রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 238

নিউইয়র্কের গভর্নর নির্বাচনে লড়াই হবে হকুল-জালদীনের

চলতি বছরের নভেম্বরে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ডেমোক্র্যাট ক্যাথি হকুল এবং রিপালিকান লী জালদীন। গত ২৮ জুন মঙ্গলবার রাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচনে স্ব স্ব দলের পক্ষ থেকে তারা নির্বাচিত হয়েছেন। গত চার দশক থেকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে কোনো রিপাবলিকান জয় পাননি।

সর্বশেষ নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট গভর্নর এন্ড্রু কুমো যৌন ক্যালেংকারির অভিযোগে পদত্যাগ করলে লেফটেনেন্ট গভর্নর ক্যাথি হকুল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মধ্যপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত ক্যাথি হকুল আসছে নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলের মধ্যে চ্যালেঞ্জে পড়েছিলেন। সিটি পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমেইন উইলিয়ামস এবং ল্য আইল্যান্ড থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান টমাস সাউজিকে সহজেই প্রাইমারিতে পরাজিত করেছেন ক্যাথি হকুল। রাত ৯টায় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মার্কিন গণমাধ্যম তাঁকে ডেমোক্র্যাট দলের বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে রক্ষণশীল রিপাবলিকান হিসেবে পরিচিত লী জালদীন ২০১৫ সাল থেকে রাজ্যের সাফক কাউন্টি এলাকা থেকে প্রতিনিধি পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত লী জালদিনকে গত সপ্তাহে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছেন। দলের প্রাইমারি নির্বাচনে লী জালদীন উয়েস্টচেষ্টার কাউন্টি নির্বাহী রব এস্টোরিনো, ব্যবসায়ী হ্যারি উইলসন এবং সাবেক মেয়র জুলিয়ানির পুত্র এন্ড্রু জুলিয়ানিকে হারিয়ে দলের প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। আসছে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমেরিকাজুড়ে ডেমোক্র্যাট দলের ভরাডুবি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরপরও নিউইয়র্কের মতো ডেমোক্র্যাট প্রধান রাজ্যে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডেমোক্র্যাট ক্যাথি হকুলকে কতটা চ্যালেঞ্জ করতে পরবেন, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ওপর।

সৌদি আরবে চালু হবে বাউবি ডিগ্রি প্রোগ্রাম

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সৌদি আরবে চালু হতে যাচ্ছে ডিগ্রি পর্যায়ের কোর্স। খুব শীঘ্রই এ কোর্স চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ূন আক্তার।

২৯ জুন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সাথে এক অনলাইন সভায় তিনি এ কথা জানান। সভায় আগামী দিনে সৌদি আরবের প্রবাসীদের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি প্রোগ্রামের পাশাপাশি ডিগ্রি/স্নাতক পর্যায়ের কোর্স চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া সৌদি আরব প্রবাসীদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন শর্ট কোর্স চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

এ সময় দূতাবাসের মিশন উপপ্রধান আবুল হাসান মৃধা, ইকোনমিক কাউন্সেলর মুর্তুজা জুলকার নাঈন নোমান, শ্রম কাউন্সেলর রেজা-ই-রাব্বি, কাউন্সেলর হুমায়ূন কবির ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রমের দূতাবাসের ফোকাল পয়েন্ট প্রথম সচিব (প্রেস) মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ওপেন স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. সাবিনা ইয়াসমিন, স্কুল অব সোশ্যাল সাইন্সের ডিন অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, ইন্টারন্যাশনাল একাডেমিক উইংয়ের যুগ্ম পরিচালক সঙ্গীতা মোরশেদসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার) জানান, সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ২৬ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি বিভিন্ন খাতে কর্মরত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে আসছে। সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ ও বাংলাদেশের ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দক্ষ-অদক্ষ প্রবাসীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন একান্ত অপরিহার্য। সৌদি আরবে যুগোপযোগী ও অধিক দক্ষতাসম্পন্ন আধুনিক শ্রমবাজার গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবে বসবাসরত অভিবাসী শ্রমিকরা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় এসব শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবেন; একই সাথে নিজেকে শিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশে ফিরে গিয়েও দক্ষভাবে কাজ করতে পারবেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে সৌদি আরবে বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

গ্রামীণফোনের সিম বিক্রি নিষিদ্ধ

মানসম্মত সেবা (ভয়েস কল ও ইন্টারনেট) দিতে না পারায় দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের সিম বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসি।

বুধবার দুপুরে বিষয়টির অনুমোদনের পরে বিটিআরসি এক নির্দেশনা গ্রামীণফোনে পাঠিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন সিম বিক্রি করতে পারবে না গ্রামীণফোন। গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে পারলেই নতুন সিম বিক্রি করতে পারবে অপারেটরটি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা চেষ্টা করেও গ্রামীণফোনের সেবার মান ভালো করার কোনো উদ্যোগ নিতে দেখিনি। তারা গ্রাহক বাড়াবে, কিন্তু সেবার মান বাড়াবে না- এটা হতে দেওয়া যাবে না। যতদিন না তারা সেবার মান ভালো করবে এবং তা সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত না হবে ততদিন গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সত্য জানিয়ে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, অপারেটরটি মানসম্মত সেবা দিতে পারছে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা সিম বিক্রি করতে পারবে না।

বিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামীণফোনের বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা (চলতি বছরের মে পর্যন্ত) ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার।

শিক্ষার ১২ খাতে ভয়াবহ অনিয়ম দুর্নীতি

শিক্ষা খাতে ভয়াবহ দুর্নীতি চলছে। মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত এ দুর্নীতির বিস্তার। মন্ত্রণালয়ে এক শ্রেণির কর্মকর্তা অর্পিত ক্ষমতাবলে নথি নিষ্পত্তি না করে দুর্নীতির পথ সৃষ্টি করেন। প্রকল্পের গাড়ি অবৈধ ব্যবহারের মাধ্যমেও হচ্ছে দুর্নীতি। এছাড়া পূর্ত কাজে দরপত্র থেকে শুরু করে নানা পর্যায়ে আছে অনিয়ম।

পাঠ্যবই মুদ্রণের আগেই প্রকাশকদের কাছে ফাঁস করে অবৈধ অর্থ উপার্জনের প্রবণতা আছে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কোচিং, অবৈধ বই ও গাইড বাণিজ্য তো রয়েছেই। সবমিলে শিক্ষায় অন্তত ১২টি খাত ও কাজের দিক চরম দুর্নীতিপ্রবণ।

সরাসরি এসব ক্ষেত্রের দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ব্যয় বাড়ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষা কার্যক্রম। সরকারের বিভিন্ন ধরনের ব্যয়ও বাড়ছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এই চিত্র। সম্প্রতি এসব তথ্য উল্লেখ করে সংস্থাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাঠিয়েছে। পরে দুদকের উল্লিখিত সুপারিশের ওপর ২৬ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভ্যন্তরীণ সভাও আয়োজন করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক এতে সভাপতিত্ব করেন। ওইসভা থেকে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভাগ ও এর অধীন সব দপ্তর ও সংস্থায় স্থাপিত অভিযোগ বক্সগুলো পুনরায় চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সচিব আবু বকর ছিদ্দীক যুগান্তরকে বলেন, দুদকের কিছু পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ পাওয়া গেছে। অনেক কষ্ট করে তারা সেটি তৈরি করেছেন। পর্যবেক্ষণগুলোর সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত। তিনি বলেন, এগুলো প্রতিটির ওপর আলোচনা শেষে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। পাশাপাশি কিছু ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। সুপারিশপত্রে দুদক কিছু ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা এক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা নেব এবং সহযোগিতা করব।

চিহ্নিত দুর্নীতিপ্রবণ খাত ও কাজের দিকগুলো হচ্ছে-বিভিন্ন ধরনের পূর্তকাজ নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি); নতুন পাঠ্যবই মুদ্রণ ও শিক্ষাক্রম প্রণয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এনসিটিবি; বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়; বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আরও আছে-প্রশ্নপত্র ফাঁস; নোটগাইড; কোচিং বাণিজ্য; শিক্ষক বদলি ও পদায়ন; প্রকল্প; প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহার; অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ; প্রশিক্ষণের নামে অর্থ ব্যয়। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সংস্থাটি ৩৯টি সুপারিশ করেছে।

দেশের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হয় দুটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। এগুলো হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা নামে দুটি বিভাগ আছে। উল্লিখিত অভিযোগ শুধু মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ব্যাপারে। অন্য বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ আর সুপারিশের সারি আরও দীর্ঘ বলে জানা গেছে।

দুদকের তালিকা প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে প্রশ্ন ফাঁসের কথা। এতে বলা হয়, শিক্ষা বোর্ড, বিজি প্রেস, ট্রেজারি এবং পরীক্ষা কেন্দ্র প্রশ্ন ফাঁসের উৎস। এসব প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে কোচিং সেন্টার, প্রতারক শিক্ষক ও অপরাধী চক্র যুক্ত থাকতে পারে। প্রশ্ন ফাঁস রোধে ৮টি সুপারিশ করা হয়।

এরমধ্যে আছে-প্রশ্ন প্রণয়নে মেধাবী, সৎ ও মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষক বাছাই করে নিয়োগ কমিটিতে রাখা; তাদের নজরদারি করা; এ অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও আইসিটি আইনে মামলা করা। এছাড়া দুদকও সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গের অপরাধে মামলা করতে পারবে। প্রশ্ন প্রণয়ন ও বিতরণে যারা থাকবেন তাদের সন্তান বা পোষ্য কেউ পরীক্ষার্থী নেই সেই অঙ্গীকার নেওয়া; পরীক্ষা কেন্দ্র সংখ্যা কমানো ও উপজেলা সদরে রাখার সুপারিশও করা হয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়েও দুদকের উল্লিখিত সুপারিশবিরোধী কাজ হয়েছে। সম্প্রতি ইইডিতে একটি নিয়োগ পরীক্ষা হয়। সেখানে প্রশ্ন প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের দপ্তরে কর্মরত অস্থায়ী কর্মচারীরা উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রশ্ন কম্পোজের কাজে জড়িত ছিলেন একজন নিয়োগ পরীক্ষার্থী। এই অভিযোগ ওঠার পরও পরীক্ষা বাতিল হয়নি। মন্ত্রণালয় শুধু এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে এবারে এসএসসি পরীক্ষার্থী গত বছরের চেয়ে ২ লাখের কম। কিন্তু কেন্দ্র বেড়েছে ১১১টি।

এরপরই দুদক কোচিং ও নোট-গাইড ব্যবসাকে দুর্নীতির উৎস হিসাবে চিহ্নিত করেছে। শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো পাঠদান না করা, পাঠ্যপুস্তক, কোচিং মালিক এবং কিছু শিক্ষকের অবৈধভাবে স্বল্পসময়ে সম্পদ অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, শিক্ষা কার্যক্রমের মনিটরিংয়ের অভাব এবং অভিভাবকদের অসচেতনতাকে এরজন্য দায়ী করা হয়। কোনো কোনো স্কুলের প্রধান অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অন্য বিষয়ের শিক্ষককে ইংরেজি-গণিতের ক্লাস দেন যাতে কোচিং বাণিজ্য করতে পারে।

এ ক্ষেত্রেও দুর্নীতি প্রতিরোধে ৮টি সুপারিশ করা হয়। যারমধ্যে আছে-শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিশ্চিতে মনিটরিং জোর; সরকারি হাইস্কুলে নীতিমালা মেনে বদলি; গ্রামীণ স্কুলে গণিত ও ইংরেজির শিক্ষক সংকট দূর করা ও শহরের স্কুলে অন্য বিষয়ের শিক্ষকরা যাতে এই দুই বিষয়ে ক্লাস নিতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

এছাড়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বর্ণনামূলক, সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী হওয়া উচিত। আর এমসিকিউ সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া; কোচিং নীতিমালার বাইরে যেসব শিক্ষক কোচিং করান তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া; কোচিং সেন্টার বন্ধ ও এর মালিকদের মধ্যে যারা অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এ বিষয় খতিয়ে দেখবে দুদক। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নোট-গাইড প্রকাশনা সংস্থায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।

দুর্নীতির আরেক উৎস বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি হয়। এছাড়া জাল সনদে এমপিওভুক্তি, বোর্ড পরীক্ষার ফরমপূরণে কোচিং ফি আদায়, হোস্টেল-ভবন সংস্কার, শিক্ষাসামগ্রী কেনাকাটা, উন্নয়নসহ বিভিন্ন মনগড়া খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। নির্বাচনি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়ার বিনিময়েও আদায় করা হয় অর্থ।

অনুরূপভাবে ভর্তির সময়ে নানা খাতে অর্থ আদায় এবং আদায়কৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। এসব দুর্নীতি রোধে পিএসসির আদলে কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ, মাউশি, ডিআইএসহ সরকারি দপ্তরগুলোতে নিয়মিতভাবে কর্মকর্তাদের বদলিসহ পাঁচ দফা সুপারিশ করা হয়।

দুদক বলছে, এনসিটিবিতে দুর্নীতির মূল জায়গা পাঠ্যবই ও কাগজ কেনার দরপত্র প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন কাজের কমিটি গঠনে। কর্মকর্তাদের কেউ কেউ স্বনামে ও বেনামে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মালিক বনে গেছেন। এ ধরনের ব্যক্তি দরপত্রে অংশ নিলে শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন। নতুন পাঠ্যবই যখন প্রবর্তন করা হয় তখন এক শ্রেণির কর্মকর্তা বা কর্মচারী তা আগেভাগেই প্রকাশকদের কাছে সরবরাহ করেন যাতে তারা মূল বই শিক্ষার্থীর হাতে যাওয়ার আগে বাজারে গাইড ছেড়ে দিতে পারেন। এছাড়া পাঠ্যবই সংক্ষিপ্ত করায় কোচিং বাণিজ্য উৎসাহিত হয়েছে। এই অপকর্ম রোধে দুদক ৬টি সুপারিশ করেছে।

শিক্ষা খাতের পূর্ত কাজ করে থাকে ইইডি। এই সংস্থা আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। মাত্র দুজন নির্বাহী প্রকৌশলী অধিকাংশ কাজের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে আছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রায় ৪০টি প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন। সমালোচনা ওঠার পরে কিছু কমালেও এখনও অন্তত ৩০টি কাজের দায়িত্বে আছেন তিনি। এছাড়া প্রধান কার্যালয়ে বছরের পর বছর একই প্রকৌশলী কর্মরত আছেন। অথচ ৬৪ জেলায়ই এটির কার্যালয় আছে যেখানে বদলি করা যেতে পারে।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা নেয়। এর প্রশ্নপত্র কম্পোজ ও ছাপানো দায়িত্বে রাখা এমন খণ্ডকালীন কর্মরত কর্মচারীকে যিনি নিজে এবং তার স্ত্রী চাকরিপ্রার্থী ছিলেন। বিষয়টি জানার পর রহস্যজনক কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুধু একটি প্রতিবেদন চেয়ে দায় সারে।

মন্ত্রণালয়ে দুদকের পাঠানো সুপারিশপত্রে ইইডিতে দুর্নীতির উৎস হিসাবে চিহ্নিত দিকগুলো হচ্ছে-অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি, যেমন-টেন্ডারের তথ্য ফাঁস, সমঝোতার নামে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সাপোর্টিং বা এজেন্ড ঠিকাদার নিয়োগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, টেন্ডারের শর্তানুসারে কাজ বুঝে না নেওয়া, মেরামত বা সংস্কার কাজের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক বেনামে বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা করা। যেসব কর্মকর্তা নামে-বেনামে ঠিকাদারিতে জড়িত তাদের তালিকা তৈরি করে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও ফৌজদারি মামলাসহ ৭ দফা ব্যবস্থার সুপারিশ করে দুদক।

ব্যক্তিগত রেষারেষিতে হাবিপ্রবির ১৩ শিক্ষার্থী আহত

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত রেষারেষি থেকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পরে বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, তাজউদ্দিন আহমদ হল ও ডরমেটরি-২ হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এতে আহত হয়েছেন প্রায় ১৩ শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত অবস্থায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩ শিক্ষার্থী।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের রেজিস্টার অনুযায়ী এ ঘটনায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম, মোরশেদ এবং আনজারুল ইসলাম। অন্যান্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে করে চলে গেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৮টায়।

শুক্রবার সকালে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আনজারুল ইসলামকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় শেখ রাসেল হলের ৮-১০ জন শিক্ষার্থী মারধর করেন। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পরলে অন্য কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

আহত আনজারুল ইসলাম ডরমেটরি-২ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তাকে মারধরের খবর হলে পৌঁছালে পরবর্তীতে ডরমেটরি-২ হলের শিক্ষার্থীরা শেখ রাসেল হলের শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। উভয় হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ইয়াসি প্রধান ও সিকিউরিটি ইনচার্জ খায়রুল ইসলাম উপস্থিত হলে উভয় পক্ষকে শান্ত করে বিচারের আশ্বাস দেন।

অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলে ফিরলেও আচমকা শেখ রাসেল হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা ডরমেটরি-২ হলের ভিতরে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় উভয়পক্ষের সংঘর্ষ হয়। পরে রাত ১১টায় ডরমেটরি-২ হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর মামুনুর রশিদ। কিন্তু আলোচনায় কোনো সমাধান আসেনি। যদিও প্রক্টর দাবি করেন, আলোচনায় সবাই গণ্ডগোল থামানোর অঙ্গীকার করেছেন।

পরে রাত ১২টায় ডরমেটরি-২ ও তাজউদ্দিন হলের শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীদের উপরে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের গণ্ডগোল থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তালা ভেঙ্গে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু হলে প্রবেশ করে নিচতলায় রাখা মোটরবাইক, কক্ষের জানালা, টেলিভিশন কক্ষের থাই গ্লাসসহ ব্যাপক ভাঙচুর করেন। পরে রাত ৩টায় পুলিশের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর মামুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে ঠুনকো বিষয় নিয়ে মারপিটের ঘটনা ঘটিয়েছে। উত্তেজিত হয়ে শিক্ষার্থীরা হলের দরজা জানালা ভাঙচুর করেছে। ১৩ জন আহত হয়েছে। তবে তিনজনের আঘাত একটু বেশি। অন্যান্যরা সুস্থ আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত আছে।

তিনি জানান, বেশ কিছুদিন আগে আহত আনজারুল শেখ রাসেল হলের একজনকে আঘাত করেছিল। তারই সূত্র ধরে শেখ রাসেল হলের কয়েকজন আনজারুলের ওপর চড়াও হয়েছেন। সেসময় ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর মাহবুবকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ রোগের লক্ষণ ও করণীয়

ঘুমের মাঝে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো একটি জটিল সমস্যা হলো স্লিপ এপনিয়া। স্লিপ এপনিয়া হলে ঘুমের মাঝে দশ সেকেন্ড থেকে কিছু মিনিট সময় ধরে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। আর এ সমস্যাতে ঘুমের মাঝে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণও কমে যায়। অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্ক জেগে ওঠে এবং ঘুম ভেঙে যায়।

এ রোগে আক্রান্ত রোগীরা ঘুম ভাঙার পর শ্বাস নেয় এবং সঙ্গে সঙ্গে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। খুবই জটিল অবস্থায় সারারাতে বারবার শ্বাস বন্ধ ও ঘুম ভাঙা এ চক্রটি চলতে থাকে। ফলে ঘুমিয়েও ঘুম পূরণ হয় না। এ ঘটনাগুলো যেহেতু গভীর ঘুমের মাঝে ঘটছে তাই রোগী তার এ সমস্যা বুঝতে পারে না। সকালে ঘুম থেকে উঠে হয়তো তাদের মনেও থাকে না। যেহেতু বারবার ঘুম ভাঙার ফলে ঘুমিয়ে কখনো ঘুম পূরণ না হওয়ার ফলে সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব থাকে।

আর ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) হচ্ছে ফুসফুসের একগুচ্ছ রোগ। এ রোগের মাঝে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস ও এম্ফাসিমা দীর্ঘস্থায়ী অ্যাজমা। এটি সাধারণত আটকে থাকা বা সরু শ্বাসনালি অথবা অভ্যন্তরীণ কাঠামোর প্রদাহ অথবা ফুসফুসের বায়ু থলির ক্ষতির কারণে শ্বাসকষ্ট দেখা যায়।

দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের রোগ সিওপিডি। সিওপিডিতে শ্বাসকষ্ট ঘুমকে প্রভাবিত করতে পারে বিভিন্নভাবে। যারা সিওপিডিতে ভুগছেন, তারা বেশিরভাগ কম/বেশি ঘুমের সমস্যার অভিযোগ করেন। সামগ্রিকভাবে সিওপিডিতে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘুমের গুণগত মান ও সময় কমে যায়, রাতে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং তারা প্রায়ই জেগে উঠতে পারেন।

এ রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন ইনজিনিয়াস পালমো ফিটের স্লিপ কনসালট্যান্ট ডা. ফাতেমা ইয়াসমিন।

ফুসফুসের জার্নালে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত সিওপিডি রোগী স্লিপ এপনিয়ায় ভোগেন। স্লিপ এপনিয়ার সঙ্গে সিওপিডি যুক্ত হলে চিকিৎসকরা এটিকে ‘ওভারল্যাপ সিনড্রোম’ হিসাবে উল্লেখ করে থাকেন। সিওপিডি রোগীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকে। স্লিপ এপনিয়ার সঙ্গে সিওপিডি যুক্ত হলে এটি উচ্চ রক্তচাপ, পালমোনারি হাইপারটেনশন, অ্যারিথমিয়া, হার্ট ফেইলিওর এবং চিকিৎসা না করা হলে স্ট্রোকের দিকে নিয়ে যায়। স্লিপ এপনিয়া আক্রান্ত রোগীদের পালমোনারি হাইপারটেনশন হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। পালমোনারি হাইপারটেনশন হলো এক ধরনের ফুসফুসের উচ্চ রক্তচাপ। এটি ফুসফুসের ধমনিতে এবং হৃৎপিণ্ডের ডানদিকে রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।

পালমোনারি হাইপারটেনশনের রোগীদের শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা এবং বুকে চাপ অনুভব করে। চিকিৎসা না করালে, সিওপিডির মতো পালমোনারি হাইপারটেনশন ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খারাপ হয়। স্লিপ এপনিয়াতে সৃষ্ট প্রদাহ সিওপিডিতে প্রদাহকে আরও খারাপ করতে পারে।

ধূমপান স্লিপ এপনিয়া এবং সিওপিডি উভয়ের সঙ্গেই জড়িত। ধূমপান প্রদাহকে ট্রিগার করে, উভয় অবস্থার ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত ওজন স্লিপ এপনিয়ার ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়। এটি পুরুষদের মধ্যে স্লিপ এপনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া সিওপিডির রোগীদের রাতের লক্ষণগুলো সাধারণত উপেক্ষা করা হয়। রোগটি শনাক্ত করার প্রয়োজনে সিওপিডিতে আক্রান্ত ব্যক্তির মাঝে যদি কোনো রাতের উপসর্গ থেকে থাকে সেগুলো অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে অবহিত করা প্রয়োজন। এ উপসর্গগুলোর মধ্যে যে কোনো একটির উপস্থিতি যদি সিওপিডির রোগীর মাঝে থাকে তবে চিকিৎসকে জানানো প্রয়োজন :

* রাতে নাক ডাকা

* রাতে হাঁপানি বা দম বন্ধ হয়ে যাওয়া বা অনুভব করা

* সকালে মাথাব্যথা

* দিনেরবেলা অতিরিক্ত ঘুম

* স্থূলতা

* দিনেরবেলা রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকা

* দিনেরবেলা কার্বন ডাই অক্সাইড বৃদ্ধি পাওয়া

* পালমোনারি হাইপারটেনশন

* ডানদিকের হার্ট ফেইলিওর

* পলিসিথেমিয়া (রক্তে লাল রক্ত কোষের উচ্চ ঘনত্ব)

* ডায়াবেটিস, হার্ট ফেইলিউর বা স্ট্রোকের ইতিহাস

এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক ঘুমের পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর ঘুমের অসুবিধাগুলোর ব্যাপারে সহযোগিতা করতে পারবে। পলিসোমনোগ্রাফি অথবা স্লিপ টেস্ট একটি সর্বাধুনিক পরীক্ষা পদ্ধতি যার মাধ্যমে খুব সহজেই এ রোগটি নির্ণয় করা যায়। ঘুমের পরীক্ষার/স্লিপ এপনিয়া পরীক্ষা, যা পলিসোমনোগ্রাফি (PSG) নামেও পরিচিত। এটি আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরন, রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা এবং ঘুমের পর্যায় এবং ঘুমের মাঝের পরিবর্তনগুলো ব্যাপকভাবে ধারণ করা হয়।

এ পরীক্ষাটি দ্বারা ঘুমের মাঝে কখন, কতবার এবং কী ধরনের শ্বাস বন্ধ হচ্ছে তা বোঝা যায়। আবার কিছু রোগীর জন্য একটি বিকল্প হলো হোম স্লিপ টেস্ট (এইচএসটি), যেখানে রোগীরা তাদের নিজের বাসায় এবং নিজের বিছানায় ঘুমাতে পারে (যদিও পরীক্ষাটি ল্যাবে করানো উত্তম)। রোগ নির্ণয়ের পর চিকিৎসার মাধ্যমে উপসর্গগুলোর তীব্রতা কমাতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে। চিকিৎসার লক্ষ্য হলো শ্বাস-প্রশ্বাস এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা উন্নত করা এবং রক্তে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমানো।

চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার/পিএপি (PAP) থেরাপি, অক্সিজেন থেরাপি, ব্রঙ্কোডাইলেটর এবং পালমোনারি রিহাবিলেশন। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় বহুল প্রচলিত চিকিৎসা হলো পিএপি (PAP) ডিভাইস এর ব্যবহার। এ মেশিনটি দ্বারা ঘুমের মাঝে শ্বাস বন্ধ সমস্যাটি দূর করা যায়। মেশিনটি দ্বারা একটি নির্দিষ্ট চাপে বাতাস প্রবাহ হয়, যা রোগীর নাক বা নাক-মুখ দিয়ে শ্বাসনালিতে প্রবেশ করে এবং স্লিপ এপনিয়া হতে বাধা দেয়। রাতের ভালো ঘুম এবং জীবনের মানের উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত চিকিৎসায় রোগের লক্ষণগুলো কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলোর ঝুঁকি কমায়।

দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে শ্রীলেখা

টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে কলকাতা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

শুক্রবার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই দুঃসংবাদটি শেয়ার করেন শ্রীলেখা।

ফেসবুকে দুর্ঘটনার দুটি ছবি পোস্ট করেন নায়িকা। ক্যাপশনে লিখেছেন- শুটিং ফ্লোর থেকে নয়, হাসপাতাল থেকে। অ্যাপোলো হাসপাতালের কর্মীরা সেবা করছেন। আমি যে এতটা ভালোবাসার পাত্র তা কখনও জানতাম না।

এদিকে শ্রীলেখার দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তারা শিগগিরই প্রিয় তারকার সুস্থতা কামনা করেছেন।

কীভাবে দুর্ঘটনার শিকার হলেন অভিনেত্রী— এ বিষয়ে বিস্তারিত না জানালেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে শ্রীলেখা জানিয়েছেন, অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করচেন। আজই অস্ত্রোপচার হচ্ছে তার।

তবে বড় কোনো দুর্ঘটনার কবলে পড়েননি শ্রীলেখা। বাম চোখের উপরে কপালের কাছে কেটে গেছে। ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায়ই দুটি ছবি পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। আর আঘাত পেলেও মুখে হাসি দেখা গেছে অভিনেত্রীর।

যে যন্ত্রণা আজও ভুলতে পারেন না সুস্মিতা সেন

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং সাবেক মিস ইউনিভার্স সুস্মিতা সেন তার দুর্দান্ত স্টাইলের জন্য বেশ পরিচিত। সম্প্রতি সুস্মিতা সেন বলিউড অভিনেত্রী টুইঙ্কেল খান্নার টকশোতে অংশ নিয়েছিলেন।

এ সময় সুস্মিতা তার জীবনের বিভিন্ন স্মৃতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। সেখানেই নিজের জীবনের নানা অজানা কথা ফাঁস করেছেন এই অভিনেত্রী। ছন্নছাড়া সম্পর্ক, পুরুষসঙ্গ এবং জীবনের খারাপ সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কেও মুখ খুলেছেন তিনি।

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের বাবা পরিচালক মহেশ ভাটের ‘দস্তক’ সিনেমাটি দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয়েছিল সুস্মিতার। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা? ভাবলে আজও শিউরে ওঠেন সুস্মিতা।

এক সাক্ষাৎকারে প্রথম সিনেমার পরিচালক মহেশ ভাটের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন সুস্মিতা সেন। তিনি জানান, এক ঘর লোকের সামনে তাকে অপমান করেছিলেন মহেশ ভাট। বলেছিলেন, ‘অভিনয় করতে পারো না যখন, এসেছো কেন?’ এটা শুনে ছিটকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন সুস্মিতা। তখনই মহেশ ভাট এসে তার হাত চেপে ধরেন।

হাত ছাড়িয়ে নিয়ে কড়া ভাষায় সুস্মিতা সেন সেদিন বলেন, ‘আমার সঙ্গে এভাবে কেউ কথা বলে না।’ মহেশ ভাট আবারও সুস্মিতার হাত ধরে বলেন, ‘ক্যামেরার সামনে এসো, কাজ কর।’ সুস্মিতা তাতে আরও রেগে গয়না, ঘড়ি সব ছুড়ে ফেলে বেরিয়ে যেতে উদ্যোগী হন। তখন মহেশ ভাট তাকে টেনে এনে বলেন, ‘এই রাগটা ক্যামেরার সামনে দেখাও। এটাই চাইছি।’

দস্তক সিনেমা দিয়েই বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন সুস্মিতা সেন। সিনেমাতে তিনি একজন ‘বিউটি কুইন’-এর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তবে সুস্মিতার কথায়, ‘মহেশ আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলেন সবার সামনে। খুব অপমানিত বোধ করেছিলাম। সেই যন্ত্রণা আজও ভুলতে পারি না।

চান্দিনায় এক মাসে ২৪ ডাকাতি

কুমিল্লার চান্দিনায় ডাকাতদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সড়ক, মহাসড়কে ও গৃহডাকাতি যেন সমান তালে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। প্রতিকারে কোনো ব্যবস্থা না দেখায় আতঙ্কে এ উপজেলার মানুষ।

গত এক মাসে চান্দিনায় অন্তত ১৪টি গৃহডাকাতি, ৩টি সড়কে ডাকাতি ও ৭টি মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতি রোধে বিভিন্ন এলাকায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন জনগণ।

উপজেলার গোবিন্দপুর, হারং, কুটুম্বপুর, মীরগঞ্জ, এতবারপুর, মাইজখার, কামারখোলা ও হাড়িপাড়া গ্রামে গত এক মাসে ১৪টি পরিবারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এছাড়া হারং উদালিয়া ব্রিজ এলাকায় ৩টি সড়ক ডাকাতি ও মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার হাড়িখোলা, তীরচর ও কুটুম্বপুর এলাকায় রড ছুড়ে ৭টি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মহাসড়কের কয়েকটি ঘটনা ভুক্তভোগীরা পুলিশকে অবহিত করলেও বাকিরা অসহায় হয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

পুলিশ হাতে গোনা কয়েকজন নামে-বেনামে ডাকাতকে আটক করলেও তালিকাভুক্ত শীর্ষ কোনো ডাকাত চক্রকে এখনও আটক করতে সক্ষম হয়নি। এমনকি ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া কোনো মালামালও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের হাড়িপাড়া ও কামারখোলা গ্রামের ৬টি বাড়িতে ডাকাতি করে সশস্ত্র ডাকাতদল। এসময় নগদ টাকাসহ মামামাল লুট ও পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুটে নেয় ডাকাতদল।

হাড়িপাড়া গ্রামের শাহ আলম জানান, আমি দুবাই প্রবাসী। ছুটিতে বাড়ি আসি। বুধবার দিনগত রাত ২টায় ডাকাতদল আমার বাড়ির গেইটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে নগদ টাকা, ২টি মোবাইল ফোন, আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।

কামারখোলা গ্রামের পূর্বপাড়া আব্দুল মান্নান ভূইয়ার বাড়িতে ৪টি পরিবারে ডাকাতির ঘটনায় নগদ টাকা, সাড়ে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, ৬টি মোবাইল ফোন, বিমান টিকেট যুক্ত ২টি পাসপোর্টসহ মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়।

কামারখোলা গ্রামের ইমাম হোসেন জানান, আমার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনার পর চান্দিনা থানা পুলিশ এসে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমাকে মামলা না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, মামলা করলে ডাকাতদল গা ঢাকা দিবে, আমরা তাদেরকে ধরতে পারব না। তার চেয়ে ভাল আপনারা নিরব থাকেন তাহলে আমরা সুন্দরভাবে কাজগুলো চালিয়ে যেতে পারব এবং আসামি ধরা সহজ হবে।

এছাড়া গত ২১ জুন দিবাগত রাত ১টার দিকে ১০-১২ জনের সশস্ত্র মুখোশধারী ডাকাত হারং এলাকার নূরুজ্জামান সরকারের বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা কেটে ঘরে ঢুকে তাকে ও তার স্ত্রীকে গলায় রামদা ঠেকিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে ঘরের ভেতরে থাকা আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুটে নেয়। এরপর তাদের ভাড়াটিয়া লাভলী আক্তার এর ঘরে একই কায়দায় প্রবেশ করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। একই রাতে উপজেলার এতবারপুর গ্রামে মো. খোকনের বাড়িতে ডাকাতি হয়। রাত পৌনে ২টায় ঘরের দরজা ভেঙে মুখোশধারী দুজন ডাকাত মালামাল লুটে নেয়।

ফেনী সদর উপজেলার বিল্লাল হোসেন জানান, আমি গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে প্রাইভেটকারযোগে বাড়ি ফিরছিলাম। রাত আনুমানিক সোয়া ১টায় কুটুম্বপুর এলাকায় আমার বাড়িতে বিকট শব্দ হওয়ায় চালক গাড়ি থামায়। আমার গাড়ি থামাতেই ৬-৭ জন অস্ত্রধারী ডাকাত গাড়িতে এলোপাথাড়ি আঘাত করতে শুরু করে। এসময় আমার সঙ্গে থাকা নগদ ১২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমার হাতের মোবাইলটি নিচে ফেলে দেওয়ার কারণে সেটি নিতে পারেনি এবং গাড়িচালকের মোবাইলটি ছোট হওয়ায় সেটিও নেয়নি।

এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, এসব ঘটনায় ২টি মামলা হয়েছে। আসামিও কয়েকজন আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নদীর পাড়ে যুবকের মাথাবিহীন লাশ

হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় কদর আলী (৪৫) নামে এক যুবকের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার সকালে পৌর এলাকার মাছুলিয়া খোয়াই নদীর পাড় থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত কদর আলী পৌরসভার ইনাতাবাদ এলাকার মোঘল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, খোয়াই নদীর পাড়ে স্থানীয়রা লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাথা কাটা লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ মাথা উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে।

এদিকে গতকাল থেকে নিখোঁজ কদর আলীর স্বজনরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার লাশ বলে নিশ্চিত করেন।

হবিগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দৌস মোহাম্মদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাথা উদ্ধারে অভিযান চলছে।