বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 277

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাড়ল বরাদ্দ

২০২২-২৩ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ খাতে নতুন অর্থবছরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বাজেটের ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও জিডিপির ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৭ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা। এ হিসাবে বরাদ্দ বেড়েছে ৫ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১১ লাখ উপকারভোগী বাড়ানো হচ্ছে।

দেশে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী খাতের আওতায় ১২৩টি কর্মসূচি বা বিষয় রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে ২৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এগুলোর মধ্যে ৮টি কর্মসূচি হচ্ছে নগদ ভাতা, আর ১১টি খাদ্য সহায়তা।

নতুন বাজেটে খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক কল্যাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসৃজন, অবসর ও পারিবারিক ভাতা এবং অন্যান্য এই মোট ছয় খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী বাজেটে খাদ্য নিরাপত্তায় ১৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বাজেটে এ খাতে ১৮ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সে হিসাবে বরাদ্দ বাড়ছে ৫৭০ কোটি টাকা।

খাদ্য নিরাপত্তায় ওএমএস, ভিজিডি, ভিজিএফ, কাবিখা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি রয়েছে। নতুন বাজেটে সামাজিক কল্যাণ খাতে ৩৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চলতি বাজেটে ৩২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা রয়েছে। এ খাতের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, বেদে, হিজড়া, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করা হয়। আগামী বছরের বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়নে ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বাজেটে রয়েছে ৫ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা উপবৃত্তি, প্রাথমিক ছাত্রছাত্রী উপবৃত্তি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তিতে এ টাকা খরচ করা হবে।

কর্মসৃজন খাতে আগামী বছরের নতুন বাজেটে ১৯ হাজার ৭০০ কোটি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ রয়েছে ১৮ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা। কাবিখা, উন্নয়ন প্রকল্প বা কর্মসূচিতে এই বরাদ্দের টাকা ব্যয় হয়। অবসর ও পারিবারিক ভাতায় নতুন বাজেটে ২৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে রয়েছে ২৬ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা।

বয়স্ক, বিধবা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি দিতে এ টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়া নতুন বাজেটে ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৬ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বাজেটে এ খাতে ৪ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আওতা বাড়ছে শুধু বয়স্ক ও বিধবাদের ক্ষেত্রে। এই কর্মসূচির আওতায় নতুন করে আরও ১০০ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এতে যুক্ত হবে ১১ লাখ নতুন উপকারভোগী। সব মিলিয়ে নতুন বাজেটে এর সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৮ লাখ। তবে ভাতার পরিমাণ বাড়বে না। এ কর্মসূচির আওতায় গত তিন অর্থবছর ধরে উপকারভোগীরা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন, যা আগামী বছরেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ল ১০০ টাকা : প্রতিবন্ধীদের জন্য ৭৫০ টাকা করে ভাতা রয়েছে বর্তমানে। আগামী অর্থবছর থেকে এটা ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ২০ লাখ ৮ হাজার প্রতিবন্ধীর জন্য ভাতা বরাদ্দ ছিল। উপকারভোগীর সংখ্যা আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫৭ হাজার বাড়িয়ে ২৩ লাখ ৬৫ হাজারে উন্নীত করা হবে। নতুন অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা বাবদ ২ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মা ও শিশুসহায়তা কর্মসূচি : এ ছাড়া শহর ও গ্রাম মিলিয়ে ৭ লাখ ৭০ হাজার দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং ২ লাখ ৭৫ হাজার কর্মজীবী মায়ের জন্য ভাতা দিয়ে আসছে সরকার। দুটি কর্মসূচিকে এক করে আগামী অর্থবছর থেকে নতুন নাম দেওয়া হচ্ছে ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ কর্মসূচিতে মোট উপকারভোগীর ১০ লাখ ৪৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৯ হাজার বৃদ্ধি করে আগামী অর্থবছরে ১২ লাখ ৫৪ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। এ খাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ১ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা।

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাড়ছে না : নতুন বাজেটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো হয়নি। ২০২১-২২ অর্থবছর হতে সব শ্রেণির বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা ন্যূনতম ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংবলিত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) ও সমন্বিত তালিকা করা হয়েছে।

এছাড়া, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি নিশ্চিত করতে তাদের অনুকূলে স্মার্ট কার্ড ও ডিজিটাল সনদপত্র প্রদান কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের সব জেলা-উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

পাচারের অর্থ ফেরালে অপরাধ মাফ

বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফেরাতে বিশেষ ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তাই আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রথমবারের মতো পাচারকারীদের ট্যাক্স অ্যামনেস্টি (আয়কর দিলে দণ্ড মাফ) সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ পন্থায় কেউ অর্থ ফেরত আনলে দেশের অন্য কোনো আইনেও এ নিয়ে প্রশ্ন করা হবে না। এক্ষেত্রে পরিশোধ করতে হবে নির্ধারিত কর। এ সুবিধা এক বছরের জন্য দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যেভাবেই হোক বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করলে বা বিদেশ থেকে রপ্তানির অর্থ দেশে না আনলে বিদ্যমান আইনে সেটি অর্থ পাচার হিসাবে বিবেচিত হয়। অনিচ্ছাকৃতভাবে বা আইনের ভয়ে যে অর্থ বিদেশে রাখা হচ্ছে, তা দেশে আনতে অনেকেই ভয় পেয়ে থাকেন।

এ ধরনের ব্যক্তিদের জন্যই মূলত আগামী বাজেটে ট্যাক্স অ্যামনেস্টি দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট অঙ্ক কর দিয়ে যে কেউ তার আয়কর রিটার্নে ওই অর্থসম্পদ প্রদর্শন করতে পারবেন। এই অর্থসম্পদের বিষয়ে সরকারের অন্য কোনো সংস্থা প্রশ্ন করবে না এবং প্রচলিত আইনে বিচারের আওতার বাইরে থাকবেন।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অর্থ পাচার করলে অথবা অর্থ পাচারের চেষ্টা, সহায়তা বা ষড়যন্ত্র করলে সর্বনিম্ন ৪ বছর ও সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়াও অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুণ মূল্যের সমপরিমাণ বা ১০ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেই অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে অপরিশোধিত অর্থদণ্ডের পরিমাণ বিবেচনায় অতিরিক্ত কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান আছে। পাশাপাশি আদালত অর্থদণ্ড বা দণ্ডের অতিরিক্ত হিসাবে দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে তিনভাবে ট্যাক্স অ্যামনেস্টি দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, বিদেশে স্থাবর সম্পত্তি থাকলে সেই সম্পত্তি দেশের আয়কর রিটার্নে দেখাতে চাইলে ১৫ শতাংশ আয়কর দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, অস্থাবর সম্পত্তির ওপর ১০ শতাংশ কর দিতে হবে।

তৃতীয়ত, কেউ বিদেশ থেকে টাকা দেশে আনলে সেই টাকার ওপর ৭ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে দেখাতে পারবেন। এক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাবে টাকা যোগ হওয়ার আগেই কর পরিশোধ করতে হবে। সব ক্ষেত্রেই অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন করা হবে না। এমনকি আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে না।

স্থাবর সম্পত্তি হচ্ছে এমন সম্পদ, যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যায় না। যেমন: জমি, ফ্ল্যাট, আবাসিক ভবন, শিল্পকারখানা বা জমিতে অবস্থানরত সম্পদ (গাছপালা)। আর অস্থাবর সম্পত্তি হচ্ছে স্থানান্তরযোগ্য সম্পদ। যেমন: অর্থ, অলংকার, ঘড়ি বা অন্য মূল্যবান ধাতব পদার্থ। যেগুলো সহজেই স্থানান্তর করা যায়।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ১৭টি দেশ ট্যাক্স অ্যামনেস্টি সুবিধা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইতালি, গ্রিস, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, মালয়েশিয়া, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, পর্তুগাল, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন ও আমেরিকার কয়েকটি রাজ্য এ সুবিধা দিয়েছে। করের স্বর্গরাজ্য থেকে অর্থ ফেরাতে ২০১৬ সালে ইন্দোনেশিয়া সরকার ট্যাক্স অ্যামনেস্টি সুবিধা দেয়। এ সুবিধা দিয়ে ৯ মাসে দেশটি ৯৬১ কোটি ডলার কর আদায় করে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের সুযোগ দেওয়া ঠিক নয়। এটা অনৈতিক কাজকে আরও উৎসাহিত করবে। যদি কেউ বুঝতে পারে বিদেশে টাকা পাচারের পর তা দেশে আনতে কর ট্যাক্স দিয়েও বৈধ করা যাবে, তাহলে মানুষ কেন ২৫-৩০ শতাংশ হারে ট্যাক্স দেবে। আর অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়েও কালোটাকা সাদা করা যায়নি। নতুন নিয়মে কেউ টাকা দেশে আনবে বলে মনে হয় না।

এদিকে ডলার সংকট কাটাতে বিদেশ থেকে ডলার আনার প্রক্রিয়াও সহজ করেছে সরকার। ফলে প্রবাসী আয় বাবদ দেশে যত পরিমাণ ডলার পাঠানো হোক না কেন, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করবে না এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো। আবার এর বিপরীতে আড়াই শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনাও দেওয়া হবে।

এর আগে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার বা পাঁচ লাখ টাকার বেশি আয় পাঠাতে আয়ের নথিপত্র জমা দিতে হতো। যে কারণে এর চেয়ে বেশি অর্থ একবারে পাঠাতে পারতেন না বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশ থেকে তাদের অবাধে টাকা আনতে আর কোনো বাধা থাকবে না। এ নিয়ে বিদেশেও কেউ প্রশ্ন করবে না, আর দেশে তো করবেই না। সরকারের সিদ্ধান্তে গত ২৩ মে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, ‘এর ফলে দেশে প্রবাসী আয় বাড়বে। কিন্তু প্রকৃত উপকার পাবেন দুর্নীতিবাজ আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। তারা অবৈধ টাকা বিদেশে পাঠিয়ে বৈধ চ্যানেলে তা দেশে নিয়ে আসবেন। এতে তাদের কালোটাকা সাদা হয়ে যাবে। তবে সংকট কাটাতে এই অর্থ দেশের জন্য উপকারে আসবে। কারণ, ডলারের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে ডলার প্রয়োজন।’

‘ঘোষিত বাজেট উচ্চাভিলাষী’

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, ‘২০২২-২৩ ঘোষিত বাজেট উচ্চাভিলাষী। করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এমনিতেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। আর এ কারণেই জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েই চলছে, এমন বাস্তবতায় বিশাল বাজেটকে উচ্চাভিলাষী বাজেট বলতে হচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রীর বাজেট উপস্থাপনের পর জাতীয় সংসদের টানেলে সাংবাদিকদের কাছে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘বাজেটে আড়াই লাখ কোটি টাকা ঘাটতি দেখানো হয়েছে। যা জিডিপির ৫ শতাংশের ওপরে। আবার ৩৬ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর ভরসা করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেশি হলে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ সংকুচিত হতে পারে। আবার বিদেশি ঋণের পরিমাণ ১৪ দশমিক দুই ভাগ। দিনে দিনে বিদেশি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে শ্রীলংকার মতো বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হারে টাকার মূল্য কমছে। মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জীবন কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিশ্ববাজার থেকে কিনে ভর্তুকি দিয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে বিক্রির জন্য একটি উদ্যোগ থাকা উচিত ছিল। পাশাপাশি গত বছরের চেয়ে ৪২ হাজার কোটি টাকা বেশি কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত কর আদায়ের বিরূপ প্রভাব সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট আরও বেড়ে যাবে।’

এ সময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঙা এমপি, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরিফা কাদের এমপি।

বাজেট নিয়ে যা বললেন মঈন খান

প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, ‘জনপ্রতিনিধিত্ব বিহীন এই সরকার দেশের কোটি কোটি দরিদ্র মানুষের কোভিড পরবর্তী চরম মূল্যস্ফীতিজনিত দুঃসহ জীবনযাপন ও দৈনন্দিন সংগ্রামের বিষয়টি সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়ে এমন একটি বাজেট উপস্থাপন করেছে, যা দেশের মুষ্টিমেয় ধনিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষায় তৎপর হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অবাক হওয়ার কিছু নেই, এতে করে লাভবান হবে সরকার সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ গোষ্ঠী। অন্যদিকে নতুন বাজেটের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আরও চরম অবস্থায় পতিত হবে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী।’

প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

প্রস্তাবিত এই বাজেটের বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মঈন খান ওইসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাজেটের আকার বেড়েছে সন্দেহ নেই, কিন্তু এই ঢাউস বাজেটের যে দিকটি সরাসরি দেখা যায় না সেটা হচ্ছে, অবাধ মুদ্রা সরবরাহের বিষয়টি। কেউ জানে না, বাংলাদেশ ব্যাংক কত নতুন নতুন নোট ছাপিয়ে বাজার সয়লাব করে দিচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে জনগণের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। ইনফ্লেশন সরকারি হিসাবে ৬ শতাংশের কিছু ওপরে, কিন্তু বাস্তবে সেটা ১২ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি হিসাবের দ্বিগুণ। বর্তমান বছরের বাজেটের ফলে এই পরিস্থিতি আরও নাজুক আকার ধারণ করবে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয়, ডলারের বিপরীতে স্বল্পতম সময়ে টাকার মারাত্মক অবমূল্যায়ন ও দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। এই বাজেটে তার কোনো সমাধান নেই। ’

মঈন খান বলেন, ‘বাজেট ঘাটতি বিষয়টি লক্ষ্য করুন। ৩৬ শতাংশ, অর্থাৎ এক তৃতীয়াংশেরও বেশি। ফলে সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের বিষয়টি না-ই বা ব্যাখ্যা করলাম। এর চাপও কিন্তু দরিদ্র জনগণের ওপরেই পড়বে।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘নতুন ট্যাক্স আরোপের বিষয়টি লক্ষ্য করুন। করপোরেট ট্যাক্স কমেছে, কিন্তু ট্যাক্স ফ্রি তিন লাখ টাকার সীমা এক টাকাও বাড়েনি। মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘দরিদ্র দেশের একটি বাজেটের মৌলিক দিক হলো উন্নয়ন বাজেট বনাম রাজস্ব বাজেটের অনুপাত। আমরা দেখছি, একদিকে উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগ নিয়েছে ভৌত অবকাঠামোর মেগা প্রজেক্টগুলো। সঙ্গে সঙ্গে আশঙ্কা হচ্ছে মেগা দুর্নীতির। কাজেই অধিকতর ব্যাখ্যায় না যাওয়াই হয়ত উত্তম। পাশাপাশি অনুন্নয়ন ব্যয় অথবা এখন যাকে অন্য নামে বলা হয় পরিচালনা ব্যয়, তার পরিমাণ ৪ লাখ কোটির ওপর। রাজনৈতিক সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রশাসন ও সাপোর্ট সিস্টেমকে খুশি রাখতে হবে তো!’

মঈন খান বলেন, ‘বাজেটে বিরাট অঙ্কের ভর্তুকি। লাখ কোটি টাকা। প্রশ্ন হচ্ছে, এগুলো কার পকেটে যায়? আমরা অতীতে দেখেছি, কীভাবে একই টেলিফোন নাম্বারে কতবার প্রণোদনা যায়, কার কাছে যায়! এগুলো এখন মানুষের কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট।’

‘এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন আসবে, বিগত দুই বছরে যে লাখ হাজার কোটি টাকার ওপরে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল, সে টাকা গেল কই? তার মধ্যে একটি টাকাও কি পরিশোধ করা হয়েছে? জনগণ জানতে চায়। শুনি রপ্তানি নাকি হু হু করে বাড়ছে। তাহলে প্রণোদনার টাকা পরিশোধ হচ্ছে না কেন? কারা কারা এই প্রণোদনা পেয়েছে ও কী পরিমাণ পরিশোধ করেছে, তার ওপরে সরকারের শ্বেতপত্র চায় জনগণ।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘এক কথায় বলতে হয়, এ বাজেট জনগণের জন্য নয়; এবারের বাজেট বর্তমান কঠিন সময়ের প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ একটি বাস্তবতা বিবর্জিত বাজেট। কেবলমাত্র সরকারের আশীর্বাদপুষ্টদের জন্যই করা হয়েছে।’

ইয়াবা-হেরোইনসহ ৪১ জনকে গ্রেফতার

বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং হেরোইনসহ ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও বেচাকেনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার একই সময় পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ১০৬৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট বড়ি, ৩৭৫ গ্রাম ২৫ পুরিয়া হেরোইন, ১৫ কেজি ২২৪ গ্রাম গাঁজা ও ৬ লিটার দেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩০ টি মামলা করা হয়েছে।

‘নতুন ভোটারদের মধ্যে অনীহা ও ভীতি জন্মেছে’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অস্বচ্ছ করার জন্য যদি ইন্টারনেট ব্ল্যাক আউট করা হয়, তাহলে সেই নির্বাচনই ব্ল্যাক আউট (বন্ধ) করে দেওয়া হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সংলাপের একপর্যায়ে সিইসি এসব কথা বলেন। এ সংলাপে দেশের ৩২ নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এতে অংশ নেন ২০ জন প্রতিনিধি।

সংলাপে পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। মুভ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাইফুল হক নির্বাচনের সময় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইন্টারনেট বন্ধ না করার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, বিগত কয়েক নির্বাচনে ভোট না দিতে পারার কারণে নতুন ভোটারদের মধ্যে অনীহা ও ভীতি জন্মেছে। তাই নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহী করতে দেশব্যাপী ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি করা যেতে পারে।

তার ওই বক্তব্যের রেশ ধরে সিইসি বলেন, নির্বাচনকে অস্বচ্ছ করার জন্যই যদি কোনো ব্ল্যাক আউট করা হয়, তাহলে আমরা নির্বাচন ব্ল্যাক আউট করে দিতে পারি-এমন পদক্ষেপ হয়তো আমাদের নিতে হবে। আমরা হয়তো নির্বাচন ব্ল্যাক আউট করে দেব। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, নির্বাচন স্বচ্ছ হতে হবে। নির্বাচন নিয়ে কূটকৌশল কেউ করতে পারবেন না। নির্বাচনকে আড়াল করার জন্য কেউ ব্ল্যাক আউট করলে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য থাকবে সেটা টলারেট করা হবে না। এটুকু সাহস আমার (সিইসি) ও আমার সহকর্মীদের (নির্বাচন কমিশনারদের) রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সংলাপে ৮ দফা প্রস্তাবনা দেয় মুভ ফাউন্ডেশন

১) নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা বা অন্য কোনো কারণ দেখিয়ে ইন্টারনেট বন্ধ (Blackout, Block or Throttle) না করা। এটি মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের ২০নং ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, এবং এ ব্যাপারে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটির ২০২০ সালের ১২৯ নং সভার সিদ্ধান্ত আছে। পর্যবেক্ষণের সুবিধা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত রাখতে কোনো গণতান্ত্রিক দেশই ইন্টারনেট বন্ধ রাখে না। ২০২১ সালে পৃথিবীর মাত্র ৪টি দেশ, যথাক্রমে – নাইজার, রিপাবলিক অফ কঙ্গো, উগান্ডা, এবং জাম্বিয়া নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ রেখেছিলো – যেগুলো স্বৈরতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত।

২) বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া অনেকটাই বিদেশি সহায়তা নির্ভর। এরকম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে কমিশনের নিজস্ব তহবিল থেকে সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে পর্যবেক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এতে কমিশনের সঙ্গে সংস্থাগুলোর কাজের যেমন সমন্বয় হবে, তেমনি নির্বাচনে কথিত বিদেশী হস্তক্ষেপ বা সংস্থাগুলোর বাইরের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অহেতুক বিতর্ক উঠার পথও বন্ধ হবে। পূর্বে কমিশনের সঙ্গে বিভিন্ন আলোচনায় বিষয়টি উঠে এলেও এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

৩) অনেক ক্ষেত্রেই নির্বাচনের আগের দিন রাতেও পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র ও যানবাহনের স্টিকার প্রদান করা হয়। ফলে সময়মতো পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা ও কর্ম পরিকল্পনা ঠিক রাখা দুরূহ হয়ে পড়ে। এজন্য নির্বাচনের কমপক্ষে ৭ দিন আগে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তাব করা হয়।

৪) কেন্দ্র ও বুথে বহিরাগত ও সন্ত্রাসীদের চলাচল অবাধ হলেও পর্যবেক্ষকদের গমন ও কাজের ক্ষেত্রে প্রায়শই বাধা প্রদান করা হয়। অথচ আইনে পর্যবেক্ষকদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা কাম্য। সেইসঙ্গে আইনের ব্যত্যয় ঘটলে তাৎক্ষনিক শাস্তি প্রদানের নিয়ম করার প্রস্তাব করা হয়

৫) সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা এবং হলফনামায় প্রার্থীদের এ সংশ্লিষ্ট তথ্য যুক্ত করার বিধান রাখার ও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬) নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব অগণতান্ত্রিক ধারা আইনে আছে (যেমন–নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর), সেগুলো রদ করে প্রার্থীতার পথ উন্মুক্ত রাখা যাতে দলীয় বৃত্তের বাইরেও সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। এতে ভোটারদের পছন্দমতো জনপ্রতিনিধি বাছাই করার আরও বিকল্প সৃষ্টি হবে।

৭) বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার কারণে নতুন ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের অনীহা ও ভীতি জন্মেছে। তাই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও তরুণদেরকে আগ্রহী করতে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সহায়তায় দেশব্যাপী ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু করা যেতে পারে।

৮) নিজেদের ইমেজ ও আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে কমিশনের বিতর্কিত কিছু বিষয় (যেমন–কাকে নির্বাচনে আনতে হবে, কার ইভিএম লাগবে ইত্যাদি) পরিহার করে সুচিন্তিত বক্তব্য প্রদান করা সমীচীন। আমরা মনে করি এগুলো সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছেই ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং তাদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে। এতে কমিশনের নিরপেক্ষতাও নিশ্চিত হবে, আবার নির্বাচনের মান ও প্রক্রিয়া নিয়েও জনমানসে ধোঁয়াশা তৈরি হবে না।

ভ্যারিকোস ভেইনের উপসর্গ কী, চিকিৎসা

ত্বকের ঠিক নিচের শিরাগুলো যখন মোটা হয়ে ফুলে উঠে একেবেঁকে সর্পিলভাবে অগ্রসর হয়, তখন তাকে ভ্যারিকোস ভেইন বলা হয়। ভ্যারিকোস ভেইন মূলত পায়ে হলেও শরীরের অন্য স্থানেও হতে পারে।

এমনটি হলে মাঝে মাঝে শরীর বেশ চুলকায়। দেখতেও বিশ্রী। অনেক সময় অস্ত্রোপচার করা লাগে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবুল হাসান মুহম্মদ বাশার।

ত্বকের নিচে অবস্থিত পায়ের সবচেয়ে বড় শিরা- লং স্যাফানাস ভেইন (Long saphenous Vein) এবং এর উপশাখাগুলো এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। পায়ের পাতার উপরিভাগ এবং গোড়ালি ও পায়ের ভেতরের দিক থেকে শুরু হয়ে ওপরে উরুর ভেতরের দিকে এসব আঁকাবাঁকা শিরাগুলোর শাখাপ্রশাখা বিস্তৃত হয়। ‘শর্ট স্যাফানাস ভেইন’ (Short saphenous Vein) নামে পায়ের অপেক্ষাকৃত ছোট আরেকটি শিরা ও তার উপশাখাগুলোও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এদের বিস্তৃতি মূলত হাঁটু ও পায়ের পেছন বা বাইরের দিকে।

ভ্যারিকোস ভেইনের উপসর্গ

ভ্যারিকোস ভেইন দৃষ্টিকটু একটা রোগ। সঙ্গত কারণেই এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বিশেষ করে মহিলারা তাদের আক্রান্ত পা নিয়ে বিব্রত বোধ করেন। প্রাথমিক অবস্থায় পায়ে ব্যথা অনুভূত হয়, পা ভারী বোধ হয় এবং হাঁটতে ক্লান্তি লাগে। পরবর্তী সময়ে পায়ের আক্রান্ত অংশ ফুলে যায়, অল্প আঘাতে ফুলে যাওয়া শিরা থেকে রক্তক্ষরণ হয়, শুকনো বোধ হয়, চুলকায় ও আক্রান্ত অংশের চামড়ার রং কালো হয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে আক্রান্ত অংশে ঘা হয়, যা সহজে শুকাতে চায় না বা শুকালেও আবার দেখা দেয়।

ভ্যারিকোস ভেইনের সম্ভাব্য জটিলতা

ভ্যারিকোস ভেইন থেকে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা অপেক্ষাকৃত কম। ক্ষেত্রবিশেষে নিচের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে-

* আক্রান্ত শিরাগুলো থেকে বারবার রক্তক্ষরণ হতে পারে।

* সময়মতো চিকিৎসা না করালে ভ্যারিকোস ভেইন থেকে সৃষ্ট চুলকানি ও ত্বকের নিচে জমা হতে থাকা রক্তের লৌহজাত উপাদান থেকে ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

* আক্রান্ত শিরাগুলোর ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়ে কখনও কখনও হঠাৎ তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে।

* শিরার ভেতরে জমাট বাঁধা এ রক্ত ছুটে গিয়ে ফুসফুসে আটকাতে পারে, যার কারণে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে যদিও এ আশংকা খুব কম।

* ভ্যারিকোস ভেইন থেকে সৃষ্ট ঘা ক্ষেত্রবিশেষে ক্যান্সারেও রূপ নিতে পারে।

ভ্যারিকোস ভেইন কেন হয়

পায়ের শিরার কথা যদি ভাবি, তাহলে দেখা যায়, স্বাভাবিক নিয়মে এ শিরার ভেতর দিয়ে রক্ত নিচ থেকে ওপরের দিকে অর্থাৎ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিপরীতে প্রবাহিত হয়। শিরার ভেতরে নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর ’ভাল্ব’ বা ’কপাটিকা’ থাকে। রক্ত যেহেতু তরল, এর স্বাভাবিক প্রবণতা হল নিচের দিকে প্রবাহিত হওয়া। পায়ের মাংসপেশির সংকোচন বা মাসল পাম্প (Muscle Pump) ও শিরার ভাল্বগুলো শিরার ভেতর দিয়ে প্রবাহমান তরল রক্তের এ সম্ভাব্য নিম্নমুখী প্রবাহকে প্রতিহত করে ও এর ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহকে নিশ্চিত করে। ভ্যারিকোস ভেইনে আক্রান্ত শিরার পথে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভাল্বের (কুচকির কাছে সেফানো-ফেমোরাল জাংশান অথবা হাঁটুর পেছনে সেফানো-পপলিটিয়াল জাংশান) কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়, ফলে রক্তের স্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ বিঘ্নিত হয় ও রক্ত নিচের দিকে নেমে যেতে থাকে। ফলে শিরার ভেতরে রক্তের চাপ বেড়ে যেতে থাকে। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে শিরাগুলো ফুলে গিয়ে ভ্যারিকোস ভেইনের সৃষ্টি করে। কেন শিরার এ ভাল্ব বা কপাটিকার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়, তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও নিম্নলিখিত ব্যাপারগুলোর ভূমিকা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

* শিরার দেয়ালের গঠনে জন্মগত দুর্বলতা।

* বেশি ওজন ও বেশি বয়স।

* সন্তান ধারণ।

* দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকা।

এর সব ভ্যারিকোস ভেইনের কারণ না হলেও এরা সমস্যাকে প্রকট করে তুলতে পারে।

চিকিৎসা

প্রাথমিক পর্যায়ে অপারেশন ছাড়াই ভ্যারিকোস ভেইনের চিকিৎসা বা কমপক্ষে এর লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ পর্যায়ে করণীয় হচ্ছে-

* পা উঁচুতে রাখা

* একটানা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে বা বসে না থাকা

* বিশেষ ধরনের মোজা ও বিশেষ কিছু ওষুধ ব্যবহার করা।

একটা পর্যায়ে ভ্যারিকোস ভেইনের চিকিৎসায় অপারেশন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। মূলত দুই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে-

সনাতন পদ্ধতির অপারেশন : এ অপারেশনে কাটাছেঁড়ার মাধ্যমে আক্রান্ত ফুলে যাওয়া শিরাগুলো তুলে ফেলা হয় ও রোগের কারণও নির্মূল করা হয়। রোগের বিস্তার খুব বেশি হলে সব জায়গায় কাটাছেঁড়া না করে কোনো কোনো জায়গায় ফুলে যাওয়া শিরার ভেতরে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করে এগুলোকে বন্ধ করে দেয়া হয়। এ চিকিৎসা পদ্ধতি স্কেলেরোথেরাপি (Sclerotherapy) নামে পরিচিত। পরবর্তী সময়ে এসব শিরা ধীরে ধীরে চুপসে যায়।

লেজার (Endovenous Laser Ablation) ও রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (Radio-Frequency Ablation) : এটাই ভ্যারিকোস ভেইন চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে কাটাছেঁড়া না করেই রোগের কারণ নির্মূলে লেজার বা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে ব্যবস্থা নেয়া হয়। ফুলে যাওয়া শিরাগুলো নির্মূলে প্রয়োজনে স্কেলেরোথেরাপির সাহায্য নেয়া হয়। কাটাছেঁড়া করতে হয় না বলে উন্নত বিশ্বে লেজার এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন চিকিৎসা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও এসব পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

ফুলে যাওয়া শিরাগুলোও যেহেতে রক্ত চলাচলের একটা পথ, প্রশ্ন উঠতে পারে যে ওগুলো ফেলে দিলে বা বন্ধ করে দিলে রক্ত চলাচলে অসুবিধা হতে পারে কিনা। এর উত্তর- ‘না’। কারণ প্রথমত ফুলে আঁকাবাঁকা হয়ে যাওয়া শিরাগুলো এমনিতেই রক্ত চলাচলে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। দ্বিতীয়ত, মানবদেহের মাংসের গভীরে আরও মোটা শিরা বা ডিপ ভেইনস (Deep Veins) রয়েছে। রক্ত পরিবহনে এদের ভূমিকাই মুখ্য। তাই ত্বকের নিচের ফুলে যাওয়া শিরাগুলো ফেলে দিলেও কোনো অসুবিধা হয় না। মাংসের গভীরে বিন্যস্ত এ শিরাগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা- অপারেশনের আগেই তা বিশেষ একটি পরীক্ষার (ভাস্কুলার ডপ্লার বা ডুপ্লেকক্স) মাধ্যমে দেখে নেয়া জরুরি। অন্যথায় ভ্যারিকোস ভেইনের অপারেশন করা নিয়মসিদ্ধ নয়। ভ্যারিকোস ভেইনের অপারেশন ও তার পূর্ববর্তী মূল্যায়ন একজন অভিজ্ঞ রক্তনালির সার্জনের হাতেই হওয়া বাঞ্ছনীয়।

লেজার বা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন নাকি সনাতন পদ্ধতির অপারেশন

ভ্যারিকোস ভেইন চিকিৎসায় ওপরে বর্ণিত সব পদ্ধতিই কার্যকর। লেজার এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশনের বড় সুবিধা হল কাটাছেঁড়া করতে হয় না বলে অপারেশনের তুলনায় সুস্থ হতে রোগীর সময় বেশ কম লাগে। এ মুহূর্তে আমাদের দেশে লেজার বেশ ব্যয়বহুল এবং এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। লেজার চিকিৎসার পর অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানে বা তার আশপাশে ভ্যারিকোস ভেইন আবারও দেখা দিতে পারে। সেই তুলনায় সনাতন শল্য চিকিৎসার দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল সবার জানা। সঠিকভাবে করা হলে এ অপারেশনের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রায় স্থায়ীভাবে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। আমাদের দেশে ভ্যারিকোস ভেইনের রোগীরা যখন চিকিৎসা নিতে আসেন, রোগ তার আগেই অনেক বেশি বিস্তৃতি লাভ করে ফেলে। এসব ক্ষেত্রে কিছু কাটাছেঁড়া প্রায় অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন জরায়ু ক্যান্সার

জরায়ু ক্যান্সার নারীর একটি জটিল রোগ। অনেক সময় উপসর্গ দেখা দিলেও অজ্ঞতার কারণে রোগী বোঝেন না যে তার ক্যান্সার হয়েছে। অথচ সতর্ক হলে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে জরায়ু ক্যান্সার থেকে বেঁচে থাকা যায়।

জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন সেন্ট্রাল হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বেদৌরা শারমিন।

প্রতি বছর পৃথিবীতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার নারী জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এ ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীরা অসুখ হওয়ার প্রথম অবস্থায় চিকিৎসা না করানোর ফলে তাদের বেঁচে থাকার হার ৫০ শতাংশ কমে যায়। যারা প্রথম থেকেই চিকিৎসা করান তাদের বেঁচে থাকার সম্ভবনা থাকে ৯৫ শতাংশ।

অনেকেই মনে করেন যে এই অসুখটি হয়তো প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পরে হয়ে থাকে কিন্তু এটি ভুল ধারণা। যে কোনো বয়সেই নারীদের জরায়ু ক্যান্সার হতে পারে। বিশেষ করে ৫০ বছর বয়স্ক কিংবা এর থেকেও বেশি বয়সের নারীরা জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে শিল্পোন্নত দেশের নারীরা বেশি জরায়ু ক্যান্সারে অধিক আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং অন্যদিকে আফ্রিকান, আমেরিকান ও এশিয়া প্রদেশের নারীদের এই ক্ষেত্রে জরায়ু ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম।

জরায়ু ক্যান্সারকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়ে থাকে। কারণ এ অসুখ দেখা দিলে অনেক নারীই এর কিছু কিছু লক্ষণ বুঝতে পারেন না। কিংবা ভিন্ন লক্ষণ দেখা দিলেও গুরুত্ব দেন না। তাই সুস্থ থাকতে এ অসুখের পূর্ববর্তী কিছু লক্ষণ সম্পর্কে জেনে রাখুন।

জরায়ু ক্যান্সারের পূর্ববর্তী কিছু লক্ষণ

* নিম্নাঙ্গের চারপাশে চাপ লাগা কিংবা ঘনঘন মূত্রত্যাগ করা

* গ্যাস, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য। হালকা খাবারের পর পেট ভর্তি লাগা, পেটে অস্বস্তি লাগা, ইত্যাদি। পেটের কোনো সমস্যা খুব বেশি হলে তা জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।

* অন্য সময়ের থেকে পেটে অনেক পরিবর্তন দেখা দেয়া।

* পেটে অতিরিক্ত ব্যথা কিংবা পেট ফুলে থাকা।

* বমি বমি ভাব কিংবা বারবার বমি হওয়া।

* ক্ষুধা কমে যাওয়া।

* অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পাওয়া কিংবা ওজন অনেক বেশি কমে যাওয়া।

* যৌনমিলনের সময় ব্যথা পাওয়া।

* অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করা।

* নারীদের মেনোপজ হওয়ার পরও ব্লিডিং হওয়া।

আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মেডিকেল শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ!

রংপুর মহানগরীর পরশুরাম থানা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন রায় হারার বিরুদ্ধে মেডিকেল শিক্ষার্থীকে রুমে আটকে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ওই কাউন্সিলরসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনের নামে মামলা করেছেন।

এ ঘটনায় রংপুর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশসহ অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। কাউন্সিলর হারাকে গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা। নইলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ার দেন তারা।

তবে আওয়ামী লীগ নেতা হারাধন রায় মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর কুকরুলের বাসিন্দা রংপুর মেডিকেল কলেজের ৪৬ ব্যাচের ছাত্র চন্দন কুমার বর্মণ তার বোনকে নিয়ে সোমবার দুপুরে ভোটার নিবন্ধনের কাজে রংপুর সিটি করপোরেশনে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে কাউন্সিলর হারাধন রায় হারার কাছে প্রত্যয়ন চান তারা।

এ সময় কাউন্সিলর হারা রমেক ছাত্র চন্দন ও তার বোনকে রোহিঙ্গা, অন্য জেলায় অপরাধ করে রংপুর নগরীর বাসিন্দা হওয়ার অপচেষ্টা করছে বলে তাচ্ছিল্য করেন। সেই সঙ্গে প্রত্যয়ন দিতে অস্বীকৃতি জানান।

কাউন্সিলের কথার প্রতিবাদ করলে ওই ছাত্রের সঙ্গে কাউন্সিলরের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এরপর চন্দন ও তার বোন সিটি করপোরেশন থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে কাউন্সিলর হারাধন ও তার লোকজন চন্দনের কলার টেনে চড়-থাপ্পড়সহ গালিগালাজ করেন। এ সময় ভাইকে বাঁচাতে গেলে চন্দনের বোনের শ্লীলতাহানির চেষ্টাসহ চন্দনকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে কাউন্সিলর ও তার লোকজন- এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

খবর পেয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা সিটি করপোরেশনে গিয়ে চন্দন ও তার বোনকে উদ্ধার করে কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসসহ মেডিকেল মোড় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলসহ মহাসড়ক অবরোধ করে কাউন্সিলর হারাধনের শাস্তির দাবি জানান।

পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। এরপর শিক্ষার্থীরা রংপুর মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. বিমল রায়কে স্মারকলিপি দেন। সেই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা না হলে কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেন শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চন্দন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় কাউন্সিলর হারাধন হারাসহ ১৫-২০ অজ্ঞাতদের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

তবে মারপিটের বিষয়টি অস্বীকার করে রংপুর সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পরশুরাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারাধন রায় হারা বলেন, তারা আমার কাছে নাগরিক সার্টিফিকেট নিতে আসছিল। মেয়েটির কথাবার্তা সন্দেহ হলে আমি তাকে প্রত্যয়নপত্র দেইনি। এ নিয়ে তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) হোসেন আলী। তিনি বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজের ছাত্র চন্দন রায় কাউন্সিলর হারাধনের নামসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাত করে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতি

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন চারুকলা ইনস্টিটিউটে শিক্ষক নিয়োগে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম থেকে চতুর্থ স্থান অধিকারীকে বাদ দিয়ে অন্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনুত্তীর্ণ আবেদনকারীকেও শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করারও অভিযোগ ওঠে। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের করা তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতারা বলছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীর নামে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি রুগ্ণ হয়ে পড়বে।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালনা কমিটির প্রতিষ্ঠাকালীন কার্যকরী সদস্য হোসাইন মোহাম্মদ ফারুক যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন প্রকাশ্য জালিয়াতির ঘটনা আছে কিনা আমার জানা নেই। যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন তাদের বাদ দিয়ে অন্য সাবজেক্টের লোকদের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ইনস্টিটিউটের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ৭টি সাবজেক্টে ১৩ জন উত্তীর্ণ হন, যার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন হোসাইন মোহাম্মদ ফারুক। কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে তালিকায় থাকা প্রথম চারজন বাদ দিয়ে অন্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হননি এমন আবেদনকারীকেও শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানিও করা হচ্ছে।

ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রউফকে ২ থেকে ৫ জুন অনেকবার ফোন ও এসএমএস দিলেও সাড়া দেননি। ইনস্টিটিউটের সভাপতি ফকির আজমল হুদা যুগান্তরকে বলেন, ‘নিয়োগের বিনিময়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। যারা উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পেতে চাচ্ছেন তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে। তাদের নামে মামলা করেছি।’ অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে হোসাইন ফারুকের সার্টিফিকেট ও লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর থাকার পরও ভাইভাতে কেন মাত্র ২ নম্বর দেওয়া হলো এমন প্রশ্নের উত্তরে কাগজ দেখে তথ্য দিতে হবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন : শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন চারুকলা ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠানের নানা অনিয়মের অভিযোগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের জন্য নাট্যকলা ও ছাপচিত্রের শিক্ষক নিয়োগ, যাদের ইন্টারভিউ কার্ড পাওয়ার কথা না তাদেরকেই নিয়োগ দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। অবৈধভাবে সভাপতির শ্যালিকা দিলুয়ারা বেগমসহ একাধিকজনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছ। অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ঈশ্বরচন্দ্রকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে নিয়োগ বিশেষজ্ঞ হিসাবে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের স্বাক্ষর জাল করার সত্যতা পেয়েছে ইউএনওর তদন্ত কমিটি।

ফকির আজমল হুদা বলেন, ‘আমরা নিয়ম অনুযায়ীই কাজ করেছি। কোনো জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি।’ তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম গত সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ইনস্টিটিউট নিয়ন্ত্রকদের কথামতো নিয়োগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আমাকে হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপ-উপাচার্য হারুন-অর-রশিদও জানেন। এরপর আমার স্বাক্ষর জাল করার ঘটনা ঘটছে বলে শুনেছি।

তদন্তের সুপারিশ : এমপিওভুক্ত করা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাডেমিক সনদসহ নিয়োগ বিজ্ঞাপন নিরীক্ষা করা। স্থগিত মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে অধ্যক্ষ নিয়োগ। চারুকলাবান্ধব কমিটি গঠন। অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিষয়ে হোসাইন মোহাম্মদ ফারুক, মাইদুল ইসলাম খান, সোহেল পারভেজ ও গ্রাফিক ডিজাইনে ইসরাত জাহানকে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ। মো. রুবেল মিয়া (নৈশপ্রহরী) ও শিরীন আক্তারের (ঝাড়ুদার) নিয়োগ ও এমপিওভুক্তিকরণ।