুয়ার সাইটে বিনিয়োগ করেন। খেলতে খেলতে একসময় তাদের নেশায় পরিণত হয়। আর নেশা থেকেই একেকজনের সর্বনাশ ঘটে।

নাইন উইকেটস ডটকম একটি ভার্চুয়াল জুয়ার সাইট। বিদেশে বসে সাইটটি চালানো হচ্ছে। দেশ থেকে লুটে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাইটটিতে একজন অ্যাডমিন, ২০ জন সুপার এজেন্ট এবং ৪৫২ জন অনলাইন এজেন্ট রয়েছেন। এছাড়া লোকাল মাস্টার এজেন্ট এবং লোকাল এজেন্টের সংখ্যা অসংখ্য। সাইটটির কাস্টমার সার্ভিসে কাজ করছেন ৪ জন।

নাম আরমান মালিক, আদনান সামী, ইমরান তরফদার ও আতিফ ইসলাম। তারা ইউজারদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ নেন। নাইন উইকেটসের অ্যাডমিন আকাশ মালিক নামে পরিচিত। তিনি তার বিস্তারিত পরিচয় দিতে চাননি। তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে সুপার এজেন্ট হওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে আকাশ মালিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তারা আপাতত সুপার এজেন্ট নিচ্ছে না। তবে লোকাল মাস্টার এজেন্ট হওয়ার সুযোগ আছে। একজন সুপার এজেন্টের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেন।

যোগাযোগ করলে ওই সুপার এজেন্ট যুগান্তরকে জানান, লোকাল মাস্টার এজেন্ট হতে হলে ৫০ হাজার টাকার বিনিয়োগ করতে হবে।

আর অনলাইন এজেন্ট হতে জামানত লাগবে ২ লাখ টাকা। এতে সুবিধা কী জানতে চাইলে ওই সুপার এজেন্ট যুগান্তরকে বলেন, তাদের ওয়েবসাইটে অনলাইন এজেন্টের নম্বর দেওয়া থাকবে। সারা বাংলাদেশেই ইউজারদের কাছে পয়েন্ট বিক্রি করতে পারে অনলাইন এজেন্ট। তাছাড়া ইউজার আইডিও খুলে দেন তারা। তাছাড়া ১০০ পয়েন্ট ৯৩ টাকায় কিনে ইউজারের কাছে বিক্রি করতে হবে ১০০ টাকায়। লাভের আরও অনেক সুযোগ আছে।

প্লেবিডি৬৯ ডটকম নামের একটি জুয়ার সাইটের রিভিউ করা হয়েছে ইজি ইনকাম নামের একটি ইউটিউব আইডি থেকে। সাইটটিতে রেজিস্ট্রেশন করে দেখা যায়, এতে ৫ ধরনের খেলা রয়েছে। এর একেকটি খেলায় ১০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ধরা যাচ্ছে। এই সাইটে ০১৭২২২১৪৯৬৩ নম্বরটি তাদের হেল্পলাইন হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। এখানে ৩০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিপোজিট করে খেলা যাচ্ছে। এ ধরনের ভার্চুয়াল বেটিং সাইট নয়ালুডু ডটকম, বিডি ফিক্সার প্রভৃতি। এমন অর্ধশতাধিক সাইটের প্রমোশনাল বিজ্ঞাপন দিতে দেখা গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এছাড়া গুগলেও প্রমোশনাল বিজ্ঞাপন দিয়ে চালানো হচ্ছে ভার্চুয়াল বেটিং সাইটের প্রচারণা।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এটি আকাশ সংস্কৃতির একটি অংশ। আকাশের যেমন সীমানা নেই, তেমনই ভার্চুয়াল বেটিংয়েরও কোনো সীমারেখা নেই। তিনি বলেন, যাদেরকে আমরা গ্রেফতার করেছি, তারা নিজেরাও বুঝতে পারে না, তাদের মাধ্যমে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ভার্চুয়াল জুয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিবার থেকে নজরদারি বাড়াতে হবে। সামাজিকভাবে অ্যাওয়ার্নেস বাড়াতে হবে।

সিআইডি বলছে, খেলার জন্য একজন জুয়াড়ি মোবাইল নম্বর বা ইমেইলের মাধ্যমে এই বেটিং সাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে। অ্যাকাউন্টের বিপরীতে একটি ই-ওয়ালেট বানিয়ে ব্যালেন্স যোগ করে। এরকম বেশির ভাগ সাইট দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়। আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এসব জুয়ার সাইট দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হলেও দেশের অনেক তরুণ সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে এজেন্ট হচ্ছে। মূল এজেন্ট ক্লাস্টার আকারে সাব-এজেন্ট তৈরি করছে। সাব-এজেন্ট আবার গুচ্ছ গুচ্ছ আকারে এজেন্ট তৈরি করছে। এতে দিনদিন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ভার্চুয়াল কারেন্সিতে পয়েন্টের মাধ্যমে খেলা হলেও এজেন্টরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে। আবার কেউ জুয়ায় জিতলে ভার্চুয়াল কারেন্সিকে টাকায় কনভার্ট করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ওই জুয়াড়িকে টাকা ট্রান্সফার করে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, এসব সাইট কিংবা অ্যাপ ব্লক করা হলেও বিভিন্ন উপায়ে আবারও পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পেছাল

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ পিছিয়েছে। ১ এপ্রিলের পরিবর্তে আগামী ৮ এপ্রিল শুরু হতে পারে এ পরীক্ষা। পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ পরীক্ষা আগামী ১৩ মে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলমের সই করা পরীক্ষার কেন্দ্র নির্বাচন সংক্রান্ত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ-২০২০ এর লিখিত পরীক্ষা আগামী ৮, ১৫ ও ২২ এপ্রিল এবং ১৩ মে বিকেল ৩টায় গ্রহণের জন্য আপনার প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, উল্লিখিত তারিখসমূহে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের জন্য আপনার প্রতিষ্ঠান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করা হলো।

এদিকে গত ১০ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ১ এপ্রিল পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এপ্রিলের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া শেষে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের জুলাই মাসের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, সহকারী শিক্ষকের ৩২ হাজার ৫৭৭টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে অবসরজনিত কারণে আরও ১০ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়েছে।

১৬ বছর পর চালু হচ্ছে জবির একমাত্র ছাত্রী হল

অবশেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী হল চালু হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পর শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার অবসান হলো।

লিয়াকত এভিনিউয়ে গড়ে তোলা ১৬ তলাবিশিষ্ট এ আবাসিক ভবন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীরা এই হলে উঠবে।

বুধবার হলটির দ্বারোদ্ঘাটন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ভার্চুয়ালি যোগ দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। শিক্ষার্থীরা ওঠার পর হলে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শামীমা বেগম বলেন, ‘এত বছর পরে হলটা হয়েছে। দিনটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের৷এই হলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বটা শিক্ষার্থীদেরও নিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ছাত্রদের জন্য একটি হল করার দাবি তুলেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান।

জবি উপাচার্য অধ্যাপক ইমদাদুল হক বলেন, ‘আংশিক হলেও আমরা আবাসিক হতে পেরেছি সেজন্য আনন্দিত। বিশ্ববিদ্যালয় উন্নত হবে, এটাই আমরা চাই। আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব সব সমস্যার সমাধান করতে চাই৷’

গত বছরের ১ অক্টোবর বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে আসন বরাদ্দের জন্য ছাত্রীদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনলাইনে আবেদন চলে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। ১৬তলা বিশিষ্ট এই হলটির ১৫৬টি কক্ষে ছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। হলের নিচতলা ও দোতলায় রয়েছে লাইব্রেরি, ক্যান্টিন ও ডাইনিং।

ঐতিহ্যবাহী কলেজ থেকে ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।অবশেষে দীর্ঘ ১৬ বছর পরে অনাবাসিক তকমা মুছে মেয়েদের একটা হলের ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ।

নাঈম-শাবনাজের ব্যস্ততা

চিত্রনায়ক নাঈমের প্রযোজনায় এর আগে নাটক, টেলিফিল্ম নির্মিত হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর নাঈম শাবনাজের প্রযোজনায় ‘নাঈম প্রোডাকশনের ব্যানারে রোজা ও ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান নির্মিত হতে যাচ্ছে।

এসব অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট ও আরকে সিরামিক্স।

এরইমধ্যে নাঈম-শাবনাজের উপস্থিতিতে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট (এইচবিআরআই) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কারিগরি সহযোগিতায় এবং আরকে সিরামিক্সের কারিগরি সহযোগিতায় পরিবেশবান্ধব বিকল্প নির্মাণ উপকরণ, প্রযুক্তি, টাইলস ও স্যানিটারি বিষয়ক প্রশিক্ষণ আয়োজনে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তার আগে এক আলোচনায় সভায় অংশ নেন নাঈম-শাবনাজ, এইচবিআরইর মহাপরিচালক আশরাফুল আলম ও আরকে সিরামিক্সের সিইও অ্যান্ড সিএফও সাধন কুমার দে।

এ প্রসঙ্গে নাঈম-শাবনাজ বলেন, এমন একটি উদ্যোগের শুরুর মুহূর্তে উপস্থিত থাকতে পেরে আমরা ভীষণ আনন্দিত। আর আমাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ এইচবিআরআই ও আরকে সিরামিক্সকে।

এইচবিআরআইয়ের মহাপরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, সরকারি নির্মাণ প্রকল্পগুলো প্রসারে প্রতিটি স্থাপনাকে দীর্ঘস্থায়ী ও মজবুত করার পূর্বশর্তই হচ্ছে দক্ষ নির্মাণ শ্রমিক ও সঠিক সামগ্রী ব্যবহার করা।

আরকে সিরামিক্সের সিইও অ্যান্ড সিএফও সাধন কুমার দে বলেন, সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় এবং আরকে সিরামিক্সের যৌথ উদ্যোগে নির্মাণ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত।

এই চুক্তির মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। পাঁচ বছরে কম করে হলেও ২৫টি কর্মশালা হবে। কর্মশালা বাস্তবায়নে নাঈম-শাবনাজের প্রযোজনা সংস্থা ও আফতাব বিন তমিজের প্রযোজনা সংস্থা অ্যাডপয়েন্ট দায়িত্ব পালন করবে। এরইমধ্যে এইচবিআরআইয়ের সহযোগিতায় আরকে সিরামিক্স নিবেদিত ‘আমার স্বপ্ন আমার ঘর’ অনুষ্ঠানটি নির্মিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন শ্রাবণ্য তৌহিদা।