রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 239

ন্যাটোর দাবি হাস্যকর ও মর্যাদাহানিকর: ল্যাভরভ

মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো নিজেকে ‘নিছক প্রতিরক্ষা জোট’ দাবি করে যে বক্তব্য দিয়েছে তাকে ‘হাস্যকর ও মর্যাদাহানিকর’ বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া।

শুক্রবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলারুশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশে বক্তৃতা করার সময় এ কথা বলেন।

সম্প্রতি ন্যাটো জোটের একাধিক সদস্য দেশের কর্মকর্তারা এই জোটকে আত্মরক্ষামূলক জোট বলে দাবি করেন।

এর জবাবে ল্যাভরভ বলেন, সম্প্রতি হোয়াইট হাউজের একজন প্রতিনিধি এ কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন যে, রাশিয়া বা অন্য কারো ন্যাটোকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; কারণ, ন্যাটো একটি আত্মরক্ষামূলক জোট। ‘প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরা এ ধরনের বাজে কথা বলতে পারেন দেখে আমাদের হাসি পায়। এ ধরনের কথাবার্তা মর্যাদাহানিকর।’

ন্যাটো জোট প্রতিষ্ঠা এবং ওয়ারশ জোট ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে এটির সংঘাতপূর্ণ অবস্থানের ইতিহাস স্মরণ করে ল্যাভরভ বলেন, ওয়ারশ চুক্তি এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্তিত্ব বহু আগে শেষ হয়ে গেলেও পূর্বদিকে নিজের বিস্তার পাঁচগুণ বাড়িয়েছে ন্যাটো।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষুব্ধ স্বরে প্রশ্ন করেন, তাহলে ন্যাটো এতদিন কাদের মোকাবিলায় নিজেকে রক্ষা করেছে?

ল্যাভরভ বলেন, কেউ যখন সামনের দিকে অগ্রসর হয়, নতুন নতুন দেশকে নিজের করায়ত্বে আনে এবং সে সব দেশে সামরিক সরঞ্জাম ও সমরাস্ত্র মোতায়েন করে তখন তাকে মোটেই আত্মরক্ষা বলে না বরং একে তার উল্টোটাই বলতে হয়।

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে বৃহস্পতিবার ন্যাটো জোটের বার্ষিক সম্মেলন শেষ হওয়ার পর শুক্রবার এ বক্তব্য দিলেন সের্গেই ল্যাভরভ। মাদ্রিদ সম্মেলনে নিজের পূর্ব ফ্রন্টে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যাটো।

এছাড়া মাদ্রিদ সম্মেলন থেকে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দুদেশ সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: তাস নিউজ

‘ওডেসায় হামলায় পুতিনকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে’

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ওডেশাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোয় রাশিয়াকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে জার্মানি।

শুক্রবার ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অ্যাখায়িত করেছে জার্মান সরকার।

জার্মানি সরকারের এক মুখপাত্র সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এ ঘটনায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে’।

শুক্রবার ভোরে ওডেসায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষেবা (এসবিইউ)। এদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ছয় শিশুসহ ৩৮ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, রুশ বোমারু বিমান থেকে তিনটি ‘এক্স-২২’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। যদিও মস্কো এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে।

কৃষ্ণ সাগরের কৌশলগত ফাঁড়ি স্ন্যাক আইল্যান্ড (সাপের দ্বীপ) থেকে রুশ সেনাদের বিতাড়িত করার একদিন পর এই হামলা চালানো হলো।

সূত্র: আলজাজিরা।

দেশে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নয়

ডলার সাশ্রয় করে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে দেশে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত বেশি কার্যকর হবে।

এ ছাড়া দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী যেসব পণ্য স্থানীয় উৎপাদিত হয় সেগুলোর আমদানিও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। একই কারণে বাণিজ্যিকভাবে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্য আমদানিতে ব্যাংকগুলো বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় প্রায় বন্ধ রেখেছে।

সূত্র জানায়, রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে পণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন বাড়ানো হয়েছে। বিলাসী পণ্য আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু এতেও পণ্যের আমদানি ব্যয় কমেনি। বরং বেড়েই চলেছে। তবে বিলাসী পণ্যের এলসি খোলা কিছুটা কমেছে। এগুলোর আমদানি আরও কমাতে এলসি মার্জিনের হার বাড়িয়ে শতভাগ করা হচ্ছে।

বৈদেশিক সহায়তার প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থ ছাড়ের শর্ত অনুযায়ী বিদেশ থেকে কিছু পণ্য আমদানি করতে হয়। অথচ ওইসব পণ্য দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। দেশি পণ্য ব্যবহার না করে বিদেশ থেকে এনে ব্যবহারের ফলে দেশি পণ্য মার খাচ্ছে।

অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। কাজেই বিদেশি সহায়তানির্ভর যে প্রকল্পে দেশে উৎপাদিত হয় এমন পণ্য বিদেশ থেকে আমদানির শর্ত রয়েছে-সেগুলো বাস্তবায়নে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। তবে যেসব পণ্য দেশে উৎপাদিত হয় না, কেবল সেগুলো আমদানিতে কোনো বাধা নেই।

নতুন করে যেসব বৈদেশিক সহায়তানির্ভর প্রকল্প নেওয়া হবে সেগুলোতে দেশে উৎপাদিত হলে ওই পণ্য ব্যবহারের সুযোগ রেখে বিদেশ থেকে একই পণ্য আমদানির শর্ত পরিহার করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ডলার সংকটের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করতেই এমন পদক্ষেপ।

এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করতে আমদানির বিকল্প পণ্য দেশে উৎপাদনের জন্য কৃষকসহ সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মসলাজাতীয় পণ্য, তৈলবীজ, দুধ, কৃষি পণ্য উৎপাদনে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এসব খাতে সহজে ও কম সুদে ঋণ দিতে একটি বিশেষ তহবিল গঠন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির বিপরীতে সরকার থেকেও বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, রিজার্ভ সাশ্রয় করতে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এগুলো সবই সাময়িক। তবে আমদানির বিকল্প পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণের জোগান বাড়ানো হয়েছে। আরও বাড়ানো হবে। এ জন্য একটি বিশেষ তহবিলও গঠন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, প্রতি বছর অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্য আমদানিতে ৯৭০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে যা মোট আমদানি ব্যয়ের ৪৭ শতাংশ। আমদানির ৫৩ শতাংশই ব্যয় হয় শিল্প খাতে। ১২ শতাংশ ব্যয় খাদ্যপণ্য আমদানিতে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। সম্পদের বণ্টনে বৈষম্যের কারণে একটি বড় ধনিক শ্রেণিও তৈরি হয়েছে। ফলে বিলাসী পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এগুলোর আমদানি স্থায়ীভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়। কৃষি ও শিল্প খাতের অনেক পণ্য দেশে উৎপাদন হচ্ছে। এগুলোর ব্যবহার বাড়ালে ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব। কোনো পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলেই আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়। এটি ঠিক নয়। বাজারে ওই পণ্যের চাহিদা, সরবরাহ ও উৎপাদন ঠিক থাকলে আমদানি না করে বাজার তদারকি করেও দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এতে ডলার সাশ্রয় হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, দেশে উৎপাদন সম্ভব এমন পণ্য প্রতি বছর আমদানি হয় ৫০০ কোটি ডলারের বেশি। ৩০০ কোটি ডলারের বেশি শুধু বিলাসী পণ্য আমদানি হয়। প্রতি বছর দেশে প্রায় ৬৮১ কোটি ডলারের ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়। এর মধ্যে চাল ও গম ১৮১ কোটি ডলার, চিনি ও লবণ ৭৫ কোটি ডলার, দুধ ৩২ কোটি ডলার, ডাল ২৬ কোটি ডলার, পেঁয়াজ ১৬ কোটি ডলার, মসলা ৪০ কোটি ডলার, অন্যান্য পণ্য ১৫৭ কোটি ডলারের আমদানি হচ্ছে।

এসব পণ্য দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে পাম ও সয়াবিনের চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ভোজ্যতেল আমদানি কমানো সম্ভব হবে। পরিশোধিত ভোজ্যতেল ৯৩ কোটি এবং অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি হচ্ছে ৫১ কেটি ডলারের। অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের চেয়ে পরিশোধিত তেলর দাম ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি। ফলে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি করে দেশীয় কোম্পানিতে পরিশোধ করে বাজারজাত করলে অর্ধেক অর্থ সাশ্রয় হবে বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

দেশে তেলবীজ উৎপাদন বাড়িয়ে এ আমদানি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের বীজ আমদানি হচ্ছে ৬৬ কোটি ডলারের। এ খাতেও আমদানি কমানো সম্ভব।

প্রতি বছর গড়ে বিভিন্ন ফল আমদানি হয় ৪৮ কোটি ডলারের। এর বিকল্প হিসাবে দেশে ফলের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্পের মধ্যবর্তী কাঁচামালের মধ্যে ১৭ কোটি ডলারের সিমেন্ট আমদানি হচ্ছে। অথচ দেশেই চাহিদার চেয়ে বেশি সিমেন্ট উৎপাদন হচ্ছে। একই সঙ্গে রপ্তানিও হচ্ছে। পেপার ও পেপার বোর্ড দেশে উৎপাদন হচ্ছে। অথচ বছরে আমদানি হচ্ছে ২৪ কোটি ডলারের। এগুলোও আমদানি কমানো সম্ভব। দেড় কোটি ডলারের ডিজেল ইঞ্জিন আমদানি হচ্ছে। এগুলোও দেশে তৈরি সম্ভব।

দেশে টাইলসের বাজার স্বয়ংসম্পূর্ণ। বৈদ্যুতিক তার, কাঠ, সিমেন্ট, রড, এসব চাহিদা অনুযায়ী দেশে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু তার পরও বিদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫৬০ কোটি ডলার এসব পণ্য আমদানি হয়। এর মধ্যে সিরামিক টাইলস আমদানি করা হয় ৮৭ কোটি ডলারের। অথচ দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছর বিদেশে প্রায় ৭৭ কোটি ডলারের সিরামিক টাইলস রপ্তানি হচ্ছে। একইভাবে বিদেশ থেকে প্রতি বছর ৫৮ কোটি ডলারের সিরামিক পণ্য আমদানি করা হচ্ছে। অথচ দেশে উৎপাদিত সিরামিক সামগ্রী প্রতি বছর ৮২ কোটি ডলারের রপ্তানি করা হচ্ছে।

এর বাইরে সরকার খাদ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বিভিন্ন সময় চাল, ডাল, গম, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে থাকে। এ খাতেও বাড়তি ডলার ব্যয় হচ্ছে। দেশে উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থায় তদারকি করে এ খাতেও আমদানি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিলাসী পণ্যের মধ্যে বছরে গড়ে চার কোটি ডলারের পশুপাখি, ৮১ লাখ ডলারের পশুপাখির উপকরণ, ছয় কোটি ডলারের মাছ, ৩৩ কোটি ডলারের দুধ, ডিম ও মধু, ৫৫ লাখ ডলারের সবজি, কফি, চা ও মসলা আমদানি হয় ৪০ কোটি ডলারের, দুই কোটি ডলারের বাদাম, ১৭ লাখ ডলারের জুতা, ফার্নিচার ৯০ লাখ ডলারের, ছাতা আমদানি হয় ৩৭ লাখ ডলারের।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের তেল রফতানি ৩ গুণ বেড়েছে

মার্কিন কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের তেল রফতানি ৩ গুণ বেড়েছে। এই তথ্য জানিয়েছে অপরিশোধিত তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক।

সংস্থাটি শুক্রবার তার বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে এই সংস্থার তেল খাতে আয় শতকরা ৭৭ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর মেহের নিউজের।

ওপেকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ২০২১ সালে তেল বিক্রি করে ২৫ বিলিয়ন ৩১৩ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

২০২০ সালের তুলনায় ইরানের এই আয় ছিল তিন গুণেরও বেশি। ২০২০ সালে ইরান মাত্র ৭ বিলিয়ন ৯১৪ মিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি করেছিল।

ওপেক এমন সময় ইরানের তেল বিক্রির এই পরিসংখ্যান তুলে ধরল যখন তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বলেছিল, ইরানের তেল বিক্রি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে। তবে তেহরানও ঘোষণা দিয়েছিল, দেশটি যতটুকু পরিমাণ তেল রফতানি করতে চাইবে তা আটকানোর সাধ্য কারো নেই।

বর্তমান জো বাইডেন প্রশাসন ট্রাম্প প্রশাসনের ইরাননীতি হুবহু অনুসরণ করে গেলেও বেড়েছে দেশটির তেল রফতানি।

এদিকে ওপেক জানিয়েছে, গত বছর তেল রফতানি করে সংস্থাভুক্ত দেশগুলো ৫৬০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে যা তার আগের বছরের তুলনায় শতকরা ৭৭ ভাগ বেশি।

২০২০ সালে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট ওপেক তেল খাতে আয় করেছিল মাত্র ৩১৭ বিলিয়ন ডলার।

‘মেট্রোপলিটন সরকার’ গঠনের দাবি জেএসডির

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে ‘মেট্রোপলিটন সরকার’ গঠনের দাবিতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার জেএসডি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা হয়।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবুল মোবারকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে দলের কার্যকরী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর জেএসডির সমন্বয়ক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, মহানগরের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়োজনে ‘মেট্রোপলিটন সরকার’ গঠন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিনিধি সমন্বয়ে ‘মেট্রোপলিটন কাউন্সিল’ গঠিত হবে। নির্বাচিত মেয়রের নেতৃত্বে মেট্রোপলিটন উপদেষ্টা কাউন্সিল ও মেট্রোপলিটন প্লানিং কমিশন ইত্যাদি গঠনের মধ্য দিয়ে মহানগরকে আধুনিক ব্যবস্থায় উন্নীত করা হবে। মেট্রোপলিটন সরকার সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকবে। এই নতুন ব্যবস্থাপনায় জনগণের সব অংশের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে এবং মানুষের মনে অংশীদারিত্বের চেতনা জাগ্রত হবে।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য ইউসুফ সিরাজ খান মিন্টু, ঢাকা মহানগর পশ্চিমের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাইনুর রহমান, ঢাকা মহানগর পূর্বের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নাসিম, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক কামাল উদ্দিন মজুমদার সাজু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক আবদুল মান্নান, মইনুল আলম রাজু।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পশ্চিমের যুগ্ম আহবায়ক মোস্তফা কামাল, যুগ্ম আহবায়ক মো. ফারুক হোসেন, উত্তরের যুগ্ম আহবায়ক মো. নাসির উদ্দিন স্বপন, মো. ফজলুর ইসলাম খান, আলমগীর কবির কচি, আবুল বাশার হারুন, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহবায়ক মো. শামীম, মো. জিয়াউল হক জিয়া, মো. ইসমাঈল হোসেন, মহানগর পূর্বের যুগ্ম আহবায়ক কামরুল আহসান অপু, মো. আবুল কালাম, মো. রোবেল, মো. কামরুল হুদা লাভলুসহ চার মহানগরের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আ.লীগ নেতা মুকুল বোস আর নেই

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মুকুল বোস আর নেই।

তিনি চেন্নাই এপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছেন।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুকালে মুকুল বোসের বয়স ছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মুকুল বোসের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

মুকুল বোস দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। তাকে ১ জুন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের সবশেষ কাউন্সিলের পর ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি মুকুল বোসকে দলটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য করা হয়। এর আগে তিনি দলের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

করোনা মহামারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে: সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী

করোনা মহামারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এমপি।

তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষের ধারণা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া যায় না। কিন্তু সেটি ভুল। করোনা মহামারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছু হয়েছে যেটা অন্য সময়ে হয়তো এত দ্রুত হতো না। এই সময়ে আমাদের সক্ষমতা জানান দেওয়া হয়েছে যে একদিনে এক কোটি ২০ লাখ টিকা আমরা দিতে পারি।
রাজধানীর গুলশান শুটিং ক্লাবে বিএসএফ কনভেনশন হলে শুক্রবার (১ জুলাই) ‘হেলথ বন্ধু’র ডিজিটাল হেলথকেয়ার ইকোসিস্টেমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল হক বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালের ন্যায় ব্যবস্থাপনায় কিছুটা পিছিয়ে। হঠাৎ অসুস্থ হলে রোগীকে দ্রুত সময়ে কোথায় নেওয়া যেতে পারে সেটি ডিজিটাল মাধ্যমে পাওয়া যেতে পারে। নতুন ডিজিটাল হেলথকেয়ার সিস্টেম ‘হেলথ বন্ধু’ সেই ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে সব সময়ই সেবা পৌঁছানো কঠিন। তাই ডিজিটাল মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে এ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে অন্যান্য সব কিছুর মতো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও পুরোপুরি ডিজিটালে রূপান্তর করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও প্রধামন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইমেরিটাস অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, কোভিড নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বড় বড় দেশের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারতে লাখ লাখ মানুষ করোনায় মারা গেছে। সেসব দেশে কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত। সেখানে আমাদের অনেক কম। পৃথিবীর ১২১টি দেশের মধ্যে আমরা পঞ্চম। আরও এগিয়ে যেতে হবে।

সৌদিতে আরও ২ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

সৌদি আরবে হজ করতে যাওয়া আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আইটি হেল্প ডেস্ক জানিয়েছে, শুক্রবার ঢাকার তপন খন্দকার (৬১) নামে একজন মারা যান। আগেরদিন বৃহস্পতিবার মারা যান সিরাজগঞ্জের রফিকুল ইসলাম (৪৭)।

এ নিয়ে এ বছর হজ করতে গিয়ে ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য জানাল মন্ত্রণালয়।

মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। এদের মধ্যে আটজন মক্কায় এবং দুজন মদিনায় মারা গেছেন।

বাংলাদেশ থেকে এ বছর সরকারিভাবে ৪ হাজার ১১৫ জন এবং বেসরকারিভাবে ৫৫ হাজার ৮৮৫ জন হজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

গত ৫ জুন বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরুর পর এ পর্যন্ত ৫০ হাজার ২১৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ১৪ জুলাই। বাংলাদেশিদের নিয়ে ফিরতি শেষ ফ্লাইট ৪ আগস্ট।

হুইলচেয়ারে বসেই দেশসেরা অর্পণ

বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম হয়েছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার শিশুমেলা মডেল স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র অর্পণ ধর। এছাড়া গত ২৬ জুন ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনির হাত থেকে প্রথম পুরস্কার গ্রহণ করে সে।

‘বাংলাদেশ স্টাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে’ ষষ্ট থেকে দশম গ্রুপে অংশগ্রহণ করে প্রথম হয় সে। পুরস্কার হিসেবে তাকে নগদ টাকা, সনদ, ব্যাগ ও বই দেওয়া হয়। একজন প্রতিবন্ধী হয়ে এমন পুরস্কার অর্জনে খুশি মা-বাবাসহ স্কুলের সবাই।

শিশুমেলা মডেল স্কুলের অধ্যক্ষ জয়নাব আবেদীন বলেন, অর্পণ ধর একজন প্রতিবন্ধী। চলাফেরায় অক্ষম হলেও হুইলচেয়ারে বসে সে প্রতিদিন স্কুলে আসে। তার পুরস্কার অর্জন সত্যিই আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।

অর্পণ ধর উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের বণিকপাড়া গ্রামের রুপন ধর ও পম্পি ধরের ছেলে।

পাকস্থলীর ক্যান্সারের লক্ষণ, কী করবেন?

পাকস্থলীর রোগের মধ্যে ক্যান্সার অন্যতম। এ রোগটি প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা গেলে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্যান্সার আক্রান্ত স্থান ফেলে দিলে রোগী সুস্থ হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক।

রোগের প্রাথমিক অবস্থায় হজমক্রিয়ার গোলযোগ বা খাদ্যগ্রহণের পর পেটে অস্বস্তি অনুভুতি ছাড়া আর তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। এ সমস্যাগুলোকে রোগী তেমন গুরুত্ব দেন না, মনে করেন গ্যাস্ট্রিক হয়েছে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে সাময়িক আরাম অনুভব করেন। ফলে ক্যান্সার পাকস্থলী থেকে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। রোগটি ছড়িয়ে পড়লে যে উপসর্গ দেখা দেয়-

* অল্প খেলে তৃপ্তি চলে আসে * পেট ফেঁপে ও ফুলে থাকে * বমি হয় * রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় * খাদ্যগ্রহণের পর খাদ্যনালীতে ব্যথা হয় * শরীরের ওজন কমে যায় * বমির সঙ্গে রক্ত কিংবা কালো পায়খানা হতে পারে

এ সমস্যাগুলো হলে অপারেশন করালেও রোগীর আয়ুকাল খুব বেশি বাড়ানো যায় না। সাধারণত চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে এ ক্যান্সার বেশি হয়ে থাকে। নারীদের চেয়ে পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হন। যে কারণে পাকস্থলীতে ক্যান্সার হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-

* হেলিকোব্যাকটর পাইলোরি নামক এক প্রকার জীবাণুর আক্রমণ

* প্রচুর পরিমাণে মদপান

* অত্যধিক লবণ আছে এমন খাবার গ্রহণ করা

* সংরক্ষিত টিনজাত খাবার

* অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অভাব রয়েছে এমন খাবার গ্রহণ করা

* যারা ধূমপায়ী এবং ধুলাবালি স্থানে বাস করে তাদের মধ্যেও এ ক্যান্সার হতে পারে

* বংশগত কারণেও পাকস্থলীতে ক্যান্সার হয়

এক সময়ে জাপানে পাকস্থলী ক্যান্সারের কারণে অনেক লোক মারা যেত। বর্তমানে চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের পর যাদের হজমক্রিয়ার গোলযোগ হচ্ছে তাদের এন্ডোস্কোপি করে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করে অপারেশনের মাধ্যমে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হয়।

আমাদের দেশে রোগীরা যখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হন তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যান্সার পাকস্থলীর বাইরে ছড়িয়ে পড়ে, এরফলে চিকিৎসা করা দুরূহ হয়ে পড়ে। এ জন্য উপরের সমস্যাগুলো দেখা দেয়া মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।