শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 359

আবার চালু হলো হিলি রেলস্টেশন

দিনাজপুরের হিলি রেলস্টেশনটির ক্লোজ ডাউন (সাময়িক বন্ধ) প্রত্যাহার করে আবারও চালু হয়েছে। এতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্টেশনটির। স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মাঝে, বাড়তে শুরু করেছে যাত্রীদের আনাগোনা।

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর (হিলি) পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত।

হিলি রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, জনবল সংকটের কারণে গত ৩১ মার্চ হিলি রেলস্টেশনের ক্লোজ ডাউন করে দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। স্টেশনমাস্টারসহ কয়েকজন স্টাফকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। যার ফলে বন্ধ হয়ে যায় হিলি রেলস্টেশনের কার্যক্রম।

গত ১২ দিন ধরে ট্রেন দুই নম্বর লাইনে দাঁড়াত। কিন্তু ক্লোজ ডাউন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বর্তমানে ট্রেন ১নং লাইনে দাঁড়াচ্ছে। ভোগান্তি কমেছে যাত্রীদের।

স্থানীয় এলাকাবাসী মাজহারুল ইসলাম জানান, গত ৩১ মার্চ হিলি রেলস্টেশন মাস্টারকে বদলি করা হলে স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রীদের। বিশেষ করে হিলি থেকে রাজশাহী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করা ছাত্রছাত্রী এবং চিকিৎসা, ব্যবসা, ভ্রমণসহ নানা কারণে ভারতে যাওয়া-আসা করা যাত্রীসহ ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।

তবে এখন হিলি রেলস্টেশনটিতে ১নং প্ল্যাটফরমে ট্রেন দাঁড়াচ্ছে। যাত্রীদের আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না। তবে ঢাকাগামী কয়েকটি ট্রেনের স্টপেজের দাবি যাত্রীসহ স্থানীয়দের।

হিলি রেলস্টেশনে যোগদান করা স্টেশনমাস্টার তপন চক্রবর্তী জানান, এই রেলস্টেশনটি জনবল সংকটের কারনে বন্ধ ছিল। বর্তমানে সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষ বন্ধ হওয়া স্টেশনটি চালু করা উদ্যোগ নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় স্টেশনটি চালু হয়েছে। স্টেশনটি পরিচালনার জন্য একজন স্টেশন মাস্টার, পয়েন্টসম্যান, গেইটম্যান, পোর্টার এই স্টেশনে কর্মরত আছেন।

হাকিমপুর (হিলি) পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত জানান, রেল কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে স্টেশনটি ক্লোজ ডাউন করে দেয়। এতে ২নং লাইনে ট্রেন দাঁড়াত। ভোগান্তিতে পড়তে হতো যাত্রীদের। রেল কর্তৃপক্ষ ক্লোজ ডাউন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ট্রেন বর্তমানে ১নং লাইনে দাঁড়াচ্ছে। ক্লোজ ডাউন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

গোলাপগঞ্জে বজ্রপাতে গ্যাস রাইজারে আগুন

সিলেটের গোলাপগঞ্জে বাজ পড়ে গ্যাস রাইজারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার রণকেলী উত্তর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অন্ধকারের মধ্যে আগুনের লেলিহান দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে স্থানীয়দের মাঝে। পরে বহু চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে উপজেলায় প্রচণ্ড বেগে ঝড় হয়। এ সময় বিকট শব্দে বজ্রপাত হয়। এতে উপজেলার রণকেলী উত্তর গ্রামের প্রয়াত সুরমা মেম্বারের বাড়ির পাশে থাকা গ্যাস রাইজারে বাজ পড়লে আগুন ধরে যায়।

রণকেলী উত্তর গ্রামের রাসেল আহমদ মঙ্গলবার রাতে যুগান্তরকে জানান, ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে অনেক চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনার বিষয়ে থানার এসআই ফয়জুল করিম যুগান্তরকে বলেন, বজ্রপাতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

বুচা শহরে ৪ শতাধিক লাশ উদ্ধার

ইউক্রেনের বুচা শহরে এখন পর্যন্ত চার শতাধিক লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির রাজধানী কিয়েভের কাছেই অবস্থিত এ শহরটির মেয়র এ কথা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার শহরটির মেয়র এই তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।

মেয়র আনাতোলি ফেডোরুক বলেন, কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত ৪০৩ জনের লাশ খুঁজে পেয়েছে। রাশিয়ার দখলদারিত্বে থাকার সময় এসব মানুষকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তারা।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে বুচা শহরটি অবস্থিত এবং কিয়েভে প্রবেশ করতে হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরটি পার করতে হয়। সামরিক অভিযান শুরুর পর পরই ছোট এই শহরটি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং পরে রুশ সেনারা শহরটি ছেড়ে চলে যায়।

বুচার মেয়রের দাবি, রুশ সেনাদের চলে যাওয়ার পরই শহরে এসব লাশ উদ্ধার করা হয় এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

মঙ্গলবারের ওই সংবাদ ব্রিফিংয়ে আনাতোলি ফেডোরুক আরও বলেন, গত মাসের শেষের দিকে রাশিয়ার সৈন্যরা পিছু হটে যাওয়ার পরে বাসিন্দাদের শহরে ফিরে আসা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে গেছে।

রয়টার্স অবশ্য বুচা শহরে মৃত মানুষের সংখ্যা সম্পর্কে মেয়র ফেডোরুকের ওই মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে রয়টার্স বুচায় নিহত পাঁচজনের মরদেহ দেখেছে যাদের মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের মৃত্যুর জন্য কে দায়ী তা স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে পারেনি বার্তা সংস্থাটি।

ভারতের তৈরি প্রথম যাত্রীবাহী বিমানের যাত্রা শুরু

ভারতের তৈরি প্রথম যাত্রীবাহী বিমান আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচল শুরু করেছে। মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় বিমান পরিবহণমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ও কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিরেন রিজিজুকে নিয়ে ডিব্রুগড়ের মোহনপুর বিমানবন্দর থেকে অ্যালায়েন্স এয়ারের ডর্নিয়ের-২২৮ বিমানটি অরুণাচলের পাসিঘাটে পৌঁছায়।

মঙ্গলবার অ্যালায়েন্সের ডিব্রুগড়-লীলাবাড়ি-পাসিঘাট-গুয়াহাটি রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানটি চালু হলেও নিয়মিত ফ্লাইট শুরু হবে ১৮ এপ্রিল থেকে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

উল্লেখ্য, হিন্দুস্তান এরোনটিক্স লিমিটেড এই প্রথম ভারতে যাত্রীবাহী ডর্নিয়ের বিমান তৈরি করেছে।

অ্যালায়ান্সের সঙ্গে দুটি ১৭ আসনবিশিষ্ট ডর্নিয়ার ডিও-২২৮ বিমান লিজে দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে হিন্দুস্তান এরোনটিক্স লিমিটেড।

অ্যালায়ান্স এয়ার জানায়, বিমান প্রকল্পের অধীনে উজানি আসামের ডিব্রুগড় থেকে উত্তর-পূর্বের পাঁচটি শহরে বিমান পরিষেবা চালু করতে যাচ্ছে।

আগামী ১২-১৫ দিনে ডিব্রুগড়-তেজু ও ডিব্রুগড়-জিড়োরোর মধ্যেও ফ্লাইট চালু হবে। এর পর ডিব্রুগড় থেকে টুটিং, মেচুকা ও বিজয়নগর পর্যন্ত বিমান চালানো হবে।
৬৫০ কোটি টাকার হলঙ্গি বিমানবন্দর শিগগিরই চালু হবে।

শতভাগ প্রভিশন রাখার নির্দেশ

ব্যাংকে সংঘটিত জাল-জালিয়াতি, ডাকাতি, তহবিল তছরুপ প্রভৃতি কারণে যেসব অর্থ খোয়া যায়, সেগুলো পুরোপুরিভাবে আদায় না হওয়া পর্যন্ত এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হবে। একই সঙ্গে ওই অর্থকে চিহ্নিত করতে হবে মন্দ বা ক্ষতিজনক সম্পদ হিসাবে।

এমনকি সম্পূর্ণ আদায় না হয়ে আংশিক আদায় হলেও অনাদায়ী অর্থের ওপর শতভাগ প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক। এ ধরনের অর্থকে কোনোক্রমেই অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখানো যাবে না। প্রটেস্টেড বিল খাতেই দেখাতে হবে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সার্কুলারের বিধিবিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ওই সার্কুলারে ব্যাংকগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাবে শুভংকরের ফাঁকি বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী কোনো সম্পদ বা সম্পদ থেকে সুদ বা মুনাফা আদায় না হলে তা নির্ধারিত সময়ের পর সন্দেহজনক মানে চিহ্নিত করে এর বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে। এরপরও যদি তা আদায় না হয়, তাহলে ১ বা ২ বছর পরে মন্দ বা ক্ষতিজনক হিসাবে চিহ্নিত করে এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলো সাম্প্রতিক সময়ে নানাভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাবে ফাঁকি দিয়ে মুনাফাকে স্ফীত বা কাগুজে মুনাফা দেখাচ্ছিল। এতে ব্যাংকের মুনাফা কৃত্রিমভাবে বাড়লেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকগুলো ফাঁপা হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এসব কারণে ব্যাংকগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব সুনির্দিষ্ট করে কোন খাতে সম্পদ, সুদ বা মুনাফা আদায় কতদিনের মধ্যে করতে হবে স্পষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। এর প্রভাবে ব্যাংকগুলোও সংকটে রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগে থেকেই সতর্কতামূলক অবস্থান নিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংকে সংঘটিত জাল-জালিয়াতি, ডাকাতি বা তহবিল তছরুপ হলে ওই অর্থ প্রটেস্টেড বিল নামে একটি খাতে রাখতে হবে। এসব অর্থ কোনোক্রমেই অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখানো যাবে না। কিন্তু ব্যাংকগুলো এসব অর্থ প্রটেস্টেড বিল হিসাবে না দেখিয়ে অন্যান্য সম্পদ খাতে দেখাচ্ছে।

আন্তঃশাখার লেনদেনের কোনো হিসাব সর্বোচ্চ ২ বছর অসমন্বিত থাকলে তা সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকরণ করে এর বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে। ওই হিসাব ২ বছরের বেশি অসমন্বিত থাকলে তা মন্দ বা ক্ষতি হিসাবে চিহ্নিত করে এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক।

ব্যাংকের নস্ট্রো অ্যাকাউন্টের (বিদেশি ব্যাংকে বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকের হিসাব) কোনো হিসাব সর্বোচ্চ ১ বছর অসমন্বিত থাকলে তাকে সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকরণ করে এর বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে। ১ বছরের বেশি অসমন্বিত থাকলে তাকে মন্দ বা ক্ষতি হিসাবে চিহ্নিত করে এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলো ঋণের বিপরীতে প্রাপ্য সুদ আদায় না হলে তা ওই খাতে না দেখিয়ে অন্য খাতে দেখায়। এতে সুদ বাবদ আয় কম হওয়ার চিত্রটি আড়াল করে। ব্যাংকগুলোর এ প্রবণতা রোধ করতে সার্কুলারে বলা হয়, কোনো কারণে ঋণের বিপরীতে প্রাপ্য সুদ ঋণ হিসাবে না দেখিয়ে অন্য খাতে দেখানো হলে তা আবশ্যিকভাবে যথাসময়ে আদায় করে সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসাবে স্থানান্তর করতে হবে। এ সুদ ১ বছরের কম সময়ের মধ্যে আদায় না হলে তাকে সন্দেহজনক হিসাবে চিহ্নিত করে এর বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে। ১ বছরের বেশি সময় আদায় না হলে তাকে মন্দ বা ক্ষতি হিসাবে চিহ্নিত করে এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

একই সঙ্গে কোনো কারণে ঋণের বিপরীতে এ ধরনের সুদ আদায় না হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করে সিআইবিতে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সার্কুলারে। ফলে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ গোপন করার প্রবণতা কমে যাবে।

এতে আরও বলা হয়, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্য সুদ ১ বছরের কম সময়ের মধ্যে অসমন্বিত থাকলে তা সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকরণ করে এর বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে। ১ বছরের বেশি হলে তাকে মন্দ বা ক্ষতি হিসাবে চিহ্নিত করে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হবে। শেয়ার ডিডেভেঞ্চার বেচাকেনার কমিশন, ব্রোকারেজ হাউজের আয় শ্রেণীকরণ ও প্রভিশন খাতে একই নিয়ম মানতে হবে। অগ্রিম সিকিউরিটি সার্ভিসের আওতায় প্রদত্ত আমানত, বাড়ি ভাড়া, ইউটিলিটি বিল প্রভৃতি সর্বোচ্চ ২ বছরের কম সময়ের মধ্যে অসমন্বিত থাকলে সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকরণ করে ৫০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হবে। ২ বছরের মধ্যে সমন্বিত না হলে তা মন্দ বা ক্ষতি হিসাবে চিহ্নিত করে এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অসমন্বিত সঞ্চয়পত্র, ওয়েজ আর্নার্স বন্ড, আর্মি পেনশন ফান্ড, সিভিল পেনশন ফান্ড ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ব্যবসা উন্নয়ন ব্যয়, ভ্রমণ, বিজ্ঞাপন, বেতনভাতা, আপ্যায়ন বিল প্রভৃতি ১ বছরের কম সময়ের মধ্যে অসমন্বিত থাকলে সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকরণ করে ৫০ শতাংশ এবং ১ বছরের বেশি হলে মন্দ হিসাবে চিহ্নিত করে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হবে।

উৎসবে চাঙা অর্থনীতি

করোনায় টানা দুই বছরের স্থবিরতার পর দেশের অর্থনীতিতে এই মুহূর্তে বইছে উৎসবের আমেজ। রমজান, পহেলা বৈশাখ এবং ঈদুলফিতরের কারণে চাঙা হয়ে উঠেছে অর্থনীতি। বাজারে বেড়েছে টাকার প্রবাহ। উৎসবের অর্থনীতির সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই।

তবে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হিসাব বলছে, চলতি মাসেই অর্থনীতিতে অতিরিক্ত আরও দেড় লাখ কোটি টাকা লেনদেন হবে। খাদ্যপণ্য, পোশাক, বিনোদন ও পরিবহণ খাতে এই বাড়তি অর্থ যোগ হচ্ছে।

পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবী, দোকান কর্মচারী, পোশাক ও বস্ত্র খাতের শ্রমিকসহ বিভিন্ন ধরনের শ্রমজীবীদের বোনাসও এই কর্মকাণ্ডে যোগ হবে। এর প্রভাবে ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত শপিংমল পর্যন্ত বেড়েছে বেচাকেনা।

কেনাকাটা বেড়েছে অনলাইনেও। জমে উঠেছে ইফতারির বাজার। গ্রামেও টাকার প্রবাহ বাড়ছে। সবকিছু মিলে উৎসবে চাঙা হয়ে উঠছে অর্থনীতি।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন খাতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘন ঘন হাতবদল হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন বাড়ে, তেমনইভাবে বাড়ে সরকারের রাজস্ব আয়ও। তাদের মতে, অর্থনীতিতে চাহিদা বেড়েছে। এর সঙ্গে সরবরাহ ঠিক রাখতে না পারলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা আছে।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, করোনার কারণে দুই বছর বাজার স্থবির ছিল। এবার একসঙ্গে তিন উৎসব।

অর্থনীতিতে এর একটি ইতিবাচক দিক রয়েছে। কারণ এতে দেশে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ঠিক রাখতে পারলে এই উৎসব পুরোটাই ইতিবাচক বলা যায়।

মির্জ্জা আজিজ আরও বলেন, সরকারি চাকরিজীবী এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও বোনাস দিচ্ছে। বাজারে এই বাড়তি টাকা আসায় কিছু মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। এতে অভ্যন্তরীণ একটি চাহিদা সৃষ্টি হবে। তবে মূল্যস্ফীতিও কিছুটা বাড়তে পারে।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরের হিসাবে দেশের জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) আকার হচ্ছে ৩২ লাখ কোটি টাকা। তবে উৎসবে কত টাকা লেনদেন হয়, এর সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই।

রোজা ও ঈদ উৎসবের অর্থনীতি নিয়ে এফবিসিসিআই-এর সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হেলাল উদ্দিন নিজস্ব একটি সমীক্ষা করেছেন। ওই সমীক্ষায় দেখা যায়, রোজা ও ঈদে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন যোগ হচ্ছে।

সমীক্ষা মতে, পোশাকের বাজারে যোগ হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি যোগ হচ্ছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। জাকাত ও ফিতরা বাবদ আসছে ৬৭ হাজার কোটি টাকা। পরিবহণ খাতে ৮০০ কোটি টাকা।

ঈদকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ ও বিনোদন বাবদ ব্যয় হয় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর বাইরে আরও কয়েকটি খাতের কর্মকাণ্ডে টাকার প্রবাহ বাড়বে।

এর মধ্যে রয়েছে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী, ৬০ লাখ দোকান কর্মচারী এবং তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের ৭০ লাখ শ্রমিকের বোনাস-যা ঈদ অর্থনীতিতে আসছে।

এছাড়া রয়েছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের টাকা। মার্চে ১৮৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ধারণা করছে, এপ্রিলে তা ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। টাকার অঙ্কে যা ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।

জানা যায়, তিন উৎসবের শুরুতেই রমজান। এই মাসে মানুষের পণ্য চাহিদা বাড়ে। বিশেষ করে ইফতারে ব্যবহার হয়, এ ধরনের পণ্যগুলোর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

এর মধ্যে রয়েছে ভোজ্যতেল, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ, চিনি, ডাল, ডিম, ফলমূল, শাকসবজিসহ অন্যান্য আইটেম। রমজানে সারা দেশে ইফতারকেন্দ্রিক কয়েক লাখ মানুষ মৌসুমি ব্যবসা করে।

করোনার কারণে গত দুই বছর এই প্রবণতা কম ছিল। কিন্তু এবার তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

দ্বিতীয় উৎসবের মধ্যে রয়েছে পহেলা বৈশাখ। বাঙালির সর্বজনীন উৎসব এটি। ধর্মবর্ণনির্বিশেষে এই একটি দিনে সবাই যেন বাঙালী হয়ে যায়। বৈশাখের অর্থনীতির সুনির্দিষ্ট আকার নিয়ে এখনো প্রাতিষ্ঠানিক কোনো গবেষণা হয়নি।

তবে সূত্রের হিসাবে লেনদেনের সম্ভাব্য পরিমাণ হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। উৎসবের জন্য সরকার এ বছরও বোনাস দিয়েছে। আগের দুই বছর করোনায় বৈশাখের উৎসব সেভাবে পালন হয়নি।

কিন্তু করোনা না থাকলেও রমজানের কারণে বৈশাখের মূল উৎসব পান্তা-ইলিশসহ দিনের খাওয়া বন্ধ থাকবে। তবে পোশাকের বাজারসহ অন্যান্য কমর্কাণ্ড চলবে। ফলে ইতোমধ্যে বৈশাখের হাওয়া লেগেছে অর্থনীতিতে।

বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক, রকমারি বাঙালি খাবার, কার্ড ও মোবাইলে শুভেচ্ছা বিতরণ, মেলা এবং হালখাতার মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব। খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশাখে বিশেষ অফার দিচ্ছে।

ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডে রয়েছে আকর্ষণীয় অফার। ফ্যাশন হাউজগুলোয় বাহারি রং ও ডিজাইনের বাঙালি পোশাকের সমারোহ। নতুন পোশাক কিনতে হাউজগুলোয় প্রতিদিনই ভিড় ভাড়ছে।

ফুটপাত থেকে শুরু করে নামিদামি শপিংমল পর্যন্ত সবখানেই বৈশাখের ছাপ পড়েছে। ক্রেতা আকর্ষণে বিভিন্ন কোম্পানি বিশেষ মূল্যছাড় দিয়েছে। গত কয়েক বছরে অনলাইনে কেনাকাটায় গ্রাহকের আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

এই উৎসবের মূল আকর্ষণ ইলিশ। বর্তমানে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও বিভিন্ন হিমঘরে (কোল্ড স্টোরেজ) মজুত করা ইলিশ বাজারজাত শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। পিছিয়ে নেই নিত্যপণ্য, ফুল, মৃৎশিল্প এবং গহনার ব্যবসায়ীরা।

গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই বৈশাখ ঘিরে জমজমাট-বাংলা নববর্ষ বরণ করতে প্রস্তুত। গ্রামগঞ্জে চলছে অসংখ্য মেলার আয়োজন। শহরের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে বৈশাখী তাঁতমেলা। এসব কর্মকাণ্ড ঘিরে অর্থনীতির লেনদেন বাড়ছে কয়েক গুণ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈশাখে বেশি কেনাকাটা হয় পোশাক। বছরে যেসব কেনাকাটা হয়, এর ২০ শতাংশই বৈশাখে। দুই ঈদে মিলে ৬০ শতাংশ। বাকিটা সারা বছর। শাড়ি, পাঞ্জাবি এবং ফতুয়া বেশি বিক্রি হয়।

এশিয়ার বৃহত্তম মার্কেট যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা যায়, বিপণিবিতানগুলোয় অভিজাত ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের জন্য সব ধরনের বৈশাখী সাজ ও পোশাক কিনতে ব্যাপক ভিড়। ব্যস্ত নামিদামি ব্র্যান্ডের শোরুমগুলো।

বিশেষ করে আড়ং, অঞ্জনস, দেশি দশ, নবরূপা, মেট্রো, জেন্টলপার্ক, ইনফিনিটি, ক্যাটস আইসহ দেশের সব শীর্র্ষ ব্র্যান্ডগুলো বৈশাখী পোশাকের পসরা সাজিয়েছে। বিভিন্ন ধরনের পেশাকে ৫ থেকে ৫০ শতাংশ মূল্যছাড়ে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া প্রায় প্রতিটি দোকানে ঘুড়ি, মুখোশ ও লাল-নীল বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। এসব শোরুমে ক্রেতারা তাদের পছন্দসই পোশাক কিনতে ভিড় করছে। যমুনা ফিউচার পার্কে বেচাকেনায় আমেজ চলছে।

মেয়েদের জন্য রং-বেরঙের থ্রি-পিস, কুর্তি, শাড়ি ও ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি, ফতুয়া বেশি বিক্রি হয়। আর শিশুদের জন্যও রয়েছে দারুণ সংগ্রহ। আর গতবারের তুলনায় এবার পোশাকের দাম বেশি হবে না। সবকিছু মিলে বৈশাখকে ঘিরে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি এসেছে।

বৈশাখের পরেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুলফিতর। ঈদে স্বাভাবিকভাবেই টাকার প্রবাহ বাড়ে। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের বোনাস, ব্যবসার টাকা, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ এবং জাকাত-ফিতরা মিলিয়ে অর্থনীতিতে নতুন করে দেড় লাখ টাকা যোগ হয়।

এর একটি অংশ ইতোমধ্যে গ্রামে চলে গেছে। ঈদ ও রোজার বাড়তি খরচ মেটাতে কৃষকের ঘরে মজুত ধান বা অন্যান্য ফসলের একটি অংশ বিক্রি শুরু হয়েছে। তরমুজের মতো মৌসুমি ফলের ব্যবসাও জমে উঠে এসেছে।

এছাড়াও অর্থবছর শেষ হয়ে আসায় সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ খরচ করার ধুম পড়েছে। ফলে সবকিছু মিলে টাকার স্রোত এবার গ্রামের দিকে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই টাকার বড় অংশই যাচ্ছে ভোগবিলাসে।

আর কিছু অংশ যাচ্ছে গ্রামের বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও কুঠিরশিল্পভিত্তিক উৎপাদন খাতে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থার (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. এমকে মুজেরী বলেন, রোজার ঈদে টাকার প্রবাহ সবচেয়ে বেশি বাড়ে।

এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই টাকা পোশাক, ভোগ্যপণ্য, শৌখিনতা, ভ্রমণসহ বিনোদনমুখী খাতে বেশি হচ্ছে। কাজেই এটা একটা বড় ভূমিকা রাখে অর্থনীতিতে। তিনি আরও বলেন, উৎসব অর্থনীতির আকার, ধরন ও ব্যাপ্তি আগের চেয়ে বেড়ে গেছে।

মানুষ এই উৎসব ঘিরে প্রচুর পরিমাণ অর্থ খরচ করেন। এতে উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী প্রত্যেকে কিছু না কিছু লাভবান হচ্ছেন। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

জানা যায়, অতিরিক্ত চাহিদা পূরণে এবার বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। এগুলো এখন তা খুচরা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে। ঈদুলফিতরে বেশি অর্থব্যয় হয় নতুন পোশাক ক্রয়ে।

মার্কেটগুলোয় সব বয়সি মানুষের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক বেচাকেনা হচ্ছে। এসময় অভ্যন্তরীণ পোশাকে চাহিদা বাড়ে ব্যাপক হারে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আমাদের ধারণা-করোনার পর এবার ব্যবসা জমে উঠবে।

তবে এখনো আশা অনুসারে সাড়া আসেনি। কিন্তু এখনো সময় আছে। আশা করছি, আগামী দিনে বেচাকেনা আরও বাড়বে।

‘দুদকে বিএনপি নেতাদের মহড়া নিজেদের দুর্নীতি আড়ালের অপচেষ্টা’

বিএনপি নেতারা দুর্নীতি দমন কমিশনে গিয়ে যে মহড়া দিয়েছেন তা নিজেদের দুর্নীতি ও ব্যর্থতা আড়ালের অপচেষ্টা মাত্র বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার সকালে তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপির কথিত আন্দোলন আর অভ্যুত্থানের রঙিন খোয়াব ভেঙে যাওয়ায় তারা জনগণের নজর এখন ভিন্ন দিকে নিতে চায়।

তিনি বলেন, কর্মী-সমর্থকদের রোষানল থেকে বাঁচতেই বিএনপি নেতারা দুর্নীতির তথ্য প্রদানের নামে নাটকীয়তার আশ্রয় নিচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে বলেন, অনেক তথ্যই সরকারের কাছে আছে, কে কোথায় সভা করছেন, কাকে টাকা দিচ্ছেন, এমনকি সরকারের বিরোধিতার নামে রাষ্ট্রবিরোধী কাজে উসকানির জন্য দুর্নীতিলব্ধ অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

কারা কর ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করে আবার দুর্নীতিবাজ নেতৃত্বের জন্য অবৈধ উপায়ে অর্থ পাঠাচ্ছেন—সব খবরই সরকারের কাছে আছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এসব অপরাধী কেউই ছাড় পাবে না।

হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার রায় আজ

প্রথিতযশা লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে হত্যা মামলার রায় আজ ঘোষণা করবেন আদালত।

ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল-মামুন এ রায় ঘোষণা করবেন।

এর আগে গত ২৭ মার্চ ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল-মামুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) ৪ সদস্য সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন, আনোয়ারুল আলম ওরফে আনোয়ার, মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ও নুর মোহাম্মদ। এর মধ্যে সালেহীন ও নূর পলাতক এবং বাকি ২ জন কারাগারে আছেন।

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আসামিরা অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে ছুরিকাঘাত করে। সে সময় তিনি একুশে বইমেলা থেকে বাসায় যাওয়ার জন্য রিকশায় উঠছিলেন।

হামলার পর হুমায়ুন আজাদ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ২৬ দিন চিকিৎসা নেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্যাংককে পাঠানো হয় এবং ৪৭ দিন পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

হামলার ১ দিন পর তার ভাই মঞ্জুর কবির বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।

অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হয়।

২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আদালত ৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

হামলার ৩ বছর পর ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর সিআইডির পরিদর্শক কাজী আবদুল মালেক ৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন।

২০০৯ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার একটি আদালত হমায়ুন আজাদের ভাই মঞ্জুর কবিরের একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি আরও তদন্তের নির্দেশ দেন।

পুনঃতদন্তের পর সিআইডি ৫ জেএমবি নেতাকে অভিযুক্ত করে একটি নতুন চার্জশিট দাখিল করে এবং ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল এটিকে হত্যা মামলায় পরিণত করতে আদালতে আবেদন করে।

আসামিদের মধ্যে হাফিজ প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

তদন্তকালে মিনহাজ ও নুর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

শাহবাজ শরিফকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন

পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৩ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী এ অভিনন্দন জানান বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, এই অঞ্চলের দেশগুলো যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তা নিরসনে নিজেদের স্বার্থে সবগুলো দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদী।

এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শাহবাজ শরিফকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ও সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গত ১১ এপ্রিল শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ১৭৪ জন সদস্য শাহবাজ শরীফের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে কেউ ভোট দেননি কেউ।

এই ১৭৪ জন সদস্যই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়।

এসএসসি-এইচএসসির সিলেবাস ও নম্বর নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

২০২৩ সালের মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষাও সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা ২০২২ সালের জন্য পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসে হবে। আর এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষাও ২০২২ সালের জন্য ১৮০ কর্মদিবসের পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসে হবে।

মন্ত্রী জানান, আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে এবং উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা জুনে অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া পরীক্ষা পূর্ণ নম্বরে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা সব বিষয়ে হবে এবং পূর্ণ নম্বরে হবে।

তবে এ বছর জেএসসি পরীক্ষার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলে জানান মন্ত্রী। মহামারির কারণে গত দু বছর অষ্টম শ্রেণির এ সমাপনী পরীক্ষা হয়নি।

সাধারণত ফেব্রুয়ারিতে মাধ্যমিক এবং এপ্রিলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়ে এলেও করোনাভাইরাস মহামারী সেই সূচি পাল্টে দিয়েছে।

২০২০ সালে কোভিডের সংক্রমণ শুরুর আগেই এসএসসির পরীক্ষা নিতে পেরেছিল সরকার। পরে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সে বছর আর এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। তার বদলে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন ফল দেওয়া হয়।

দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ২০২১ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষাও পিছিয়ে যায়। নয় মাস পিছিয়ে নভেম্বরে এসএসসি ও আট মাস পিছিয়ে ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকায় গতবছর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয় তিন বিষয়ে। আর এইচএসসি পরীক্ষা হয় তিন বিষয়ের ছয়টি পত্রে।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার্থীরা নবম শ্রেণিতে ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে ওমিক্রনের প্রভাব শুরু হওয়ার আগে চলতি বছর ১৪ মার্চ পর্যন্ত সপ্তাহে দু’দিন করে সরাসরি ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছে তারা। এর মধ্যে ২০ জানুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওমিক্রনের সংক্রমণে আবারও প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

তিনি জানান, গেল ১৫ মার্চ থেকে তারা সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রমে সপ্তাহে ছয় দিন করে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এই নবম ও দশম শ্রেণিতে মিলে সর্বমোট ১৬২ কর্মদিবস শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সুযোগ পাবে। যেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় তারা ৩১৬ কর্মদিবস ক্লাস করার কথা। তাছাড়া এই শিক্ষার্থীরা ২০২০ সালে ৮ম শ্রেণিতে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষাতেও অংশ নিতে পারেনি। এমনকি নবম শ্রেণির পরীক্ষাও দিতে পারেনি।

এসব দিক বিবেচনায় ২০২৩ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষা ২০২২ সালের পরীক্ষার জন্য ঘোষিত সিলেবাস অনুসারেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি এসময় আরও উল্লেখ করেন, ‘যদিও এই পুরো সময়টায় তারা টেলিভিশনের ক্লাসে এবং অনলাইন ক্লাসে অংশ নিয়েছে, অ্যাসাইনমেন্ট করেছে। এসব ক্লাস এবং অ্যাসাইনমেন্টগুলো ২০২২-এর পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ১৫০ কর্মদিবসের পরিমার্জিত পাঠ্যসূচি অনুসারেই পরিচালিত হয়েছে।’