শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 231

২৬ মণ সরকারি নতুন বই ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষিকা

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ২৬ মণ সরকারি নতুন বই কেজি দরে ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করা হয়েছে।

উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের কলিগ্রাম মনিমোহন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিনতি বৈদ্যের বিরুদ্ধে বই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে কলিগ্রাম ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী আশুতোষ বালার কাছে ২০২১ ও ২০২০ সালের বইগুলো বিক্রি করা হয়। এই দুই সালের প্রায় ২৬ হাজার টাকার বই বিক্রি করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিনতি বৈদ্য বই বিক্রির কথা স্বীকার বলেন, আমি বই বিক্রি করেছি। তবে এখন ফেরত নিয়ে আসব।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধান শিক্ষিকা মিনতি বৈদ্য মাধ্যমিক স্তরের ২০২১ ও ২০২০ সালের ষষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির ২৬ মন নতুন বই ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী আশুতোষ বালার দোকানে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি জানান। পরে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বইগুলো ওই বিদ্যালয়ে হেফাজতে রাখার জন্য প্রধান শিক্ষিকাকে নির্দেশ দেন।

ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী আশুতোষ বালা বলেন, মনিমোহন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিনতি বৈদ্যের কাছ থেকে বইগুলো কিনেছি।

মুকসুদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সাহাদাত হোসেন মোল্লা বলেন, আমি আপাতত বইগুলো বিদ্যালয়ে হেফাজতে রাখার জন্য প্রধান শিক্ষিকাকে নির্দেশ দিয়েছি। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. যোবায়ের রহমান রাশেদ বলেন, আমি বিষয়টি জেনে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।

পাচারের সময় ভিজিএফের ১২৮ বস্তা চাল জব্দ

নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দায় ভিজিএফের ১২৮ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চালগুলো অন্যত্র পাচারের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি অভিযান চালিয়ে ওই উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের বাউসাম বাজার থেকে সরকারি ওই চাল জব্দ করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার কলমাকান্দার খারনৈ ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হকের বাউসাম বাজারের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ের পেছন থেকে ১২৮ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের ভেতর থেকে নৌকার উঠিয়ে পাচারের সময় ৩০ কেজি চালের ১২৮টি বস্তা জব্দ করা হয়েছে।

এ সময় নৌকার মাঝি খারনৈ ইউনিয়নের গজারমাড়ি গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে জজ মিয়াকে স্থানীয়রা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। তাকে আটকের পর কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ সময় পুলিশ নৌকায় থাকা আরমান (১৯) নামে এক যুবককে আটক করে। আরমান গজারমারি এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে।

আটক নৌকার মাঝি জজমিয়া বলেন, চালগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল কালামের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। তাকে নৌকায় করে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খারনৈ ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হক জানান, উদ্ধার হওয়া চালগুলো তার নয়। তিনি গতকাল সরকারি চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামকে নিয়ে চাল স্থানীয়দের মাঝে বিতরণ করেছেন। কিছু চাল আজ শুক্রবার বিতরণের কথা রয়েছে। এই চাল তার না। তিনি ট্যাগ অফিসারকে নিয়ে মাস্টার রোলের মাধ্যমে চাল বিতরণ করেছেন। তিনি যড়যন্ত্রের শিকার বলেও জানান।

ওই ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, সারা দিন চাল বিতরণের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসায় চলে আসেন। দুই ট্যাগে ২৮ বস্তা ও এক-দুই বস্তা খোলা অবস্থায় ছিল তা দেখে এসেছেন।

তিনি আরও জানান, তিনি আসার পর পুলিশের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান চাল বিতরণ করে থাকতে পারে। তবে মাস্টাররোলে তিনি স্বাক্ষর করেননি।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে সরকারি সিলমোহর যুক্ত ১২৮ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাসেম বলেন, এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. লতিফুর রহমান বাদি হয়ে চেয়ারম্যানসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।

২৬ বছরের পুরনো মামলায় দু’বছরের জেল রাজ বাব্বরের

২৬ বছরের পুরনো মামলায় দু’বছরের কারাবাসের সাজা হয়েছে বলিউড অভিনেতা ও কংগ্রেস নেতা রাজ বাব্বরের।

নির্বাচন কর্মকর্তাকে হেনস্থা করার অপরাধে বৃহস্পতিবার অভিনেতা-রাজনীতিককে এই সাজা দিয়েছে উত্তরপ্রদেশের একটি আদালত।খবর টাইস অব ইন্ডিয়ার।

সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দায়ে বাব্বরকে একইসঙ্গে সাড়ে আট হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনে লাখনৌ থেকে সমাজবাদী পার্টির টিকিটে লড়ছিলেন রাজ বাব্বর। কার প্রতিপক্ষ ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। ভোটের সময় এক নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন বাব্বর।

এর পরেই ওই বছরের ৯ মে ওয়াজিরগঞ্জ থানায় বাব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ওই নির্বাচন কর্মকর্তা। তার অভিযোগ ছিল, পোলিং বুথে ঢুকে কাজে বাধা দেন বাব্বর ও তার সঙ্গীরা। নিগ্রহ করা হয় পোলিং এজেন্টকে।

তার নাকে, গলায় ও ঠোঁটে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছিলেন ওই কর্মকর্তা। সেই মামলাই চলল এত বছর ধরে। বৃহস্পতিবার বিচারক যখন সাজা শোনাচ্ছেন, তখন আদালতেই উপস্থিত ছিলেন বাব্বর।

ভাষণ দেওয়ার সময় জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গুলি

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে নারা প্রদেশে ভাষণ দেওয়ার সময় শুক্রবার সকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।খবর জাপান টাইমসের।

জাপানের নারা শহরে বক্তৃতার দেওয়ার সময় দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢলে পড়েন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎকরা তার অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন।

জাপানের স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি প্রচারাভিযানে শিনজোকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

অসুস্থতার কারণে ২০২০ সালের আগস্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান শিনজো আবে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও এক বছর আগেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

৬৭ বছর বয়সী শিনজো আবে সেসময় জানিয়েছিলেন, অসুস্থতার কারণে তিনি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

২০১২ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া শিনজো আবে সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে দায়িত্ব পালন করা জাপানি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

ব্যাংক খোলা আজ-কাল

ঢাকা শহরে কুরবানির পশুর হাটের আশপাশে ও গার্মেন্ট শিল্প এলাকায় সংশ্লিস্ট ব্যাংকের শাখাগুলো আজ শক্রবার ও আগামীকাল শনিবার পূর্ণ দিবস খোলা থাকবে।

এর মধ্যে কুরবানির পশুর হাট এলাকার শাখাগুলো রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সার্কুলার দিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আলোকে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের কুরবানির পশুর হাটের নিকটবর্তী ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা বিশেষ ব্যবস্থায় শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু রাখতে হবে। একই সঙ্গে পশুর হাটে যেসব বুথ স্থাপন করা হবে সেগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা রাখতে হবে।

এদিকে ঢাকায় যেসব ব্যাংকের শাখা তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার জন্য শিল্পসংশ্লিষ্ট এলাকায় শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখতে হবে। একই সঙ্গে ওইসব শাখায় রপ্তানি বিল কেনাবেচাসহ অন্যান্য কাজও চলবে। এ জন্য ঢাকা, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত ব্যাংকের তৈরি পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পূর্ণ দিবস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের চেক লেনদেনের সুবিধার্থে ওই দুই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারিং হাউজ ব্যবস্থাও চালু থাকবে। তবে ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে উল্লিখিত এলাকার বাইরে অবস্থিত অন্য কোনো ব্যাংক শাখার চেক গ্রহণ করা হবে না।

শুক্র ও শনিবার যেসব এলাকায় ব্যাংক খোলা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকা শহরে কুরবানি পশুর হাটের আশেপাশের ব্যাংকের শাখাগুলো শুক্র ও শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে ব্যাংক প্রয়োজন বোধে কুরবানির পশুর হাটে অস্থায়ী বুথও খুলতে পারবে।

এছাড়া তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার জন্য শিল্পসংশ্লিষ্ট এলাকায় শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ওইসব এলাকার সংশ্লিষ্ট শাখায় স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে।

সম্প্রতি এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পৃথক পৃথক সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কুরবানির পশুর হাটগুলোর আশেপাশের ব্যাংকের শাখাগুলো ৭ জুলাই পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেনের পর বিকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে। একইসঙ্গে আগামী শুক্র ও শনিবার সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যাংকের শাখাগুলো সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। এতে আরও বলা হয়, কুরবানির পশুর হাটে ব্যাংক নিজ বিবেচনায় বিশেষ বুথ স্থাপন করতে পারবে। ওইসব বুথও রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য এক নির্দেশনায় বলা হয়, ঈদুল আজহার আগে তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রপ্তানি বিল পরিশোধ ও ওই শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার জন্য ঢাকা, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পূর্ণ দিবস খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হলো।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ওই দুই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা চালু থাকবে। তবে ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে উল্লিখিত এলাকার বাইরে অবস্থিত কোনো ব্যাংক শাখার ওপর চেক দেয়া যাবে না।

সরকারের তীব্র সমালোচনা করে যা বললেন রিজভী

‘ক্ষমতাসীন সরকারের দুঃশাসন আর সিন্ডিকেটের কারণে জনগণ অসহায়’ মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘দেশ চলছে মাফিয়া শাসনের অধীনে। এখানে আইনের কোনো বালাই নেই। হবু চন্দ্র রাজার গবু চন্দ্র মন্ত্রীরা, যা খুশি বলছে এবং করছে।’

তিনি বলেন, ‘উদ্বোধনের পর পদ্মা সেতুর ওপর নেমে ছবি তোলা যাবে না। ছবি তোলায় কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়েছে। অথচ কদিন আগে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সেলফি তুলেছেন। আসলে এক দেশে দুই আইন চলছে। দেশে নির্বাচিত সরকার থাকলে তারা আইন মানত। তারা তো অনির্বাচিত। সেজন্য যখন যা চাহে তারা তাই করছে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

পরে অর্পণ সংঘের উদ্যোগে যুবদলের সাবেক নেতা মরহুম জিএস বাবুলের স্ত্রীর হাতে অর্থসহায়তা তুলে দেন রিজভী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ডা. জাহেদুল কবির, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ও অর্পণ সংঘের বীথিকা বিনতে হোসাইন, ওমর ফারুক কাওসার ও আরিফুর রহমান তুষার প্রমুখ।

কুরবানির ঈদ উপলক্ষে জনদুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘মাফিয়া আওয়ামী লীগের লোকেরা সিন্ডিকেট করে দিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে। আজকে সিন্ডিকেট এমনভাবে চেপে বসেছে মানুষ মুখ ফোটে কিছু বলতে পারছে না। কুরবানির হাটেও সিন্ডিকেট করছে আওয়ামী লীগের লোকজন। সরকারদলীয় লোকেরা ইচ্ছামতো দাম বৃদ্ধি করে ক্রেতাদেরকে পশু কিনতে বাধ্য করছে।’

লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন এত লোডশেডিং কেন? প্রধানমন্ত্রীর সব কথা দ্বিচারিতামূলক। তিনি নাকি বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করেছেন। তাহলে লোডশেডিং কেন? আসলে তিনি চান নিরঙ্কুশ ক্ষমতা, কদিন আগেও বলেছেন। এ ধরনের কথা তো ফেরাউনরা বলে। আসলে আপনি জনগণের সঙ্গে সৎ মায়ের ভূমিকা পালন করছেন। আপনি একচ্ছত্র ক্ষমতা চান। কিন্তু ক্ষমতা তো আসে জনগণের কাছ থেকে। সেটা তো আপনার নেই। আপনি নতুন নতুন প্রকল্প করেন টাকা পাচার করার জন্য।’

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘উন্নয়নের নামে হৈ চৈ করে এত লাফালাফি করলেন কোথায় আপনার বিদ্যুৎ? আপনাকে দেশবাসী আর সহ্য করবে না। আপনি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করে চলেছেন। কোথায় দশ টাকার চাল? কোথায় ঘরে ঘরে চাকরি? আজকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি বেকার তথা কর্মহীন লোকের সংখ্যা বাংলাদেশে। আপনি ক্ষমতায় থাকা মানে মানুষ না খেয়ে থাকা। আপনি ক্ষমতায় থাকা মানে কর্মহীন থাকা। আজকে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে লিখতে ও বলতে পারে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে বিভিন্ন কালা-কানুন করেছে সরকার।’

রিজভী বলেন, ‘আপনি গোটা দেশকে গ্যাস চেম্বারে পরিণত করে মহামারির মতো দেশ চালাচ্ছেন। যাতে কেউ টু শব্দ করতে না পারে। সেজন্য দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখেছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করছেন। আপনি তারেক রহমানকে বঞ্চিত করছেন। তবুও তারেক রহমান সুদূর লন্ডন থেকে দেশের জন্য কাজ করছেন। তিনি জনগণের জন্য নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। বন্যার্তদের জন্য তিনি সার্বক্ষণিক খবর রাখছেন। দলের নেতাকর্মীরা বন্যার্তদের পাশে উপহার সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ ঈদের প্রাক্কালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে হাপিত্যেশ করছে। সরকার জনগণের সঙ্গে তামাশা করছে। মানুষ বন্যার পানিতে ভাসছে তাদের দিকে সরকারের কোনো দায়িত্ববোধ নেই। তারা পদ্মা সেতুর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত।’

রিজভী বলেন, ‘বর্তমান দানব অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার: নানক

সাবেক মন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার রয়েছে। প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে আমরা এসেছি। বন্যার পানি নামার পর বিভিন্ন সমস্যা ও পানিবাহিত রোগ দেখা দিতে পারে; এজন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। বর্তমান সরকার বানভাসিদের পাশে সব সময় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ও সিলেট-৩ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান হাবিবের অর্থায়নে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

দক্ষিণ সুরমার জালালপুরে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আহমদের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সিলেট-৩ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বদরুল ইসলাম ও জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়েছ আহমদ।

এদিকে সিলেট-সুনামগঞ্জে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসিদের জন্য মানবিক উপহার প্রেরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত মানবিক উপহারের চেক নিয়ে সিলেটে যান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।

দুপুরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেই তারা সিলেট ও সুনামগঞ্জের পাঁচ উপজেলার বানভাসি মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে মানবিক উপহারের চেক বিতরণ করেন।

এ সময় অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও সুনামগঞ্জের ৩টি উপজেলার বানভাসি মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক উপহারের চেক স্থানীয় নেতাদের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবসহ সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতারা।

দেশে আলোকসজ্জা না করার নির্দেশ

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। অনুষ্ঠান উপলক্ষে কোনো স্থাপনায় আলোকসজ্জা না করার নির্দেশ দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, দোকানপাট, অফিস ও বাসাবাড়িতে আলোকসজ্জা না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং বিভাগীয় কমিশনারদের এই নির্দেশনার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

উপসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, দোকানপাট, অফিস ও বাসাবাড়িতে আলোকসজ্জা না করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, প্রধান তথ্য অফিসার, সব জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছেও নির্দেশনার চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

এলএসডির ছোবল দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে

রাজধানীর দুটি নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে তৈরি হয়েছে ভয়ংকর মাদক এলএসডির বাজার। উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীরাই এর প্রধান ক্রেতা। তবে ঢাকায় এলএসডির বাজার ক্রমেই বড় হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া সাবেক শিক্ষার্থীদের একটা অংশ বিদেশ থেকে এলএসডির চালান আনছে দেশে।

মঙ্গলবার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হলে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য মেলে। রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)। এ সময় তার কাছ থেকে ১৩৮ পিস এলএসডি স্ট্রিপ বা ব্লক উদ্ধার করা হয়।

ইন্টারনেটের তথ্যভান্ডারে এলএসডির পুরো নাম বেশ লম্বা। ইংরেজি নাম লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইজড। তবে এটি অনেকের কাছে হেলুসিনেশন বা বিশেষ ঘোর লাগা নেশা হিসাবে পরিচিত।

উচ্চশিক্ষা : মধ্যরাতে গ্রেফতারের পর নাজমুল ইসলাম বিশ্বাসকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার ব্যক্তিগত জীবন এবং মাদক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান নাজমুলের বাবা নজরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। মা কাজী নাছিমা খানম পর্যটন করপোরেশনের উচ্চপদে চাকরি শেষে এখন অবসরে। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। ছোট ভাই কানাডা প্রবাসী। গ্রামের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার নগরবাড়ী।

নাজমুল জানান, তিনি ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেন। ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেল শেষ করে ভর্তি হন আইইউবিতে (ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি)। তিনি পরিবেশবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পিপিপির প্রকল্পে কিছুদিন খণ্ডকালীন চাকরি করেন। তবে বর্তমানে তিনি বেকার।

নাজমুল জানান, উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করেন তিনি। তার স্ত্রী ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর। বর্তমানে তিনি ব্রিটিশ কাউন্সিলে খণ্ডকালীন চাকরি করছেন। কিন্তু মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ায় তার সংসার বিপর্যস্ত।

সামাজিক মর্যাদার কারণে তার মাসহ নিকটাত্মীয়রা তাকে এড়িয়ে চলেন। ফলে ভেঙে পড়েছে ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক জীবন।

নাজমুল বলেন, মূলত তিনি একটি উচ্চ বেতনের চাকরি খুঁজছিলেন। কিন্তু মনমতো চাকরি না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি বিদেশে থাকা বন্ধুদের মাধ্যমে এলএসডির চালান আনা শুরু করেন। সর্বশেষ ১শ স্ট্রিপের একটি চালান এক বন্ধুর মাধ্যমে আনেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী, বন্ধু এবং জুনিয়রদের কাছে মাদক বিক্রির জন্য তিনি একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।

নাজমুল জানান, ছাত্রজীবনেই তিনি মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়েন। ইয়াবা আসক্ত ছিলেন। পরে এক বন্ধুর মাধ্যমে এলএসডির স্বাদ নেন। পরে নিজেই মাদকের ডিলার বনে যান। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তিনি মাদক ব্যবসা করছেন। এর মধ্যে ২০২১ সালে খিলক্ষেত থানা পুলিশের হাতে একবার গ্রেফতার হন। ৪ মাস কারাগারে ছিলেন। জামিনে বেরিয়ে তিনি ফের পুরোনো নেটওয়ার্কে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

অতিসহজে আসছে চালান : নাজমুলের মোবাইল ফোন ঘেঁটে এলএসডির চালান আনা এবং মূল্য পরিশোধ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। বিটকয়েনে লেনদেনের প্রমাণ মেলে। এছাড়া গোপন অ্যাপ এবং ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমেও এলএসডি কেনাবেচা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকাশ, রকেট এবং নগদের মাধ্যমে টাকাকে বিটকয়েনে রূপান্তর করা হচ্ছে। এরপর বিটকয়েন ওয়ালেট (অ্যাকাউন্ট) ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনা হয় এলএসডির স্ট্রিপ। পার্সেল আকারে আন্তর্জাতিক কুরিয়ারে চালান বুকিং দেওয়া হয়। কোনো ধরনের তল্লাশি বা যাচাই ছাড়াই এলএসডিভর্তি পার্সেল ডেলিভারি হয় দেশে।

সংশ্লিষ্ট নারকোটিক্স কর্মকর্তারা বলছেন, বহন এবং আকৃতিগত কারণে সুনির্দিস্ট তথ্য ছাড়া এলএসডির চালান আটক করা প্রায় অসম্ভব। কয়েক বছর আগে ভারতে এলএসডির একটি চালান আটকের পর হইচই পড়ে যায়। একটি সাধারণ বইয়ের আকারে বিশাল চালান আনা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বই আটকের পর পরীক্ষা করে দেখা যায়, বইয়ের অসংখ্য পাতা মূলত রূপান্তরিত এলএসডি স্ট্রিপ।

জিজ্ঞাসাবাদে অনেকের নাম : নারকোটিক্সের জিজ্ঞাসাবাদে এলএসডি চক্রে জড়িত বেশ কয়েকজন সাবেক এবং বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর নাম জানান নাজমুল। তাদের মধ্যে নর্থ সাউথের ছাত্র ফরিয়ান, রিবাত সারোয়ার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইমুল, বারিধারা ডিওএইচএস-এর বাসিন্দা সাদাফ, ধানমন্ডির তানিম, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নাহিয়ান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবিদ সাফওয়ান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এর মধ্যে নিসা নামের এক শিক্ষার্থীর বাসা নতুনবাজার এলাকায়। তার কাছে এলএসডির কয়েকটি স্ট্রিপ ডেলিভারি দিতে গেলে নাজমুলকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। নিসাকে গ্রেফতার করা গেলে এলএসডি নেটওয়ার্কে জড়িত অনেকের নাম জানা সম্ভব হবে।

বুধবার দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ে নাজমুল ইসলামকে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত করা হয়। এ সময় তিনি বলেন, মূলত হতাশা থেকে উচ্চবিত্ত ঘরের অনেকে এলএসডির দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া নানা করণে অনেকে ট্রমায় ভুগছেন।

তারা জীবনে একটু প্রশান্তি পেতে চান। তাদের অনেকেই মনে করেন, এলএসডি সেবনে তারা হতাশা থেকে মুক্তির রাস্তা খুঁজে পাবেন। কিন্তু বাস্তবে তারা নিজের অজান্তেই মাদকের অন্ধকার গভীরে দিনদিন ডুবে যাচ্ছেন।

নাজমুল বলেন, এলএসডির একটি ট্রিপে (মাদক সেবনের আসর) একেক ধরনের আনন্দ পাওয়া যায়। ‘ভ্যালেরি ট্রিপ’ নামের মাদকসেবন আসরে গান শুনলে মনে হয় সঙ্গীদের ঝংকার দেহের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। এছাড়া পাহাড়, সমুদ্রের নির্জনতা উপভোগের জন্য রয়েছে পৃথক ট্রিপ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক জাফরুল্ল্যাহ কাজল যুগান্তরকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকার যে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি ঘোষণা করেছে, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে নারকোটিক্স। এলএসডি ব্যবসায় জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।